জানি ভালোবাসো পর্ব-০১

0
688

#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব:১

আমি মাহিয়া ইসলাম রাত্রি । এবার এস এসসি পরীক্ষা দিয়েছি। পৃথিবীর সব কিছু ভালো লাগলেও পড়াশোনাতেই আমার যত অলসতা, পড়তে বসার কিছু সময় পর ঠিক ডোরেমন কার্টুন এর নবিতার মত নিজেকে বলতে ইচ্ছে করে ১ ঘন্টা পড়ে নিয়েছি, এখন সময় গেম খেলার হি হি। গেম খেলার আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি কারণ গোল্ডেন + পেতেই হবে। দিন রাত পড়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই হয়েছে পরীক্ষা। এখন অপেক্ষা রেজাল্টের।

অপরদিকে সেই পচা রোদ ভাইয়ার জন্মদিন আজ। আমার এক বিন্দু যাওয়ার ইচ্ছা নেই। কিন্তু আমার পরিবারের সবাই মানে আমি বাদে কেন এত ভালোবাসে ! এটাই বুঝিনা এখন না যেতে চাইলে আমাকেই ঝাড়ি খেতে হবে ধুর ভালো লাগে না। রোদ ভাইয়ার সাথে ১ম পরিচয় আজো মনে আছে।

অতীতের পাতায় :

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়তাম। আর রোদ ভাইয়ারা ঢাকাতে থাকতো। রোদ ভাইয়ার দাদীর বাড়ি আমাদের বাসার পাশে। দাদী অনেক ভালো ছিলেন। তিনি কিছুটা রাগী হলেও আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। আমি দুষ্ট এটা দাদীও জিনতেন তবুও আমার মিশুকে সভাবের জন্য আমায় কখনো বকেন নি।
রোদ ভাইয়ার পরিবারের পরিচয়:

দাদীর দুই ছেলে। বড় ছেলে শহীদজামান খান ও ছোট ছেলে রাকিব জামান খান। শহীদ চাচার এক ছেলে ও এক মেয়ে। শিমুল ও শিমলা। আর রাকিব চাচার দুই ছেলে। বড় ছেলে আহনাফ খান রোদ ও ছোট ছেলে আরিয়ান খান রাদিব।

সেদিন স্কুল থেকে ফিরে বাসার সামনে অনেক লোক দেখেছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুনতে পেলাম দাদী আর নেই। কল্পনার বাইরে জীবনে কিছু ঘটলে মানুষ নিশ্চুপ হয়ে যায় আমি ও ঠিক তাই হয়েছিলাম। সেদিন সন্ধ্যা নাগাদ দাদীর পুরো পরিবার আত্মীয় চলে আসেন।

সবার মাঝে সেদিন দেখেছিলাম এক কোণে নিশ্চুপ এ বসে চোখের পানি বিসর্জন এ ব্যস্ত কেউ। মুহুর্তের এক ঝলক এ আমার কি হল জানিনা ভীষণ রকম মায়া জন্ম নিল। অবুঝ এর মত তার কষ্ট নিবারনের আশায় তার পাশে বসে বলেছিলাম ভাইয়া কেদোনা আর, বলার সাথে সাথে আমার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে নিজের চোখ মুছে নিয়েছিল। কিছু টা অবাক হয়েছিলাম। তারপর কি মনে করে আবার দৃষ্টি দিল আমার দিকে কিন্তু তার এ দৃষ্টিতে চোখ গুলো লাল আর রাগের আভাস দেখেছিলাম। ভয় পেয়ে দৌড়ে বাড়ি এসেছিলাম।।।

বর্তমান:

আজ রোদ ভাইয়ার জন্মদিন, রোদ ভাইয়ার মা আহিদা চাচী আমায় ভীষণ ভালোবাসে আর আমিও। রাদিব তো অনেক কিউট। আমায় কখনো আপু বলে ডাকেনি । রাতের পরী বলে ডাকে। আমার ও ভীষণ ভালো লাগে ও মাএ 1এ পড়ে। কিন্তু ওর কথা অনেক পাকনা।

অপরদিকে
সন্ধ্যায় সবাই তৈরি হচ্ছে। রোদ ভাইয়ার য় মা আমার জন্য শাড়ি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পড়া তো দূরের কথা ঠিক মতো হাটতে ও পারিনা। তাই ঈদের একটা গাউন লাল আর গোল্ডেন মিক্স পড়লাম। খোলা চুল কোমর ছাড়ানো। বড় দুল, হালকা লিপস্টিক, কাজল আর কিছু না। কিন্তু বাইরে যেতেই মাম এসে জোর করে মেক আপ করে দিল। তারপর আমার ছোট ভাই রোহিত হাত ধরে নিয়ে গেল।

ওদের বাড়িতে ঢুকেই নজর পড়লো আমার মামনির (রোদ ভাইয়ার মা) কি নিখুঁত সুন্দর এই মানুষ টাকে দেখলে মন ভালো হতে বাধ্য।

মামনি: ওমা কি সুন্দর লাগছে আমার মেয়েটাকে নজর না লাগে।
বলে কাজল লাগিয়ে দিলেন।

-একটু লজ্জা পেয়ে হেসে দিতেই শিড়ির দিকে নজর গেল। মূহুর্তে থমকে গেলাম। হ্যাঁ রোদ ভাইয়া ৬ ফিট হাইটের কালো টি-শাট কালো প্যান্ট , কালো সান -গ্লাস, টিরিম করা দাড়ি, কালো জুতা, কালো ঘড়ি, ফর্সা মুখ উফ এত সুন্দর হতে কে বলছে। এত সুন্দর হলে শুধু তাকিয়ে থাকতে মন চাই। এসব ভাবনার মাঝে কোন ও পুরুষ এর কথা কানে এলো –

রোদ: এই ভাবে তাকিয়ে নিজেকে কতোটা ছোট করবি বেয়াদব মেয়ে (ধমক দিয়ে)

– এই লোকটা আমার সাথে ভালোভাবে কথায় বলতে জানেনা খাটাশ, ভাবের গাড়ি মেজাজ খারাপ করার ওস্তাদ বিরবির করতে করতে সামনে দেখি আমার রাদিব বাবু দাড়িয়ে,

রাদিব: রাতের পরী তুমি আমার সাথে দেখা না করে এখানে কি করো? রাগ করছিলাম কিন্তু তোমার সাজুগুজু তে রাগ করতে ও পারলাম না।

রোদ : রাদিব কি এত কথা বলো ওই মেয়ের সাথে?

রাদিব: ওই মেয়ে কাকে বলো হ্যাঁ? ও আমার রাতের পরী। তুমি মন খারাপ করোনা রাতের পরী ভাইয়া তো জানোই কেমন-

রোদ: আমি তোমার বড় রাদিব এটা মাথায় রেখে কথা বলবা। অবশ্য যার সাথে এত মিশছো সেই একটা বেয়াদব তুমি আর কি শিখবা!

-এবার আর কথা না বলে থাকতে পারলাম না। বললাম -এই তখন থেকে শুধু শুধু বেয়াদব বেয়াদব করছেন কেন? কি বেয়াদবী করছি বলেন? আমাকে না রাগানো পর্যন্ত আপনার কি ভালো লাগে না?

রোদ : রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম নিজেকে এতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করো না ঠিক আছে। আহনাফ খান রোদ এর আর কোনো কাজ নাই ওনাকে নাকি রাগিয়ে সময় নষ্ট করবো।

– আমি কিছু বলতে নিতেই উনি বন্ধুদের সাথে রাজ্যের ব্যাস্ততা দেখাতে লাগলেন যেন আমাকে চেনেই না!

(রোদ ভাইয়ার বাবা) চাচা ডাকলেন সবাইকে
রোদ ভাইয়া কেক কাটবে তাই । কেক কেটে প্রথমে ওনার মা, তারপর রাদিব, ওনার বাবা কে খাওয়ালেন। তারপর রোহিত, বাবা, মামকে খাওয়ালেন। আর আমি যে একজন আছি তিনি দেখেও দেখলেন না। ওখান থেকে সরে আসতে গেলেই চাচা রোদ ভাইয়াকে আমায় কেক দিতে বললেন। কেক জিনিস টা বরাবর আমার ভীষণ পছন্দের, তাই কেক অবশেষে খেতে পারবো বলে দাড়িয়ে পড়লাম। কিন্তু রোদ ভাইয়া তো রোদ ভাইয়ায় –

কেক খাওয়ানোর জন্য এগিয়ে এসে আমি হা করতেই মুখে না দিয়ে গালে লাগিয়ে দিলেন। কেমন যে লাগে কোথায় সবাই রাগ করবে তা না উলটা আমাকে দেখেই সবার হাসি আর থামছেইনা। রোদ ভাইয়াকে কেক মাখানো আমকে দিয়ে হবে না। ধুর মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল বাসাতে চলে যেতে গেলে রাদিব আসলো সামনে-

রাদিব: রাতের পরী দেখো তোমার জন্য টিস্যু আনছি। বসো মুখ মুছে দেয়।

-এক ভাই জালানোর ওস্তাদ আর এক ভাই নিরাময়ে। এই বাবু টা এত ভালো যে শুধু আদর করতে মন চায় বিরবির করে রাদিবকে বললাম তুমি অনেক ভালো বাবু এত কিউট গাল টেনে গালে একটা পাপ্পী দিতেই কোথা থেকে রোদ এসে ওকে নিয়ে চলে গেল অবাক হলাম! এই ভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার কি আছে!

অচেনা কেউ বলে উঠলো :হাই সুন্দরী

-বাই বলে চলে আসতে গেলেই সামনে এসে দাড়ালো কিছুটা বিরক্তি নিয়ে তাকাতেই ছেলেটা হ্যাবলার মত হাসলো আর বলল

– আমি তোমাকে হাই দিলাম তুমি বাই দিলে কেন ব্যাড ম্যানার্স

– অচেনা কাউকে আমি হাই দেই না।

-আরে আমি রোদ এর বন্ধু তো পরিচিত হলাম না?
-এমনিতে মেজাজ খারাপ ছিল তার উপর এই বিরক্তিকর লোক। আমার খুব বেশি মেজাজ খারাপ হলে কি বলি না বলি নিজেও জানিনা। তাই রাগের বসেই বলে দিলাম পরিচিত হয়ছেন দেখে কি এখন নাচতে হবে।
মুখের কথা বের হতে না হতে কারো হাসির শব্দ কানে আসলো, তাকাতেই রোদ ভাইয়াকে জীবনের প্রথম হাসতে দেখলাম ভীষণ সুন্দর তার হাসি উফ এই মানুষটার হাসিও মানুষটার মতোই সুন্দর। শুধু আমার সাথে ধমক ছাড়া কথায় বলতে পারেনা। একটু এভাবে হাসিখুশি থাকলে কি হয়। আমার ভাবনার মাঝেই ….

এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চাচা ( রোদ ভাইয়ার বাবা) সবাইকে ডাকলেন -সবাই যাওয়ার পর যা বললেন তা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো, এটা কিভাবে সম্ভব!

জীবন এ প্রথম গল্প লেখার চেষ্টা, ভুল গুলো শুধরানোর জন্য বলবেন। পাঠকদের পাশে থাকার কামনায় ….

চলবে।।।।।