চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-০৪

0
157

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ৪)
সায়লা সুলতানা লাকী

কথামতো ঠিক পাঁচটায় চায়ের দোকানে গিয়ে দেখল মৃদুল আগেভাগেই এসে বসে আছে। দেরি হল কি না তা আরেকবার জানতে মোবাইলে টাইমটা দেখল। উঁহু একদম কাটায় কাটায় পাঁচটা বাজে, মনে মনে বলল— এই লোক তো দেখছি একটু বেশিই ডেস্পারেট…
আর কিছু ভাবতে পারল না তার আগেই ওকে দেখে চা-ওয়ালা মামা পান খাওয়া দাত ক্যালিয়ে হেসে বলে উঠল
—- আমার চা রেডি হওনের আগেই আপনের চায়ের পাটনার আইয়া পড়ছে মামা।
তার কথা শুনে মৃদুল মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাথা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখল সত্যি সত্যিই উর্মি চলে এসেছে। তাই ও নিজেও একটু নড়েচড়ে বসে উর্মির বসার জন্য জায়গা করে দিল ওরই বসা লম্বা টুলটায়। অথচ চা-ওয়ালা মামার কথায় যে উর্মির মেজাজ খারাপ হয়েছে তা আর খেয়াল করল না।
—- মামা এইটা কী বললেন? আমি কেন তার চায়ের পার্টনার হতে যাবো?
— চ্যাতেন ক্যা খালা? মামায় আইসাই দুইকাপ চায়ের অর্ডার দিছে একই ডিমান্ডে। তাই…
— একই রকম হলেই কী আমি তার চায়ের পার্টনার হয়ে গেলাম?
— আরে মিস উর্মি আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন? মাথা ঠান্ডা করুন। আগে বসুন। কাজের কথা বলি। ফয়সাল ভাইয়ের অফিস কয়টা পর্যন্ত চলে তা বলুন।

হঠাৎ কাজের কথা উঠায় উর্মি পেছনের কথা থামিয়ে মৃদুলের কথায় ধ্যান দিল
— তাতো জানি না। সব অফিস যেমন চলে তারটাও হয়তো তেমনই চলে।
— বোকা মেয়ের মতো কথা বলবেন না। সব অফিস কী এক রুলে চলে? প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর আলাদা আলাদা রুলস থাকে। অসুবিধা নেই আপনি অর্নি আপুকে জিজ্ঞেস করে দেখেন।
— এক্সকিউজ মি, আপনি আপুকে আপু বলছেন কেন?
— উফফ মেয়েটা কাজের চেয়ে অকাজের কথাই বেশি বলে। আপনার আপু তাই আপু বললাম।
— হ্যা আমি অকাজের কথাই বেশি বলি। আমার আপু হলেই আপনি আপু বলবেন? এসেছিলেন তো বিয়ে করতে আপু রাজি হয়নি বলে হয়নি বিয়েটা…..
—- আরেএএএ আমার……. বাদ দেন। আপনি ফয়সাল ভাইয়ের অফিসের এড্রেসটাই দেন।
এবার উর্মি কার্ডটা ব্যাগ থেকে বের করে দিল। মৃদুল কার্ডে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে একটা কল দিল। দুটো রিং বাজতেই কল রিসিভ হল
— হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।
—- ওয়ালাইকুম আস সালাম, মিস্টার ফয়সাল বলছেন?
— জি আমি ফয়সাল মাহমুদ বলছি।
— স্যার আমি আপনার সাথে একটু দেখা করতে চাচ্ছি। আপনার অফিসে ঠিক কখন এলে দেখা হবে?
— অফিস আওয়ারের মধ্যে এনি টাইম এলেই সাক্ষাৎ হতে পারে।
— ও স্যরি, আসল বিষয়টাই স্কিপ করে গিয়েছি। মানে আপনার অফিস কয়টা পর্যন্ত থাকে। আমারটা পাঁচটায় শেষ, এরপর হলে আমার জন্য ভালো হয়।
— এক্সকিউজ মি, আমি কী জানতে পারি আপনার পরিচয়টা।
— উঁহু, ওটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। ফেইস টু ফেইস বসেই পরিচিত হতে চাচ্ছি।
— রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। দেখাটা কী অফিসেই করতে হবে?
— হা হা হা, ভালো বলেছেন। রহস্যজনকই বটে। জি অফিসেই মিট করতে চাচ্ছি।
— আসুন আগামীকাল পাঁচটার পরই আসুন। আমি অপেক্ষায় থাকব।
— ওকে, দেখা হবে।বাই।
কলটা কাটতেই দেখল উর্মি কেমন চোখ ছোট করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আর তা দেখে মৃদুল একটু হেসে বলল
— এমন কুটনিদের মতো করে তাকিয়ে আছেন কেন?
— ওই লোকের সাথে এত হাসির কী হল? মনে হচ্ছে আপনাকে দিয়ে কাজটা হবে না। আপনাকেও সে আপুর মতো পটিয়ে ফেলবে।
— হা হা হা, আপনি একটা চিজই বটে।
— মুখ সামলে কথা বলবেন বলছি।
— চা খান, চা। গরম থাকতেই খান। পরখ করে দেখেন কে বেশি গরম চা না আপনি?
— অসহ্য একটা মানুষ আপনি। এই চা খাই এরপর দুই কাপ পাওনা হয়ে আমাকে আরও বেশি জ্বালাতন করেন বেশ ভালোই আইডিয়া পেয়েছেন।
— স্যরি আজ আমি এক কাপের দাম দিয়েছি। আপনি খেয়ে আপনারটার দাম দিয়েন যদি সাথে টাকা থাকে।
বলেই নিজের কাপে চুমুক দিল।
উর্মি রাগে গজগজ করতে করতে কাপটা নিয়ে এক টানে চা শেষ করে দামটা মামাকে বুঝিয়ে দিল।
দুজন একসাথে দোকান থেকে বের হয়ে এল। তখনই উর্মি শুনল মৃদুল মিনমিন করে বলছে
“জানতাম তো এর কাছে চা ঠান্ডাই হবে। পেটে গিয়ে এখন চা এর গরমে গরম হবে।”
“এই কী বললেন? কাকে বললেন?” উর্মি চিৎকার করে বলে উঠতেই মৃদুল ওর বাইকে বসে বলল
—- মনে থাকে যেন আগামীকাল বিকেল পাঁচটায় ঠিক এখানটায় থাকবেন।
এরপর মিনমিন করে গেয়ে উঠলো “তু চিজ বারি হ্যা মাস্ত মাস্ত, তু চিজ বারি….”
উর্মি কিছু বলার আগেই ও ওর বাইক টেনে সামনে এগিয়ে গেল।
উর্মির ইচ্ছে করছিল রাস্তা থেকে একটা পাথর তুলে ওর গায়ে ছুঁড়ে মারতে। রাগে এখন মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে চোখ দুটো অক্ষিকোটর থেকে এখনই বের হয়ে আসবে। কিন্তু ওর ওই অগ্নিমূর্তি মৃদুল আর পেছন ফিরে দেখল না।

সময় মতোই ওরা পৌঁছে গেল ফয়সালের অফিসে। আজ উর্মি একটা বেবি পিংক কালারের কুর্তি পরেছে ফেডড জিন্সের সাথে। গলার ঝুলানো স্কাফটা আসলে কী কাজের জন্য তা বুঝতে বেশ কিছু সময় লেগেছে মৃদুলের। পেছনে চুলগুলোতে একটা গিট দিয়ে সামনে বুকের উপর বাকিটা দুপাশ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। চুলগুলো খোলা রাখলে মনে হয় আরও সুন্দর লাগত। যখন বাইকটা টানছিল তখন খোলা চুলগুলো উড়ত এটা ভাবতেই মনটা আনচান করছিল পেছনের গিটটা খুলে দেওয়ার জন্য যদিও তা ছিল অসম্ভব। উর্মি বাইকেই উঠতে চায়নি, মৃদুলের কথার মারপ্যাচে পড়ে উঠতে বাধ্য হয়েছে। মৃদুল যখন বলল উর্মি ভয় পাচ্ছে মৃদুলকে তাই বাইকে উঠতে চাচ্ছে না। বাইকে উঠলে যদি ওদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক হয়ে যায়, যদি মৃদুল গান শুরু করে “এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত তুমি বলো তো”।
পরবর্তীতে উর্মি শর্ত দিয়েছে বাইকে উঠলে একজন পাঠাওয়ের চালক যেমন আচরণ করেন তেমনটাই করতে হবে নচেৎ ও উঠবে না। পরে মৃদুল ওর শর্ত চোখ বুঝে মেনে নিয়েছিল।
যদিও ফয়সালের অফিসে এসে এখনো ভাড়া দেওয়ার কথা তুলেনি তাই মৃদুলও ওই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল। এবার দুজনই ফোকাস দিল ফয়সালের দিকে। অফিসে ঢুকে ঠিকঠাক ও কেবিনে এসে দাঁড়ালো দুজন। অরৃনি ঠিক যেমন বর্ননা দিয়েছিল ফয়সাল ঠিক তেমনই দেখতে। ফার্স্ট লুকিংয়ে মন্দ লাগেনি উর্মির।
এদিকে ওদেরকে দেখেই ফয়সাল বুঝে গেল যে মেয়েটা অর্নির বোন উর্মি। আর তাই এগিয়ে গিয়ে ওদের ভেতরে এনে বসতে দুটো চেয়ার টেনে দিল।
— তুমি আসবে তা অর্নি বলেছিল কিন্তু আজ তুমিই আসবে তা বুঝতে পারিনি।
— কেন বুঝতে পারেননি, আপু বুঝি আপনাকে কলে জানায়নি?
— অর্নি তো দুদিন ধরে রেগে আছে আমার উপর, কলই ধরছে না।
— সে কি কথা! শুনে বড়ই তাজ্জব হলাম।
— হা হা হা, উর্মি তুমি সত্যি সত্যিই অন্যরকম। এমন বিন্দাসই থেকো সবসময়। এবার পরিচিত হওয়া যাক—–
— আমি মৃদুল
— ও আচ্ছা আপনিই মৃদুল। হা হা হা, স্যরি ভাই আপনি যেই সিচুয়েশন ফেইস করেছেন তার জন্য সত্যিই আমি দুঃখিত। অর্নি প্রচন্ড টেনশনে ছিল। কী করা উচিৎ তা ভাববার মতো মানসিক স্থিরতা ওর তখন ছিলো না।
— বাহ! বেশ সুন্দর করে আমার আপুর ঘাড়ে সবটা দোষ দিয়ে দিলেন। আর নিজে থেকে গেলেন দুধে ধুয়া তুলশী পাতার মতো পবিত্র।
— হা হা হা, আমি কখন বললাম যে আমি নির্দোষ? সমস্যাতো আমাকে ঘিরেই। আমি…
— জি আপনি, আপনি আপুকে প্রেমের ট্রেপে ফেলে আমার আম্মু আব্বুকে ফ্যামেলীর কাছে লজ্জিত করেছেন। এখন আপুকে বিয়ে না করে দূর থেকে বসে মজা নিচ্ছেন আপুর দুঃসময় দেখে । সত্যি সত্যিই বলেন তো আপনি আসলে কী চান?
কথাগুলো বলতে গিয়ে উর্মি একটু বেশিই আক্রমনাত্মক হয়ে উঠল। অফিসে খুব বেশি কেউ এখন নেই তারপরও যে কজন আছেন তাদের সামনে ফয়সাল বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ল। অবস্থা বেগতিক দেখে মৃদুল এগিয়ে এল উর্মিকে শান্ত করতে
—- কাম ডাউন, কাম ডাউন। কী করছেন এগুলো? এটা একটা পাবলিক প্লেস। মাথা ঠান্ডা করুন। ধীরে ধীরে, শান্ত হোন। জোরে জোরে শ্বাস নিন।
— আপনাকে সাথে এনেছি কী আমার সাথে ফাইজলামো করতে?
—- উঁহু, মোটেও না। আমি যে জন্য এসেছি আমাকে তা করতে দিন। আপনি শান্ত হোন। সব জায়গায় উত্তেজিত হতে নেই। এত অল্পতেই যদি উত্তেজিত হয়ে যান তবে দুদিন পর দুলাভাইয়ের কাছে আবদার করবেন কোন মুখে?
— দুলাভাই মানে? আবদার করব মানে? আপনি…
বলতে বলতে উর্মি ওর দুই হাত মুঠো করে দাত খিঁচে রাগে কেঁপে উঠল। মৃদুল সামনেই পানির বোতল দেখে ওটা হাতে নিয়ে ক্যাপ খুলে ওর সামনে ধরে বলল
— পানি খান, আমার হাতেই খান। ফয়সাল সাহেব কিছু মনে করবেন না। আপনার হাতে দিতে পারছি না ভয়ে…
— অসহ্য একটা মানুষ সাথে করে নিয়ে এসেছি দেখছি। বলে উর্মি ব্যাগ উঠিয়ে ডেস্ক থেকে বেরিয়ে এল।
—- কতদিন ধরে সামলাচ্ছেন?
—- যেদিন থেকে দেখেছি।
—- দুই বোনই এক রকম।
—- উঁহু, উর্মি সিচুয়েশন বুঝে। যদি আমার ধারনা ভুল না হয় তবে বাহিরে গিয়েছে, মাথা ঠান্ড হলে ফিরে আসবে আবার।
—- বাব্বাহ, আপনার প্রশংসা না করে পারছি না। আপনার সম্পর্কে সবটাই আমি জেনেছি তাই আর আজ অবাক হচ্ছি না।
—- কিন্তু ভাইজান আমি তো আপনার সম্পর্কে কিছুই জানি না। মানে অর্নি আপু সম্ভবত বাসায় বিশেষ কিছু বলেনি। আন্টি পুরোটা না জেনে কোনো ডিসিশনে আসতে পারছেন না। পরিবারের বড় মেয়ে তাই……
—- সম্পর্ক বদলে দিলেন চোখের পলকে। হা হা হা, অর্নি আ..পু।
—- জি ভাই, উর্মির আপু তাই আপাতত তাকে আপুই বলছি। যেহেতু এসেছি উর্মির থ্রোতে…
—- হয়েছে হয়েছে আর ব্যাখা দিতে হবে না। আমি সবটাই বুঝেছি। আসলেই আপনাকে আমার দরকার ছিল। আমি একটা বিরাট সমস্যায় ফেঁসে গিয়েছি। কাউকে কিছু খুলে বলতে পারছি না। নিজেই ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হচ্ছিলাম।
— জি ভাই আমি শুনতেই এসেছি। আসলে এই মুহুর্তে ঝটলা মানে সমস্যাটা কোথায় বেঁধেছে তা জানতে চাচ্ছি ?
— আসলে হয়েছে কী ভাই—
— ভাইজান আমাকে মৃদুল বলে ডাকতে পারেন।আমি খুশি হব।
— হা হা হা, আচ্ছা মৃদুলই বলব এবং ছোট বলে তুমিই বলব। সমস্যাটা হল আমার ফ্যামেলীকে নিয়ে। তারা কেউ দেশে নেই। আমার আম্মু আছেন তার মেয়ের কাছে। ওনার মেয়ের বেবি হয়েছে গেল মাসের ১২ তারিখ। এখনই কীভাবে আমি আম্মুকে দেশে আসতে বলতে পারি বলেন তো?
— আপনার আম্মু আছেন তার মেয়ের কাছে। মানে আপনার বোনের বেবি…..
— এখানে একটু গ্যাপ আছে। আসলে আমার আব্বু মারা যাওয়ার পর আমার আম্মু একটা রিলেশনে জড়িয়ে যান, এরপর আমার পরিবারের অমতে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেন। এই মেয়েটা আম্মুর সেই ঘরের। এই বিয়ে যেমন আমরা কেউ মেনে নিতে পারিনি তেমনি এই মেয়েকেও না। প্লিজ আমার বোন বলে আমাকে বিব্রত করবে না।
— স্যরি ভাইয়া, আসলে..
— না না না স্যরি বলার কিছু নেই, তুমি তো আর এসব জানতে না। এখন এই বিষয়টা আমি অর্নিকে
জানিয়েছিলাম ও তা শুনে আরও ভেঙে পড়েছে। আমার মায়ের এমন ইতিহাস জানলে ওর দাদি চাচারা আরও নাকি বিয়েতে অমত করবে। এখন মানো আর না মানো এটা তো এখন আমার জীবনেরই একটা অংশ, তাই না? আম্মুকে তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না। কান টানলে যেমন মাথা আসে ঠিক তেমনি আম্মুকে টানলে এই বিষয়টাও আসে…
—এই বিষয়টাতে অর্নি আপু বা তার পরিবারকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। যেহেতু আপনি সন্তান হয়েই নিজে মেনে নিতে পারেননি এত বছর পরও সেখানে নতুন কেউ মেনে নেবে তা কী করে ভাববেন?
— কিন্তু এখন আমি কী করব? আম্মুকে দেশে আসতে বললে তার মেয়ে বলবে আমি হিংসা করে মাকে নিয়ে এসেছি। ওই মেয়ে তো আর আমার প্রয়োজন বুঝবে না।
— আপনার আম্মু ছাড়া আপনার পরিবারের আর কেউ নেই যে এই মুহুর্তে দায়িত্ব নিয়ে বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে অর্নি আপুদের বাসায় যেতে পারে?
— আম্মুর দ্বিতীয় বিয়ের পর সবাই আম্মুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আমার নানা বাড়িরাও। বিশ বছর পর আম্মু যখন মেয়ে নিয়ে আবার একা হল, মানে ওনার সেকেন্ড হাজবেন্ডও মারা গেলেন, তখন আমি আর ফেরাতে পারিনি। আমি আম্মুকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চেয়েছি। এরপর আম্মু তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ওই ঘরের দায়িত্ব শেষ করে আবার আমার কাছে চলে আসে আর তাই আমাকেও আমার চাচার কাছ থেকে সরে আসতে হয়েছে। এখন আমার তিনকূলে আম্মু ছাড়া আর কেউ নেই।
— এতো দেখছি কঠিন সমস্যা।
এরই মধ্যে উর্মি আবার ফিরে এল ডেস্কে ।
— কী হল আপনি এখনো এখানে বসে আছেন? যাবেন না?
— উর্মি বসো আপু। কথা বলি, সমস্যাটা সমাধানের একটা পথ বের করি আলোচনা করে। বলো কী খাবে?
—- কিছু না।
— রাগ কমলে বলবে ভাই। এখন পাওনা থাক।
— মৃদুল এতটা তোমাকে চিনে তা আন্দাজ করতে পারিনি। সত্যিই খুব অবাক হয়েছি। এমন পার্টনার…
— প্লিজ আমাকে অর্নি আপুর মতো ভাববেন না। আমি এসব পার্টনার বানিয়ে বেড়াই না।
— ভালোবাসা কী খারাপ? অর্নিকে আমি ভালোবাসি, ও আমাকে ভালোবাসে এতে খারাপটা দেখছো কোথায়?
— ওসব আপনি বুঝবেন না। আপনাদের এসবের জন্য আম্মু আব্বু অনেক ইনসাল্ট হয়েছেন। আম্মু খুব কেঁদেছে। আমার তখন আপনাদের দুজনকে খুন করতে ইচ্ছে করেছে।
— ভাই আপনি বলছেন ভালোবাসা খারাপ না। কিন্তু আপনি নিজেই কিন্তু তার বিরোধিতা করে এসেছেন বহুবছর ধরে।
— মৃদুল তুমি গুলিয়ে ফেলছো বিষয়টা।
— মোটেও না। যতটুকু আপনার কাছ থেকে জেনেছি তার ভিত্তিতেই বলছি, যে সম্পর্ককে আপনি সম্মান দিতে পারছেন না তা অন্যকেউ দিবে তা কীভাবে আশা করবেন? আপনি একজনের ভালোবাসাকে মেনে নিতে পারেননি। তাকে বিশবছর দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। এটাকে কী অস্বীকার করতে পারেন ভাই?
— আমার আর আমার মায়ের হিসাবটা ভিন্ন।
— এই সমাজ ভালোবাসারও একটা হিসাব সীমা বেঁধে দিয়েছে তা আজই জানলাম। আগে জানতাম ভালোবাসার কোনো সীমা নেই, ভালোবাসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ভালোবাসা এক স্বর্গীয় অনুভূতির নাম .. …

চলবে