#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব:২
হঠাৎ চাচা (রোদ ভাইয়ার বাবা) আমাদের সবাইকে ডাকলেন। তিনি বললেন আজ রোদের জন্মদিন এই শুভ দিনে আরো একটি শুভ কাজ করতে চাইছি।
-আমিও অবাক হয়ে ভাবছি,আর কি শুভ কাজ করবে কিন্তু মাথায় আসলো না। আবার শোনার ইচ্ছায় চাচার দিকে তাকালাম –
-তিনি বললেন আপনারা অনেকে জানেন আমার বড় ছেলে আহনাফ খান রোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখানে একটা কলেজ এ প্রফেসর হিসেবে জয়েন করেছে। ছেলে এখন বড় হয়েছে তাই তার বিয়ে দিতে চাই। মেয়ে আমাদের ঠিক করে রাখা আছে।
-আমি অবাক হলাম রোদ ভাইয়ার বিয়ে! মানুষ টা দেখতে সুন্দর। কেমন যেন লাগছে। ধুর, তবে মজাও লাগছে যার কপালে আছে সে বুঝবে কি খাটাশ লোক হা হা তখন মেয়েটা বলবে জামাই আমার দেখতে ভালো
রাগলে লাগে পুরায় কালো হা হা এসব ভেবে মিটি মিটি হাসছিলাম…
-হঠাৎ তখনই চাচা বলে উঠলেন মেয়ে আমাদের সামনেই আছে আমাদের সবার আদরের রাত্রি মা ।
-আমি আকাশ থেকে পড়লাম কি বলছেন চাচা বলে উঠলাম এটা কিভাবে সম্ভব! রোদ ভাইয়ার কোনো রিয়াকশন চোখ এ পরলো না।
কতটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন সে আগে থেকেই জানতো এমন কিছু চাচা বলবে, কিন্তু আমি ভাবছি এই খাটাশ যার সাথে ১ মিনিট থাকলেও শুধু ধমক শুনতে হয় তার সাথে সারাজীবন কীভাবে সম্ভব! কীভাবে? বিড়বিড় করে এসব ভাবলেও রোদ ভাইয়ার কানে ঠিক ই গেছে। আমার ভাবনার মাঝেই বলে উঠলো –
রোদ:তোর সাথে বিয়ে করার জন্য মরে যাচ্ছে না আহনাফ খান রোদ ওকে এটা মাথায় রেখে কথা বলবি ফাজিল মেয়ে।
– আজবতো এই ছেলে ভালো মনে কখনো থাকতে দিবে না। অতিরিক্ত রাগে বলে ফেললাম আমি কি বলেছি রোদ ভাইয়াকে বিয়ে না করলে বাচব না আমার রোদ ভাইয়াকেই লাগবে বলেছি? এমন একটা খাটাশকে আমি কেন কোন মেয়েই বিয়ে করতে চাইবেনা বলতেই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম। নিজেকে নিজেই বললাম রাত্রি মারা পরবি এবার নিশ্চিত রোদ ভাইয়ার হাতে। উফ ভয়ে ভয়ে হাত মুখ থেকে সরিয়ে দেখলাম রোদ ভাইয়ার সেই প্রথম দিনের দৃষ্টি কি ভয়ানক আমার সাথে কেন এমন করে এই মানুষটা আর তার সাথে বিয়ে অসম্ভব। হঠাৎ রোদ ভাইয়া এগিয়ে আসতে আমি এক দৌড়ে মামনির পিছনে লুকালাম।
তবুও রোদ ভাইয়া বলে উঠলো
রোদ: আমি খাটাশ হলে তুই কি এক নাম্বার ঝোগড়ুটে মেয়ে। আমার সাথে বেয়াদবী এর ফল তোকে সময় আসলেই বোঝাবো মনে রাখিস ।
আমাদের কথার মাঝেই হঠাৎ চাচা বলে উঠলেন
চাচা:দুজনেই চুপ করো আর কেউ কোন কথা বলবা না। এই বিয়ে আমার মা মানে রোদের দাদী ঠিক করে রেখে গেছেন। তিনি অনেক আগে এ বিষয়ে আমাদের বলেছেন শুধু রোদের এস এস সি পরীক্ষার অপেক্ষায় ছিলাম। রোদ ও রাত্রি তোমাদের দুজনকেই তোমাদের দাদী ভীষণ ভালোবাসতেন, তার কথা কি তোমাদের জীবনে গুরুত্ব না?
– আমি অবাক হলাম দাদী! এখন কীভাবে না বলব দাদী যেমন ভালোবাসতেন আমিও তো খুব ভালোবাসতাম। আমার দাদীকে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। ছোট থেকে রোদ ভাইয়ার দাদীই আমার নিজের দাদী ছিল। কি করবো এখন এসব ভাবতে ভাবতে রোদ ভাইয়া বলে উঠলো
-রোদ: আমার দাদীর কথা আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর কারো জীবনে নাই গুরুত্ব থাকতে পারে। আমার নিজের দাদী অন্য কারো তো নিজের না যে কথার মুল্য দিবে।
– কথাটা যে আমাকে বললেন সরাসরি বললেই পারেন। রাগে দুঃখ এ বলেই দিলাম আপনি কতদিন থাকছেন আমি ছোট থেকে এখানে থাকি। আমার দাদী এটা বুঝছেন আপনার থেকে আমায় বেশি ভালোবাসে, আর আমিও ভীষণ ভালোবাসতাম এখনও ভালোবাসি অনেক। বলে তাকিয়ে দেখলাম রোদ ভাইয়া ভীষণ মন দিয়ে কথাগুলো শুনছেন।
চাচা বললেন তাহলে তোমাদের মত হ্যাঁ বলে মানলাম।
-আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে শুধুমাত্র দাদীর কথা আমর জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এমন নয় যে রোদ ভাইয়াকে আমার পছন্দ না, তাকে যেকোনো মেয়ের ই পছন্দ হতে বাধ্য। আর সত্যি বলতে প্রথম দেখাতে কোনো এক ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল সাথে ভয় ও পেয়েছিলাম। এত রাগ আমাকে যে সহ্য করতে পারে না তার সাথে সারাজীবন কীভাবে থাকবো !
এসব ভাবনার মাঝেই মামনি বললেন আজ ই ছোটখাটো ভাবে বিয়ে টা সেরে ফেলব। পার্লার থেকে সাজাতে চলে আসবে এখন ই যাও রাত্রি মা ঘরে যাও।
-আমি থমকে গেলাম আজ ই এত তাড়াতাড়ি!
মামনি রাদিবকে বললেন
মামনি:
তোমার রাতের পরী আজ থেকে তোমার ভাবী হবে তুমি খুশি তো?
রাদিব: ভাবী মানে কি মা?
মামনি:তোমার রোদ ভাইয়ার বউ হবে। তোমার রোদ ভাইয়া বিয়ে করবে আজকে। এখন থেকে তোমার রাতের পরী আমাদের সাথে থাকবে আমাদের বাড়িতে।
রাদিব:রাতের পরী আমার ভাবী কেন হবে! তুমি তো আমার রাতের পরী বলো তাহলে ভাইয়কে বিয়ে কেন করবা?
-রাদিব সোনা কি করে বোঝায় তোমায় বিয়ে যে কেন করতে রাজি হয়েছি তা যদি তুমি বুঝতে- রাদিবকে একটু আদর করে বোঝালাম বললাম আমি যাতে তোমাদের কাছে সবসময় থাকতে পারি তাই তোমার ভাইয়া আমাকে বিয়ে করে আনবে এই যে আমি তোমাকে কত ভালোবাসি, আমি তোমার ভাইয়াকে বলেছি আমার রাদিব বাবুর সাথে আমি থাকতে চাই তাইতো এই বিয়ে হয়ে তোমার ভাবী হয়ে আসবো বুঝছো বাবু তুমি খুশি হওনায়?
রাদিব :সত্যি শুধু আমার কাছে থাকার জন্য ভাবী হয়ে আসবা! আমি কিন্তু ভাবী বলে ডাকবো না, রাতের পরী বলেই ডাকবো ওকে?
-অবশেষে বাবুটাকে কোনো ভাবে বোঝানো গেল সরি সোনা তুমি অনেক ছোট তাই সত্যিটা বলতে পারলাম না। এসব ভাবনার মাঝেই চোখ গেল রোদ ভাইয়ার দিকে চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে দুজন দুদিকে তাকালাম ।
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি বিয়ের একটা আমেজ ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে।
তারপর রাদিবকে বললাম ওকে বাবু।
মামনি এসে বললেন
মামনি: আমার রোদ অনেক বোঝদার ছেলে হয়তো একটু মাথা গরম কিন্তু ভীষণ ভালো মনের ছেলে তোমার মামনি যে মিথ্যা বলে না এটা তো জানো। বিশ্বাস রাখো যখন আমার রোদ তোমায় ভালোবাসবে তখন বুঝবা তোমাদের দাদী কোন ভুল করেননি। জীবনটা কত টা সুন্দর তখন উপলব্ধি করবা। আমি বলব না তোমাকে মানায়ে নিতে তুমি নিজের বাড়িতে যেভাবে থাকো এখানে ও সেভাবেই থেকো। আমি তোমাকে আগে থেকেই নিজের মেয়ের মত ভালোবেসেছি আর এখন তুমি আমার মেয়ে আর আমি তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু কখনো মন খারাপ হলে, রোদের কথায় কষ্ট পেলে আমাকে বলবা আমি সবসময় তোমার পাশে আছি মা।
-আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি এই মানুষটা এত ভালো । শাশুড়ি কারো এত ভালো হয়! আল্লাহ্ আমার ভাগ্যে এত ভালো শাশুড়ি মা রেখেছেন। খুশিতে দু ফোটা পানি ঝরে গেল অজান্তেই ..
মামনি :চোখের পানি মুছে দিলাম আমার সোনা মা কান্না করে না। আমার কোন কথা কি খারাপ লাগছে?
-আমি সাথে সাথে বললাম না মামনি, তুমি এত ভালো কেন? আর রোদ ভাইয়া এত রাগী?
মামনি: একটু হেসে, রোদ ও ভালো ধীরে ধীরে বুঝবি তখন বলবি মামনি তোমার থেকে ও তোমার ছেলে ভালো মিলিয়ে নিস।
বলেই বললেন পার্লার থেকে সাজের মেয়েরা চলে আসছে বিছানায় বেনারসি শাড়ি, গহনা, কসমেটিকস্ সব আছে তৈরি হয় নাও।
চলবে।।আশা করবো কেউ কপি করবেন না। (লেখনিতে :#তাশফিয়া রহমান)ভালো লাগলে এবং ভুল শুধরানোর জন্য বলবেন।