#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১৬)
সায়লা সুলতানা লাকী
আজ অর্নি আর ফয়সালের “হলুদ সন্ধ্যা ” অনুষ্ঠান। সময়মতো মৃদুল ওর পরিবার নিয়ে চলে এল । হলরুমটা ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে, চারপাশে দারুন একটা বিয়ে বাড়ির আমেজ বিরাজমান। মেহামানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বিভিন্ন গ্রুপভেদে, এবং এদের কাউকেই মৃদুল ও ওর পরিবার চেনেন না। একটু সামনে এগোতেই দেখতে পেল স্টেজে অর্নি ও ফায়সাল পাশাপাশি বসে আছে। ওদের দেখে কিছুটা স্বস্তি পেল মৃদুল, অন্তত ঠিক অনুষ্ঠানেই এসেছে তা নিশ্চিত হতে পেরে। একবার ওর বাবা আর মা এক অনুষ্ঠানে গিয়ে খাওয়াদাওয়া পর্যন্ত শেষ করো ফেলছিল এরপর যখন বরকনে দেখতে গিয়েছিল তখনই জানল তারা ভুল অনুষ্ঠানে চলে এসেছে, ওটা একটা ছোট্ট ছেলের সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠান ছিল। গিফটে নিয়েছিলো বরকনের জন্য দুটো রিস্টওয়াচ যা ইতিমধ্যে সেন্টারে ঢুকতেই দিয়ে এসেছিল তাই আর রিস্ক নিয়ে দেরি করেনি, মান সম্মান থাকতেই দ্রুত বেরিয়ে এসেছিল ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে। পরে জেনেছিল একই নামে আরেকটা সেন্টার নাম্বার টু পাশের রোডেই ছিল। সেই গল্প ওর আব্বু এখনো মজার ছলে বলে বেড়ান ওদের কাছে। এবং বলেন এমন যেনো আর কখনো না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে।
আজ অর্নি হলুদ জামদানীর সাথে ফুল দিয়ে সেজেছে। ওর দিকে চোখ পড়তেই মৃদুলের আম্মা বলে উঠলেন
— ইশশশ মেয়েটা কী সুন্দর! অথচ ওইদিন কী বীভৎস সাজটাই না সেজে এসেছিল।
— আহ, আম্মু পেছনের কথা ভুলে যাও। তুমি না বলো আল্লাহ যা করেন তা বান্দার ভালো জন্যেই করেন। তাহলে আর আফসোস করছো কেন?
— উফফ তুই বুঝবি কী!এমন পারিবারিক শিক্ষা, এমন খানদান, এমন সুন্দরী সব একসাথে মিলিয়ে পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার, বুঝলি!
কথা আর বাড়ল না। অর্নির আম্মু আর দাদির চোখ পরতেই দুজন এগিয়ে এলেন মৃদুলদের সামনে। মৃদুলের আম্মুকে জড়িয়ে ধরে অর্নির আম্মু তার আনন্দ জাহির করলেন। মৃদুলের দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি হাসলেন।
সেদিন অফিসে উর্মি যে প্যাকেট দিয়ে এসেছিল ওর ভেতরে একটা পাঞ্জাবি ছিল আর ছিল একটা ছোট্ট চিরকুট, যেখানে লিখা ছিল—
“আমি আমার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে নিজের খুব কাছের ও প্রিয় মানুষদের জন্য কিছু উপহার কিনেছি। আমার সেই কাছের ও প্রিয় মানুষের তালিকায় তুমিও আছো বাবা। এতে যদি আমার অন্যায় না হয় তবে অর্নির হলুদের অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি পরে এসো। আমি খুশি হব।
অর্নির আম্মু”।
আজ মৃদুল সেই পাঞ্জাবি পরেই এসেছে। আর হয়ত তাই তার এই তৃপ্তির হাসি খেলল ঠোঁটের কোনো। তার হাসিমুখটা দিকে তাকিয়ে মৃদুলও আস্তে করে বলল “থ্যাংকস আন্টি”।
অর্নির আম্মু এখন ব্যস্ত মৃদুলের আম্মুর সাথে কথা বলায় তাই আর মৃদুলের থ্যাংকসের জবাব দিল না। এরই মধ্যে ডাক পরায় তিনি তার শাশুড়িকে ওদের পাশে বসিয়ে নিজে চলে গেলেন।
মৃদুল চারপাশে মাথা ঘুরিয়ে উর্মিকে খুঁজছে, ঠিক তখনই ওর ভাবি পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল
— খোঁজো খোঁজো, ভালো করে খোঁজো। দেখে কাউকে বাগাতে পারো কি না। চারপাশে তো দেখছি অসংখ্য সুন্দরী।
— সুন্দরী না ছাই! এগুলো সব পার্লার কেরামতি। যেমনটা তুমিও করে এসেছো।
অন্য সময় হলে ওর ভাবি রেগে যেত, কিন্তু আজ কেন যেনো রাগল না। বরং একটু হেসে বলল
— প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ আমার মতো অন্তত একটা যোগাড় করে ফেলো।
মৃদুল জবাব দেওয়ার আগেই দেখল উর্মি চারপাঁচজনের সাথে হলরুমে ঢুকল। এ যেনো অন্য এক উর্মি। একই রকম লেহেঙ্গা পরা সবাই। সেজেছেও একই রকম করে। এই সাজ সাজতেই সম্ভবত এত দেরি হয়েছে ওর। বিরবির করে একবার বলেই ফেলল, “কী দরকার ছিল এমন করে সাজার? যে সাজে নিজেকেই লুকিয়ে রাখতে হয়?”
ওদেরকে দেখতেই উর্মির দাদি চিৎকার করে ডেকে সামনে আনল।
— এতক্ষণে সাজ শেষ হল তোদের? এ কেমন অবস্থা, বৌ এসে একা বসে আছে আর তার চ্যালাপ্যালাদের সাজই শেষ হয় না…
— নানু শোনো, আমরা দয়া করে অর্নিকে আগে সাজতে দিয়েছি বলে তুমি এখন আমাদের কথা শোনাচ্ছ? যদি আগে আমরা সাজতাম তখনো তুমি আমাদের দোষটাই দিতা..
মৌমি একটু গাল ফুলিয়ে বলল।
— আচ্ছা যা তোরাই ঠিক। কার এত সাহস যে তোর সাথে লাগতে যায়। উফফ কেমন ফোঁস করে উঠে…
— দাদি, এবার তুমি লাইনে আসছো! বুঝলে মৌমি আপু তুমি বলেই দাদি হার মানলো নইলে এটা নিয়ে…….এইটুকু বলে উর্মি একটু হাসল।
— বুড়া বয়সে আমার লাইন আর বেলাইন কী রে? এখন চুপ থাক, আগে বল এসব কী সাজছোস?একেকটারে দেখা যায় কেমন?
এবার দাদির কথা শেষ হতেই মৃদুল খেক করে হেসে উঠল।
— এই আপনি হাসলেন কেন? আপনার সমস্যা কী? আর দাদি তুমিও যেমন, চারপাশ দেখে কথা বলবা না? মানুষ তো ওঁৎ পেতে থাকে ব্যঙ্গ করার জন্য। অথচ নিজে জানো না সাজের স টাও।
— থাক তোরা জানলেই হবে, অন্যকারো জানার দরকার নাই। আমাদের শুধু চোখের শান্তি বুঝলেই হবে। নিশ্চয়ই আমার মতো ওর ও চক্ষু শীতল হয়নাই তোদের সাজ দেখে।
— আজব! আমরা কখন কার চক্ষু শীতলের জন্য সাজলাম?
— এই উর্মি আমাদের সাজে যার যার চোখ জ্বলবে তাদেরকে বরফ যুক্ত শীতল পানিতে চুবিয়ে আনতে পারিস। কঠিন থেরাপি হবে।
কথাটা বলে এবার মৌমি আড় চোখে মৃদুলের দিকে তাকালো। মৃদুলও ভয় পাওয়া চোখে আহতের মতো করে তাকাল মৌমির দিকে। এমন অদ্ভুত থেরাপির কথা যে বলতে পারে তার দিকে তাকাতেও কিঞ্চিৎ ভয় বেশি পেল বলে মনে হল ওর।
পাশে বসা মৃদুলের ভাবি হিহিহি করে হেসে উঠল এতক্ষণে। ও বেশ মজা নিয়েই সবার কথা শুনছিল। এবার অর্নির দাদি মৃদুলের মায়ের দিকে তাকিয়ে ওদের পরিচয় করিয়ে দিলেন
— বুঝলেন খালা, এটা হল আমার বড় নাতনি মৌমিতা, আমার বড় মেয়ের ঘরের নাতনি। বড় তো তাই একটু আহ্লাদ বেশি এইটার। আর ও হল আমার ছোট্ট নাতনি উর্মি। অর্নির ছোট বোন। সব থেকে ছোট কিন্তু ঝাল বেশি। সবসময় আমার উপর তার মাস্তানি চলে।
— মাশা আল্লাহ, আপনার সব নাতনিই খুব সুন্দর। নানি দাদির সাথে নাতনিদের সম্পর্ক তো এমনই হয়। বর্তমান সময়ে এই সম্পর্কগুলো কেমন যেনো ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ভালো লাগল, আপনাদের দেখে আমাদের সময়টার কথা মনে পড়ল।
পরিচয় করাতেই উর্মি মৃদুলের আম্মুকে সালাম জানালো আস্তে করে।
— এই তোরা এখানে কী করিস? যা অর্নির কাছে যা। ওর চারপাশে এরা কারা? কাউকেই চিনি না…
মৌমির আম্মু ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নটা করে আবার স্টেজের দিকে তাকালেন।
— এই দেখেন খালা, এতক্ষণে আমার বড় মেয়ে এল সেজেগুজে ভাতিজির গায়ে হলুদ ছোঁয়াতে। এই হল কলিকালের নিশানা। ওর আর বয়সের লেহাজ নেই। বলি তোরও কী এইসব ছাইপাঁশ মাখতে যেতে হয়?
— হয়, হয় মা। তুমি এসব বুঝবা না। আমি তো আর তোমার বড় বৌ না যে লেবান্ডিস হয়ে বসে থাকব। এত করে বললাম সাথে যেতে গেলই না তোমার আদর্শ বৌ। গেলে কী এমন ক্ষতি হত? এখনো ছেলের মা’ই আসেনি। তাকে ছাড়া অনুষ্ঠান শুরু করলা কীভাবে? হলুদ কী দেওয়া শুরু হইছে?
— জি মানে, আন্টি আসবে, এখনই আসবে। কিছু গেস্ট এসেছেন বাসায়, তাদের নিয়েই বেড়িয়েছেন আন্টি । বেশিক্ষণ লাগবে না, এই এল বলে…
মৃদুল নিজ থেকেই মৌমির আম্মুর প্রশ্নের উত্তরটা দিল। ফয়সাল যখন বের হবে তার আগেই মৃদুলকে কল দিয়েছিল ওর সাথে আসার জন্য। তখনই জেনেছে যে আজ ওর নানার বাড়ির সবাই এসেছে ওদের বাসায়। এটা ছিল ফয়সালের তরফ থেকে ওর মায়ের জন্য বিশেষ সারপ্রাইজ। এই সারপ্রাইজটুকু দিতে ফয়সালকে দুইদিন যেতে হেয়েছিল ওর নানা বাড়ি। জনে জনে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে তবেই রাজি করিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তারা যে তাদের ভুলটুকু বুঝতে পেরেছে তাতেই ফয়সালের কষ্ট করাটা সার্থক হয়েছে।
এত বছর পর নিজের শেকড়কে কাছে পেয়ে ফয়সালের আম্মু বেশি আবেগ প্রবন হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক ওই সময়তে ফয়সালের মনে হয়েছে ওর আম্মুকে একটু স্পেস দেওয়া দরকার তার পরিবারের সাথে থাকার জন্য। তাই নিজে নিজের বন্ধু বান্ধব নিয়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য বেরোতে চেয়েছিল।
মৃদুল ওর সাথে আসতে পারবে না কারণ নিজের পরিবার নিয়ে ওকেই অনুষ্ঠানে যেতে হবে বলে অপারগতা জানিয়ে পরিশেষে বলেছিল “ভাই আপনাকে নিয়ে প্রথম দিকে আমার মনে যে সংশয় ছিল আজ খেয়াল করছি তা আর নেই। আপনি….. ”
এইটুকু বলার পর ফয়সাল আর কিছু বলতে দেয়নি। আবেগে ওরও গলা ধরে এসেছিল। তাই প্রসংগ পালটে “অনুষ্ঠানে দেখা হবে” বলে ও নিজেও বের হয়েছিল বাসা থেকে।
মৃদুল সবটুকু জানে তাই উত্তর দিতে কার্পণ্য করেনি, মিথিলারা বের হওয়ার সময় কল দিয়ে জানিয়েছিল তাই ওরা যে এখন রাস্তায় তা ও নিশ্চিত হয়েছিল।
আগ বাড়িয়ে একটা ছেলে মৌমিতার মায়ের মুখের উপর উত্তর দিলো বলে তিনি চোখ ছোট করে মৃদুলের দিকে তাকিয়ে ওর মাকে ইশারা করল কে এই ছেলে তা জানতে চেয়ে।
তখন অর্নির দাদি একগাল হেসে বললেন
— আরে ও’ই তো মৃদুল। এই যে ওর মা, ভাইয়ের বৌ। সবাই এসেছে। ওরা আসায় যে কী খুশি হয়েছি তা তোরে বুঝাই কেমনে…
— ওওও আচ্ছা তুমিই মৃদুল? আম্মার সোনার টুকরো ছেলে তুমি ই?। এই বিয়ের ঘটক তুমি। তোমার কথা শুনিয়ে শুনিয়ে তো কান পচিয়ে ফেলল আম্মা।
ঘটক কথাটা শুনে মৃদুলের ভাবি ফিক করে হেসে ফেলল। একটু খোঁচা দিয়ে বলল
— তুমিই ঘটক? এবার নিজের বিয়ের ঘটকালিটা করে ফেলো তো চট করে ঘটক সাহেব।
— আহ বৌমা কি করছো?
মৃদুলের আম্মু এবার একটু বিরক্ত হয়েই বললেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মৃদুল উঠে দাঁড়ালো ওই জটলা এড়াতে। এখানকার পরিবেশ এখন আর সহনীয় নয় ওর জন্য। এরই মধ্যে অর্নির আম্মু এসে তার শাশুড়িকে ডেকে নিলেন ফয়সালের নানা নানু এসেছেন বলে। মৌমির আম্মু এবার মৃদুলের আম্মুর পাশে বসলেন বেশ আয়েশ করে। অর্নির আম্মু যে তাকে ডাকলেন না তাতে যে তিনি একটু কষ্ট পেলেন তা জাহির করতেও ভুললেন না। মৃদুলের আম্মু অবশ্য তা একেবারেই পাত্তা দিলেন না। তিনি ইতিমধ্যে এই মহিলার ঠেসমার্কা কথাবার্তা শুনে তার স্বভাব আঁচ করতে পেরেছেন। বরং তিনি ইতস্তত বোধ করছেন তার বৌমার সামনে এমন সব টক্সিক কথাবার্তা হচ্ছে বলে। পাশের মানুষটার পাত্তা দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারটাকে মৌমির আম্মুর নজরও দিলেন না। তিন তার মতো কথা চালাতে শুরু করলেন-
— দেখলেন আপা দেখলেন, ভাইয়ের বৌ নয়তো ভুল করতে পারে তাই বলে কি নিজের মা-ও ভুল করবে? এরা আসলে আমাকে মূল্য দিতে চায় না। এসব ক্ষেত্রে নিজের শ্বশুর বাড়িতে প্রচুর লজ্জা পেতে হয় আমাকে। নিজের মা মেয়েকে মূল্যায়ন করে না, এই দুঃখ কোথায় রাখি বলেন? সারাজীবন ছেলের বৌরাই তার কাছে সব। বিশেষ করে অর্নির মা।
— আসলে আপা আমি বাহিরের মানুষ, আমি কী বলব। তবে অর্নির আম্মু মানুষটাই এমন যে ওনাকে যে কেউ পছন্দ করবে।
— ও আচ্ছা ভাবি তাহলে আপনাকেও পটায় ফেলছে। এই কাজটা সে খুব ভালোই জানে। শুনলাম ছেলের মায়ের চরিত্র খুব একটা সুবিধার না, তার নাকি দুই বিয়ে। এই ছেলে তার প্রথম ঘরের। পরের ঘরে একটা মেয়েও আছে। অথচ দেখেন, ভাবি ঠিকই আমার মা’কে এই বিয়েতে রাজি করিয়ে ফেলেছে। আপনার ছেলে হল সহজ সরল, ওকে ঢাল বানিয়ে অর্নির মা’ই তলে তলে সব গুছিয়েছে। মৌমি বলছে আমারে সবটা। এই ফয়সালের সাথে ওর অনেক আগে থেকেই প্রেম ছিল। ঢাকা শহরের মেয়ে, চোখমুখ আগে থেকেই ফোঁটা। বেঁচে গেছেন আপনারা, এখানে ছেলেকে বিয়ে না করিয়ে।
— আন্টি আমিও ঢাকায় মানুষ হয়েছি….
মৃদুলের ভাবি এইটুকু বলতেই থেমে গেল শাশুড়ির ইশারাতে। আর অমনি অর্নির ফুপুর স্বর পালটে গেল
— আরে মেয়ে হাতের পাঁচ আঙুল কি আর সমান হয়? তুমি ভালো মেয়ে ছিলা তাই বলে তো আর অর্নি ভালো ছিলো না। তোমার মা ভালো মতো তোমাকে মানুষ করেছে, ভালো শিক্ষা দিয়েছে
— আমার বিশ্বাস অর্নির আম্মুও ওদের দুইবোনকে বেশ ভালো শিক্ষা দিয়েছেন। অর্নি বড় হয়েছে, ওর নিজস্ব একটা ভালো লাগা থাকতেই পারে। এটাকে দোষ মনে করছেন কেন আপা?
— আসলেই হয়েছে কী আপা, অর্নির মায়ের মতো অত বেখেয়ালি হতে পারি নাই। নিজের মেয়েদের বেশ যত্ন করে বড় করেছি। অর্নিদের মতো এত চটপটে না ওরা। জানেন আমার মৌমি অর্নির চেয়ে দুই মাসের বড়, কিন্তু এমন ছেলে পটাতে শেখেনি। আমরা যার কাছে বিয়ে দিবো তাতেই ওর মত থাকবে। তাই খুব চিন্তায় থাকি ভালো ঘর আর ভালো বর পাওয়া বড় ভাগ্যের ব্যাপার।
— এত ভাববেন না, আপনার মেয়ে যথেষ্ট সুন্দরী। নিশ্চয়ই ও খুব ভালো ঘর, ভালো বর পাবে। ভরসা রাখেন সৃষ্টিকর্তার উপর।
— আপা আপনি আমার মৌমিরে দেখেছেন, ওকে আপনার পছন্দ হয়েছে? ও সুন্দর না? অর্নির চেয়েও কিন্তু আমার মেয়ে বেশি সুন্দর।
ওনার শেষ কথায় মৃদুলের আম্মু হতবাক হয়ে গেলেন। মনে মনে বললেন “হায় আল্লাহ, এ কেমন ফুপুর পাল্লায় পড়লাম আমি ।”
চলবে