চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-১৪

0
138

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১৪)
সায়লা সুলতানা লাকী

মৃদুলকে একা পেতেই অর্নির আম্মু এসে ওর থেকে ওর আম্মুর মোবাইল নাম্বার চেয়ে নিল। তিনি ওদের বাসায় যাবেন তেমনটাও বলে গেল। মৃদুল জানে তারা যাবেন অর্নির বিয়ের দাওয়াত দিতে। কিন্তু সেই বিষয়টা ওদের বাসায় কীভাবে নিবে তা ভেবেই এখন ও অস্থির। বাসার কেউই জানে না যে ও এখনো এই বাসার সাথে যোগাযোগ রেখেছে। ওর ভাবি বেশি বিপদজনক, সে তো প্রথম থেকেই অর্নির পেছনে লেগেছিল। এখন অর্নির বিয়ের দাওয়াতের কথা শুনে না জানি কী রিয়েক্ট করে বসে তাদের সামনেই। ডিসিশন নিল আজ রাতেই ওর আম্মুকে একটু একটু করে উর্মিদের কথা জানাবে। কিন্তু কী বলবে? উর্মির কথা কী এখনই বলবে? প্রথমেই যদি উর্মির কথা শুনে তবে ওর আম্মু সেন্টি খাবে। বিরবির করে বলে উঠল “ইদানীং ছোট খাটো বিষয়েই আম্মু সেন্টি খাচ্ছে, সেখানে আমি নিজেই পাত্রী পছন্দ করে বসে আছি তা জানলে নির্ঘাত আম্মু…. উঁহু, এখনই উর্মির কথা বলা যাবে না। অন্যকোনো মিথ্যা বলে আপাতত সমস্যাটা সমাধান করে ফেলব।”

এরই মধ্যে উর্মি চা নিয়ে এল সবার জন্য। ট্রে নিয়ে মেহমান সবার সামনে ধরছে আর যার যার চা দরকার সে কাপ উঠিয়ে নিচ্ছে।
ফয়সাল কাপটা নিতেই উর্মি ট্রেতে থাকা বাকি কাপটা নিজের হাতে নিয়ে অর্নির পাশে বসে গেল। ওর অবস্থা দেখে অর্নির দাদি চিৎকার করে উঠলেন
— এই পুচকি তুই এইটা কী করলি? মেহমানরে না দিয়ে তুই নিলি কোন আক্কেলে?
ফয়সালের পাশেই ছিল মৃদুল। উর্মি মৃদুলকে চা না দিয়ে ইচ্ছে করেই নিজে কাপটা নিয়ে বসে পড়েছিল।
এখন দাদির কথায়, মিনমিন করে বলল
— আমার হাতের খাবারে তার এলার্জি আছে দাদি, শিক্ষা হয়েছে আমার তাকে কেক দিতে গিয়ে। তাই আর নতুন করে তার চুলকানি বাড়ালাম না।
— এসব কী কথা? ফাজিল মেয়ে বানাইছে তোর মা তোরে লাই দিয়ে একটা।
— না না না, দাদি আমি সত্যি সত্যিই আর চা খাবো না ভাবছি। চায়ের সাথে সব লেনদেন চুকিয়ে যে ফেলেছি বেশ কয়েকদিন আগে।

উর্মি চায়ে সবেমাত্র চুমুক দিয়েছিল, মৃদুলের শেষ কথায় ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালো। কিছু একটা বলবে ঠিক তখনই দেখল ফয়সালের মা কাপ হাতে এগিয়ে এসে মৃদুলকে কাপটা এগিয়ে দিয়ে বলল
— বাবা, তুমি চা খাও।
— না না আন্টি আপনি খান, আমি সত্যিই খাবো না।
— আরে আরে আন্টি কী করছেন? আপনি খান, খান তো! উনি একটু বেশিবেশি করছিল তাই…
বলে দৌড়ে এল উর্মি চায়ের কাপ হাতেই। নিজের কাপটা রেখে আন্টিকে ধরে আবার তার চেয়ারে নিয়ে বসিয়ে বুঝালো যে মৃদুলের চায়ের টেস্ট ভিন্ন তাই ওটা নতুন করে বানানো হচ্ছে। তাকে বুঝিয়ে ফিরে এসে দেখে মৃদুলও ওর জায়গায় নেই সাথে ওর রেখে যাওয়া চায়ের কাপটাও নেই। এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে খোঁজ করল কিন্তু কোথাও দেখতে পেল না। এরপর রুম থেকে বেরিয়ে গেল নতুন করে চা বানাতে। আজ দিনটাই ওর জন্য খারাপ। কোনো কিছুই ওর পক্ষে যাচ্ছে না। এত আয়োজন এত কষ্ট যার জন্য করল সে একবারও ফিরে তাকালো না। একটা মানুষের কত রাগ থাকে ভেতরে? তার পছন্দের রঙে সেজেছে দেখেও কী রাগ ভাঙে না? এমন আজব কেন? অথচ সেদিন কথায় কথায় ওকেই আনরোমান্টিক বলেছিল এই অভদ্র লোকটা আর এখন প্রমান দিচ্ছে সে নিজে কতটা রোমান্টিক!
এলোমেলো ভাবনায় হাতটা কখন যেনো মাথায় চলে গেল। ফুল গুলোতে হাত লাগতেই মন আরো খারাপ হল। একবার ইচ্ছে করল ফুলগুলো খুলে ফেলতে পরক্ষণে কী মনে হল আর খুলল না। দুই কাপ চা নিয়ে ফিরে এসে দেখল অর্নিরা কেউ ড্রয়িং রুমে নেই। ফয়সালের আম্মু জানালো যে ওরা সবাই অর্নির রুমে গিয়েছি।
উর্মি তবুও ডানে বামে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে খুঁজে নিল মৃদুলকে। ও ওদের সাথে গিয়েছে কি না তা তো আর ও জানে না। কোথাও না পেয়ে এক বুক আশা নিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। দরজা পর্যন্ত গিয়ে থমকে গেল অর্নির কথা শুনে
— একজন হঠাৎ করে সাদার উপর এমন হুমড়ি খেয়ে পড়ল কেন তা বুঝতেছি না। হ্যালো গাইজ কেউ বিষয়টা জানলে আমাকে একটু জানাতে পারো।
— মানে? রং নিয়ে তোমার এত গোয়েন্দাগিরি করার কী আছে?
— আরে আছে আছে, তুমি অতসব বুঝবে না। সেদিন এই বান্দি যেই শুনেছে আমি ভার্সিটির জন্য বেরোবো তখন থেকেই পেছনে লেগে ছিল কেন বের হচ্ছি না তাই। কেন গড়িমসি করছি, কেন দেরি করছি, ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর আমি বের হওয়ার পর সেই বান্দি আমার আলমারি থেকে সাদা ড্রেস বের করে পরে গেল। আরে বাব্বাহ, গেলোতো গেল, একেবারে আমার সামনেই। হা হা হা। ওর চোর চোর চেহারা দেখে ঠিক কতটা মজা পেয়েছি তা কাউকে বোঝাতে পারব না।
— আহ অর্নি–
— কী আহ? হ্যে? তুমি জানো, ওরে লুকায়ে প্রেম করতে কত কী করতে হয়েছে আমাকে? ও আম্মুর স্পাই হয়ে আমার জীবন তেজপাতা করে ফেলছে। এত সহজেই ওকে আমি ছেড়ে দিবো। নেভার!
— দুদিন পরে চলে যাবে–
— আরে থামাও তোমার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। ওসবে আমার কিছুই হবে না। দেখো আজও সে সাদা শাড়ি পরেছে। দাদি কত কী বোঝালো, কিন্তু সে বুঝল না। আবার শোনো কী সাংঘাতিক কাজ করেছে আজ! ছাদ থেকে গন্ধরাজ ফুলও ছিড়ে মাথায় পরেছে। ও ম্যান আমি তো অবাক!

অর্নির কথাগুলো শুনে মৃদুলের মন উতলা হয়ে উঠল শুধু উর্মিকে দেখার জন্য। শুধু মাত্র ওর পছন্দ শুনে মেয়েটা এতটা কষ্ট করেছে নিজেকে সাঁজাতে। আর ভাবতে পারল না মনের আনন্দে খৈ হারালো। এবার নিজেও নড়েচড়ে উঠে চারপাশে একবার চোখ বুলালো ওকে দেখার জন্য ।
— মৃদুল কাউকে খুঁজছেন মনে হয়? কোনো সাদা পরীকে খুঁজছেন কী?
— ইয়ে মানে না, উর্মিকে কেন খুঁজব?
— অর্নি তো নাম বলেনি, তুমি আমার শ্যালিকার নাম বললে কেন? আই থিংক ডাল মে কুচ কালা হ্যা।
— আরে ধুররররর, তুমি আছো কুচ কালা নিয়ে। আমি তো দেখছি পুরো ডাকটাই কালা।
— হা হা হা, ইউ নো আপু! আপনাদের দুই বোনের কথা বলার ঢং একেবারে হুবহু।
— বোন আমার, মিলতো থাকবেই। এসব বলে কথা ঘুরিয়েন না মিস্টার… ধরা পড়ে গেছো তুমি রঙিলা মাজারে…
— হা হা হা, অর্নি প্লিজ থামো, গান গেয়ো না প্লিজ।
— আপু… আসলে….
কথা আর এগোতে পারল না। অর্নির দাদি এসে উর্মিকে ধমকে উঠলেন
— এখানে চা হাতে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ভেতরে যা।
দাদির কথায় নিজে আরো বেশি লজ্জা পেল। কিন্তু এই মুহুর্তে নিজের লজ্জাকে প্রকাশ হতে দিলে অর্নি পুরো বিষয়টা নিয়ে আরো বেশি টানাহেঁচড়া করবে তাই নিজের নরম ভাব লুকিয়ে গরমটাই প্রকাশ করল দাদিকে উঁচু গলায় জবাব দিয়ে।
— কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? জানো তো শাড়ি হ্যান্ডেল করা কত কঠিন। গরম চা নিয়ে এসেছি একটু সাবধানে আসতে হবে না? কী চাও, আমি শাড়িতে পা বাজিয়ে পড়ে যাই?
— ওরে বাব্বাহ ত্যাজ কত দেখছোসনি অর্নি? একেবারে আগুন….
— যাও এখন ওর দিকেই যাও, পাল্লা ভারি করো। আমি কাউকে ভয় পাই না বুঝছো?
শেষ কথাটা আরো গলা চড়িয়েই বলল এরপর
উর্মি না পেরেই রুমে ঢুকল চা হাতে। ওকে দেখে এবার মৃদুলও একটু শক্ত হয়ে বসল। মেজাজ এমনিতেই গরম কখন কী করে বসে তার গ্যারান্টি নাই তা ও ভালো করেই জানে।
হঠাৎ করেই ওর সামনে চায়ের কাপ ধাপ করে রেখে নিজে আরেককাপ চা উঠিয়ে নিয়ে কাপে চুমুক দিল।
— ইয়ে মানে আমি তো এই মাত্র চা খেলাম। এখন আবার….
— তুমি চা খেয়েছো? আচ্ছা তাহলে দাও আমিই খাই। এখন আর কেউ আমার কথা ভাবে না। দুইকাপ দেখে ভাবলাম একটা বুঝি আমার…
— দাদি ওটা মৃদুলই খাক, ওতে লিকার বেশি চিনি বেশি, আর মালাইও ভাসছে বেশ… এই চা আবার মৃদুলের খুব পছন্দ। চায়ের সাথে কিছু ভালোবাসা ও ভালোলাগাও জড়িত …. ইয়ে মানে আসলে আমি বলতে চাচ্ছিলাম …..
ফয়সাল উর্মির কষ্টটা একটু আন্দাজ করেই চাচ্ছিল চা-টা মৃদুলই নেক। কিন্তু দাদিও নাছোড়বান্দা। তিনি একগাল হেসে বললেন
— তাই না কি? তুমিও আমার মতো মালাই ভাসানো চা খাও? ওরে আল্লাহ! এই চা যে পছন্দ করে সে তো এমনি এমনি আমার পছন্দের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ।
— ওক্কে দাদি, এখন তোমার সোনার টুকরার সাথে তাহলে ভালোবাসা বাসির মধ্যেই ডুবো। এখানে আর আমার না থাকলেও চলবে।
উর্মি রীতিমতো গাল ফুলিয়ে বেরিয়ে গেল। মৃদুল আড় চোখে ওর চলে যাওয়া একবার দেখে এবার সামনে দাদির দিকে ফিরল তার কথার জবাব দিতে।

উর্মি এবার সত্যি সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছে মৃদুলের আচরণে। ওর জন্য কষ্ট করে চা বানালো, অথচ ও বলল চা খেয়েছে। মিথ্যা কথা বলার আর কোনো জায়গা পেল না। চা খাবে কোত্থেকে? লাস্ট কাপটা তো ও নিজেই নিয়েছিল।
হঠাৎ বাচ্চা কান্নার শব্দ পেয়ে ওর মায়ের রুমে ঢুকল। ওখানে ফয়সালের বোনের বেবিটা ঘুমিয়েছিল। ওর বোন এক ফাঁকে এসেছে বেবিকে বেস্ট ফিডিং করাতে। উর্মিকে দেখে মিথিলা এক গাল হেসে কাছে ডাকল
— আপু আসো, তোমার সাথে কথাই বলা হল না।
— সবে তো শুরু, বহু সময় পাবে কথা বলার আপু।
— তোমাদের দুই বোনের ঝগড়া কিন্তু আমি বেশ উপভোগ করেছি। সিবলিং থাকলে বোধ হয় এমনই হয় এদের সম্পর্কটা।
— সেটাই ভাবছি, আপুতো ওই বাসায় গিয়ে সেইম কাজটা করবে ফয়সাল ভাইয়ার সাথে তখন আমাকে ভুলে যাবে। শুধু আমিই আপুকে খুব মিস করব।
— তুমিও বিয়ে করে ফেলো, তাহলে ঝামেলা মিটে যাবে।
— হিহিহি, ভালো সমাধান বের করেছো আপু।
এরই মধ্যে বেবিটা আবার কেঁদে উঠল।
উর্মি বেবির দিকে তাকিয়ে বলল
— ওর কী হয়েছে? কাঁদছে কেন?
— আর বলো না দেশে আসার পর এত ব্যস্ত সময় কাটছে যে ওর প্রতি প্রপার টেককেয়ার করতে পারছি না। ডায়পার পরে থাকতে থাকতে রেশেস উঠেছে গায়ে। একটু উনিশ-বিশ হলেই কাঁদছে দুদিন যাবৎ।
— আপু তাহলে ডায়পার খুলে দাও। ও একটু আরাম পাবে।
— সেখানেও সমস্যা। ডায়পার খোলার পরপরই ইউরিন পাস করে। কী বাজে অভ্যাস যে হয়েছে ছেলের তা না দেখলে তুমি বুঝবে না।
হঠাৎ করেই ওর মনে দুষ্ট বুদ্ধি খেলে গেল। (মনে মনে বলল — চান্দু আমারে চেনো নাই, আমার সাথে ভাব নাও। এখন বুঝবে মজা।) আনমনে হেসে ফেলল পুরো দৃশ্যটা কল্পনা করে। এরপর বলল
— সত্যি সত্যিই বুঝি তাই করে?
— হুমম। এটা পরিক্ষিত।
— ও কে, বিশ্বাস করলাম। দাও বেবিকে আমার কাছে দাও। আমি ওকে ঠান্ডা করি। বলে আদর করে কোলে তুলে নিল। বেবিটাও শোয়া থেকে কোলে উঠতে পেরেই মনে হল খুশি হয়ে গেল। উর্মির কোলে উঠে ওর কান্নাও থেমে গেল।
মিথিলা আর উঠল না। ওর খুব টায়ার্ড লাগছে বলে ও বিছানাতেই একটু পিঠ সোজা করে শুয়ে রইল, অসুস্থ শরীরটাও একটু আরাম খোঁজে।

উর্মি বেবিকে নিয়ে আবার নিজের রুমে ফিরল। ঠিক এখনই ফিরবে তা মৃদুল আশা করেনি। ও ভেবেছিল আজ বুঝি আর ওকে দেখতে পারবে না। এখন ও সামনে আসতেই মনটা চাঙা হয়ে উঠল। এমনিতেই ও এখন উঠতে চেয়েছিল চলে যাবার জন্য । ফয়সাল টেনে টেনে রাখছে কথার মারপ্যাচে ফেলে। এখন মনে হল থেকে ভালোই হল।
— দাদি দেখো বাবুটার না রেশেস উঠেছে। তোমার ছোট নাতিরও তো হয়েছিল মনে আছে?
— ওদের হবে না তো কার হবে? সারাক্ষণ এইসব ডায়পার পরিয়ে রাখে। এ যেন বাচ্চাদের উপর চরম অত্যচার..
— আহা কথা না বলে তুমি খুলেই দাও না।
— আমি দিবো কেন? তুই আনছোস, তুই দে। আমি দেখায় দেই।
দাদি এমনটাই বলবে তা উর্মি জানতো। কারণ তিনি সরাসরি বাচ্চা কোলে নেন খুব কম।
মৃদুল বিছানায় যে কোনাটায় বসেছিল উর্মি ঠিক তার পাশেই বসে বেবিটাকে শুয়ায়ে ঝটপট ডায়পার খুলে দিল। আর তখনই ওর দাদি বললেন একটু পাউডার মেখে দিতে বেবিটার পাছুতে। এটাও যে দাদি বলবে তাও উর্মি জানতো। তাই কাল বিলম্ব না করেই বেবিটাকে মৃদুলের কোলে বসিয়ে বলল
— জাস্ট একটু ধরেন, আমি পাউডার আনছি… বলেই ছুটে গেল ড্রেসিংটেবিলের কাছে। মৃদুল বাচ্চা ধরে অভ্যস্ত না। তাই কিছুটা বেগতিক অবস্থায় পড়ল। ঠিক মতো কোলে বসাতেই বেবিটা প্রসাব করে দিল অভ্যাসবশত। মৃদুল কিছু বুঝে উঠার আগেই যা ঘটার তা ঘটে গেল। গরম পানির স্রোত বেয়ে যাওয়া উপলব্ধি করতে পারছে কিন্তু বেবিটাকে নাড়াতে সাহস পাচ্ছে না। নিচে যেমন গরম পানি ওকে এফোড় ওফোড় করে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনই এরপর ওর কী হবে তা ভেবে পিঠ বেয়ে শীতল পানি বেয়ে যাচ্ছে তরতর করে।
ওর স্থির চেহারা দেখেই উর্মি বুঝে গেল যা বোঝার। পাউডার নিয়ে এসে বাবুটাকে মৃদুলপর কোল থেকে নিতেই বেরিয়ে এল মৃদুলের ভেজা প্যান্টের দৃশ্য। আর তা দেখে প্রথমই উর্মি চিৎকার করে উঠল
— ইয়াক ছি! এই কী করলেন আপনি?
বলেই চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল।
— ইয়ে মানে… আমি কিছু করিনি… যা করার…
— ছি! থাক আর কিছু বলতে হবে না। বলে ও হিহিহি করে হেসে উঠল।
আর তখনই ফয়সাল আর অর্নির চোখে পড়ল সবটা। দাদি সহ সবাই হোহোহো করে হেসে উঠল মৃদুলের অবস্থা দেখে।
মৃদুলও নিজের বেগতিক অবস্থা দেখে নিজেও ওদের হাসির সাথে সামিল হল লজ্জা মিশ্রিত হাসি নিয়ে।

চলবে