ইতি নিশীথিনী পর্ব-০৩

0
1044

#ইতি_নিশীথিনী
#৩য়_পর্ব

হঠাৎ মনে হলো নিশীর পেছনে কেউ আছে। নিশী প্রথমে পাত্তা দিলো না। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে অনুভূতি গাঢ় হলো। নিশী পেছনে চাইলো দেখার জন্য কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। চটের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে পায়ের গতি বাড়ালো সে। কিন্তু কিছুদূর যেতেই একজোড়া কালো হাত পেছন থেকে মুখ চেপে ধরলো। আকস্মিক আক্রমণে হাত পা ছুঁড়ে হাতটির শক্ত বাঁধন খোলার চেষ্টা করেছিলো নিশী, কিন্তু চিৎকার দেবার আগেই জ্ঞান হারালো সে। মূর্ছা যাওয়া দেহটি লুটিয়ে পড়লো কালো পিছের রাস্তায়। সাথে সাথেই একটি মাইক্রো গাড়ি উপস্থিত হলো সেখানে। মাইক্রো থেকে দুজন বের হলো, তারা নিশীকে গাড়িতে তুললো। গাড়ি ছুটলো নিজ গন্তব্যে।

দক্ষিণ আকাশে কালো মেঘের আন্দোলন চলছে। কিছু সময় বাদেই তরল হয়ে তাদের আগমণ ঘটবে ধরণীর বুকে। সমীরের গতি বোঝা যাচ্ছে না। থমথমে গতি। কালো আকাশে আলোর ছিটেফোঁটাও নেই। ফলে আঁধার যেনো গাঢ় হচ্ছে সময়ের সাথে। রাহেলা বেগম ঘড়ির পানে চাইলেন, ঘড়ির বেপরোয়া কাটাটি আটটার ঘরে স্থির। তার ভ্রু কুঞ্চিত হলো। নিশী এখনো ঘরে ফিরে নি। তার এতোটা দেরি আজন্মে হয় নি। সর্বদা মাগরিবের আজানের পর পর ই বাসায় চলে আসে সে। তার ছাত্র ছাত্রী পড়ানোতে কখনোই আপত্তি করেন না রাহেলা বেগম। দু পয়সা ইনকাম হলে তো ঘরেই আসবে। আর নিশীও বেশী আত্মদাম্ভীক মেয়ে, প্রতিমাসে চাচার কাছে পড়াশোনার জন্য টাকা চাওয়া তার মোটেই ভালো লাগে না। তাই তো সে প্রতিদিন দুটো টিউশন করায়। যা টাকা পায় তাতে নিজের তো চলেই উপরন্তু ঘরেও দেয়। রাহেলা বেগম পায়াচারী করছেন। বারবার তাকাচ্ছেন জানালা দিকে গেটের কাছে। নিশী এখনো আসে নি। নিহিতা মায়ের পায়চারি দেখে বললো,
“মা, তুমি কি ওজন কমানোর চিন্তা করছো? ভালো হয়েছে, এতোদিনে তোমার অন্তত একটা সুবুদ্ধি হলো”
“বে’য়া’দ’ব, একটা কানের উপর মা’র’বো। আমি ওজন কমাবো কেনো?”
“তাহলে হাটছো কেনো?”
“নিশীটা এখনো আছে নি!”

মায়ের মুখে নিশীর চিন্তা দেখে নিহিতার মুখ হা হয়ে গেলো। ধাতস্থ হতে সময় লাগলো তার। বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“নিশীপুর জন্য তোমার চিন্তাও হয়?”
“হা’রা’ম’জা’দী, সে’না মাইয়া ঘরে থাকলে চিন্তা হয় না? আ’হা’ম্ম’ক কোথাকার! আমার মুখ না দেইখে ফোন দে ওরে। দেখ কই আছে। আজকাল দিনকাল তো ভালা না”

মায়ের ধমকে আর কথা বাড়ালো না নিহিতা। সাথে সাথেই ফোন দিলো নিশীর নম্বরে। কিন্তু সে তো জানে না নিশীর কালো সাত হাজার টাকার ফোনটি পড়ে রয়েছে এক নীরব গলির নোংরা রাস্তায়। বাজছে কিন্তু মালিকটিই এখানে নেই_____

নিশীর জ্ঞান ফিরলো অনেক সময় বাদে, পিটপিট করে চোখ খুললো সে। পেছনের লোকটির হাতে একটি রুমাল ছিলো যাতে ছিলো ক্লোরোফর্ম। তাই তো মূহুর্তেই সে জ্ঞান হারিয়েছিলো। নিশী ক্লান্ত চোখে দেখলো আশপাশটা। নিজের অবস্থান বুঝতে সময় নিলো মস্তিষ্ক। আশপাশের অবস্থান দেখে বুঝতে পারলো একটা পুরানো খড়ের ঘরে তাকে আনা হয়েছে। ঘরটির অবস্থা বেশ শোচনীয়, রাতের গভীরতা যেনো খুব বেশি করেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ আলোর কিরণ ও প্রবেশ করছে না ঘরে। হাত নাড়াতে গেলে অনুভূত হলো হাত জোড়া বাঁধা। তাকে অ’প’হ’র’ণ করা হয়েছে। কিন্তু কি উদ্দেশ্য! নিশী কোনো ধনী বা বর্ণাঢ্য পরিবারের কন্যা নয়। তাকে কি’ড’ন্যা’প করে সর্বোচ্চ চটের ব্যাগে থাকা ৭৭ টাকা আর সাতহাজার টাকা মোবাইল পাওয়া যাবে। রাহেলা চাচীকে ফোন দিলে সে বলবে,
“ওকে তোমরা রেখে দাও, বিনিময়ে আমার হাজার দশেক টাকা দিয়ে যাও”

নিশী ভাবতে পারছে না। এর মাঝেই কাঠের দরজা খোলার শব্দ এলো। নিশীর বুকটা ধক করে উঠলো। মূহুর্তেই সাহসীর নিশীর বুকটা কেঁপে উঠলো কিঞ্চিত, যতই হোক উপন্যাস, নাটকের নায়িকাদের মতো মা’রা’মা’রি সে পারে না। কে বা কারা তাকে তুলে এনেছে তা অজানা। নিকষকালো বিদঘুটে ভয় তার ভেতরটা কাঁপিয়ে তুলছে আর মস্তিষ্ক হয়ে উঠছে নিষ্ক্রিয়। নিশী নিজেকে সামলালো। মুখ গোল করে নিঃশ্বাস নিয়ে শান্ত করলো। মস্তিষ্ক ঠান্ডা হতেই মাথায় এলো, তার জামার সেলাই এর মাঝে একটা চিকন আঁধা ব্লেড রয়েছে। চটের ব্যাগটি থাকলে সুবিধে বেশি হতো, সেখানে মরিচের গুড়ো এবং একটা ধা’রা’লো চা’কু ছিলো৷ কিন্তু সেটাতো রাস্তায় ই পড়ে আছে। নিশী এগুলো নিজের প্রতিরক্ষার জন্য রাখে। যতই হোক সে একা একা চলাফেলা করে। এখানে তো তাকে বাঁচাতে সাদা ঘোড়ায় চেঁপে রাজকুমার আসবে না। তার গল্পের রাণীকে নিজেকেই নিজে বাঁচাতে হবে। নিশী খুব কষ্টে জামার কোনাটা নিজ বাঁধা হাতের কাছে নিলো। এর মাঝেই দরজা খুললো। আঁধার ঘরে প্রবেশ করলো চারজন কালো মুখোশধারী মানুষ। নিশী নিজেকে শান্ত রাখলো। নিশীকে বসে থাকতে দেখে, একজন বলে উঠলো,
“নিশীথ পাখি কি উঠে গেছে?”

কন্ঠটি বেশ মোটা, অচেনা। মানুষটির বাক্যটি শুনতেই ঈষৎ গা ছমছম করলো নিশীর। তবুও শান্ত কন্ঠে বললো,
“আমাকে এখানে আনার কারণ কি?”
“নিশীথ পাখি কি ভয় পাচ্ছো? ভয় দেখার আনন্দই আলাদা। এ যেনো পৈশাচিক শান্তি”

বলেই ভয়ংকরভাবে হাসলো লোকটি। নিশী শুকনো ঢোক গিললো। তার ভয় করছে। হাত কাঁপছে। কিন্তু এখন ভয় পেলে চলবে না। এই বিপদ থেকে নিজেই বাঁচতে হবে। সে কাঁপা কন্ঠে বললো,
“আমাকে ভয় দেখিয়ে আপনার কি লাভ?”

লোকটি আবারোও হাসলো, কুৎসিত সেই হাসি। নিজের সাথের লোকগুলোকে বললো,
“বাহিরে যা, আমার নিশীথ পাখির সাথে একাকিত্বে জ্যোৎস্নাবিলাশ করবো। তোরা দূরে যায়ে দাঁড়া। আশেপাশে থাকবি না”

কথাটা শুনতেই ঘাম ছাড়লো নিশীর শরীর। কিন্তু ইতোমধ্যে তার ব্লে’ড’টা বের করা শেষ। নরম আঙ্গুলগুলো ব্লে’ডের ধারে চিরে গেছে। কিন্তু ঠোঁট কামড়ে সইলো নিশী। সঙ্গীরা চলে গেলে লোকটি এগিয়ে এলো। বা হাত দিয়ে স্পর্শ করলো নিশীর মুখ। বিশ্রী স্পর্শে চোখ মুখ খিঁচে এলো নিশীর। নিশীর মুখোভাব দেখে বললো,
“আসলেই তুমি সুন্দর, রাগলে আরোও সুন্দর লাগে। শুধু অহংকার অনেক। আজ এই অহংকার ই তোমার পতনের মুল”

হঠাৎ নিশীর মাথায় মাহাদীর নামটি ভেসে উঠে। কারণ একবার সেই বলেছিলো,
“তুমি অতীব সুন্দর নিশী, রাগলে আরোও সুন্দর লাগে তোমাকে”

অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে যায়, “মাহাদী”

এবার লোকটি তার মুখোশটি খুলে। হ্যা, সে মাহাদী। ঠোঁটে সেই লোলুপ বিশ্রী হাসি এঁকে বলে,
“এইতো আমার নিশীর পাখি আমাকে চিনে ফেলেছে। দেখো না, তোমার স্পর্ধার কারণেই তোমাকে এখানে তুলে আনা। এতো সাহস কেনো দেখাতে গেলে। আমি না সত্যি চেয়েছিলাম তোমাকে বিয়ে করে তারপর নিজের করবো। কিন্তু আমার ভালোরুপটা তো তোমার অপছন্দ। এর থেকে আমি খারাপ ভালো”

মাহাদীর কথা শেষ হবার পূর্বেই নিশী বে’ড দিয়ে আক্রমণ করে বসে তার উপর। নিশীর হাত চিকন ব্লেডের আঘাতে বিধ্বস্ত। এতোসময় ধরে এই ব্লেডটি দিয়েই হাতের বাঁধন কাটে সে। সময় লাগলেও দড়িটি কাটতে সক্ষম সে। অপর দিকে মাহাদী গলা থেকে ফিনকি দিয়ে গলগল করে র’ক্ত ঝড়ছে। আচমকা আক্রমণে ধাতস্থ হতে সময় লাগে তার। তবে ব্লেড ছোট হবার জন্য বেশি জোরালো ঘাত হয় নি। মাহাদীর মাথায় যেনো আগুন জ্বলে উঠলো। এক হাত দিয়ে নিশীর হাত চেঁপে ধরে সে। ফলে ব্লেডটি পড়ে যায় হাত থেকে। ব্যাথায় কুঁকিয়ে উঠে নিশী। নিশীর নরম গাল শক্ত করে চেঁপে ধরে মাহাদী। হিনহিনে কন্ঠে বলে,
“তুই আসলে আমার ভালোবাসার যোগ্য নস, তোর খুব ডানা গজিয়েছে। আজ সব ডানা আমি কাঁটবো”

বলেই সজোরে চ’ড় বসিয়ে দেয় নিশীর গালে। শক্ত হাতের প্রহারে ঠোঁট ফেঁটে র’ক্ত ঝরতে লাগলো। নিশীর তাল সামলাতে না পাড়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন মাহাদী তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো,
“বিষদাঁত ভাঙ্গা তাও ফোঁস করা ভুলিস নি, আজ তোর ফোঁস করা শিখিয়ে দিবো”

বলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশীর উপর। ধস্তাধস্তির এক মূহুর্তে একটি ইটের ভাঙ্গা অংশ হাতে বাঁধে নিশীর হাতে। নিজ সম্মান রক্ষার্থে তা দিয়েই ক্রমাগত প্রহার করে সে মাহাদীর মাথায়। ব্যাথায় কাতরাতে থাকে সে। আর সেই সুযোগে ছেঁড়া কাঁপড় সমেত খালি পায়ে দরজা খুঁলে ছুটে নিশী। মাথায় তীব্র আঘাতে আত্মচিৎকার করে উঠে সে। সঙ্গীরা দূরে দাঁড়িয়ে থাকায় মাহাদীর চিৎকার প্রথমে কানে আসে না তাদের। তবে চিৎকার মাত্রা বাড়লে তারা ছুটে আসে। ঘরে আসতেই দেখে মাটিয়ে কাঁতরাচ্ছে মাহাদী, আর নিশী নেই।

খুলনা গোপালগঞ্জ হাইওয়ের পাশে শতকের পর শতক ধানের জমি। তার মাঝেই একটি খড়ের ঘরে নিশীকে এনেছিলো মাহাদী। তমশার তীব্রতায় আইলটুকু নজরে পড়ছে না। তবুও ছুটছে নিশী। প্রাণ রক্ষার্থে ছুটছে সে। তার কাঁপড়ে র’ক্তের তাজা ছিটে, হাতা গলার সাইডটুকু ছেঁড়া। পায়ে জুতো নেই। কাঁদার মাঝে ছুটছে সে। মাহাদীর সাঙ্গপাঙ্গ এলো বলে। আর একটু গেলেই হাইওয়ে। হাইওয়ে তে উঠলেই সাহায্যের আলো পাওয়া যাবে। তবে এর আগে ওদের হাতে পড়লে জানে মে’রে দিবে তাকে। তাই প্রাণপণে ছুটছে সে। চোখ হয়ে উঠছে ঝাপসা। কোনো মতে রাস্তায় উঠতেই খেয়াল করলো একটি গাড়ি প্রচন্ড বেগে ছুটে আসছে তার দিকে। ততক্ষণে মাহাদীর লোকদের কন্ঠ শুনতে পায় নিশী। কিছু না ভেবেই ঝাপ দেয় গাড়িটির সামনে। সাথে সাথেই গাড়ির মালিক ব্রেক কষে। কিন্তু ততক্ষণে পিচঢালা পথে লুটিয়ে পড়ে নিশী। মূহুর্ত কয়েক বাদে ভারী পুরুষালী কন্ঠ কানে আসে তার,
“আপনি ঠিক আছেন?”

নিশী অস্পষ্ট কন্ঠ বলে,
“আমাকে বাঁচান, ওরা মে’রে ফেলবে আমাকে”

কথাটা বলেই মূর্ছা যায় সে। তার মনে হচ্ছে নিগুঢ় আঁধারে সে তলিয়ে যাচ্ছে_______

*******

নিশীর জ্ঞান ফিরলো সকালে, কাঁচা সোনা রোদ তার মুখে আঁছড়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে বহু কষ্টে চোখ খুলে সে। উজ্জ্বল তীব্র আলো চোখে পড়তেই আমার চোখ বুঝে। হাতটা ভার লাগছে। ভীষণ ব্যাথা। আবারো রয়ে আওয়ে চোখ মেলে। শুভ্র ছাঁদ, শুভ্র বিছানা। হাতে স্যালাইন এর ক্যানোলা। সে হাসপাতালে আছে। নিশী আশপাশটা দেখতেই একটি ভারী গম্ভীর কন্ঠ কানে আসে তার,
“ম’রা’র জন্য আমার গাড়ি বেঁছে নিতে হলো? হাইওয়ে তে তো গাড়ির অভাব নেই। গাড়ির সামনে ঝাপ দিয়ে আবার বলে আমায় বাঁচান। বাঁচতে চাইলে ঝাপ দিলেন কেনো?”

কন্ঠটিকে অনুসরণ করে সেদিকে তাকায় নিশী। একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে একটি যুবক বসে আছে। লম্বাটে মুখ, চুল গুলো কপাল অবধি, খোঁচা খোঁচা দাড়ি, গাঢ় নয়নজোড়া। ঠোঁটে হাসি নেই। কঠিন তার মুখভঙ্গি। পরণে সাদা শার্ট, আঁধখোলা টাইটা ঝুলছে। চোখজোড়া ক্লান্তিতে বুজে আসছে যেনো। ইনি কি তবে তাকে বাঁচিয়েছে। তবুও ভরসা করতে অনিচ্ছুক নিশী। যতই হোক, গতরাতে যা হয়েছে সেই কুৎসিত ঘটনার পর সকল পুরুষ ই যেনো বিভীষিকা। নিশীকে চুপ করে থাকতে দেখে হয়তো ভালো লাগে নি যুবকের। সে উঠে পকেটে হাত গুজে বললো,
“পুলিশের কাছেও কি মুখে কুলুপ এঁটে থাকবেন? তাতে কিন্তু লস আপনার!”
“আপনি পুলিশ?”

এবার মুখ খুললো নিশী। যুবক একটু হাসলো। তারপর বললো,
“না তবে পুলিশের ভায়রাভাই। যাক গে, আশাকরছি আপনি পুলিশের কাছে যাবেন। যা অবস্থা ছিলো তাতে আপনার ক্ষতি না হলেও চেষ্টা তো করা হয়েছে। তবে আপনি কি চিনেন তাদের?”
“জ্বী”
“তাহলে তো আরোও ভালো, আপনি নির্ভয়ে পুলিশদের সাথে কথা বলবেন। আসছি”

যুবক নিশীকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না। ঘুরে কেবিন থেকে বের হবার জন্য পা বাড়ালো। তখন ই নিশী বলে উঠলো,
“শুনুন”
“কিছু বলবেন?”
“আপনার কাছে ফোন হবে? বাসায় জানাবো। ওরা আমার ফোন রাস্তায় ফেলে দিয়েছে”

যুবক কিছুসময় ভেবে ফোনটি বাড়িয়ে দিলো। নিশী নিহিতাকে ফোন দিলো। কিন্তু ফোনটি ধরলো না কেউ। নিশী রয়ে সয়ে বললো,
“আমাকে আরেকটু সাহায্য করতে পারবেন?”
“কি?”

নিশী ঠোঁট কামড়ালো। অজানা ব্যাক্তির নিকট টাকা চাওয়াটা ছোটলোকি ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু নিরুপায় সে_____

নিশী বাড়ি ফিরলো একটা নাগাদ। রাহেলা বেগম তাকে দেখতেই নানা প্রশ্ন ছুঁড়লেন। সে কোনো উত্তর না দিয়েই সোফায় বসলো, হাতের শুভ্র ব্যান্ডেজ। ঠোঁটের ক্ষত যেনো রাহেলা বেগমের চোখে পড়েও তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। জামশেদ সাহেব ও বাড়িতে। কাল রাতে কম খুঁজে নি তিনি নিশিকে। না পেরে থানায় গিয়েছেন। তারা বলেছে ২৪ ঘন্টা না হলে রিপোর্ট লিখবেন না। তাই সারারাত নির্ঘুম কেটেছে তাদের, যতই হোক, মেয়ে রাতে ফিরে নি। এর মাঝেই কলিংবেল বেঁজে উঠে, নিহিতা ছুটে এসে দরজা খুলে। দরজার বাহিরে পুলিশকে দেখতেই চমকে উঠে নিহিতা। বিস্মিত কন্ঠে বলে,
“কাকে চাই?”
“নিশী হক আছেন? আমরা তার খোঁজে এসেছি”………..

চলবে

মুশফিকা রহমান মৈথি