এই অবেলায় তুমি পর্ব-১৪+১৫

0
521

#এই_অবেলায়_তুমি

#পর্ব_১৪

লেখিকা #Sabihatul_Sabha

পিছন থেকে আচমকা কেউ জড়িয়ে ধরায় আমি ঘাবড়ে যাই।বাসায় তো কেউ নেই তাহলে কে জড়িয়ে ধরলো? তখনি মামীর বোনের ছেলের কথা মনে পরে। রাগে আমার সারা শরীর কাপতে থাকে।হাতে গরম খুন্তি ছিলো।ওই ছেলে যেই হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিলো ওই হাতে গরম খুন্তি চেপে ধরি।সাথে সাথেই ছেলেটা চিৎকার দিয়ে উঠে। খুন্তিটা এতই গরম ছিলো যে খুন্তির সাথে হাতের চামড়া ও উঠে আসে।তখনি মামা-মামী বাসায় আসে। নিজের বোনের ছেলের এই অবস্থা দেখে মামী আমাকে মারতে আসে। তখন আমি মামীকে বলি আমাকে জড়িয়ে ধরায় এমন করেছি। কিন্তু মামী আমার কথা বিশ্বাস যায়নি।খুব মেরে ছিলো।সেই একি খুন্তি আমার হাতে চেপে ধরে ছিলো।রাতে মামীর রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পাই। মামী বলছে,” খবরদার আশিক আদিবার দিকে নজর দিবি না। একবার যদি হাতের বাহিরে চলে যায়।তাহলে আমার সব প্লেন শেষ হয়ে যাবে।ওর বাবার সব সম্পত্তির মালিক ও। নিশ্চয়ই ওই বেটা জানতো মারা যাবে তাই সব সম্পত্তির আদিবার নামে লেখে দিয়ে গেছে।২২বছর আগে ওকে বিয়ে দেওয়া যাবে না। ২২বছর পর ওকে যে বিয়ে করবে। অর্ধেক সম্পত্তির মালিক সে নিজে হবে।এই সব কিছু আদিবা জানে না। তুই ওর সামনে ভালো সেজে থাক।আমি তোর সাথে ওর বিয়ে দিবো।বিয়ের কয়েক দিন পর সম্পত্তি সব নিজের নামে করে নিবি। তারপর মন চাইলে নিয়ে সংসার করবি না হলে ছুঁড়ে ফেলে দিবি।”এই সব কথা শুনে সেই রাতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।এই সম্পত্তির লোভে তাহলে মামী মামা আমাকে পালছে!!আর আজকে বাসায় দেরি করে ফিরবার কারনে মামী মামার কাছে বিচার দেয়। মামা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। বলে থামলো আদিবা।

আদিবার জীবন কাহিনি শুনে সবার চোখে জল চলে আসলো।
মাহির মেঝো আম্মু আদিবা কে জড়িয়ে ধরলেন নিজের বুকের সাথে।

আদিবাঃ সে কি আন্টি আপনি কান্না করছেন কেনো?
~আজ থেকে তুমি এই বাসায় থাকবে।আমাদের আরেক মেয়ে হয়ে।কি রে বল হবি না আমাদের আরেক মেয়ে?
আদিবার চোখে দিয়ে পানি পরছে।
মাহির আম্মু এসে ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো। আমাদের আরেক মেয়ে। আজ থেকে আমার তিন মেয়ে।
আদিবা মাথা নিচু করে বললো। আন্টি আমি তিনটা টিউশন করাই। আমি যত দিন এই বাসায় থাকবো টাকা দিয়ে থাকবো।

~বুঝতে পেরেছি আমাদের আপন ভাবতে পারোনি এখনো।
আদিবাঃ প্লিজ আন্টি এভাবে বলবেন না। আপনারা থাকতে দিয়েছেন এই ঋণ আমি কোনো দিন বুলবো না।নিজের মেয়ে বলে বুকে টেনে নিয়েছেন।আর ঋণী করবেন না প্লিজ।

ঠিক আছে তোমার যেভাবে ভালো লাগে থাকো।নিজের বাসা মনে করে থাকবে।
মাহি আদিবাকে আবিরের পাশের রুমটা গুছিয়ে দে।
আবিরের নাম শুনেই কেঁপে উঠল আদিবা।মাহি মুচকি হেসে বললো, ” ঠিক আছে মেঝো আম্মু। বলে উপরে চলে গেলো”…

ফায়াজের নিজের ও খুব কষ্ট হলো আদিবার কথাগুলো শুনে। মা-বাবা ছাড়া বেঁচে থাকা কতটা কষ্টের এক মাত্র তারাই বুঝে যাদের মা-বাবা নেই।

——

নূরের রুমের সামনে গিয়ে শুভ্রতা বললো,” নূর আসবো?”
নূরঃ আরে ভাবি তুমি। আমাকে বললেই হতো আমি চলে যেতাম।কষ্ট করে আসতে গেলে কেনো।আসো ভেতরে আসো।
শুভ্রতাঃ কি করছো?
নূরঃ কিছু না ভাবি,তুমি বসো।তোমাকে আজকে খুব সুন্দর লাগছে।শাড়ি পরেছো।ভাই তো আজকে চোখ ফেরাতে পারবে না।
শুভ্রতাঃতোমার ভাইয়ের আমার দিকে তাকানোর সময় কই।উনার তো সারাদিন রাত কাজ শেষ হয় না।
নূরঃ আজও বুঝি ভাই তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যায়নি। আহা ভাবিটা আমার রাগ করো না। ভাইয়ার আশা করলে এই জীবনে আর তোমার ঘুরা হবে না।আমি কালকে তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। এবার একটু হাসো।
শুভ্রতা নূরের গাল টেনে বললো,” জানো তুমি খুব মিষ্টি একটা মেয়ে। আমার আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া তোমার মতো মিষ্টি একটা মেয়ে যেনো আমার হয়।
নূরঃ এতো মিষ্টি মিষ্টি বলো না। দেখা যাবে আমার দিকে মিষ্টির নজরে তাকাবে পরে ডায়বেটিস হয়ে যাবে।
শুভ্রতাঃ হি হি হি তাই নাকি?পরে বসে আড্ডা দিবো এখন নিচে চল খাবার খাবে!!
নূরঃ আসলে ভাবি আমি খাবো না।
শুভ্রতাঃ কেনো খাবে না? মন খারাপ কেনো?কিছু কি হয়েছে?
নূরঃ কিছু হয়নি এমনি খাবো না।
শুভ্রতাঃ এত কথা শুনতে চাই না আমি চল আমার সাথে।

নূরঃ ভাবি প্লিজ জোর করো না।

শুভ্রতা বুঝলো এই মেয়ে এক কথার মেয়ে। যা বলেছে তাই। বাধ্য হয়ে শুভ্রতা নিচে চলে গেলো।

——

মাহি উপরে যাওয়ার সময় ফায়াজের সাথে খেলো এক ধাক্কা।
মাহিঃ এই যে চোখে দেখেন না!! কাঠের চশমা পড়েছেন নাকি?
ফায়াজ নিজের চোখের চশমাটা হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে৷আবার চোখে দিলো।
ফায়াজঃ আপনি দেখে চলতে পারেন না,কি ব্যথা ঈ না পেলাম আমি ওওফফ্।
মাহিঃ আপনি নিজে দোষ করে আমাকে যা তা বলা হচ্ছে। আপনাকে তো আমি পরে দেখে নিবো!!
ফায়াজঃ যা দেখার এখনি দেখে নেন৷ আমি তো আপনার সামনেই দাড়িয়ে আছি। মুচকি হেসে…
মাহিঃ আপনাকে তো আমি!!..
ফায়াজঃ কি,কি বলেন। থামলেন কেনো?
মাহিঃ আস্ত একটা বেয়াদব!! বলে উপরে চলে গেলো।
ফায়াজঃ কি ডেঞ্জারাস মেয়েরে বাব্বাহ্ দুই বোন পুরাই এক।

সে কি ফায়াজ বাবা তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? আসো এখানে এসে বসো।

রুদ্র ও নিচে নিমে আসলো।আম্মু খাবার দাও।ফায়াজ চল।বলে ফায়াজ কে নিয়ে খাবার টেবিলে বসলো।

নূর রেগে বোম হয়ে আছে। রুদ্র যখন শুনেছে ও তিন বিষয় ফেল।কিছু সময় চুপ করে থেকে তারপর ৫০বার কান ধরে উঠ বস করিয়েছে।শুধু করালে এতোটা রাগ তো না। ওই সাদা হনুমান ভিডিও করেছে।নূরের মন চাচ্ছে নিজের চুল নিজেই ছিরতে।পা গুলো ও খুব ব্যথা করছে।রাগ করে খাবার খেতে যায়নি।সবাই এসে ডেকে গেছে রুম থেকেও বের হয়নি।

——

ফায়াজ চলে গেছে। অনেকক্ষন হবে। অনেক বার বলেছে থাকার জন্য কিন্তু ফায়াজের কালকে কলেজ আছে তাই চলে গেছে।

রুদ্র হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে নূরের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। দরজা টোকা দিতেই দরজা খুলে দিলো নূর। রুদ্র কে দেখেই রেগে গেলো। এই বেটা এখানে কেনো এসেছে।
রুদ্র রুমে না ঢুকেই নূরের হাতে খাবারের প্লেট দরিয়ে দিলো।
রুদ্রঃ পুরো খাবারটা দশ মিনিটে খেয়ে শেষ করবে। দশ মিনিট পর আমি আবার আসবো। আর যদি না খাও বলে সামনে নূরের কান ধরে উঠ বস করার ভিডিওটা ধরলো। এটা সবাই কে দেখিয়ে দেবো।
নূরঃ আরেহ ভাইয়া আমি পাঁচ মিনিটে খেয়ে শেষ করছি। আপনি তাও এই ভিডিও ডিলিট করে দেন প্লিজ। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো।
রুদ্রঃ বেশি কথা আমার পছন্দ না । বলে চলে গেলো।

——

তুমি আসবে বলে বসন্ত এসে ফিরিয়েছে চৌকাট,,
তুমি আসবে বলে শিশিরে শিশিরে ভরে গেছে মাঠঘাট,, [২]
মনের জানালা খোলেছে পাল্লা আলো মন একাখার
যেনো হাজারো স্বপ্ন ভুলে অযত্ন রামধনু পারাপার[২]
তুমি আসবে বলেই,,
তুমি আসবে বলেই করিঘাট শুনে বাদল বেলার ঘুম।
তুমি আসবে বলেই হঠাৎ আনন্দে দুপুরটা নির্ঝুম[২]
তুমি আসবে বলেই পাকনা সংশয় এ হাওয়ায়,,
বৃষ্টি ধারায় ঝাপসা তারায় সুখের শান্তনায়,,[২]
তুমি আসবে বলেই,,……🎶

বিদ্যুৎ চলে গেছে। অন্ধকারে জোনাকি পোকাগুলো আলো জ্বালিয়ে নূর আর আদিবা কে পাহাড়া দিচ্ছে। আজ রাতটা যেনো অন্য রাতগুলোর থেকে শতগুণ বেশি সুন্দর লাগছে।

নূরঃ ঘুমাবে না আপু।
আদিবাঃ হুম চলো, সকালে আবার উঠতে হবে।
নূরঃ আরে আপু আমাদের বাসায় কিন্তু সকাল সকাল কেউ ওঠে না।আর কাল তো তোমার ভার্সিটি বন্ধ।
আদিবাঃ সকাল সকাল উঠে অবাস হয়ে গেছে।

——

রুহি একটা নাইটি পরে রেডি হয়ে এসে দেখে। আদি মোবাইলে গেমস খেলছে।

রুহি পিছন দিয়ে গিয়ে আদিকে জড়িয়ে ধরে বললো,” গেমস রাখো, ঘরে যে বউ আছে সে দিকে খেয়াল আছে তোমার!!

রুহির কথায় আদি বিরক্ত হয়ে বললো,” আহা ছাড়ো ত,গেমস খেলছি দেখছো না।”

আদির কথা শুনে রুহি রেগে বললো, ” সারা দিন তো বাসায় থাকো না। কোথায় থাকো তুমি সারা দিন। আব্বু বললো কাজেও যাও না। তাহলে সারাদিন করটা কি?আর এখন রাতে একটু কাছে পাই। তাও পরে আছো গেমস নিয়ে। আসলে তুমি চাচ্ছ টা কি?

রুহির কথায় আদি আরো বিরক্ত হয়ে, হাতটা যারা দিয়ে ফেলে দিয়ে বললো,” যাও একটু বাসায় এসেছি। তোমার এই ঘ্যান ঘ্যান ভালো লাগে না।তোমার না কোমরে ব্যথা পেয়েছো যাও ঘুমাও।”

রুহি চুপচাপ গিয়ে শুয়ে পরলো। সে দিন দিন বুঝতে পারছে।আসলে আদির সাথে ভালোবাসার অভিনয় করতে গিয়ে। সে কত বড় ভুল করেছে।আজ তার নূরের একটা কথাই বার বার মনে পরছে”যে পুরুষ এত বছরের ভালোবাসাকে দুই দিনের সুখের জন্য ভুলে যেতে পারে। সে পুরুষ কখনো এক নারীতে আসক্ত হতেই পারে না। সে দুই দিন পর সুখ কুড়ানোর জন্য আবার অন্য নারীর কাছে যেতে পারে।যে পুরুষের জন্য আজ তুই আমার সাথে এত বড় বড় কথা বলছিস। একদিন এই পুরুষের জন্যই তুই কাঁদতে হবে” নূরের কথা তো মিলে যাচ্ছে। আজ সে কাঁদছে। আজ তার চোখের পানি বাঁধ মানছে না।ভুল করেছে সে অনেক বড় ভুল করেছে।যাকে কষ্ট দিতে চেয়েছে সে সুখে আছে।

———

আদিবা সকালে উঠে আগে গোসল করে নিলো।তারপর নামাজ পড়ে কোরআন তিলাওয়াত করছে।

আবির সব সময় সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কফি খেয়ে হাঁটতে বের হয়।আজ সকালে উঠে নূরের রুম থেকে কোরআনের তিলাওয়াত এর কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে যায়। নূর এতো সকালে উঠে না। আবার কোরআন তিলাওয়াত করছে। দরজার সামনে গিয়ে দেখলে দরজা খোলা।ভেতরে কি উঁকি দিবে কি না ভাবছে।হালকা করে দরজা ধাক্কা দিলো।ভিতরে না ঢুকে দরজার কাছ থেকে দেখলো একটা মেয়ে বসে আছে নিচে। সামনে কোরআন শরিফ চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে। হয়তো একটু আগে গোসল করেছে। ভালো করে মুছেনি।আবির মুগ্ধ হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত শুনতে লাগলো।বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলো নূর ঘুমাচ্ছে। তাহলে এই মেয়ে কে। মেয়েটা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে আছে। যার জন্যই মুখ দেখতে পারছে না।মেয়েটা দাঁড়িয়ে গেলো সাথে সাথে আবির দরজা থেকে সরে গেলো।নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। কিন্তু মনটা রয়ে গেছে মেয়েটার কোরআন তিলাওয়াত এর প্রতি শব্দের মধ্যে। কত সুন্দর করে তিলাওয়াত করলো।

আদিবা নিচে নেমে দেখলো রান্না ঘরে নূরের মেঝো আম্মু কফি বানাচ্ছে।
আদিনাঃ আন্টি আমি কি হেল্প করতে পারি।আমি অনেক ভালো কফি বানাতে পারি।দেন আমি বানিয়ে দেই।
~তুমি রান্না ঘরে কেনো এসেছো? আমাদের বাসার মেয়েরা রান্না ঘরে আসা নিষেধ। যাও রুমে যাও।কিছু লাগলে বলো আমি বানিয়ে দিচ্ছি।
আদিবাঃ আমার কিছু লাগবে না। ওকে আমি আর আসবো না। তবে আজকের কফি আমি বানাই দেন।
~আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে হাত যেনো না পোড়ে।

আদিবা কফি বানিয়ে নিজের রুমে যাওয়ার সময়। পিছন থেকে মেঝো আম্মু ডাক দিয়ে বললো,”তুমি তো উপরে যাচ্ছ এই কফিটা একটু আবিরের রুমে দিয়ে আসতে পারবে মা।

আবিরের নাম শুনেই বুকের ভেতর ধুকপুক করে উঠলো। ভদ্রতার সাথে মাথা নাড়িয়ে বললো। আচ্ছা দেন..

উনি বলে দিলেন আবিরের রুম কোনটা।

আদিবা কফি নিয়ে দরজার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে আছে। কিভাবে ডাক দিবে বুঝতে পারছে না। ভীষণ লজ্জা লাগছে। বার বার ওই দিনের কিস দেওয়ার মুহূর্তটা মনে পরছে।

হটাৎ ভেতর থেকে একটা পুরুষালি কন্ঠ বেসে আসলো, ” বাহিরে দাড়িয়ে না থেকে ভেতরে আসো।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে কফি শরবত হয়ে যাবে।”

আদিবা থমকে গেলো।তার মানে উনি দেখেছে আমি বাহিরে দাড়িয়ে আছি।তাহলে এতক্ষন বললো না কেনো? আর আমাকে কি উনি দেখেছে? নাকি অন্য কেউ ভেবে কথা বলছে!!…
আবিরঃ কি হলো ভেতরে আসো।
আবিরের ধমকের গলায় কথা শুনে ভয়ে রুমে ঢুকলো। আবির রেডি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য।
আদিবাঃ নিয়ে আবিরের সামনে কফির মগ ধরলো।হাত কাঁপছে ভীষণ। যতই শক্ত করে ধরার চেষ্টা করছে। মনে হচ্ছে এখনি পড়ে যাবে।
আবির কিছু সময় আদিবার কাঁপা কাঁপা হাতের দিকে তাকিয়ে। মুখের দিকে তাকালো।আবির চমকে উঠার অভিনয় করে বললো, ” তুমি!!! এখানে কি করছো?রাস্তায় কিস আর আজকে বউ হয়ে বাসায় চলে এসেছো।”
আদিবা বেআক্কেল হয়ে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে। বউ হয়ে এসেছে মানে।এই বেটা কি ভাবছে উনার ভাইয়ের বউ হয়ে এসেছি আমি?

আবিরঃ আরে তোমার হাত কাঁপছে কেনো? বলে হাত থেকে কফির মগ টা নিলো।

আদিবা চলে আসতে নিলে আবির আবার বলে উঠলো, ” তুমি এই বাসায় কি করছো? আগে তো কখনো দেখিনি। আর আমার জন্য সকাল সকাল কফি নিয়ে আসলে। ”

আদিবা কি বলবে বুঝে পাচ্ছে না।
আদিবাকে চুপ থাকতে দেখে আবির বললো,” কফি কে বানিয়েছে?”
আদিবাঃ জ্বি ভাইয়া আমি।
আবির কপাল কুঁচকে বললো,” এই লাস্ট ভাইয়া বলেছো।আমাকে একদম ভাইয়া বলবে না। আমার এমনি তেই অনেক গুলো বোন আছে। কফিতে বেশি করে চিনি দিয়েছো তো?
আদিবাঃ ভাইয়া না বললে কি বলবো?
আবিরঃ সেটা তুমি ভালো জানো। এদিকে আসো।
আদিবা আবিরের সামনে দাড়াতেই আবির কফির মগ টা আদিবার হাতে দিয়ে বললো,”দেখো তো মিষ্টি কেমন হয়েছে..বেশি খাবে না। একটু খাবে।
আদিবা আবিরের কথা মত কফি খেয়ে বললো,” মিষ্টি ঠিক আছে “..
আবিরঃ তাহলে এখন যাও।বলে কফি মগে চুমুক দিলো আবির।

——

নূর কলেজের জন্য বাসা থেকে বের হবে। রুদ্র বলে উঠলো, ” নূর আমার গাড়িতে উঠে বসো। আমি তোমাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে হসপিটাল যাবো।

নূর বিরক্ত হয়ে তাকালো রুদ্রের দিকে। এই বেটা কি ওকে শান্তিতে চলাফেরা ও করতে দিবে না।

চলবে….

#এই_অবেলায়_তুমি
#পর্ব_১৫
লেখিকা #Sabihatul_Sabha

হঠাৎ গাড়ির হর্ন এ হুশ ফিরলো নূরের…
নূরঃ কি হয়েছে?
রুদ্রঃ এভাবে হা করে তাকিয়ে আছো কেনো? আমি দেখতে আগের থেকে বেশি সুন্দর হয়ে গেছি নাকি? আমি জানি আমি দেখতে সুন্দর, স্মার্ট, হ্যান্ডসাম একটা ছেলে। তাই বলে এভাবে তাকিও না। পরে নজর লেগে যাবে।
নূর ভাবছে সে কখন উনার দিকে তাকালো। সে তো সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলো।এবার ভালো করে রুদ্রের দিকে তাকালো,” আপনি স্মার্ট? বলে হাসা শুরু করলো নূর। দেখেন রুদ্র ভাইয়া আমার আর কোনো জোক্স শোনার সময় নেই আমি গেলাম। বলে গাড়ি থেকে নামার সময় বুঝলো ওর হাত রুদ্রের হাতের মুঠোয়।আঙ্গুলের ভাঁজে আঙ্গুল ডুবানো।নূর আবার রুদ্রের দিকে তাকালো। সামনের দিকে তাকিয়ে আছে রুদ্র।
নূরঃ ভাইয়া আমি তো চলে এসেছি….
রুদ্রঃ চলে এসেছো!! তাহলে বসে আছো কেনো যাও।
নূরঃ আমার হাত।
রুদ্র এবার নূরের হাত ছেড়ে দিলো।

নূর গাড়ি থেকে বের হতেই একটা ছেলে বলে উঠলো, ” ভাবি কেমন আছেন? ”
নূর চমকে রুদ্রের গাড়ির দিকে তাকালো।
রুদ্র চোখ ছোটো ছোটো করে নূর আর ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে।
নূর ছেলেটাকে কিছু না বলে। ইরিন কে কল দিলো। তারপর হাঁটতে হাঁটতে কলেজের ভেতর চলে গেলো।

রুদ্র চলে গেলো হসপিটালের দিকে। যাওয়ার পথে কাকে যেনো কল দিয়ে বললো নূরের সব ডিটেইলস একটু পর পর ওকে জানাতে।

——

নূর আর ইরিন কলেজ ক্যাম্পাসে হাঁটছে। ইরিন বারবার কিছু জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করতে পারছে না। আসলে কিভাবে জিজ্ঞেস করবে বুঝতেও পারছে না। যদি নূর অন্য কিছু মনে করে!!

নূরঃ কি রে কিছু বলছিস না কেনো? তুই কি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত?

ইরিনঃ তেমন কিছু না। তোর বাসার সবাই কেমন আছে?
নূরঃ হুম আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।
ইরিন আবার ভাবছে নীলের কথা কিভাবে জিজ্ঞেস করবে! ইরিন ভাবলো সে তো শুধু নীল কেমন আছে? সেটাই যানতে চাইবে এতে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে। বলতে যাবে সামনে তাকিয়ে দেখে শুভ ভাই ওদের দিকেই আসছে। আবার চুপ হয়ে গেলো।ক্লাসে গিয়ে না হয় জিজ্ঞেস করবে।

শুভঃ কেমন আছো নূর?

নূর বিরক্ত হলেও মুখে তা প্রকাশ করলো না। এই গুন্ডা বেটা কি তাহলে আমার নাম ও যেনে গেছে।ওই দিন তো সাহসী নারী সেজে অনেক কথা শুনিয়ে ছিলাম। উনি তো রেগে থাকার কথা এত শান্ত আছে কিভাবে।উনার সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি উনি খুব ডেঞ্জারাস লোক।

নূরঃ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।আমরা দুইজন খুব ভালো আছি। আপনি?

শুভ কিছুটা রেগে বললো,” একদম ভাই বলবে না!!.. আমি তোমার ভাই হই কিভাবে?”

নূরঃ আপনাকে তো সবাই শুভ ভাই বলে।আর আপনি আমার থেকে অনেক! অনেক! অনেক বড় হবেন। আর আমার আম্মু সব সময় বলেন বড় দের সম্মান দিয়ে কথা বলবি।আমার ভুল হয়েছে আমার তো আপনাকে মামা ডাকার দরকার ছিলো। আপনার মতো আমার আম্মুর চাচির ভাবির একটা বোনের দেবর আছে। দেখতে আপনার মতো। সম্পর্কে উনি আমার মামা হবেন। আপনাকে আমার মামা ডাকার দরকার ছিলো।

শুভ বেআক্কেল এর মতো নূরের দিকে তাকিয়ে আছে। এটা মেয়ে নাকি অন্য কিছু। ওকে ডাইরেক্ট মামা বানিয়ে নিলো।ওর কি তাহলে বয়স বেড়ে গেছে। ওর বয়স ২৯বছর।আজকেই গিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখতে হবে নিজেকে।বয়স এত টাই বেড়ে গেছে দেখতে মামা মনে হয়। সে যাকে বউ বানানোর প্লেন করছে সে তাকে মামা বানিয়ে দিলো।

শুভ আর নূরকে কিছু বললো না। এই মেয়ের সাথে কথা বলতে গেলে না জানি আর কি কি বানিয়ে দেয়। ইরিনের দিকে তাকিয়ে দেখে ভদ্র মেয়ের মতো চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। এবার ইরিনকে বললো,” ইরিন তোমার কি মন খারাপ নাকি শরীর ভালো না?”

দুই দিন আগেও যদি এই কথাটা শুভ জিজ্ঞেস করতো। ইরিন হয়তো খুশিতে গদোগদো হয়ে যেতো। কিন্তু আজ খুবি বিরক্ত হলো।(হুহ্ ভাই আমার খুঁজ খবর জেনে তুই কি করবি!!। )

ইরিনঃ শরীর মন দুটোই ভালো আছে মামা।
শুভঃ মামা!!!আমাকে দেখে কি তোমাদের মামা মনে হয়???
কত ফুরফুরে একটা মন নিয়ে আসছিলো বেটা ভালোবাসার কথা বলতে।দিলো তো দুই বান্ধবী মিলে মামা বানিয়ে।

ইরিনঃ আপনি তো বললেন। ভাইয় না ডাকতে। তাহলে কি ডাকবো। আঙ্কেল ডাকা যাবে না। কারন আপনি তো বিয়ে করেননি। তাই মামা খুব সুন্দর একটা নামে ডাকলাম। আপনি তো খুশি হওয়ার কথা। আপনি চাইলে কিন্তু আমি শুভ বলেও ডাকতে পারি।

লাস্টে কি না। হাঁটুর সামান মেয়েদের কাছ থেকে নিজের নাম ধরে ডাক শুনা লাগবে।শুভ কিছু না বলে রেগে চলে গেলো।

নূর আর ইরিন হাসতে হাসতে ক্লাসে চলে গেলো।

——

গেইটের বাহিরে দাড়িয়ে আছে নূর আর ইরিন। তারপর নূর একটা রিক্সা নিয়ে ইরিনকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো। আর ইরিন হাঁটছে ওর বাসার উদ্দেশ্যে।তখনি হঠাৎ কেউ পিছন থেকে ডেকে উঠলো,

“এই হরিণ ”

সাথে সাথেই থমকে দাড়িয়ে গেলো ইরিন।মুখে ফুটে উঠেছে খুশির হাসি।খুশিতে চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। যেই মেয়ে এই “হরিণ ” ডাক শুনলে রেগে বোম হয়ে যেতো। সেই আজ এই ডাক শুনে এতো খুশি। কিন্তু বলে না বেশি খুশি বেশি সময় থাকে না৷ ইরানের বেলায়ও তাই হলো।

নীল দৌড়ে ইরিনের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর ইরিনের চুলের মধ্যে একটা তেলাপোকা ছেড়ে দিলো।
বেচারি ইরিন তেলাপোকা খুব ভয় পায়।ভয়ে হাত পা ছুড়াছুড়ি শুরু করলো।
ইরিনঃ প্লিজ!! প্লিজ!! নীল ভাইয়া এটা সরান প্লিজ।

নীল হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ। পেটে হাতদিয়ে হাসা শুরু করলো। আর ইরিন তো এখনো লাফালাফি করছে।
ইরিন নিজের ঘারের দিকে তাকিয়ে দেখলো তেলাপোকা ঘারে৷ এক চিৎকার দিয়ে গিয়ে নীল কে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে।

নীলের হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। স্তব্ধ হয়ে গেলো সে।জীবনের এই প্রথম কোনো মেয়ে ওর এতো কাছে এসেছে।লেপ্টে আছে ওর শরীরের সাথে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো নীল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো।রাস্তার মানুষগুলো কেমন যেনো চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। নীল লজ্জা পেয়ে গেলো। ইরিন এখনো ওকে জড়িয়ে ধরে আছে। আর তেলাপোকাটা ফেলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে।নীল ইরিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,” হরিণ ছাড়ো!!”
ইরিনঃ না! না ছাড়বো না। আগে ওটা আমার ঘাড় থেকে ফেলুন।
নীলঃ তোমার ঘাড়ের দিকে তাকাও?
ইরিনঃ প্লিজ! প্লিজ ভাইয়া সরান না এটা!!
ইরিনকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেচারি খুব ভয় পেয়েছে।ভয় পেয়ে যে একজন কে জড়িয়ে ধরে আছে সেই দিকেও খেয়াল নেই।

নীল এবার কিছুটা ধমকের শুরেই বললো,” আমার হাতের দিকে তাকাও!!”
ইরিন নীলের হাতের দিকে তাকিয়ে ভয়ে নীল কে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরে গেলো।

নীলঃ আরে হরিণ তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো? এটা তো রবার্টের তেলাপোকা।

রবার্টের তেলাপোকা শুনে রেগে ইরিন নীলের দিকে তাকালো।

ইরিন রেগে বলে উঠলো, ” আপনি তো ভাড়ি বেয়াদব একটা ছেলে। আরেকটু হলে আমি ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করতাম।”

নীলঃ তোমরা মেয়েরা তেলাপোকা কে কেনো এতো ভয় পাও আমি বুঝি না।আর তুমি তো একটা নির্লজ্জ মেয়ে। আমি না হয় তেলাপোকা দেখিয়েছি। তাই বলে তুমি রাস্তায় এতো মানুষের সামনে জড়িয়ে ধরবে।আমার বউয়ের আগে তুমি আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরলে।নিশ্চয়ই আমার বউ শুনলে কষ্ট পাবে।[দুঃখী দুঃখী মুখ করে বললো নীল।]

ইরিন লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। সে কি ইচ্ছে করে ধরেছে নাকি!! ভয় পেয়েছিলো তাই ধরেছে।তাই বলে নীল ওকে এভাবে বলবে।কিছুটা অভিমান ও হলো।
ইরিনঃ ওই দিনের প্রতিশোধটা নিলেন বুঝি!!?
নীলঃ গুড তুমি তো দেখি আগে আগে সব কিছু বুঝে যাও।

——

পাশের বাসার তামিমের আম্মু রাবেয়া বেগম এসেছে। ড্রয়িং রুমে বসে রুদ্রের আম্মু শাহেলা বেগমের সাথে কথা বলছেন।

রাবেয়া বেগমঃ ভাবি ওই মেয়েটা কে?
শাহেলা বেগম কিছু বলার আগেই আনিতা বেগম বলে উঠলেন, ” আমার বোনের মেয়ে ”
রাবেয়া বেগমঃ কই ভাবি আমি যতটুকু জানি আপনার তো কোনো বোন নেই। আপনার মা-বাবার একমাত্র মেয়ে ছিলেন আপনি।

রান্নাঘর থেকে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে নূরের মেঝো আম্মু বললেন,” ঠিক বলেছেন ভাবি। আনিতা ভাবির নিজের আপন বোন নেই। তবে দূরসম্পর্কের এক বোনের মেয়ে আদিবা। ভাবছি আমার আবিরের সাথে খুব জলদি বিয়ের কাজটা সেরে ফেলবে।আপনি তো মেয়েটাকে দেখেছেনি। কতটা লক্ষি একটা মেয়ে।ঠিক এমন একটা মেয়ে খুজতে ছিলাম মনে মনে আল্লাহ মনে হয় আমার ডাক কবুল করেছেন। ”

রাবেয়া বেগম খুবি খুশি হলেন। আসলেই মেয়েটা খুব সুন্দর। আবিরের সাথে খুব মানাবে।শাহেলা বেগম,আনিতা বেগম ও খুব খুশি হলেন।

নূরের মেঝো আম্মু আবার বললেন, “আমার এক ছেলে আদি তার নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে।বউ তো খাট থেকেই নামে না। জিসানের বউ শুভ্রতা খুবি লক্ষি একটা মেয়ে। আবিরের বউ আমি নিজে পছন্দ করেছি। আমি মানুষ চিনতে ভুল করি না।ভাবছি আজকে রাতে পুরুষরা বাসায় আসলে এই বিষয় কথা বলব।কি বলেন বড় ভাবি?

শায়েলা বেগমঃ আমার ও আদিবা কে খুব পছন্দ হয়েছে।সুন্দর, শিক্ষিত,ভদ্র সব দিক দিয়েই আবিরের জন্য একদম ঠিক আছে। আমিও রাতে কথা বলে দেখবো। কিন্তু মেঝো আবিরের নিজের ও পছন্দ অপছন্দ বেপার আছে!!..
~আমি জানি আমার আবির আমার কথা ফেলবে না।

দরজায় দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলো নূর।খুব খুশি হয়েছে সে যাক আদিবা আপুর জীবনটা খুবই বিষাদ আর কষ্টে দিয়ে ঘেরা।একটু সুখের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছে। মেঝো আম্মুর মতো শাশুড়ী হয় না।মাটির মানুষ বলা যায়। আবির ভাইয়ার মতো বুঝদার স্বামী পাওয়া ভাগ্যের বেপার। এই খুশির খবর কি আমি এখন দিবো নাকি রাতের জন্য আপুর সারপ্রাইজ হিসেবে থাকবে।এটা সেটা ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে গেলো নূর।

——-

রাতে শুয়ে শুয়ে একটা উপন্যাসের বই পড়ছে মাহি।সে এখনো বিয়ের সম্পর্কে কিছুই জানেনা। নূর ও কাউকে কিছু বলেনি। এটা সবার জন্য সারপ্রাইজ ।এমন সময় ওর মোবাইল বেজে উঠলো।

~হ্যালো…
ওপাস থেকে একটা পুরুষের কন্ঠ ভেসে এলো।
~আপনি একটু আপনার রুমের বারান্দায় আসবেন মাহি।
কন্ঠটা চিনতে অসুবিধা হলো না মাহির। মুখ থেকে বেরিয়ে আসলো “ফায়াজ”
~বাহ্ আমার কন্ঠটা দেখি মনে গেঁথে নিয়েছেন মিস মাহি!!..
মাহি বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে গেলো। হঠাৎ ফায়াজের ফোন কেমন যেনো সব কিছু এলোমেলো করে দিলো।কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলে উঠলো, ” নাম্বার কোথায় পেয়েছেন? ”

~আপনি এতো বেশি কথা কেনো বলেন মাহি!! বারান্দায় আসুন…
~আজব তো আপনি নাম্বার কোথায় পেলেন আগে সেটা বলুন? আর আপনি ভাবলেন কিভাবে আপনি বলবেন আর আমি দৌড়ে বারান্দায় চলে যাবো।
~আমি জানি আপনি আসবেন…
~আপনি এখন কোথায়?
~বারান্দায় আসুন বুঝতে পারবেন।…
মাহি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু কোথায় উনাকে তো দেখা যাচ্ছে না। ভালো করে তাকিয়ে দেখলো।রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে। গাঁয়ে টি-শার্ট আর টাউজার।

“আপনি এখানে কেনো?”
~কেনো এখানে আসা কি নিষেধ নাকি?.
~সব সময় বেশি বুঝেন কেনো!! ওখানে না দাঁড়িয়ে থেকে বাসায় তো আসতে পারতেন।
~কাল তো রুদ্রের বন্ধু তাই বাসায় গিয়েছি।বন্ধুর বাসায় তো আর প্রতি দিন আসা যাবে না। আপনি চাইলে আজকে শশুর বাড়ি ভেবে আসতে পারি!!…

চলবে…

ভুলত্রুটি মার্জনীয়।