#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব :৭
আমি বললাম – ঘুম পায় চলেন ঘুমাবো। উনি সাথে সাথে উঠে আসতে চাইলে শিমলা আপু বললেন –
শিমলা: রোদ ভাইয়ার সাথে একটু গল্প করছি, জামাই ছাড়া কোন বউ এর ঘুম হয়নি ,এমন কথা শুনি নাই।
– আরো রাগ উঠলো বলে ফেললাম –
-জামাই ছাড়া কার ঘুম হয় কি না হয় সেটা আমার দেখার বিষয় না, কিন্তু আমার জামাই ছাড়া আমার ঘুম হয়না।
বলে উনার হাত ধরে রুমে চলে আসলাম। উনি হতভম্ব এর মতো তাকিয়ে আছেন,
রুমে এসে আমার দিকে এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমি বললাম ,
-কি এভাবে তাকিয়ে থাকার মানে কী?
রোদ: তুমি কি জেলাস?
রাগ থাকার ফলে বললাম –
-নাতো আমি অনেক খুশি, আমার তো অনেক নাচতে মন চাইছে। দাড়ান একটু নাচি।
বলেই নাচতে যেতেই উনি আমাকে তার কাছে বসিয়ে বললেন –
রোদ: কি হয়েছে আমার রাত পাখির , মাথাটা কি একবারে গেছে?
আমি চুপ থাকতে উনি আবার বললেন –
রোদ: কথা বলবা না, এত রাগ করতে হয়না, আরে ওতো আমার কাজিন হয়।
আমি বললাম –
কাজিন হয় দেখে কি আপনি কোলে নিয়ে বসে থাকবন?
আমার কথায় কিছু সময় অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন –
রাত কি বলো এসব আরে ও আমার কাজিন, ভাই বোন একটু গল্প করছিলাম।
আচ্ছা তাহলে আমি ও আমার কোন কাজিন ভাইয়ের কোলের কাছে গিয়ে গল্প করবো ভাই বোনই তো তাইনা?
উনি একটু রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন –
রোদ: এখন বকা দিলে তো কেদে ভাষাবা সো তুমি যা চাইবে সেটাই হবে। ওর থেকে দুরত্ব বজায় রাখবো খুশি?
আমি বললাম –
ওনি যদি আপনাকে ভাইয়ের নজরে দেখতো আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু আমার মনে হয় সে আপনাকে পছন্দ করে।
রোদ বললেন ,
রোদ: তুমি ভুল ভাবছো। যদি তেমন কিছু হতো আমি ঠিক বুঝতাম বুঝছো, আর আমি নিজের বোনের মত দেখছি।
আমি বললাম ,
আপনি তো আন্ডা বোঝেন। উনি একটু আমার দিকে ভুরু কুচকে তাকিয়ে আমার হাত ধরে বিছানায় শুইয়ে নিজেও আমার পাশে শুয়ে আমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন। এটা প্রথম দিন থেকে তার অভ্যাস আমার ও ভীষণ ভালো লাগে তবে আমি প্রকাশ করিনা।
দুজনেই ঘুমিয়ে গেলাম। ফজরের নামাজে প্রথম দিন থেকে আমায় ডেকে আমরা একসাথে নামাজ পড়ি আজকেও ব্যাতিক্রম হলো না।
সকালে নাস্তা করে রোদ কলেজ এ চলে গেছে। তাই আমি আর রাদিব বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ শিমলা আপু রুমে প্রবেশ করতেই রাদিবকে বললেন –
শিমলা : রাদিব নিচে যাওতো, তোমার ভাবীর সাথে একটু গল্প করি,
রাদিব: কে ভাবী ও আমার রাতের পরী ওকে।
শিমলা আপু একটু মুখ ভাঙালেন
বললেন –
শিমলা: ওকে তোমার পরী নাকি রাতের পরী
( রাকিবকে নিচে পাঠাতে একটু মিথ্যা বলি) রাদিব জানো তোমার জন্য শিমুল ভাই কি যেন এনেছে।
রাদিব: আমি একটু আসছি রাতের পরী।
রাদিব বের হতেই শিমলা আপু বলে উঠলেন
শিমলা: রোদ ভাইয়া ভীষণ সুন্দর, সেই হিসেবে সুন্দর
বউ হয় নি।
আমি বললাম –
সরাসরি বলেনযে আমাকে আপনার পছন্দ না।
আমার কথা এড়িয়ে বললেন –
শিমলা: রোদ ভাইয়া কখনো তোমাকে সুন্দর বলেছে?
– এসব অযৌক্তিক কথায় বিরক্ত লাগছে
আবার বললেন
শিমলা: আমাকে অনেকবার বলেছে আমি নাকি অনেক সুন্দর।
বলেই একটা হাসি দিলো যা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ,হঠাৎ দেখি রোদ ফোন দিছে মনে মনে ভীষণ খুশি হলাম।এবার উনাকে শুনিয়ে বললাম –
-উফ আমার জামাই টাও না জানেন কলেজ এ গেলেও তার মন আমার কাছে পড়ে থাকে, আমাকে ছাড়া নাকি তার এক মূহুর্ত ও ভালো লাগে না।
আমার কথা উনার মুখের ভাব পাল্টে গেল উনি বললেন
শিমলা : আমার একটু কাজ আছে। বলেই চলে গেলন। এদিকে আমার জামাই ফোন দিয়েই যাচ্ছে। ৫ বারের বার ফোন ধরতেই
বললেন –
রোদ: রাত ফোন ধরছিলে না কেন?
– শিমলা আপু আসছিল তাই কথা বলছিলাম।
রোদ: ওসব শিমলা টিমলা বাদ দাও, আচ্ছা একটা কথা বলো?
– কি?
রোদ: তুমি কি আমাকে একটুও মিস করো না জান।
– আমি থমকে গেলাম লজ্জা লাগছে তার এ জান ডাকায় , মাঝে মাঝে এমন এমন কথা বলে যে আমার কথা গুলো সব আটকে যায় এসব ভাবনার মাঝেই
রোদ বলে উঠলো
রোদ: থাকেন রাত পাখি আর লজ্জা পেতে হবে না।
– উফ এই মানুষটা দুরে থেকেও কি মনের কথা বুঝে!
রোদ: রাত নিজের মানুষ দুরে কাছে যেখানেই থাক মন পড়তে জানে।
– আবার অবাক হয়ে গেলাম তার এসব কথাতে আমার হার্ট বিট বেড়ে যায়।
রোদ: এত চিন্তা মাথায় নিতে হবে না। আজকে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
– কি সারপ্রাইজ বলেন?
রোদ: বলা যাবে না আমি আসলে পাবা এখন রাখি আসসালামুআলাইকুম।
– ওয়ালাইকুম সালাম বলতেই ফোন রেখে দিলেন।
সারপ্রাইজ শোনার পর থেকে খুব ভালো লাগছে, সারপ্রাইজ পেতে সবারই ভালো লাগে। কি সারপ্রাইজ না জানা পযন্ত বিরক্তি লাগছে। কিন্তু উনি বলবেন ও না আর বলে দিলে তো সত্যি সারপ্রাইজ থাকে না।
নিচে এসে মামনিদের সাথে গল্প করলাম তারপর রাদিব এসে বললো ,
রাদিব: জানো রাতের পরী শিমুল ভাইয়া আমার জন্য কিছু আনছিল না পরে আমি চকলেট খেতে চেয়েছিলাম তখন এনে দিছে।
– রাদিব এর কথা শুনে শিমলা আপুর দিকে তাকাতে আপু চোখ সরিয়ে ফোন দেখায় মগ্ন হলেন, বুঝলাম মিথ্যা বলেছিলেন তখন ,
কিছু সময় পর রুমে এসে গোসল করে নামাজ পড়ে, দুপুর এ খেয়ে ঘুম দিলাম। বিকালে রাদিব এর ড্রয়িং করে দিচ্ছিলাম। তখন রোদ আসলো হাতে প্যাকেট দেখেই বুঝলাম আমার সারপ্রাইজ চলে আসছে, খুশি হয়ে যেতে গেলেই রাদিব বললো
রাদিব: আমার আরো বাকি আছে ওগুলো তোমাকে করে দিতে হবে।
– মন তো পড়ে আছে রোদ এর কাছে ,কিন্তু রাদিব বাবু থাক একটু পরেই যায় সারপ্রাইজ তো আর অন্য কারো হবে না আমারই।
__________
অপরদিকে
রোদ: বিয়ের পর আমি কোন গিফট দেয়নি আমার বিশ্বাস এই সারপ্রাইজ ওর ভীষণ পছন্দ হবে। বলে ওয়াশরুম এ গেলাম।
শিমলা: রোদ এর রুমে দরজা খোলা থাকার ফলে রুমে বিছানায় প্যাকেট চোখ এ পড়লো। বাহ্ বউ কে গিফট করা হচ্ছে, আমি রোদ ভাইয়াকে ভালোবাসি এসব আমার হওয়ার কথা ছিল। প্যাকেট থেকে শাড়ি বের করে পরে নিলাম। ভাইয়ার রুমে আবার এসে আয়নার সামনে নিজেকে দেখছি হঠাৎ ওয়াশরুম এর দরজা খুললো।
_______
রাদিব: রাতের পরী থ্যাংকস । ওকে টাটা দিয়ে
– আমি রুমে এসে সামনে তাকাতেই থমকে গেলাম
– রোদ পেছন থেকে শিমলা আপুকে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখে আমি রোদ বলে চিৎকার দিতেই উনি শিমলা আপুকে সামনে ফেরালেন কিছুটা অবাক হয়ে বললেন
রোদ : তুই এখানে কি করিস? আমি তো রাতের জন্য এই শাড়ি এনেছিলাম
– আমার রাগ উঠে গেছে তাই বললাম
– কেউ পরিস্কার করে বলবেন এখানে কি হচ্ছে?
রোদ কিছু বলার আগেই শিমলা আপু বললেন-
শিমলা : রোদ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
বলার সাথে সাথে রোদ একটা থাপ্পড় দিলো,
রোদ: ছি আমি তোকে নিজের বোন ছাড়া কিছু ভাবিনি আর এসব কীভাবে বলিস বেয়াদব । আর আমি ভেবেছিলাম এটা রাত তুই কেন এসব পরেছিস।
অনেক রেগে বললেন। শিমলা আপু যা বললো আমি শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলাম..
চলবে।।