জানি ভালোবাসো পর্ব-০৪

0
424

#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব:৪

রোদ ভাইয়া রুমে প্রবেশ করতেই আমি নড়েচড়ে বসলাম। আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে ওয়াশরুম এ গেলেন সোজা , শাড়ি পড়ার অভ্যাস না থাকায় কেমন যেন অসস্তি হচ্ছে।

ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, ভীষণ অসস্তি নিয়ে বললাম রোদ ভাইয়া কিছু বলবেন?

ওনি ওইভাবে তাকিয়ে বললেন –

রোদ: শাড়িটা চেঞ্জ করে আসো। একটু ফ্রেশ হয়ে আসো।

আমি সাথে সাথে উঠে লাগেজের মধ্যে শাড়ি খুজছিলাম , কারণ আসার সময় আমার মাম বলেছিলেন শাড়ি পরতে কিন্তু শাড়ি পরতেই পারিনা তবুও চেষ্টা করতে চাইলাম হঠাৎ তখন ই রোদ ভাইয়া বলে উঠলেন

রোদ: তোমার শাড়ি পরতে হবে না, তুমি যেটাতে কমফোর্ট ফিল করবা সেটাই পরবা ওকে।

– আমি সাথে সাথে মাথা নাড়লাম যার অর্থ হ্যাঁ। মনের মধ্যে খুব ভালো লাগছে আমার এই অসস্তি ওনি এত সহজে বুঝবেন ভাবতে পারিনি।

তারপর লাগেজ থেকে টি- শার্ট আর প্লাজু নিয়ে ওয়াশরুম এর দিকে যেতে নিতেই ,হঠাৎ ঢেকুর উঠে গেল এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটবে ভাবিওনায় লজ্জায় তাকাতে পারলাম না। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি পা যেন আটকে গেছে-

তখন হঠাৎ রোদ ভাইয়া বলে উঠলেন
রোদ: বেড সাইড টেবিলে এসিডিটির মেডিসিন রাখা আছে। ফ্রেশ হয়ে এসে আগে মেডিসিনটা খেও ।

– আমি আরও লজ্জায় পড়লাম, ঢেকুর উঠার আর সময় পেল না ,ধ্যাৎ প্রেস্টিজ বলে আর কিছু থাকলো না। মাথা নিচু করে ওয়াশরুম এর দিকে পা বাড়াতেই রোদ ভাইয়া বলে উঠলেন-

রোদ: রাত শোনো,

-আমি থমকে গেলাম !আজ পর্যন্ত কেউ কখনো এই নামে ডাকে নি । বুকের ভেতর ধুক করে উঠলো কিন্তু ভীষণ ভালো লাগলো যেটা প্রকাশ না করে রোদ ভাইয়ার দিকে তাকালাম তিনি বললেন-

রোদ: রাত আমাদের যেহেতু বিয়ে হয়েছে আমি আশা করবো আমাকে আর ভাইয়া বলে ডাকবে না, আর এখন থেকে আর আপনি নয় তুমি বলবে ওকে।

-আমি আরেক দফা অবাক হলাম এত তাড়াতাড়ি কীভাবে এত দিন এর অভ্যাস চেঞ্জ করবো! অবাক হয়ে বলেই ফেললাম আমার একটু সময় লাগবে। বলে মাথা নিচু করে ভাবছিলাম নিশ্চয় এখন ধমক খেতে হবে কিন্তু আমার ভাবনা সরিয়ে উনি বললেন –

রোদ: অবশ্যই সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক সময় নাও তবে চেষ্টা করো ওকে?

-আমি মাথা নাড়লাম যার অর্থ ওকে। বলে ওয়াশরুম এ গেলাম।

ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে এসে দেখি রোদ ভাইয়া খাবার নিয়ে বসে আছেন উনি বললেন
রোদ: তুমি যে সন্ধ্যা থেকে কিছু খাওনি সে খেয়াল আছে আগে মেডিসিন টা খাও তারপর খেয়ে নাও খাবার গুলো।

-আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম আজ নতুন কোন রোদ ভাইয়াকে দেখছি এই কি সেই রোদ ভাইয়া যে ধমক ছাড়া কথায় বলতে পারতো না কখনো। ভাবনার মাঝেই রোদ ভাইয়া আবার বললেন

রোদ: রাত বলছি বলে কি রাগ করলে, শোনো রাগ করলে ও তুমি আমার কাছে রাত ই থাকবে, আমার ব্যক্তিগত রাত তুমি বুঝেছো আর রাত বলে শুধু আমিই ডাকবো মনে থাকবে?

– আমার কানে শুধু তার একটা কথায় বাজছে ব্যাক্তিগত রাত তুমি! এসব ভাবনার মাঝেই আমি মাথা নাড়লাম যার অর্থ মনে থাকবে।
উনি আমাকে তার পাশে বসতে বললেন আমিও সাথে সাথে বসলাম মেডিসিন আর পানি এগিয়ে দিলেন খাওয়ার জন্য আমি খেয়ে নিলাম। তারপর খাবার এর ঢাকনা সরাতে আরো অবাক সেই জন্মদিন এর কেক উনি মনে করে এনেছেন ভাবতেই পারছি না। আমার ভাবনার মাঝেই বললেন

রোদ: কি হলো খাও রাত। আমারো তেমন খাওয়া হয়নি।

– আমার কি হলো জানিনা আমি বলে উঠলাম আসেন একসাথে একপ্লেট এ খেয়ে নেয়। মুখের কথা বের হতে দেরি মনে হলো উনি ভীষণ খুশি হয়ে সাথে সাথে প্লেট এর আরেক পাশ থেকে খেতে শুরু করলেন।

আমি ও খেয়ে নিলাম। খুব খুধা লেগেছিল। আমি খুব কম খাবার খাই কিন্তু সময়ের খাবার সময় এ না খেলে অসুস্থ হয়ে পরি। খাওয়া শেষ করে সামনে তাকিয়ে দেখি রাদিব বাবু চোখ ডলতে ডলতে এগিয়ে আসলো, হাতে একটা বালিশ রাদিব বলল

রাদিব: রাতের পরী আমি এখানে তোমার সাথে ঘুমাবো আমাকে নিবা না?

-কি বলবো ভাবতেই হঠাৎ মামনি এলেন রুমে বললেন

মামনি : রাদিব এখানে কি করো? এখানে ঘুমানো যাবেনা। তোমার প্রবলেম আছে বলে

– কানে কানে রাদিবকে কি যেন বললেন তারপর রাদিব ও লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বলল

রাদিব: আমি তোমার কাছে রাতে থাকবো না থাকলে তোমাদের ই বিছানা পচা হবে বলেই জিহ্বা বের করে দৌড়ে চলে গেল।

-বুঝলাম হিসুর প্রবলেম রোদ ভাইয়া বাদে আমি আর মামনি জোরে হেসে ফেললাম। তারপর মামনি ও চলে গেল। রোদ ভাইয়া বলে উঠলেন

রোদ: রাত পাখি অনেক রাত হয়ে গেছে শুয়ে পরো।

– আমার বুকের ভেতর আবার ধুক করে উঠলো!

রোদ ভাইয়া আবার বলে উঠলো

রোদ: কি হলো এসো নাকি সারারাত দাড়িয়ে থাকবা?

– আমি সাথে সাথে বিছানার এক কোনে এসে শুয়ে পড়লাম, কিন্তু ভীষণ আনকমফোর্টেবল লাগছে। জানিনা আমার এ অসস্তি বুঝলেন কীনা বলে উঠলেন –

রোদ: এত আনকমফোর্ট ফিল করার কিছু নাই রাত পাখি। আমি তোমার একান্তই ব্যক্তিগত তাই নিশ্চিতভাবে ঘুমিয়ে পরো ওকে আসসালামুআলাইকুম।

– আমাকে কি হার্ট অ্যাটাক করানোর ইচ্ছা আছে নাকি এসব কথা এইভাবে আগে তো কোনদিন বলে নি এসব ভাবনার মাঝেই উনি বললেন

রোদ: তোমার এই ছোট মাথায় এত চিন্তা নিওনা রাত পাখি। সালাম এর উওর দিয়ে ঘুমিয়ে পরো।

– আমি সাথে সাথে বললাম ওয়ালাইকুমুস সালাম। আবার ভাবতে লাগলাম ওনি কি মনের কথা ও বোঝেন! ধুর এত কিছু সত্যি ই আমার মাথায় ঢুকবে না, চোখ বন্ধ করতেই একরাশ
ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে গেলাম।

মনে হলো মাএই ঘুমালাম কে এখন ডাকে প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বসে সামনে রোদ ভাইয়াকে দেখলাম ভয় পেয়ে গেছিলাম তারপর ধীরে ধীরে মনে পড়লো ওহ গত কালতো ওনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। এসব ভাবনার মাঝেই উনি বললেন

রোদ: রাত পাখি উঠে পরো ফজরের আযান দিছে নামাজ পড়তে হবে তো।

– আমি এত অবাক হয়তো কখনো হয়নি এই রোদ ভাইয়া যেন অন্য কেউ কিন্তু ভীষণ ভালো। উনি আবার বললেন
রোদ: আমি অন্য কেউ না রাত, আমি তোমার হাসবেন্ড।

– আমি থমকে গেলাম এই মানুষটা কি মনের কথা ও বুঝতে শুরু করেছে?

আবার বললেন
রোদ: যাও রাত ওযু করে এসো একসাথে নামাজে দাড়াবো।

– আমি সাথে সাথে মাথা হ্যা বোধক বলে ওয়াশরুম এ গিয়ে ওযু করে এলাম। তারপর একসাথে দুইজন নামাজ পড়লাম। প্রতিটি মেয়ে এমন স্বপ্ন দেখে আল্লাহ্ আমার ভাগ্যে এত ভালো করেছেন নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। নামাজ শেষে আমি উঠে বিছানাতে বসতেই উনি কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেন। কি মধুর কণ্ঠ ভীষণ শান্তি লাগছে। চোখ বন্ধ করে শোনার মধ্যেই উনি বললেন

রোদ: শুধু শুনলে হবে না রাত কাল থেকে তুমি ও তেলাওয়াত করবে।

– আমি মাথা নাড়লাম যার অর্থ হ্যা। তারপর দুজনেই শুয়ে পড়লাম।

তারপর ওনি কিছু দুআ পড়ে আমার মাথায় ফু দিলেন। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। উনি বললেন

রোদ: রাত?

– চোখ বন্ধ করেই বললাম হুম

রোদ: তাকাও আর শোনো –

– আমি সাথে সাথেই চোখ খুললাম উনি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন …..

চলবে।।।