#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১০)
সায়লা সুলতানা লাকী
দাদি যখন অর্নির রুমে ঢুকলেন তখন অর্নি ওর মায়ের পাশে বসে ছিল। দুজনই বেশ চিন্তিত বলে মনে হচ্ছিল। দাদি রুমের দরজাটা আটকাতেই দুজনের ধ্যানই গেল দাদির দিকে। বোঝা গেলো দুজনই বেশ অবাক হয়েছে তার এই কাজে। কিন্তু কেউই মুখ খুলল না বরং দেখতে লাগল অর্নির দাদি এরপর কী করেন।
দাদি এসে বসলেন অর্নির মায়ের পাশে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন
— সাক্ষাৎ সোনা ফেলে তুই কী জিনিস আঁচলে নিয়ে গিট দিলি তা আমাকে দেখা। আমিও দেখি তুই ওই অপদার্থের মধ্যে এমন কী পেলি, যে এমন সোনা সামনে পেয়েও হাত ছাড়া করলি। ভুল হলে মানুষ শুধরে নেয়। তুই তো তোর ভুলটাও বুঝলি না এদিকে সোনাটাও হাত ছাড়া হয়ে গেল। আহ্হা, আমি তো আফসোস করে করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিব।
দাদির কথায় অর্নির আম্মু ও অর্নি দুজনই আরো বেশি অবাক হলেন। উনি এসব বিষয় জানলো কীভাবে? কে জানালো? এখানে বসে মা ও মেয়ে এই চিন্তাই করছিল যে কীভাবে ফয়সালের কথাটা পরিবারকে জানাবে? কীভাবে ওর দাদিকে বোঝাবে। ওর দাদি পুরোনো আমলের চিন্তাচেতনার মানুষ, উনি কীভাবে নিবেন ফয়সালের মায়ের বিষয়টা। কিন্তু এখন বুঝল যে ইতিমধ্যে উনি বিষয়টা জেনে গেছেন।
অর্নির দিকে তাকিয়ে ওর দাদি ভ্রু নাচিয়ে যখন উত্তর জানতে চাইলেন তখন অর্নি ধপ করে তার হাত দুটো ধরে তার পায়ের কাছেই বসে পড়ল।
— দাদি তুমি ফয়সালকে একবার দেখো, একবার কথা বলো তাহলে বুঝবে ও নিজেও একটা সোনা। আমি সোনা ফেলে সোনা দিয়েই আঁচলে গিট বেঁধেছি তখন বুঝবে।
— সোনা না ছাই, যে সন্তানের ওর মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব বুঝতে, মায়ের কদর কীভাবে করতে হয় তা জানতে বিশ বছর লাগে সে বুঝবে পরের মেয়ের কদর! আর আমাকে বোঝাতে হবে না। তুই যখন ডুবেছিস তখন আর আমার কোনো কথা নেই । বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যার মতামত বড় জরুরি বিষয়।
— দাদি তুমি ফয়সালের মায়ের পূর্বের ইতিহাস জানো? তুমি তা মেনে নিয়েছো? আম্মুকে বোঝাতে আমার অনেক কষ্ট হল, আর তুমি….
বলে অর্নি খুশিতে কেঁদে ফেলল।
— হুমম, জানালো তো ওই ছেলে। কত কত নাটক করে, কথার মারপ্যাচে ফেলে সব বুঝিয়ে ছাড়ল। বুদ্ধি আছে বলতে হবে ছোকড়ার। অল্প বয়সী এক বিধবার আবার বিয়ে করাকে না মানার কী আছে? যারা মানেনি তারা ভুল করেছে। এটা তো আল্লাহরই বিধান। তুমি কোরআনের কিছু অংশ মানবা আর কিছু মানবা না তাইলে তো তুমি পাক্কা মুসলমান হলে না। আল্লাহর হুকুমরে অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই মুসলমানের। আমার এক পা চলে গেছে কবরে। এখন আরেক পা নিয়ে চলে খাচ্ছি দুনিয়ায়, কখন ডাক আসে তা কে জানে। এমন সময়ে কে রিস্ক নিতে চাইবে? মৃত্যু সামনে আসলে সবাই ধর্মকর্মে ডুবে। আর আমি কি না ওই মহিলার বিয়েরে না মেনে দোজখে যাবো! এত বোকা আমি না।
— আম্মা…
— তুমি বিষয়টা জানতা? তাহলে আমারে জানাও নাই কেন?
— বিশ্বাস করেন আম্মা আমি গতকালই জেনেছি সবটা। আপনাকে কীভাবে জানাবো তাই ভাবছিলাম। আমি তো একটা ব্যর্থ মা। সন্তানের সঠিক লালন পালন করতে পারিনি। আমার কারণে পুরো পরিবারের মুখে চুনকালি পড়ল।
— হয়েছে থামো। তুমি সংসারের বড় বৌ। এইসব কথা হজম করতে শিখছো তো এতদিনে। এক সাথে থাকতে গেলে এসব দুই চার তিতা কথা হজম করা লাগে। রাগের মাথায় তোমার দেবরদের সাথে আমিও দুই চার কথা বলেছি এগুলি ভুলে যাও। এখন মেয়ের সমস্যা সমাধানে মাথা খাটাও। ওই ছেলেরে আসতে বলো, তার সাথে কথা বলি। বিয়েশাদির ব্যাপার, এটা তো ছেলেখেলা না।
— কিন্তু দাদি সেখানেও তো সমস্যা? ফয়সালের আম্মু তো তার মেয়ের কাছে গিয়েছেন। তার মেয়ের একটা ছেলে হয়েছে, এই অবস্থায় উনি এখনই আসবেন কীভাবে?
— তাহলে ছেলেরেই আসতে বল, এভাবে তো আর ঝুলিয়ে রাখা যায় না। তোর বিয়ের বাজনা যখন বেজেছে এই বাজনাতেই তোর বিয়ে হোক। এই তাল কাটিস না। আহা কী সোনার ছেলে হাত ছাড়া হল আমার…
— হাত ছাড়া হল কোথায়? ওই সোনার ছেলেকে তুমি…
অর্নি থেমে গেল ওর মায়ের ইশারায়। উর্মির কথাটা আর বলল না। কিন্তু ওর থেমে যাওয়াকে ওর দাদি মেনে নিলেন না তাই তাড়া দিয়ে বলে উঠলেন
— মায়ের ইশারায় থামলি কেন? বল, কী বলতে চেয়েছিলি? ওই ছেলের জন্য আফসোস আমার সবসময় থাকবে।
— না মানে তোমার যখন এতই পছন্দ তাহলে তুমিই বিয়ে করো না ওই সোনার ছেলেকে। বলে হিহিহি করে হেসে উঠল অর্নি।
— সব গুলি দিনদিন শয়তান হইতেছে। এত হাসির কী হল? মৃদুলও আমার রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে হাবুডুবু খেতে চেয়েছিল আমি পাত্তা দেইনি বলে রক্ষা পেলাম। বয়সের তো একটা লেহাজ করবি?
শেষ কথায় এবার অর্নির মা-ও হেসে ফেললেন অর্নির সাথে।
রাতে খাবারের সময় অর্নির মায়ের উপর বেশ চাপ পড়ে সবাইকে বেড়ে খাওয়াতে। তাই সবার খাওয়া শেষ হলেও তিনি উঠেন সবার পরে। আর কেউ না থাকলেও সে সময়ে অন্তত অর্নি বা উর্মি থাকে। আজ অর্নি দ্রুতই খাওয়া শেষ করে উঠে গেল। ওর তাড়া দেখে উর্মিই বসল। মায়ের হাস্যোজ্জ্বল চেহারার দিকে তাকিয়ে একটু খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করল
— কী ব্যাপার বলো তো আম্মু, তোমাকে আজ বেশ খুশি খুশি লাগছে?
— সকালে দাদিকে নিয়ে যাওয়ার কারণটা অন্তত আমাকে বলতে পারতি।
— উঁহু পারতাম না। তুমি টেনশন করতা। ইদানীং তোমার অবস্থা কী হয়েছে তা আয়নায় দেখেছো একবারও?
— সন্তান হোক তখন বুঝবি….
— ব্লা, ব্লা, ব্লা…. এরপরেরটুকু শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে গেছে। কষ্ট করে না বললেও চলবে।
— ছেলেটার কাছে ঋনি হয়ে গেলাম। ওর জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি।
— কী দোয়া করো আম্মু?
— ওকে বলিস আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ।
— ওকে বলব। এখন উঠি, ঘুমাতে যাই।
উর্মি উঠে গেল ওর মায়ের খাবার শেষ হতেই। ওর খুব ভালো লাগছিল যখন ওর মা মৃদুলের গুন গাচ্ছিল। ওর চোখেমুখে যদি সেই ভালোলাগা উছলে উঠে তবে ওর মায়ের চোখ এড়াবে না। সহজভাষায় ও ধরা পড়ার ভয়েই উঠে পালালো।
আজ অর্নির মন খুব ভালো। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফয়সালের সাথে কথা বলছে মোবাইল কলে। কখনো হাসে, কখনো ঝগড়া করে আবার কখনো কাঁদে। এর মধ্যে আর উর্মির ঘুম হয় না তাই বিরক্ত হয়েই উঠে বারান্দার রকিং চেয়ারে গিয়ে আশ্রয় নিল। অজানা কোনো এক কারণে ওরও মন ভালো। কারণটা কী সত্যিই অজানা? কপাল কুঁচকে নিজেকে একবার প্রশ্ন করে আবার হেসে নিজেকে উত্তর দিল “হবে হয়ত আপুকে এতদিন পর স্বাভাবিক আচরণে দেখছি সেই কারণেই এত আনন্দ লাগছে।” এরপর আবার প্রশ্ন জাগল মনে। “শুধু কী তা-ই ?”
এবার উত্তরটা দিতে গিয়ে ঠোঁটটা কেঁপে উঠল, অস্ফুটস্বরে শুধু বলল “মৃদুল”। আর কিছু বলতে পারল না। কথা সব জড়িয়ে যেতে লাগল মনের মধ্যে। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু মৃদুলের আড় চোখে লুকিয়ে ওকে দেখার প্রতিটা মুহূর্তের অনুভূতিগুলোই ওর মনকে রাঙিয়ে দিতে লাগল।
হঠাৎ মোবাইলের রিংটোনটাকে বেশ বেরসিক বলে মনে হল। আর সময় পেলো না বেজে উঠার। কী সুন্দর করে এই মুহুর্তে ভাবনায় মৃদুলের সাথে ভার্সিটির ওই রাস্তার পাশে বসে খোলা আকাশের পানে চেয়ে জোছনা দেখছিল। দুজনের মুখেই কোনো কথা ছিলো না তবে দুজনের হাতেই চা ওয়ালা মামার মালাই ভাসানো গাঢ় লিকারের ধোঁয়া উঠানো চায়ের কাপ ছিল।
“ভাবনার নাও, আকাশে উড়াও, এই রাতে ওই পথে জোছনা দেখতে গিয়েছিলাম কোন আক্কেলে? আর চা ওয়ালা মামার চা পেলাম কোত্থেকে? ” কথাটা আনমনে বলেই ফিক করে হেসে ফেলল। এরপর মোবাইলটা হাতে তুলে নিল।
স্ক্রিনে চোখ পড়তেই আবার মনটা আকুপাকু শুরু করল রিসিভ করার জন্য । একবার রুমের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখে দ্রুত কলটা রিসিভ করল। অর্নি গল্পে মশগুল এখন আর উর্মি কার সাথে কথা বলে তা শোনার জন্য কান পাতবে না।
— হ্যালো
— হুমম, বাসার অবস্থা কী?
— স্বাভাবিক।
— দাদি বাসায় গিয়ে কিছু বলেনি?
— অর্নি আপুকে বলেছে ফয়সাল ভাইকে এ বাসায় আসতে বলতে। দাদি তার সাথে কথা বলবেন।
— আর আন্টি?
— আপু আম্মুকে গতকালই বলেছে।
— ব্যাস ঝামেলা তাহলে মিটলো।
— এখনো পুরোপুরি না।
— দাদি ফয়সাল ভাইকে পছন্দ করতে পারছে না। যে কোনো সময়…
— আরে ধুর, তেমন কিছু হবে না। ফয়সাল ভাই যখন যাবেন সেভাবেই যাবেন। ওসব নিয়ে চিন্তা করবেন না।
— ভালো ভালোই সব ঠিক হলেই শান্তি।
— উফফ এত হতাশার সুরে কথা বলা বন্ধ করেন। বারান্দায় যান। খোলা আকাশটা দেখেন। কী সুন্দর জোছনা ছড়িয়েছে চাঁদ তা উপভোগ করেন। পারলে এক মগ চা নিয়ে যান।
উর্মির মন কেঁপে উঠল। মনে মনে বলে উঠল, “এই লোক এসব কী বলছে? সে কি তবে আমার মন পড়তে পারছে? কী ভয়ংকর কথা? এই লোক যদি এসব জানতে পারে তবে আমার আর রক্ষা নেই। ভুলেও তাকে আমার মন পড়তে দেওয়া যাবে না।”
উর্মিকে চুপ থাকতে দেখে মৃদুল আবার বলে উঠল
— কী হল আপনার? কিছু বলছেন না কেন? বুঝেছি প্রেমে পড়েছেন?
— মানে? কী আবোল তাবোল বলছেন? কার প্রেমে পড়ব?
— রেগে যাচ্ছেন কেন? প্রকৃতির প্রেমে পড়েছেন বলেছি। এই যে দেখেন আমি পড়েছি। হালকা ঠান্ডা হাওয়ায় বারান্দায় বসে জোছনার সাথে প্রেম করছি। শুধু পাশে চা নেই। চা-টা খুব মিস করছি।
— প্লিজ এই রাতে, এই সময়ে আবার পাওনা চা চেয়ে বসবেন না। এটা কিন্তু ইম্পসিবল।
— আপনি কী ভেবেছেন আমি চেয়ে বসব?
— বসতেও পারেন? আপনাকে দিয়ে কোনো কিছুই অসম্ভব না।
— উঁহু, আপনি আমার তেমন কোনো বিশেষ কেউ না। ঠিক এই সময়তে কেবল নিজের বিশেষ কেউ থাকলেই তার কাছে আবদার করা যায়। সবার কাছে না।
— তাহলে যে বিশেষ তার কাছেই চান, আমাকে শোনাচ্ছেন কেন?
— এখনো বিশেষ কেউ হয়নি, জায়গাটা খালি আছে…
— তো! তো কী ভাবছেন আমি এই কথা শুনে দৌড়ে গিয়ে ওই খালি জায়গায় গিয়ে বসে পড়ব?
— হা হা হা, বসবেন নাকি? ইচ্ছে থাকলে বলেন…
— আপনি একটা অসভ্য, অভদ্র সাথে আরও কিছু। আমি আপনার সাথে আর কথাই বলব না। আপনি আমাকে অর্নি আপু ভেবেছেন?
— হা হা হা, মজা করলাম আপনার সাথে। মোটেও না, আমি জানি আপনি এসব শুনতে অভ্যস্ত না।তবুও বললাম যাতে ক্ষেপে যান। বাট এখন আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আজ দাদির সামনে আপনাকে ফ্যাকাশে লেগেছিল ঠিকই তবে এখন মানে আপনি রাগলে দাদিকে বরং ফ্যাকাশে লাগবে আমি নিশ্চিত।
— এই আপনার সমস্যা কী?
— কোনো সমস্যা নাই। আজ এক পাত্রী দেখে এলাম, পছন্দ হয়নি। মেয়েটা সাম হাউ শুনেছে আমি সাদা রং পছন্দ করি, আর তাই সে পুরো সাদা হয়ে এসেছিল আমাদের সামনে। বিশ্বাস করেন অর্নি আপু ছিল পেত্নী আর এই মেয়ে ছিল ভূত। সাদা সবার উপর যায় না। এইটুকুও মেয়েটা বুঝল না।
— আপনার লজ্জা লাগে না এভাবে বিয়ের কথা বলে পাত্রীর নামে মেয়ে দেখে বেড়াতে? অসহ্য একটা মানুষ আপনি।
— সারাজীবনের ব্যাপার, না দেখে কীভাবে কারো গলায় মালা পরাই। পরে না আবার সেই মালা আমার গলায় ফাঁসি হয়ে ঝুলে।
— আপনার কথা শেষ না-কি আরো বিরক্তিকর কিছু শোনাবেন?
— নাহ, আহ আর কিছু শোনাবো না। তবে…
— তবে কী?
—- ফয়সাল ভাইয়ের অফিসে যাবো পরশু। চাইলে যেতে পারেন আমার সাথে।
— আচ্ছা যাবো। এই কথাটুকু বলতে এত নাটক? দাদি ঠিকই বলেছে আপনি একজন পাক্কা নাটক বাজ।
— আচ্ছা শোনেন, লাস্ট একটা কথা–
— আবার কী?
— প্লিজ একটু রোমান্টিক হোন। বারান্দায় যান জোছনায় ভিজে আসুন, মন ভালো হয়ে যাবে। শিওর প্রেমে পড়ে যাবেন।
— আমি প্রেমে পড়ি না।
— ভয় পাচ্ছেন কেন? আমার প্রেমে পড়তে বলিনি, প্রকৃতির…
— উফফ রাখেন এখন। আছে শুধু প্রেম নিয়ে..
— গিয়েই দেখেন না, এরপর গুনগুন করবেন “আমি তো প্রেমে পড়িনি… প্রেম আমার উপর পড়েছে…”
— হিহিহি
— হাসলেন মনে হল?
— বেসুরে গান গাইলে মানুষ হাসেই।
— সুরে গাইব?
—- আপনি গানও গাইতে পারেন?
—- উঁহু পারি না। তবে কেউ শুনতে চাইলে গাইব।
— দোহাই আল্লার, আজকে আর না। আমার শ্রবণশক্তির উপর আর কোনো অত্যাচার আজ সইব না। রাখেন এবার, আমি ঘুমাবো।
— আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। আগাগোড়া পুরোটাই আনরোমান্টিক…..
— থাকেন আপনার রোমান্টিক মুড নিয়ে, বাই।
কলটা কেটে উর্মি ফিক করে হেসে ফেলল। হাত বাড়িয়ে দিল জোছনা ছোঁয়ার জন্য। দুচোখ বন্ধ করে বারান্দার গ্রীলের বাহিরে দুই হাত মেলে ধরে গাল পেতে দিল জোছনার আলোয় নিজেকে ডুবাতে। আজ ওর মন ভিজবে ভরা জোছনার জোয়ারে। আজ সবভুলে আনমনে গেয়ে উঠলো গুনগুন করে—
প্রেমে পড়া বারণ,
কারণে অকারণ
আঙুলে আঙুল রাখলেও
হাত ধরা বারণ।
প্রেমে পড়া বারণ।…..
চলবে