চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-১৩

0
167

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১৩)
সায়লা সুলতানা লাকী

ওখানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারল না মৃদুল। অর্নির দাদির ডাকে ওকে সরে আসতে হল।
— একে তো ছোকরা এত দেরি করে এসেছে, তার উপর এখন সময় নষ্ট করছে। কইরে উর্মি এখন কেক আন কাটাকাটি শেষ কর। কাজি সাহেব কতক্ষণ আর অপেক্ষা করবে? উনি কী কেক না খেয়েই চলে যাবেন? উনার তো তাড়া আছে, কেকটুকু খেয়েই যাবেন আরেক বিয়ের কাজে…
— উফফ থামোতো দাদি, একটু সময় দাও।
বলে উর্মি তাকে থামিয়ে দিলেন। নয়ত তিনি আর কিছু শোনাতেন। মনে হচ্ছে উনি একাই সব কাজ করছেন, বড় বেশি ব্যস্ত তিনি নাতনির বিয়েতে।

কাজি সাহেবের কথা শুনে মৃদুল আরো বেশি সারপ্রাইজ হল। বুঝল আজই ফয়সাল আর অর্নির আকদ হয়েছে । বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মনটা আরও আনন্দিত হল। অর্নির ভালোবাসা অর্নি পেয়ে গেল এর চেয়ে ভালো কিছু আর কী হতে পারে ওর জন্য। আজ ওর চোখে মুখে সেই আনন্দই যেন উছলে পড়ছে।

অনুষ্ঠানকে আগে বাড়তে দিতে হবে কিন্তু ওর কেন যেন কিছুক্ষন ফয়সালকে বুকে জড়িয়ে রাখতে ইচ্ছে করছে। অবশেষে মানুষটা নিজেকে শুধরে নিয়েছে। মা বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্কটা মানিয়ে নেওয়ার হয় না, ওটা জন্মজন্মান্তরের বন্ধন। ওখানে দায়সারা বিষয়টা বড়ই বেমানান। ওখানে যা থাকে তা হল ভালোবাসা, মমতা, শ্রদ্ধা ভক্তি, শাসন আর দোয়া।
একটা ঘোরের মধ্যেই ছিল মৃদুল হঠাৎ খেয়াল করল উর্মি কেক নিয়ে এল একটা ট্রলিতে বসিয়ে। ভাব দেখেই বুঝল ও খুব ব্যস্ত। এদিক ওদিক তাকানোর তেমন কোনো ফুরসৎ মিলছে না যেনো কাজের চাপে। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মৃদুলই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওকে দেখে নিল। মেয়েটা বুঝি আজ তৈরি হয়ে এসেছে যে করেই হোক আজ মৃদুলের মনের বাধ ভেঙে তবেই ছাড়বে। কি সাংঘাতিক রকমের সুন্দর লাগছে আজ ওকে। পরক্ষণেই মনটা অস্থির হয়ে উঠল এই সাজে উর্মিকে একবার ওর আম্মুকে দেখানোর জন্য । উনি এই বেশে উর্মিকে দেখলে পুত্রবধু করতে উড়ে উড়ে চলে আসবেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? এখন যে ওকে অভিমানী চেহারা ফুটিয়ে রাখতে হবে, না হলে যে লেনদেন চুকিয়ে ফেলার কথা বলে যে কষ্টটা মৃদুলকে দিয়েছে তার শোধ নেওয়া হবে না।

উর্মি আজ একটা সাদা জামদানী শাড়ি পরেছে। বোনের বিয়ে উপলক্ষে বহু খুঁজে খুঁজে এই শাড়িটা ও পছন্দ করেছে। বাসায় আনতেই ওর দাদি খুব রাগ করেছিলেন, প্রথম কথাতেই বলেছিলেন “জীবনের প্রথম শাড়ি কিনলি নিজের জন্য তা-ও আবার সাদা?”
উর্মি এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে দাদির সেই কথাকে । কী করে বোঝায় ও, ওর যে আজ একটা সাদা শাড়ির’ই দরকার।
আজ খোঁপায় দুইটা সাদা গন্ধরাজ ফুলও গুঁজেছে। ছাদে উঠে নিজে গাছ থেকে ছিড়ে এনেছে যে কি না গাছের ফুল অন্যকেউ ছিঁড়লে রেগে যায়। আজ নিজেকে সাজাতে গিয়ে মনে হল সাদা ফুল ছাড়া ওর সাজ অসম্পূর্ণ। মৃদুলের সামনে নিজেকে অসম্পূর্ণ রূপে দাঁড় করাতে ওর মন সায় দিল না। আর তাই তো এমন ভয়ংকর কাজটিও ও করে ফেলল নিজেরই অজান্তেই।

এত সেজে কী লাভ হল? দরজায় দাঁড়িয়ে থেকেও মৃদুলের চোখে পড়ল না ও। মৃদুল একবার ফিরেও তাকিয়ে দেখল না ওকে আজ কেমন লাগছে। “এমন করে বুঝি কেউ কারো মন ভাঙে?” প্রশ্নটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে করে আবার কাজে ডুবতে হয়েছে কষ্টটুকু মনে চেপেই। বোনের বিয়ে বলে কথা, এখানে তো হাত গুটিয়ে রাখা যায় না।

কেক কাটার সময় ফয়সাল আর অর্নি মৃদুলকে ডেকে ওদের পাশে দাঁড় করালো জোর করে। ওখানে ফয়সালের মা বোন অর্নির মা, দাদি, উর্মি আগেই দাঁড়িয়েছিল এর মাঝে মৃদুল যেতে আপত্তি করেছিল সংগত কারণেই। কিন্তু তা ফয়সাল মানল না। উর্মি ভেবেছিল মৃদুল এবার নিশ্চয়ই ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে কিন্তু না ও গিয়ে দাঁড়ালো ফয়সালের বোনের পাশে। উর্মি একটু বিরক্ত হলেও তা প্রকাশ না করে ছবি তোলার সময় এক ফাঁকে অবস্থান পরিবর্তন করে মৃদুলের পাশে চলে গেল। মৃদুল ওর ভেতরের ছটফট অবস্থাটা টের পেয়ে আর একটু বেশি মজা নিতে পাশ থেকে দাদিকে টেনে এনে ওদের মাঝে দাঁড় করিয়ে দিল ঠিক কেক কাটার সময়। এরপর যখন ফটোসেশান শুরু হল তখন মৃদুল আস্তে করে সরে এল ওই ভীড় থেকে। কেক কাটার কাজ শেষ হতেই মৃদুল একটু দূরে সরে এসে ওদের বারান্দায় চলে এল। যেখানটায় ও প্রথম দেখেছিল উর্মিকে। এখানটাও খালি নেই। ছোট ছোট বাচ্চারা পাখির খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে পাখির সাথে খেলছে। তারপরও কেন যেন এখানেই থাকতে ভালো লাগল ওর। আজ ইচ্ছে করেই বেতের দোলনাটায় বসল। ভেতরে কেক খাওয়ার ধুম পড়েছে। হৈহল্লায় বেশ মেতেছে মুরুব্বিরা। বারান্দায় বসেই কথা শুনে পরিস্থিতি বুঝে নিচ্ছল মৃদুল।

একটু পরেই উর্মি এল কেক নিয়ে ওর জন্য। পিরিচটা এগিয়ে দিতেই মৃদুল খাবে না বলে ইশারায় জানিয়ে দিল। উর্মি এত সহজেই মেনে নেওয়ার মানুষ না, তাই ও ফিরিয়ে দেওয়ার পর ও আবারো পিরিচটা ওর মুখের সামনে ধরল।
এবার মৃদুল মুখে বিরক্ত ফুটিয়েই বলল
— স্যরি, বোঝাতে পারিনি মনে হচ্ছে। আমি খাব না।
— কেনো? আপনি বুঝি কেক খান না?
উর্মিও একটু রেগেই প্রশ্ন করল।
— সেটা আপনাকে বলতে আমি বাধ্য না।
— আজব! আচরণ এমন করছেন যেন আমি–
আর কিছু বলতে পারল না এরই মধ্যে ওর ভাবি সাথে করে আরও দুজনকে নিয়ে বারান্দায় ঢুকল।
— এ কি আপনি এখানে? ওখানে দাদি তো আপনাকে খুঁজে হয়রান! আর উর্মি তুমিও মেহমান সবাইকে কেক না দিয়ে এখানে চলে এসেছো? যাও ভেতরে যাও।
— স্যরি, আসলে ভেতরে সব আপনাদের লোক, আর আমি একেবারেই বাহিরের..
— আরে কি বলেন আপনি? আপনি বাহিরের হলেন কীভাবে? এই বিয়ের আপনিই তো সব হর্তাকর্তা।
— জি মানে?
— হিহিহি, মানে আবার কী? আমরা তো ভেবে ভেবে ক্লান্ত হয়ে গেলাম আপনার ভূমিকা বিশ্লেষণ করে। হাউ ফানি! নিজের জন্য পাত্রী দেখতে এসে অবশেষে সেই পাত্রীরই ঘটক বনে যাওয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা না।
— ঘটক? জি বুঝলাম না।
মৃদুল বেশ অবাক হল উর্মির ভাবির কথায়, কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই উর্মি ইশারায় কিছু বলতে নিষেধ করল। মৃদুল বুঝে গেল এখানে কোনো ঘাপলা আছে। তাই পরিস্থিতি বোঝার জন্য আপাতত বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইল। ভাবিদের উদ্দেশ্যে একটু মুচকি হেসে বলল
— আসলে অর্নি আপুকে প্রথম দেখেই বুঝেছিলাম উনি আমার জন্য নয়, তাই….
— আচ্ছা মিস্টার মৃদুল একটা কথা জানার জন্য মনটা আকুপাকু করছে, প্লিজ কিছু মনে করবেন না। প্রশ্নটা করেই ফেলি কি বলেন?
— জি করুন।
— না মানে আপনার ফিলিংসটা আপাতত কেমন? আপনার পাত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দিতে কেমন লাগছে?
— আজব! ভাবি তুমি এত মিন কেন? সামান্য ভদ্রতাটুকুও কী গিলে ফেলছো? এটা কেমন প্রশ্ন হল? তুমি জানো এমন প্রশ্নতে উনি বিব্রতবোধ করবেন তারপরও….
উর্মি বেশ রেগে গেল ওর ভাবির উপর। উত্তেজিত হলে যা হয়, এখনো তাই– গলা বেশ চড়ে গেল।
বেগতিক দেখে মৃদুল হাত তুলে উর্মিকে শান্ত হতে ইশারা করে। নিজেই বলল
— হা হা হা, মিস উর্মি আপনি অযথাই ওনার সাথে রাগ করছেন? মানুষ তার আচরণ দিয়েই তো নিজের পরিচয় দেয়। এটা তো তার সহজাত প্রবৃত্তিতেই পড়ে। অসুবিধা নেই ভাবি আপনি প্রশ্ন শেষ করেন। আমি উত্তর দিব।
— না থাক আর প্রশ্নের দরকার নেই। এইটুকুতেই বিচার যাবে দাদির কাছে। দাদি আবার আপনার অন্ধ ভক্ত কি না!
— তাই নাকি? আমিও দাদির প্রেমে পড়েছি। দারুন একজন মানুষ তিনি। আসলে হয়েছে কী জানেন— অর্নি আপুকে আমাদের কারোরি ভালো লাগেনি, তাই তো বিয়েটা নাকচ করা হয়েছিল। অথচ দেখেন ফয়সাল ভাই কিন্তু খুব পছন্দ করেছেন আপুকে।

কথা এরই মধ্যে থেমে গেল, উর্মির দাদির উপস্থিতির কারণে। তিনি এসে মৃদুলকে ভেতরে নিয়ে গেলেন মেয়ে তুলে দেওয়ার তারিখ নিয়ে আলোচনায় থাকার জন্য । যদিও ওখানে মৃদুলের কোনো কাজ নেই তবুও ও দাদির সাথে গেল এখানকার পরিস্থিতি শান্ত করতে।
মৃদুলের পিছনে উর্মিও চলে গেল তবে যাওয়ার আগে ভাবিদের দিকে একটা লুক দিয়ে গেল যার সারমর্ম, “দাঁড়া পরে মজা বুঝাচ্ছি! ”

ফয়সালের বোনকে ফিরতে হবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাই আর বৌ তুলে নিতে দেরি করতে চাইল না। পরের শুক্রবার অর্নিকে উঠিয়ে দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হল। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ একসাথেই গায়ে হলুদের আয়োজন করবে। এক অনুষ্ঠানেই দুজনের হলুদ হবে বলে উর্মির দাদি ও চাচারা বেশ মনঃক্ষুণ্ন হলেন কিন্তু এছাড়া আর সময় নেই তাই মানতে বাধ্য হলেন পরে তারা।

অর্নির আম্মু মেহমানদারিতে এতটাই ব্যস্ত যে মৃদুলকে সময় দিতে পারছে না। তাই উর্মিকে ডেকেই বললেন ওর খাওয়াটা একটু দেখে খাওয়াতে।
মায়ের অর্ডার পেয়েও খুশি হতে পারল না। কারণ ওর হাতে কেকটাই তখন খায়নি, অথচ ভেতরে এসে ঠিকই ফয়সাল ভাইয়ের হাতে ও তার মায়ের হাতে দুবারই কেক খেল। এই দৃশ্য দেখে ভেতরে ভেতরে জ্বলে উঠেছে কিন্তু কাউকেই বুঝতে দেয়নি।
মৃদুলকে সামনে বসিয়ে খাওয়াবে এইটুকু মনে হতেই ওর বিক্ষিপ্ত মন ভালো হয়ে গেল। সামনে বসে খাওয়ালে নিশ্চয়ই ও আড়ে আড়ে উর্মিকে ঠিকই দেখবে। সেই আশাতে ছুটে গেল সাইড ডাইনিং টেবিলে। এখানে সাধারণত বিকেলের চা নাস্তার আসর জমে ওর বাবা চাচাদের। হলরুমের এত বড় ডাইনিংয়ে বসালে আর ও পাশে উর্মি বসতে পারবে না। দেখা যাবে টেবিলে কেউ না কেউ খেতে বসবে। অনেক কিছু ভেবে একটু নিরিবিলিতে টেবিল সাজাতে শুরু করল। সব কিছু গোছানো শেষ করে এসে দেখল মৃদুল অর্নিদের সাথে বসে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। মৃদুলের এক পাশে ফয়সাল আর আরেক পাশে মিথিলা ফয়সালের বোন বসেছে। কেন যেনো এই মুহুর্তে ওর খুব কান্না পেল। মনের অজান্তেই চোখ ভিজে গেল। ও কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা আর খেয়ালে রইল না। ওর অশ্রু যখন গাল বেয়ে পড়তে শুরু করল তখনই অর্নি বলে উঠল
— এতক্ষণ কোথায় ছিলি? তোর অপেক্ষা করে এই মাত্রই আমরা খাবারে হাত দিলাম। জলদি আয়, বস।
— আমাকে আর দরকার কী? আমি কার কী হই যে আমার এখানে থাকতে হবে? খাও তোমরাই খাও। বলে উর্মি নিজের কষ্ট আড়াল করতে চলে গেল। ওর চলে যাওয়া দেখে ফয়সাল উঠে দাঁড়ালো। মৃদুল আনমনে বিরবির করে বলল “আমি এখানে কার কী?
এই প্রশ্ন লেনদেন চুকানোর কথা বলার আগে খেয়াল ছিলো না?”
— মৃদুল মনে হল কিছু বললেন?
অর্নি ভ্রু নাচিয়ে আস্তে করে জিজ্ঞেস করল।
— কই? না তো!
— হিহিহি, মনে হচ্ছে জমে গেছে…
— জি বুঝলাম না।
— থাক আর বুঝতে হবে না। ওই যে চলে এসেছে ঢংগি।
— প্লিজ আর না! এবার গেলে…
— এত ভয় পান? হিহিহি। দারুন মজা পেলাম।
— আরে আমার একটা মাত্র শ্যালিকা, তারে ছাড়া খাবারে হাত লাগিয়েই আমি অন্যায় করেছি। এই অন্যায়ের জন্য উর্মি আমাকে যে শাস্তি দিবে এই অধম তা মাথা পেতে নিবে। প্রমিজ করলাম। শাস্তি ঘোষনা কর তুমি…
— ভাই একটু বেশি হয়ে গেলো না। মৃদুলও আসৃতে করে একটু ঠেস দিয়ে বলল কথাটা।
— বেশি হওয়া মানে? আপনার সমস্যা কী? আপনি তো আর যাননি আমাকে সেধে আনতে! আপনার এত লাগছে কেন? খুব তো আমাকে ছাড়া খেতে বসে গিয়েছেন। আমি যে একজন আছি তা তো ভুলেই গেছেন।
— কেন তুই কি চেয়েছিলি উনি যাক তোকে সেধে আনতে…
— আহ অর্নি! এসব কী? তোমাকে এমন আচরণে মানায় না। ও আমাদের জন্য কত কী…
— থাক ভাই আর কিছু বইলেন না। ওর মতো একটা অকৃতজ্ঞ আপনি এই দুনিয়াতে আর একটাও পাবেন না। আপনি যে কী ভোগা ভুগবেন তা আল্লাহ ভালো জানেন। আমি ওকে হাড়ে হাড়ে চিনি।
— এই তুই আজকেও আমার সাথে লাগছিস? আজ না আমার বিয়ে..
— তো..
মৃদুল আর ফয়সাল দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে এবার হা হা হা করে হেসে উঠল ওদের দুই বোনকে আজকের দিনেও লড়তে দেখে। আর তাতে ওরা দুজনও থেমে গেল। দূর থেকে অর্নির আম্মু ওদের সবার হাসিমাখা মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকল অপলক দৃষ্টিতে।

চলবে