একমুঠো সুপ্ত বাসনা পর্ব-১+২+৩+৪

0
1515

#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা 🤍
#সুপ্তি_আনাম
#সূচনা_পর্ব

অস্বাভাবিক মাথা ব্যাথার জন্য বয়ফ্রেন্ডের সাথে ডাক্তারের কাছে দেখাতে যাওয়া ডাক্তারটাই যে ইয়ানাকে পাত্রপক্ষ হিসেবে দেখতে আসবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেনি ইয়ানা। ছোট থেকেই তার কথা ছিলো বিয়ে যখন করতেই হবে, তখন কোনো অপরিচিত কাউকে বিয়ে করে লাইফটা বরবাদ করতে চাই না মোটেও। কিন্তু তার বাবা-মা’র মুখের দিকে তাকিয়ে নাও করতে পারছে না সে। আর তার মা – বাবাও মানা করবেই বা কেনো? ছেলেটাকে দেখে খুব সুশীল, ভদ্র মনে হয়। বিদেশ থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে এসেছে আর ফ্যামিলিও ভালো। এমন ছেলেকে হাতছাড়া করা কি ঠিক হবে তাদের?
ইয়ানা অনেক জিদ করেছিলো তার মায়ের কাছে। কিন্তু তার মায়ের কথা সে একটাই,

–‘দুই দুই বার তোর কথায় দুটো ভালো চাকরি করা ছেলেকে না করে দিয়েছি। লোকের কাছে কি জবাব দিবো আমরা? যে আমাদের মেয়ে বারবার সবাইকে ফিরিয়ে দিচ্ছে? মান সম্মান ডুবাতে চাস? এবার আর যাই বল শুনছি না!’
.
.

ছেলেটার সাথে ইয়ানাকে একটা রুমে পাঠানো হয়েছে আলাদাভাবে কথা বলার উদ্দেশ্যে। উভয় পরিবারের বিয়েতে সম্মতি থাকলেও পাত্র বিশেষ করে ইয়ানার কোনো সম্মতি নেই বললেই চলে। দুজনেই রুমের মধ্যে মুখ গোমড়া করে বসে আছে। রুমের এসিটা চলমান থাকা শর্তেও তরতর করে ঘামছে ইয়ানা। খুব অস্বস্তি লাগছে তার। সে কথা বলতে চাইলেও গলায় দলা পাকিয়ে আসছে তার। তাবে, আর কিঞ্চিৎ শান্ত থাকতে পারলো না,

—‘আপনার প্রবলেমটা কি ডা. আনাজ? কেনো বিয়ে করতে চাইছেন আমাকে? আপনি সেদিন দেখলেন না, আমার বয়ফ্রেন্ড রয়েছে তাওও?’

কথাগুলো বলেই ডা.আনাজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সে। তবে, আনাজের মাঝে কোনো ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেলো না। সে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ওয়ালের পেইন্টিংটার দিকে চেয়ে আছে। পেইন্টিংটায় বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে চমৎকার সৌন্দর্যতত্ত্বের সমাহার! যা রুমের মুগ্ধতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

—‘হুম’
পেইন্টিং এর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি প্রকাশ করে সে।

—‘মানে? কেনো? আমি আসলেই কিছু বুঝতে পারছি না, আপনি আমাকে বিয়ে করার জন্য কেনো উঠেপড়ে লেগেছেন?কোন পাঁকা ধানে মই দিয়েছি আমি আপনার?’
জোর দিয়ে কথা বলে থেমে যায় ইয়ানা।

—‘ওহ রিয়্যালি? তুমি বোঝাতে চাচ্ছো তুমি কিছুই করোনি?’
ইয়ানার দিকে এগিয়ে এসে বলে ডা.আনাজ।

—‘সেদিন আমায় চেম্বারে কতো জোড়ে চড় মেরেছিলে মনে আছে তোমার?’

শান্ত কন্ঠে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা চালিয়ে কথাগুলো বলে আনাজ।
ইয়ানার সেদিনের কথা মনে পড়তেই নড়েচড়ে বসে সে!

সেদিন ইয়ানার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছিলো। তার বয়ফ্রেন্ডকে ফোন দিলে সে ইয়ানাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার মানে মি.আনাজ ইয়ানাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেছিলেন যে ইয়ানার অনেক ডিপ্রেসড, টেনশান, অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনার চাপ, দেড়িতে ঘুম এসবের কারণে মাথায় চাপ সৃষ্টি হয়ে মাথায় ব্যাথা হয়। ইয়ানা ডাক্তারের কথা শুনে কিছুটা রেগে গেলেও বলে না।
সে তার বয়ফ্রেন্ডের হাতে হাত রেখে বসে ছিলো। ডাক্তার যখন অনেক গুলো মেডিসিন লিখে দিচ্ছিলো সেটা দেখে আরো মেজাজ বিগড়ে যায় তার। ইয়ানা মনে মনে ডাক্তারকে অজস্র গালি দিয়ে নিজেকে নিজেই বলে,
‘এই সামান্য মাথা ব্যাথার জন্য আমাকে এতো কিছু মেইনটেইন করতে হবে? এতো মেডিসিন নিতে হবে? ‘
নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয় সে! ডাক্তার আনাজ তাকে কোন মেডিসিন কখন নিতে হবে তা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন সময়ই ঠাস করে ডা. আনাজের গালে চড় মেরে বসে সে! ইয়ানা বাজখাঁই কন্ঠে বলে,

—‘আপনাকে ডাক্তারের ডিগ্রি কে দিয়েছে? আপনি ডাক্তার হওয়ার কোনো যোগ্যতাই রাখেন না। এতো গুলো মেডিসিন নিতে পারবো কি-না তা একবার জানা দরকার ছিলো না আপনার?’

সবকিছু এতোটাই জলদি ঘটে গিয়েছিলো যে, ডা. আনাজের বুঝতে বেগ পেতে হয়।

—‘স্পর্ধা তো কম নয় আপনার, একটা ডাক্তারের চেম্বারে বসে, তাকেই চড় মারছেন?’
রেগে গজগজ করতে করতে বলে আনাজ। সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে চেয়েও পারেনি, জদিও একটা ডাক্তারকে অতি রাগী এবং অধৈর্যশীল হলে চলে না তাও!
এতোক্ষণ ইয়ানার বিএফ নিলয় চুপচাপ দেখছিলো ম্যাটারটা। ডাক্তারকে অস্বাভাবিক রেগে যেতে দেখে তাদের দুজন কে থামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে।

—‘চলো সুইটহার্ট, এসব ধান্দাবাজ ডাক্তারকে ভিজিট বাবদ এক হাজার টাকা দিয়ে টাকা পানিতে ফেলিও না। আমরা বরং সে টাকায় রেস্টুরেন্টে দু’দিন খেতে পারবো, তাও এই ধান্দানাজকে দিও না।’

কথাটি বলেই চেম্বার থেকে উঠে নিলয়ের হাত টেনে টেনে বাহিরে নিয়ে গেলো সে। যাওয়ার সময় ডাক্তার আনাজের দিকে একবার পরখ করে তার নেক্সট পেশেন্ট কল করার জন্য থাকা বেলটাও নিজেই বাজিয়ে চলে যায় ইয়ানা। চেম্বার থেকে বেড় হওয়ার সময় একটা বৃদ্ধ মহিলার সাথে ধাক্কা খায় সে। কিন্তু ইয়ানা ব্যাপারটা লক্ষ্য না করে ক্ষোভে চেম্বার থেকে বেড় হয়ে যায়।

——————–
ব্যাপারটা মনে করতেই ভয়কাতুরে চাহনি দিয়ে ডা.আনাজের দিকে তাকায় সে। ডাক্তার আনাজ তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, ভ্রুজোড়া কুচকে ইয়ানার পানে চেয়ে।

—‘আসলে আপনি তো জা__নেন আমার কত হেডডেক ছিলো…!’
জড়তার সাথে কথাটা বলে সে।

তার কথায় হাসি দেয় ডা.আনাজ। তারপর শান্ত হয়ে বলে,

—‘মাথা ব্যাথার অনেক পেশেন্টসই আমি দেখেছি মিস. ইনায়া, বাট আপনার মতো এতো রুড বিহেভিয়ার তো একটা পাগলও করেনি।’

—‘হ্যা করেনি সেটা পাগলের দোষ, তার মাথায় কোনো উপস্থিত বুদ্ধি ছিলো না। সেটা আমাকে শুনাচ্ছেন কেনো? আচ্ছা মানলাম আমার চড় মারা উচিত হয়নি, তাই বলে আপনি আমাকে একদম বিয়ে করে ফেলবেন? ‘ (ইয়ানা)

—‘হ্যা করবো ‘
ইয়ানার দিকে জোড় দিয়ে বলে আনাজ।

—‘তাহলে আমার আর আমার বয়ফ্রেন্ডের কি হবে? আমরা তো লাভবার্ডস। একে অপরকে ছাড়া কিভাবে থাকবো? ‘ (ইয়ানা)

—‘সেটা তোমার আর তোমার সো কলড্ বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপার।’ (আনাজ)

—‘দেখেন আমার কথা না শুনলে, আমি কিন্তু চিল্লায় চিল্লায় সবাইকে বানিয়ে বানিয়ে বলে দিবো যে আপনি আমার সাথে উল্টা-পাল্টা কাজ করতে চাচ্ছেন।’
কথাটি বলে ইয়ানা যেমনি চিল্লাতে নিবে তখনি ঠাস্ করে আওয়াজ হওয়া মাত্রই চুপ হয়ে যায় সে। তার গালে খানিকটা ব্যাথা অনুভব করল সে।

–‘হোয়াট আপনি আমাকে চড় মেরেছেন? ‘
ঝাঁঝিয়ে উঠে বলে সে।

–‘আমি তোমাকে জাস্ট বেকুব ভেবেছিলাম, এখন আবার দেখছি, তুমিতো একটা শ্যামলেস মেয়েও!’
ভ্রু কুচকে বলে আনাজ।

–‘হয়েছে এবার শোধবোধ? আপনিও মেরেছেন, আমিও মেরেছি এবার প্লিজ আমার পিছু ছাড়ুন? ‘

—‘ট্রেলার দেখেই এতো ভয় পাচ্ছো? দ্যান পরে তো হার্ট অ্যাটাকই করবা বোধ হয়’
ঠোঁটের এক চিলেতে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে রেখে বলে আনাজ। তার কথা ইয়ানার কর্ণকুহরে বাড়ি খেতেই বিষম খায় সে।
মনে মনে বিড়বিড়িয়ে বলে, ‘এই লোকটার সাথে বিয়ে হলে আমার জিবন জাহান্নামের চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না!!’

চলবে?

#একমুঠো_সুপ্ত_বসনা
#সুপ্তি_আনাম
|| পর্বঃ ০২ ||

🌺🌺🌺

ব্যালকোনিতে দ্রুতগতিতে পায়চারি করছে ইয়ানা। চুলগুলো এলোমেলো করা। মাথায় এখন রাজ্যের টেনশান ভর করেছে। হাতের মধ্যে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে বারবার তার বয়ফ্রেন্ড নিলয়কে ফোন করছে। এই নিয়ে সতেরো বার হবে তাও ফোন রিসিভ করার কোনো নামগন্ধ নেই! একে একে তেইশ বার ফোন করার পর ইয়ানার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফোন রিসিভ করে নিলয়। সাথে সাথে নিলয়ের কানে কারো বাজখাঁই কন্ঠ বাড়ি খায়!

—‘আমার চুটকি বাজিয়ে এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিস? আকাইম্মা বয়ফ্রেড কোথাকার। উঠ ঘুম থেকে উঠ’
ইয়ানার ঝাঁঝালো কথা কিছুই বুঝতে পারে না নিলয়। তাও সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

—‘কি__ কি হয়েছে?’

—‘কি হয়েছে জানিস না? তুই সেদিন আমায় একটা ধান্দাবাজ ডাক্তার এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলি না? সেই ধান্দাবাজ লোকটার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে’

—‘হোয়াট দ্যা হেল? তুমি তো মাত্রই মাস্টার্স কম্পিলিট করলা, এতো জলদি বিয়ে? আর ওই ডাক্তার জানে না, যে আ’ম ইয়োর বিএফ?’ (নিলয়)

—‘চুপ থাক তুই, সব দোষ তোর। না তুই আমাকে ওই ধান্দাবাজটার কাছে নিয়ে যেতি আর না ও আমাদের বাসায় পাত্রপক্ষ সেজে আসতো।’ (ইয়ানা)

নিলয় থতমত খেয়ে বলে,

—‘আচ্ছা তুমি রাগ কেনো হচ্ছো? আমি দেখছি ব্যাপারটা’

—‘এখন জলদি পালানোর ব্যবস্থা কর, নাহলে অগত্যা ওই ধান্দাবাজটাকে বিয়ে করতে হবে’
কথাগুলো বলে ফোন টা বেডে ছুড়ে দেয় সে।
রাগে ক্রোধে ফেটে পড়ছে সে।
————————

—‘কি আপু? তোর মুড অফ কেনো রে? এতো ভালো ডাক্তার জামাই পাচ্ছিস, আর কি চাই? আমি হলে তো খুশিতে গড়াগড়ি খেতাম।’

তার বোন সুহানার কথা শুনে তার দিকে দৃষ্টি দেয় সে।

—‘ওই ধান্দাবাজটা আমার জামাই হতে পারে না কিছুতেই। আর ডাক্তার মাই ফুট।’
রাগে গজগজ করে বলে সে। ইয়ানার কথায় তার রুম থেকে চলে যেতে বাধ্য হয় সুহানা। রাগ লাগলে ইয়ানা সব সময় একা থাকতে পছন্দ করে। আজও তাই করছে।

—————————

বিকেল ঢেলে সন্ধ্যে নেমেছে। চারিদিকে অন্ধকার বিরাজমান। সাথে বাহিরে চারিদিকে বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ। ঠান্ডা আবহাওয়া এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। এতোক্ষণ ব্যালকোনিতে দাড়িয়ে আনমনচিত্তে গান করছিল ইয়ানা। ব্যালকোনির রেলিঙের উপরদিক থেকে আসা বৃষ্টিকণাগুলো বারবার তার গায়ে এসে বাড়ি খাচ্ছে। সিক্তরূপে দুটো পাখির পানে চেয়ে আছে সে। পাখিগুলো খুব সুন্দর করে বৃষ্টিবিলাস করছে। কি চমৎকার সে দৃশ্য। বারবার পাখির আনন্দের সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে ইয়ানার। এখন পাখিগুলোই হয়তো সবচেয়ে সুখী জীব!
কিছুক্ষণ পরেই তার ফোনের রিংটোনটা বেজে ওঠে। ফোনের কাছে ছুটে যায় সে। মুখে একরাশ বিরক্তি ফুটে উঠেছে। যেয়ে ফোনের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো সে। আননোন নম্বর ফোন দিয়েছে। ফোনটা তুলে বলে,

—‘কে ভাই আপনি? ফোন দিয়ে অহেতুক ডিস্টার্ব করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই আপনাদের?’

ওপাশ থেকে কাশির শব্দ পাওয়া যায়।

—‘ এখন আবার কথা না বলে, কাশির ভান করছেন? কি জন্য ফোন দিয়েছেন না বললে এক্ষুণি কেটে দিচ্ছি’
বলে ইয়ানা ফোন কেটে দিতে উদ্যত হলেই, ওপাশ থেকে একজন বলে,

—‘আরে তুৃমি কথা বলার সুযোগ দিলে তো বলবো? সে তখন থেকে একাই বলে যাচ্ছ…!’

কারো পুরুষালি কন্ঠ শুনতেই থমকে যায় সে। খানিক বাদেই বুঝতে পারে এটা ডা. আনাজ।

—‘ইউ বিচ, আমার নম্বর কিভাবে পেলেন? আর সাহস কি করে হয়, আমাকে ফোন দেওয়ার? ‘
রাগে চিল্লিয়ে বলে সে।

—‘মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ মিস. ইয়ানা। আ’ম ইয়োর ফিউচার হাসবেন্ড, গট ইট? আর নিজের ফিউচার হাসবেন্ডের সাথে এভাবে কথা বলবে?’

—‘ইউ আর নাথিং মোর দ্যান অ্যা ধান্দাবাজ। আর আপনার নম্বর এখনি ব্লক লিস্টে ফেলে দিচ্ছি’
ফোনটা কেটে দিয়ে সাথে সাথে আনাজের নম্বর ব্লক করে দেয় সে। এখন মুড বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে তার। প্রথমত তার বিয়ে নিয়ে টেনশান আর দ্বিতীয়ত আানাজকে দেখে টেনশান হচ্ছে।
ধান্দাবাজ লোকটা তার হাত ধুয়ে পেছনে পড়ে আছে,

চলবে,

#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা
#সুপ্তি_আনাম
|| পর্বঃ ০৩ ||

🌸🌸🌸

জৈষ্ঠ্যমাসের দিন। রৌদ্রস্নাত প্রকৃতি। সে সকাল থেকে সূর্য আপন তেজে তার শক্তির বাহার দেখাতে ব্যস্ত। ইয়ানার বাড়ি ‘সোহান ম্যানশন’এ আজ কিছু কর্মচারীদের যাবতীয় কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। আগামীকাল ইয়ানার গায়ে হলুদ। সবাই মুখের এক চিলেতে হাসি ফুটিয়ে রেখে সানন্দে কর্মসম্পাদনে ব্যস্ত। ইয়ানার মা খুশিতে ছুটে বেড়াচ্ছে। অবশেষে তার মেয়ে তার জিবনে পূর্ণতা দিতে চলেছে। ইয়ানার বাবা মি. সোহান সবাইকে বলে দিয়েছেন, তার মেয়ের অনুষ্ঠান যেন জাঁকজমকপূর্ণভাবে হয়, কোনো ক্রমেই যেনো কমতি না থাকে। পুরো এলাকাবাসী যেন বলতে পারে ‘একটা বিয়ে খেয়েছে’। বড় মেয়ে বলে কথা!
.
.
ড্রেসিং টেবলের আয়নার সামনে দাড়িয়ে ম্লান মুখশ্রীতে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে আছে ইয়ানা। তার দৃষ্টি অপলক। সে কিছুতেই চায় না ডা. আনাজ তাকে বিয়ে করুক। তার প্রতিবিম্বে হাত দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুর তুলে প্রশ্ন করে সে,

—‘তোর সাথেই কেনো এমন হলো ইয়ানা? কেনো নিয়তি এতটাই খারাপ হলো যে, তোকে আর তোর ভালোবাসাটাকে একত্রে দিতে পারছে না? কেনো? ‘

নিমিষেই তার নয়নজোড়া থেকে দু’ফোটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ে। আজ তাকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে।
ঠুক ঠুক ঠুক ~ কারো গেটে কড়া নাড়ার আওয়াজ পেতেই অশ্রুসিক্ত নয়নজোড়া ওড়না দিয়ে। মুছে নেয় সে। কোনোভাবে ‘আসছি’ বলে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকে সে।
আবার কড়া নাড়তেই দৌড়ে যেয়ে গেট খুলে দেয় সে। তার মা এসেছে, হাতে অনেক গুলো প্যাকেট।

—‘কি আম্মু? কিছু বলবে? ‘

—‘কি হয়েছে তোর? ঠিকঠাক আছিস তো?’

—‘হা_হ্যা আম্মু আমি ঠিক আছি। জাস্ট একটু হেডডেক হচ্ছিলো তো, তাই রেস্ট করছিলাম’
মুখে জোরপূর্বক একটা হাসি ঝুলিয়ে রেখে কথা গুলো বলে।

—‘ওহ, আচ্ছা ভেতরে চল, এই দেখ তোর বিয়ের জন্য’
ভেতরে যেয়ে বেডে বসে ইয়ানাকে দেখান তিনি। ইয়ানার এসব দেখে খুশি হওয়ার কথা থাকলেও মুখ ভার করে বসে আছে সে। তার মনে এখন শুধু এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে, আনাজ তাকে চড় মারার শাস্তি হিসেবে বিয়ে কেনো করতে চাইছে? তাহলে বিয়ের পর তার কি অবস্থা হবে, ভেবে গায়ে শীতকাটা দিয়ে উঠছে তার। এদিকে তার মা হাস্যমুখে তার বিয়ের গয়নাগাটি, শাড়ি এসবে হাত বুলিয়ে দেখছেন।
টকটকে লাল রঙের শাড়ির পাড়ে হাত বুলিয়ে বলেন,
—‘দেখ মা, পাড়ে কি সুন্দর গর্জিয়াস কাজ করা।তোকে খুব মানাবে রে। আর এই দেখ তো এই জুয়েলারি গুলো কেমন? ‘
বলতে বলতে ইয়ানার দিকে তাকাতেই চুপ হয়ে যান তিনি। ইয়ানা অন্যপানে মুখ ভার করে বসে আছে।
তার মা অবাক সাগরে নিমজ্জিত হয়ে বলেন,

—‘কি এমন মুখ ফুলিয়ে কুমড়ো পটাশ হয়ে আছিস কেন? ‘

—‘ওওও আম্মু, তোমার কাছে একটা রিকোয়েস্ট আছে। তুমিতো আমার পেয়ারি মা, তাই না? আমার বিয়ে নিলয়ের সাথে দাও না মা প্লিজজজ?’
নিলয়ের কথা শুনতেই মেজাজ বিগড়ে যায় তার। ঝাঁঝিয়ে উঠে বলেন,

—‘তোর মতো ঘ্যাড়তাড়া আর দুটো নেই। ওই টিউশান করা জবলেস ছেলেটার সাথে আমি তোর বিয়ে হতে দেবো? নেভার-এভার। আর আমাকে খবরদার তেল মাখাতে আসবি না। এগুলো ঠিক করে রাখবি।’
বলে বেড থেকে উঠে রাগে গজগজ করতে করতে চলে যান তিনি। সারাদিনের আনন্দটা যেন নিমিষেই মাটি চাপা পড়ে গেলো।

—‘এট এ্যানি চান্স, ওই ধান্দাবাজটার সাথে যদি আমার বিয়ে হয় তাহলে কিন্তু আমার বিয়েতে মোটেও কাঁদব না বলে দিলাম।’
তার মায়ের যাওয়ার সময় চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে সে। তার কথার কর্ণপাত না করেই চলে যান তিনি।

ইয়ানার চিল্লানির শব্দ শুনে দৌড়ে ছুটে আসে তার থেকে পাঁচ বছরের ছোট যমজ ভাই-বোন।

—‘সে কি আপু, আমি দিন-রাত গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে রূপচর্চা করছি, তোর জন্য নাচ শিখছি আর তুই বিয়ে আটকানোর চিন্তায় আছিস?
ইয়ানার ছোটবোন সুহানা বলে। সেই সাথে তার ভাইটাও সুর মিলিয়ে বলে,

—‘হ্যা সেটাই তো, আমি ভাবছি গেট ধরে যে টাকা পাব তা কাউকে না দিয়ে আইফোন কিনবো…
তার কথায় আপত্তি জানায় সুহানা,

—‘হোয়াট রাবিশ? তুই সব টাকা একাই খরচ করে ফেলবি, আর আমরা বোলতিহীন দর্শক হয়ে থাকবো না? বাবাজির শখ দেখেছি স আপু?
এক পর্যায়ে তাদের তর্ক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এদিকে বাকরুদ্ধভাবে তাকিয়ে আছে ইয়ানা।সে মনে মনে ভাবছে, সে এতোটাই আনলাকি যে তার সিবলিংস কত বুদ্ধিহীন!
ইয়ানা আর চুপ থাকতে না পেরে তাদের প্রচন্ড ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়, রাম ধমক যাকে বলে।

—‘তোরা বুদ্ধিহীনতার চরম পর্যায়ে পৌছে গেছিস। তোরা নোবেল ডিজার্ভ করিস’
ইয়ানার অস্বাভাবিক চিল্লানিতে দুজনেই জমে পাথর হয়ে যায়। আসলে তখন তাদের নিজেদের খেয়ালই ছিলো না যে তারা কি করছে।
দুজনেই ধমকানি খেয়ে থমকে যায়। ইয়ানার আদেশে তাকে একা করে দিয়ে রুম থেকে চলে যায়।
ইয়ানা তার শাড়ি- জুয়েলারি -মেকআপবাক্স এসবের দিকে পরখ করে নিলো। তার ফোনটা ভাইব্রেশান ছিলো বিধায় ভো ভো করে শব্দ হয়ে বেজে উঠলেই, ফোন হাতে নেয় সে। নিলয় ফোন করেছে। হার্টবিট ফাস্ট হয়ে যায় তার। না-জানি নিলয় কি নিউজ দিবে।

—‘হ্যালো’ বলতেই অপরপাশ থেকে নিলয়ের উত্তেজিত কন্ঠস্বর পাওয়া যায়। যার ফলস্বরূপ থমকে উঠে সে….

চলবে,

#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা
#সুপ্তি_আনাম
|| পর্ব: ০৪ ||

💠💠💠

দীর্ঘক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছে নিলয়। ইয়ানার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণেই চলছে সে। সে ইয়ানা কে কল করেছে তার সাথে দেখা করবে বলে। এই নিয়ে এক ঘন্টা হলো বলে তাও মেয়েটার খোঁজ নেই। নিলয় ফোন ট্রাই ও করেনি কারণ সে জানতো মেয়েটা ফোন ধরবে না!
অবশেষে তার কাঙ্ক্ষিত সময় এসে গেলো ইয়ানা আসছে। পরণে তার হালকা নিল শাড়ি তার আঁচলের দিকে শুভ্র রঙের কাজ করা। ঠোটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক, কানে ঝুমকো আর হাতভর্তি চুড়ি। কপালের টিপটা যেনো মুখে সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। চুলগুলো স্বাধীনভাবে বাতাসে উড়েই চলছে। কি অমায়িক সুন্দর লাগছে তাকে। এতে আরেক দফা ক্রাশ খায় নিলয়।

ইতস্তত বোধ করে নিলয়ের সামনে আসছে ইয়ানা। এতো সেজেগুজে কখনোই নিলয়ের সামনে আসেনি সে। তবে আজকে এসেছে নিলয়ের কথায়। বিকেলের দিকে নিলয় উত্তেজিত কন্ঠে তাকে বলে শাড়ি পরে আসতে, কেনো? তা অজানা।
কিন্তু ইয়ানার সৌন্দর্য ভরপুর মুখশ্রীতেও রাগ স্পষ্টরূপে বিদ্যমান। সে গটগট করে নিলয়ের সামনে যেয়েই ঠাটিয়ে চড় লাগায় নিলয় কে। নিলয়ের দৃষ্টি স্বাভাবিক। কারণ সে জানে অপপাত মেয়েটার মধ্য দিয়ে কেমন ঝড় বয়ে চলছে। সে বাকরুদ্ধভাবে ইয়ানার রাগি মুখশ্রীর দিকে চেয়ে। কে জানি বলেছিল, ‘মেয়েদের রাগান্বিত চেহারার সৌন্দর্যই আলাদা’ আজ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সে!
চড় মেরেই রেগে নিলয়ের শার্টের কলার চেপে ধরে ইয়ানা। গজগজ করতে করতে বলে,

—‘কেন এতো কষ্ট দিস আমাকে? তোর কি অসহ্য লাগে না আমাকে কষ্ট দেওয়া? সেদিন কেনো আমাকে সেই ধান্দাবাজ ডাক্তারটার কাছে নিয়ে গিলি? তুই কিস্ করলেই কিন্তু হেড ডেকটা সেরে যেতো!’

নিলয় নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে। চোখে পানি চলে আসে তার। এটাই হয়তো মধ্যবিত্ত! ইয়ানাকে চোখের পানি দেখতে না দিয়ে, অন্যদিকে তাকিয়ে নরম সুরে বলে,

—‘আমার উদ্দেশ্য সেটা ছিলো না ইয়ানা। আমি জানতাম না এরকম কিছু হবে।’

নিলয়ের কথায় রাগটা কর্পূরের ন্যায় উড়ে যায় ইয়ানার। ফট করে নিলয়কে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে সে।

—‘তুমি ডা.আনাজকে বিয়ে করে নাও ইয়ানা। এটাই বেস্ট হবে। আমার সাথে পালাতে চেওনা। আমি তোমাকে পালিয়ে নিয়ে কই তুলবো বলো? আমার বাবা নেই। শুধু মা আর একটা ছোট বোন আছে। ছোট বোনটা পড়ালেখা করে ওর বেতন দিতে হয়। মা হর্টের পেশেন্ট রোজ ওষুধ লাগে। আমরা একটা রুমে কোনো রকম থাকি। তোমাকে বিয়ে করে তুলবো কই? কি খাওয়াবো? আমাদের প্রাইভেসি দেওয়াও আদৌ সম্ভব নয়। তুৃমি বরং আনাজ কে বিয়ে করো? তার মাঝেই আমাকে খুঁজে নাও? দেখো আনাজ কিন্তু খুব ভালো ডাক্তার হি ইজ অ্যা বিগ উইগ অব ঢাকা। আর আমি?

তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে নিলয়। আবারো মুখে মিথ্যে হাসি ফুটিয়ে রেখে নরম কন্ঠে বলে,

—‘আমি একটা গ্রাজুয়েটেড বেকার!’

তার কথায় চাপা কষ্টগুলো উপচে পড়ছে। ইয়ানা আবেগে কেঁদে দেয়। সে এখনো নিলয়কে জড়িয়ে ধরা। নিলয় তিলে তিলে কষ্ট পাচ্ছে।

—‘তুমি তো গ্রাজুয়েটেড তাই না? তাও তোমার চাকরি হচ্ছে না? ‘

—‘সব কিছু বললেই হয় না ইয়ানা। দুনিয়াটা বড্ড স্বার্থপর! এখানে ঘুষ নামক একটা ব্যাপার আছে। যার জন্য আমি আজ জবলেস। আর টিউশানি? এটা করিয়ে কি একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সব চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়? ‘ (নিলয়)

—‘আমি শিওর, তুমি একটা খুব ভালো চাকরি পাবে দেখোও।
তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে নিলয়।

—‘ইফ গড ওয়ান্টস’ (নিলয়)

আবার রাগটা ফুসে উঠে ইয়ানার।
— ‘তুমি তো অনেক কিছুই বুঝো কিন্তু এটা কেনো বুঝনা যে বাই এনি মিনস্ আমি তোমাকে চাই, আমার নাছোড়বান্দা মনটা যে তোমাতেই আবদ্ধ⁉’

—‘তুমি আমাকে খুশি রাখতে চাও? ওকে দ্যান। আমার খুশি কিসে জানো? তোমার সুখে এন্ড দেখো ডা.আনাজের সাথে বিয়ে হলে তুমি খুব সুখে থাকবে, পারবে না আমার খুশির জন্য এটা করতে?’

শব্দ করে কেঁদে দিলো ইয়ানা। বুকের গহীনে অজস্র কষ্ট জমে আছে তার, প্রিয় মানুষকে হারাতে দেওয়ার কষ্ট। নিলয়ও তাকে খুব শক্ত করে চেপে ধরে আছে। এটাই হয়তো তার শেষ জড়িয়ে ধরা!
নিজের ভালোবাসাকে অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারবে না সে। এটা যে অগ্নি জ্বলা! কিন্তু তাও নিয়তিকে তো আর সে বদলাতে পারবে না। তাই অগত্যাই তা হাসিমুখে বরণ করে নিতে হচ্ছে তাকে!

খানিক বাদেই সময় নিয়ে ফ্রি হয় দুজনে। তারা একে অপরকে প্রতিজ্ঞা করেছে একে অপরের জন্য কষ্ট পাবে না কিছুতেই। ইয়ানা নিজেকে ফ্রি করতে লম্বা শ্বাস নেয়। তারপর নিলয় এর কাছে যায়। নিলয়ের পানে চাইতেই দেখে নিলয় মুখ মলিন করে বসে আছে। নিজেকে সংযত রাখতে ব্যস্ত। ইয়ানা তার কাছে হাসিমুখে যেয়ে বসে। আবদারের সুর করে বলে,
—‘আচ্ছা আমার বিয়েতে কি দিবে?’

—‘তুমি যা চাইবে, শুধু মন বাদে’
নিলয়ের কথা শুনে মুখটা ভার হতে নিলেই তা সামলে নেয় সে। সে চায় না তার তৈরি হওয়া স্মৃতিগুলো নষ্ট করতে, আবার মলিন হেসে বলে,

—‘আমি যদি তোমার মনই নেই, তাহলে ধান্দাবাজটার মন আছে কি করতে? তার চেয়ে বরং বিয়েতে তোমার উপস্থিতি উপহারস্বরূপ চাচ্ছি। দিতে পারবে না এই দামি গিফ্টটা বলো? ‘

বলতে বলতে চোখের কোনে অশ্রুবিন্দু জমা হয় তার। তা অন্যদিকে তাকিয়ে মুছে নেয় সে।

—‘অবশ্যই’
বলে হেসে দেয় নিলয়। ইয়ান খুব ভালো করেই বুঝতে পারে তা মিথ্যে হাসি ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু তাকেও অগত্যা নিলয়ের সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে হলো।

—‘তখন তো খুব হিরোর মতো আদেশ করলা শাড়ি পড়ে এসো, এখন আমি আদেশ করছি তুৃমি বিয়েতে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে এসো, আর চুল গুলোও যেন স্পাইক করা হয়। নাহলে আমি নিজে বউয়ের আসন থেকে উঠে গিয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিব। হুহ।’
বলে কিঞ্চিৎ রাগ করে সে।

—‘আচ্ছা মিস. ঘ্যাড়তাড়া, যথা আজ্ঞা। নাহলে আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে অপমান্স করিয়েন কেমন? ‘

—‘এক্স কিউজ মি, আমি কোনো ঘ্যাড়তাড়া না। কথা হচ্ছে তুই একটা বদের হাড্ডি। হে হে হে’
বলে খিলখিলিয়ে হেসে উঠে ইয়ানা।আজ সে নিলয়ের সাথে শেষবারের মতো মজা করে নিচ্ছে।
এক পর্যায়ে নিলয়কে পুনরায় জড়িয়ে ধরে সে। নিলয়কে জড়িয়ে ধরে তার সুশীতল পরশ গুলোর স্মৃতি রচনা করছে।

চলবে,