তুমিময় আসক্তি ২ পর্ব-২০+২১

0
568

#তুমিময়_আসক্তি_২
#আলো_ইসলাম (লেখিকা)
“২০”

“” রোজা ঝামেলা হয়ে গেছে। ব্যস্ত ভঙ্গিতে ঘাবড়ে যাওয়া কন্ঠে বলে জেসমিন চৌধুরী। রোজা কানে ফোন ধরে ভ্রু কুচকে কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে পিপি?
– রুদ্র মনে হয় দোলাকে আর ছাড়বে না। আবার এক হয়ে যাবে ওরা। আমাদের এত প্ল্যান এত কিছু সব বৃথা চলে গেলো।
হেয়ালি না করে কি হয়েছে সেটাই বলো। বিরক্ত নিয়ে বলে রোজা।
– দোলা মা হতে চলেছে রোজা। জেসমিন চৌধুরীর মুখ থেকে এই কথা শোনামাত্র চমকে উঠে রোজা। আঁতকে ওঠা কন্ঠে বলে কিহ?
– তুমি তো জানোই রুদ্র একটা বাচ্চার জন্য কতটা উতলা হয়ে আছে। যেই শুনেছে দোলা মা হবে সব ভুলে গেছে। দোলাকে তার কাছে রাখবে বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত। যদি রুদ্র আর দোলা একসাথে থাকে তাহলে কি হবে বুঝতে পারছো। ওদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি, ঝামেলা সব একটু একটু করে শেষ হয়ে যাবে। রোজা ভাবনায় পড়ে যায়। হঠাৎ এমন একটা খারাপ খবর শুনতে হবে না ভাবিনি সে। রোজা তো জানে রুদ্র বাচ্চা বলতে অজ্ঞান। রোজা তো ইচ্ছে করে তার সন্তান এবর্শন করে আসে। যাতে রুদ্র আঘাতটা গভীর থেকে পাই। একদম ভেঙে পড়ে রুদ্র! তাই রোজা নিজের সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখায় না। আবার রুদ্র সেই বাচ্চা পাওয়ার আনন্দ ভোগ করবে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে এটা কোনো ভাবে হতে দেবে না রোজা। রোজা ফোন কেটে দিয়ে ভাবতে থাকে কি করবে। সামিরের কথা মাথায় আসতেই ফোন দেয় সামিরকে। এরপর জরুরি আসতে বলে তার কাছে।
— পরের দিন সকালে রুদ্রকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। রুদ্র এখন সুস্থ মোটামুটি। রুদ্র আগের থেকে দোলাকে বেশি চোখে হারায় এখন। কারণ অবশ্যই বাচ্চাটা। রুদ্র আর কোনো ভাবে তার বেবির ক্ষতি হতে দেবে না।
— দোলা প্রেগন্যান্ট এটা শোনার পর সামির হতাশ হয়। দোলার বেবিকে কোনো ভাবেই মানতে পারে না। তবে সামির এখনো জানে না দোলা তার সব সত্যি জেনে গিয়েছে।
“” দোলা রুদ্রর জন্য খাবার রেডি করে নিয়ে আসে৷ দোলা এখন যতটা সম্ভব রুদ্রর থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। রুদ্রর জন্য যতটুকু না করলে নয় ততটুকু দায়িত্ব সে পালন করছে। রাজ রুদ্রর এখানেই আছে। রত্না চৌধুরী বলে তাকে থাকার জন্য।
তুমি খেয়েছো? রুদ্রর জন্য খাবার নিয়ে আসলে জিজ্ঞেস করে রুদ্র দোলাকে। দোলা রুদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে কাজে মন দেয়।
– কি বললাম শুনতে পাওনি? আমার কথার জবাব দিচ্ছো না কেনো? খেয়েছো তুমি? দেখো দোলা আমি চাইনা আমার বেবির কোনো রকম সমস্যা হোক। যেহেতু আমার বেবি তোমার মধ্যে আছে। তাই যতদিন ও এই দুনিয়ায় না আসছে ততদিন তোমাকে ঠিকভাবে খাওয়া দাওয়া করতে হবে৷ ওর যাতে যাতে ভালো হয় তাই তাই করতে হবে। রুদ্রর কথায় দোলার গা জ্বলে উঠে। এমন ভাব করছে এই সন্তান একা তারই।
– দোলা এখনো খাইনি এটা সত্যি। আর খাওয়ার ইচ্ছেও নেই। মানসিক শান্তি না থাকলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না। খাওয়া তো দূরে থাক সব কিছুতেই বিষন্ন লাগে।

— আমি একটু পরে খাবো। আপনি খেয়ে নিন৷ এরপর আপনার ওষুধ খেতে হবে। সাবলীল ভাবে বলে দোলা৷ তবে রুদ্রর দিকে একবারও তাকায় না।
– আমি জানতাম তুমি এমন কিছুই করবে। হঠাৎ রুদ্রর এমন কথায় দোলা ভ্রু কুচকে তাকায়।
– তুমি ইচ্ছে করে না খেয়ে আছো তাই না। যাতে করে বেবিটা কষ্ট পাই। তার ক্ষতি হয়। তুমি তো চাও বেবিটা মারা যাক। তুমি কি পেটের মধ্যেই শেষ করে দেওয়ার চিন্তা করছো ওকে।
– রুদ্র” চিৎকার করে উঠে দোলা।
– অনেক সহ্য করছি আপনার বাজে কথা৷ দয়া করে এইসব কথা বন্ধ করুন৷ এটা আমার সন্তান বুঝেছেন আপনি। আপনার যতটা অধিকার আছে ঠিক ততটাই অধিকার আমার আছে ওর উপর। বরং আপনার থেকে বেশি অধিকার আমার। কারণ ও আমার অংশ। আর আমি আমারই অংশকে… থেমে যায় দোলা। দয়া করে আমাকে আর মানসিক পীড়া দিবেন না। আমি আর পারছি না৷ খাওয়া নিয়ে আপনার সমস্যা তো। ওকে ফাইন! তাই বলে দোলা রুদ্রর আনা খাবার থেকে খাবার নিয়ে মুখে দেয়৷ চোখে পানি, মনে ব্যথা। খাবার কি গলা দিয়ে নামে তাই। তারপরও জোর করে খাবার গিলতে যায় দোলা। খাবার গলায় বেধে কাশতে শুরু করে। রুদ্র ব্যতিব্যস্ত হয়ে পানি ধরে দোলার মুখে। দোলার ইচ্ছেও করে না এই পানিটা পান করতে৷ বিশেষ করে রুদ্র হাত থেকে তো নয়ই। কিন্তু বাধ্য হয়ে পানিটা পান করে। দোলা উঠে চলে যায়। রাজ আসে সে-সময়৷ দোলাকে অশ্রুমাখা চোখে বেরিয়ে যেতে দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে৷ রুদ্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসার চেষ্টা করে বলে কি অবস্থা এখন তোর?
রুদ্র রাজের দিকে একবার তাকায় শুধু। কিন্তু কিছু বলে না।
— রুদ্র তোকে কিছু কথা বলি যদি কিছু মনে না করিস তো। রাজের এমন রহস্যময় কথায় রুদ্র বিস্ময় নিয়ে তাকায়।
– তুই দোলার সাথে অন্যায় করেছিস এটা যেমন সত্য তেমন এখনো যে অন্যায় করে যাচ্ছিস এটাও সত্য। রাজের কথায় রুদ্র অবাক চোখে তাকায়।
– দোলা অনেক ভালো একটা মেয়ে এটা তুই যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবি আমার মনে হয় ততই তোর জন্য ভালো। তোর কারনে দোলার মনে যে দাগ পড়ে গেছে সেটা কিন্তু সহজে মোছার নয়৷ এখনো হয়তো সময় আছে! যদিও আমি শিওর জানি না দোলার মধ্যে কি চলছে! ও কি করবে৷ তবে আমার মনে হয় তোর ভাবা উচিত সব কিছু এখন৷ দোলাকে বিশ্বাস করা৷ এই যে তুই বারবার আঘাত করছিস দোলাকে এতে কতটা খারাপ প্রভাব পড়ছে তার মধ্যে ভেবেছিস কখনো? এতে কিন্তু তোর বেবিরও ক্ষতি রুদ্র। ওই সন্তান যেমন তোর তেমন দোলারও৷ তুই এটা কিভাবে বলতে পারিস যে দোলা সে সন্তানের ক্ষতি করবে৷ তাকে মেরে ফেলবে। তুই বাবা হওয়ার আগে সে একজন মা। এটা কীভাবে ভুলতে পারিস৷ দোলাকে বিশ্বাস করা ছাড়া তোর হাতে কিন্তু অপশন নেই।

– আমি তো চাই দোলাকে বিশ্বাস করতে। ইনফ্যাক্ট আমি ওকে নিয়ে সারাজীবন থাকতে চাই। কিন্তু কিভাবে? আমি বিশ্বাস করে বারবার ঠকে গেছি। আমি তো এমন ছিলাম না৷ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছিলাম একজনকে। আর প্রতিদান কি দিলো আমায়৷ নিঃস্ব করে গেছে তার বদলে। দোলাও তাই করলো আমার সাথে৷ বিশ্বাস নামক শব্দটাই আমার ভয় করে এখন।
-রাজ বুঝতে পারে রুদ্র কার কথা বলছে।
– রুদ্র একটা উপহাসে হাসি রেখে বলে, পৃথিবীতে সব মানুষ যেমন ভালো নয় তেমন সব মানুষ খারাপও নয়। একজন যে পাপ করেছে সেটা সবাই করবে এটা তো ভিত্তি নেই৷ তাহলে বিশ্বাস বলে শব্দটা পৃথবীতে থাকতো না। তুই রোজাকে মন থেকে মুছে ফেল রুদ্র৷ ওর অধ্যায় বন্ধ করে দে। মনে করবি তোর জীবনে ওই সময়টা কখনোই আসেনি। অতীত ভেবে বর্তমান, ভবিষ্যৎ শেষ করিস না৷ জীবনটা বিচিত্রময়। তাই সামনে এগিয়ে যেতে হবে বিশ্বাস রেখে আর এটাই বাস্তব।

– রুদ্র! কোথায় তুমি? দেখো আমি চলে এসেছি। আমি ফিরে এসেছি তোমার কাছে চিৎকার করে বলতে বলতে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে রোজা। রুদ্র, রাজ অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকায়।এতদিন পর রোজার কন্ঠস্বর পেয়ে নড়েচড়ে উঠে রুদ্র। হতভম্ব হয়ে যায় সে।
– রোজার চিৎকারে একে একে সবাই বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। রত্না চৌধুরী, জেসমিন চৌধুরী, তানভীর আহমেদ, তানিয়া। দোলা তানিয়ার ঘরেই ছিলো। হঠাৎ মেয়েলি চিৎকারে বিব্রত হয়ে উঠে। কৌতুহলবসত সবাই এসে উপস্থিত হয় ড্রয়িং রুমে। রোজার হাতে বড় একটা সুটকেস। সম্ভবত তার প্রয়োজনীয় জিনিস আছে সেখানে৷ রোজাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে এখানে থাকার জন্য একদম প্রস্তুত হয়ে এসেছে৷ রাজ আর রুদ্রও বেরিয়ে আসে। দীর্ঘদিন পর রোজার মুখটা দেখে থমকে দাঁড়ায় রুদ্র। তার মধ্যে আর সেই ভালো লাগা নয় বরং ক্রোধ জাগ্রত হয় রোজাকে দেখে। দোলাও চোখ মুখ কুচকে থাকে রোজাকে দেখে৷ একদমই আশা করেনি তাকে৷ রোজাকে দেখে দোলার মধ্যেও ক্রোধ দেখা দেয়।

– তুমি এখানে? আবার কি নাটক করতে এসেছো নতুন করে। শক্ত গলায় বলে রত্না চৌধুরী। রোজাকে দেখে তিনিও বেশ চমকে যান।
– মা! কথাটা বলে রোজা রত্না চৌধুরীর দিকে ছুটে গিয়ে পায়ে সালাম করে। রত্না চৌধুরী নাক সিটকায় তাতে।
– তুমি কেমন আছো মা? আমি আবারও তোমাদের মাঝে চলে এসেছি। আমি যে ভুল করেছি সেটা বুঝতে পেরেছি। আমি আবারও সব কিছু ফিরে পেতে চাই মা। হাসিমুখে কথাগুলো বলে রোজা। সবাই ভ্রু কুচকে রোজাকে দেখছে। দোলার মধ্যে রাগের মাত্র তরতর করে বাড়ছে৷ জেসমিন চৌধুরী হাসিমুখে তামাশা দেখছে দাঁড়িয়ে।

— রোজা তুই? হঠাৎ এইভাবে ফিরে আসার কারণ কি? রাজ বলে সন্ধিহান চোখে। রাজের কথায় রোজার রাগ হলেও সেটা প্রকাশ করে না। মুখে হাসিটা বজায় রেখে বলে আমি এখানে কেনো এসেছি বুঝতে পারছিস না? আমি রুদ্রর কাছে ফিরে এসেছি। আমার স্বামীর কাছে ফিরে এসেছি।
— তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে রোজা! দোলার কথায় সবার মনোযোগ সেদিকে যায়। রোজা ভ্রু উঁচিয়ে তাকিয়ে বলে মানে?
– মানে তুমি যাকে এখন স্বামী বলে দাবি করছো তিনি আর তোমার স্বামী নেই৷ রুদ্র আমার স্বামী। আমি উনার বর্তমান ওয়াইফ। তোমার কোনো অধিকার নেই উনাকে স্বামী বলার। দোলার কথায় রোজা আকাশ থেকে পড়ে এমন একটা ভাব নিয়ে অবাক হয়ে বলে রুদ্র তুমি বিয়ে করেছো? কীভাবে পারলে এটা করতে? তুমি না আমাকে ভালোবাসতে। পাগলের মতো ভালোবাসতে। তাহলে কোথায় গেলো তোমার সেই ভালোবাসা? রুদ্র শুধু ভ্রু কুচকে স্বাভাবিক দৃষ্টি ভঙ্গি রেখে রোজাকে পর্যবেক্ষণ করছে।

– মনে হচ্ছে তুই এই প্রথম জানলি রুদ্র বিয়ে করেছে? এর আগে কখনো শুনিসই নাই? বিস্মিত চাহনি নিয়ে বলে রাজ।
– জানলে নিশ্চয় পুনরায় জিজ্ঞেস করতাম না। রোজার সোজা জবাব।
– ও আচ্ছা! তার মানে তুমি সত্যি জানো না তাই না রোজা? কিন্তু সামির ঠিকই জানে কথাটা। আর আমি যতদুর জেনেছি সামির তোমার কাজিন। তো সে তোমায় বলেনি কথাটা?
– দোলার কথায় রোজা ঘাবড়ে যায়। আমতাআমতা করে বলে সে যাই হোক। আমি আর রুদ্রকে ছাড়ছি না৷ রুদ্রর ভাগ আমি কাউকে দেবো না। রুদ্র আমার ছিলো আর আমারই থাকবে।
– রোজার কথায় রাজ, তানিয়া হেসে উঠে দুজনেই শব্দ করে। সবাই কৌতুহলী হয়ে তাকায় ওদের দিকে। রত্না চৌধুরীর ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে কয়টা চড় বসিয়ে দিতে রোজার গালে। এই সব ন্যাকামি একদম সহ্য হচ্ছে না তার। রুদ্র এখনো কেনো চুপ করে আছে সেটাই বুঝতে পারছেন না তিনি। জেসমিন চৌধুরী বেশ মজা লুটছে দূরে দাঁড়িয়ে।

– সত্যি রোজা আপু। তোমার জবাব নেই। নাটক তুমি বরাবরই খুব ভালো করো। আজো তার প্রমাণ পেলাম৷ তোমার না কোনো টিভি সিরিয়ালে যোগ দেওয়া উচিত। তাহলে কিন্তু তোমার সেই নাম ডাক আসবে। দয়া করে তোমার ওই মিথ্যে অভিনয় এখানে দেখাতে এসো না৷ কেউ তোমার এইসব দেখতে চাইনা। তুমি না ব্রো কে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে। আচ্ছা ওয়েট” তুমি যার হাত ধরে চলে গিয়েছিলে সে কোথায়? সে তোমাকে কি তাড়িয়ে দিয়েছে৷ তাই তুমি আবার ব্রোর পেছনে পড়েছো। অবশ্য তোমার মতো মেয়ে সংসার করার যোগ্য নয় এটা জানা কথা। তাচ্ছিল্যের সুরে বলে তানিয়া।
– তানিয়া! উচ্চস্বরে বলে উঠে রোজা।
– একদম গলা তুলে কথা বলবে না আমার সাথে। সত্য কথা খুব গায়ে লাগে না। তোমার মতো জঘন্য মেয়ে আমি আমার জীবনে একটাও দেখিনি। আমার তো মনে হয় তুমি ইচ্ছে করে সব কিছু করছো। এই যে ব্রো আর দোলা ভাবির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সেটাও তুমি করছো পেছন থেকে। তানিয়ার কথায় জেসমিন চৌধুরী চমকে তাকায়৷ রোজাও ঘাবড়ে যায়। ইচ্ছে করছে তানিয়ার মুখটা এখনই বন্ধ করে দিতে। রোজা যথাসম্ভব নিজেকে কন্ট্রোল করে রাখছে।

– রুদ্র! তুমি কিছু বলছো না কেনো? দেখো সবাই কেমন অপমান করছে আমায়। তোমার সামনে তোমার রোজাকে অপমান করছে৷ তোমার ভালোবাসাকে অপমান করছে৷ তুমি কিচ্ছু বলবে না। আমি তোমাকে সবটা খুলে বলবো রুদ্র। কেনো গিয়েছিলাম আমি তোমায় ছেড়ে। তুমি আমার সাথে চলো বলে রোজা রুদ্রর দিকে আসতে গেলে দোলা সামনে এসে দাঁড়ায়। রোজা দাঁতে দাঁত চেপে বলে সরে যাও সামনে থেকে। আমি রুদ্রর সাথে কথা বলব।

– বলেছি না উনি আমার স্বামী। আমার স্বামীর সাথে বাইরে কোনো মেয়ে কথা বলুক এটা আমি চাইনা।

– রুদ্র তোমার স্বামী হওয়ার আগে আমার স্বামী ছিলো। আমার ভালোবাসা ছিলো। কোন অধিকারে বাধা দাও তুমি আমায় রেগে বলে রোজা।
– স্ত্রীর অধিকারে! যে অধিকারটা এখন তোমার নেই৷ যেটা তুমি নিজ হাতে শেষ করেছো। সাঁজানো সংসার ছেড়ে নিজ ইচ্ছেয় চলে গেছো। অবশ্য এটা বললে তোমার সাথে মানানসই হবে যে একটা সাজানো গোছানো সংসার তুমি ভেঙে তছনছ করে দিয়ে গেছো। মানুষ গুলোকে ভেতর থেকে ভেঙেচুড়ে দিয়ে গেছো। আবার সেই সংসারেই ফেরার ইচ্ছে পোষণ করছো। তোমাদের মতো মেয়েদের সত্যি লজ্জাসংকোচ কিছু নেই তাই না? আচ্ছা কেনো ফিরে এসেছো আবার? এইটা দেখতে আমার স্বামী আমার সাথে কতটা আনন্দে আছে। নাকি এই আনন্দ তোমার সহ্য হচ্ছে না তাই আবারও সব কিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিতে এসেছো। একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো এই মানুষটার উপর তোমার কোনো অধিকার নেই৷ তাই ভালোই ভালোই বলছি বেরিয়ে যাও এখানে থেকে । দোলার কথায় রত্না চৌধুরী অনেক খুশি হয়৷ মুখের উপর সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য মনে মনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। রাজের মধ্যেও ভালো লাগা কাজ করে। তানিয়া তো ঠোঁট এলিয়ে হাসে৷ জেসমিন চৌধুরী মুখটা বাকিয়ে রাখে৷ রুদ্র শুধু ভ্রু কুচকে কান্ডকলাপ দেখছে।

— উড়ে এসে জুড়ে বসেছো আবার বড় বড় কথা বলছো৷ এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলার তুমি কেউ না। আমি রুদ্রর সাথে কথা বলবো। আমার বিশ্বাস রুদ্র এখনো আমাকে ভালোবাসে। আমাকে চাই৷ রুদ্র তুমি বলো আমাকে ভালোবাসো? রোজার মধ্যে অনেকটা কনফিডেন্স রুদ্রকে নিয়ে।
– উনি তোমার সাথে কোনো কথা বলতে চাইনা। তাই চুপচাপ আছে এটাও বুঝতে পারছো না। আর কতভাবে বোঝানো লাগবে তোমায়৷ একটা মেয়ে মানুষ হয়ে এতটা বেহায়াপনা না করলেও পারো।

দোলার কথায় রোজা রেগে বলে সেই কখন থেকে তোমার বাজে কথা শুনছি! তোমাকে টলারেট করছি। সরো সামনে থেকে বলে দোলাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়৷ ধাক্কাটা এতো জোরে ছিলো যে আর হঠাৎ করে হওয়ায় দোলা নিজেকে সামলাতে পারে না৷ ছিটকে পড়ে যায় মাটিতে। পড়ে যেতেই দোলা আহ শব্দ করে উঠে ব্যথায়। সবাই আতংকিত হয়ে দোলা বলে চিৎকার করে উঠে। রুদ্র ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে উচ্চস্বরে দোলা বলে রোজার দিকে রাগী লুক নিয়ে কষিয়ে দুইটা চড় বসিয়ে দেয়। হঠাৎ করে রুদ্র এমন একটা কাজ করবে কেউ ভাবতে পারেনি৷ আর রোজা সে-তো একদমই প্রস্তুত ছিলো না এই সবের জন্য। জেসমিন চৌধুরী কেঁপে উঠে। তানিয়া কিছুটা হলেও শান্তি পাই এতে।

— চলবে…

– ❌❌কপি করা নিষেধ ❌❌

#তুমিময়_আসক্তি_২
#আলো_ইসলাম(লেখিকা)
“২১”

— রুদ্র রোজার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে রাগে ফুসতে থাকে৷ রোজা যেনো অবিশ্বাস্য চোখে রুদ্রকে পর্যবেক্ষণ করছে৷ রুদ্র তার সাথে এমন একটা কাজ করবে ভাবতেই পারিনি৷ অসহ্য বিস্ময় ঠেলে তাকিয়ে আছে দোলা৷ হাতের কনুইয়ে ব্যথা পেয়েছে সে। তানিয়া ছুটে যাবে দোলাকে তুলতে তার আগের রুদ্র হাত বাড়ায় রোজার দিক হতে নজর সরিয়ে। দোলা চমকপ্রদ চক্ষু বিসর্জন দিচ্ছে রুদ্রর দিকে। রুদ্র এবার ঝুকে বসে দোলার দুই বাহু ধরে তোলে। পুনরায় হাতের ব্যথায় দোলা কিঞ্চিৎ আহ শব্দ করে এতে যেনো রুদ্রর হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়৷ রোজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রস্তুতি আরেকটা থাপ্পড় দিয়ে মনের আশ মেটানো। রোজা এখনো স্থীর চাহনিতে তাকিয়ে৷ এই রুদ্র অচেনা তার। সম্পুর্ণ আলাদা মানুষ। রুদ্র দাঁতে দাঁত চেপে বলে তোর সাহস কি করে হয় দোলার গায়ে হাত দেওয়ার? দোলা আমার ওয়াইফ। রুদ্রর এই কথাটা রোজার মধ্যে বারবার রিপিট হয়। কেনো জানি এই শব্দটা আজ খুব কষ্ট দিচ্ছে তাকে৷ সে-তো চায়না রুদ্রকে। তো যা ইচ্ছে হোক তার সমস্যা থাকার কথা না। তাহলে কেনো এই অচেনা ব্যথা মনে।

– এতখন চুপচাপ ছিলাম কেনো জানিস? রুদ্রর কথায় সবাই বিস্ময় চাহনি রাখে।
– দেখছিলাম তুই কতটা নাটক করতে পারিস৷ তোর অভিনয়ের পরিপক্বতা কতটা হয়েছে। আমি দেখছিলাম তুই আর কত রকম ন্যাকামি করতে পারিস৷ কিন্তু তুই সব কিছুর লিমিট ক্রস করে ফেলেছিস। দোলাকে ধাক্কা দেওয়ার সাহস হয় কি করে তোর কথাটা বলে রুদ্র আবারও হাত তুলে মারার জন্য তখন দোলা রুদ্রর হাত ধরে থামিয়ে দেয়। রোজা ভয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে খিচে চোখ বন্ধ করে আছে। সবাই আতংকিত চোখে তাকিয়ে থাকে। রুদ্র যে ভীষণ পরিমাণে রেগে আছে বোঝায় যাচ্ছে।

– আমার জীবন’টা তুই শেষ করেছিস। তোর মতো ঠক প্রতারক নোংরা মানসিকতার মেয়েকে ভালোবেসে আমি নিজেকে শেষ করে ফেলেছি। আমার স্বপ্ন, আমার আশা আকাঙ্খা, আমার সুখ, আনন্দ, হাসিখুশি সব কিছু কেড়ে নিয়েছিস তুই। আবার সেই ভালোবাসার দাবী নিয়ে আমার কাছে ফেরার কথা বলিস। আমার ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ করছিস। আমার ভালোবাসার দিকে আঙ্গুল তুলিস। হ্যাঁ তোকে ভালোবাসতাম আমি। পাগলের মতো ভালোবাসতাম। যার প্রতিদানে তুই আমাকে সস্তা ভেবে ছুড়ে ফেলেছিস। ঠকিয়ে গেছিস আমায়। আমার ভালোবাসা নিয়ে খেলা করেছিস। আমায় নিঃস্ব করে দিয়ে আরেকজনের হাত ধরে… বাকিটা বলার আগে থেমে যায় রুদ্র৷ নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে তার। সবাই নিরব হয়ে রুদ্রর কথা শুনছে৷ রুদ্রর মধ্যে যে হতাশা, কষ্ট সেটা সবার সামনে নিঙড়ে দেয় আজ।
— রুদ্র এবার দোলার হাত চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়৷ রোজা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে শুধু৷ দোলাও চমকে উঠে হঠাৎ এমন হওয়াতে। বিমুঢ় হয়ে রুদ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে সে৷

–শী ইজ মাই ওয়াইফ! আর আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসি। কোনো বেইমানের জায়গা আমার কাছে নেই৷ আমি যদি কাউকে ঘৃণা করি এই মুহুর্তে সেটা তুই। শুধুমাত্র তুই সেটা। বেরিয়ে যা বলছি। নেক্সট টাইম আমার সামনেও আসার চেষ্টা করবি না। তোর মুখও আমি দেখতে চাইনা৷ তোর মতো বেইমানের ছায়াও আমার জীবনে অভিশাপ।

— রোজা ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠে। দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর দৃষ্টি রেখে বলে দোলা মা হবে তার জন্যই কি আমাকে অবহেলা করা রুদ্র? তুমি যে দোলাকে ভালোবাসো না এটা আমি খুব ভালো করে জানি৷ তুমি যে সবার সামনে ভালোবাসি বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছো! দোলার সাথে তোমার সম্পর্কটা কত সুন্দর আমাকে দেখাতে চাইছো? এই সব কিছু যে আমাকে দেখানো এটাও আমি জানি। রুদ্র তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি জানি। কেনো করছো এমন? রাগ করে তাই তো। আচ্ছা আমাকে বলতে দাও একবার আমি কেনো গিয়েছিলাম৷ আর কোথায় গিয়েছিলাম। আমি তোমায় সত্যি ভালোবাসি রুদ্র। আমি তোমাকে বাচ্চা দেবো৷ তোমাকে বাবা হওয়ার সুখ দেবো। আমি যে ভুল করেছি সেটা শোধরাই নেবো। তুমি দোলাকে ছেড়ে দাও৷ তাছাড়া ওই সন্তান তোমার নয় রুদ্র৷ দোলা তোমাকে.. বাকিটা শেষ করার আগে দোলা সপাটে একটা চড় বসিয়ে দেয় রোজার গালে। রোজার নোংরা কথায় বাধ্য করে দোলাকে এটা করতে।

– তানিয়া তো বেশ খুশি, রত্না চৌধুরীর মুখেও তৃপ্তিকর হাসি। রাজ মৃদু হাসে, তানভীর আহমেদ খোস মেজাজে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু আতংকিত জেসমিন চৌধুরী। রোজার এমন অপমান তার যেনো সহ্য হচ্ছে না৷ রোজা রাগী লুকে তাকায় দোলার দিকে। মুখ খুলে কিছু বলতে যাবে তার আগে দোলা একটা আঙ্গুল তুলে রোজার দিকে তাকিয়ে বলে তোমার এই নোংরা মুখে আমার মাসুম,পবিত্র সন্তানকে নিয়ে একটাও কথা শুনতে চাইনা৷ ভেবো না তুমি যেমন লোভী,নিচ,স্বার্থপর চরিত্রহীন ঠক প্রতারক মেয়েমানুষ তেমনটা সবাই। আমার সন্তানের দিকে বাজে আঙ্গুল তোলার কোনো অধিকার নেই তোমার। যার কাছে ভালোবাসার দাবী নিয়ে এসেছো সেই তোমাকে ঘৃণা করে শুনেছো না। তাহলে কেনো দাঁড়িয়ে আছো এখনো? তোমার মতো নির্লজ্জ মেয়ে আমি আর দ্বিতীয় দেখিনি।

-খুব বড় বড় কথা বলছো তুমি। আমার সাথে লড়তে এসো না দোলা। তাহলে শেষ হয়ে যাবে৷ রেগে বলে দেয় রোজা।
– আসল রুপ প্রকাশ পেয়ে গেলো তবে। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে রাজ৷ রোজা ভ্রু কুচকে তাকায়।
তোর মধ্যে যে খারাপ মানুষটা আছে যেটা তুই এতখন জোরপূর্বক ভাবে লোকানোর চেষ্টা করছিলি সেটা এখন প্রকাশিত। তুই কেনো এসেছিস? কেনো এইসব ন্যাকামি করছিস জানি না৷ তবে আমি এটা জানি তুই সব জেনে-বুঝে তবেই এসেছিস। আর তার প্রমাণ তোর বলা একটু আগের কথাগুলো। দোলা যে মা হবে আমরা কেউ একবারও বলিনি তোকে। কিন্তু তুই সেটা অনায়াসে বলে দিয়েছিস। তাই বলছি! তুই যে উদ্দেশ্য নিয়ে আসিস না কেনো বেরিয়ে যা এখানে থেকে। আর এবার যদি রুদ্রর কোনো ক্ষতি করার কথা ভুলেও ভাবিস তাহলে কিন্তু আমি তোকে ছেড়ে কথা বলবো না৷ আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে এক সময় তুই আমার বন্ধু ছিলিস। বেরিয়ে যা রোজা চিৎকার করে ধমক দিয়ে বলে রাজ।

— এখানের সবাইকে দেখে নেবো আমি। আমাকে অপমান করে একদম ঠিক করোনি তোমরা। আর তুমি! দোলার দিকে আঙ্গুল তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলে তোমাকে তো আমি ছাড়বো না। আমাকে চড় দেওয়ার শোধ আমি নিয়ে ছাড়বো মনে রেখো। আর রুদ্র তুমি আমার পেছনে কুকুরের মতো ছুটতে একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আর আজ আমি যখন নিজে তোমার কাছে ধরা দিতে এসেছি তখন তুমি আমাকে বড়বড় লেকচার দিলে। এই দুই টাকার মেয়েটাকে প্রাধান্য দিলে তো৷ তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে সামনে তুমি নিজেও জানো। কথাগুলো বলে রোজা ব্যাগপত্র গুছিয়ে আবারও হাঁটা দেয়। রোজা চলে যেতেই সবাই স্বস্তি শ্বাস ছাড়ে। রুদ্র রাগের বশে সামনে টেবিলে থাকা ফুলদানি এক-লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। সবাই কেঁপে উঠে।
– রুদ্র আর এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না৷ দ্রুত পায়ে ঘরে চলে আসে। রাজ রুদ্রর পেছনে আসতে গেলে দোলা বাধা দেয়।

– উনাকে একা ছেড়ে দেন ভাইয়া৷ উনার কিছু সময় একা থাকা প্রয়োজন। নিজেকে নিজের সামলানো দরকার। উনাকে শক্ত হতে হবে আর সেটা নিজেকেই করতে হবে। দোলার কথায় রাজ আর যায়না রুদ্রর কাছে। কিন্তু একটু বাদে উপর থেকে ভাংচুরের শব্দ ঠিকই শুনতে পাই সবাই। দীর্ঘশ্বাস ফুকে সবাই নির্বিশেষে।

— রোজা একে একে ঘরের সব কিছু এলোমেলো করে। সবার করা অপমান কোনো ভাবেই হজম হচ্ছে না তার৷ রুদ্রর থাপ্পড় আর দোলার থাপ্পড় যেনো ঘুরে ফিরে তার গালে আঘাত করছে। রোজা এবার আয়নায় একটা গ্লাস ছুড়ে মারে৷ কাচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে নিচে পড়ে ঝনঝনিয়ে। এমন সময় উপস্থিত হয় সামির। রোজাকে এমন পাগলামী করতে দেখে অবাক হয়ে ভ্রু কুচকায়।

— আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার সাহস দেখিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে ওরা। আমি সবাইকে শেষ করে দেবো। আর দোলা! ওর খুব অহংকার না বেবিটা নিয়ে। ওকে ফাইন! বেবিটার ব্যবস্থা আগে করবো আমি। তারপর দেখবো দোলার বড়বড় কথা কোথায় থাকে তখন! কথাটা বলে রোজা হো হো করে হেসে উঠে। সামির তো হতভম্ব হয়ে গেছে রোজার বিহেভে।

– রোজা কি হয়েছে? তুমি এমন করছো কেনো? একি অবস্থা করেছো ঘরের। একের পর এক প্রশ্নের তীর ছুড়ে দেয় রোজার দিকে। (সামির সময় তে আপু আবার সময় তে নাম ধরে ডাকে রোজার। যেহেতু সমবয়সী তাই সবই চলে তাদের। রোজা সামিরের থেকে এক মাসের বড়। যার ফলে সামির আপু বলে মাঝে মাঝে আর সেটা মুডের উপর ডিপেন্ড) রোজা সামিরের দিকে তাকিয়ে তেড়ে এসে কলার চেপে ধরে বলে তুমি বসে বসে শুধু দোলাকে পাওয়ার স্বপ্নই দেখো। আর ওইদিকে দোলা আর রুদ্র চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছে। তাদের ভালোবাসার ফসল দোলার পেটে। আর তুমি এখনো বসে বসে দিবাস্বপ্ন দেখছো। হঠাৎ আক্রমে সামির ঘাবড়ে যায় প্রথমে। কিন্তু রোজার কথায় তার মধ্য কৌতুহল জাগ্রত হয়।

– কি হয়েছে তোমার? আর এইসব কেনো বলছো? বিস্মিত কন্ঠস্বর সামিরের।

রোজা সামিরের কলার ছেড়ে দাঁতে দাঁত চেপে সবটা বলে। সব শোনার পরও সামির স্বাভাবিক।
– ওহ এই ব্যাপার। তো! তোমার কি মনে হয় এতদিন পর তোমাকে দেখে রুদ্র কোলে তুলে নাচবে? সামিরের লজিকহীন কথায় রোজা আরও ক্রোধানল হয়ে বলে কি বলতে চাইছো?

– তুমি যাকে ধোঁকা দিয়েছো। যার বিশ্বাসকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে এসেছো। যার স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার অর্থটাই মূল্যহীন করে দিয়েছো সে তোমায় কীভাবে ভালোবাসবে এখনো?? তোমার জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কি অবশিষ্ট থাকতে পারে তার মনে।

— সব দোষ দোলা নামের ওই মেয়েটার । ওর জন্য রুদ্র আমাকে রিজেক্ট করার সাহস দেখিয়েছে। রুদ্রর মনে একদম জেঁকে বসে গেছে ওই মেয়ে। যে রুদ্র আমার পেছনে কুকুরের মতো ছুটতো সে এখন আমায় ইগ্নোর করছে! আমায়। এর ফল যে কি ভয়াবহ হবে রুদ্র বা তার পরিবার জানে না। আর রইলো দোলা। ওর আমি এমন ব্যবস্থা…. স্টপ রোজা। যতটুকু বলেছো ব্যাস। আমি দোলার নামে একটাও উল্টো পালটা কথা শুনতে চাইনা আর না ওর কোনো ক্ষতি। দোলা আমার ভালোবাসা। আমি ওকে ভালোবাসি।

দোলার প্রেমে তুমিও কি অন্ধ হয়ে গেছো সামির। ওই একটা মেয়ে তোমাদের হাতের মুঠোয় করে রেখেছে। শুনো সামির এইসব ভুলে যাও। আমাকে সাহায্য করো চৌধুরী বাড়িকে ধ্বংস করতে। আমি তোমাকে দোলার চেয়ে সুন্দর মেয়ে দেবো।

– আমি বলেছি দোলাকে নিয়ে আর একটাও বাজে কথা৷ নয় তো নয়। দোলা আমার শুধু আমার। ওর কোনো ক্ষতি করার কথা ভুলেও ভাবনা না বুঝেছো। সামির রেগে চলে যায়। রোজার ইচ্ছে করছে এই সামিরের সহ গলা টিপে সবাইকে হ/ত্যা করতে।

– দোলা মনে মনে প্রস্তুতি নেয় সামিরের কাছে যাওয়ার জন্য আর সেটা আশাকে সাথে নিয়ে। অপেক্ষা রুদ্রর ঘুমানোর।

চলবে….।