চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-১৮

0
145

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১৮)
সায়লা সুলতানা লাকী

অর্নি মুখের হলুদ মুছে মুছে ট্যিসুর স্তুপ খাঁড়া করছে আর যারা ওর কপাল ছেড়ে গালে মুখে হলুদ মেখেছে তাদের গোষ্ঠী উদ্ধার করছে বকে বকে। হঠাৎ খেয়াল করল উর্মি ঝড়ের গতিতে রুমে ঢুকল। তাৎক্ষণিকভাবে সব এলোমেলো ফেলেই অর্নি দৌড়ে ওয়াসরুমে ঢুকে গেল দখল করতে। ও ভেবেছিল উর্মি এসেই ওয়াসরুমে ঢুকে যাবে খালি পেয়ে। এরপর ও ওর কাজ শেষ করে ফ্রেশ হয়ে তবেই বেরোবে। ততক্ষণ বাহিরে ওকে এই হলুদের সাথে বসে থাকতে হবে উর্মির বেরোনোর অপেক্ষায় । এটা কখনোই সম্ভব না। আফটার অল আগামীকাল ওর বিয়ের অনুষ্ঠান, ওকে আগে ঘুমোতে হবে, বেশি সতেজতা ফুটায় রাখতে হবে চেহারায়। এরপর অনুষ্ঠানে ওকে টাইম মতো পৌছাঁতে হবে এবং সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগাতে হবে নিজেকে। আজ যেমন সবার আগে ও সেজে এসেছে আগামীকালও ঠিক তাই হতে হবে। কোথাও যেন ওর লেট না হয় সেটা দেখার দায়িত্ব ওর আম্মু ওকেই দিয়েছেন। তাই আর হেলা করল না আগেভাগে ওয়াসরুম দখলদারিত্বে নেমে গেল।

উর্মির অবশ্য সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। রুমে ঢুকে খেয়ালও করেনি অর্নি কী করছে? ও সোজা বারান্দায় চলে গেল। ওখানের রকিং চেয়ারটায় ধপাস করে বসে পড়ল। মনে হল শরীরের সব ভার ও চেয়ারের উপরই ছেড়ে দিল। নিরালায় বসতেই কেন যেনো ভেতরে চেপে রাখা কষ্টটুকু ঠেলে হুহুহু করে কান্না হয়ে বেরিয়ে এল।

অর্নি যখন বেরোলো তখন ঘড়ির কাটায় একটা ত্রিশ মিনিট বাজলো। ও বেশ অবাক হয়েছে উর্মি এর মধ্যে একবারও দরজায় নক করেনি দেখে। এতটা সময় ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিল এটা যেনো অর্নির হজম হতে চাইল না। বিষয়টা আসলে কী তা জানার জন্য পা টিপে টিপে বারান্দায় গেল। প্রথম দেখে ভাবলো উর্মি হয়তো অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে। হঠাৎ করেই বোনের জন্য মায়া হল। ইচ্ছে করেই একটু বেশি সময় নিয়েছে গোসল করতে। এতটা না নিলেও পারতো। উর্মিকে ডাকবে কি না তা ভেবে একবার এগোলো উঠানোর জন্য। আর তখনই মনে হল উঠে আবার ঝগড়া শুরু করবে কেন এতক্ষণ সময় লাগালো বলে। আগামীকাল চলে যাবে অহেতুক আর ঝগড়ায় না জড়ানোই ভালো এই ভেবে যেই পেছন ফেরল ওকে না ডেকেই চলে যাবে বলে ঠিক তখনই উর্মি শব্দ করে নাকের পানি ঝেরে ফেলল ট্যিসুতে। অর্নি বুঝেগেল উর্মি ঘুমায় নাই, ও কান্না করছে। আর তাই রেগে বলে উঠল
— আগামীকাল তো চলেই যাবো। এই ওয়াসরুম তুই একাই ব্যবহার করবি। আজ না হয় আমার একটু বেশি সময় লাগল তাই বলে তোর কাঁদতে হবে? বোনের জন্য এতটুকু সেক্রিফাইজ করতে পারলি না? কেঁদে কেটে এখন চোখ মুখ ফুলিয়ে আম্মুর কাছে বিচার নিয়ে যাবি, তাই তো? যা, এখনি যা। আম্মু এসে…
— উফফ ঘ্যানঘ্যান বন্ধ করো তো! কাল চলে যাবে, যাও আজ সারারাতই ওয়াসরুমে থাকো। কেউ মানা করেনি। তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। শুধু আমাকে বিরক্ত করো না প্লিজ।
— ইন্না-লিল্লাহ, আমার উপর তোর এত রাগ? নক করলি না কেন তাহলে ? আমি…
— উফফ, বললাম তো, তুমি যতক্ষণ খুশি থাকো ওয়াসরুমে আমার কোনো সমস্যা নেই।
— তাহলে কাঁদছিস কেন?
— আমার ইচ্ছে।
— এই দাঁড়া! সমস্যার গন্ধ পাচ্ছি। ওই ব্যাটা মৃদুলের সাথে কিছু হয়েছে কি? ঘটনা তো বেশি সুবিধার বলে মনে হচ্ছে না।
— মৃদুল আমার কে? ওর সাথে আমার আবার কী হবে? বাজে কথা বলো না। যাও, বিরক্ত করো না।
— যাও বললেই তো যাওয়া যায় না। দাঁড়া, ব্যাটার একদিন কী আমার একদিন। ওরে আমি আগেও সাবধান করেছিলাম তোরে বিরক্ত না করতে…
— ধূরররর, তোমার সমস্যা কী? বললাম না বিরক্ত করবা না!
— কী হয়েছে তা আগে আমাকে বল, কাঁদলে কোনো সমস্যারই সমাধান হয় না।
— বললাম তো কিছু হয় নাই।
— আচ্ছা, বুঝছি তুই বলবি না। আমি মৃদুলকে জিজ্ঞেস করি।
— একদম না, তুমি ওকে কল দিবে কেন? ওর সাথে আমার কী হবে? ও আমার কে?
— আজব! তুই ওকে ভালোবাসিস, ও তোকে ভালোবাসে।
— ও তোমাকে বলেছে যে ও আমাকে ভালোবাসে? আমি কী তোমাকে বলেছি আমি ওকে ভালোবাসি?
— কিছু জিনিস বলতে হয় না। আমি কী কঁচি খুকি? আমাকে বলতে হবে কেন? এখানে..
— প্লিজ আপু, এখন ওর কথা আর বলো না। ও এখন অন্য কারো…
— এই দাঁড়া! অন্য কারো মানে?
— মৌমি আপুর সাথে তার বিয়ের কথা হচ্ছে..
— কে বলে এমন কথা? এসব কী মামদু আলাপসালাপ?
— বড় ফুপু আবদার করেছে..
— এটা এমন কোনো বিষয় না যে কেউ আবদার করলেই তাকে দিয়ে দিতে হবে।
— আমি দেওয়ার কে? মৃদুল কি আমার?
— উফফ উর্মি গাঁধি, এখন এসব মান অভিমান রাগ গোস্যার সময় না। তুই জানিস না মৃদুল তোর?
— না জানি না। সে কখনোই বলেনি সে আমার।
— তাহলে কাঁদছিস কেন?
— এমনিই আমার কান্না পাচ্ছে।
— এসব সিনেম্যাটিক ডায়লগ ছাড়, ন্যাকামি আমি একদম সহ্য করতে পারি না। তোর জিনিস কেউ নিয়ে যাচ্ছে, আর তুই সেই বিরহে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছিস। বাহ শেষ পর্যন্ত তুই বাংলা সিনেমার অরুনা বিশ্বাস হবি? আমি তো ভেবেছিলাম….
— আগে কথা ঠিক করো, মৃদুলকে জিনিস বলছো কেন? ও শুনলে আবার রেগে যাবে।
— এখন তো মনে হচ্ছে মৃদুলকে জিনিস বলায় তোর বেশি রাগ হচ্ছে।
— হচ্ছেই তো, একজন মানুষকে তুমি জিনিস বলবে কেন?
— আসলে তুই ভালোভাবে ফেঁসেছিস। মৃদুল তোরে ভালোভাবেই ফাঁসাইছে।
— সে তো মৌমি আপুর সাথেও..
— এই সাবধান, যাকে ভালোবাসিস তাকে সন্দেহ করবি না। সন্দেহ ভয়ানক ব্যাধি।
— আরে সন্দেহ না, এটা সত্য। বড়ফুপু আবার তাদের দুজনকে যুগলবন্দী করেছে মোবাইলে। কতগুলো ছবিও দেখালো বাসার সবাইকে।
এইটুকু বলতে গিয়েও উর্মি ফুপিয়ে কেঁদে উঠল আবার।
— এই এমন ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদবি না। আসলে তুই আমার টাইপের না। দেখলি তো পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিতে একবারও ভাবিনি, নিজের ভালোবাসাকে নিজের করে নিতে। তোরা আমার চাওয়ার কাছে পরাজিত হয়ে কোমর বেঁধে নেমেছিল যেন আমি ফয়সালকে পাই। তুই আমার মতো না। তুই একটা অখাদ্য, ভীতু। তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। তুই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবি মৃদুল হিহিহি করে হাসতে হাসতে মৌমিকে বিয়ে করছে।
— তুমি এত নিষ্ঠুর হও কীভাবে? জানো এ কথা ভাবতেই আমার কষ্ট হচ্ছে…
— হুমম তুমি কষ্ট নিয়েই থাকো আর গীত গাও “আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি…” ও না না না, তুই তো আর মৃদুলকে পেতে কিছু করবি না। আর তুই ওর যোগ্যও না। তুই গাইবি “বুকটা ফাইট্যা যায়.. বুকটা ফইট্যা যাই…. বন্ধু যখন বউ লইয়া আমার বাড়ির সামনে দিয়া রঙ্গ কইরা হাইট্যা যায়….. বুকটা ফাইট্যা যায়।
— জাস্ট অ্যা মিনিট, কি বলতে চাও তুমি? আমি মৃদুলের যোগ্য না? মৃদুলের জন্য আমি…
— গলাবাজি করিস না, প্রুভ কর তুই মৃদুলের যোগ্য। যদি নিজেকে যোগ্য ভাবিস তবে মৃদুল কেন মৌমিকে বিয়ে করতে চাইবে?
— মৃদুল কখন চাইলো?
— ও না চাইলে বড় ফুপু হাওয়া থেকে কথা বানিয়ে বলল? এইসব জটলা মৃদুলই লাগাইছে। শালায় জিনিসই একটা।
— আপু ভাষা ঠিক কর..
— তুই থাক তোর ভাষা নিয়ে আর বিরহ নিয়ে। তোর মতো অপদার্থের সাথে কথা বলে আমি আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করি না। যাই সুখ সুখ অনুভূতির সাথে শেষ ব্যাচলর ঘুম ঘুমাই। টাটা, গুড নাইট মিস লুজার।
কথাটা শেষ করেই ঠাস করে বারান্দার দরজাটা লাগিয়ে দিল অর্নি।
উর্মি অবাক হয়ে ওর লাস্ট কথাটা শুনল। নিজেকে লুজার বলবে কেউ এটা ভাবতেই যেন কষ্ট আরো বেড়ে গেল সেই সাথে জমলো জন্মের ক্ষোভ মৃদুলের উপর। আসলেই সব দোষ এই লোকটার। সে কেন ওকে এত সুন্দর স্বপ্নের কথা বলে আবার মৌমির সাথে হিহি হাহা করল। এগুলো না করলে তো ফুপু আর ছবি তুলতে পারত না। রাগ এখন চরম স্তরে আছে, একে নামানো সম্ভব না। পাশে রাখা মোবাইলটা হাতে নিয়ে সুইস অন করতেই দেখল ঘড়ির কাটায় আড়াইটা বাজে। হু কেয়ারস্! ওই রাতেই মৃদুলকে কল দিল। রিং পুরোটা বেজে বন্ধ হয়ে গেল কিন্তু তাতেও উর্মি দমলো না পরপর তনবার কল দিল। লাস্ট বার কল রিসিভ হল–
— হ্যালো
— খুব ঘুমাচ্ছেন, তাই না? ফাজিল লোকের পাল্লায় পড়ছি দেখছি। সব অশান্তি চাবি দিয়ে চালু করে দিয়ে সে আরামে দিব্যি ঘুমাচ্ছে। এসব দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে আমার। ইচ্ছে করছে এক বালতি পানি ঢেলে দেই।
— এ আর নতুন কী? সেদিনও তো দিলে–
— মানে? কোনদিন দিলাম? কী আবোলতাবোল বলছেন? কী খেয়ে ঘুমিয়েছেন?
— আহা দম নাও ডার্লিং, গলায় আটকাবে তো! শ্বাস নাও। ধীরে ধীরে বকা দাও। আমি শুনছি তো।
— ইন্না লিল্লাহ! এই লোক তো এখনো ঘুমের ঘোরে আছে। কীসব আবোলতাবোল বলে যাচ্ছে। এই উঠেন আপনি, উঠেন বলছি।
— হুমম।
এবার মৃদুল ঘুম জড়ানো স্বরেই আস্তে করে একটু শব্দ করল। আর তখন উর্মি গেল আরো চটে।
— মৃদুল…
বলে জোরেশোরে একটা ধমক দিয়ে উঠতেই মৃদুল ধরমর করে উঠে বসল।
— হ্যা, হ্যালো। কি হয়েছে?
— কী হয়েছে মানে? আপনি স্বপ্ন দেখেন আমাকে নিয়ে আর বিয়ে করতে যাচ্ছেন মৌমি আপুকে, ফাইজলামির একটা লিমিট তো রাখবেন, না কি?
— কি? বিয়ে কাকে করতে যাচ্ছি?
— কাকে আবার? যার সাথে হিহি হাহা করে হেসে হেসে গল্প করেছেন আর তার মা সেই ছবি তুলে জনে জনে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। মৌমি আপুতো বিয়ের খুশিতে গদগদ করছে।
— আসতাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ। কিসব বলছো তুমি? আমি কখন হিহি হাহা করে ছবি তুললাম?
— আপনি এখনো ঘুমাচ্ছেন?
— এমন ভয়ংকর কথা শোনার পর আর ঘুম থাকে চোখে?
— আমাকে তুমি করে বলছেন যে?
— উফফ, আগে বলো তুমি এসব কি বলছো এত রাতে, আমি তো কিছুই বুঝতেছি না।
— ইশশশ ন্যাকা, কিচ্ছু বুঝতেছি না। আপনি নাকি মৌমি আপুকে পছন্দ করেছেন, তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন? এ বাসায়তো আপনার আর মৌমি আপুর বিয়ের সানাই বাজতে শুরু করেছে।
— প্লিজ দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধ কর উর্মি। আমার মাথা ভণভণ করছে।
— আগে হুশে আসেন।
— এক কাপ চা ছাড়া তা সম্ভব না।
— ইশশ কী ঢং! মৌমি আপুকে বলব না কি চা বানিয়ে দিয়ে আসতে? চা খেয়ে হুশে আসেন। আপনার হুঁশ হওয়া দরকার।
(মৃদুল বুঝল ও তাল হারিয়ে তুমি করে সম্মোধন করছে যা উর্মি হজম করতে পারছে না। তাই নিজেকে সংযত করে আস্তে ধীরে বলল)
— আমি হুঁশেই আছি উর্মি। আমি কখনোই বলিনি মৌমি না সৌমি যাই হোক ওনাকে আমার পছন্দের কথা।
— মৌমি আপুর সাথে এত হিহি হাহা করেছেন কেন?
— জি ম্যাডাম আপনি চলে যাওয়ার পর উনি এসে গল্প জুড়েছিলেন। তাকে আপু ডাকতে নিষেধও করলেন সেই সময়ে। আমি পরে মিথিলার ডাকে ওখান থেকে সরেছিলাম। আপনি তো আমাকে ওনার সামনে বিপদে ফেলে চলে গিয়েছিলেন এখন এই অভিযোগ যাতে তুলতে পারেন সেই জন্য। কাহিনি তো তখন পুরোটা বুঝিনি আপনি কেন ওভাবে কথা শেষ না করে চলে গেলেন।
— আপনার আম্মুও তো বড় ফুপুকে বলেছে তার মৌমি আপু পছন্দ।
— বিয়ে কী আম্মু করবে? উনি কী তার মেয়েকে আম্মুর সাথে বিয়ে দিবেন?
— ছি ছি! এসব কী অসভ্যতা।
— তাহলে এত রাতে এত পেরেশানি কেন? এতদিনে কতগুলো মেয়ে দেখেছি, কাউকে কি আমি পছন্দ করতে পেরেছি? না কি আমার পছন্দ ছাড়াই আমার পরিবার আমাকে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে?
— আজব, এত রেগে যাচ্ছেন কেন?
— ঘুম থেকে টেনে তুলে কীসব অবাস্তব কথা নিয়ে… আর হ্যা স্বর শুনে বোঝা যাচ্ছে এর আগে কয়েক পশলা বৃষ্টিও ঝরেছে অপর প্রান্তে, তাই না?
— আমার ভেতর কী হচ্ছে তা আপনি বুঝবেন কীভাবে?
— আমি তো বুঝব না, তা অন্য আর কাকে বুঝাতে চাইছেন?
— আজব! আর কাকে বুঝাতে চাইলাম?
— তো! তো, কথাতো এখানেই শেষ। আমারটা আমিই বুঝব। এতটুকু আস্থাতো অন্তত রাখা যেত। যে কেউ আমার সম্পর্কে মিথ্যা কিছু বললেই তা কেন বিশ্বাস করতে হবে? কেউ যদি গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে আমাকে বলে যে উর্মি মৃদুলকে রেখে অন্যকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। আমি তো তা জীবনেও বিশ্বাস করব না।
— আপনি আর আমি বুঝি এক হলাম? মেয়েরা লয়ালিস্ট…
— আস্থাহীন সম্পর্ক বেশ নড়বড়ে। জানেন তো যেখানে স্পেস পায় সেখানেই কেউ এসে বসে যায়।
— আমি অতশত বুঝি না। বড়ফুপুকে আমি চিনি, জানি। তিনি যা চান তা নিয়ে ছাড়েন। আগামীকাল আপনার আম্মুকে কাছে পেয়েই..
— আগামীকাল না, বলেন আজ। আজ বিয়ের প্রোগ্রামে আম্মুকে আপনার বড়ফুপু কাছেই পাবেন না। আম্মু আন্টিকে খুব পছন্দ করেন, আন্টির বিচক্ষণতায় আম্মু মুগ্ধ। আজ আন্টির বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে চলে যাবে, তার জন্য বিশেষ একটা মুহূর্ত কাটবে । আম্মু দেখবেন তার পাশেই থাকবে তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে।
— ইন্না-লিল্লাহ, বিপদ তো তাহলে আরো বাড়লো। বড়ফুপুতো বিয়ের কথা বলতে আম্মুকেই দায়িত্ব দিয়েছেন। আম্মুতো কোনো দায়িত্ব নিলে তা পূরণ করে।
— ও মাই গড! মহিলাতো ভীষণ ভয়ংকর। ঠিক কার কথা কে ফেলতে পারবে না তা বুঝেশুনে এগিয়েছেন। হিসাবে তো দেখছি বড্ড পাকা।
মৃদুলের শেষ কথা শুনেই উর্মি আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল
— তাহলে এখন কী হবে?
মৃদুল কোনো কথা বলল না ঠোট টিপে হেসে চুপ করে উর্মির কান্না উপভোগ করতে লাগল চোখ বন্ধ করে। মনে মনে বলল, এই অনুভূতিটুকু কেন অন্য অনুভূতির সাথে মিলে না? এই অনুভূতি এত মধুর কেন? একটা মেয়ে আমায় হারানোর ভয়ে কাঁদছে, এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?এই এক জীবনে সুখ দেওয়ার জন্য এই অনুভূতিটুকুই কি যথেষ্ট না?

মৃদুল চুপ করে আছে দেখে উর্মি আরো জোর কেঁদে উঠে বলল
— কী হল আপনি চুপ করে বসে আছেন কেন? কিছু বলছেন না কেন? আবার ঘুমালেন নাকি? কেমন মানুষ আপনি?
— অনেক কথা যাও যে ব’লে
কোনো কথা না বলি…
তোমার ভাষা বোঝার আশা
দিয়েছি জলাঞ্জলি।
(এরপর লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বলল)
কারো কান্না এসে আমার কানে কানে অনেক কিছু বলে গেল। আমি সেই কথাতেই বুদ হয়ে আছি।

উর্মি কাঁদতে ভুলে গেল মৃদুলের এমন কথায়, মনে মনে বলল “এই লোক এমন বিপদেও রোমান্স খুঁজে বেড়ায় কীভাবে? একে নিয়ে তো মহা বিপদ।”

চলবে