#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব:৬
রাদিব বাবু ও তার ভাইয়ের মত ফু দিয়ে দিচ্ছে। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছি এই বাড়িতে সবাই এত ভালো। রোদ বাদে সবাই আমাকে ভালোবাসে তবে কাল থেকে রোদ ও এদের সবার মতো আমার যত্ন নিয়েছে, তাহলে উনি ও কি আমাকে ভালোবাসে কিন্তু সকালে এতো রাগ কেন করলো ,যে কথায় বললো না! ভালোবাসলে কি এত রাগ করা যায়, এসব ভাবনার মাঝেই মামনি দেখি খাবার নিয়ে রুমে আসলো –
মামনি বললেন –
মামনি :খাবার খেয়ে নাও।
– আমি সাথে সাথে আমার হাতের দিকে তাকালাম, মামনি আবার বললো –
মামনি: আজকে আমার মেয়ে আর ছেলেকে একসাথে খাইয়ে দিবো। রাদিব রাত্রি দুইজন ই তাড়াতাড়ি খাবা আসো।
– আমি অবাক হলাম এত ভালো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছি ,আমার মাম ও হয়তো খাইয়ে দিতো কিন্তু হাজারটা কথা শুনতে হতো যে কোন কাজ ই পারিনা কিন্তু মামনি কত আদর যত্ন করছে,এসব ভাবনার মাঝেই মামনি বললো –
মামনি : রাত সোনা মা হা করো।
– আমি সাথে সাথে হা করে খাওয়া শুরু করলাম , আমার সাথে রাদিব ও। খাওয়ানো শেষ করে মামনি বললো একটু পরে পার্লার থেকে সাজানোর মেয়ে আসবে, বাড়িতে কিছু মেহমান আসবে তৈরি হয়ে নিও।
আমি মাথা নাড়লাম। তারপর কিছু সময় পর সাজানো শুরু হলো আমাকে, সেই সকালের পর একবারো রোদকে দেখি নি মনের ভিতর কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করছে, এক কথায় ভালো লাগছে না। সন্ধ্যায় বাবা মাম রোহিত আসলো, প্রথম এ আমার হাত দেখে মাম বললো –
মাম : কি করে হলো? একটু সাবধান এ থাকা যায় না।
আমি সব বলতেই ,আবার বললো-
মাম : তোমাকে দিয়ে কোন কাজ ই হবে না।
-আমি একটু মন খারাপ করতেই , রাদিব বাবু দৌড়ে এসে বললো –
রাদিব : চাচী আমার রাতের পরীকে একদম বকবে না।
বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি ও একটু আদর করলাম।
মামনি আমাকে ড্রয়িং রুমে আনলো আসতেই প্রথম এ নজর পড়লো আমার রোদের দিকে – আমি থমকে গেলাম! আজকেও আমার প্রিয় কালো রঙে নিজকে তৈরি করেছেন। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। উফ এত সুন্দর কেন এই মানুষটা, উনি ও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছু সময়, আমিও আজকে ম্যাচিং কালো শাড়ি পরেছি কিন্তু আমি জানতাম না ম্যাচিং হয়ে যাবে। উনার চোখ এ বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারলাম না চোখ সরিয়ে নিলাম।
আমাকে আর রোদকে পাশাপাশি বসানো হলো তবুও উনি কোন কথা বললেন না
আমি বলে উঠলাম –
– আমাকে কেমন লাগছে?
উনি তাকানো দূরে মনে হলো শুনতেও পেলেন না।
অনুষ্ঠান ভালো ভাবে শেষ হলেও উনার সাথে আমার একটা কথাও হলো না । সবাই চলে যাওয়ার পরে রুমে চলে আসলাম মামনি অনেক বার মুখে খাবার দিতে গেছে। কিন্তু আমি খাইনি। ওয়াশরুম গিয়ে ফ্রেশ হলাম কিন্তু শাড়ি চেঞ্জ করলাম না। উনি একটু পর রুমে আসলো এসে আমার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে ওয়াশরুম এ গেল ।
আমি আর থাকতে পারলাম না। সারাদিন যেয়ে রাত চলে আসলো তবুও উনি কথা বলেননি। উনি ওয়াশরুম থেকে আসতেই আমি ফুপিয়ে কান্না করে দিলাম । উনি সাথে সাথে আমার পাশে বসে আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে চোখ এর পানি মুছে দিয়ে বললেন –
রোদ: কি হয়ছে কান্না করছো কেন? কান্না করতে নিষেধ করেছিলাম,
– কেন সারাদিন ধরে কথা বলেননি? আমি আপনাদের জন্য ই চা বানাতে গেছিলাম।
রোদ: আমি বলেছি চা বানাতে ?তুমি কেন গেছো? তোমাকে কোন কাজ করতে হবে না।মিনু আছে।যদি বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেত, তোমাকে ওই অবস্থা দেখে আমার ভেতর এ কি হয়েছিল ধারণা আছে? শুধু কথা বলিনি এতেই তোমার ভালো লাগে নি।
হঠাৎ উনি আমার হাত ধরে ওনার বুকের বামপাশে আমার হাত রেখে বললেন –
রোদ: রাত পাখি আমার এখানে ভীষণ কষ্ট হয়েছে। তুমি কি অনুভব করতে পারছো ?
– আমি থমকে গেলাম, কি হলো জানিনা আমার ,উনাকে আচমকা জড়িয়ে ধরলাম বললাম – সরি , আপনি আর রাগ করে থাকবেন না। আপনার কষ্ট হবে আমি বুঝতে পারি নি।আপনি কথা না বললে আমার কিছু ভালো লাগে না। উনিও আমাকে জড়িয়ে ধরলো কিছু সময়, তারপর খাবার এনে বললো –
রোদ: ম্যাডাম আমার উপর রাগ করে খাও নি একদম ঠিক না। এসো আমার হাতে ভালো মেয়ের মতো খেয়ে নাও।
-আমি খাইনি এটাও খেয়াল করেছেন এত যত্ন সবাই চেয়েও পাইনা, আল্লাহ্ এর রহমত।
আমার লজ্জা লাগছিল যেটা উনি বুঝে বলে উঠলেন –
রোদ : নিজের মানুষের কাছে লজ্জা রাখতে হয়না।
– আমি অবাক হয়ে খেতে শুরু করলাম আর ভাবতে লাগলাম এত বোঝে কীভাবে! উনি ও কি আমাকে ভালোবাসেন! এসব ভাবনার মাঝেই উনি বললেন খাওয়ানো শেষ আরো খাবা হা করছো যে বলেই মৃদু হেসে আমার মুখ মুছে পানি খাওয়ায়ে আমাকে তার পাশে শুইয় নিজেও শুয়ে পড়লেন।
এই ভাবে খুনসুটির মধ্যে কেটে গেলো আমাদের বিয়ের ১৫ দিন। অনেক জড়তা কেটে গেছে রোদ এর সাথে । ইন্টারে উঠার আগেই অংক এর সূত্র পড়তে হচ্ছে তার কথায়। আজকে এস এস সির রেজাল্ট। চিন্তায় শেষ উনি আজ কলেজ ছুটি নিয়েছেন। আমার রেজাল্ট মোবাইল ই দেখছেন দেখে বলে উঠলো
রোদ : এ+ আসছে।
-মনটা খারাপ হয়ে গেল গোল্ডেন হয়নি। মন খারাপ হতে দেখে উনি বললেন –
রোদ: মন খারাপ করোনা । ইন্টারে ভালো হবে ইন শাহ আল্লাহ্। একদম মন খারাপ না। বাড়িতে সবাই অনেক আদর করলো ভীষণ ভালো লাগছে। আল্লাহ্ এর রহমত। রোদ এসে বলল –
রোদ: আজ বড় চাচুরা সবাই আসবে। আমাদের বিয়ের সময় বড় মা একটু অসুস্থ ছিলেন তাই আসতে পারেনি। মন খারাপ আর না ওকে?
– ওকে।
সন্ধ্যা নাগাদ ওনারা এসে পড়লেন। বড় চাচা চাচী অনেক আদর করলেন। আমাকে একটা নেকলেস দিলেন। শিমুল ভাইয়া বিয়ে করেছিলেন আমার অজানা ছিল, যাইহোক ভাবিও অনেক ভালো। শুধু শিমলা আপু এসেই রোদকে জড়িয়ে ধরলো, আমি স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছি কাজিন বোন, কিন্তু যখন আমার সাথে পরিচয় করালো মনে হলো আমাকে দেখলোইনা। রাতে টেবিলে খাওয়ার সময় সবসময় আমি রোদ এর বাম পাশে চেয়ার এ বসি । আজকে সব ছিটে সবাই বসে ঐ একটা ছিট খালি ছিল ,আমি বসতে যেতেই হুট করে শিমলা আপু এসে বসে পড়লেন। মন খারাপ নিয়ে দাড়িয়ে থাকতেই রোদ আমার হাত সবার সামনে ধরে তার চেয়ারে নিজে একটু সরে আমাকে বসিয়ে দিলো। ভীষণ লজ্জা লাগছিল, শিমলা আপু ছাড়া সবাই মিটিমিটি হাসলো। খেয়ে সাথে সাথে রুমে আসছি। অনেক সময় পর ও দেখলাম রোদ রুমে আসেনি, তাই নিচে গিয়ে দেখি শিমলা আপুর সাথে গল্প এ ব্যস্ত। আমি সামনে যেতেই রোদ হাসলো-আমি ও একটু হেসে শিমলা আপুর দিকে তাকাতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল! রোদ এর সাথে গল্প এর ওছিলায় উনি রোদ এর কোলের কাছে যাচ্ছে বার বার আবার আমার দিকে তাকিয়ে বাকা হাসি দিলো। বুঝলাম ইচ্ছা করেই এমন করছেন। রাগ উঠলে এই এক জ্বালা , নিজের মধ্যে থাকিনা। তাই হুট করে রোদ এর হাত ধরলাম ,উনি অবাক দৃষ্টিতে তাকাতেই আমি বললাম ……
চলবে।।।