কাশফুলের মেলা পর্ব-১৩

0
399

#কাশফুলের_মেলা
#পর্ব_১৩
#Writer_Nusrat_Jahan_Sara

আবিরকে বাথরুমে দেখে অনু ভয়ার্ত দৃষ্টি নিয়ে ওর দিকে তাকালো।আবিরও অনুকে এভাবে দেখে হকচকিয়ে গেলো।তারতাড়ি নিজের দৃষ্টি লুকিয়ে বাথরুম ছেড়ে চলে গেলো।
অনুও আর মাথা না ঘামিয়ে শাওয়ার সেরে বেড়িয়ে গেলো।রুমে পা রাখা মাত্রই আরুহি এসে ওকে টান দিয়ে নিয়ে গেলো।

“তোমাকে তো ভালো ভেবেছিলাম কিন্তু তুমি তো,,,

“কেনো আমি কী করেছি?

“সিরিয়াসলি তুমি বুঝতে পারছোনা?

“না

“ভাইয়া বাথরুমে কী করছিলো?তুমি তো আমার চোখের সামনেই দরজা বন্ধ করে বাথরুমে গিয়েছিলে তাই না তাহলে ভাইয়া কীভাবে বাথরুমে ঢুকলো বলো?

অনু নিজেও এই কথাটি অনেক ভেবেছে।কিন্তু হিসাব মেলাতে পারেনি।সে ভেবেছিলো আবিরকেই এবার জিজ্ঞেস করবে।তাই সে কথা ঘোরানোর জন্য বলল,

“আমি সত্যি জানিনা উনি কীভাবে বাথরুমে গেলেন

“সত্যি তোমাদের মতো মেয়েরা আর কিছু না জানলেও এসব ভালোই জানে।

আরুহি কথাটি বলে রুম ছেড়ে চলে গেলো।অনুর চোখেও পানি চিকচিক করছে।খুব কষ্ট পেয়েছে সে আরুহির কথায়।তারাতাড়ি রুম ছেড়ে সেও বেড়িয়ে চলে গেলো আবিরের রুমে।আবির তখন ফোনে কথায় বলায় ব্যস্ত।অনুকে দেখে আবির ফোন কান থেকে সরিয়ে বলল,

“কিছু বলবে?

“আসলে তখন বাথরুম,,,

আবির অনুকে বাকিটুকু না বলতে দিয়ে নিজেই বলল,

“হ্যাঁ আমিও তোমার কাছে যেতে চাইছিলাম। আ’ম স্যরি। আসলে রুহির রুম থেকে একটা জিনিস আনতে গিয়ে দেখি বাথরুম থেকে শাওয়ারের আওয়াজ আসছে রুহি তো এই টাইমে শাওয়ার করেনা।এক মুহুর্তে আমার তোমার কথা মাথা থেকে সম্পুর্ন বেড়িয়ে গেছিলো তাই কোনো কিছু না ভেবে দরজায় একটু জোড়ে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো।হয়তো ভালো করে লক করোনি তাই।

অনু কিছু বলল না রুম ছেড়ে বেড়িয়ে এলো পথেই আবার আরুহির সাথে দেখা।সে অনুকে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল।

“কোথায় গেছিলে?

“আবিরের রুমে

আরুহি একটা ভেঙচি কেটে সোজা আবিরের রুমে চলে গেলো।

“ভাইয়া???

“কী???

“তোমার মনে কী চলছে বলোতো??

“কী চলবে আবার?

“মানে তুমি কোনো মেয়ের সাথে ভালো করে দু চার কথা পর্যন্ত বলোনা আবার তুমিই কী না একটা মেয়েকে বাসায় নিয়ে এসেছো সিরিয়াসলি

“আমি এ ব্যাপারে আগেও তোর সাথে কথা বলেছি তাহলে আবার কেনো?

“কারন আমার কাছে বিষয়টা সুবিধার লাগছেনা?

“তাহলে আমার কী করার?

“দেখো ভাইয়া হেয়ালি করবেনা একদম বলে দিলাম। সত্যি করে বলোতো অনুর সাথে তোমার কী সম্পর্ক?।

“আশ্চর্য ওর সাথে তো আমার আজই প্রথম দেখা তাহলে সম্পর্ক আসতে যাবে কোথা থেকে?নাকি তুই জোর করেই সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলবি।

“আমি জাস্ট কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা

“তোর এতো বুঝার দরকার নেই।যা গিয়ে নিজের চরকায় তেল দে।আর শুন কাল কিন্তু আদিল খান আসছে।

কথাটি বলেই আবির একটা চোখ টিপ দিলো।আরুহি লজ্জা মাখা মুখ করে আবিরের রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।

পরেরদিন~~~~

বাড়িতে তোরজোর চলছে।অনু রান্নাঘরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে নিজের তর্জনী আঙুলের নখ কামড়াচ্ছে আর পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করছে।আরুহি কোমড়ে ওরনা বেঁধে রান্না করে যাচ্ছে।অনু বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে কার জন্য এত রান্নাবান্না কিন্তু আরুহি কিছুই বলেনি।অনু আরুহির এমন ব্যবহারে কষ্ট পেলেও সেটা প্রকাশ করল না। কিছুক্ষন পর একজন সার্ভেন্ট এসে বলল মেহমান এসে গেছে।আরুহি আর ওর মা মাথায় ওড়না দিয়ে তারাতাড়ি রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো।অনুও বেড়োবে তার আগেই আরুহি ওর হাত খপ করে ধরে ফেলল,

“উনারা আমাদের পারিবারিক গেস্ট।তাই আমি চাইনা তুমি উনাদের সামনে গিয়ে কোনো সিন ক্রিয়েট করো।যাও রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকো।আর যা বললাম তা যেন মনে থাকে।

অনু আরুহির কথায় সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়িয়ে উপরে চলে গেলো।রুমের দরজা আটকাতে গিয়ে অনুর চোখ পরলো ড্রয়িংরুমে বসে থাকা ছেলেটির দিকে।ছেলেটি এক দৃষ্টিতে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃষ্টিতে যেন খারাপ কিছু নেই, কেমন যেন মায়া লেগে আছে।অনু ছেলেটির দিকে আর বেশিক্ষণ তাকালো না দরজা বন্ধ করে দিল।ছেলেটি দরজা বন্ধ তারপরও সেদিকে তাকিয়ে আছে।আরুহি ব্যাপারটা বুঝে শুধু রাগে ফুঁসছে।অনু কাঁদোকাঁদো মুখ করে মা বাবার কথা ভাবছে আজ দুদিন হয়ে গেলো সে আবিরদের বাসায় এসেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত মা বাবার কোনো হদিসই মেলাতে পারেনি।আজ যদি সেও তার মা বাবার কাছে থাকত তাহলে তারও সুন্দর একটা ফ্যামিলি হতো।অনুর ভাবনার মাঝেই দরজায় টকটক আওয়াজ পরলো।অনু নিজের চোখের জলটা মুছে দরজাটা খুলে দিল।দরজার ওপারে একজন মধ্যবয়সী মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন পরনে তার দামী শাড়ি।অনু উনার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যেন কত চেনা লাগছে মহিলাটিকে।উনি আরুহির দিকে তাকিয়ে বললেন,

“ও কে?

আরুহি কিছুক্ষন ভেবে বলল,

” ও আমাদের বাসার কাজের লোক।এই মেয়ে তুমি আমার রুমে কী করছো তাও দরজা বন্ধ করে? চুরিটুরি করার মতলব আটছো নাকি যাও রুম থেকে বেড়িয়ে যাও।

আরুহির কথায় অনুর চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পরছে।ইগো সবারি থাকে।তেমনি অনুরও আছে। কাজের লোক কথাটি ওর ইগোতে গিয়ে লেগেছে। সে গরীব হতে পারে কিন্তু কাজের লোক নয়।

“কী হলো যাও?

অনু দৌড়ে ছাঁদে চলে গেলো।ভদ্র মহিলাটি একবার তাকিয়েছেন অনুর দিকে পরেও আর না তাকিয়ে চলে গেলেন বাথরুমে।

সন্ধ্যা প্রায় ছুঁইছুঁই। বিকেল তিনটেয় অনু এসেছিলো ছাঁদে এখনো আছে।কেউ একবার এসে দেখে পর্যন্ত নি।ওর মায়ের কাছে থাকলে কতবার এসে ওর মা ওকে দেখে যেত। কথাটি ভেবেই অনু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।পিছন ফিরতেই আবিরকে দেখে একটু চমকে গেলো।

“আপনি?

“হুম।মেহমান আসলো নিচে তো গেলেনা?

“এমনি।আচ্ছা উনারা কী আপনাদের রিলেটিভ ?

“হ্যাঁ আমার বাবার বন্ধুর ফ্যামিলি আজ এসেছিলো।

বন্ধুর নাম জানতে অনুর ইচ্ছে হলো তাই সে বলল,

“কী নাম আপনার বাবার বন্ধুর?

“ইশান খান।

ইশান খান নাম শুনে অনু দুকদম পিছিয়ে গেলো। তারপর কাঁপাকাঁপা কন্ঠে বলল,,

“উনার স্ত্রীর নাম কী আরশি?

“হ্যাঁ বাট তুমি কী করে চিনলে তাকে।তুমি তো গ্রামে থাকতে তাহলে শহরের মানুষকে চেনা তো তোমার দ্বারা পসিবল না তাহলে,,,

“ওই আসলে,,

চলবে,,