ছদ্মবেশে লুকানো ভালোবাসা পর্ব-৩০

0
1125

#ছদ্মবেশে_লুকানো_ভালোবাসা
#মৌমি_দত্ত
#পর্ব_৩০

রুহির জামা কাপড় নিচ্ছে রুহি। আর খাটে বসে গল্প করছে আফরা আর ইনায়াত। গল্পে রুহিও আছে। এমন সময় রুমে ঢুকলো আসিফ,, কামাল,, স্পন্দন,, তাহজিব আর আফিম। তারা এখন স্বাভাবিক। কেননা, নিচে ইরশাদ আর জনকে গার্ডরা জীবন্ত আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এখন সবাই আফিমদের বাসায় যাবে। আসিফ সহ সবাইকে রুমে ঢুকতে দেখে রুহি দাঁড়িয়ে পড়লো,,
– এসে গেছো তোমরা?? ভালো করেছো। আসিফ ভাই,, জলদি প্যাকিং করে নাও। আন্টি কিন্তু জলদি পৌছাতে কল করেছে। আর শুনো,, আমি তোমার কাপড় চোপড় প্যাকিং করে নিয়েছি। দেখে নাও আর কিছু লাগবে নাকি।
তাহজিব আর রুহিকে স্পেস দিতে সবাই চুপচাপ বের হয়ে এলো। তাহজিবের মুখে হাসি ফুঁটেছে। এমন ভাবে তার সবকিছুর খেয়াল রাখবে কে জানতো?? ইনায়াত যদি কখনো ভালোবেসেও ফেলতো তাহজিবকে,, তবুও কি পারতো এভাবে গভীর ভাবে নিজের মাঝে তাহজিবকে মিশিয়ে নিতে?? সবাই বের হয়ে গেছে দেখে রুহি লজ্জা পেয়ে বের হয়ে আসতে চাইলো রুম থেকে। দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা তাহজিব রুহির লজ্জা বুঝতে পেরে বাঁকা হাসলো। রুহি দরজার কাছাকাছি যেতেই হাত টেনে আটকে দিলো তাহজিব। আচমকা টানে রুহি গিয়ে পড়লো তাহজিবের বুকে। ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকালো রুহি। গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে আছে। মোহনীয় লাগছে রুহিকে। তাহজিব ঘোর লাগা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে রুহির দিকে। তাহজিব মুখ এগিয়ে নিলো রুহির কাছে। চোখ বন্ধ করে ফেললো রুহি লজ্জায়। তাহজিবের ঠোঁট জোড়া ভালোবেসে আঁকড়ে ধরলো রুহির নরম ঠোঁট জোড়া। গা শিউরে উঠলো রুহির। তাহজিবকে আলতো ধাক্কা দিয়ে সড়ে আসলো রুহি। মাথা নিচু করে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগলো রুহি। চঞ্চল চোখে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো লজ্জা ঢাকতে। তাহজিব তা বুঝতে পেরে এগিয়ে আসতে গেলেই রুহি দ্রুত পায়ে গিয়ে দাঁড়ালো খাটের কাছে। খাটে বসে রুহি ভাঁজ করা কাপড়গুলোই ভাঁজ করতে লাগলো অগোছালো হাতে। তাহজিব বাঁকা হেসে কাছে এগিয়ে আসলো। এক টানে টেনে নিলো রুহির হাতের কাপড়। রুহি চমকালেও তাকালো না মুখ তুলে তাহজিবের দিকে। তাহজিব কাপড়টা খাটের অন্য কিনারে ছুড়ে দিলো। ঝুঁকে এলো বসে থাকা রুহির কাছে। ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে চিবুক ধরে মুখ তুললো নিজের বরাবর। রুহি চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। তাহজিব আবারও নেশাগ্রস্ত। রুহির ঠোঁটে ঠোঁট মিলালো আবারও। ভালোবাসার পরশে রুহিও বাঁধা দিলো না। রুহি খাটে শুয়ে পড়লো। তাহজিবও নিজের ভর ছেড়ে দিলো রুহির উপর। রুহির হাত চেপে ধরলো খাটে। দু’টো মানুষ মিলে মিশে যাচ্ছে। ভালোবাসায় মত্ত রুহির মাথায় হঠাৎ নাড়া দিলো এক প্রশ্ন,, ” ইনায়াতকে সত্যিই ভুলে তাহজিব কি আমাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়েছে?? নাকি আমাকে শুধুই মেনে নিয়েছে নিজ জীবনে?? ”
রুহির প্রশ্নটা মনে আসতেই রেসপন্স করা বন্ধ করে দিলো। তাহজিব বিরক্ত হয়ে রুহিকে নিজের সাথে আরো চেপে ধরলো। কিন্তু রুহি রেসপন্স করছে না। রুহি তাহজিবকে ধাক্কাতে লাগলো। তাহজিবের মাথায় আসলো রুহির কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। তাহজিব দ্রুত সড়ে এলো রুহির থেকে।
– আর ইউ অলরাইট??
তাহজিব জানতে চাইলো রুহির কাঁধ ধরে। রুহি নিঃশব্দে তাহজিবের হাত ছাড়িয়ে বের হয়ে এলো রুম থেকে। তাহজিব ভ্রু কুঁচকে তাকালো রুহির চলে যাওয়ার দিকে। পরক্ষনেই হেসে বললো,,
– দরজা খোলা দেখে লজ্জা পেয়েছে আই থিংক। আর আমারও এমন ভাবে ওকে স্পর্শ করা ঠিক না। খুব দ্রুত তোমাকে আমার করতে হবে রুহি রানী।
বলেই মাথা চুলকে মিষ্টি হাসলো তাহজিব।
.
.
তাহজিবদের স্পেস দিয়ে নিচে নেমে এসেছে আফরা,, স্পন্দন,, আফিম ও ইনায়াত। কামাল আসিফের রুমে। কামালের জন্য আসিফ প্যাকিং করে নেবে বলেছে। দুজনে ইতোমধ্যেই বন্ধু হয়ে গেছে।
আফিমের মাথায় বুদ্ধি এলো ইনায়াতের সাথে সময় কাটানোর। তখনই আফরাকে ইশারা করলো যেন স্পন্দনকে সামলে নেয়। আফরা চোখের ইশারায় আস্বস্ত করলো। ইনায়াত মোবাইল টিপছিলো। হঠাৎ এক জোড়া হাত তাকে টেনে নিলো পাশেই থাকা খালি রুমে। এই রুমটায় গতকাল আফিমকে থাকতে দেওয়া হয়েছিলো। আফিম ইনায়াতকে টেনে এনে দেওয়ালের সাথে ঘেষে দাঁড় করালো। ইনায়াত হঠাৎ এমন কাজে ভড়কে গেলো। পরক্ষনেই সবটা বুঝতে পেরে ইনায়াত সংকোচে ও ভয়ে কিছু বলতে যাবে। তখনই আফিম সড়ে দাঁড়ালো ইনায়াতের থেকে। বুকের কাছে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে রইলো ইনায়াতের থেকে অনেকটা দূরে। ইনায়াত মাথা তুলে সেদিকে একবার তাকালো। তবে তেমন কিছু বললো না। আবারও মাথা নামিয়ে মেঝেতে নখ খুটতে লাগলো। সেদিকে তাকিয়ে আফিম বললো,,
– আর ইউ নার্ভাস??
চমকে তাকালো ইনায়াত। যেন চোর ধরা পড়েছে। আটকে আটকে বললো ইনায়াত,,
– আমি কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমি তো জানিনা ভালোবাসা কি। তাই আর কি,,,
ইনায়াতের কথা শুনে মুচকি হাসলো আফিম। এগিয়ে আসলো একদম ইনায়াতের কাছে। ইনায়াতের মুখের উপর শ্বাস আছড়ে পড়ছে আফিমের। চমকে মাথা তুলে তাকাতেই ইনায়াতের চোখ আটকে গেলো আফিমের চোখে। যেখানে এমন কিছু ছিলো যা অশ্লীল বা বিকৃত ইচ্ছে বলা যায় না। আফিম ফুঁ দিলো ইনায়াতের মুখে। ইনায়াত চোখ বন্ধ করে নিলো।
– ইনায়াত?? এতো কাছে আছি আমি তোমার?? অস্বস্তি হচ্ছে??
প্রশ্ন করলো আফিম। ইনায়াত দ্রুত চোখ খুলে তাকিয়ে রইলো ড্যাবড্যাব করে। মাথা দুই দিকে নাড়িয়ে না জানালো। আফিম আবারও হাসি উপহার দিলো ইনায়াতকে।
– এটা ছিলো ভরসা। তুমি নিজের অজান্তেই ভরসা করো যে আমি তোমার ক্ষতি করবো না। এটা ভালোবাসার প্রথম ধাপ।
ইনায়াত অবাক হলো। সত্যিই কি এটা ভালোবাসার প্রথম ধাপ?? আফিম এবার বাঁকা হেসে ইনায়াতের কপালে গাঢ়ো করে চুমু খেলো ঠোঁট ছুঁইয়ে। চোখ বন্ধ করে ফেললো ইনায়াত। শরীরে অদ্ভুত এক ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো। আফিম নিজেকে সড়িয়ে ঝুঁকে দাঁড়ালো আবারও ইনায়াতের উপর,, ইনায়াতের পাশে দেওয়ালে হাত রেখে। ইনায়াত ধীরে ধীরে চোখ খুললো। আফিমের কাজটা কেন ছিলো,, কি ছিলো জানেনা সে। তবে মনে হলো অনেক সুন্দর এক অনুভুতি ছিলো। যা শেষ না হলেও পারতো হয়তো। আফিম ইনায়াতের চোখে চোখ রেখে বললো,,
– খুব ভালো লেগেছে তোমার বিষয়টা। শরীরে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেছে। মনে হলো কেন শেষ হয়ে গেছে ব্যাপারটা। তাই না??
ইনায়াত আবারও অবাক হলো। আফিম কিভাবে তার না বলা বিষয়টা জানতে পারলো??
– কি হলো?? বলো। তাই না??
ইনায়াত বিস্মিত ভাবেই জবাব দিলো হ্যাঁ মাথা উপর নিচে ঝাঁকিয়ে। আফিম ইনায়াতের বোকা বোকা মুখ দেখে হেসে ফেললো। গাল টেনে দিলো ইনায়াতের। ভ্রু কুঁচকে ফেললো ইনায়াত গাল ফুলিয়ে। আফিম বললো,,
– ঐ শিহরন প্রমাণ করে যে, আমার ভালোবাসা তোমাকে তোমার গভীরে ছুঁয়ে দিয়েছে। যা ভালোবাসার দ্বিতীয় ধাপ। আর ঐ অনুভূতিকে দীর্ঘক্ষন পেতে চাওয়ার মানে আকাঙ্ক্ষা। যা ভালোবাসার তৃতীয় ও শেষ ধাপ।
একটু থেমে আফিম আবারও বলতে লাগলো,,
– তিনটা ধাপই সম্পূর্ন হয়েছে। তার অর্থ হলো,,,
সুর টেনে বললো আফিম। চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকালো ইনায়াত। আফিম তা দেখে হেসে দূরে সড়ে এসে বললো,,
– তার মানে তোমার মনেও আমার জন্যে ভালোবাসা আছে।
ইনায়াত আফিমের কাছে এসে রেগে আফিমের কলার খামচে ধরলো। আফিম ইনায়াতের কোমড় খামচে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। ইনায়াতের গলায় মুখ ডুবিয়ে বলতে লাগলো,,
– আমাকে ছেলে সেজে সামলানোর সময়ও তোমার মাঝে একজন বন্ধু,, শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে ভালোবাসা ছিলো আমার জন্য। তুমি না চাইতেও আমার সম্পর্কে সব সত্যি জানতে জানতে তা আরো গভীর হয়েছে। তাই আমার পার্টির দিন তুমি অভিমান করে চলে গেছো। তুমিই বলো,, বসের সাথে ফর্মাল রিলেশনে মান অভিমান আসে?? না আসে না। অথচ তুমি করেছো।
একেতো আফিমের ঠোঁট নিজের গলায় কথা বলার তালে নড়ছে। এর উপর আফিমের গরম নিঃশ্বাস আঁছড়ে পড়ছে ইনায়াতের কাঁধে। শরীর না চাইতেও জমে গেলেও, মস্তিষ্ক কাজ করছে। তাই আফিমের কথা গুলো শুনে,, বুঝে অবাক হলো ইনায়াত। আফিম ছেড়ে দিলো ইনায়াতকে। ইনায়াত কয়েক পা পিছিয়ে এলো । দ্রুত পায়ে পিছু ফিরে দরজার দিকে এগিয়ে দরজার নবে হাত রেখে তা ঘুরাতেই আফিমের কন্ঠ শুনে থেমে গেলো ইনায়াতের পা জোড়া।
– ভালোবাসার বীজ তোমার মধ্যে ছিলো ইনায়াত। আর এখন আমার স্পর্শ সে বীজকে আরো এক ধাপ বৃদ্ধি করেছে। খুব দ্রুত তুমি আমাকে নিজের অজান্তেই ভালোবাসবে।
জমে গেলো ইনায়াত নিজের জায়গায়। উদ্ভ্রান্তের মতো তার চোখ এদিক ওদিক ঘুরছে। স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে বিষয়টা সে মেনে নিতে না চেয়ে নিজের সাথে যুদ্ধ করছে। আফিম ধীর পায়ে হেঁটে দরজার কাছে এসে ইনায়াতের হাতের উপর হাত রেখেই নব ঘুরালো। ইনায়াত আফিমের দিকে তাকালো অসহায় ভাবে। ইনায়াত এর চোখ স্পষ্টই বলছে,, ” সত্যটা না জানালে কি হতো না?? ”
আফিম ইনায়াতের এক হাত ধরে রুমের বাইরে নিয়ে এলো। তারপর ইনায়াতের হাত ছেড়ে চলে গেলো অন্যদিকে।
.
.
ইনায়াতকে কোথাও না পেয়ে স্পন্দন ভ্রু কুঁচকে ইনায়াতকে ডাকতে যাচ্ছিলো। তখনই আফরা দ্রুত পায়ে এসে চেপে ধরলো স্পন্দনের মুখ নিজের হাত দিয়ে।
– করছো টা কি?? প্ল্যানিং ভেস্তে দেবে নাকি??
শাসনের সুরে বললো আফরা। স্পন্দন অবাক হলো কথার কিছুই বুঝতে না পেরে। আফরা স্পন্দনের মুখ থেকে হাত সড়িয়ে স্পন্দনের হাত ধরে চোরের মতো আফিমের পাশের রুমে ঢুকে পড়লো। রুমে ঢুকে দরজা হালকা ভেঁজিয়ে দিয়ে স্পন্দনকে টেনে নিয়ে গেলো ব্যালকনিতে। ব্যালকনিতে একটা দরজা দেখা যাচ্ছে। দরজাটা সময় নিয়ে নিঃশব্দে খুললো আফরা। স্পন্দন এখনো ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। নিজের কৌতুহল ধরতে না পেরে বলে উঠলো,,
– কি হচ্ছে আফরামনি??
আফরা পিছনে ফিরে ঠোঁটে আঙ্গুল চাপিয়ে ” শসসস ” আওয়াজ করে চুপ করতে বললো। স্পন্দনের চোখ আটকে গেলো আফরার আঙ্গুলে যা আফরার ঠোঁট ছুঁয়ে আছে। স্পন্দন একঝটকায় আফরার কোমড়ে হাত রেখে টেনে নিলো আফরাকে নিজের কাছে। আফরার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো। কিছু সেকেন্ড সেভাবেই থেকে সড়ে এলো স্পন্দন ধীর গতিতে। তখনই কানে এলো আফিমের গলার স্বর। ভ্রু কুঁচকে স্পন্দন ব্যালকনির খোলা দরজা দিয়ে আফিমের রুমের ব্যালকনিতে ঢুকলো। কান খাড়া করে শুনতে লাগলো আফিমের ইনায়াতকে বলা কথা। শুরু থেকে শেষ সবটা শুনে নিজের জায়গায় জমে গেলো স্পন্দন। আফিম আর ইনায়াত রুমের বাইরে চলে যেতেই স্পন্দনের হুশ হলো। কিছুক্ষন বিষ্ময়ে সেভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে মুখে হাসি ফুঁটলো স্পন্দনের। আফিম যে ইনায়াতের জন্য ভুল হবে না তা নিয়ে নিশ্চিন্ত স্পন্দন এখন। এই ভেবে নিজেও রুম থেকে বের হবে বলে ব্যালকনির দরজা আটকে পিছনে ফিরতেই দেখলো আফরা মূর্তীর মতো নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে ছুঁয়ে পলকহীন দাঁড়িয়ে আছে। স্পন্দন বুঝলো আফরা হঠাৎ হওয়া কাজটা নিতে পারেনি। স্পন্দন আফরার কোমড় টেনে আবারও নিজের সাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। এবার আফরার হুশ হলো। আগের মতোই কিছু সেকেন্ড থেকে সড়ে এলো স্পন্দন। আফরা হা হয়ে তাকিয়ে বললো,,
– এটা কি ছিলো??
– ভালোবাসার প্রথম পরশ।
আফরার হুশ হলো তার সাথে কি হয়েছে। লজ্জায় মাথা নামিয়ে আফরা দ্রুত পায়ে বের হয়ে এলো রুম থেকে। বাইরে এসেই মূর্তীর মতো ইনায়াতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো আফরা। আফরার পিছু পিছু স্পন্দনও বের হয়েছিলো। ইনায়াতকে ওভাবে দেখে সে এগিয়ে গেলো অন্যদিকে। আফরা এগিয়ে গেলো ইনায়াতের দিকে। আফরাকে দেখে ইনায়াত নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো যতোটা সম্ভব। আফরা আর ইনায়াত পা বাড়ালো বাইরের দিকে বসার ঘরে।
.
.
বসার ঘরে সবাই উপস্থিত ছিলো। আফরা আর ইনায়াতকে দেখে সবাই বের হবে ঠিক করলো আফিমদের বাসার উদ্দেশ্যে। রুহির দিকে তাহজিব তাকিয়েছে নিজের গাড়িতে উঠতে বলবে বলে। তখনই রুহি দ্রুত বলে উঠলো,,
– আমরা মেয়েরা আসছি। আপনারা সবাই এক গাড়িতে যান।
ভ্রু কুঁচকে ফেললো তাহজিব রুহির হঠাৎ এমন আচরনে। তাহজিবের কেন যেন মনে হলো রুহি তার থেকে পালাতে কাজটা করেছে। তবুও ছেলেরা সবাই এক গাড়িতে উঠলো। ইনায়াত আর আফরারও এমন একটা সুযোগ দরকার ছিলো। মেয়েরা উঠলো এক গাড়িতে। আসিফ আর কামাল এক গাড়িতে। পরপর তিনটা গাড়ি তাহজিবের বিশাল বাড়ির গেইট পার করে রাস্তায় নামলো আফিমের বাসার উদ্দেশ্যে।

কি হবে তিন জুটির সামনে?? জানতে হলে সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ,,

চলবে,,,