উপন্যাসঃ মেঘফুল
পরিচ্ছেদঃ ০৯
লেখক- মিশু মনি
রাগ কমেছে পারভীনের। তিনি আনন্দের সঙ্গে রান্নাবান্না করছেন। পোলাওয়ের মিষ্টি সুঘ্রাণ পুরো বাড়ির বাতাসকে সুবাসিত করছে। জাহ্নবী দুয়েক বার রান্নাঘরে যাওয়ার জন্য বের হলেও ভায়োলেট বাঁধা দিয়ে বলেছে, ‘আম্মুকে একা থাকতে দাও।’
অর্ণব জাহ্নবীকে দেখে জানতে চাইলো, ‘আপনারা মিষ্টি খেয়েছেন?’
‘হ্যাঁ খেয়েছি। আপনার কিছু লাগলে বলবেন আমাকে।’
‘অবশ্যই। থ্যাংকস।’
জাহ্নবী জাভেদ আলীর পাশে বসে রইল। তিনি অর্ণবের সঙ্গে গল্পগুজব করছেন। অর্ণব আজ শান্ত, নিশ্চল। সমুদ্র শান্ত হয়ে গেলে যেমন সবকিছু অন্যরকম লাগে, আজ জাহ্নবীরও তেমন লাগছে। তবে অর্ণবের চোখ দেখে মনে হচ্ছে সে কিছু একটার জন্য ছটফট করছে। ওই চোখ জোড়া বড্ড চঞ্চল, মোটেও শান্ত সমুদ্রের মতো নয়। জাহ্নবী উৎসুক চোখে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে রইল। অর্ণব চোখ ফেরাতেই আরও একবার চোখাচোখি হল তাদের।
জাভেদ আলী ক্ষণিকের জন্য উঠে যেতেই জাহ্নবী পত্রিকা টেনে নিয়ে বসল। সে জানতে চায় অর্ণব কিছু বলবে কী না!
কিন্তু অর্ণব কিছুই বললো না। কয়েক মিনিট বসে থাকার পর বলল, ‘আমি চলে যাবো। আংকেলকে একটু ডেকে দিন না।’
‘ খাওয়াদাওয়া করে তারপর যাবেন।’
‘ না, না। আমার দেরী হয়ে যাবে।’
‘ দেরী হয়ে যাবে মানে?’
‘ আমাকে বাসা খুঁজতে হবে।’
‘ রাত হয়ে গেছে। এখন আপনি বাসা কোথায় খুঁজবেন?’
অর্ণব উত্তর খুঁজে পেলো না। হতভম্ব চেহারা নিয়েও হাসার চেষ্টা করলো। জাহ্নবী বলল, ‘আপনি একটু দাঁড়ান।’
জাহ্নবী দ্রুত ভেতরে চলে গেল। ফিরে এলো মোবাইল হাতে নিয়ে। অর্ণবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাসতে হাসতে বলল, ‘আপনি দেখি সত্যি সত্যি দাঁড়িয়ে আছেন। এটা কী জোকস ছিল ভাইয়া?’
কথাটা বলে হাসল জাহ্নবী। অর্ণব বলল, ‘ হ্যাঁ জোকস বলা যেতে পারে।’
‘ যে কারণে আপনাকে দাঁড়াতে বলেছিলাম, এখন সেই কারণটা বলব।’
‘ প্লিজ, তারাতাড়ি বলুন। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
জাহ্নবীর হার্ট লাফ দিয়ে উঠল। মনেমনে গর্বিত বোধ করল সে। কারণ এত সুন্দর করে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে কখনো কারও সাথে কথা বলতে পারেনি সে। নিজের মাঝে আসা এই অদ্ভুত পরিবর্তন ওকে আন্দোলিত করলো।
জাহ্নবী সামারকে কল দিয়ে ফোনে পেলো না। নাম্বার বন্ধ দেখাচ্ছে। বলল, ‘ ওর ওখানে একেবারেই নেটওয়ার্ক নেই।’
অর্ণব উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে।
জাহ্নবী বলল, ‘আমার ছোটবোন সামারকে তো দেখেছেন। ও এসব ব্যাপারে আপনাকে হেল্প করতে পারবে। আমাদের এই বাসাটাও সামার ঠিক করেছে।’
হাসলো জাহ্নবী। অর্ণব খুশি হয়ে বলল, ‘তাই! তাহলে তো ভালোই হয়। আমি ঢাকা শহরে কিছুই চিনি না।’
‘ টেনশন করবেন না। আমি সামারকে চেষ্টা করছি কিন্তু কল ঢুকছে না। ও বান্দরবানে বেড়াতে গেছে।’
‘ ওহ আচ্ছা।’
অর্ণব অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। জাহ্নবীর হঠাৎ মনে হল, চঞ্চল চোখ জোড়া হঠাৎ করেই হারিকেনের আলোর মতো নিভে গেল। তবে কী চোখ দুটো এতক্ষণ ধরে সামারকেই খুঁজছিল! ভাবনায় পড়ে গেল জাহ্নবী।
অর্ণব বলল, ‘ সমস্যা নেই। আমার হাতে আরও কিছুদিন সময় আছে। উনি কবে ফিরবেন?’
‘ পরশুদিন সকালে।’
‘ ওনাকে বিষয়টা বলে দেখবেন প্লিজ? আমি আজকে চট্টগ্রাম চলে যাবো। আমিও আমার মতো করে খোঁজার চেষ্টা করবো। আংকেল নিজেও বিষয়টা দেখবেন বলেছেন।’
জাহ্নবী মনেমনে একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, ‘ ঠিক আছে।’
ভায়োলেটের ঘরে চলে এলো জাহ্নবী। মুখের ওপর বই রেখে ভায়োলেট ঘুমিয়ে পড়েছে। জাহ্নবী খানিক্ষন ঘরে পায়চারি করলো। অর্ণবের জন্য তার ভেতর কোনো অনুভূতির জন্ম হয়েছে কী না, সেটা বুঝতে চেষ্টা করছে জাহ্নবী।
খাবার টেবিলে পারভীন নিজেই খাবার সাজিয়েছেন। হাতমুখ ধুয়ে মেয়েদেরকে ডাকতে এলেন তিনি। ওনাকে আজ নববধূর মতো উৎফুল্ল এবং ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
খাবার খেতে খেতে অর্ণব বলল, ‘ আমি এখনই রওনা দেবো। আপনাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। ক্ষমা করবেন আন্টি।’
পারভীন সবার মুখের দিকে এক পলক তাকালেন তারপর আরেক চামচ গোশত তুলে দিলেন অর্ণবের পাতে। আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘রান্না ভালো হয়েছে? খেতে পারছো তো?’
‘ জি আন্টি। অনেক ভালো হয়েছে।’
‘ তোমার বাবা মা সবাই ভালো আছেন?’
‘ হ্যাঁ। আপনারা আমার বাসায় বেড়াতে আসুন না একদিন। আমি তো এক তারিখে ঢাকায় চলে আসতেছি আন্টি। তারপর আর কখন সুযোগ হবে.. আপনারা এই ফাঁকেই আমাদের বাড়িতে আসুন।’
পারভীন হাসিমুখে বললেন, ‘ তুমি ভালভাবে চাকরিতে জয়েন করো। যাওয়ার সময় অনেক পাওয়া যাবে। আমি বহুদিন বাড়ির বাইরে যাই না। সংসার ছেড়ে আসলে যাওয়াই হয় না কোথাও।’
‘ আপনারা সবাই মিলে যাবেন। তাহলে আর সংসার নিয়ে টেনশন থাকবে না।’
‘ সেটা দেখা যাবে। যাওয়ার দিন অনেক পড়ে আছে। তুমি মাছ নাও নি কেন? এক পিস দেই?’
জাহ্নবী চোখ বড়বড় করে ভায়োলেটের দিকে তাকালো। ভায়োলেট মুখ টিপে হাসল। জাভেদ আলী মাথা নিচু করে খাচ্ছেন। পুরুষ মানুষ জাগতিক সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে পছন্দ করেন না। কিন্তু জাহ্নবী ও ভায়োলেট ঠিকই বুঝতে পারছে হঠাৎ পারভীনের এই আধিখ্যেতার কারণ কী!
অর্ণব বলল, ‘ আন্টি আর খাবো না। রান্না খুবই সুস্বাদু হয়েছে। আমি জার্নির সময় ভরাপেটে থাকলে সমস্যা হয়।’
‘ তুমি আজকে থেকে যাও। আজকেই তো এসেছ।’
এবার জাভেদ আলী নিজেই অবাক হয়ে এক পলক পারভীনের দিকে তাকালেন। বিষয়টা দৃষ্টি এড়াল না জাহ্নবীর।
অর্ণব বলল, ‘ আমি দুদিন পর আবার আসবো। বাসার ব্যাপারে আংকেল খোঁজ নিয়ে দেখবেন। সামার আপুর নাকি এসব ব্যাপারে ভালো জানাশোনা আছে। উনিও দেখবেন। তারপর আমি আসবো।’
পারভীন তৎক্ষনাৎ উত্তর দিলেন, ‘সামারের কথা বাদ দাও। সে হচ্ছে পাখির মতোন। দুনিয়া নিয়ে ওর কোনো মাথাব্যথা নাই। তুমি এক কাজ করো। কাল সারাদিন বাসা খুঁজে দেখো। চারটা বাসা দেখলে একটা পছন্দ হবেই। বাসা ঠিক করে কাল রাতের বাসে চলে যাইতে পারবা।’
জাহ্নবী ঢোক গিলে ভায়োলেটের দিকে তাকালো। ভায়োলেট নিঃশব্দে খাবার খাচ্ছে। জাহ্নবী ভ্রু নাচালো ভায়োলেটকে লক্ষ করে। ভায়োলেট বলল, ‘ হ্যাঁ সেটাই ভালো হবে। আপনার কোন এলাকায় বাসা লাগবে?’
অর্ণব থতমত খেয়ে বলল, ‘আমি তো এখানকার কিছুই জানিনা, চিনিনা।’
‘ সমস্যা নেই। অফিস কোথায় আপনার?’
‘ ধানমণ্ডি সাতাশ।’
‘ আরে! আপু তো ওখানকার সব এলাকা চেনে। আপু কাল আপনাকে নিয়ে বাসা দেখতে যাবে। টেনশন নেয়ার কিছু নেই। বাসা পেয়ে যাবেন।’
জাহ্নবী খাওয়া বন্ধ করে চোখ বড়বড় করে ভায়োলেটের দিকে তাকিয়ে রইল। ভায়োলেট মুখ টিপে হাসল। সে আসলে কথাটা বলেছে পারভীনের মনে কী আছে সেটা জানার জন্য। মুহুর্তেই তার এই ট্রিকস শতভাগ কার্যকরী হয়ে গেল।
পারভীন বললেন, ‘ হ্যাঁ জাহ্নবী তো লালমাটিয়ার ওদিকে যাতায়াত করতো। চিনিস না তুই ওদিকটা?’ জাহ্নবীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন পারভীন।
জাহ্নবী ঢোক গিলে মাথা নাড়লো, ‘হুম।’
মনেমনে হাসল ভায়োলেট।
খাবার শেষ করে ঘরে এসেই জাহ্নবী রেগে ভায়োলেটকে বলল, ‘তুই কেন বললি আমি ওখানকার সব চিনি?’
‘ আরে আমি একা বলেছি নাকি? আম্মুও তো বলেছে।’
‘ কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারছি না। আম্মু একটা অপরিচিত ছেলের সঙ্গে আমাকে বাসা দেখতে যেতে বলবে, এটা অবিশ্বাস করার মতো। অন্যকেউ বললে বিশ্বাস হতো। কিন্তু আম্মু! কিভাবে?’
ভায়োলেট হেসে বলল, ‘ সেটা জানার জন্যই তো আমি কথাটা বলেছি। তারমানে বিষয়টা এখন স্বচ্ছ জলের মতো পরিষ্কার।’
‘ কোন বিষয়টা?’
‘ অর্ণব সাহেবকে মা তার বড় মেয়ের জামাই বানাতে চাইছেন।’
জাহ্নবী ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। ভায়োলেট বলল, ‘ আম্মুকে আমি ভালো করে চিনি। নিজের লাভ ছাড়া সে কোনোদিনও কিছু চিন্তাও করে না।’
‘ কিন্তু আরেকটা বিষয় ভাব। যে ছেলেকে আম্মু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পছন্দ করতো না। হঠাৎ কেন আম্মুর মনোভাব চেঞ্জ হয়ে গেল!’
ভায়োলেট কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ‘ নিশ্চয়ই এখানে কিছু একটা আছে। সেটা কী হতে পারে?’
‘ আব্বু কিছু বলেছে?’
‘ হতে পারে। আব্বু বাসায় আসার পর আম্মু হঠাৎ চিনিগুড়া চাল খুঁজতে এসেছে। আচ্ছা, আব্বু নিজেই এই ব্যাপারটা আম্মুকে বলেনি তো?’
জাহ্নবী চোখ বড়বড় করে জানতে চাইলো, ‘কোন ব্যাপারটা?’
‘ এইযে অর্ণবকে তিনি পছন্দ করেছেন।’
দুই বোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল অনেক্ষণ। বাবা মায়ের মনে কী চলছে সেটা জানার জন্য গবেষণা করাটাও একটা আনন্দদায়ক ব্যাপার। ভায়োলেট আনন্দ পাচ্ছে, ভীষণ আনন্দ। সে মনেপ্রাণে চায় জাহ্নবীর সঙ্গে ভালো কিছু হোক। এই খড়কুটোর মতো জীবন জাহ্নবীর উপযোগী নয়, সে আরও ভালো কিছুর জন্য তৈরি। কিন্তু অর্ণব কী আসলেই জাহ্নবীর জন্য সেই ভালো বয়ে আনবে? মুহুর্তেই চিন্তিত হয়ে উঠলো ভায়োলেট।
জাহ্নবী বলল, ‘ অর্ণব সামারের ব্যাপারে আগ্রহী আমার মনে হয়।’
‘ তাতে কিছু আসে যায় না। মেজোপুর নিশ্চয়ই এতক্ষণে ওই ছেলেটার সঙ্গে কিছু হয়ে গেছে।’
‘ছি, নিজের বোনের ব্যাপারে এসব বলতে লজ্জা লাগল না?
‘ লজ্জার কী আছে আপু? ও সারা রাত আমার পাশে শুয়ে ফোনে কথা বলে। ওদের প্রেম হয়ে যাচ্ছে। একসঙ্গে ট্যুরে গেলে প্রেম তো আরও তারাতাড়ি হয়ে যাওয়ার কথা।’
জাহ্নবী গম্ভীর হয়ে গেল। ভায়োলেট জাহ্নবীকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ আপু, অর্ণব হয়তো সামার আপুর প্রতি আগ্রহী নয়। তুমি ভুল জেনেছো। সব বাদ দাও, অর্ণব সাহেবকে কী তোমার ভালো লাগে?’
জাহ্নবী চমকে উঠলো। শিরশির করে উঠলো ওর শরীর। ভায়োলেটের চোখের দিকে তাকালো সে। ভায়োলেট অপেক্ষা করছে জাহ্নবীর উত্তর শোনার জন্য।
রাতের অন্ধকার ছেয়ে এসেছে পুরো পাহাড় জুড়ে। ঝিঁঝি পোকার ডাক সবকিছুকে ছাড়িয়ে ক্রমশ ভারী করে তুলছে কান। সামার তাঁবুতে শুয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। গা ছমছম করছে ওর।
হঠাৎ তাঁবুর বাইরে থেকে মৃদুস্বরে আরজুর গলা শোনা গেল। সামার বলল, ‘ কিছু বলবেন?’
‘ বাইরে আসুন না একটু।’
সামার নিঃশব্দে তাঁবু থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। পাশেই কাঠখড়িতে আগুন জ্বলছে। আগুনের কমলা রঙের আলোর ছটা লেগে ঝিকঝিক করছে আরজুর মুখ। খোঁচা খোঁচা দাড়িতে অপূর্ব দেখাচ্ছে ওকে।
সামার বলল, ‘ বাইরে অনেক ঠাণ্ডা।’
‘ আমার চাদরটা নিন।’
আরজু নিজের গা থেকে চাদর খুলে সামারকে দিলো। সামার চাদরটা গায়ে জড়াতে জড়াতে জানতে চাইলো, ‘ কী বলবেন? ঘুম আসছে না?’
আরজু মুচকি হেসে বলল, ‘ তেমন কিছু না।’
‘ তাহলে বাইরে আসতে বললেন কেন?’
‘ আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছিল, তাই।’
সামার চমকে উঠল ভীষণ। ওর চোখেমুখে, সর্বাঙ্গে এক ধরণের দীপ্তি খেলা করে গেলো। আরজুর চোখের দিকে তাকিয়ে কেঁপে উঠল সামার। আরজুর চাদরে জমে থাকা উষ্ণতা ওর শরীরকে স্পর্শ করছে। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে মুচকি হাসল সে। পৃথিবীতে প্রেমে পড়ার মুহুর্তের চাইতে সুন্দর আর কিচ্ছু নেই!
চলবে..
উপন্যাসঃ মেঘফুল
পরিচ্ছেদঃ ১০
লেখকঃ মিশু মনি
পৃথিবীতে প্রেমে পড়ার মুহুর্তের চাইতে সুন্দর আর কিচ্ছু নেই! মৃদু আলোতেও সামারের লাজুক মুখটা স্পষ্ট হয়ে উঠলো আরজুর সামনে। চাদরের উষ্ণতা অনুভব করে সামার চোখ নামিয়ে ফেলেছে। মুখে মিষ্টি হাসির প্রলেপন।
আরজু জানতে চাইল, ‘ ওদিকটায় গিয়ে বসবেন? নাকি বেশী বেশী কিছু চেয়ে ফেললাম?’
‘ চলুন। বেশী বেশী চাওয়ার অধিকারটুকু যার হাতে আছে, সে তো চাইতেই পারে।’
‘ অধিকার পেয়ে বসে আছি এটা তো আগে জানতামই না।’
‘ বোকাসোকা মানুষরা এসব জানবে কেমন করে?’
‘ আমি ফোকাসোকা! ভালোই বলেছেন। এই প্রথম কেউ আমাকে বলল আমি বোকাসোকা।’
সামার হেসে বলল, ‘ স্বাভাবিক নয় কী? সুন্দরী মেয়ে পাশে থাকলে যেকেউ বোকাসোকা হয়ে যায়।’
আরজুর হাসি পেলো। সামার ঠিকই বলেছে। সে অসম্ভব সুন্দরী। শুধু সুন্দরী বলেই নয়, সামার অন্যরকম একটা মেয়ে। সামারকে এক পলক দেখার জন্য আরজুর বুক আকুপাকু করে। ওর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায়, যখন সামার বলে ‘আজকে ঘুমাবো, ফোন রাখছি।’
সামারের সঙ্গে পরিচয়ের দুই মাস হলো। একটা জন্মদিনের পার্টিতে পরিচয়। তারপর এক বন্ধুর মাধ্যমে ফেসবুক আইডি আদানপ্রদান। সেই থেকেই কত কথা দুজনাতে৷ গল্প, আড্ডা, মাঝেমাঝে রেস্টুরেটে বসে দুজনের প্রিয় খাবারগুলো ভাগাভাগি করে খাওয়া। সময়গুলো মধুর মতো কাটছে। আরজুর এখনই উচিৎ সামারকে ভালবাসার কথা জানিয়ে দেয়া।
সামার শুকনো পাথরের ওপর বসে পড়ল। আরজুও বসল ওর পাশে। মাথার ওপর কুয়াশা পড়ছে। পাহাড়ি এলাকায় এখনো যেন শীতকাল। নির্জনতা ক্ষণিকেই স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সামার বলল, ‘চুপ করে থাকবেন? ফোনে তো কথার খই ফুটতে থাকে।’
আরজু লজ্জা পেলো। সামনা সামনি দেখা হলেও কত গল্প করেছে আগে। অথচ আজ সংকোচে মরে যাচ্ছে। প্রেমে পড়লে এমন হয় হয়তো! আরজু গলা খাকাড়ি দিলো।
সামার বলল, ‘গল্প শুনবেন? আমার বোনদেরকে নিয়ে?’
‘ হুম শুনবো।’
‘ আমার বড় আপুর নাম জাহ্নবী৷ আপু খুবই শান্ত প্রকৃতির। তারচেয়েও বড় কথা, আপু কখনো আমাদের দুই বোনের সাথে মেশে না। ওর একটা রুম আছে। রুমে বুকশেলফ ভর্তি বই আছে। সারাদিন সে বই পড়ে কিনা জানিনা, কিন্তু বেশিরভাগ সময় রুমেই থাকে। রুম আর রান্নাঘর। এছাড়া আপুকে কোথাও পাওয়া যায় না। একটা জায়গায় পাওয়া যায় অবশ্য, খাবার টেবিল।’
আরজু অবাক হয়ে বলল, ‘অদ্ভুত তো। আপনার বোন অথচ আপনার পুরোপুরি বিপরীত স্বভাবের।’
‘একদম। আর আমার ছোট বোনটা, ওর নাম ভায়োলেট। ও আবার ঠিক চুপচাপও না, আবার আমার মতো চঞ্চল প্রকৃতিরও নয়। ও সবার সঙ্গে মেশে। খুব চিন্তাশীল। যেকোনো কাজ অনেক চিন্তাভাবনা করে করবে। কিন্তু যেটাই করবে, সেটাই একদম সঠিক সিদ্ধান্ত হয়। আমি আবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা। বারবার ভুল করি।’
হেসে উঠল সামার। আরজু বলল, ‘বারবার ভুল করা মানুষ গুলো সাদামাটা হয়।’
‘ আমি সাদামাটা কিনা জানিনা। আমি একটু দিলখোলা। হা হা হা ‘
‘ তা বটে। এটা আমি জানি। যদিও সেই খোলা দিলে এখনও প্রবেশ করতে পারিনি।’
সামার লাজুক ভঙ্গীতে হাসল। এখানটায় খানিকটা অন্ধকার। ধীরেধীরে খড়ির আগুনও কমতে শুরু করেছে। যারা বাইরে ছিল তারাও ইতিমধ্যে চলে গেছে তাঁবুতে। আগুন বাড়ানোর জন্য কাঠ সংগ্রহ করার কেউ নেই। সামার সেদিকে তাকিয়ে রইল। আগুন নিভে গেলেই অন্ধকারে ডুবে যাবে তারা।
আরজু বলল, ‘ কী দেখছেন?’
‘ আগুন নিভে যাচ্ছে।’
‘ যাক।’
‘আগুন নিভে গেলে আলোও নিভে যাবে।’
‘ যাক।’
‘ অন্ধকারে আমার ভয় করে।
‘ আমি হাত ধরে থাকবো।’
সামার আরজুর দিকে তাকালো। আরজু মুচকি হাসছে। সামারের লাজুক চেহারা ক্রমশই ওর বুকের ধুকপুকুনি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গ বদলাতে সামার বলল, ‘বলুন তো আমাদের তিন বোনের মধ্যে কে বেশী মেধাবী?’
‘ উমম, আপনি।’
‘ না। উত্তর ভুল। আমাদের তিনবোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ব্রিলিয়ান্ট আমার বড় আপু জাহ্নবী।’
অবাক হলো আরজু। জাহ্নবী সবার চেয়ে মেধাবী সেটা কল্পনাও করেনি সে। বিস্ময়ের সঙ্গে বলল, ‘আপুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন না?’
‘ দেবো। এখান থেকে ফিরে আমাদের বাসায় আসুন একদিন।’
‘ বাসায় যাবো? সিরিয়াসলি?’
‘ হুম। আমার বাসার লোকজন খুবই আন্তরিক। আপনি গেলে ওরা যথেষ্ট খাতির করবে।’
‘ জামাই আদর?’
কথাটা বলেই হেসে উঠল আরজু। সামার নিজেও হাসতে লাগল। হাসতে হাসতে অন্যদিকে মুখ ঘোরালো সামার।
কিছুক্ষণ পর সামার বলল, ‘আমি যাই, ঘুম পাচ্ছে।’
‘ ঘুম পেলে আটকিয়ে রাখার সাধ্য তো আমার নেই।’
‘ আপনার কোনো সাধ্যই নেই মিস্টার আরজু। আপনি একটা গ্রেট বোকাসোকা।’
সামার কথাটা বলেই উঠে দাঁড়াল। চলে যেতে উদ্যত হল সে। আরজু আচমকা ওর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। সামার কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরজু ওকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলল। আরজুর থুতনির সঙ্গে কপালের ঘষা লেগে গেল সামারের। সামার নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারল না। আরজুর বুকে নিজেকে বন্দি করে সারাটা রাত কাটিয়ে দিতেও ওর দ্বিধা নেই। আরজুকে চায় সে, ভীষণভাবে চায়।
আরজু খানিকক্ষণ পর সামারকে ছেড়ে দিয়ে লজ্জিত ভঙ্গীতে মাথা চুলকালো। সামার স্তব্ধ হয়ে রইল। যেন স্পন্দন আটকে আছে ওর। থমকে গেছে সময়। পায়ের নিচে বুঝি শিকড় গজিয়ে ওকে নড়তে বাঁধা দিচ্ছে।
আরজু দুই পা পিছিয়ে গেল। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ছটফট করে উঠল আরজু। কাজটা ঠিক হয়নি, একদম না। সামার কী ভাবছে? কষ্ট পাচ্ছে না তো? ওকে এখনো প্রপোজ করাই হয়নি! ভাবলো আরজু।
সামারের দিকে তাকাতেই দেখল আবছা অন্ধকারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সামার। আরজু ‘সরি’ বলার জন্য এগিয়ে এলো ওর দিকে। কিন্তু কিছু বলার আগেই সামার অকস্মাৎ জড়িয়ে ধরলো ওকে। এবার আর দ্বিধা রইল না আরজুর। সামারকে শক্ত করে বুকে লেপ্টে জড়িয়ে ধরে রইল সে।
ঢাকা শহরে রাত নামে ভোর তিনটায়। রাত দুইটার সময়েও পাশের কোনো ফ্ল্যাট হতে মানুষের গলা ভেসে আসে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলে কেউ কেউ। আবার আলো জ্বলতে থাকে কারও ঘরে। রাত তিনটা পেরোলে ধীরেধীরে স্তব্ধ হতে শুরু করে সব বাসা। রাত নামতে থাকে শহরের মাঠে। সবাই একে একে ঘুমিয়ে পড়ে।
কিন্তু আজ রাত তিনটা বেজে গেলেও ভায়োলেট জেগে আছে। ওর ঘুম হচ্ছে না। এই বাড়ির তো বটেই, সবাই বলে ভায়োলেট নাকি এই শহরের সবচেয়ে সুখী মেয়ে। কারণ সে শুয়ে পড়লেই মিনিট দুয়েকের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। রাত দশটায় ঘুমিয়ে পরদিন সকাল সাতটা অব্দি ঘুমায় সে। কোনোরকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই। অথচ আজ রাতে তার ঘুম হচ্ছে না। অস্থিরতা কাজ করছে। বারবার এপাশ এপাশ করছে ভায়োলেট।
টেবিলে আলো জ্বালিয়ে ভায়োলেট একটা খাতা টেনে নিয়ে বসল। খচখচ শব্দে লিখে ফেলল কিছু। চারদিকে ভীষণ নিস্তব্ধতা। শুধু খচখচ আওয়াজ হচ্ছে। ভায়োলেট পাতা ওল্টালো, আবারও লিখছে। একটা পাতা টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলার শব্দও হল।
জাহ্নবী আবছা ঘুমের ভেতর সবকিছু শুনতে পাচ্ছিল। চোখ মেলে টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখল ভায়োলেট টেবিলে ঝুঁকে বসে আছে। গভীর চিন্তায় মশগুল সে।
জাহ্নবীর মনে দুশ্চিন্তা দানা বাঁধল। বিছানা ছেড়ে উঠে ধীরপায়ে ভায়োলেটের কাছে এগিয়ে এসে জাহ্নবী বলল, ‘ কী হয়েছে ভায়োলেট?’
ভায়োলেট জাহ্নবীর দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো হাসি দিয়ে বলল, ‘কই কিছু না তো। লিখছিলাম।’
‘ তুই কোনো সমস্যায় আছিস?’
‘ আরে আপু, কী যে বলো। আমি আবার কী সমস্যায় থাকবো?’
‘ সত্যি করে বল। আজকে দিনের বেলায়ও তোকে অনেক চিন্তাগ্রস্ত দেখেছি। তুই তো এমন থাকার মেয়ে না। কী হয়েছে তোর?’
ভায়োলেটকে জড়িয়ে ধরলো জাহ্নবী। ভায়োলেট বলল, ‘আপু, আমার কিচ্ছু হয়নি। আমি ওকে।’
‘ না আমার মনে হচ্ছে একটা গণ্ডগোল আছে। প্লিজ ভায়োলেট, প্লিজ?’
ভায়োলেট কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, ‘টেনশনের মতো কিছু নয়। আমি ঠিক আছি। আসলে আমি একটা ব্যাপার নিয়ে ভাবছি। তোমাকে সময় হলে বলবো।’
‘ খারাপ কিছু?’
‘ না। খারাপ কিছু কখনোই না। অবশ্যই ভালো কিছু।’
‘ ভালো কিছু হলে তুই ঘুমাস নি কেন আজকে? এত রাতে জেগে জেগে টেনশন করছিস।’
ভায়োলেট আলোর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘আপু। আমার স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না।’
‘ মানে! কিসের স্বপ্ন?’
‘ বুঝবে না তুমি। যদি কখনো তুমি কোনো স্বপ্ন দেখো, সেই স্বপ্ন প্রত্যেকটা মুহুর্ত তোমার শরীরে শিহরণ তুলবে। প্রত্যেকটা সেকেন্ড তোমার অস্থিরতা কাজ করবে। ঘুম আসবে না কিছুতেই। স্বপ্ন একটা মারাত্মক জিনিস আপু।’
জাহ্নবী বিছানার ওপর বসল। ওর চোখে ঘুম। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে উত্তর দিলো, ‘ কী জানি! আমি এতকিছু বুঝি না বাবা। তোর স্বপ্ন কীসের? আমাকে বলবি না?’
‘সময় হলে বলবো। জানো আপু, স্বপ্ন দেখতে শুরু করলে প্রতিটা দিন অর্থবহ মনে হয়। আরও মনে হয়, জীবনটা অনেক সুন্দর কিন্তু খুব ছোট্ট। স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাদের হাতে অনেক কম সময় আছে।’ বলল ভায়োলেট।
জাহ্নবী হতাশ গলায় বলল, ‘আমিও এক সময় অনেক স্বপ্ন দেখতাম রে। আমি জানি এই ফিলিংস। আমি একসময় ভাবতাম, ডাক্তার হবো। যখন ক্লাস এইটে পড়তাম। ভাবতাম, ক্লাসের সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট আমি করবো। ওই গুলোই আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। আমি ঘুমাতে পারতাম না। ভালো রেজাল্ট করলে জীবনটা অন্যরকম লাগতো। সবসময় ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছি ঠিকই, কিন্তু ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লাম অথচ জীবনে কিছুই করলাম না। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব অর্থহীন হয়ে গেছে।’
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল জাহ্নবী। ভায়োলেট জাহ্নবীর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ অর্থহীন হয়নি কিছুই। জীবনের এখনো শুরুই হয়নি। তুমি এখনও স্বপ্ন দেখতে পারো।’
জাহ্নবী খানিকটা হতাশ আর কিছুটা বিস্ময় নিয়ে বলল, ‘আমার বয়স শেষ। বুড়ি হয়ে গেছি। এখন আর কিসের স্বপ্ন।’
ভায়োলেট হেসে বলল, ‘ মিশু মনি নামে একজন লেখক কী বলেছেন জানো? তিনি বলেছেন, মানুষের জীবন শুরুই হয় একচল্লিশ বছর বয়সে। ধরো আমরা গড়ে সত্তর বছর বাঁচি। প্রথম অর্থাৎ এক থেকে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা শুধু দুনিয়াটাকে দেখি। দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারিনা। বিশ বছরের পর আমরা জীবনকে উপলব্ধি করতে শিখি। তখন ভাবি আমার কিছু করা উচিৎ। আর চল্লিশ পঞ্চাশ বছর বয়স হয়ে গেলে আমাদের দেশের মানুষ ভাবে তার সব শেষ। বাচ্চাকাচ্চা, সংসার, দেনা পাওনা, ব্যাংকের কিস্তি, ছেলের স্কুল, জমিজমা, এসব করতে গিয়ে আমরা জীবনটাকে তিক্ত করে ফেলি। জীবনটাকে মনে হয় বিষাক্ত, অসুখী। অথচ বিষয়টা হওয়া উচিত এমন, বিশ/ বাইশ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা দুনিয়াটাকে দেখবো আর শিখবো। বিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষ শুধু পরিশ্রম করবে, লড়াই করবে, সাকসেস হবে আর লাইফটাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাবে যেন তার বাকি জীবনে আর খুব বেশী পরিশ্রম করতে না হয়। ততদিনে ছেলেমেয়েও মোটামুটি বড় হয়ে যাবে। একচল্লিশ বছরে পা দেয়ার পর থেকে বাকি যতদিন বেঁচে থাকবে, জীবনের প্রত্যেকটা দিনকে শুধু উপভোগ করবে। এখানে থাকবে না কোনো টেনশন, কোনো দেনা, কোনো বিরক্তি। শুধুই এনজয়। জীবনকে সেভাবেই তো গোছানো উচিৎ।’
জাহ্নবী বলল, ‘ তাহলে তো আমার হাতে আর মাত্র ৫ বছর আছে।’
ভায়োলেট হেসে উত্তর দিলো, ‘ তুমি সময়টাকে নষ্ট করে ফেলেছো আপু৷ সামনের সময়টাকে কাজে লাগাও। জীবনটাকে গোছাও। যেন ভবিষ্যতে এখনকার মতো আফসোস করতে না হয়।’
‘ কিন্তু আমি করবো টা কী?’
‘ সেটা নিজেকেই জিজ্ঞেস করো। তুমি কী করবে সেটা যদি আমিই বলে দেই তাহলে কীভাবে হবে?’
জাহ্নবী একটা নিশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘ আচ্ছা। ঘুমাবি না?’
‘ঘুম তো আসছে না আপু। আমি বই পড়বো। তুমি ঘুমাও।’
জাহ্নবী বিছানায় অন্যপাশে ফিরে শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে তার প্রতিদিনকার স্বপ্নকে আওড়াতে চেষ্টা করল। প্রায়ই রাতে ঘুমানোর আগে সে চোখ বন্ধ করে দেখতে পায়, একটা চমৎকার দোতলা বাড়ি। বাড়ির দোতলায় একটা খোলা বারান্দা। সেখানে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভেজা যায়। বারান্দায় রাখা একটা ইজি চেয়ার, চেয়ারে বসা একটা পুরুষ মানুষ..’
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, আজকে ওর চোখে সেই স্বপ্ন আসছে না। কিছুতেই ওই কল্পনায় ঢুকতে পারছে না জাহ্নবী। বরং চোখ বন্ধ করলেই মনে হচ্ছে, সে নতুন করে বাঁচতে শিখছে। জীবনের জন্য নতুন স্বপ্ন আসতে শুরু করেছে তার চোখে।
চলবে..