চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-০২

0
185

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ২)
সায়লা সুলতানা লাকী

উর্মির সাথে দেখা হওয়ার পরেরদিন অফিসে ঢোকার পথে মৃদুল কেনো যেন একবার পেছন ফিরে তাকালো। এই পথেই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা চলাফেরা করে, আড্ডা দেয়। আগে তো কখনো তাকায়নি তবে আজ কেন তাকালো? কাকেই বা খুঁজলো তা ও বুঝতে পারলো না। অফিসে ঢুকে নিজের ডেস্কে বসে কাজে মন দিল। কিন্তু মন তো আর কাজে লাগল না বরং সে অস্থির হয়ে উঠলো মালাই চায়ের জন্য। অন্য সময় হলে শফিককে ডেকে চা আনিয়ে নিত কিন্তু আজ তা করতে ইচ্ছে করল না বরং মন ফুড়ুৎ ফাড়ুৎ উড়াল দিতে চাইল চায়ের ওই টং দোকানটায় বসার জন্য। লক্ষ্মণটা ওর কাছে মোটেও ভালো ঠেকলো না। নিজেই আবার নিজের মনকে কড়া একটা ধমক দিয়ে শাসন করলো। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হল না, হয়ত তখনই নিচে নেমে যেত বেসামাল মনকে সামাল দিতে কিন্তু পারলো না। তখনই বড় স্যারের রুমের মিটিংয়ের ডাকটা গাব্বার সিং এর মতো হুংকার দিয়ে এল সামনে, যা এই যাত্রায় থামিয়ে দিল মৃদুলের মনের অস্থিরতাকে।
কাজের চাপ হল ভয়ংকর চাপ, এটা যে কোনো ঝড় তুফানকে আটকে দিতে পারে, সেখানে এই মনের আকুপাকু তেমন কিছুই না। কাজ শেষ হতে হতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল। মৃদুল যখন ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিচে নামল তখন আর আশা থাকল না যে আজও ও উর্মিকে দেখতে পাবে। ওর বান্ধবী যদি ওকে ওভাবে সেদিন শেষ সময়ে নাম ধরে না ডাকতো তবে হয়তো আর ওর নামটাও জানা হত না। এই মুহুর্তে নাম ছাড়া আর কিছুই জানে না মেয়েটার। এটাও শিওর না যে ও এই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতেই পড়ে, তবুও ও নব্বই ভাগ আশা রাখে যে মেয়েটা এখানেই পড়ে। আর এই পথেই একদিন আবার দেখা হবে।

এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল, আসা যাওয়ায় শুধু ওর চোখ উর্মিকে খোঁজে, আর অবশেষে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
এদিকে ওর মা নতুন এক পাত্রীর খোঁজ পেয়েছেন, এখন সেই বাসায় যাওয়ার জন্য সব গোছাচ্ছেন। ওকেও বলেছেন থাকতে। কিন্তু ওর মন সায় দিচ্ছে না নতুন কোনো পাত্রীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য কিন্তু মা’কেও সরাসরি কিছু বলতে পারছে না। বলবে কী, ও তো এখনো শিওর না উর্মির বিষয়টা নিয়ে। ওর মন এখন একটু উদাসী হয়েছে কারো হাওয়া লেগে, ঠিক এইটুকুই এছাড়া আর কিছুই ও জানে না।

উদাসী মনের চিকিৎসা করাতে একদিন অফিসেই গেলো না, নিজেকে অসুস্থ বলে জানিয়ে দিল সবাইকে । সকাল সকাল বেরিয়ে এল বাসা থেকে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছে বলে। অবশেষে মনের টানে এসে ঘাপটি মেরে বসে রইল ওই চায়ের টং দোকানটায়।
সাধনায় মেলে না এমন কিছু আছে না কি এই ভবে? নেই তো! ঠিকই আজ মিলে গেল উর্মি এই চায়ের দোকানেই।
চায়ের অর্ডার দিয়ে মেয়েটা ওর বন্ধুদের সাথে বসতেই মৃদুল এগিয়ে এসে বসল ওর সামনে
— ও এম জি, আপনি আবার? কাজকাম কিছু নাই, সারাক্ষণ কী এই চায়ের দোকানেই বসে থাকেন না কি?
—-উফফ এতক্ষণে জিনিসটাকে পেলাম….
—- এই সাবধান, আমাদের এলাকায় এসে আমাদের জিনিস বলছেন আপনার তো সাহস কম না। এক্ষুনি ডেকে সিনিয়র জুনিয়রদের দিয়ে মেরে তক্তা বানিয়ে ছাড়বো আপনাকে। মেয়েদের জিনিস বলে কত্ত বড় সাহস?
—- কেন জিনিস কী শুধু ছেলেদেরকেই বলা যায়? ডাকেন কাকে ডাকতে চান ডাকেন, আমিও একটু জানতে চাই বিষয়টা। দেখি তারা ছেলে হয়ে ছেলেদের জিনিস বলার কথা শুনে কী প্রতিক্রিয়া শো করে। ডাকেন, ডাকেন না ? না পারলে বলেন আমি ডেকে নেই।
— এক্সকিউজ মি ভাইয়া, আসলে সেদিনকার ঘটনার জন্য আপনি উর্মির উপর রেগে আছেন তা আমরা জানি, কিন্তু সেদিন তো ওর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। ও আন্ডার প্রেশারে ছিল। ওর উপর দায়িত্ব ছিল আপনাকে হেনস্তা করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার….
উর্মির পাশে বসা মেয়েটি একটু আগ বাড়িয়েই কথাটা বলে ঝামেলাটা এখানেই মিটিয়ে ফেলতে চাইল।
— দায়িত্বে ছিলো মানে? কে দিল সেই দায়িত্ব? বিষয়টা পরিস্কার করেন। এসব আগড়ম বাগড়ম বললেই আমি মেনে নেব তা ভাবছেন কেন?
— কে আবার? অর্নি আপু নিজেই দিয়েছিল। কারণ তিনি চাননি পাত্রী সেজে আপনাদের সামনে আসতে। উর্মির ব্যবহারে আপনি রেগে গিয়ে বিয়ে করবেন না বলে চলে গেলেই আপুর আর আপনাদের সামনে সেজে আসতে হতো না। বিষয়টা সিম্পল..
— ইয়ে..সস ভাবির আইডিয়াটাই ঠিক। ওই মেয়ের ভেতরে ঘাপলা ছিল। শুধু ঘাপলা না বিরাট ঘাপলা।কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম না। উনি রাজি নন তাহলে আমাদের ডাকলেন কেন আপনার পরিবার? তারা কী মেয়ের মতামত না নিয়েই বিয়ের আয়োজন করতে বসেছিলেন? আজব! এ যুগেও এমন হয় না কি? মৃদু ভ্রু কুঁচকে উর্মির দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল।
— জি আজবই লাগবে আপনার কাছে। থাকতেন যদি কোনো যৌথ পরিবারে তবে বুঝতেন কত ধানে কত চাল হয়! এখানে অভিভাবক কতজন হয়! কতজনের মনরক্ষা করে চলতে হয় পরিবারকে সুখী একটা রুপ দিতে। ছোটূের প্রান যায় যায় করে বড়দের তালিম শুনে শুনে। উর্মি একটু রেগেই কথাটা বলে ফেলল।
— এক্সকিউজ মি, যৌথ পরিবারের নামে এসব উদ্ভট ধারনা গছিয়ে দিয়েন না তো! পরিবারের আসল বিষয়টা এড়িয়ে যৌথ থাকাটা কতটা যে সুখের তাতো বুঝতেই পারছি। পরিবারকে সুখী রূপ দিতে যদি সেই পরিবারের কারো উপর জুলুম করতে হয় সেখানে সুখ খুঁজে পান কোথায়?
—- ভাই আপনি তো দেখছি অনেক ক্ষেপে আছেন….
— থাকব না মানে? জানেন সেদিন ওনাদের বাসায় রীতিমতো আমাদেরকে অপমান করা হয়েছিল। ওনার বোন যা করেছে তা কোনো ভদ্র ঘরের মেয়ে করতে পারে বলে আমার জানা নেই।
— এই শোনেন, আপনাকে আমি কেন এতটা প্রশয় দিচ্ছি তা বুঝতে পারছি না। আপনি সুযোগ পেয়ে আমাকে নানান কটু কথা শোনাচ্ছেন। বুঝতেই তো পারছেন আমার বোন আপনাকে বিয়ে করবে না তাহলে আর অহেতুক আমার পিছু নিচ্ছেন কেন?
— নাউজুবিল্লাহ, কে বলল আমি আপনার ওই পেত্নী মার্কা বোনকে বিয়ে করতে চাচ্ছি? এতটা খারাপ সময় মনে হয় না আমার এসেছে? আমি শুধু আমার পরিবারের সাথে হওয়া অন্যায় এর….
— মুখ সামলে কথা বলবেন বলছি? অর্নি আপু পেত্নি? অভদ্র একটা….
— অভদ্র যে কে তা আমার চেয়ে বেশি এখানে আর কে জানে?
—-ভাইয়া প্লিজ, প্লিজ ওই বিষয়টা নিয়ে আর কথা না’ইবা বললেন। অর্নি আপু আপনার হাত থেকে বাঁচতে উর্মিকে কাজে লাগিয়েছে। ওর ওখানে কোনো দোষ ছিলো না। অহেতুক ওকে দোষারোপ করা ছাড়েন।
— আপনার বোন সরাসরি কথাটা আপনার মা বাবা বা দাদিকেও তো বলতে পারতেন। আমাদের ওভাবে ডেকে নিয়ে অপমান কেন করালেন? উনি কী…
— ওরে ভাইয়া, দাদির কথা আর বইলেন না! সে তো আপনার প্রেমে পুরোটাই ডুবে ছিল। চাচিদের দিয়ে ভেতরে তিনবার খবর পাঠিয়েছিলেন অর্নি আপুকে যে পাত্র তার খুউউইব পছন্দ হয়েছে। উর্মির আরেক বান্ধবী খুব রসিয়ে কথাটা বলে ফেলল।
— সে কথা আর বলতে, আমি মেয়ে হলে সেদিন ওনার দাদির দৃষ্টির জাদুতে প্র্যাগনেন্ট হয়ে যেতাম। ওরে আল্লাহ যেভাবে তিনি দৃষ্টি দিয়ে….
মৃদুল কথাটা আর শেষ করতে পারল না। উর্মির সাথে থাকা তিনজন একসাথে জোরে হি হি হি করে হেসে উঠল ওর ওইটুকু কথা শুনে।
— ছি! কথার কী ধরণ! দাদিকে নিয়ে এত বাজে মন্তব্য! ইয়াক…
এবার উর্মি নিজের বিরক্তি প্রকাশ করল।
— এ্যাহ ন্যাকা! এখন তো খুব ইয়াক ইয়াক বলছেন , হত যদি আমার মতো বলাৎকার তবেই বুঝতেন।
— অসহ্য একটা মানুষ আপনি , মুখের লাগাম টানেন প্লিজ। নয়ত…
— নয়ত কী? বলেন, থামলেন কেন?
— আমি থামিনি, আপনি থামিয়েছেন। মাঝখানে কথা বলে কথাটাও শেষ করতে দিলেন না। আজব একটা….
—- আচ্ছা ভাই হয়েছে এবার ঝগড়া বন্ধ করেন দুজন। উর্মির কাছ থেকে চায়ের দামটা নিয়ে যান। ওকে ভার মুক্ত করেন।
—- হ্যে হ্যে হ্যে এক কাপ চায়ের দামের লেইগ্যা এত কাইজ্যা হইল এতক্ষণ এইহানে? ব্যাডা মানুষ এক কাপ চায়ের দামের লেইগ্যা বইয়া থায়ে না। স্যার আসলে….
চা- ওয়ালা মামা বেশ মজা নিয়ে ওদের ঝগড়া উপভোগ করছিল যা ওরা কেউ টের পায়নি। এখন তিনি কথাটা বলতেই সবাই নড়েচড়ে বসল।
— মামা আপনে থামেন, বাদ দেন, এখন চা দেন।
— ভাই কি একাই খাবেন, না কি…
— আ…রে জায়গা মতো টোকা দিয়েছিস তো, এইবার বান্দা ঝগড়া ভুলে লেজ গুটিয়ে পালাবে, হিহিহি। বলে উর্মি মুখ চেপে হেসে ফেলল।
— মানে? আপনাদের চা খাওয়ানোর ভয়ে আমি পালাবো? এত ছোটো মন নিয়ে বাহিরে কী করেন, যান বাসায় গিয়ে ওই মন সিন্দুকে রাখেন। যত্নে থাকবে। মামা ওনাদের সবাইকে চা দেন। আর এই আমার চা চোরকে ডাবল দিয়েন।
— মানে?
— ভাইয়া এত বড় মিসটেক করলেন? চোর হবে না তো! বলেন চুন্নি। বলে হিহিহি করে হেসে উঠল তিনজনই।
— আমার বয়েই গেছে আপনার টাকায় চা খাই আবার। আবার এটা নিয়ে জ্বালিয়ে মারবেন কিছুদিন ।
— খালা আপনাগো চায়ের ফরমায়েশ দেন, হেগো দুইজনেরটা তো জানি।
চা- ওয়ালা মামার কথায় আর উর্মির কথার জবাব দিল না মৃদুল। শুধু আড় চোখে ওকে দেখল কয়েকবার। মেয়েটা রাগে লাল হয়ে আছে। চা হাতে পেয়ে মৃদুল চায়ে চুমুক দিতে দিতে আবারও আড় চোখে কয়েকবার উর্মির দিকে তাকালো। একবার বলতে চাইলো, এই মেয়ে শুধু চা চুন্নি না সে এখন আমার শান্তিও চুরি করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে।
উর্মি ওর বান্ধবীদের উপর রাগ ঝারতে লাগল। ওদের চড় থাপ্পড় দিতেও কার্পণ্য করল না। তাই আর খেয়াল করল না মৃদুল যে চায়ের কাপের উপর দিয়ে কেবল ওকেই দেখছে।
— আরে মারছিস কেন? তুই না খেলে আমরা খাই কী করে?
— যেভাবে এক কাপ চা পেয়ে বন্ধুত্ব ভুলে গেলি তোরা সেভাবেই খাবি ? এই লোকের হয়ে কথা বলছিস তোরা, আজব তো! তোরা জানিস আমি এখন কতটা প্রেশারে আছি…
— এসব নয় ছয় করে পার পাওয়া সম্ভব না মিস উর্মি, আমি এসবের শেষ দেখে তবেই ছাড়ব বলে রাখলাম।
— ছাড়বো মানে? আপনি ধরলেন কবে?
— ধরলাম মানে…. ইয়ে মানে…আমি এই বিষয়টার সুরাহা দেখেই ছাড়ব বলছি।
— আপনাকে কেউ ছাড়তে বলেনি, ধরে থাকেন, শক্ত করে ধরেন যাতে ঝাড়া দিলে ছিটকে না যান ভাইয়া।
— আপনি কী পাগল? কীসের শেষ দেখবেন? আপা একজনকে ভালোবাসে, তাকেই বিয়ে করবে। আপনাকে জীবনেও বিয়ে করবে না। বুঝলেন, না কি এখনো ক্লিয়ার হয়নি বিষয়টা!
— না হয়নি, আমি আপনার বোনের বিয়েটাই দেখতে চাই। যে বিয়ের জন্য আমার আম্মু আব্বু এতটা কষ্ট পেল সেই বিয়ে তো দেখতেই হয়। কি বলেন ঠিক না?
— সেই আশা কবে নাগাদ পূর্ণ হবে তা কেবল আল্লাহ ভালো জানেন। প্লিজ এই ব্যাপারে আর জ্বালাইয়েন না। এমনিতেই খুব টেনশনে আছি।
—- এই উর্মি তুই বস, ভাইয়ার সাথে ঝামেলা মানে লেনদেন মিটিয়ে পরে আসিস। আমরা যাই।
বলে ওরা তিনজন উঠে চলে গেল।
উর্মিও উঠত কিন্তু মৃদুলকে একটা রিকোয়েস্ট করার ছিল তাই বসে রইল আর বন্ধুদের যেতে দিল।
—- তা এখানে বসেই লেনদেন শেষ করবেন না কি সামনে এগোবেন।
উর্মি খেয়াল করল চা-ওয়ালা মামা ঘুরঘুর করে ওকে দেখছে বারবার যেটা বরং ওর কাছে ভীষণ বিরক্তিকর ঠেকছে তাই ব্যাগ কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
— না, আমি এগোবো, আপনি কি করবেন তা আপনার ব্যাপার..
বলেই ও বেরিয়ে এল। মৃদুল চায়ের দাম পরিশোধ করে ওর পিছু নিল। দুজন চুপচাপ পাশাপাশি হাঁটছে কী বলে শুরু করবে তা ভাবছিলো উর্মি, ঠিক তখনই মৃদুল নিরবতা ভাঙল..
— এই পথে বুঝি সবসময় হাঁটা হয়?
— সবসময় না মাঝে মাঝে।
— বন্ধুদের সাথে? না কি….
—- না কি?
—- বিশেষ কারো সাথে…
—- বিশেষ আবার কে? এই নামে কাউকে তো চিনি না। তবে বন্ধুদের সাথে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় যখন বুড়ো হয়ে যাবো তখন স্মৃতির পাতায় এই পথের কথা মনে করে কোনো একদিন হয়ত এর মায়ায় কাঁদবো।
— বুড়ো না বুড়ি।
— আজব!
— পুরোনো সেই দিনের কথা বলবি কীরে হায়. এই রবীন্দ্র সঙ্গীতটা নিশ্চয়ই বাজবে ব্যাকগ্রাউন্ডে সেদিন ।
— আপনি রবীন্দ্র সঙ্গীতও শুনেন, মানে জানেন?
—- কেন জানলে বুঝি পাপ হয়?
— উফফ অসহ্য একটা…
—- কথায় কথায় এত রেগে যান কেন? এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না, ছেড়ে দিন।
— আপনি আমার পরিবারের উপর রেগে আছেন প্লিজ সেই রাগটা ভুলে যান। আমার ফ্যামেলী জেনে বুঝে আপনাদের ডেকে অপমান করেননি। আসলে অর্নি আপু তার বিষয়টা আগে কাউকে বলেনি, ঠিক যখন জেনেছে আপনারা আসবেন তখন আমাকে বলেছে। আম্মু জেনেছে আপনারা যাওয়ার পর। এর আগে আম্মুকে বলার মতো একটু সুযোগও পায়নি। চাচ্চুরা বিয়ের প্রপোজাল এনেছেন, দাদিই বাসায় ডেকেছেন আপনাদের সেখানে আমারও আগ বাড়িয়ে আম্মুকে কিছু বলার সাহস ছিলো না। আপনাকে যদি কারো পছন্দ না হত, মানে চাচি চাচ্চু, দাদি, বাবা মা তাহলে হয়ত আর কোনো ঝামেলা হত না কিন্তু সবাই এক এক করে তাদের মতামত অর্নি আপুকে জানিয়ে যাচ্ছিল যা রীতিমতো আপুর জন্য মনে সিডরের মতো অশান্তির ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ছিল সেই সময়ে। নিজেকে ওই সুরত দেওয়া ছাড়া আপুরও আর পথ ছিলো না বিয়ে ভাঙার। ফয়সাল ভাই ঠিক এই মুহুর্তে বিয়েটা করতে পারছেন না। মানে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারছেন না। সমস্যাটা সেখানেই…

চলবে