কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে পর্ব-০১

0
599

কেন_মেঘ_আসে_হৃদয়_আকাশে
পর্ব-১
সুমাইয়া আমান নিতু

“কবুল বলো, জয়া। কাজী সাহেব অপেক্ষা করছেন দেখছো না?” কথাগুলো নরম স্বরে বললেও বলছে বলা হচ্ছে চিবিয়ে চিবিয়ে। জয়ার হাত কাঁপছে। ভেতরটা শুকিয়ে আসছে। বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনের শুরুটা এত জঘন্যভাবে হবে তা কোনোদিন কল্পনাও করেনি সে। তার মাথাটা সামান্য ঘুরছে। আরাফ চৌধুরী নামের লোকটা তাকে ধরে এনেছে ঘন্টা দুয়েক আগে। মাত্র দশ মিনিট আগে সে জানতে পেরেছে আজ তার বিয়ে। মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়লেও জয়ার কিছুই করার নেই। আরাফ চৌধুরীর ডান হাতটা পকেটে ঢোকানো। জয়া জানে সেখানে একটা ছোটো সাইজের রিভলবার আছে। সে কথা না শুনছে তাকে মে*রে লোকটা নিজেও আত্ম* হ* ত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে।

জয়া নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে কাঁপা হাতেই নিজের নাম সই করল। বিয়ে হয়ে গেল তাদের।

সই করার পর মালাবদলের জন্য আনা মালা দুটো দু’জনের হাতে ধরিয়ে দেয়া হলো। দু’জন সামনাসামনি দাঁড়িয়ে মালাবদল করতে গিয়ে এই প্রথমবার জয়া খেয়াল করল আরাফ চৌধুরী তার থেকে অনেক লম্বা৷ ছয় ফুটের বেশি না হয়ে যায় না। জয়া নিজেও খাটো নয়, পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে সে এতদিন নিজেকে স্ট্যান্ডার্ড হাইটের মনে করত। এখন আরাফ চৌধুরীর সামনে দাঁড়িয়ে সেই নিজেকেই লিলিপুট মনে হচ্ছে! আরাফ তার গলায় মালা পরিয়ে দিয়ে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মিটমিট করে হাসছে।

জয়া কয়েকবার চেষ্টা করল মালাটা ওর গলা দিয়ে গলিয়ে দেবার, কিন্তু সে যতবার মালা পরাতে যায় ততবার যেন আরাফ আরো মাথাটা উঁচু করে ফেলে। অগত্যা বিরক্ত হয়ে সে মালাটা হাতে শক্ত হয়ে মাথা গোঁজ করে দাঁড়িয়ে পড়ল।

আরাফ এবার একটা কান্ড করে বসল। সে দুই হাতে জয়াকে তুলে উঁচু করে ফেলে বলল, “এবার পরাও।”

কোনো লোক জয়ার এত কাছে কোনোদিন আসেনি। জয়ার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। ওর মুখটা আরাফের মুখের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আরাফের চোখে চোখ পড়তেই জয়া খেয়াল করল ওর পদ্মফুলের মতো চোখের মণি ঈষৎ নীল। নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ফরসা চওড়া কপালে কয়েকটা কালো চুল এসে পড়েছে। ওর গা থেকে পারফিউমের অসম্ভব সুন্দর ঘ্রাণ আসছে। জয়ার মনে হলো সে চোখের সামনে কোনো মানুষ নয়, যেন অন্যলোক থেকে আসা অপূর্ব কোনো সৃষ্টকে দেখতে পাচ্ছে। কই এর আগে কোনোদিন, কিংবা বিয়ের আগ মুহুর্তেও তো লোকটাকে এত সুন্দর লাগেনি! তবে কি এটা বিয়ের পর তৈরি হওয়া কোনো অদ্ভূত মোহনীয় আবেশ, যার কারনে একটু আগেও যার প্রতি ঘৃণায় শরীর বিষিয়ে যাচ্ছিল তার এত সুন্দর লাগছে?

আরাফ তার একটু ভুরু তুলে মৃদু স্বরে বলল, “কী দেখছো? মালা পরাবে না?”

জয়া যেন সম্বিত ফিরে পেল। সে মালাটা আরাফের গলায় পরিয়ে দিলে আরাফ তাকে নামিয়ে দিল। আরাফের যেসব বন্ধুবান্ধব এসেছিল সবাই হাততালি দিলে সেই শব্দে জয়া যেন এবার সত্যিকার অর্থে বাস্তবে ফিরে এলো।

বিয়ে সেরে জয়াকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল আরাফ। বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে দিল সেখান থেকেই। আরাফ ড্রাইভিং সিটে বসে পাশে বসা জয়ার দিকে চাইল।

“ম্যাম, সিটবেল্ট বেঁধে নিন।” কৌতুক মেশানো সুরে বলে উঠল আরাফ।

জয়া কথা না বলে বেল্টটা খুঁজতে শুরু করল। কিন্তু এত ভারি শাড়ি গয়না পরে বেল্টটা আটকাতে পারল না সে। আরাফ এবার ঝুঁকে এসে সিটবেল্ট আটকে দিল। আবারও ভীষণ কাছে চলে এসেছে লোকটা৷ নিঃশ্বাস বন্ধ করে রইল জয়া।

গাড়ি চলতে শুরু করল। জয়া চোখ বুজে সিটে হেলান দিল। মনে পড়তে লাগল আগের কথা।

আরাফের সাথে তার দেখা হয়েছিল এক বান্ধবীর বিয়েতে। ওরা সব বান্ধবীরা দলবেঁধে বিয়ে খেতে গিয়েছিল। ভীষণ মজা হচ্ছিল সেখানে। ওরা প্রাণখুলে হাসছিল, ঘুরছিল, ছবি তুলছিল, দুষ্টুমিও করছিল। বরের জুতো চুরি করে এনে লুকিয়ে রেখেছিল নিজেদের কাছে। আরাফ চৌধুরী ছিল বরের বন্ধু। সেদিন জুতো চুরির ব্যাপারটা নিয়ে বরের বন্ধুদের সাথে ওদের বেশ ঝগড়া হয়ে যায়। তবে আরাফ এসবের মধ্যে ছিল না। সে বরের পাশে চুপচাপ বসেছিল। তার মুগ্ধ দৃষ্টি সর্বক্ষণ পড়েছিল জয়ার দিকে। জয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারলেও অত পাত্তা দেয়নি। সেদিন সবাই বলছিল তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আর সুন্দর মেয়েরা এসব দৃষ্টিতে অভ্যস্ত৷ বিয়ের দিনটা ভালোই গেছে। ঝামেলা শুরু হয়েছে বিয়ের পরদিন থেকে।

আরাফ তার ফোন নাম্বার আর ফেসবুক আইডি জোগাড় করে তাকে ক্রমাগত কল আর মেসেজ দিয়ে জ্বালাতন শুরু করল। জয়ার কাছে লোকটার হাব ভাব একেবারেই ভালো লাগল না। তাই আরাফ যখন তাকে একেবারে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসল তখন জয়া সরাসরি তাকে না করে দিল। আরাফ তারপরেও পিড়াপিড়ি করতে থাকলে জয়া বলে দিল সে এনগেজড। সামনের মাসে তার বিয়ে। জয়া তখনো জানত না এই কথাটার কত বড় মাশুল তাকে দিতে হবে।

আরাফ ওর বিয়ের কথা শুনেও বলেছিল সে তার বাড়িতে কথা বলবে, বিয়ে আটকে দেবে। কিন্তু জয়া বলেছিল যার সাথে তার বিয়ে তাকে সে ভীষণ ভালোবাসে, কিছুতেই ছাড়তে পারবে না। আরাফ তারপর একেবারে চুপ হয়ে গেছে৷ জয়া ভেবেছিল লোকটা বোধহয় দমে গেল। কিন্তু তার ভুল ভেঙেছে আজ দুপুরে।

ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরছিল সে। বাস থেকে নেমে পাঁচ মিনিট হেঁটে তার বাসা। দুপুরে নির্জন পথ ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল তার পাশে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা শক্ত হাত তার কব্জি ধরে টেনে তুলে ফেলল গাড়িতে। তারপর মুখ আর হাত বেঁধে ফেলল। গাড়িতে মোট তিনজন ছেলে ছিল। তবে আরাফ বাদে বোধহয় আর কারো তাকে ছোঁয়ারও অনুমতি ছিল না। তাই তার ছটফটানি ঠেকিয়ে হাত মুখ বাঁধা সহজ ছিল না আরাফের জন্য। জয়া একটা কামড়ও দিয়েছিল আর কাঁধে। কিন্তু ঠেকাতে পারেনি। আরাফের তাতে কিছুই হয়নি। হাসিমুখে সে বসেছিল জয়ার পাশে। তখন গাড়ি চালাচ্ছিল আরাফের বন্ধু। আর ওরা দু’জন বসেছিল পেছনের সিটে।

তখনই আরাফ তাকে ভালোমতো বুঝিয়ে দিয়েছিল তার কথা না শুনলে কী পরিণাম হবে। জয়া ভয়ে এতটুকুন হয়ে গিয়েছিল।

ওরা গাড়িতে করে সোজা পৌঁছেছিল একটা শপিং মলে। সেখানে আরাফের এক মেয়ে বন্ধু উপস্থিত ছিল। ওদের বিয়ের শপিং করা হয়েছিল এরপর। পুরোটা সময় আরাফ পকেটে হাত দিয়ে রেখেছিল যেখানে রিভলবারটা আছে। জোরের মুখে পড়ে জয়া তার বিয়ের শাড়ি থেকে শুরু করে আরাফের শেরওয়ানি পর্যন্ত পছন্দ করেছিল৷ এরপর একটা পার্লারে গিয়ে শাড়ি পরে সাজগোজ করে ওরা উপস্থিত হয়েছিল কাজি অফিসে। জয়া এতটাই নার্ভাস ছিল যে সে এটাও বুঝতে পারেনি যে আরাফ তাকে সোজা বিয়ে করতে নিয়ে আসবে। সে ঘুরছিল ঘোরগ্রস্থের মতো।

এখন আরাফ গাড়ি চালাচ্ছে ঘন্টায় নব্বই কিলোমিটার বেগে। হাইওয়ে ধরে ছুটছে গাড়ি। কোথায় যাচ্ছে কে জানে! হয়তো নিয়ে যাবে কোনো পোড়োবাড়িতে। তাকে নিয়ে নতুন খেয়ায় মেতে উঠবে। তারপর ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কিংবা নিজের সাধ পূরণ হয়ে গেলে খু*ন করবে!

_____________________

“এইযে ম্যাম, আর কতক্ষণ ঘুমাবেন? চলে এসেছি আমরা।”

চোখ খুলে জয়া দেখল চারদিকে আঁধার নেমে আসছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে আকাশে লালচে আবির ছড়িয়ে। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল টেরও পায়নি সে। আরাফ গাড়ি থেকে নেমে ওর পাশে এসে দরজাটা খুলে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নামল জয়া।

একটা বিশাল বাড়ি চোখে পড়ল। সন্ধ্যার আঁধার মুছে দিতে বাড়ির বাগানে জ্বলে উঠেছে সাদা বৈদ্যুতিক বাতি। সেই বাতির আলো সন্ধ্যার লালচে আকাশের মোহনীয়তা ম্লান করতে পারেনি একটুও, তবুও আলোটা বাড়াবাড়ি লাগছে। রাতের বেলা দিনের মতো আলোর কী প্রয়োজন? লনে প্রচুর ফুলের গাছ। সেগুলো তাদের রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে বড় মায়া জড়িয়ে।

আরাফ একটা হাত বাড়িয়ে দিল জয়ার দিকে। বলল, “এসো জয়া। আরাফ চৌধুরীর প্রাসাদে স্বাগতম!”

আরাফের হাত ধরে ভেতরে ঢুকল সে। সুদৃশ্য বসার ঘর। মাঝখানে গোল করে সাজানো সোফাসেট। তার মাঝে স্বচ্ছ সেন্টার টেবিলের ওপর একটা কাচের ফুলদানিতে সাজানো তাজা ফুল। ঘরের দেয়ালজুড়ে নানা রকমের পেইন্টিং ঝুলছে। একটা দেয়ালের সাথে লাগোয়া বিশাল একুরিয়ামে রঙ বেরঙের মাছেরা খেলছে। দুটো বড় বড় জানালা দিয়ে বাইরের লন দেখা যাচ্ছে। একপাশে একটা ঘোরানো সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়।

এমন বাড়ি সিনেমায় দেখেছে জয়া, বাস্তবে এই প্রথম দেখল। ওরা ঢুকতেই কিছু কাজের লোক এগিয়ে এলো। আরাফ তাদের খাবার তৈরি আর তার ঘরটা বাসর ঘরের মতো সাজিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল আগেই৷ তারা জানালো সব ঠিকঠাক আছে। আরাফ তাদের বিদায় করে দিল। জয়াকে নিয়ে সোজা চলে গেল বেডরুমে।

বেডরুম দেখে চোখ কপালে উঠল জয়ার। পুরো ঘর লাল গোলাপময় হয়ে আছে। সাথে ছোটো ছোটো অসংখ্য মোমবাতি জ্বলছে। আরাফ আগে ঢুকল ভেতরে। একটা হাত বাড়িয়ে দিল জয়ার দিকে। জয়া নিজের হাত দিল না। তার এই ঘরে ঢুকতে ভয় লাগছে৷ এই লোকটার সাথে রাত কাটাতে হবে ভেবে গা গুলিয়ে আসছে। লোকটাকে সে ঠিকমতো চেনেও না!

আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল জয়া। আরাফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হলো জয়া? এতক্ষণ তো ভালোই ছিলে। তবে?”

জয়া দাঁড়িয়েই রইল। কোনো কথা বলল না।

“জয়া!”

জয়া সাড়া দিল না।

“তুমি ঢুকবে না?”

এবারও কথা বলল না জয়া।

আরাফ এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “আরাফ চৌধুরী ‘না’ শুনে অভ্যস্ত নয়। বিয়ে করবে না বলেছিলে, করে ছেড়েছি৷ আর বাসর করতে পারব না ভেবেছ?”

আরাফের স্বরে কী যেন ছিল যে চমকে তাকাতে বাধ্য হলো জয়া। ওকে এখন মানুষ নয়, কোনো হিংস্র জন্তু মনে হচ্ছে।

আরাফ এগিয়ে এলো জয়ার দিকে। ওর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তারপর দুই হাতে কোলে তুলে নিল ওকে। জয়া চিৎকার করতে গিয়েও করতে পারল না। কে যেন গলা চেপে রেখেছে তার।

আরাফ ওকে এনে বিছানায় ফেলল। নিজের শেরওয়ানি একটানে খুলে ফেলল সে। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল জয়ার ওপর। ওর গায়ে যেন অসুরের শক্তি ভর করেছে এখন। সেফটিপিন দিয়ে আটকানো শাড়িটা পাগলের মতো টেনে খোলার সময় ছিঁড়ে যেতে থাকল। গয়নাগুলো খোলার সময় অধৈর্য হয়ে গেল আরাফ। রাগ দেখাতে থাকল যেন নিজের ওপরেই, কেন এত গয়না কিনতে গেলাম! অসহ্য! এত গয়না মানুষ পরে! উফ!

দামী স্বর্ণের গয়নাগুলো খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলতে লাগল সে। তারপর যখন জয়া শুধু একটা ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে জড়োসড়ো হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, তখন হাসি ফুটল আরাফের মুখে।

ওর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “তুমি জানো জয়া, তুমি কত সুন্দর? চাঁদের মতো সুন্দর তুমি। তোমার গায়ে কোনো কলঙ্ক লাগাতে চাই না বলেই বিয়ে করে তবেই তোমার কাছে এসেছি। আমি তোমার স্বামী জয়া। আড়ষ্ট হয়ে থেকো না। উপভোগ করো। আমি যেমন তোমাকে আদর করছি, আমাকেও আদর করো জয়া।”

জয়া স্বাভাবিক হতে পারল না। তার মনে হতে থাকল তার ওপর যেন কোনো হিংস্র জন্তুর ঝাঁপিয়ে পড়ে খুবলে নিচ্ছে সব বোধ, সব প্রাণশক্তি। একসময় সে কাঁদতে শুরু করল। চোখ বেয়ে গড়াতে থাকল নোনা জল।

ওর কান্নার শব্দেই যেন মাঝপথে থেমে গেল সেই অসুরিক শক্তি। জয়ার মুখটা দুই হাতে তুলে সে বলল, “তুমি কাঁদছ কেন জয়? কষ্ট হচ্ছে তোমার?”

জয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ওর কাঁপা ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালো আরাফ। ভীষণ আদুরে কায়দায় চুমু খেল সে। এই প্রথমবার জয়ার মন ভালোলাগার ছোঁয়া পেল। আরাফের হাতদুটো এখন অনেকটা ধীরস্থির, আদুরে ভঙ্গিতে বিচরণ করছে ওর শরীরজুড়ে। আস্তে আস্তে ভালোলাগা ছড়িয়ে যেতে থাকল ওর সারা শরীরে। প্রতিটা রোমকূপে শিহরণ বয়ে যেতে থাকল। এবার সত্যিই যেন উপভোগ করতে শুরু করল জয়া।

(চলবে)