জানি ভালোবাসো পর্ব-০৫

0
439

#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব:৫

রোদ ভাইয়া বললেন-

রোদ : জানি হুট করে বিয়েটা হয়েছে তবুও পরশু থেকে পড়াশোনা শুরু করো। চাচা চাচীর কাছে শুনেছি তুমি যথেষ্ট ভালো স্টুডেন্ট। কিন্তু পড়তে চাও না। এটা তোমার থেকে অপ্রত্যাশিত।

– পড়াশোনা এই এক বিরক্তির নাম, এত পড়ে কি হবে,পড়াশোনা কে আবিষ্কার করেছিলো কে জানে তাকে পেলে ভর্তা বানাতাম অসহ্যকর এসব ভাবনার মাঝেই উনি বললেন

রোদ : আমি কিছু বলেছি রাত ?

– আমি সাথে সাথে বললাম শুনেছিতো।

রোদ: শুনেছো তাহলে কিছু না বলে কি এত ভাবো?

– পড়াশোনাটা একদমই ভালো লাগে না, এসব ভেবে খুব সাহস নিয়ে বলেই ফেললাম ,আমার সত্যি বলতে পড়তে ভালো লাগে না । উনি বললেন –

রোদ: আচ্ছা একটা কথা বলো, আমাদের সবার কি মেডিসিন খেতে ভালো লাগে?

-আমি সাথে সাথে বললাম না,তারপর ভাবছি হঠাৎ এমন প্রশ্নের মানে কি, এত ভাবতে পারছি না।কিন্তু সত্যি আমার নিজের ই মেডিসিন খেতে ভালো লাগে না।

রোদ: তবুও আমরা খাই, কেন?

– আমি বললাম সুস্থ হওয়ার জন্য, উনি সাথে সাথে বললেন

রোদ: এক্সাক্টলি এটাই মেডিসিন ভালো না লাগলেও খেতে হয় সুস্থতার জন্য, ঠিক তেমনি পড়াশোনা ভালো না লাগলেও পড়তে হয়, নিজের ভবিষ্যতের জন্য বুঝেছো?

– আমি সাথে সাথে বলে ফেললাম কিন্তু আমার ভবিষ্যত তো আপনি, বলেই লজ্জা পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম, কি বললাম এটা উনি কি ভাবছেন কে জানে –

রোদ মুচকি হাসলো যা রাতের চোখ এ পড়লো না। রোদ বলে উঠলো –

রোদ : হ্যাঁ আমি তোমার ভবিষ্যত অবশ্যই, তবে নিজেকে সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলতে শিখতে হবে একা একা , সারাজীবন কি মানুষ বেচেঁ থাকে আর….

– আমি হঠাৎ ভীষণ ভয় পেয়ে ওনার মুখে হাত দিলাম দিয়ে বললাম, আর একটা বাজে কথা আমি শুনতে চাই না বুঝেছেন ।
উনি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাথা নাড়ালেন। তারপর আমি আবার বললাম পড়াশোনাটা জাস্ট ভালো লাগে না, তাই বলে এই ধরনের কথা না বললেও পারতেন। মনের অজান্তেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে কেন তা অজানা, ফুপিয়ে কান্না দিলাম। উনি এটার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

উনি ওনার মুখ থেকে আমর হাত সরিয়ে আচমকা জড়িয়ে ধরলেন। যেটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। সাথে সাথে কান্না বন্ধ হয়ে গেল। উনি আমার মাথায় হাত বুলালেন ধীরে ধীরে বললেন-

রোদ :সরি , রাত পাখি আমি বুঝতে পারি নি, তোমাকে হার্ট করার কোন ইচ্ছা ছিল না। তুমি আর কখনো কান্না করো না।

-পরম আদরে চোখের পানি মুছে দিলেন বললেন –
রোদ: আমি মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়ো।
– আমিও চোখ বন্ধ করতেই গভীর ঘুম এসে ধরা দিল।

সকালে ঘুম আগে আমার ভাঙলো, উনার হাত এখনো আমার মাথায়, অন্যরকম ভালো লাগছে এককথায় ভীষণ ভালো অনুভূতি, উনাকে দেখতে মা শাহ আল্লাহ্ । এত কিউট আমার জামাই ,আর এত ভালো আমি এতটা ভাগ্যবতী হবো কখনো ভাবিনি আল্লাহর রহমত ছাড়া কিছু না।আনমনেই উনার সিল্কী চুল এলোমেলো করে,দেওয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৮ টা বাজে। সূর্যের আলো উঠেছে অনেক আগেই , এসি বন্ধ করে জানালার পর্দা সরালাম ,বেশ ঠান্ডা বাতাস হচ্ছে, আবার মনে হলো উনি জেগে যেতে পারেন, তাই জানালা বন্ধ করে এসি অন করে, ওয়াশরুম এ গেলাম। ফ্রেশ হয়ে মামের কথা মনে হলো মাম বলেছিল চা বানাতে যদিও কোন কাজ ঠিক ভাবে হয়নি আজ পর্যন্ত তবুও চেষ্টা করতে হবে।

-তাই নিচে আসলাম দেখলাম রান্নাঘর এ রোদ ভাইয়াদের বাসায় কাজ করে মিনু আপু। মিনু আপুকে এ বাড়ির সবাই পরিবারের মানুষ ই মনে করে। মিনু আপু ও এ পরিবার বলতে পাগল। এখানেই থাকে। তার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। মিনু আপুকে বললাম তুমি রান্নাঘর থেকে যাওতো আজকে চা আমি বানাবো। মিনু আপু ভূত দেখার মত চমকে গেলেন কারণটা জানা তিনি ও জানেন আমার কাজ এর বিষয়ে বলে উঠলো –

মিনু: তা হয় না ভাবি। ভাই শুনলে রাগ করবে।

– ওর মুখে ভাবি শুনে আরো অবাক ! এত দিন নাম ধরে ডেকেছে, এত তাড়াতাড়ি কীভাবে পারলো! আমিতো রোদ ভাইয়াকে এখনো রোদ বলে ডাকতে পারলাম না। আমাকে পারতেই হবে এসব ভেবে ওকে জোর করে রান্না ঘর থেকে বের করলাম।

-গ্যাস এ পাতিল এ পানি গরম করতে হয় রং চা এ তাই দিয়ে দাড়িয়ে ভাবছি রোদ ভাইয়ার কথা মানুষটাকে যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি এত কেয়ারিং এত বোঝে আমাকে, কবে থেকে !
কাল থেকে অন্য রোদ ভাইয়াকে দেখছি তবে ভীষণ ভালো লাগছে প্রতিটা মেয়ে এমন কাউকে লাইফ পার্টনার হিসেবে চাই, আমিও কল্পনা করতাম তবে কখনো রোদ ভাইয়াকে নিয়ে ভাবিনি। কাল যখন উনি মারা যাওয়ার কথা বললেন আমার কেন এত কষ্ট হচ্ছিলো! আমি কি রোদ ভাইয়াকে ভালোবেসে ফেললাম, এত তাড়াতাড়ি কি ভালোবাসা হয়, হয়তো হয় -ভালোবাসার জন্য অনেক সময় দরকার হয় না, জাস্ট কোন এক মূহুর্তই যথেষ্ট এসব ভাবনার মাঝেই গরম পানি হঠাৎ হাতে পড়তেই ,আমি আহ্ করে সামনে তাকায়ে তাড়াতাড়ি পাতিল সরাতে হাতে ছ্যাঁকা খেয়ে চিৎকার দিলাম।

-মামনি ও মিনু আপু দৌড়ে এলো আমার কাছে মামনি বললো –

মামনি :কি হয়ছে মা? তোমাকে এসব করতে কে বলছে? দেখি আসো বরফ লাগাতে হবে ।

– মামনি খুব আদর করে আমাকে তার কোলের কাছে বসালো, কিছু বলতে নিতেই হুট করে রোদ ভাইয়া আসলো –

-ছোফা থেকে টেনে দাড় করিয়ে মামনির সামনেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো ! আচমকা এমন হওয়াতে থমকে গেলাম। শুধু তার বুকের হার্ট বিট শুনতে পাচ্ছি। এত জোর এ হার্ট বিট চলছে যে মনে হচ্ছে উনি ভীষণ ভয় পেয়েছেন। মামনি মিটিমিটি হেসে মিনু আপুকে বরফ দিতে বলে চলে গেল। ভীষণ লজ্জা লাগছে ,উনি আমাকে ছেড়ে আচমকা আবার কোলে তুলে নিলেন। আমার নি:শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপোক্রোম ,তবুও উনাকে বললাম –
-কি করছেন ব্যাথা লেগেছে হাতে, পায়ে তো কিছু হয়নি আমার একটা কথার ও উওর দিলেন না। শিড়ি দিয়ে উপর এ উঠার সময় মিনু আপুকে বললেন –

রোদ: মিনু বরফ আমার রুমে দিয়ে যাও।

-রুমে এনে বিছানায় আমাকে বসিয়ে দিলেন। আমার দিকে তাকাচ্ছে ও না। হাতের ব্যাথা থেকে উনার এই ইগনোর বেশি খারাপ লাগছে। মাথা নিচু করে বসে থাকতেই মিনু আপু বরফ দিয়ে গেলো। উনি বরফ খুব যত্ন করে হাতে লাগাচ্ছে, তারপর মলম লাগানোর সময় ফু দিচ্ছে এত কেয়ার নিচ্ছে অথচ একটা কথাও বলছেনা ভালো লাগছে না।
বলে উঠলাম – আপনি কথা কেন বলছেন না রোদ?
উনি একটু অবাক হয়ে তাকালো , ওনার এভাবে তাকানোর মানে বুঝলাম মন খারাপ এর বশে রোদ বলে ডেকেছি, যাক পেরেছি এসব ভাবনার মাঝেই তাকিয়ে দেখি উনি রুমের কোথাও নেই। আবার মন খারাপ হয়ে গেল। মাম বলেছিলো বলেই তো চা বানাতে গেছিলাম।

দরজায় দেখি রাদিব বাবু বলে উঠলো।
রাদিব: রাতের পরী ব্যাথা পেয়েছো ? ভাইয়া মেডিসিন দিয়ে দিয়েছে ঠিক হয়ে যাবে কষ্ট পেয়ো না। তোমার কষ্ট হলে আমার ও হয়।

– বাবু টা এত কিউট করে বললো না হেসে পারলাম না।
একটু হাসলাম তারপর মামনি বললো সন্ধ্যায় একটা ছোট বউভাত অনুষ্ঠান করবো ভাবছি, রোদ কিছুতেই রাজি হচ্ছিলোনা । এমনিতে এসব অত পছন্দ করে না তার উপর তোমার হাত পড়েছে। তবুও অনেক কষ্টে রাজি হয়ছে।……

চলবে।।