চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-০৫

0
170

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ৫)
সায়লা সুলতানা লাকী

মৃদুলের কথায় ফয়সাল কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এরপর নিজেই আবার মৌনতা ভেঙে বলে
— আমার মা সদ্য বিধবা এক নারী যার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি একটা শ্বশুর বাড়ির বড় বৌ। তার সাথে জড়িয়ে আছে ওই পরিবারের পুত্র হারানোর বেদনা ….
—- তো! তো তার মন বলে কিছু থাকবে না? সে নতুন করে নিজেকে নিয়ে ভাববে না? তার নিজের কথা ভাবা পাপ? তার স্বামী মারা গিয়েছেন বলে তার সব হিসাব শেষ? তার সকল চাহিদা তার স্বামী সাথে করে নিয়ে গিয়েছেন পরপারে? তাহলে আর সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে লাভ হল কী? প্রতিটা মানুষের নিজেকে নিয়ে ভাববার, নিজেকে ভালোবাসবার অধিকার আছে। আপনি আমি চাইলেই সেই অধিকারে শেকল বাঁধতে পারি না। আপনার বাবা যখন ইন্তেকাল করেন তখন আপনার আম্মুর বয়স কত ছিল? ওই রকম বয়সের একজন নারীর একা পথচলা নিশ্চয়ই খুব মসৃন নয়। তা কখনো অনুভব করেছেন?
— আম্মু একা ছিলেন কোথায়? সাথে আমিও তো ছিলাম। সাথে আমার পুরো পরিবারও ছিল।
— কিন্তু তার একান্ত আপন মানুষটাই ছিল না, যে তাকে ভালোবাসায় মোড়ায়ে আগলে রাখতে পারতো। যে তার সকল ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে নিজের কাঁধটা, বুকটা পেতে দিত তার আরামের জন্য। আর তাই তো তার মন নিজেই খুঁজে নিয়েছিলেন এমন কাউকে। এতে তাকে দোষ দেওয়ার কোনো যুক্তি অন্তত পক্ষে আমি দেখি না।
— আসলে আমার সমস্যাটা আমার জায়গায় না বসলে তুমি বুঝবে না। ধরো তোমার আম্মু যদি এমনটা করত তাহলে তুমি মেনে নিতে পারতে? বলা যতটা সহজ বাস্তব ততটাই কঠিন।
— কঠিন করে দেখলে তো অবশ্যই বাস্তবকে কঠিন লাগবে। আর আমার কথা যদি বলেন তবে বলব — আমার আব্বু মারা গেলে আমি আম্মুকে জোর করে আবার নতুন করে বিয়ে হয়ত দিব না। তবে যদি দেখি আমার আম্মুর একাকী জীবন তার উপর বড় ভারী হয়ে যাচ্ছে, আম্মু নিজেই যদি তার বাকি জীবনকে রঙিন করতে নতুন কাউকে খুঁজে নিতে চাচ্ছে তখন আমি অন্তত আম্মুকে বাঁধা দিব না। আম্মুর আনন্দতেই নিজের আনন্দ খুঁজে নিব যেমনটা ছোট থেকেই নিয়েছি।
— বাদ দাও, আমি এখন আসলে এসব ভুলে অনেক সামনে এগিয়ে এসেছি।
— মোটেও না, আপনি এখনও সেই আগের জায়গাতেই আছেন শুধু সময় সময়ের গতিতে এগিয়ে এসেছে। আপনি আপনার জায়গা থেকে এক চুলও নড়েননি। এখনো একজন বিধবা নারীর ভালোবাসাকে পবিত্র ভাবতে শেখেননি, শেখেননি তেমন একজন একাকী পথচলা নারীর নতুন করে সঙ্গীর সান্নিধ্যে পাওয়ার আকাঙ্খাকে মেনে নিতে। ভালোবাসাকে একটা বয়স সীমা , একটা নিদিষ্ট ছকে ফেলতে চেয়েছেন।
— মৃদুুল তুমি আসলে বিষয়টার গভীরতা বুঝবে না। এটা বুঝতে হলে আমি যে পরিস্থিতি শিকার হয়েছি তোমাকেও সেখানে আসতে হবে। বাহির থেকে দেখে তুমি এমন অনেক ধরনের মন্তব্য করতে পারো আমি সেটাকে গায়ে লাগাচ্ছি না আপাতত।
— স্যরি ভাই, যদি আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন….. আসলে আমি তো ততটুকুই দেখেছি যতটুকু আপনি আমাকে দেখতে দিয়েছেন। ভুল হলে ক্ষমা চাচ্ছি।
—- না না ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। চল বাহিরে যাই, একটু কফি তো খেতেই পারি। অফিস ক্যান্টিনটা বন্ধ হয়ে গেছে এতক্ষণে ।
— ফয়সাল ভাই আজ কিছু খাবো না, আজ উঠবো তবে আরেকদিন আসব।
— অবশ্যই আসবে, যখন খুশি তখন চলে এসো। জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে।
— কেন আপনি বুঝি অফিসে বসেন শুধু আড্ডা দিতে? আরেকজন তো অফিসে যান শুধু নিচের চায়ের দোকানে বসে থাকতে। বাব্বাহ! আপনাদের কপাল ভালোই, চাকরি তো নয় যেন মামার বাড়ির মোয়া পেয়েছেন।
উর্মির কথা শুনে দুজন দুজনের দিকে একবার তাকালো এরপর দুজনই হোহোহো করে হেসে উঠল।

সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে মৃদুল উর্মিকে ওদের বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল। উর্মির আম্মুকে আগেই জানিয়েছিল যে মৃদুল ওকে বাসায় দিয়ে যাবে, তাই তিনি মৃদুলের অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু উর্মির সাথে না পেয়ে একটু রেগে গেলেন মেয়ের উপর। পরে উর্মি জানালো যে ও নিজেই মৃদুলকে উপরে আনেনি দাদি, চাচিদের ভয়ে। সেইরাতে ওর মা না হলেও দশবার এসেছেন মেয়ের কাছে ফয়সালের অফিসে গিয়ে কী কথা হল তা জানতে। যদিও উর্মি বিশেষ কিছুই বলতে পারেনি। ও যতটুকু সময় সামনে ছিল ততটুকুই বলেছে যা শুনে ওর মায়ের ভেতর রহস্য আরও বেশি দানা পাকিয়েছে। ফয়সালের মা নিয়ে ওনার কৌতুহল আরও বেড়েছে। সকালে অর্নিকেও জিজ্ঞেস করলেন ও কি জানে এ বিষয়ে। কিন্তু অর্নি ভাব দেখালো ও এ বিষয়ে তেমন কিচ্ছুই জানে না।

আজ ক্লাস নেই তাই উর্মি বাসাতেই আছে। একটু আরাম করে ঘুমাচ্ছে, সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। ক্লাস থাকলেও উপস্থিতি তেমন বেশি না থাকায় ক্লাসটাও গুরুত্বহীন হত। তারচেয়ে এই ভালো আরাম করে একটু ঘুমানোর সুযোগ পাওয়া গেল। সকালে ওর মা এসে দুবার ডেকে গিয়েছেন নাস্তার জন্য কিন্তু ও উঠেনি। ওর দাদিও একবার এসেছিলেন ওকে ডাকতে ও তখন দাদিকে টেনে জড়িয়ে বিছানায় শোয়ায় দিয়ে বলেছিল তাকেও ওর সাথে ঘুমাতে। এতে ওর দাদি আরো বেশি বিরক্ত হয়ে ছুটে পালিয়েছিলেন।
যখন পা দুলিয়ে জানালার ফাঁক গলে বৃষ্টির ছিটা উপভোগ করছিল উর্মি, ঠিক তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল। বেশ বিরক্ত হয়েই মোবাইলটা হাতে নিল আর তখন হল চক্ষু চড়কগাছ। স্ক্রিনে মৃদুলের নাম ভেসে উঠছে আর নিভছে। এই সকালে এই বান্দা কেন ওকে কল দিবে তার কারণ মাথায় এল না। ধরবে না কাটবে তা ভাবতে ভাবতে কলটা রিসিভই করল–
—- হ্যালো
—- হ্যালো, কেমন আছেন?
—- হুম, ভালো। এই সকালে কল দিলেন যে?
—- সকাল কোথায়? এগারোটা বাজে!
—- ও আচ্ছা জানতাম না এগারোটা যে সকাল না।
—- হা হা হা, হুমম সকালই। এখনও দুপুর হয়নি।
—- এখন কারণ বলেন।
—- না মানে বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে…
—- তো! বৃষ্টি হলে বুঝি আমাকে কল দিতে হবে?
—- না মানে ভাবলাম—
—- কী ভাবলেন? আমি আপনার কলের অপেক্ষায় আছি, আপনি কল দিলেই বলব–
— কী বলবেন?
—- কী বলব মানে? কী ভাবছেন আপনি? আমি বলব আপনি তো আমার কাছে এক কাপ চা পান, আসেন আপনাকে এক কাপ চা খাওয়াই…
—- হা হা হা, তা আসব নাকি?
—- মাত্থা খারাপ? কী বলেন এইসব? আপনি জানেন আমি একটা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। আমরা হুটহাট কোনো পুরুষকে বাসায় ডেকে এনে চা খাওয়াই না।
—- তা হলে কী হতে পারে বলেন তো? আর কী কী হতে পারে যা আমি চাইতে পারি….
—- আবার কী চাইবেন? প্লিজ এক কাপ চা’ই তো! এর জন্য এত হাঙ্গামা করবেন না। প্লিজ এখন আবার বলবেন না আমি আরামের ঘুম ভাঙিয়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে আপনাকে চা খাওয়াতে বাসায় এক গাদা মিথ্যা বলে বের হব। আমি কিন্তু তেমন মেয়ে না। বাই দা ওয়ে আপনি কী আমাকে তেমন কেউ ভাবছেন?
—- হা হা হা, উর্মি আপনি এখনো ঘুমাচ্ছিলেন? স্যরি আপনাকে ডিস্টার্ব করার জন্য। ইশশশ নিজে তো এই ওয়েদারে আরাম করে ঘুমাতে পারি না চাকরির জন্য কিন্তু আপনি পারছিলেন সেখানে কেমন ভিলেন হয়ে দেখা দিলাম। স্যরি, স্যরি,আয়্যাম ভেরি স্যরি।
—- এত ঢং করতে হবে না। এত বেশি বেশি স্যরি বলছেন কেন? আপনি কি আর জানতেন যে আজ আমার ক্লাস নেই, আমি ভার্সিটিতে যাইনি। হয়ত ভেবেছেন আমি আপনার আশেপাশেই আছি…
—- আপনি কী মন পড়তে পারেন। কী সাংঘাতিক মেয়ে আপনি! আপনার আশেপাশে থাকা যাবে না। কখন মন কী ভাববে আপনি তা ঠিকই ধরে ফেলবেন। ভেরি টেলেন্টড…
—- হিহিহিহি, আমি কারো মন পড়তে পারি না। আপনার মন কী ভাববে তা আমি জানতে পারব না। আপনি নিঃসন্দেহে আমার আশেপাশে থাকতে পারেন।
—- তার মানে আপনি চান আমি আপনার আশেপাশে থাকি….
—- জাস্ট এ মিনিট, এমন কথা আমি কখন বললাম? আজব তো! মনগড়া কথা বলবেন প্লিজ।বড্ড ছেঁচড়া লাগে আপনাকে।
—- এক্সকিউজ মি! আমি ছেঁচড়া না।
—- আহা! বললেন না তো! কল কেন দিয়েছেন?
—- এই তো ফয়সাল ভাইয়ের ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছিলাম। আবার কবে যাবো? আপনি যাবেন কী না সাথে? ইত্যাদি ইত্যাদি। থাক আপনি যেহেতু বাসায় তাহলে আর আজ বিষয়টা থাক। অন্য যেদিন এদিকে আসবেন জানাবেন একটু কষ্ট করে। এক কাপ চায়ের সাথে আলাপ করা যাবে….
— আরে অর্নি আপুর বিষয়টা বড় বেশি ইমার্জেন্সি, ওটাকে তো ফেলে রাখা যাবে না। আপনি একটু অপেক্ষা করেন আমি এক্ষুনি আসছি।
—- এই বৃষ্টিতে আপনি আসবেন?
—- হুমম, আসবো তো বললাম।
—- বাসায় দিবে তো?
—- আরে আম্মু ম্যানেজ করবে, অর্নি আপুর বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় এটা, এই ইস্যু ফেলে রাখতে চাইবেন না আম্মু। সমস্যাটা তো আমাদের তাই এর গুরুত্ব আমরা বুঝি, আপনি বুঝবেন না। রাখেন, কল কাটেন। আমাকে রেডি হতে দিন প্লিজ।
বলে নিজেই কল কেটে দিল।

অপর প্রান্তে মৃদুল মোবাইলটা নামিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আনমনে ফিক করে হেসে ফেলল। পাশের ডেস্ক থেকে হিমু বলে উঠল
—কী ব্যাপার মৃদুল , বেশ খুশি খুশি লাগছে। কার সাথে এতক্ষণ কথা হল? মনে হল প্রেমালাপ চলল? মিয়া তোমারই কপাল, বাসায় মুরুব্বিরা দিনরাত এক করে ফেলছে পাত্রী খুঁজতে খুঁজতে আর তুমি এখানে…

— আরে ভাই, কীসের মধ্যে কী? এখন আমি বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি, এরমধ্যে প্রেম করতে যাবো কোন দুঃখে? দরকারি মানে কাজের কথাই বলছিলাম কোনো প্রেমালাপ না।
মুখে কথাটা বলে এই রসালো আলাপটা এখানেই মাটি চাপা দিয়ে নিজের কাজে মন দিতে চাইলেও তা ঠিক মতো দিতে পারল না। বারবার মনটা উর্মিতেই আটকে যেতে লাগল। মেয়েটা সত্যি সত্যিই কী শুধু মাত্র অর্নির জন্য এই বৃষ্টিতে আরাম কাটিয়ে ছুটে আসবে ওর সাথে দেখা করতে না কি…….
এতটুকু ভাবতেই ওর ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো। এই ভাবনাটায় এমন সুখ সুখ অনুভূতির কারণ কী? ও নিজেও কী ফয়সালের কথা বলতেই উর্মিকে কল করেছিল না কি ও নিজেই চাইছিল উর্মির সঙ্গ?
ভাবনা থামল বসের রুমে যাওয়ার ডাক পেয়ে।

এদিকে উর্মি দ্রুত ফ্রেশ হয়ে সোজা ওর মায়ের রুমে ঢুকে গেল এই বৃষ্টিতে বের হওয়ার পারমিশন পেতে।
— আম্মু শোনো, আমি একটু বেরোবো। ওই মৃদুল সাহেব একটা জরুরি বিষয় নিয়ে কথা বলতে ডেকেছেন। আসলে উনি ভেবেছেন আমি ভার্সিটিতেই আছি, উনি তো আর জানেন না যে আজ আমার ক্লাস নেই…
— আম্মু শোনো, ওর কথা একদম শুনবে না। এসবই মিথ্যা বাহানা। আসলে ও আমার উপর ভর করে ওই মৃদুলের সাথে প্রেম করতে যাবে। তুমি যখন আমাকে আটকে রাখতে পারো তাহলে ওকেও আটকাতে হবে। ওকে তুমি যেতে দিবে না।

উর্মি তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল তাই খেয়াল করেনি অর্নি যে ওর মায়ের রুমেই বসে ছিল। হঠাৎ এমন আক্রমণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল তবে দমে গেল না। আরও বেশি তেড়ে উঠল অর্নির উপর
— তুমি সবাইকে নিজের মতো করে দেখো কেন? আমি তোমার মতো না তা তোমাকে আর কতবার বলব? আজকে এই বৃষ্টিতে নিজের আরাম ভুলে শুধু মাত্র তোমার ভালোর জন্য বের হচ্ছি, বুঝছো
অকৃতজ্ঞ মানুষ ।
— শোন তুই মাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছিস আর আমি এই ভার্সিটি পাশ করে ফেলেছি, তুই আমাকে কী শিখাচ্ছিস? তুই মা’কে মামার বাড়ির কলাগাছ বুঝাস?
— ছি ছি ছি কী অসভ্য আর স্বার্থপর একটা মানুষ তুমি! তুমি জানো ফয়সাল সাহেবও মৃদুলকে সমীহ করে কথা বলেছেন। তুমি বুঝো উনি কত ভালো মানুষ? উনি মোটেও তোমার ফয়সালের মতো না যে সারাক্ষণ প্রেম ট্রেম করে বেড়াবেন।
— মানে? তুই মৃদুলকে মৃদুল বলে ডাকিস কবে থেকে। ও আমাকে বিয়ে করতে এসেছিল…
— তো? তো এখন অর্নি আপু বলে তোমাকে…
—- এই কী হচ্ছে এসব তোদের মাঝে? ছি ছি ছি কী অবস্থা দুই বোনের? তোরা এত জঘন্য হলি কবে? কখন? সেই কখন থেকে বিচ্ছিরি ভবে ঝগড়া করে যাচ্ছিস….
— আম্মু ঠিকই বলেছো বেহুদা লোকের জন্য বেহুদা সময় নষ্ট করলাম। আমি যাই উনি অপেক্ষা করছেন। ওনার তো অফিস থেকে সময় বের করতে হয় বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে পারবেন না।
কথাটা শেষ করে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে এল রুম থেকে। পেছন থেকে ওর মা ডেকে সকালের নাস্তার কথা জিজ্ঞেস করল কিন্তু ও আর কোনো উত্তর দিলো না। ও জানে এখন অর্নি এমনিতেই ওর মায়ের কান ভারি করবে। একটু দাঁড়ালে দেখা যাবে ওর আম্মু আর বের হতে দিবে না। এমন রিস্ক এখন না নেওয়াই ভালো তাই দ্রুত বাসার বাহিরে চলে এল। ছাতা মাথায় রাস্তায় নেমে পড়ল মহা বিপদে, কারণ কোনো রিকশাই ভার্সিটির দিকে যাবে না। অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে এগিয়ে এসে একটা রিকশা পেয়ে উঠে বসল ভাড়ার কথা জিজ্ঞেস না করেই। ও জানে গন্তব্যে পৌঁছে রিকশাওয়ালা মামা আবোলতাবোল ভাড়া দাবি করে বসবে। কিন্তু এখন এসব কিছুই ওকে আটকাতে পারছে না। মনে হচ্ছে যেভাবেই হোক ওকে এখনই মৃদুলের সাথে দেখা করতে যেতেই হবে।

চলবে