চায়ের কাপেই জমুক প্রেম পর্ব-০৯

0
127

#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ৯)
সায়লা সুলতানা লাকী

দাদি বেশ মজা পাচ্ছেন এমন হুট খোলা রিকশায় বসে বৃষ্টি ভেজা ঢাকা শহরকে দেখে। ওনার চোখমুখ দেখে উর্মি তা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে। মানুষটা যুবতী কালে যে অনেক সুন্দরী ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই বয়সেই তার রূপের ধার সামলাতেই হিমশিম খায় তার নাতনিরা। রূপের দাপটেই মনে হয় দাদাজানকে শাসিয়ে সংসার করে গেছেন যার রেশ এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করে উর্মি। তিনি বের হলে সাধারণত মেঝ ছেলের প্রাইভেট কারেই বের হোন। কিন্তু আজ উর্মি বহু টেকনিক খাটিয়ে তবেই তাকে সবার মতে বাসার বাহির করেছেন, তাও আবার রিকশায় চড়িয়ে নিচ্ছে। সদ্য ধুয়ে যাওয়া চকচকে পাতাগুলোর দিকে তাকিয়ে উর্মি নিজেকে প্রশ্ন করল, “আজ যা করলাম তা কী কখনো করব বলে ভেবেছিলাম জীবনে? কেন করলাম তবে আজ ? অর্নি আপুর ভালোর জন্য? না কি…. কেবল মাত্র আমার প্রতি মৃদুলের বিশ্বাসটা ধরে রাখতেই করলাম। মৃদুল কী বিশ্বাসে বলে যে আমি সব পারব? ওর দাদিকে এইভাবে বাসা থেকে বের করাতো চাট্টিখানি কথা না! তবে কেন আমি এত বড় রিস্ক নিলাম? ”
প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরছিল ভনভন করে ঠিক তখনই দাদি জিজ্ঞেস করলেন
— তোর ডাক্তার ভালো তো? চোখ দেখে বলবে তো যে অপারেশন লাগবে না এমনি এমনিই ভালো হবে।
— উফফ দাদি একটু ধৈর্য্য ধর, দেখোই না ডাক্তার কী বলেন তোমাকে। উনি তো আর তোমার সাথে ফাইজলামি করতে দেখবেন না। তাই না?
— কী জানি আজ কালকার ডাক্তারদের মতিগতি বুঝি না। আমাদের আমলে ডাক্তার কত ভালো ছিল। হাতের নাড়ি টিপে রোগ বলে দিতে পারত। এত এত পরীক্ষা করতে বলতো না।
— হুমমম, দেখেছি তো তোমাদের আমলের ডাক্তারদের বিদ্যা তখনকার বাংলা সিনেমায়। ডাক্তার এসে স্টেথোস্কোপ বুকে লাগিয়ে বলে উঠত। সুখবর, মিষ্টি আনেন। আপনি বাবা হতে চলেছেন।
— চুপ বদমাশ, ওই এক কিচ্ছা নিয়ে পাড়িস শুধু দুইবোন হিহি হাহা করতে। ওইগুলা কী আর আসল?
— আচ্ছা আসল নকল রাখো, এখন দেখো তিনি তোমাকে কী বলেন। আর এতো রোমান্টিক মুডে বসে থেকো না। প্রকৃতি তোমার সাথে প্রেম করতে আসবে না পাশে আমি থাকলে। রিকশা একটু শক্ত করে ধর, নইলে স্প্রীড ব্রেকারের ধাক্কায় উলটায়ে পড়বা নিজের বেঁচে থাকা প্রানশক্তি নিয়ে।

ওর দাদি কিছু একটা বলতে যাবে তখনই রিকশাওয়ালা পেছন ফিরে বলল
— ডরাইন না আমি আস্তে আস্তে টানতাছি। মুরুব্বির কোনো অসুবিধা হইব না।

উর্মি মনে মনে বিরবির করল, “তুমি যে আস্তে টানছো তাতো বুঝতেই পারছি। এত আস্তে টানলে আমাদের পৌঁছাতে ঘণ্টা খানেক তো লাগবেই। চাচ্ছি যত দ্রুত কাজটা শেষ হয় ততই শান্তি তা না এক ঢিলা রিকশায় উঠে ফেসেছি। ”
এরই মধ্যে মৃদুল কল দিল উর্মিকে কিন্তু উর্মি কলটা রিসিভ করল না। পরে ও টেক্সট পাঠালো যে ও অপেক্ষায় আছে, ওদের আর কতক্ষণ লাগবে পৌঁছাতে। । উর্মিও পালটা টেক্সট পাঠালো ওদের অবস্থান জানিয়ে।
আজকে বাসায় চরম মিথ্যা বলে বেরিয়েছে দাদিকে নিয়ে। মৃদুলের জন্য মিথ্যা বলেছে বলে এমনিতেই ওর মন খারাপ, এখন ভয় হচ্ছে যদি ধরা পড়ে তবে কী হবে বাসায় এই বিষয়টা নিয়ে। তখন কে সামাল দিবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।

ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকতেই উর্মির দাদি কপাল কুঁচকে উর্মির দিকে তাকালেন। তিনি কিছু একটা আন্দাজ করে মনে মনে আহত হলেন। মনে হলে তার বিশ্বাসে আঘাত লাগায় তিনি প্রথমেই সহ্য করতে পারলেন না। কিন্তু মুখে কিছু আপাতত তিনি বললেন না। ওদের ঢুকতে দেখেই মৃদুল উঠে এগিয়ে এল। হঠাৎ সামনে মৃদুলকে দেখে মনের মধ্যে আরো নতুন শংকা উঁকি ঝুঁকি দিতে শুরু করল। এই মুহুর্তে কোনো শংকাকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তিনি বুঝলেন উর্মির সাথে মৃদুলের পূর্ব থেকেই যোগাযোগ ছিল। তবে কী ওরা বুদ্ধি করেই অর্নিকে নিয়ে খেলেছে পাত্রী দেখার নাম করে? আবোলতাবোল ভাবতে আর ভালো লাগছিল না তার। ভাবনায় এতটাই ডুবেছিল যে মৃদুল তাকে সালাম দেওয়ার পরও তিনি তা খেয়াল করেননি। মৃদুল হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। আশা করেছিল দাদিও হাত ধরে এগিয়ে আসবে নিদিষ্ট টেবিলের দিকে কিন্তু না ওর দাদি হাতটাও ধরলেন না। তিনি ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন তার সাপোর্টের দরকার নেই, তিনি পারবেন।

চেয়ার টেনে দিতেই তিনি চুপচাপ বসলেন। উর্মি কিছু বলতে চাইতেই ওর দাদি হাত উঠিয়ে ওকে থামিয়ে দিলেন। তিনি আর উর্মির দিকে ফিরেও তাকালেন না। উর্মি টের পেল ওর দাদির মেজাজ এখন ভয়ংকর খারাপ। তাই মনে মনে দোয়া ইউনুস পড়তে শুরু করল।

— দাদি সালামের উত্তর দেওয়া কিন্তু ওয়াজিব। অবশ্য আপনাকে আমার এই কথা বলার দরকার নেই, কারণ আপনি আমার চেয়ে বেশি ধর্ম জানেন।
— ওয়ালাইকুমুস সালাম।
— আপনি কী আজ এখানে আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন?
বলে উর্মির দিকে তাকাল মৃদুল।
— মানে? আমি থাকব না?
— ও কোথায় যাবে?
— জি দাদি আপনাকে সবই বলব তাই তো আজ আপনাকে এখানে কষ্ট করে আনানো হল। কিন্তু ওনাকে বিশ্বাস করতে পারছি না। একটু বেশিই হাইপার হয়ে যান। সব কথায় কেমন যেনো ফোঁস করে উঠেন। কথার মাঝে যদি তাকে সামাল দিতে হয় তবে তো মুশকিল।
মৃদুলের কথায় উর্মি প্রচন্ড ইনসাল্ট ফিল করল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। আজ কোনো ভাবেই নড়বে না এখান থেকে। এটা আম্মুর আদেশ।
— কী এমন কথা আমার সঙ্গে তোমার যার জন্য উর্মিকে মিথ্যা বলতে হল?
— মাঝে মাঝে বিপদ এমন হয় যে তাকে সামলাতে দুই একটা মিথ্যা বলতে হয়। যদিও আমি জানি না মিস উর্মি আপনাকে কী মিথ্যা বলে এনেছেন?
— বিপদ? কিসের বিপদ? কার বিপদ? আর তোমার উর্মির সাথে সম্পর্ক কতদিনের?
— নাউজুবিল্লাহ, দাদি এসব কি বলছো? আমার সাথে ওনার আবার কিসের সম্পর্ক? তওবা তওবা, ওনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এই আপনি কিছু বলেন না কেন? আপনার জন্য আজ দাদি আমাকে নিয়ে এসব কী বলছে?
— হিশশশ, আস্তে মিস উর্মি। আপনি অল্পতেই এত বেশি হাইপার কেন হোন বলেন তো! এটা পাবলিক প্লেস। আমাকে দাদির সাথে কথা বলতে দিন প্লিজ।
মৃদুলের কথা শুনে ওর দাদি ভ্রু কুঁচকে এবার উর্মির দিকে একবার আরেকবার মৃদুলের দিকে তাকালেন। মনে হল তিনি এক দ্বিধার জালে আটকে যাচ্ছেন।
— দাদি আমি আপনার সব প্রশ্নের জবাব দিব, এবং আপনাকেও কিছু প্রশ্ন করব।
— আমি কেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিব।
— হা হা হা, দাদি আপনি কী জানেন আপনার নাতনিগুলো আপনার মতোই, আপনার পথেই হাঁটে।
— ভুল, ওরা আমার মতো অত সুন্দরী না। আর আমার পথ আর ওদের পথ আলাদা তাই ওরা হাটেও ভিন্ন পথে।
— ও কে মেনে নিলাম আপনার কথা। আপনি আসলেই অনেক সুন্দরী, আপনার কাছে মিস উর্মিকে ফ্যাকাসে লাগছে।
— যে কথা বলতে এসেছো তাই বলো। কথা ঘুরানোর দরকার নেই। প্রথম দিনতো ভাঁজ বুজে কথা বলেছিলে আজ দেখছি মুখে খই ফুটছে।
— জি দাদি আপনার কাছে ধরা পড়েই গেলাম। আমি আসলে কথা বলতে পছন্দ করি। একেই বলে বিচক্ষণতা….
— উফফ, আসল কথা বলেন না কেন? দাদিকে নিয়ে আমি আবার ডাক্তারের কাছে যাবো তো।
— মিস উর্মি আপনি বড়ো বেশি ছটফট করেন। এসব কথায় এত তাড়াহুড়ো করে হয় না। আপনার যদি সহ্য ক্ষমতা কম থাকে তবে আপনি বাহির হয়ে আসতে পারেন।
— ইশশ, আপনি বললেই হল? আমি দাদিকে একা আপনার হাতে ছেড়ে দিয়ে যাবো কোন ভরসায়?
— হা হা হা, আমাকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন বলেন তো? আমি বড় জোর দাদির রূপে পাগল হয়ে দাদির প্রেমে হাবুডুবু খাবো…
— ছি, কী বলে এই ছোকড়া! এই বয়সে…
— দাদি ভালোবাসায় অন্তত বয়সটা মেটার করে না। এটা অন্তত আপনি মানবেন।
— কেন মানবো?
— ওমমম, ধর্মীয় দিক থেকে যদি আলোচনা করি তবে মানবেন। বিবি খাদিজাতুল কোবরা যখন মুহাম্মদের প্রেমে…
— বিবি খাদিজা (রঃ) নবীজির নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা, ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখানে প্রেম কথাটা মানায় না।
— তখন কিন্তু বিবি খাদিজা চল্লিশ বছরের একজন বিধবা নারী ছিলেন।
— তাতে কোনো সমস্যা ছিলো না। বিধবা ছিলেন, তার স্বামী জীবিত ছিলেন না। তিনি চাইলেই বিয়ে করতে পারেন।
— সেই বিধান কী এখনো সচল?
— মানে?
— মানে এখনো কী কোনো নারী যার বয়স ত্রিশ এবং তিনি বিধবা, সে কি চাইলেই নতুন করে বিয়ে করতে পারে? যদি তার আগের স্বামীর ঘরে একটা ছেলে থেকে থাকে তবে কী সমাজ তা মেনে নিবে?
— কেন পারবে না। অবশ্যই পারবে। ইসলাম ধর্মে এই বিধান আছে তো। সমাজ কেন মানবে না? বিয়ে তো জায়েজ।
— বিধান থাকলেই কি আমরা সবাই সেই বিধান মেনে চলি? সমাজ কি এমন বিধবা নারীর বিয়ে মেনে নেয়? সবাই আশা করে ওই বিধবা বাকি জীবন মৃত স্বামীর জন্য শোক পালন করবেন, আর শ্বশুর বাড়িতে থেকে শ্বশুর শাশুড়ি, দেবর ননদদের সেবা করবেন আর ছেলেকে পেলে বড় করবেন।
— তেমন ভাবনাটাও অযৌক্তিক না।
— কীভাবে যৌক্তিক? ওই বিধবা মহিলার নিজস্ব কোনো চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে না জীবনে? এটা কোন ধরনের জুলুম?
— আসলে অনেক মেয়েরাই আর নিজের বাবার বাড়ি ফিরে না। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর বাড়িতেই থেকে যায়। মেয়েরা ছাড়তে জানে…
— কিন্তু কেউ যদি নিজের কথা ভাবে তবে কী তা অন্যায়? ধর্ম যেখানে সমর্থন করে আবার বিয়ে করতে সেখানে সমস্যা কোথায়? তবে আমরা মানে সমাজবাদীদের কী কোনো রাইট থাকে সেখানে বাঁধা দেওয়ার?
— এত কঠিন কথা কার জন্য বলছো? কার এমন সমস্যা? কিছুইতো বুঝতেছি না। খোলসা কর।
— অর্নি আপু একজনকে ভালোবাসেন। তার নাম ফয়সাল। যার জন্য আপু সেদিন আমাদের সাথে অমন আচরণ করেছিলেন। যাকে বলে আমরা এক প্রকার অপমানিত হয়ে ফিরে এসেছিলাম আপনাদের বাসা থেকে।
উর্মির দাদি সাথে সাথে হাত করজোর করে ক্ষমা চেয়ে উঠলেন। আর তখনই মৃদুল জিভ কামড়ে দাদির হাত দুটো নিজের মুষ্টি বন্দি করে মাথা নিচু করে বলল
— ছি ছি দাদি একি করছেন। প্লিজ আপনি এমন করবেন না। আমি লজ্জায় মরে যাবো। আমার বলার ধরনটা ঠিক হয়নি। আসলে আমি…
— সেদিন অর্নির আচরণে আমরা খুব দুঃখ পেয়েছিলাম তবে তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম তোমাদের সাথে হওয়া অন্যায়ের কথা ভেবে। আমার বড় নাতনি সেদিন আমার নাক কাটিয়েছিল।
— আপু আসলে একটা,দ্বিধায় আটকে ছিল। আপনাদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস ছিলো না।
— তা তুমি জানলে কীভাবে? কীসের দ্বিধা ওর ভিতর?
— আমার কথা পরে বলি–
আসলে ফয়সাল ভাইয়ের আম্মু হলেন সেই ত্রিশ বছর বয়সী বিধবা নারী। যিনি ফয়সাল ভাইয়ের আব্বু মারা যাওয়ার দেড় দুই বছরের মাথায় বিয়ে করেন নিজ পছন্দে। যা ফয়সাল ভাইয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। এমন কী ফয়সাল ভাইয়ের নানা বাড়ির কেউই মেনে নেয়নি। সেই ঘটনার পর ফয়সাল ভাই দাদাদাদির কাছেই থেকে যান। আর আন্টির সাথে যোগাযোগ রাখেননি। এরপর বিশ বছর পর আন্টির দ্বিতীয় স্বামীও ইন্তেকাল করেন। সেই ঘরেও আন্টির এক মেয়ে হয়। এরপর ফয়সাল ভাই আবার তার আম্মুকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে আন্টি তার ওই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেন এবং নিজে ছেলের সাথে বসবাস শুরু করেন। এতে ফয়সাল ভাইও তার পুরো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
— এত বছর সময় লাগল এই ছেলের মায়ের কদর বুঝতে?
— সবই ভাগ্য, ভাগ্যকে আমি খুব মানি।
— তা এখানে অর্নির সমস্যা কোথায়?
— অর্নি আপু ভাবছেন ফয়সাল ভাইয়ের পরিবারের মতো আপনিও ভাববেন ফয়সাল ভাইয়ের আম্মু ভুল করেছেন আর তাই এই বিয়েটা মানবেন না।
— অর্নি কী বিয়ে করে ফেলেছে?
— না না না, আপু বিয়ে করেনি। তোমরা কেউ রাজি না হলে আপু জীবনেও বিয়ে করবে না। দরকার হলে সারাজীবন একাই থাকবে।
উর্মি দ্রুত জবাব দিল।
— স্যরি আমার মনে হয় বলতে গিয়ে একটু ভুল হয়েছে।
— তুমি ফয়সালকে চেনো?
— জি, আমি উর্মির কাছে সবটা শুনে ওনার সম্পর্কে সব ধরনের খোঁজ খবর নিয়েছি। উনি মানুষ হিসেবে খুবই ভালো। একটা ভালো জবও করেন। অর্নি আপু খুব ভালো থাকবেন তার সাথে।
— কদ্দূর যে ভালো তা তো পুরো ইতিহাস শুনেই বুঝলাম।
— জি মানে দাদি বিষয়টা বুঝলাম না… কি বুঝলেন পুরোটা শুনে….
— সবটা তোমার বোঝার দরকার নেই। এবার আমার প্রশ্নের জবাব দাও। তুমি উর্মিকে চেনো কীভাবে ….
দাদির মুখের কথা কেড়ে নিয়ে মৃদুল মোটামুটি একটা সামারি করে বুঝিয়ে বলল উর্মির সাথে ওর সাক্ষাতের কথাটুকু। সবটা শুনে তিনি আবারো গম্ভীর হয়ে বললেন
— অর্নির ঝামেলায় তুমি এভাবে নিজেকে জড়ালে কেন? তোমার স্বার্থ কী?
— দাদি স্বার্থ বিষয়টা বড় আপেক্ষিক। সব ক্ষেত্রে নিক্তিতে মাপা যায় না। তবে শেষের দিকে এসে কেমন যেন একটা জেদ চেপে গিয়েছিল। একটা মহিলাকে দিনের পর দিন শাস্তি ভোগ করতে দেখে রাগ হচ্ছিল এই সমাজের প্রতি..
— শাস্তি বলছো কেন?
— বারে, এটা শাস্তি না? নিজের জীবনকে নতুন করে শুরু করার দায়ে তাকে তার সকল আপনজনকে ছাড়তে হয়েছে। একেবারে একা এতটা বছর… উফফ ছেলেকে পর্যন্ত দেখতে পারেনি,ছুঁতে পারেনি, আদর করতে পারেনি। কি সাংঘাতিক শাস্তি।
— সমাজের দোষ দিচ্ছো কেন? বিশ বছর পর ছেলে আসতে পারলে আরো আগে কেন আসেনি। কেন বলেনি আমার আম্মুকে চাই, আমি আম্মুর কাছে যাবো।
— তখন তো ছোট ছিল।
— যখন বুঝতে শিখল তখন কেন যায়নি। অর্নি যে কোন ছাতামাথার প্যাচে পড়ল তা আল্লাহই ভালো জানে।
— দাদি আপনি ফয়সাল ভাইকে দেখলে, কথা বললে এই ছাতামাথাকেই তখন ভালোবেসে ফেলবেন।
কথাটা বলে একটু মুচকি হেসে ও উঠে গেল খাবার আনার জন্য।

— আচ্ছা তাহলে এসব বলার জন্যই এত নাটক এত মিথ্যার খেলা হল আমার সাথে।
— স্যরি দাদি, তুমি তো জানো বাসার কেউ তোমাকে আমার ভরসায় একা ছাড়বে না। আর উনি তো আমার উপর ভরসা করে বসে আছেন আমি যেভাবেই হোক তোমাকে তার সামনে নিয়ে আসব। বলো এখন আমি কোথায় যাই?
— উনি ভরসা করলেই তুই যে কোনো কাজ করে ফেলবি? কী সাংঘাতিক বশীকরণ করেছে এই ছোকড়া তোর উপর। এরে যত বেশি সুবিধার ভেবেছিলাম ততটা ও না।
— ইয়ে মানে দাদি তুমি যা ভাবছো, তা না। অর্নি আপুর বিয়েটা হলেই আমি ওনাকে এককাপ চা বানিয়ে খাইয়ে সব হিসাব মিটিয়ে দিব।
— পাক্কা?
— পাক্কা।

চলবে