ইতি নিশীথিনী পর্ব-৫০ এবং শেষ পর্ব

0
1518

#ইতি_নিশীথিনী
#অন্তিম_পর্ব (প্রথম অংশ)

সাব্বির বেরিয়ে যেতেই তার মোবাইল বেঝে উঠলো। স্ক্রিনে “মোস্তাক” নামটি ভেসে উঠেছে। বেশ কৌতুহল নিয়ে ফোনটি ধরলো প্রণয়। সাথে সাথেই মোস্তাকের চিন্তিত স্বর কানে এলো,
“খারাপ নিউজ প্রণয় সাহেব, মাহাদী শেখ তো জেল থেকে পালিয়েছে”

কথাটা মস্তিষ্কের নিউরনে আলোড়ন তুললো। সময় লাগলো কথাটা হজম হতে প্রণয়ের। মাহাদী শেখের বিচারের পর ই তাকে সেন্ট্রাল জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। বিগত মাসখানেক সে জেলেই। জেলের এতো কড়া নজরদারির মাঝে সে পালালো কিভাবে! এটা অসম্ভব। সত্যি ই অসম্ভব। প্রণয় চুপ করে রইলো বেশ কিছুসময়। তার সাড়া না পেয়ে মোস্তাক জিজ্ঞাসা করে উঠলো,
“প্রণয় সাহেব কি শুনতে পাচ্ছেন?”

মোস্তাকের কন্ঠ কানে যেতেই শান্ত কন্ঠে প্রণয় বলে,
“শুনছি। ও পালিয়েছে কবে?”
“তিনদিন হয়ে গিয়েছে। আজ আমরা খবর পেয়েছি। সারা শহর তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। আশাকরি পাওয়া যাবে তাকে। যদিও কথাটা বেমানান এই মূহুর্তের জন্য। তবুও বলবো চিন্তা করবেন না। শুধু সাবধানে থাকবেন। বিশেষ করে নিশী ম্যাডামকে বলবেন সাবধানে থাকতে”
“আপনি কি ফাযলামি করছেন? তিনদিন হয়েছে সে পালিয়েছে। অথচ আপনার বিশ্বাস তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে? আর বলছেন চিন্তা না করতে?”

প্রণয়ের রাগান্বিত কন্ঠে বলা কথাটা চুপ করেই শুনলো মোস্তাক। রাগ হওয়াটা অসম্ভব নয়। মাহাদী শেখের পক্ষে সব করা সম্ভব। তবুও সে ধীর কন্ঠে বললো,
“আসলে আসা*মী পালানোটা খুব ক্রেডিটের ব্যাপার নয়। তাই আমরা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু কিভাবে যেনো মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ওকে খুঁজে বের করার। কোথায় আর যাবে! আপনি একটু শান্ত হন। আর আপাতত নিশী ম্যাডামকে কিছু জানানোর দরকার নেই। শুধু একটু সাবধানে থাকবেন। যদি চান তবে পুলীস প্রটেকশন দেওয়া হবে আপনাদের”
“আপনাদের প্রটেকশন কেমন আমার জানা আছে। যেখানে জে*ল থেকে মানুষ পালায় সেখানে আর কি প্রটেকশন দিবেন? আমি রাখছি। ওর ক্লু পেলে জানিয়েন”

মোস্তাক ছোট করে “হু” বললো। প্রণয় ফোন কেটে দিলো। তার মাথাটা অসম্ভব ব্যাথা করছে। মনে হচ্ছে প্রতিটা স্নায়ু, শিরা ফে*টে যাবে। খুব অসহনীয় একটা অনুভূতি। দুহাত দিয়ে মাথাটা চেপে বসে রইলো সে কিছুসময়। নাহ! এখন চুপ করে বসে থাকার সময় নয়। নিশী এবং নীরা বাসায় একা, তাদের নিরাপত্তা সবার পূর্বে। তাই মোবাইলটা হাতে নিয়েই “নিশীথিনী” নামের সেভ করা নম্বরটিতে ফোন দিলো। কল যাচ্ছে কিন্তু কেউ ফোনটা ধরছে না। একবার ফোন দিলো, দুবার কিন্তু এখনো ফোনটা কেউ ধরছে না। ফোনের প্রতিটি কলের সাথে সাথে হৃদস্পন্দন বাড়ছে প্রণয়ের। নিকষকালো ভয় তার ভেতরটাকে অস্থির করে তুলছে। রফিকের সাথে ঘটিত ঘটনাটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। ফলে আর বসে থাকা অসম্ভব। তাই সময় নষ্ট না করেই উঠে দাঁড়ালো প্রণয়। ব্যাগটা হাতে নিয়েই বেরিয়ে যেতে নিলেই ধাক্কা খেলো সাব্বিরের সাথে। হাতে থাকা কালো কফির কাপটা সাব্বিরের হাত ফসকে পড়ে গেলো মেঝেতে। ফলে গরম কফির কিছুটা সাদা শার্টে ছিটে পড়লো। গরম কফি গায়ে লাগলেও সেই জ্বলন উপেক্ষা করে গেলো প্রণয়। সাব্বির বোকার মতো চেয়ে রইলো প্রণয়ের রাস্তা আটকে। ফলে অস্থির প্রণয় কিছুটা রেগেই বললো,
“আ*হা*ম্ম*কের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে সরো”
“কফি খাবেন না স্যার?”
“তুমি খাও তোমার কফি”

বলেই সাব্বিরকে ঈষৎ ধা*ক্কা বেরিয়ে গেলো প্রণয়। সাব্বির এখনো বোকার মতোই দাঁড়িয়ে রইলো। প্রণয়কে উ*ন্মা*দের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে তার জীবন ম*র*ণের প্রশ্ন উঠে দাঁড়িয়েছে। সাব্বির বুঝলো না তার দোষটা কোথায়! তাকে কেনো পুনরায় ঝা*ড়ি খেতে হলো! সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেঝের কফিটুকু টিস্যু দিয়ে মুছে নিলো।

প্রণয়ের গাড়ি হাওয়ার বেগের সাথে চলছে। সে তখন ও নিশীকেই ফোন দিচ্ছে কিন্তু নিশীর ফোনটি কেউ উঠাচ্ছে না। ফলে ত্রিশ মিনিটের রাস্তা সে দশ মিনিটে পার করলো। বাড়িতে পৌছাতেই উ*ন্মাদের মতো কলিংবেল বাজালো কিন্তু কেউ খুলছে না। প্রণয় দরজা জোরে জোরে ধাক্কাতে লাগলো। রীতিমতো ঘামছে প্রণয়। তার হৃদস্পন্দন বেসামাল হয়ে গিয়েছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে এসেছে। সে এবার দরজা ভাঙ্গার জন্য প্রস্তুত হলো। ঠিক তখন ই দরজাটা খুললো নিশী। মাথায় ভেজা গামছা, শাড়ির আঁচল কোনমতে প্যাচানো। আতঙ্কিত চাহনী তার। প্রণয় কে দেখে আরেকদফা চমকালো সে। এতোসময় গোসল করছিলো সে। নীরা তার ঘরে ঘুম। তাই নিরিবিলি গোসল সারছিলো নিশী। তখন ই ক্রমাগত কলিংবেল এবং দরজার ধাক্কার শব্দ কানে আসে। কোনমতে গা মুছে কাপড় গায়ে দিয়েই বেরিয়ে এসেছে সে। দরজা খুলতেই প্রণয়ের উদ্বিগ্ন মুখখানা নজরে পড়লো। চুলগুলো অবিন্যস্ত, চোখজোড়া রক্তিম। টাইটা কোনোমতে গলায় ঝুলছে। সে হাপাচ্ছে। নিশীকে দেখেই বিনাবাক্যে তাকে জড়িয়ে ধরলো। নিশী অবাক কন্ঠে বললো,
“কি হয়ে আপনার?”
“তুমি ঠিক আছো?”
“হ্যা, আমার কি হবে?”
“তাহলে ফোন ধরছিলে না কেনো?”
“গোসলে ছিলাম। তাই ধরতে পারি নি”

প্রণয় তার কপাল ঠেকালো নিশীর অর্ধভেজা কাঁধে। নিশী আবার শুধালো,
“কি হয়েছে?”

প্রণয় উত্তর দিলো না। ইতোমধ্যে নীরাও ঘুম থেকে উঠে দাঁড়ালো নিশীর পাশে। অবাক চোখে তার বাবাকে দেখছে সে। নিশী এখনো বুঝতে পারছে না প্রণয়ের অস্থিরতা। কিন্তু এটুকু বুঝতে পারছে যে সে ভয় পেয়েছে৷ তার শরীর এখনো কাঁপছে। উষ্ণ নিশ্বাসে ঝলসে যাচ্ছে তার কাঁধ। নিশী তার পিঠে আলতো করে হাত বুলালো। নরম গলায় বললো,
“সব ঠিক হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে”

******

নিজ ঘরে বিছানায় বসে রয়েছে প্রণয়। তার চাহনী ঘুর্নায়মান ফ্যানের দিকে। নিস্পৃহ তার চাহনী। তার বুক এখনো কাঁপছে। কিছুতেই যেনো আশ্বস্ত হতে পারছে না সে। খুব ভয় করছে। এমন সময় নিশী ঘরে এলো। হাতে কালো কফি। সে কফিটা রেখে বললো,
“ফোন বাজছে, ধরবে না?”

নিশীর কথায় চিন্তার ঘোর কাঁটে প্রণয়ের। খানিকটা চমকে উঠে বলে,
“কিছু বললে?”
“ফোন বাজছে”

সত্যি ফোন বাজছে প্রণয়ের। অথচ তার সেদিকে খেয়াল নেই। প্রণয় উঠে ফোনটি হাতে নিলো। মোস্তাক ফোন করেছে। প্রণয় বিনা বাক্যে বারান্দায় চলে গেলো। নিশী প্রণয়ের আচারণে বেশ অবাক হলো। সকালে তো ভালোই ছিলো। মিনিট পনেরো বাদে প্রণয়ের আগমণ ঘটে। তার মুখের রঙ পালটে গেছে। নিস্পৃহ মুখশ্রী এখন খামিকটা উজ্জ্বল লাগছে। কফির কাপটা হাতে নিলো সে। বেশ আয়েশ করেই চুমুক দিলো। নিশী এবার বিনাদ্বিধায় শুধালো,
“কি হয়েছে বলুন তো?”
“ভয় কেটে গিয়েছে”
“মানে?”

প্রণয় কফিটা শেষ করলো। তারপর কাপটা রাখতে রাখতে বললো,
“মাহাদী মা*রা গেছে”

কথাটা শুনতেই থমকে গেলো নিশী। অবাক কন্ঠে বলল,
“মানে?”
“তিনদিন আগে ও জে*ল থেকে পালিয়েছিলো। আজ বিকেলে আমাকে ফোনে জানিয়েছেন মোস্তাক সাহেব। এখন তার লা*শ পাওয়া গেছে। বেনাপোল পোর্টের দৌলতপুর সীমান্তে ওকে পাওয়া গেছে। লা*শের অবস্থা বেগতিক। তবে লা*শ থেকে পাওয়া জিনিস গুলো মাহাদীর। সেকারণেই তাদের অনুমান এটা মাহাদীর লা*শ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মোস্তাক সাহেব তো নিশ্চিত এটা মাহাদী”
“কিভাবে হলো?”
“পুলিশের ভাষ্যমতে সে রাতের অন্ধকারে বেনাপোল পোর্টের দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ওপারে যাবার চেষ্টা করছিলো। তারকাঁটা কেটে পার ই হয়ে গিয়েছিলো। কারণ লা*শ ওপারে পাওয়া গেছে। কিন্তু আমার চিন্তাটা অন্যজায়গায় বুঝলে! ওর দে*হ বিকৃত হলো কিভাবে? তদন্ত চলছে। দেখা যাক। যেই দালাল দিয়ে পার হচ্ছিলো তাকেও খুঁজে বার করার প্রচেষ্টা চলছে”

নিশী কিছু বললো না। নতমস্তকে চুপ করে রইলো। অনেক প্রশ্ন তবে উত্তর নেই। প্রণয় একটু এগিয়ে এসে তার হাতটা ধরলো। আশ্বস্ত কন্ঠে বললো,
“বিকেলে আমার উদ্ভ্রান্ত আচারণের কারণ এই মাহাদী। ভয় পেয়েছিলাম খুব। তুমি তো ফোন ধরছিলে না তাই ভয়টা আরোও গাঢ় হচ্ছিলো। এখন কালো ভয়টা কেটে গেছে। আর চিন্তা নেই”

নিশী নিস্পন্দ হাসি আঁকলো ঠোঁটে। কিন্তু সত্যি কি ভয়টা কাটলো! কে জানে! প্রণয় মাথা এলিয়ে দিলো প্রণয়ের বুকে। এই জায়গাটি যে সবচেয়ে শান্তির। সে এখন এসব নিয়ে ভাববে না। যেটুকু সময় মানুষ্টির সাথে থাকা যায় সেটাই প্রশান্তির৷

*****

সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। আশ্বিন মাসের সাদা মেঘেরা যেনো আজকে হ*রতালে। কালো মেঘেদের বিদ্রোহ। চিন্তার নিষ্পত্তি হয়েছে। কারণ লা*শের ডিএনএ সোলাইমান শেখের সাথে মিলেছে। তাই নিশ্চিত এটা মাহাদী ই। অথচ তাকে এতোটা নৃশংসভাবে হ*ত্যা করা হয়েছে। যার এখনো সুরাহা বের হয় নি। পুলিশের ধারণা ওর খু*ন দালালটি ই করেছে। হয়তো টাকার বিবাদ ছিলো। প্রণয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। নিশীর বিপদ কেটে গেছে। তাই আজ যথারীতি আজ নীরাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো প্রণয়। নিশী তাদের বিদায় দিয়ে দরজা আটকে দিলো। সামনে তার পরীক্ষা। এখন গা ছাড়া ভাবখানা ছাড়তে হবে। তাই এখন বই নিয়ে বসবে সে। ঘরটা এতো বড় যে একা একা থাকলে মাঝে মাঝে ভয় করে। আসলে একা থাকার অভ্যেসটা খুব একটা নেই তার। ছোটবেলায় থাকতো বটে কিন্তু এখন ভালো লাগে না। কেমন যেনো শূন্যতা। অনেকদিন হলো সুহার সাথে যোগাযোগ নেই। মেয়েটি কেমন আছে কি করছে কিছু খোঁজ নেওয়া হয় না। নেয় নি বললে ভুল হবে, সুযোগ পায় নি। নতুন ঘর, নতুন নীড়; সেখানের টুকিটাকি কাজ করতে করতেই সময় কখন পালিয়ে যায় ঠিক পায় না। আইনের মোটা বইখানা উল্টাতে উল্টাতে নিশীর ইচ্ছে হলো একটিবার মেয়েটিকে ফোন দিবে। ভালো লাগছে এই একাকীত্ব। একটু কথা বললে মনটাও ভালো থাকবে। যে ভাবা সেই কাজ। মন দিলো সুহাকে। ফোন ধরতেই সুহা অভিমানী স্বরে বললো,
“কি রে নববধু মনে পড়লো আমাকে?”
“পড়লো তো! কেমন আছিস?”
“আছি আলহামদুলিল্লাহ, তুই?”
“আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো! তো খবর টবর কিছু আছে?”
“মা এসেছিলো, বলিস না বিয়ের জন্য মাথা খাচ্ছে। আর উদাহরণ তুই!”
“ভুল করে ফেললাম বুঝি!”
“ভুল জানি না, তবে বা*শ আমাকে ভুগতে হচ্ছে”

সুহার কথা শুনে সশব্দে হেসে উঠলো নিশী। মেয়েটার কথাই এমন বড্ড হাসি পায়। বেশ খানেক সময় কথা হলো দুজনের। ঘন্টা কখন পার হলো জানা নেই। হাসি, খুনসুটি কত আলাপ দুজনের। ঘন্টা দেড়েক পর ফোন কাটলো নিশী। ঘটিতে এখন সাড়ে এগারোটা। বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করতেই গায়ে কাঁটা দিলো। হীম ধরে এলো সারা শরীরে। ঘরে সে একা নয়। তার বিছানাতে পা দুলিয়ে বসে রয়েছে একজন। মানুষটি আর কেউ নয় মাহাদী। চোখ মুখে হিং*স্রতা, ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি। সেই হাসি গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। নিশী স্তব্ধ হয়ে গেলো তাকে দেখে। মাহাদী হাসি অক্ষত রেখে বললো,
“কেমন আছো নিশীথ পাখি? আবার দেখা হলো!”…….

চলবে

#ইতি_নিশীথিনী
#অন্তিম_পর্ব (শেষ অংশ)

বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করতেই গায়ে কাঁটা দিলো। হীম ধরে এলো সারা শরীরে। ঘরে সে একা নয়। তার বিছানাতে পা দুলিয়ে বসে রয়েছে একজন। মানুষটি আর কেউ নয় মাহাদী। চোখ মুখে হিং*স্রতা, ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি। সেই হাসি গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। নিশী স্তব্ধ হয়ে গেলো তাকে দেখে। মাহাদী হাসি অক্ষত রেখে বললো,
“কেমন আছো নিশীথ পাখি? আবার দেখা হলো!”

নিশীর পা জোড়া অসাড় হয়ে আসছে। নড়তে চাইছে না। মাটি যেনো বিশাল হাত দিয়ে তার পাজোড়া আটকে রেখেছে। এক বিন্দু নড়লো না নিশী। শুধু বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে রইলো। বিশ্বাস হচ্ছে না, ম*রা মানুষ কি ফিরে আসে? নাকি সে কখনো মা*রাই যায় নি! সব নাটক ছিলো। সবাই জানবে মাহাদী মারা গেছে, তাই সবাই নিশ্চিন্তে গা এলিয়ে দিয়ে বসে থাকবে। আর সেই সুযোগে মাহাদী হিং*স্র পশুর মতো তার শিকা*রের উপর ঝাপটে পড়বে। বিশ্রী ভয়ে তার গা কাটা দিচ্ছে। নিশীর বিমূঢ় মুখ দেখে সশব্দে হাসলো মাহাদী। পা নাচাতে নাচাতে বললো,
“কি ভেবেছিলে! আমি জেলে প*চবো, আর তুমি শান্তিতে সুখের সংসার করবে তাই না! নাকি ভেবেছিলে আমি ম*রে গেছি! তাই খিখি করে হাসছিলে। এখন হাসছো না কেনো? হাসি মিয়ে গেলো! কি হলো? আমাকে ভু*ত লাগছে?”

বলেই উঠে দাঁড়ালো মাহাদ। লম্বা লম্বা পায়ে এগিয়ে আসলো নিশীর দিকে। এবার নিশী নড়ে চড়ে উঠলো। পিছনে সরতে চেষ্টা করলো। কিন্তু মস্তিষ্কের সিগনালটি হয়তো তার অসাড় পাজোড়া পায় নি। তাই তো ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লো। ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে তার। ক্রমাগত কপালে জমছে ঘামের বিন্দু। মাহাদ আবারো তার বিশ্রী গা গুলিয়ে দেওয়া হাসিটি হাসলো। তারপর হাটু গেড়ে বসলো নিশীর সম্মুখে। মাথা ঝুকিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো,
“আমি ম*রি নি, ম*রি নি আমি। নাটক করেছিলাম। টাকা হলে সব হয় জানো তো নিশীথ পাখি। আচ্ছা! সেই তো বিয়ে করলে, আমাকে করতে কি আপত্তি ছিলো! শুনি!”

নিশী অসম্ভব ঘৃণায় চোখ মুখ কুচকে ফেললো। মুখ ফিরিয়ে নিলো মূহুর্তেই। তার মুখশ্রীতে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ দেখে মাহাদী নিঃশব্দে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো। তারপর তার কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো আলতো হাতে সরিয়ে দিয়ে বললো,
“তুমি আমাকে এতো ঘৃণা করো কেন?”

প্রশ্নটা শুনতেই প্রখর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো নিশী। তার দৃষ্টিতে ঘৃণা ছাড়া যেনো আর কিছুই দেখতে পেলো না মাহাদী। মাহাদী মাথা চুলকালো। তারপর পা ছড়িয়ে বসলো নিশীর সম্মুখে। মুখে হাত দিয়ে বললো,
“নিশীথ পাখি, তুমি বড্ড বেশি বোকা! কি হলো বলো আমার সাথে লড়ে! কি পেলে! হয়তো তুমি জিতেছো, কিন্তু সব হারিয়ে। আমি হেরেছি তবুও দেখো শেষ অবধি কিন্তু আমি জিতেছি। আজ আমি মুক্ত। তোমার ওই আইন কিন্তু আমার টাকার লোভে আমার কাছে নত হয়েছে। অথচ একটি দিনও তোমার স্বস্তিতে কাটে নি। কি লাভ হলো! তোমার জেদ, অহমিকা চূর্ণবিচূর্ণ করতে না পারলেও তোমাকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছি। কি পারি নি? তাও একই জেদ, একই অহমিকা। আচ্ছা তুমি যদি না থাকো এই জেদ দিয়ে কি করবে?”
“কি চাই আপনার?”

রুদ্র কন্ঠে কথাটা বললো নিশী। তার প্রখর দৃষ্টি আরোও একটিবার মুগ্ধ করলো মাহাদীকে। কিন্তু সেই মুগ্ধতা নিমিষেই হারিয়ে গেলো, অসম্ভব হিংস্রতা এসে ভিড়লো শ্যাম মুখে। নিশীর মুখ চে*পে ধরলো সে। শক্ত হাতের নিষ্ঠুর শক্তির সাথে পেরে উঠলো না নিশী। চোখের পলকে তার হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইলটা কেড়ে নিলো সে। সজোরে আ*ঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো মোবাইলটা। মোবাইল ভাঙ্গার তীব্র আঘাতে কেঁপে উঠলো নিশী। সে খুব চতুরতার সাথে ফোন করছিলো প্রণয়কে। কিন্তু ধরা পড়ে গেলো। তার চোখে জমলো ত্রাশ, ভীতি। মাহাদীর কদর্যরূপ তাকে হীম ধরিয়ে দিচ্ছে। মাহাদী হিসহিসিয়ে বললো,
“আমি তোর অন্তিমক্ষণ দেখতে চাই। তোর দম্ভকে চুরমার করতে চাই। তোর কাঁদতে দেখতে চাই, আমার কাছে ভিক্ষা চাইতে দেখতে চাই। তোকে পায়ের নিচে পি*ষে মা*র*তে চাই। তোর নাগরের সামনে তোর বি*ব*স্ত্র লা*শ ঝুলবে! কি শান্তি!”
“এতে করে বেঁচে যাবেন তো? আমার কিছু হলে সে কি আপনাকে ছেড়ে দিবে?”
“মৃ*ত মানুষকে ক’বার মা*র*বে নিশীথ পাখি?”

নিশী বুঝলো তার অহিত সম্মুখে। সামনে বসে থাকা হিং*স্র মানুষটির হাত থেকে নিস্তার পাওয়াটা সহজ নয়। চোয়াল ব্যাথা করছে। জীর্ণ শরীরে এতোটা শক্তি নেই যে এই বিশালকায়াকে সরাবে। মাহাদী তার গায়ের গন্ধ শুকছে, যেমনটা কোনো হিং*স্র জা*নো*য়ার তার শিকারকে খা*বার আগে করে। সে একা আজ। সম্পূর্ণ বাড়িতে সে একা। মস্তিষ্ক তাকে ক্রমশ দূর্বল করে তুলছে। নিশী ঘৃণা হচ্ছে, সে প্রতিহার করতে গেলেই মাহাদী তার সর্বোচ্চ শক্তিতে তাকে প্র*হার করে। ঠোঁট ফে*টে গ*ল*গ*লিয়ে পড়ে ঘন লাল রক্ত। চুলের মুঠি ধরে বলে,
“তোর দম্ভ এখনো ভাঙ্গে নি না? এখনো আপোষ করবি না”

বলেই আবারও প্র*হার করে সে। অসহনীয় যন্ত্রণা করছে। মাহাদীর চোখে উগ্র রোষ। তার পশুপ্রবৃত্তি তখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। উঠে দাঁডিয়ে কিছু সময় ইচ্ছে মতো লা*থি দিলো নিশীর উদরে। ব্যাথায় নীল হওয়া নিশী পেটে চেপে মেঝেতে শুয়ে রইলো। তার বাহুতেও প্র*হার করা থামালো না। একসময় বেল্ট খুলে প্র*হার শুরু করলো মাহাদী। ঠোঁট চেপে সেই অত্যাচার সহ্য করলো নিশী। তার সারা শরীর অসম্ভব ব্যাথা করছে। উঠার শক্তিটুকু নেই। চামড়া চি*রে ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছে র*ক্ত। নীল জামাটা ভিজে গেছে উষ্ণ র*ক্তে। এবার থামলো মাহাদী। চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে কানে মুখ নিয়ে বলল,
“আর ছটফট করবি? বেশি বাড়াবাড়ি করবি, কঠিন মৃ*ত্যু দিবো। আমার সাথে আপোষ করবি সহজ মৃ*ত্যু পাবি। ম*রবি তো একটু শান্তিতে ম*র। আমি তোকে কষ্ট দিতে কখনোই চাই নি রে, তুই আমাকে বাধ্য করেছিস। কি হলো বল? তোর নাগর তোকে বাঁচাতে পারবে না। কেনো আমাকে এতোটা জা*নো*য়া*র বানালি?”

নিশীর দৃষ্টি ঝাপসা লাগছে। মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না তার। সাদা মেঝেটা র*ক্তে র*ক্তে লাল হয়ে উঠছে। তবুও তার ঘৃণা কমছে না। দৃষ্টির ক্রোধ এখনো অক্ষত। গুড়িয়ে যাওয়া বাঁচার ইচ্ছেটা এখনো আকুতি করছে মাথা তোলার জন্য। বাবা বলতো,
“মনের শক্তি হলো বড় শক্তি। ওরা তোকে গুড়িয়ে দিলেও তোর মনের জোরকে কখনো ছুতে পারবে না”

বাবা সত্য বলতেন, নিশী ভাঙ্গবে না। তার যে বাঁচার বড় সাধ। প্রণয়ের কাঁধে মাথা রেখে যে তার জীবনের সব মূহুর্ত অতিবাহিত করার সাধ। নীরাকে কথা বলতে দেখার সাধ। প্রণয়ের সাথে ঘর বাঁধার সাধ। সব কি স্বপ্ন ই থাকবে? পূরণ হবে না? নিশী কি সুখ কুড়াতে পারবে না? কেনো তার জীবনটাই বিষাদে মাখা। কেনো এই রুঢ় বাস্তবতা তার সকল সুখ এক এক করে কেড়ে নিলো। কেনো দোষীরা আজ মুক্ত? কেনো আইন এতো দূর্বল? নিশী এতো সময়ের জমায়িত দীর্ঘশ্বাস টা সন্তপর্ণে গোপন করে নিলো। তাকে বাঁচতে হবে। নিশীথিনীরা তো থেমে যায় না, কাবু হয় না। তবে সে কেনো আজ থেমে যাবে। শেষ লহু অবধি সে লড়বে। তাকে যে পারতেই হবে। মাহাদী যখন ই তার সন্নিকটে আসার চেষ্টা করলো তখনই তার ঘাড়ে সর্বোচ্চ শক্তিতে কা*মড় বসালো নিশী। ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠলো সে। ঘাড়ে থেকে রক্ত বের হচ্ছে। মানুষের কা*মড় নাকি খুব ধারালো। আজ টের পেলো মাহাদী। ঘাড়ে হাত দিয়ে যখন অন্যমনস্ক হলো, তখন ই নিশী তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো। কোনো মতে উঠে দাঁড়ালো সে। রক্তাক্ত শরীরে পা টেনে টেনে ছুটলো সে সদরের দিকে। এই তো আর একটু তারপর ই মুক্তি।

****

কোর্টের কাজ সেরে প্রণয় তার চেম্বারে এলো। সাব্বির আজ সব আগ থেকে গুছিয়ে রেখেছে। আজ আর ছেলেটিকে বকবে না প্রণয়। সে অনেক কাজ করেছে, তাও ভুল ত্রুটি ছাড়া। তাই বেশ প্রসন্ন প্রণয়। এর ই মাঝে তার ফোনখানা বেজে উঠলো। মোস্তাক ফোন করছে। ফোনটি ধরতেই তার আতঙ্কিত কন্ঠ কানে এলো,
“মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে প্রণয় সাহেব। মাহাদী শেখ বেঁচে আছে। আমরা আপনার বাসার দিকে যাচ্ছি”
“বাসার দিকে মানে? কি বলছেন?”
“ফরেন্সিক ডাক্তার টাকা খেয়ে লা*শটিকে মাহাদী বলে দিয়েছে। লা*শটি আসলে দালালের ছিলো। সে আমাদের সাথে চালাকী করেছে। নিজের মৃ*ত্যুর নাটক সাজিয়েছে যেনো সবাই ভাবে সে মৃ*ত। আপনি বাসায় আছেন তো?”

মোস্তাকের কথায় স্তব্ধ হয়ে গেলো।তার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেলো উষ্ণ রক্তের স্রোত। সময় নষ্ট না করেই ছুটলো বাসার দিকে। বাসায় একা নিশী। তবে কি মাহাদীর টার্গেট নিশী!

সর্বোচ্চ গতিতে গাড়ি ছোটালো প্রণয়। জ্যাম না থাকায় পৌছেও গেলো। বাসার কলিংবেল বাজাতে লাগলো সে। সেদিনের মতো আজ ও কি নিশী বাথরুমে? ইতোমধ্যে মোস্তাক এবং পুলিশের দল ও চলে এলো। কলিংবেল বাজছে অথচ ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। প্রণয় এবং মোস্তাকের দল নাধ্য হলো দরজা ভাঙ্গতে। প্রণয়ের বুক কাঁপছে। তার নিশীথিনী ঠিক আছে তো। দরজা ভাঙ্গতেই হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করলো তারা। নিশীকে ডাকতে ডাকতে ছুটলো নিজ ঘরে। নিজ ঘরের মেঝেতে র*ক্তের দাগ তার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিলো। বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো প্রণয়। তখন ই মোসাদ্দেকের গলা আসলো। রান্নাঘর থেকে সে চেচাচ্ছে। প্রণয়ের ধ্যান ভাঙ্গলো। ছুটে গেলো রান্নাঘরে। রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই সকলে থমকে গেলো। রক্তাক্ত নিশী দেয়ালে ঠেক দিয়ে বসে রয়েছে। আর তার পাশেই চরম অবহেলায় পড়ে র‍য়েছে নিথর মাহাদী। মুখ খানা তার হা হয়ে আছে৷ নিশীর চোখ স্তব্ধ। সেই চোখে কোনো ভাষা নেই। মনে হচ্ছে যেনো একখানা পুতুল বসে রয়েছে। প্রণয় তার সম্মুখে হাটু গেড়ে বসলো। উষ্ণ হাতে মুখখানা স্পর্শ করতেই তাকালো সে। ঠোঁটের কোনে নিস্পৃহ হাসি। অস্পষ্ট স্বরে বললো,
“আমি আর শুভ্র জ্যোৎস্না নই প্রণয়৷ আমি এখন আমাবস্যা। নিগূঢ় কালো আমাবস্যা। যেই আমাবস্যায় শুধু নিশীথিনীদের বিচরণ”

********

প্রিয়,
যদিও তুমি আমার প্রিয় নও। তবুও তোমাকে প্রিয় বলছি। আচ্ছা প্রিয় ছাড়া আর কি আছে সম্বোধন করার মতো? আমার জানা নেই। এই যে চিঠি লিখছি এটা আমার প্রথম চিঠি। আমি এর পূর্বে চিঠি লিখি নি। আমার এই চিঠিটি যখন তুমি পাবে তখন আমি তোমার থেকে বহুদূর। দুরত্বটা শারিরীক আত্মিক নয়। কেনো আত্মিক নয় তা বোঝাতে পারবো না। আচ্ছা, তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো প্রণয়? হয়তো বাসো। তাইতো প্রতিদিন সেই তারকাটার পেছনে শ্যামমুখখানা দেখি। তোমার সেই গাঢ় নয়নে নিজের জন্য অসীম ভালোবাসা দেখি। তোমার কি আমাকে ঘৃণা হয় না? কিভাবে পারো এতোটা নিখাদ ভালোবাসতে। আমার তো নিজেকেই নিজের ঘৃণা হয়। নিজের মুখখানা দেখিতে ইচ্ছে হয় না। যে মানুষ কি না ক্রি*মিনাল অপছন্দ করতো সে আজ নিজেই আ*সামী। এটাকেই হয়তো বলে আইরনি। কি করতাম বলো! নিজেকে শেষ হতে দেখার চেয়ে একটা দান*ব হ*ত্যা ঢের ভালো। তোমার সাথে ঘরবাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু স্বপ্ন মানেই তো অবচেতন মনে কিছু ধোঁয়া উড়া অবাস্তব ভাবনা। ভাগ্যের সাথে যে তার বিস্তার পার্থক্য। তাই তো আমার স্বপ্নটি স্বপ্ন ই রয়ে গেলো। তবুও বক্ষগহ্বরে তোমাকে যে স্থান দিয়েছি, তা অন্য কোনো পুরুষকে দিতে পারবো না। আল্লাহ তা’আলা যদি চান, হয়তো কখনো আমাদের দেখা হবে কোনো রঙ্গিন গোধুলীতে; যেখানে এই সমাজের দায়রা থাকবে না, থাকবে না কোনো কলঙ্কের ছাপ। আমি তোমার সকল কবিতায় হয়ে থাকবো, “প্রিয় নিশীথিনী”

ইতি
নিশীথিনী

চিঠিটা কতবার পড়া হয়েছে জানা নেই প্রণয়ের। কিন্তু প্রতিবার ই চোখ ভিজে আসে। চিঠিখানা জেল থেকে লিখেছিলো নিশী। মাহাদীকে হ*ত্যার জন্য তার কারাদন্ড হয়েছে। তবে সেটাকে কমিয়ে পাঁচ বছরে এনে দাঁড় করেছে প্রণয়। নিজেকে রক্ষার্থে সে খু*ন করেছে। তাই শাস্তির মাত্রা কম। এবং মাহাদী ও একজন জেল পলাতক আসামী। তাই বিরহের সময় খানা পাঁচ বছর। আজ নিশীকে মুক্তি দেওয়া হবে। নিশীথিনী কালকুঠুরি থেকে মুক্তি পাবে। তাই তো নীরাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রণয়। হাতে সেই চিঠিটা। জেলের দরজা থেকে যখন নিশী বের হলো। তার পড়নে একটি শুভ্র শাড়ি। চুলগুলো খোপা করে রেখেছে সে। চোখে দিয়ে হালকা কাজল। পাঁচবছর পর মেয়েটিকে আবারো শুভ্রসাজে দেখলো প্রণয়। নিশীকে দেখতেই পনেরো বছরের নীরা ছুটে গেলো তার কাছে। বুকে মুখ লুকালো। মেয়েটি বড় হয়েছে। অনেক সুন্দর লাগছে। নিশী মন ভরে দেখলো তাকে। কপালে চুমু একে বলল,
“আমাকে চিনেছো?”
“ম……ম..মা”

মেয়েটির চোখ চকচক করছে। সে খানিকটা লজ্জাও পেলো। নিশীর চোখ ভিজে এলো। তারপর তাকালো পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির দিকে। তার ঠোঁটে স্বচ্ছ হাসি। চোখ চকচক করছে। এখনো সেই গভীর চোখে অসীম প্রণয়। এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে বললো,
নিশীথ!
থমকে গেলে যে ডাকে?
অবাক হলে বুঝি, অপরিচিত নামে?
এক টুকরো সাদা কাগজে,
মেঘ তোমার চিত্র আঁকে।
টুকরো তুমি সুখের ছোঁয়া নও,
তুমি সুখ আমার হৃদ আঙ্গিনায় লেপ্টে রও।
কাননে সদ্য ফোটা ফুল তুমি,
কেন হৃদয়ে দুঃখ ব্যাথা দাও!
দেবী তুমি মায়াময়ী,
আমার মায়াদেবী!
দাও না ধরা হৃদ ঘরে মোর,
হোক প্রেমের স্নিগ্ধ ভোর।
গালে তোমার আঙ্গুল ছুইয়ে,
সদ্য ফোটা শাপলার ঝিলে গল্প পাঠে কাটাই একটা দিবস!
তোমার চোখের মায়ায় আমার কন্ঠ হয় বিবশ!
নিশিথিনী, নিশিথ তুমি,
প্রেম প্রণয়ের!

নিশী হাতটি বাড়িয়ে ধরলো। বুকে মাথা ঠেকালো। প্রণয়ে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করলো তাকে। গোধলী লগ্ন, শুভ্র মেঘের আস্তরণ আকাশে। নিশীপ্রণয়ের কাব্য আবারো সূচনালগ্নে পৌছালো। যেখানে নেই কোনো কলঙ্ক, নেই কোনো সংকা। শুধু স্বচ্ছ ভালোবাসা

||সমাপ্ত||

(আসসালামু আলাইকুম, ইতি টানলাম দীর্ঘ আড়াইমাসের #ইতি_নিশীথিনী এর৷ যেমনটা চেয়েছি, ঠিক তেমনি শেষ করলাম। জানি না, কতটা ভালোলাগলো। তবে এটা আমার বহুদিনের কষ্টের একটি কাজ। আশা করি একটু হলেও আপনাদের মনে জায়গা পেয়েছে। এখন কিছুদিন ছুটিতে থাকবো। ইনশাআল্লাহ আবারো ফিরে আসবো নতুন গল্প, নতুন চরিত্র, নতুন ভালোবাসা নিয়ে)

মুশফিকা রহমান মৈথি