চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-০৩

0
168

#চায়ের_কাপেই_ জমুক_প্রেম (পর্ব ৩)
সায়লা সুলতানা লাকী

উর্মি একটু অনুনয়ের স্বরে এবার বলল
–প্লিজ সিচুয়েশনটা বুঝে আমাদের উপর যে আপনাদের ক্ষোভ আছে তা ঝেরে ফেলে দিন।
— মিস্টার ফয়সাল কেন এখন প্রস্তাব দিতে পারছেন না, সে বিষয়ে কিছু জানেন?
— হুমমম, ভাইয়ার বোন লন্ডনে সেটেল্ড, তার বেবি হয়েছে সেই সুবাদে ভাইয়ার মা এখন ওখানেই আছেন। দেশে ভাইয়া একা, এমন একা একটা ছেলের প্রস্তাবে আমাদের ফ্যামেলী কখনোই অর্নি আপুকে বিয়ে দিবে না। এমন প্রস্তাবই মেনে নিবে না কেউ । তারা পরিবার ছাড়া কোনো কথাই বলবেন না।
— ওনার মা আসবেন কবে?
—- সে বিষয়ে কিছু বলেননি। উনি শুধু বলেছেন এই মুহুর্তে উনি ওনার মাকে আসতে বলতে পারবেন না।
— ওনার সাথে কথা বলতে বলেন আপনার বোনকে, এভাবে তিনি কতদিন ঝুলিয়ে রাখবেন?
— আপু তো বলেই কিন্তু ফয়সাল ভাই…
— মানে কি? ওই লোকের সমস্যা কী? প্রেম করবে অথচ গার্লফ্রেন্ডের সমস্যা বুঝবে না?
— এদিকে আম্মুর সুর আরও ভয়ংকর। আম্মু তো বলেছে ফয়সাল ভাই না কি একজন ভণ্ড মানুষ, সে আপুকে চিট করছে। আর তা শুনে গত দুদিন ধরে আপু নাওয়া খাওয়া সব ছেড়ে বসে আছে। রাতে ঘুমোতে পারিনি আপুর কান্নার শব্দে।
—- লাগতাহে ডাল মে কুচ কালা …..
— আমার তো আপুর চিন্তায় পুরো ডালটাকেই কালো লাগছে এখন। কী করব তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না, তার মধ্যে আপনি আছেন একজন আউল ফাউল…
—- এই সাবধান! আমাকে আউল ফাউল বলবেন না। আপনি আউল ফাউল, আপনার বোন আউল ফাউল, আর তাই ভাগ্যে জুটিয়েছে এক ভণ্ড প্রেমিক বাউল।
— আপনি কী পরিমান বিরক্তিকর তা জানেন? ভাগ্য ভালো আপুর যে আপনার সাথে ওর বিয়ে হয়নি। দুইদিনও আপনাকে সহ্য করতে পারতো না আপু।
— কে যে বেঁচেছে তা উপরওয়ালাই ভালো জানে, মানে সময়ই তা বলে দেবে।
— দেখুন আমি আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। বিষয় তো পুরোটাই জানলেন এবার নিশ্চয়ই আমাদের অবস্থাটা বুঝেছেন…..
—- আচ্ছা আপনারাই যান না কেউ সরাসরি ফরসাল সাহেবের কাছে তার সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে কেনো ই’বা তাকে ভণ্ড, চিট ভাবছে আপনার আম্মু?
— আমি একবার যেতে চেয়েছিলাম, মানে ফয়সাল ভাইয়ের সাথে দেখা করে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আম্মু সাহস করতে পারছে না আমাকে একা পাঠাতে। যতই আধুনিক হোক, মা জাত সব সেই আগের জায়গাতেই আছে। মেয়ের সেফটি নিয়ে রিস্ক নিতে চায় না। আজব!
— আপনি একা যাবেন কেন আপনার বোনকে নিয়ে যান।
— ওহ নো! এখন তো আপু ফয়সাল ভাইয়ের সাথে মোবাইল ছাড় আর যোগাযোগ করতে পারছে না আম্মুর নিষেধের কারণে ।
— আপনার আম্মুর টেনশন অমূলক না। আজকাল কতজন কত রকম ফাঁদ ফেলে রেখেছে শিকার ধরার জন্য তা আপনি কি জানেন? একা না যাওয়ায় ভালো। আচ্ছা এক কাজ করি, চলেন আমি যাই আপনার সাথে। মিস্টার ফয়সালকে সামনে থেকে দেখে তার সাথে কথা বলে আন্দাজ লাগাই আসলে সে মানুষটা কেমন?
— আপনি? আপনি যাবেন আমার সাথে? এটা আবার কেমন দেখায় বলেন তো? লোকে জানলে কী বলবে?
— লোকে জানবে কেন? আর যদিও জানে তাতে সমস্যা কী? আমি কী অপরিচিত কেউ?
— পরিচিত তেমন কেউও না। আপনার সাথে আমার তেমন কোনো…
— পরিচিত না মানে? আপনার সাথে আমার লেনদেন আছে, আমি এখনো আপনার কাছে এক কাপ চা পাই। সেই চায়ের একটা ইজ্জত আছে না? আপনার আর আমার সম্পর্কটাকে এতো হেলাফেলা করে দেখছেন কেন? এই চা যে-ই সে-ই চা না, একেবারে কড়া লিকারে মালাই ভাসানো দুধ চা।
—- হা হা হা, আপনি পারেনও বটে। আপনি আমার কাছে এক কাপ চা পান না, চায়ের দামটা পান।নিয়ে নেন এখনি।
— উঁহু থাক, সময় সুযোগ মতো চেয়ে নিব। যতক্ষণ আপনার কাছে থাকবে ততক্ষণ দাবি খাটিয়ে কথা বলা যাবে। নিলেই তো সব শেষ।
— আজব একজন মানুষের পাল্লায় পড়লাম দেখছি। আচ্ছা আমি আম্মুর সাথে কথা বলে জানাবো আপনাকে। আজ তবে আসি।
—- জানাবেন কীভাবে? নাম্বারটা দিয়ে যান।
—জানাবো আমি, তাই নাম্বারটা আমার দরকার, তাই না?
— ও হ্যে তাই তো! আচ্ছা আমার নাম্বারটাই নিন।
—- লাগবে না, আপনার নাম্বার আমাদের বাসায় আছে।
— কোথায়? কীভাবে?
— হিহিহি, আপনার প্রোফাইলে।
— ভেরি ইন্টেলিজেন্ট।
— হিহিহি, বাই।
উর্মি রিকশা ডেকে উঠে গেল। মৃদুল ওর হাসির রিনিঝিনি শব্দে বুদ হয়ে রইল কিছুক্ষণ।

উর্মি যখন অর্নির কাছে ফয়সালের ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বার চাইল তখনই ও বেশ রেগে গেল। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল ও এসব নিয়ে কী করবে? ওর এসব কেন দরকার? তখন উর্মি জানালো ওর আম্মুই বলেছেন এগুলো ওর থেকে চেয়ে নিতে। আর তখন অর্নির রাগ আর কয়েকগুন বেড়ে গেল, এবার গলার স্বর আরও উঁচিয়ে চিৎকার করে কাঁদতেও শুরু করল। ওর আম্মু কেন যে ফয়সালকে মন থেকে মেনে নিতে পারছে না তা ওর বোধগম্য নয়। ও এত করে বুঝিয়ে বলল যে ফয়সাল খুব ভালো ছেলে তবুও তার মনের শংকা দূর হয় না। বারবার ওকে নানান সন্দেহজনক আখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন যা অর্নিকে কষ্ট দিতে যথেষ্ট। ওর চিৎকারের শব্দ পেয়ে এবার ওদের মাও ছুটে এলেন ওদের রুমে।
— কী হচ্ছে এইসব অর্নি? অসভ্যদের মতো এত চিৎকার করছিস কেন? ফ্যামেলীর কাছে নাক কান তো কবেই কাটয়েছিস এখন আবার নতুন এই ঢং কী কারণে শুরু করেছিস?
— আম্মু প্লিজ কাউকে ভালোবাসা কোনো গুনাহ না। তুমি এমন করে কেন বলছো?
— তুই এখন আমাকে পাপপূণ্য বুঝাতে আসিস না। যথেষ্ট হয়েছে। তোকে দেখভাল করতে পারিনি সেই তকমা এরই মধ্যে ঝুটিয়েছি থলিতে এরচেয়ে আরও কঠিন কিছু বহন করতে পারব না।
— আম্মু ফয়সাল খুবই ভালো ছেলে, তুমি ওর উপর ভরসা করতে পারো। প্লিজ বিলিভ মি।
— আম্মু ভরসা করতে চাচ্ছে বলেই তো তার ঠিকানাটা চাচ্ছে। তুমি অযথা ক্যাচাল বাড়াইতেছো ক্যান আপু?
—- তুই চুপ থাক, তুই কী জানিস? আম্মু ফয়সালের ঠিকানা নিয়ে কাকে পাঠাবে ওর খোঁজ খবর নিতে? চাচ্চুদের? তারা কী করবে জানো? তারা গিয়ে ফয়সালকে হুমকিধামকি দিয়ে দূরে কোথাও সরিয়ে দিবে। তারা কখনোই আমার চাওয়াকে মূল্য দিবে না।
— যেই ছেলে তোর চাচ্চুদের হুমকিধামকিতে ভয় পেয়ে দূরে সরে যাবে তাকেই তুই চাস? আযব তো! এই ছেলে পরে যে কোনো উসিলায় তোকে ছেড়ে চলে যেতে পারে অর্নি?
— না পারে না। ও কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না। এটা আমার বিশ্বাস, ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। ও ঠক,বাটপার না।
—- প্রেম মানুষকে অন্ধ করে, আজ তার সাক্ষাৎ প্রমান মিলল। তোর চাচ্চুরা যাবে না। অন্য কেউ যাবে। তুই ঠিকানা দে।
— তাহলে আর কে যাবে?
— মিস্টার মৃদুল যাবেন।
—- মৃদুল মানে? ওই পাত্রটা? কেন যাবে? নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে। আমি ওদের তাড়িয়ে দিয়েছি এখন তার প্রতিশোধ নিবে পরে আমাকে বাধ্য করবে তার সাথে বিয়েতে….
—- ইয়াক! দিবাস্বপ্ন দেখা ছেড়ে দাও আপু, ও কোনোদিনও তোমাকে বিয়ে করবে না। ও বলেছে তোমার মতো পেত্নীকে বিয়ে করার মতো খারাপ দিন নাকি তার এখনও আসেনি, বুঝছো?
— এই তুই ওই লোককে ও ও করে বলছিস কেন? তোর সাথে তার কী সম্পর্ক? তার সাথে তুই কোথায় যোগাযোগ করিস?
—- তো তুমি এখন আমার পেছনে লাগছো? আমার সাথে তার যোগাযোগ কোথায় কীভাবে হয়েছে তা আমি আম্মুকে ক্লিয়ার করেছি, এই মুহুর্তে তোমাকে কিছু বলতে চাই না।
— ওই লোক কেন আমার বিষয়ে নাক গলাবে?
— ওই লোক শুধু আমাকে হেল্প করতে যাবে। নাথিং টু ডু এলস।
— এত কথার কী আছে? আমি বলেছি ঠিকানা দিতে তুই দিবি ব্যস কথা শেষ।
—- দেখো আম্মু একটা বাইরের ছেলে মৃদুল সেও তোমার এত আস্থাভাজন হয়ে উঠল যে তুমি তাকে তোমার হবু মেয়েজামাইয়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করছো। এটা কিন্তু খুবই ইনসাল্টিং..
— অবশ্যই মৃদুল আমার আস্থাভাজন একজন। ওকে আমি চিনি জানি, ওর পরিবারকে চিনি জানি। ওর মতো এত পরোপকারী ছেলে আর একটাও এখনো দেখিনি। এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরও ও আমাদের হেল্প করতে চাচ্ছে।
— নিশ্চয়ই কোনো স্বার্থ আছে। তুমি পারলেও আমি ওকে একটুও বিশ্বাস করতে পারছি না। এই উর্মি তুই একটা বাচ্চা মেয়ে, সাবধান আর ওই লোকের সাথে মিশবি না।
— অসম্ভব, আমি তোমার কথা শুনতে পারব না। আফটার অল ওই লোক আমার কাছে পাওনাদার। তার পাওনা আদায় করার আগ পর্যন্ত তার সাথে মিশবো।
— পাওনাদার মানে?
— হুমম উনি আমার কাছে এক কাপ চা পান। ওটার টাকা উনি নিবেন না। কেবল এক কাপ চা নিবেন।
— হুমম, সব ঝামেলা মিটে গেলে তুই মৃদুলকে বাসায় ডেকে চা বানিয়ে খাইয়ে দিস। দেনা পাওনা মিটে যাবে। আর কোনো কথা না অর্নি ঠিকানা দিয়ে খেতে যা তোর দাদি এখনই ডাকাডাকি শুরু করবেন। বলে তিনি রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
অর্নি উপায়ান্তর না পেয়ে উর্মিকে ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বার দিয়ে এখন এক মনে আল্লাহকে স্মরন করতে লাগল।

ডিনার শেষ করে ধীরে সুস্থে উর্মি মোবাইল নিয়ে বসল বারান্দার দোলনায়। অর্নি এখন বিছানায় বসে ফয়সালকে কল দিয়ে কান্নাকাটি শুরু করবে আর সারাদিন কী কী হল সব জানাবে। এসবে বিরক্ত হয়েই উর্মি এখন ঘুম আসার আগ সময়টুকু বারান্দায় বসে এটা অর্নিও বুঝে গেছে। এতে অবশ্য ও বেশ খুশিই হয় কারণ তখন মনখুলে ফয়সালের সাথে কথা বলতে পারে।

দুটো রিং বাজতেই কলটা রিসিভ হল—-
— হ্যালো।
— আসসালামু আলাইকুম আমি উ…
— ওয়ালাইকুম আস সালাম, আপনি উর্মি তা বুঝেছি।
— আজব! কীভাবে বুঝলেন? আমিতো এখনো…
— এই রাতে আমাকে আপনি ছাড়া আর কে কল দিতে পারে বলেন তো?
— মানে? আপনার বন্ধু বান্ধব, কলিগ কতজনইতো আছে।
— উঁহু, তারা কল দিতে রাতের এই সময়টাকে কখনোই বেছে নিবে না।
— উফফফ স্যরি, একটু বেশি লেট করে ফেলেছি আমি। আসলে ডিনার আমরা পরিবারের সবাই একসাথে করি তো তাই একটু লম্বা সময় ব্যয় হয়ে যায়। এরপর…
— হা হা হা, আপনাকে এই রূপে মানাচ্ছে না।
— মানে কী? বুঝলাম না।
— উফফ স্যরি, এতটা বিনয়….
— তারমানে আপনি কী মনে করেন আমাকে? আমি কী অভদ্র? আমি বেয়াদব? আমি…
— এইতো ক্ষেপছে পাগল….
— আবার পাগল বলছেন আমাকে? ধুর আমারই ভুল হয়েছে এর সাথে কথা বলতে…
— হা হা হা, মাথা ঠান্ডা করেন। আমি একটু বাজিয়ে দেখলাম আপনি আসল উর্মি কি না।
— ফাইজলামি করার আর জায়গা পান না।
— না পাই না। আর আপাতত আর কোনো জায়গা খুঁজতেও চাই না।
— অদ্ভুত লোকতো আপনি!
— বাদ দেন, এখন বলেন আসল কথা। কী কারণে কল দিলেন?
— আমি ঠিকানা পেয়েছি, আপনি কবে কখন সময় দিতে পারবেন।
— ঠিকানাটা মেসেঞ্জারে দেওয়া যাবে?
— উঁহু, তাহলে আপনি অযথাই আমাকে মেসেঞ্জারে নক করবেন।
—- হা হা হা, আপনি বুঝি আমার সঙ্গকে ভয় পাচ্ছেন?
—- আমি কাউকে ভয় পাই না, আসলে আমি এই ঝামেলা মিটে গেলে আপনাকে ডেকে আমাদের বাসায় এককাপ বানিয়ে খাইয়ে লেনদেন শেষ করে এরপর থেকে আপনার সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখতে চাচ্ছি না।
—- কেনো তা কী জানতে পারি?
উর্মি এর কারণ কী তা বলতে চাচ্ছে না তাই চুপ করে আছে আর তা দেখে মৃদুল আবার বলল
— চুপ করে আসেন যে, বিশেষ কেউ কী নিষেধ করেছে আমার সাথে মিশতে? আপনার লাইফে বিশেষ কেউ কী আছেন আপনার বোনের মতো?
— বিশেষ কেউ মানে? আপুর মতো বলতে কী বোঝাচ্ছেন? আপনি আমাকে কী ভাবেন?
— না মানে আমার সাথে যোগাযোগ রাখলে সমস্যা কী তাই জানতে চাচ্ছিলাম এই আর কী?
—- আপনি খুব বাজে একটা মানুষ, সবসময় আমাকে মেন্টাল টর্চার করেন। এমন মানুষ থেকে আমি সবসময় দূরে থাকি।
— আমি? আমি আপনাকে….
— উফফ অসহ্য একটা! আসল প্রসঙ্গ রেখে এখন জাহাজের খবর রাখতে চলে গেছেন তিনি।
— ওওও স্যরি,স্যরি। আসেন দুজনে আবার আদায় ফিরে আসি। বলেন আদা কত করে কেজি?
— আজব! ফাইজলামির একটা লিমিট থাকে কিন্তু!
—- হা হা হা, আচ্ছা যান আর কোনো কথাই বলব না, যা বলছি তাতেই রেগে যাচ্ছেন।
— কথা বলবেন না মানে? কবে কখন যাবেন তা বলবেন না? আমাকে তো সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হবে। হুট করে বললেই তো আর আমি দৌড়োতে পারব না।
— ওকে আগামীকাল অফিসে গিয়ে সিডিউলটা দেখি এরপর চায়ের দোকানে বসে টাইম ফিক্সড করব।
— আবার চায়ের দোকানে?
— হুমম, দুজনের চায়ের টেস্ট এক তাই যে কেউ আগে গিয়ে দুজনের জন্য অর্ডার দিলেই হবে। সময় বেঁচে যাবে দোকানে বসার। ওকে, আজ আর কথা বাড়াবো না। ঘুমাবো। গুড নাইট। বলে কলটা কেটে দিল অপর প্রান্তে উর্মিকে হ্যা বা না কিছু বলতে না দিয়েই।
মোবাইল নামিয়ে উর্মি হতবাক হয়ে চেয়ে রইল মৃদুলের আচরণ দেখে।

চলবে