#এক্স_গার্লফ্রেন্ড_যখন_বেয়াইন
#পর্ব_৫
#লেখক_মোঃ_আঃ_আজিজ
.
সকালে বুকের ওপর কিছু একটা ভারী ভারী অনুভব করলাম। মনে হচ্ছে কেউ একজন আমার বুকের ওপর মাথা রেখে সুয়ে আছে।
চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি,,,,, একি,,, এতো জান্নাত। জান্নাত কি ভাবে আমার রুমে আসলো? আর আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে কেনো?
নাকি আমি আবার সেদিনের মতো স্বপ্ন দেখছি😒? হয়তো স্বপ্নই হবে। সেদিন স্বপ্নে জান্নাত মনে করে দেয়ালের সাথে কি একটা কান্ড হয়ে গেলো ভাবতেই কেমন গা কেমন করে ওঠে😭
কিন্তু যদি এটা মানুষই না হয় তবে এত ভারি ভারি লাগে কেনো। হাতে একটা চিমটি কেটে দেখলাম,,,, নাহ এটাতো স্বপ্ন না সত্যিই এটা জান্নাত। একবার ধাক্কা দিয়ে দেখি কে এটা।
আমি– এই মেয়ে ওঠ এই,,, ওই। ( ধাক্কা দিয়ে
জান্নাত– কি হয়েছে হুম,,,,, ধাক্কাও কেনো? (ঘুমের মধ্যে)
— তুৃমি এখানে কি কর। আর আমাদের বাড়িতে আসলে কেমন করে হুম?
জান্নাত চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে সে আমার বুকের ওপর শুয়ে আছে। অমনি লাফ দিয়ে উঠে।
জান্নাত– আমিতো আসছি তোকে মারার জন্য (মুখে কিছুটা রাগী ভাব এনে)
আমি– বুঝলাম আমাকে মারতে এখানে আসছো। কিন্তু আমার বুকের ওপর কি কর হুম☺☺
— আমি তোর রুমে এসে দেখি তুই ঘুমিয়ে আছিস তাই কিছু বলি নাই। কারন আমি যাকে মারি সামনাসামনি মারি। আমি কি ভীতু নাকি হুম।
— তাও বুঝলাম,,,,,, তুমি ভীতু না। কিন্তু আমাদের বাড়িতে আসলে কেমন করে তাই বল।
— কালতো তুই নিজেই আমাকে নিয়ে আসলি।
— কি বলো আমি কখন তোমাকে নিয়ে আসলাম।
— কাল বিকালে।
— ধুর ফাজলামো কর নাকি আমার সাথে। কাল বিকালে কোথায় থেকে তোমাকে নিয়ে আসলাম হুম।
— কেনো স্টেশন থেকে।
— আরে কাল তো আমি আমার ভাবীর বোনকে স্টেশন থেকে নিয়ে আসছি। তোমাকে কখন নিয়ে আসলাম?
— তোর ভাবীর বোনই আমি।☺☺☺
— কিন্তু ভাবী যে বললো তার বোনের নাম জেসমিন?
— হুম তো কি হয়েছে?
— তোমার নাম তো জান্নাত,,,,,, জান্নাতুল ফেরদৌস।😏😏
— হুম,,,,, জেসমিন আমার ডাক নাম। ওই নামে শুধু আপুই ডাকে☺
— তার মানে এক্স গার্লফ্রেন্ড এখন আমার বেয়াইন।😭😍😭
— ওই কুত্তা তুই যে আমার এক্স ছিলি বা তোর সাথে যে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো এটা যেনো আপু না জানতে পারে । শুধু আপু না কেউ যেনো জানতে না পারে।
— হয় আমারতো আর খেয়ে দেয়ে কাজ নাই যে তোর মতো একটা পেত্নী আমার গার্লফ্রেন্ড ছিলো এটা সবাইকে বলে বেরোবো।😂😂
— কুত্তা তুই আমারে কি বললি? আমি পেত্নী😡😬
— ভুল কিছু তো বলি নাই😁☺
— দাঁড়া কুত্তা আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।😠😈(বলতেই জান্নাত কিছু একটা খুজতে লাগলো। আর রুমের এক কোন থেকে একটা ফুলঝাড়ু পেলো। ওইটা হাতে নিয়ে আমার দিকে তেরে আসলো মারবার জন্য। যেই বারি মারবে অমনি ভাবীর ডাক পরলো)
ভাবী– জান্নাত এই জান্নাতুল কোই গেলি।
(তখন আমি চিল্লিয়ে বললাম)
আমি– ভাবী বেয়াই সাব আমার রুমে😁
(জান্নাত অমনি ফুলঝাড়ু টা ফেলে দিলো)
ভাবী– কিরে এখানে কি করছিস?
আমি– ভাবী বেয়ান এর সাথে একটু মজা করছিলাম৷। তাইনা বেয়াইন,😂
জান্নাত– হুম আপু আমার বেয়াই টানা খুবি মজার😠😠
ভাবী– আচ্ছা বুঝলাম এখন চল। ঘুম থেকে উঠে তো ফ্রেশও হোস নাই। আগে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া করে নে তারপর দুজনে গল্প করিস এখন আয়। আর মহারাজ আপনিও ফ্রেশ হয়ে নিচে খেতে আসুন। (বলেই ভাবী জান্নাত কে নিয়ে চলে গেলো। আর জন্নাত ওদিকে মনে মনে বলছে)
— আমাকে পেত্নী বলা তাই না। এখন যদি আপু না আসতো তবে শয়তান টার হার গোর ভেঙে ফেলতাম। কিন্তু শয়তান টা কি বোঝেননা যে এই পেত্নী টা ওকে কতটা ভালোবাসে😍
**আর এ দিকে আমি**
— উফফ এখনি কি যে একটা কান্ড হয়ে যেতো। ভাবী যদি না আসতো তবে আর আমি আস্ত থাকতাম না,,,,,, ধন্যবাদ ভাবী☺ কিন্তু ভাই
#এক্স_গার্লফ্রেন্ড_যখন_বেয়াইন হয় তখন যে এতটা ঝামেলা হয় তা জানা ছিল না🙈
(বলেই ফ্রেশ হতে চলে গেলাম,,,, ফ্রেশ হয়ে বের হতেই ফোন টা বেজে উঠল। ফোনের স্কিন এর দিকে তাকিয়ে দেখি,,,,,,,, এতো নাদিয়ার নাম্বার। নাদিয়া আমার স্কুল লাইফ এর ফ্রেন্ড আর ও তো এখন চিটাগংএ। রিসিভ করার পর)
নাদিয়া– ওই কুত্তা তুই নাকি এখন বাড়িতে?
আমি– হুম তো কি হইছে। তুই তো চিটাগাংএ এখন তাই না।
— নাহ আমি বাড়িতে আসছি আজ ৫ দিন হলো। আর কুত্তা তুই বাড়িতে আমায় বলবি না,,, আমি একা একা বাড়িতে বসে বসে বোরিং হচ্ছি।
— তুই কি আমায় বলতে পারতিস না যে তুই বাড়িতে আসছিস।
— আমি এতোকিছু জানিনা বিকালে আমার সাথে দেখা কর তুই।
— আচ্ছা তুই স্কুলের মাঠে চলে আয় বিকালে আমিও আসছি।
— ওকে এখন রাখি বিকালে কথা হবে।
— হুম।
বুঝিনা মেয়েরা এত কথায় কথায় কুত্তা বলে কেনো।।।
নাদিয়ার সাথে কথা বলে খাবার টেবিলে চলে আসলাম। খাবার মধ্যে আম্মু বললেন,,,,
আম্মু– আজিজ!
আমি– জ্বি আম্মু।
— বিকালে জান্নাত কে নিয়ে একটু বেরিয়ে নিয়ে আসিস। মেয়েটা আসছে থেকে একা একা ঘরে বসে আছে।
— কিন্তু আম্মু আজ তো,,,,,,
— আমি কোনো কিন্তু শুনতে চাইনা যা বললাম তাই যেনো হয়।
–ঠিক আছে ওনাকে রেডি থাকতে বইলো।
( কথাটা বলে জান্নাতের দিকে তাকালাম দেখলাম মেয়েটা অনেক খুশি)
বিকালে বাইক নিয়ে বাইরে জান্নাতের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু মহারানীর আসার খবরই নাই। কিছুক্ষণ পর একটা সাদা পরী যেনো নেমে আসলো আমার সামনে। হুম এটা জান্নাত,,,,,,! সাজের আর বর্ণনা দিলাম না কারন আপনারাও প্রেমে পরে যেতে পারেন😍😍
জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে দেখে আমি বললাম।
আমি– কি হলো উঠবেন না নাকি। নাকি আমি একাই চলে যাবো।
জান্নাত– না নাহ দাঁড়াও আমিও যাবো।
— হুম তাহলে উঠুন।
— আচ্ছা আজিজ দেখো আমায় কেমন দেখা যাচ্ছে☺☺
— হুম ভালো।
জান্নাত হয়তো শুধু এইটুকু আশা করে নাই আমার থেকে। ও ভেবেছে আরো অনেক কিছু বলবো। কিন্তু পেত্নী টা জানে না যে তাকে কতটা সুন্দর লাগছে।
জান্নাত– ওহ।
তারপর দুজন স্কুলের মাঠে চলে আসলাম। দেখি নাদিয়া আগে থেকেই বসে আছে। নাদিয়া আমাকে দেখে আমার কাছে চলে আসলো।
নাদিয়া– এতক্ষণে আসার সময় হলো তোর আমি সেই কখন থেকে বসে আছি। আর এই মেয়ে টা কেরে দোস্ত?( জান্নাত কে দেখিয়ে)
আমি– দোস্ত ওর নাম জান্নাত আমার বেয়াইন।
— ওহ। কিন্তু তোর সাথে যে আমার কিছু কথা আছে।
— হুম তো বল কি কথা।
— নাহ এখানে না তুই এই দিকে আয়। আর আপু তুমি একটু এখানে বসে থাকো আমরা আসছি।
(বলেই নাদিয়া আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে ফাঁকা জায়গায় চলে এলো)
**আর এদিকে জান্নাত ভাবছে**
জান্নাত– এ কি গায়ে পরা মেয়ে রে বাবা। এই ছেমরি তো রিয়া আপুর থেকেও বেশি গায়ে পরা মেয়ে। আর কি এমন কথা যা আমার সামনে বলা গেলো না। নাহ এই মেয়ে টাকে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না। ধুর ভাললাগে না😒😒
আর এদিকে নাদিয়ার সাথে প্রায় ১০মিনিটের মতো কথা বলে জান্নাত এর কাছে আসলাম। কি কথা হলো তা না হয় পরে একদিন শুনবেন এখন থাক। এসে দেখি মেয়ে টা আনমনে কি যেনো ভাবছে। তারপর নাদিয়া চলে গেলো আর আমি জান্নাত কে নিয়ে পুরা গ্রাম ঘহরলাম।
আমার সাথে ঘুরতে পেরে জান্নাত অনেক খুশি।
জান্নাত– একটা কথা বলবো?
আমি– হুম বলো।
— পেত্নী টা কে?
— কোন পেত্নী?
— লুচ্চা বোঝনা না কোন পেত্নী। বানর কুত্তা,,,, এতক্ষণ জার সাথে কথা বলে আসলি সেই পেত্নী।
— ওহ,,,, ওহ ওর নাম তো নাদিয়া। আমার স্কুল লাইফ এর ফ্রেন্ড।
— হুম বুঝলাম। এখন চল বাড়িতে যাবো।
তারপর জান্নত কে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।
**রাত ৯ টা,,,, ছাদে নাদিয়ার সাথে ফোনে কথা বলতেছি। তখনই খেয়াল করলাম কেউ একজন ছাদে এসেছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি জান্নাত। তাই নাদিয়া কে বললাম দোস্ত তোর সাথে পরে কথা বলি।
জান্নাত– কার সাথে কথা বলছিলি?
আমি– নাদিয়ার সাথে। কেনো বলোতো?
— আর যেনো ওই পেত্নী টার সাথে কথা বলতে না দেখি।
— কেনো,,,, কেনো কথা বলবো না। আর বললে কি করবে হুম।
— একদম গলা টিপে দিবো।
— কিহ।
–জ্বি
— কিন্তু কেনো হুম,,,,, আমি তোমার কি হই যে,,,,,,,, আর কিছু বলতে পারলাম না। তার আগেই আমার ঠোঁটে জান্নাত এর ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। কতক্ষণ ছিলো ঠিক বলতে পারবোনা। ছাড়ার পর।
জান্নাত– cause,,,,, I Love You😍😍😍
আর একদিন ওই পেত্নী টার সাথে কথা বলে দেখ কি করি তোর।
(বলেই দৌড়ে চলে গেলো। বুঝলাম না কিছু জান্নাতই আমার সাথে ব্রেকআপ করলো আর এখন ও নিজেই বলছে i love you😍😍😍😍😍😍)
চলবে,,,,,,,,,,,,,?
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।