#কৃষ্ণপক্ষের_অন্তিম_প্রহর
লেখনীতে #মেহরিমা_আফরিন
৭.
নিরুপমা শুরুতে ভীষণ ইতস্তত করছিলো।কিছুক্ষণ আমতা আমতা করার পর সে বেশ বিনয়ী কায়দায় বলল,’আসলে আজ অরুর পায়েস রান্না করার কথা ছিলো।কিন্তু সে পায়েস রান্না করতে জানে না।তার রান্না করা পায়েসটা খেতে ভালো হয়নি।তাই আমি বাড়ি থেকে দুধ এনে পুরোটা পায়েস আবার রান্না করেছি।শুধুমাত্র এই জন্যই আমি রান্নাঘরে এসেছি।নয়তো আপনাদের কোনো কিছুতে আমি হাত দেই নি।সত্যি বলছি।’
বলতে বলতে নিরুপমার গলা ভেঙে এলো।লোকটা কি তাকে চোর ভাবছে?সে তো শুধু অরু কে বাঁচানোর জন্য রান্নাঘরে পা দিয়েছিলো।
এহতেশাম নিরব হয়ে তার কথা শুনলো।মাঝখানটায় একবার তার শুকিয়ে যাওয়া বিবর্ণ মুখটা দেখল।সেই মুখে একটা অদ্ভুত রকমের মায়া ছিলো।মায়া নাকি অন্য কিছু এহতেশাম জানে না,তবে তার মনে কিছুটা সহানুভূতির উদয় হলো।সে নরম গলায় বলল,’ইটস ওকে।আমি বুঝতে পেরেছি।’
বলেই সে পকেটে হাত গুজে সামনে এগিয়ে যায়।আবার কি একটা ভেবে কয়েক কদম পিছিয়ে এসে একটা চামচ হাতে তুলে নিয়ে একটু পায়েস চেখে দেখলো।মাথা নেড়ে বলল,’ভালোই হয়েছে পায়েসটা,নি রু প মা।’
নিরুপমা মাথা তুলে তাকায়।এমন ভেঙে ভেঙে নাম উচ্চারণ করল কেন?অদ্ভুত শোনাচ্ছে নামটা।এহতেশাম আর কোনোদিকে না দেখে সোজা হেঁটে বেরিয়ে গেল।যেতে যেতে গম্ভীর গলায় বলল,’বেরিয়ে আসুন নিরুপমা।কেউ আপনাকে রান্নাঘরে দেখলে সমস্যা হবে।আপনার না,আপনার বোনের।’
নিরু সাথে সাথে শাড়ির আঁচল মাথায় তুলে দ্রুত কদমে রসাইঘর থেকে বেরিয়ে এলো।তার কাজ আপাতত শেষ।এখানে থাকার আর কোনো মানে নেই।
***
অরুর পায়েস বেশ ভালো হয়েছে।বাড়ির লোকেরা পায়েস মুখে তুলে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলো।কেবল জাহানারা বেগম চোখ বাঁকিয়ে বললেন,’যেই ভুলভাল রান্না করেছিলে! স্বাদ এতো ভালো হলো কি করে?’
অরু চোয়াল শক্ত করে তার দিকে তাকায়।বিড়বিড় করে বলে,’বুড়ির শয়তানির কোনো শেষ নাই।’
সেদিনের খাওয়া দাওয়ার পর্ব একেবারে ঝামেলা বিহীন ভাবে মিটে গেল।অভি নিচে নেমেছিলো গুনে গুনে তেরো মিনিটের জন্য।খেতে গিয়ে সে পুরোটা সময় মাথা নামিয়ে রাখলো।তার মুখোমুখি চেয়ারে এহতেশাম বসেছে।অভি তার চেহারা দেখে মেজাজ নষ্ট করতে চায় না।
এহতেশাম অবশ্য নির্বিকার।সে বেশ কয়েকবার অভির মতিগতি পর্যবেক্ষণ করেছে।একবার নিজ হাতে একটা রুটি তার প্লেটেও তুলে দিয়েছে।অভি কিছু বলতে গিয়েও বলল না।বললেই এখন সবাই তাকে দোষারোপ করবে।তার তো এমনিতেও দোষের শেষ নেই।
সে খাওয়া শেষ হতেই পুনরায় হনহনিয়ে চলে গেল।জাহানারা বললেন,’দাদুভাই! পানি ডা অন্তত খাইয়া যাও।’
সে সেই কথার তোয়াজ করল না।বিরক্ত হয়ে বলল,’ছাদের ট্যাপ থেকে খেয়ে নিব।’
এহতেশাম বিড়বিড় করল,’তুই তো এসবই খাবি।কু’ত্তার পেট তো! ঘি হজম হবে কেমন করে?’
সেই রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে নিরুপমার দশটা বেজে গেল।মনোয়ারা দরজা খুলেই তাকে এক টানে ভেতরে আনলেন।মাথা বের করে গলির দুই মাথা দেখে চিন্তিত গলায় বললেন,’রাত কতো হয়েছে তোর কোনো খবর আছে?কেউ তোকে দেখেনি তো নিরু?’
নিরুপমা বলল,’নাহ,দেখেনি।’
মনোয়ারা হাঁফ ছেড়ে বললেন,’যাক,শান্তি পেলাম।এতো রাত করলি কেন?লোকে এতো রাতে তোকে বাইরে দেখলে কতোরকম কথা বলতো জানিস?’
নিরু মাথা নামিয়ে বলল,’দুঃখিত মা! আমার রিকশা পেতে দেরি হয়েছে।’
সে চুপচাপ হেঁটে তার ঘরে চলে গেল।তুতুন হাই তুলে বলল,’মা! ঘুমু পেয়েছে।’
নিরু পেছন ফিরে বলল,’আসো সোনা।মা ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি তোমায়।’
তুতুন ঘুমিয়ে গেল দশ মিনিট পরেই।কেবল নিরুপমার দুই চোখে ঘুম নামলো না।সে খাট থেকে উঠে মেঝেতে বসে দেয়ালের সাথে ঠেস দিলো।ঘড়ির কাঁটা ছন্দোময় গতিতে টিকটিক করে যাচ্ছে।নিরুর বুকের অসহ্য যন্ত্রণা সেই শব্দের সাথে পাল্লা দিয়ে করুণ থেকে করুণতর হলো।
নিরু আর বসে থাকতে পারল না।হাত পা ছেড়ে সে কতোক্ষণ মেঝেতে শুয়ে থাকলো।মা তাকে অবজ্ঞা করে।মায়ের চোখে সে সেই অবজ্ঞা দেখতে পায়।অরুর শ্বাশুড়ি তাকে দেখলেই নাক ছিটকান।সম্ভবত নিরুপমা কাছে এলেই তার গা ঘিন ঘিন করে।নিরুর মনে হলো সে একটা নর্দমার কীট।যাকে সবাই দেখলেই কয়েক কদম দূরে সরে যায়।
নিরুপমার দুই চোখ ভরে এলো।মনে হয় বুকের উপর কেউ দশ মণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।মন চাইলো শ্রাবণের জোরালো বর্ষনে ভিজে ভিজে নিজের শরীরের সমস্ত অপবিত্রতা ধুয়ে দিতে।তার শরীরটা নোংরা।এই শরীরের জন্য কেউ তাকে ভালোবাসে না।দুই বছর সংসার করার পর যেই মেয়ে তার সংসার টেকাতে পারে না,সে আবার কেমন মেয়ে?সে তো পবিত্র না।ভোগ বিলাশের পর স্বামী তাকে ছুড়ে ফেলেছে।সে নোংরা,অনেক বেশি নোংরা।আরেকটা শব্দ ব্যবহার করা যায়-অপয়া।নিরুপমা বিড়বিড় করে বলল,’তুই একটা অপয়া নিরু।এজন্য মা তোকে ভালো কোনো কাজে সামনে ডাকতে চায় না।তুই এখনো ম’রে যাচ্ছিস না কেন নিরু?’
নিরুপমা দুই হাতে মুখ চেপে কিছুক্ষণ গোঙায়।তারপর জানালার কাছে ছুটে গিয়ে আকাশ দেখে।দু’টো শিকে হাত চেপে আকাশ দেখতে দেখতেই তার চোখ ভিজে উঠল।সে জড়ানো কন্ঠে বলল,’আল্লাহ! আমি তোমার সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।তুমি আমার সাথে যা যা করেছো,আমার তাতে দুঃখ নেই।তুমি কি কোনোভাবে আমার শরীরের এই নোংরা টা দূর করতে পারো না? লোকে না জানুক,শুধু আমি জানবো,আমি পঁচে যাইনি।নিরুপমা কোনো অপয়া না।তুমি কি কোনোভাবে আমাকে পবিত্র করে দিতে পারো না আল্লাহ।তোমার তো অনেক ক্ষমতা।আমি এই ভৎসনার দৃষ্টি সহ্য করতে পারি না।রহম করো,একটু রহম করো।’
***
অভি সিদ্ধান্ত নিল আজ রাতে সে বাড়িতেই থাকবে।বিয়ের পর দুই দিন সে বাইরে বাইরে ছিলো।আজ ঘরে গিয়ে না ঘুমালে তার শরীর ব্যাথা করবে।সে আড়মোড়া ভেঙে তার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
ঘরের সামনে আসতেই সে দেখল তার ঘরের দরজা ভিড়িয়ে রাখা।সে কপাল কুঁচকাল।বলতে চাইলো,’আমার ঘরের দরজা টেনেছে কে?’
সাথে সাথেই তার মনে পড়লো তার বিয়ে হয়েছে,আর অরুনিমা নামের মেয়েটি তার ঘরেই থাকে।সে দায়সারা ভঙ্গিতে একটা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলল।
ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার।বাতি জ্বালানো হয়নি।চারপাশে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।অভি তিরিক্ষি মেজাজে সুইচবোর্ডের দিকে এগিয়ে যায়।গজ গজ করে বলে,’ঘরটাকে এমন ভুতের বাড়ি বানিয়ে রেখেছে কোন পাগল?’
সে বাতি জ্বালালো।পায়ের কাছে কিছু একটা বিঁধতেই খানিকটা অবাক হয়ে পেছন ফিরল।মুহূর্তেই একটা হাত ছুটে এসে তার গলায় ছু’রি চেপে বজ্রকন্ঠে বলে উঠল,’একদম কাছে আসবি না।জানে মে’রে ফেলব বলে দিচ্ছি।’
অভি চমকায়।চোখ তুলে সামনের দৃশ্য দেখার চেষ্টা করে।অরুনিমা দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।আতঙ্কিত মুখ।সেই আতঙ্ক আড়াল করার জন্য মুখে মিছেমিছি কাঠিন্য ফুটিয়ে তোলার ব্যর্থ প্রয়াস।তাকে কঠিন দেখাচ্ছে না।উল্টো মেনি বেড়ালের মতো ভীতই দেখাচ্ছে।
অরু তবুও বীরদর্পে সাবধানী বাণী ছোড়ে,’কাছে আসবি না।খবরদার।’
তার হাতের মুঠিতে শক্ত করে চেপে রাখা ধাতব বস্তুটা অভির গলার কাছটায় গিয়ে থামলো।তার বন্ধন সুদৃঢ়,সহজেই হাত ফসকে যাবে না।তার চোখ মুখ শক্ত।অভি স্থির চোখে সেই রক্তিম দৃষ্টি দেখল।
অরুনিমার হাতে থাকা ছুরিটা একবার দেখতেই তার হাসি পেল।সে কেমন তাচ্ছিল্য করে হাসল।বলল,’এটা দিয়ে তুমি আমায় মারবে?হামাদ এসব ছুরি কা’চি ভয় পায় না মেয়ে।এসব আমার বন্ধু।এরা আমার শরীরে আঘাত করবে না।’
অরুনিমা ফোঁস করে একটা শ্বাস ছেড়ে বলল,’তোর ঐসব ভয় করবে কিভাবে?তুই তো একটা খুনী।’
সঙ্গে সঙ্গে একটা হাত ছুটে এসে শক্ত করে তার গাল চেপে ধরল।এতো শক্ত করে ধরলো যে অরুর গাল ভেঙে এলো।সে ব্যাথাতুর কন্ঠে বলল,’খুনী একটা! ছাড় বলছি।’
অভি তাকে ছাড়লো না।উল্টো খুটিয়ে খুটিয়ে তার পুরো মুখ দেখল।মেয়েটা ভীষণ লাবণ্যময়ী।মুখে সেই লাবণ্যের ছাপ স্পষ্ট।চোখে একটা চাপা আতঙ্ক আর বিষন্নতার চিহ্ন আছে।সে চাপা স্বরে বলল,’আমি জানি আমি খু’নী।তোমাকে টেপ রেকর্ডারের মতো বারবার এক কথা বলতে হবে না।’
অরু কেমন মিইয়ে গেল আচমকা।এতো গম্ভীর আর ভারি কন্ঠস্বর।সবার প্রথমেই তার দিকে তাকাতে যেই জিনিসটা অরুর চোখে পড়ল তা হলো একটা কাটা দাগ।চোখ থেকে একটু নিচে একটা গভীর ক্ষত।আচ্ছা,এমন ক্ষতচিহ্নে কি কারো সৌন্দর্য বাড়ে?নয়তো অভি নামের ঐ লোকটার সৌন্দর্য বাড়ছে কেমন করে?
সে চোখ সরিয়ে নিলো।নিভে আসা কন্ঠে বলল,’আমি এই বিয়ে মানি না।তোর ঘর আমি করব না।তুই একটা খু’নী।’
অভি কিঞ্চিৎ হাসলো।সহসা তার গাল থেকে হাত সরিয়ে এক কদম পিছিয়ে এলো।অরুনিমা সমস্ত ভর ছেড়ে দিয়ে মাটিতে গিয়ে বসলো।তার সবকিছু অসহ্য লাগছে।এই লোকের সাথে একদিনও ঘর করা সম্ভব না।আর সবাই মিলে সারাজীবনের জন্য তাকে অরুর ঘাড়ে চাপিয়ে দিলো।সে এলোমেলো হয়ে বলল,’অসহ্য লাগে আমার।দম বন্ধ হয়ে যায় যখন এই বিয়ের কথা আমি ভাবি।’
অভির কথাটা গায়ে লাগলো।সে বিদ্রুপ করে বলল,’আর আমি তো খুশিতে লাফাচ্ছি তাই না?তোমাকে তো দেখলেই আমার ঘেন্না হয়।মেয়ে মানুষ এতো বিচ্ছিরি হয়?জানা ছিলো না আমার।’
অরুনিমা ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে তাকালো।এই জীবনে প্রথম কেউ তাকে বিছরি বলেছে।সে একগালে হাত ছুয়িয়ে অবাক হয়ে বলল,’সত্যি?আমি এতো বাজে দেখতে?’
‘অনেক।দেখলেই বমি পায়।তুমি আমার কাছে এসো না তো।তোমাকে দেখলেই বদহজম হয় আমার।’
বলেই অভি ধুপ ধাপ হেঁটে খাটে গিয়ে শোয়।চাদর টেনে গলা পর্যন্ত এনে একবার ফ্লোরে দিকে দেখে গম্ভীর হয়ে বলে,’আলমারি তে চাদর আছে।নিচে বিছিয়ে শুয়ে পড়ো।পাশাপাশি শোবে না।তুমি খুব বাজে দেখতে।আমার বমি পায় তোমার মুখ দেখলে।’
অরুনিমা সেই রাতে অদ্ভুত অস্থিরতায় সময় পার করল।অভি ঘুমিয়ে গেল কিছুক্ষণ পরেই।অথচ সে বার কয়েক আয়নার সামনে গিয়ে নিজের অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখার চেষ্টা করল।কি অদ্ভুত! সে কি এতো কুৎসিত?এর আগে তো কেউ এভাবে বলে নি তাকে।
অভি বেঘোরে ঘুমুচ্ছে।অরুনিমা ঘাড় বাঁকা করে তাকে দেখল।এই বনমানুষের মতো গজানো চুল দাড়ি ছেটে নিলে তার চেহারা টা মন্দ না।কিন্তু সে অরুকে বিচ্ছিরি বলেছে।অরুর মাথায় আসে না এতো রূপবতী একটা মেয়েকে মানুষ কিভাবে বিচ্ছিরি বলে।সে চাঁদের আবছা আলোয় আয়নার সামনে গিয়ে নিজের অস্পষ্ট মুখটা দেখে।মাথা নেড়ে বলে,’কই?এতোটাও তো বাজে নই আমি।’
___________________________________________
সামির বাড়িতে এসেছে আরো অনেকক্ষণ আগে।সে সোফায় বসে ছিল।হাবিবা চা হাতে সামনে এসে বললেন,’কিরে সামু?খাচ্ছিস না কেন কিছু?’
সামির নিচু গলায় বলল,’খেতে আসি নি খালামণি।এহতেশাম ভাইজানের সাথে কথা বলার জন্য এসেছি।’
হাবিবা বসলেন তার পাশের সোফায়।তার কাঁধে একটা হাত রেখে বললেন,’সে চলে আসবে এখুনি।তুই একটু বোস।’
এহতেশাম আসলো আরো বেশ কিছু সময় পরে।সামিরকে দেখা মাত্র সে ব্যস্ত কদমে এগিয়ে গেল।মুখে অমায়িক হাসি ফুটিয়ে ডাকলো,’কি ব্যাপার ইয়াং ম্যান?কতোদিন পর বাড়িতে আসলে।’
সামির ফিচেল হাসে।মাথা চুলকে বলে,’ভাইজান।পাশে এসে বসো।’
এহতেশাম কপাল কুঁচকায়।কুঁচকে থাকা মুখেই সামিরের পাশে গিয়ে বসে।সে কিছু বলতে শুরু করার আগেই সাবধান করে বলে,’খবরদার! ঐ অসভ্য টা কে নিয়ে কোনো কথা বলবি না।বাস্টার্ড একটা।’
সামির মুখ কালো করে বলল,’অভি ভাইজানকে নিয়ে কিছু বলতে আসিনি।তবে যেটা বলবো সেটার সাথে ভাইজানের একটা যোগসূত্র আছে।’
এহতেশাম ভ্রু উঁচিয়ে জানতে চায়,’সেটা কি?’
সামির শ্বাস ফেলে বলল,’নানুমণি বড্ড কান্নাকাটি করে ইদানিং।আমাদের খুব চায়।ছুটির দিন তো শেষ হয়ে যাচ্ছে।চলো না ভাইজান,আমরা আগের মতো কয়টা দিন নানুবাড়িতে কাটাই।কতোদিন এক ছাদে বসে আড্ডা দেই না আমরা।’
এহতেশাম তাকে দেখলো।একেবারে শীতল স্বরে জবাব দিলো,’তুই কি জানিস অভি যে চব্বিশ ঘন্টা আমাকে মে’রে ফেলার জন্য মুখিয়ে থাকে?’
সামির মাথা নামিয়ে নিল।চাপা স্বরে বলল,’জানি না ভাইজান।তোমাদের ঝামেলা আমার বুঝে আসে না।’
এহতেশাম আরো একটু ঝুকল।চাপা কন্ঠে বলল,’তুই কি জানিস আমার বাবার এই মুমূর্ষু অবস্থার জন্য সে দায়ি?’
সামির নিরব থাকলো।সে কি উত্তর দিবে?এতো রহস্যের ভীড়ে সে সত্য খুঁজে পায় না।শুধু ভেতর থেকে একটা কথাই মনে হয়,’সত্যিই অভি ভাইজান এমনটা করেছে?ভাইজান তো এমন না।’
এহতেশাম বলল,’যেই ছাদে তোর ঐ বাস্টার্ড ভাই বিড়ি টানে,ঐ ছাদে আমি আমার ভাই বোনদের নিয়ে বসতে চাই না।’
সামির দ্রুত তার দুই হাত চেপে ধরল।ভীষণ অনুরোধ করে বলল,’প্লিজ ভাইজান।মাত্র দু’টো দিন।আর কিছু চাইবো না।’
হাবিবা এক লাফে উঠে দাঁড়ালেন।আতঙ্কিত কন্ঠে বললেন,’এসব তুই কি বলিস সামির?এহতেশামকে আমি দুই দিন ঐ বাড়িতে থাকতে দিবো?আমি তো তার চিন্তায় ম’রেই যাবো।আমার একটা মাত্র ছেলে।অভি তাকে দুই দিন হাতের কাছে পেলে নির্ঘাত কিছু একটা করে ফেলবে।’
এহতেশাম শান্ত চোখে মায়ের দিকে তাকায়।একেবারে শীতল কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়ে,’ডু ইউ রিয়েলি থিংক আমি ঐ অকালকুষ্মাণ্ডের ভয়ে ঐ বাড়ি যাচ্ছি না?আমি কি তাকে ভয় পাই মা?হি ইজ সাচ আ বাস্টার্ড।ওর ওসব হুমকি তে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।আমি কেবল ঝামেলা এড়াতে চাই বলে তার মুখোমুখি হয় না।তার ওসব ছুরি চাপাতি আমার কাছে খেলনার মতোই লাগে।’
সে চোখ সরিয়ে সামিরকে দেখে।মুখে সামান্য হাসি ধরে রেখে জবাব দেয়,’সামির! তোরা সবাই কাল এখানে চলে আসিস।এখান থেকে নানুমনির বাসায় যাবো আমরা।নানুমনিকে আগে থেকে জানাস নে কিছু।একেবারে গিয়েই চমকে দিব।কি বলিস?’
চলবে-