#কৃষ্ণপক্ষের_অন্তিম_প্রহর
লেখনীতে #মেহরিমা_আফরিন
৩.
হামাদ বাতি নিভিয়ে টানটান হয়ে শুয়ে ছিলো।হাশিম ঘরে উঁকি দিয়ে নিরেট স্বরে বলল,’ভাইজান আসবো?’
হামাদ চোখ বুজেই বলল,’হুম।আয়।’
হাশিম ধীর পায়ে এগিয়ে আসে।পালঙ্কে না বসে সামনে থাকা টুলে গিয়ে বসে।শেষটায় একটু কেশে কন্ঠ পরিষ্কার করে বলে,’তুমি সত্যিই ঐ বাড়িতে বিয়ে করছো?’
হামাদ সংক্ষেপে উত্তর দেয়,’হুম।’
অত্যন্ত গম্ভীর কন্ঠস্বর।হাশিম আর তাকে ঘাটায় না।শুধু জানতে চায়,’যাকে দেখতে গিয়েছিলে,তাকে ফেলে তার বোনকে কেন বিয়ে করছো?সে কি খুব বেশি সুন্দর?’
কিছু সময় পিনপতন নীরবতা।শেষে হামাদ সামান্য নড়ে উঠে বলল,’তার সৌন্দর্য পরোখ করিনি।তাই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না।’
হাশিম চমকায়।
‘তাহলে কেন বিয়ে করতে চাইছো?’
‘জানি না।তুই যা ঘর থেকে।বিরক্ত লাগছে আমার।’
হাশিম হতাশ ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালো।অভি ভাইজান সবসময়ই মেপে মেপে কথা বলে।একশোটা প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় শুধু দশটার।হাশিম জানে এই প্রশ্নের উত্তরও সে দিবে না।সে নিজের খেয়াল খুশির মালিক।কখন তার মাথায় কি চলে,সেটা তার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।
সে যেতেই হামাদ উঠে বসলো।আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে ঘরের চারদিক দেখলো।সন্ধ্যা নেমেছে একটু আগে।সময় সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।রাত গভীর হলেই তার জন্য সুবিধা।সে বের হয় রাত নয়টার দিকে,আর বাড়ি ফিরে ভোরের একটু আগে।কারাগারের এতো গুলো দিন হামাদ মন ভরে শ্বাস নিতে পারে নি।এখন নিবে।পুরো শহর চষে বেড়াবে সে।চার দেয়ালের জীবন হামাদের শ্বাসরোধ করে দেয়।পথে পথে ঘুরে বেড়ানোই হামাদ শিকদারের প্রিয় কাজ।আরেকটা কাজও অবশ্য তার প্রিয়।সেটা হলো মারপিট করা।সপ্তাহে একদিন মারপিট না করলে সে শান্তি পায় না।সে বাউন্ডুলে,ভীষণ ভীষণ বাউন্ডুলে।
অরুনিমা নামের মেয়েটি বলেছিল সে নাকি তার জুতোর সাথেও অভির বিয়ে করাবে না।কথাটা তার খুব গায়ে লেগেছে।অরুকে বিয়ে করে সে তাকে তার যোগ্যতা দেখিয়ে দিবে।অরুর মুখে এতো বড়ো বড়ো কথা মানায় না।হামাদ চাইলেই তাকে বউ করে ঘরে তুলতে পারে।স্রেফ জেদ আর মেল ইগোর বশবর্তী হয়ে হামাদ তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ঐ মেয়ের প্রতি তার এক বিন্দু অনুভূতিও কাজ করে না।
***
আধঘন্টা গলা ছেড়ে কান্না করার পর অরুনিমা চোখ মুছলো।পরমুহূর্তেই আবার নিরুপমার রোগা পাতলা শরীরটা জাপ্টে ধরে বলল,’আপা গো! তুমি কিছু করো আপা।এই বিয়ে থেকে আমাকে বাঁচাও।প্লিজ আপা।এই দুর্যোগ থেকে আমাকে উদ্ধার করো প্লিজ।’
নিরু পড়েছে মহা বিপাকে।কি থেকে কি হয়েছে সে নিজেও জানে না।আজ সকালেই তার কাছে খবর এসেছে শিকদারদের বড়ো ছেলে নিরুকে না,বরং অরুকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে।এই খবর কানে যেতেই অরুনিমার মাথার উপর আকাশের একটা টুকরো বিকট শব্দে ভেঙে পড়ল।সে কস্মিনকালেও এমন কিছু কল্পনা করেনি।যেই লোকের সাথে আপার বিয়ে দিতেই তার কলিজা ফেটে যাচ্ছিল,ঐ লোকের সাথে সে সংসার করবে কেমন করে?
এই ভয়াবহ প্রস্তাব কানে আসতেই সে নিরুপমার কাছে ছুটে গেল।কেঁদে কেটে তাকে জড়িয়ে ধরে সে বুক ভাসালো।তার বিশ্বাস,এই ভয়ংকর অবস্থা থেকে একমাত্র নিরু আপাই তাকে উদ্ধার করতে পারবে।
নিরু নিজেও পড়েছে মহা বিপাকে।সে কেমন করে পরিস্থিতি সামাল দিবে?শিকদার রা বিরাট ক্ষমতাধর।এলাকার ত্রাস।এদের মুখের উপর সে কিছু বলবে কেমন করে?সে তবুও অরুকে আগলে নেয়।মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বস্ত করে,’ঘাবড়াস নে অরু।আপা দেখছি কি করা যায়।’
অরু হাতের বন্ধন আরো মজবুত করে।নাক টানতে টানতে বলে,’আপা প্লিজ।পায়ে পড়ি তোমার।প্লিজ কিছু একটা করো।’
তার ফ্যাচফ্যাচ কান্নায় মনোয়ারা কিছুটা বিরক্ত হলেন।কন্ঠে সেই বিরক্তিভাব বজায় রেখেই বললেন,’তুই এমন ম’রা কান্না কাঁদছিস কেন?তোর না বড় বাড়ির ছেলেকে বিয়ে করার শখ?এখন তো তোর নাচা উচিত।বড় বাড়ির ছেলেই তোর জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।যা উঠোনে গিয়ে কিছুক্ষণ নাচ।’
অরুনিমা আপাকে ছেড়ে মায়ের দিকে তাকালো।অভিমানী সুরে নাক টেনে টেনে বলল,’বড়ো বাড়ির ছেলে চেয়েছি,ঐসব জেলখাটা আসামি চাই নি।’
নিরুপমা তার মুখ চেপে ধরে ধমক দেয়,’আহ অরু।বারবার এক কথা বলতে নেই।বাইরে থেকে যা দেখা যায়,তা দিয়ে মানুষকে বিচার করতে নেই মনা।’
অরু চুপ হলো একটু।পর পরই আবার ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলল,’আপা তুমি প্লিজ বিয়েটা ভেঙে দাও।কিছু একটা করো আপা।নয়তো আমি ম’রে যাবো।’
***
বাড়িটা বেশ পুরোনো।দেখতে অনেকটা জমিদারদের বাড়ির মতো দেখায়।বিশাল জায়গা জুড়ে বাড়িটার অবস্থান।সামনে আবার সুন্দর বাগান।বাগানে নানারকম ফুল গাছ।সেখানে রং বেরঙের ফুল ফুটেছে।বাড়ির রং ধূসর সাদা।একপাশের স্তম্ভে আবার শেওলা ধরে আছে।
নিরুপমা আগাগোড়া একবার বাড়িটা দেখে নেয়।বাড়ির মূল ফটকে লোহার গেইট।দেখতে অনেকটা জেলখানার গেটের মতো দেখায়।সেখানে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।খুব সম্ভবত প্রহরী হবে।নিরু শাড়ির কুচি সামলে তার দিকে এগিয়ে যায়।বিনীত স্বরে বলে,’আসসালামু আলাইকুম চাচা।আমি একটা জরুরি কাজে এসেছি।ভেতরে যাওয়া যাবে?’
লোকটা জহুরি চোখে তাকে পরোখ করে।জানতে চায়,’কার সাথে দেখা করবেন?’
‘জনাব হামাদের সাথে।’
‘অভি বাবুর সাথে?’
নিরুপমা ইতস্তত করে বলল,’জ্বী।তার সাথেই।’
লোকটা গেট খুলে তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায়।যেতে যেতে বলে,’বসার ঘরে বসুন আপনি।আমি উনাকে ডেকে আনছি।’
নিরু বসার ঘরে গিয়েই এক কোণায় পুতুলের মতো গিয়ে বসলো।বসার ঘরে বড়ো বড়ো চারটে সোফা।একটা সোফায় চারজন বসতে পারবে।সামনে একটা রাজকীয় টি-টেবিল।ঘরের দেয়াল আর আসবাবপত্র দেখে নিরুপমার মনে হলো বাড়ির মালিক নিশ্চয়ই কোনো জমিদার ছিলেন।আসবাবপত্র গুলো অনেক আগে বানানো,পরে আর নতুন করে বানানো হয়নি।দেয়ালের রংটাও পুরোনো হয়েছে বেশ।অথচ সবকিছুর মাঝেও বাড়িটা যথেষ্ট রাজকীয় দেখাচ্ছ।অরুর তো এমন বাড়ির খুব শখ।
নিরু দেয়ালের একপাশে অতি অবহেলায় ঝুলতে থাকা ক্যালেন্ডারটা দেখে।সেখানে ২০০১ এর অক্টোবর মাসের পাতাটা ঝুলছে।অথচ এখন সময় ২০০২ এর সেপ্টেম্বর।এগারো মাসেও বুঝি বাড়ির কেউ বিষয়টা লক্ষ্য করেন নি?যদি ক্যালেন্ডার নাই দেখে,তাহলে ঝুলিয়েছে কেন?
নিরুপমার ইচ্ছে হলো নিজে গিয়ে বর্ষপঞ্জি টা পেরেক থেকে খুলে আনতে।এতো সুন্দর ঘরের সৌন্দর্য এই বর্ষপঞ্জির কারণে সামান্য পরিমান হলেও ম্লান হয়েছে।
নিরু নিজের জায়গায় বসে থাকলো।অনধিকার চর্চা সে কখনোই করে না।হামাদ সাহেবের সাথে কথা বলেই তার বাড়ি যেতে হবে।নিহাদ লম্বা সময় তাকে ছাড়া থাকতে পারে না।
অভি ঘরে এলো পাক্কা আধঘন্টা পর।নিরুপমার আসার খবর সে আরো আগেই পেয়েছে।কিন্তু নিরুপমা এমন কোনো খাস লোক না,যার আগমনের খবর শোনামাত্রই দৌড়ে ছুটে আসতে হবে।সে হেলেদুলে হেঁটে এসে নিরুপমার মুখোমুখি সোফায় বসল।
নিরুপমা কিছুটা অপ্রস্তুত বোধ করল।নিজ থেকেই অভিকে সালাম দিলো।অথচ অভি প্রতিউত্তর করলো না।
নিরু উসখুস করতে করতে বলল,’আসলে অরুর বয়স অনেক অল্প।আপনি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছেন।কিন্তু আমরা এখনই তার বিয়ে দিতে চাইছি না।সে তো বাচ্চা একটা মেয়ে।আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা।’
অভি পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসলো।সোফার সাথে মাথা হেলান দিয়ে গম্ভীর হয়ে বলল,তোমার বোন অরুর বয়স কতো?’
নিরুপমা ভ্যাবাচেকা খেয়ে উত্তর দেয়,’বিশ।’
‘বিশ বয়সে কেউ বাচ্চা থাকে না নিরুপমা।তোমার বোনও বাচ্চা নেই।”
নিরুপমা আরেকদফা থতমত খায়।এমন কাটকাট কথার জবাব দিতে সে অভ্যস্ত না।সে মাথা নামিয়ে বলল,’আসলে অরুকে আমরা এখনই বিয়ে দিতে চাইছি না।’
‘সেটা তোমাদের বিষয়।আমি অরুকে এখনই বিয়ে করতে চাইছি।এটা আমার বিষয়।’
নিরুপমা হতাশ,চরম মাত্রায় হতাশ।সে দুই হাত কচলে বিনয়ী ভঙ্গিতে বলল,’বিয়েটা ভেঙে দিলে ভালো হয় না জনাব হামাদ?এতে দু’জনেরই ভালো হতো।’
‘আমার ভালো নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না।আমার ভালো আমি বুঝি।তোমাদের বিয়ে ভাঙতে ইচ্ছে হলে ভেঙে দাও।কেউ তো বারণ করেনি।’
নিরু চট করে উত্তর দেয়,’আপনি ভেঙে দিলে ভালো হতো।’
‘আমি কেন ভাঙবো?আমার কোনো আপত্তি নেই এই বিয়েতে।এবার তুমি আসতে পারো।’
হামাদ আর একমুহূর্ত অপেক্ষা করলো না।পকেটে হাত গুজে উঠে দাঁড়িয়ে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।নিরুপমা কতোক্ষণ সেভাবেই বসে থাকল।তার ভেতরটা অজানা আতঙ্কে শুকিয়ে কাঠ হচ্ছে।অরু এই কাঠখোট্টা লোকের সাথে ঘর করবে কেমন করে?তার সাথে তো এই লোকের আকাশ পাতাল পার্থক্য।
সে আশাহত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালো।সে হামাদ নামের অদ্ভুত লোকটিকে মানাতে সক্ষম হয়নি।কেমন অদ্ভুত এই লোক।সে যেতে যেতে প্রকান্ড বাড়িটার চারদিক দেখে।ঐ লোকের মতো তার বাড়িটাও কেমন অদ্ভুত,দেখলেই গা ছমছম করে।এতো টাকা পয়সার মালিক।বাড়িটা একটু রঙ করিয়ে ঠিক করলেই তো পারে।
হামাদের বিশালাকার বাড়ি থেকে বেরিয়েই সে ডানে বায়ে দেখে টেম্পুর তালাশ করে।এখানে মনে হয় না পাওয়া যাবে।আরো সামনে যেতে হবে।ধূসর রঙের সুতির শাড়ির কুচি সামলাতে সামলাতে নিরু সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
গলির মোড়ে একটা হুন্ডা তার অপেক্ষাতেই ছিলো।সে বেরিয়ে আসতেই হুন্ডার মালিক বাঁকা হাসলো।হেন্ডেলবারে দুইহাত চেপে সে হুন্ডা স্টার্ট দিলো।কালো রঙের মোটরবাইকটা তীব্র বেগে ছুটে এসে নিরুপমার গা ঘেঁষে সামনে চলে গেল।
নিরুপমা বেশ ধীর গতিতে হাঁটছিলো।কালো মোটরসাইকেলটা তাকে ধাক্কা দিতেই সে ধপ করে মাটিতে আছড়ে পড়লো।তার মনে হলো আর অল্প একটু জোরে আঘাত পেলেই নির্ঘাত তার হাত পা ভেঙে যেতো।
সে কতোক্ষণ সেভাবেই মাটিতে বসে থাকে।সে পায়ে চোট পেয়েছে সামান্য।সেখানে কেমন চিনচিন ব্যাথা হচ্ছে।আচমকা একটা কালো রঙের জিপ তার পাশে এসে থামলো।সেখান থেকে একজন শক্তপোক্ত গড়নের লোক এক লাফে নিচে নেমে এলো।তার পরনে ফর্মাল পোশাক।নেভি ব্লু শার্ট,হোয়াইট প্যান্ট।ক্লিনসেভ মুখ,হাতে একটা দামি ঘড়ি ঝুলছে।নিরু হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকে দেখে।এতো পরিপাটি আর সুন্দর ছেলে মানুষ সচরাচর দেখা যায় না।ছেলেরা হয় এলোমেলো,ছন্নছাড়া প্রকৃতির।অথচ তার সামনে দাঁড়ানো লোকটা বেশ গোছানো,দেখে মনে হচ্ছে নিয়মনীতির জঞ্জালে আবদ্ধ।
লোকটা সামান্য ঝুকলো।একহাত সামনে বাড়িয়ে গাঢ় স্বরে বলল,’মিস! আর কতোক্ষণ মাটিতে বসে থাকবেন?উঠে আসুন এবার।’
নিরুর হুশ ফিরে।সে হাত না বাড়িয়েই উঠে দাঁড়ায়।তারপর গায়ের ধুলো ঝেড়ে নিচু স্বরে বলে,’ধন্যবাদ।আসলে আমাকে একটা গাড়ি ধাক্কা দিয়েছিলো।’
লোকটা উত্তর দিলো না।বরং খুব সাবধানে তাকে আগাগোড়া পরোখ করল।এই কাজ সে এতো সুকৌশলে করলো যে নিরুপমার মতো বিচক্ষণ মেয়েও টের পেল না যে কেউ তাকে গভীর মনোযোগে একবার পরোখ করে নিয়েছে।এখন আর তার ছবির প্রয়োজন নেই,মিস নিরুপমার মুখশ্রী এখন তার মুখস্ত।সে বহু বছর যাবত ক্রস চেকিং য়ের কাজ করছে।এসব তথ্য মনে রাখার কাজে সে দক্ষ।
আর কথা না বাড়িয়ে সে পুনরায় জিপে চেপে বসলো।তার একহাতে তখনও তার ব্যাচ মুঠ করে ধরা।যেখানে লিখা-মেজর এহতেশাম মুস্তাফা।
জিপ গাড়ি এগিয়ে যায় সামনের দিকে।মেজর এহতেশাম জানলেন না জিপ গাড়ির সাথে সাথে তিনি নিজেও নিজের গন্তব্য থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন।তিনি শুধু একবার সাইড মিররে ভেসে উঠা মেয়েটার মুখশ্রী নির্নিমেষ চোখে অবলোকন করলেন।তারপরই তার ড্রাইভিং-এ মন দিলেন।তার ছুটির দিন শেষ হচ্ছে খুব শীগ্রই।এরপর আবার সেই ধরা বাঁধা জীবন।এহতেশাম সেই জীবনেই বেশ আছে।বছরের পর বছর মিলিটারি জীবন কাটানোর পর এখন এই সাধারণ মানুষের জীবন তার বিরক্ত লাগে।তবুও অভির মতো কিছু ক্রিমিনাল আছে বলে এহতেশামের ছুটির দিন গুলো দারুণ কাটে।অভির পরবর্তী একশান দেখার জন্য এহতেশাম মরিয়া,ভীষণ ভীষণ মরিয়া।সেই একশানের পাল্টা জবাব দেওয়ার যেই স্বর্গীয় সুখ,সেই সুখ কল্পনা করেই মেজরের ঠোঁটে দুর্বোধ্য হাসি খেলা করে।
চলবে-