#জানি ভালোবাসো
#তাশফিয়া রহমান
#পর্ব :৮(শেষপর্ব)
শিমলা আপু বললেন
শিমলা: রোদ ভাইয়া তুমি তো আমার জন্য সারপ্রাইজ আনছো , তুমি ও আমাকে ভালোবাসো তোমার বউ এর জন্য এসব বলছো তাইতো,
– আমার চোখ দিয়ে অটোমেটিক পানি পড়ছে
রোদ আমার চোখের পানি দেখার সাথে সাথে বললেন –
রোদ: কান্না করতে নিষেধ করেছি একদম কান্না না
বলেই আমার দিকে এগিয়ে আসতেই আমি বললাম
– প্লিজ আমার কাছে আসবেন না। আমি সত্যিটা জানতে চায়। কান্না করতে করতে আমি বললাম দয়া করে বলেন আপু যা বলেছেন তা কি সত্যিই?
রোদ : শিমলা সত্যি কথা বল (ধমক দিয়ে)
শিমলা : চুপ
কোন কথা না বলে আমার সামনে এসে বললেন
শিমলা: রোদ আমার ভালোবাসা। রোদ কি কখনো বলেছে তোমাকে ভালোবাসে ?তুমি আমাদের মাঝে এসেছো। রোদ আমাকে ভালোবাসে
বলতেই রোদ চিৎকার করে বললেন
রোদ: বেয়াদব এর একটা সীমা আছে। বলেই সামনে আগাতে শিমলা আপু দৌড়ে রুম থেকে চলে গেলেন।
— আমি সরি, আপনাদের মাঝে চলে আসছি।
রোদ: রাত তুমি ভূল বুঝছো আমার কথা শোনো …
বলেই আমার দিকে এগিয়ে আসতে নিতেই আমি দৌড়ে বেড়িয়ে আসি, জানিনা কোথায় যাব কিন্তু এ বাড়িতে আর এক মূহুর্ত ও না
আমি চলে আসতে নিচে মামনিরা সবাই চিন্তিত হয়ে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করতে আমি সেখান থেকে ও দৌড়ে গেটের বাইরে চলে আসলাম
– উনি সত্যিই আমাকে কখনো বলেননি ভালোবাসি মাথা কোন কাজ করছে না ছুটে চলতে চলতে আমার পিছনে রোদ ও আসছেন। ওনার উপস্থিতি বুঝে আরও জোর এ ছুটতে লাগলাম। রোড পার হওয়ার পর পিছনে একটা বিকট আওয়াজ আসতেই আমি পিছনে ফিরে থমকে গেলাম, কল্পনার অতীত!
-হ্যাঁ আমার রোদ
আমার রোদ এর দুর্ঘটনা ঘটেছে, আমার কথা বলার শক্তি হারিয়ে গেছে, তবুও চিৎকার করে রোদ বলে তার কাছে যেতেই চোখ বন্ধ করে ফেললো।
কেমন যেন পাগল পাগল লাগছে, রোদ এর অজ্ঞান অবস্থাতেই ওকে নিজের পায়ের উপর শুইয়ে বললাম তোমার কিছু হবে না রোদ, তোমার রাত থাকতে তোমার কিছু হতে দিবো না, রোদ শুনতে পাচ্ছো তোমার রাতের রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না, জানো তো তাই বলে তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে চাইছো, ইতিমধ্যে মামনিরা এসে কান্নাকাটি করলেও আমাকে উঠাতে ব্যস্ত তারপর হাসপাতালে নিয়ে আসলো রোদকে সবাই।
রোদকে আই সি উ এ রাখা হয়ছে।
মামনিকে জড়িয়ে ধরে আমি কান্না করেই
যাচ্ছি। রাদিব ও কান্না করছে, তবুও আমাকে বলছে
রাদিব: কষ্ট পেয়োনা , রাতের পরী ভাইয়া এসে যদি জানতে পারে তুমি কেদেছো খুব রাগ করবে, ওকে জড়িয়ে জোরে চিৎকার করে কান্না করতেই আমার জ্ঞান হারিয়ে গেল তারপর আর কিছু মনে নেই,
_________
চোখ খুলতেই আমার পাশের বেডে রোদকে দেখলাম সে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার চোখ দিয়ে আবার পানি পড়ছে তবে এটা আল্লাহকে শুকরিয়া জানিয়ে খুশির কান্না ।
আমি উঠে বসতেই মামনিরা এগিয়ে এসে আমার পাশে বসে বললেন –
মামনি : রোদ এর অবস্থা খুব খারাপ ছিলো শুধু আল্লাহর রহমত এ ও বেচে আছে আর তোমার এত ভালোবাসায়, রোদ জানিস কি পাগলামি যে করেছে !
রোদ সাথে সাথে বললো –
রোদ: কী?
মামনি সব বলতেই ভীষণ লজ্জা লাগছিল যেটা মামনি বুঝে সবাইকে নিয়ে কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেলেন।
আমি ধীরে ধীরে রোদের পাশে বসতেই বললেন-
রোদ: এত পাগলামি কেউ করে !
– আমি অভিমান নিয়ে বললাম আমি আপনাকে ভালোবাসি, দেরিতে বুঝেছি, কেন পাগলামি করেছি আপনি বুঝবেন কীভাবে আপনি তো আর আমাকে ভালোবাসেন না।
রোদ: শুনলাম কে যেন আমাকে তুমি করে বলেছিল তো সেটা বললেই ভালো লাগতো ..
ওনার এই কথায় লজ্জা পেলাম। তারপর আবার বলতে লাগলো –
রোদ:তোমার ভালোবাসা তুমি দেরিতে বুঝলেও আমি অনেক আগেই থেকে #জানি ভালোবাসো।
আমি থমকে গেলাম সাথে সাথে বলে ফেললাম কীভাবে?
রোদ: আমাদের বিয়ের রাতে আমি যখন নিজের মারা যাওয়ার কথা মুখে আনতেই তুমি ফুপিয়ে কান্না করে দিয়েছিলে মনে আছে, এখন বলো কেনো কেদেছিলে?
– ভীষণ ভয় লাগছিল তুমি ছাড়া নিজেকে ভাবতেকান্না পেয়ে গেছিলো।
রোদ মৃদু হেসে বললো
রোদ: রাত পাখি তোমার মুখে তুমি শুনে আমি নিজেকে সুস্থ উপলব্ধি করছি,
ওনার কথায় এত কিছুর মাঝেও আবার লজ্জা পেলাম। আবার বললো-
রোদ:তোমার ওই ভয় পাওয়া মুখ দেখেই আমি তোমাকে অনুভব করেছিলাম, তোমার ঐ অস্থিরতা আমাকে জানান দিয়েছিলো তুমি আমাকে ভালোবাসো। তুমি বলতে পারো ভালোবাসা একদিন এ কীভাবে হবে, আমি বলবো ভালোবাসার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন নেই, যেকোনো একটা মূহুর্ত ই যথেষ্ট। এরপর বউ ভাতের দিন যখন হাত পুড়িয়ে ফেলেছিলে সারাদিন তোমার সাথে যখন কথা না বলায় তুমি রাতে কান্না করেছিলে, আমি সেদিন ও তোমার ভেতর এ ভালো না থাকার কারন উপলব্ধি করেছিলাম, আর শিমলাকে তোমার ঐ জেলাস এটাও তোমার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আর আমার এই দুর্ঘটনা তোমার এই পাগলামি আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় , জানো তো হারানোর ভয় প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে দেয়। রাত পাখি তুমি কখনো আমাকে বলোনি ভালোবাসো ,আমি চাইবোনা যে বলো কারণ তোমার এই অপ্রকাশিত ভালোবাসাই আমার ভীষণ পছন্দের, অপ্রকাশিত ভালোবাসার গভীরতা বেশি, একটা কথা মনে রাখবে সবসময় মুখে ভালোবাসি বললেই সেটাই ভালোবাসা নাও থাকতে পারে, কিন্তু তোমার মনের গভীর এ যে কখনো আমার জন্য রাগ, অভিমান, অস্থিরতা, কষ্ট, ভালো লাগা, মায়া, জেলাস থাকে সেটা মুখে ভালোবাসি বলার থেকে আমি #জানি ভালোবাসো এই উপলব্ধি আমাকে অনেক বেশি ভালো রাখে।
-আমি মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছি এই মানুষটা এত বোঝে আমাকে এসব ভাবনার মাঝেই রোদ আবার বললো
রোদ: আচ্ছা আমি যদি কখনো তোমাকে মুখে ভালোবাসি না বলি, তাহলে আমার ভালোবাসা কখনো বুঝবে না।
আমি কিছু বলতে নিতেই আবার বললো –
রোদ: আচ্ছা আমি যখন তোমার কান্নামাখা মুখ সহ্য করতে না পেরে তোমাকে হুট করে জড়িয়ে ধরি, তখন তুমি কি আমার ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারোনি?
যখন তোমার হাত পুড়ে গেছিলো আমার ভেতরের অস্থিরতা কি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করে নি? আমি তোমার উপর রাগ করে কথা না বলায় তুমি অভিমান করে কান্না করেছিলে,আমার ভেতরে কতটা কষ্টে এতটা রাগ জমেছিল ,তুমি কি ভালোবাসার আভাস পাওনি?রাত পাখি মানুষ নিজের মানুষের উপরই রাগ করে তুমি কি জানো না? হুটহাট তোমাকে জড়িয়ে ধরায়, তোমার মাথায় প্রতিদিন হাত বুলানো, সবটায় তোমার আমার ভালোবাসার আভাস পাওয়ার কথা, তোমাকে আমার বলা কথা “আমাকে কি মিস করোনা জান” এখানে আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি, তোমার এক মূহুর্ত পাশে না থাকা আমাকে একাকী মনে করায় এটাই বুঝিয়েছি, ভালোবাসি শুধু মুখে বলার মধ্যে আমার কাছে ভালোবাসা না, তোমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা আমি উপলব্ধি করতে পারলে তুমি কেন পারলে না?
– আমি নিস্তব্ধ হয়ে গেছি এই মানুষটা এত ভালোবাসে আমাকে অথচ আমি বোঝা তো দূরের বিষয় তাকে ভূল বুঝলাম। আমি বললাম
– আমাকে কি আরেকটা সুযোগ দিবা তোমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা উপলব্ধি করার জন্য, আমার কথায় রোদ মৃদু হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য, খুশিতে কেদে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। শুরু হলো নতুন পথ, যেখানে শুধুই ভালোবাসা বিদ্যমান তবে অপ্রকাশিত।
___________
সময় চলে যায় সময়ের মতো কেটে গেছে ৫ বছর। রোদ আর রাত এর জীবনে এসেছে তাদের ছোট পরী আহিরাত খান রোদেলা। এই নামটি রাত ও রোদ দুজনেই তাদের নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছে। রোদেলার বয়স আজ ৩ বছর। আজ তার জন্মদিন।
_____
– রোদেলা কোথায় তুমি আমার রাগ উঠিয়োনা
রোদ; কি হয়েছে রাত পাখি এত রাগ করতে নেই আমার রোদেলা মাকে রেডি করাও।
– তোমার রোদেলা মাকে খুজে চলছি সে কি আমার কোন কথা শোনে তাকে জামা পরানোর জন্য দাড় করিয়ে রেখে এসে দেখি সে নেই।
হুট করে জড়িয়ে ধরলো রাগটা নিমিষেই কোথায় হারিয়ে গেল, হ্যাঁ এতদিন এ তার এই অপ্রকাশিত ভালোবাসা আমি গভীর ভাবে উপলব্ধি করেছি। এসব ভাবনার মাঝেই আমার কপালে ভালোবাসার পরশ দিলেন আমি মৃদু হেসে সরে আসতেই দরজায় দেখি রাদিব এর কোলে আমার মেয়ে রোদেলা,
রাদিব: রাতের পরী তোমার মেয়ে তার একমাত্র চাচুর নাম বলতে পারে না।
রোদেলা: লাদিব চালু আমি তোমাল কাছে তোমাল সাথে খেলবো এখন লেডি হবো না।
রাদিব রাগ করে তাকাতেই আমি আর রোদ জোরে
হেসে দিলাম। তারপর জোর করে রোদেলাকে রেডি করে জন্মদিন উদযাপন করলাম সবাই। রাত ১১ টায় ওকে ঘুম পাড়িয়ে বেলকনিতে এসে দাড়াতে হঠাৎ পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো কেউ,সাথে সাথে বুঝলাম আমার রোদ, আমি মৃদু হেসে বলে উঠলাম #জানি ভালোবাসো।
আশা করবো কেউ কপি করবেন না। (লেখনীতে#তাশফিয়া রহমান)