#তুমি_আমারই_রবে
#পর্ব_১৬
#Nishat_Jahan_Raat (ছদ্মনাম)
“তাড়াতাড়ি খবারটা শেষ করুন। হাতে খেলে বেশি তৃপ্তি পাবেন।”
চামচটা পাশে রেখে আমি বিরিয়ানীর লোকমা ধরে উনার দিকে তাকালাম। উনি এক ভ্রু উঁচিয়ে বললেন,,,
“লোকমাটা একটু বড় করে ধরুন। মনে হচ্ছে একটা পাঁচ থেকে ছয় বছরের বাচ্চা মেয়ে লোকমা ধরেছে। মায়ের হাত ছাড়া বড় লোকমা খেতেই পারে না!”
আমি মুখটা হালকা কালো করে বললাম,,
“আমি এভাবেই খেতে অভ্যস্ত। হিমু হাজার রাগালে ও আমি আমার অভ্যেস চেইন্জ্ঞ করতে পারি নি।”
“হু ইজ হিমু রূপা? হিমু নামটা আপনার মুখে এই নিয়ে দুবার শুনলাম৷ কে বলুন তো এই হিমু?”
থতমত খেয়ে আমি কিছু বলার আগেই লামিয়া আমার হাত চেঁপে ধরে হালকা হেসে মিঃ মেহুলকে বললেন,,,
“আসলে হিমু আমাদের একজন ফ্রেন্ড ছিলেন মিঃ মেহুল। তাই হয়তো রূপার মুখ ফসকে বার বার হিমু নামটা বের হয়ে যায়।”
মিঃ মেহুল বেশ আগ্রহ নিয়ে হালকা হেসে বললেন,,,
“বাঃহ্ খুব ভালো তো। হিমু এখন কোথায়? একদিন পরিচয় করিয়ে দিবেন?”
লামিয়া কিছু বলার আগেই আমি শক্ত কন্ঠে বললাম,,,
“মিঃ হিমুর সাথে আমাদের ফ্রেন্ডশীপটা অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে। এখন উনার সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।”
উনি হঠাৎ হেসে বললেন,,,
“ফ্রেন্ডকে মিঃ বলতে এই প্রথম শুনলাম রূপা! বিলিভ মি এর আগে কখনো শুনি নি।”
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম,,,
“মায়া যখন শেষ হয়ে যায় তখন বন্ধুত্বটা ও হারিয়ে যায়। চির অপরিচিত হয়ে যায়। আর অপরিচিত মানুষদের আমি মিঃ বলতে পছন্দ করি। তাই হিমুকে ও মিঃ বলে ডাকা।”
“এতো ক্ষোভ হিমুর উপর? চোখে, মুখে রাগের ছাপ ফুটে উঠেছে আপনার।”
“কথা না বলে আমরা তাড়াতাড়ি খাবারটা শেষ করি। বাড়ি ফিরতে হবে।”
লামিয়া খাওয়ায় মনযোগ দিলো। আমি ও লোকমা ধরে মাথা নিঁচু করে খেয়ে চলছি। মিঃ মেহুলের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করছি না। কি জানি উনি হয়তো আমার কথায় মাউন্ড ও করেছেন। তাই প্রতিউত্তরে কিছু বলেন নি। মাইন্ড করলে ও এখানে আমার কিছু করার নেই। উনার উচিত হয় নি কথার মাঝখানে হিমুকে নিয়ে এতো কৌতুহল প্রকাশ করা! হিমু নাথিং। রূপার জীবনে হিমু নাথিং!
খাওয়া দাওয়া শেষে মিঃ মেহুল রেস্টুরেন্টের বিল মিটিয়ে সবাইকে নিয়ে বাইরে এলেন। লামিয়া, নীলা, মিঃ লাবিব এবং মিঃ হৃদয় একসাথে হেঁটে মেইন রাস্তায় উঠছেন। চারজনই নানা ধরনের কথা বলছেন আর হাসছেন। আমি ওদের পিছু পিছু হাঁটছি। সামনে, পিছনে কোথাও মিঃ মেহুল নেই। হঠাৎ পেছন থেকে লোকটা কোথায় গায়েব হয়ে গেলেন বুঝতে পারছি না। কিছুক্ষণ আগে ও তো উনাকে আমার পেছনে দেখেছি। আচ্ছা লোকটা আমার সাথে আবার রাগ করেন নি তো? মানে রাগ করে ও তো আমাদের রেখে চলে যেতে পারেন! টেনশান+ভয় দুটোই আমার মনের মধ্যে কাজ করছে। আমি কখনো চাই নি, আমার কথায় কেউ হার্ট হোক, কষ্ট পাক, বা রাগ করুক।
দুপুরের কড়া রোদটা খুব গাঁয়ে লাগছে আমার। সমস্ত গাঁ টা রোদে মরিচের মতো জ্বলছে, পিঠ থেকে টপটপ করে ঘাম পড়ছে, পা গুলো ও ধরে আসছে, মনের মধ্যে ও মিঃ মেহুলকে নিয়ে খুটখুট কাজ করছে। এছাড়া ও খাওয়ার পর এতো হাঁটাহাঁটি আমার পছন্দ না। খেয়েই আমাকে শুয়ে পড়তে না হয় এক জায়গায় বসে থাকতে হয়। গরমে পেরেশান হয়ে আমি খোলা চুল গুলো গুটিয়ে খোঁপা করে নিলাম। অমনি পেছন থেকে মিঃ মেহুলের গলার আওয়াজ এলো। উনি পেছন থেকে আমাকে ডেকে বলছেন,,,
“রূপা দাঁড়ান।”
আমি তাড়াহুড়ো করে পিছু ফিরে তাকালাম। মিঃ মেহুল হাতে করে দুটো কোণ আইসক্রীম নিয়ে আসছেন। ঘেমে নেয়ে উনার অবস্থা আমার চেয়ে ও খারাপ। মৃদ্যু হেসে উনি খানিক দৌঁড়ে এসে আমার পাশাপাশি দাঁড়ালেন আর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
“রূপা তাড়াতাড়ি ঘোমটা টা মাথায় দিন৷ আজ এত্তো রোদ পড়েছে। আমি নিজেই আইসক্রীমের মতো গলে যাচ্ছি। আপনার হয়তো আমার চেয়ে ও খারাপ লাগছে।”
উনার কথাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আমি বেশ সিরিয়াস হয়ে উনাকে বললাম,,,
“এতোক্ষন কোথায় ছিলেন আপনি?”
“তার মানে আপনি আমাকে খুঁজেছিলেন?”
কিছু বললাম না আমি। উনি বাঁকা হেসে আবার বললেন,,,
“নিশ্চয়ই খুব টেনশানে ও পড়ে গিয়েছিলেন?”
“স্বাভাবিক। আমার পেছন থেকে একজন জলজ্যান্ত মানুষ দিন দুপুরে হুট করেই হাওয়া হয়ে গেলো আমার তাতে টেনশান হবে না?”
“নিশ্চয়ই হবে। যদি মানুষটা আপনার কাছের কেউ হয় তো! তা আমি কি আপনার কাছের কেউ?”
উনাকে উপেক্ষা করে সোজা সামনে হাঁটা ধরলাম আমি। উনি আমার পাশাপাশি হাঁটছেন আর বলছেন,,,
“কাছের মানুষ বলতে আমি “ফ্রেন্ড” বুঝিয়েছি রূপা। আমি কি আপনার ফ্রেন্ড নই?”
“ফ্রেন্ড হিসেবে হলে ও আপনি বলে যেতে পারতেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন।”
উনি গরমে বেশ পেরেশান হয়ে শার্টের কলারটাকে পেছনের দিকে হেলিয়ে বললেন,,,
“আইসক্রীম পার্লারে গিয়েছিলাম রূপা৷ ভাবলাম হঠাৎ আপনার ফেভারিট আইসক্রীম এনে আপনাকে অবাক করে দেবো। তাই বলা হয় নি।”
“আমি মোটে ও অবাক হয় নি।”
“সত্যিই হন নি?”
“না হই নি। তাছাড়া আমি আপনাকে বলি ও নি আইসক্রীম খাবো! আগ বাড়িয়ে আনতে গেলেন কেনো?”
“সব কথা এক্সপ্লেইন করে বলতে হবে কেনো রূপা? ফ্রেন্ড হওয়ার খাতিরে আমি আপনার মনের কথা পড়তেই পারি। আগ বাড়িয়ে আপনার জন্য কিছু আনতে ও পারি।”
আমার থেকে কোনো প্রতি উত্তর না পেয়ে উনি হঠাৎ আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন। আর আইসক্রীম দুটো আমার দিকে এগিয়ে বললেন,,,
“আইসক্রীম গুলো খেয়ে মাথাটা ঠান্ডা করুন রূপা। গরমের সাথে সাথে আপনি ও গরম হয়ে গেছেন।”
“আমার মাথা যথেষ্ট ঠান্ডা আছে মিঃ মেহুল। প্লিজ সামনে থেকে সরুন। বাড়ি যেতে হবে আমার।”
“আমি জানি আপনার এখন শুতে হবে না হয় একটু বসতে হবে। তারপরে ও বলছি আইসক্রীম গুলো খান। একটু হলে ও ঠান্ডা হবেন।”
“আপনি জানলেন কিভাবে খাওয়ার পর আমার শুতে হয় না হয় বসতে হয়?”
“এখানে জানার কি আছে রূপা? খাওয়ার পর মানুষ সাধারনত শুতে বা বসতে পছন্দ করে। বিশেষ করে মেয়েরা। আপনি নিশ্চয়ই এর ব্যতিক্রম হবেন না।”
আমি তাড়াহুড়ো করে উনার হাত থেকে আইসক্রীম দুটো ছিনিয়ে নিয়ে দুটো আইসক্রীম ই একসাথে খুলে গপাগপ বাইট বসাতে লাগলাম। আসলেই গরমে আমার মাথা রাগে ফেঁটে যাচ্ছে। তাই অকারণে মিঃ মেহুলকে ও বিরক্ত লাগছে। আসইক্রীম দুটো আমি খুব তৃপ্তি খাচ্ছি আর মিঃ মেহুলকে বলছি,,,
“আচ্ছা আপনি কিভাবে জানলেন চকলেট ফ্লেভার আমার পছন্দ?”
“ঐ যে, আমার বেশিরভাগ মেয়ে ফ্রেন্ডরা চকলেট ফ্লেভার পছন্দ করে তাই আমি ও আপনার জন্য অনুমান করে চকলেট ফ্লেভার নিয়ে এলাম।”
“বাপরে! আপনার এত্তো মেয়ে ফ্রেন্ড?”
উনি কিছুটা আমতা আমতা করে পেছনের চুল গুলো টেনে বললেন,,,
“ঐ আর কি। যখন আমেরিকায় ছিলাম, তখন কয়েকটা মেয়ে ফ্রেন্ড হয়েছিলো। এখন তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।”
“যোগাযোগ নেই কেনো? অবশ্যই যোগাযোগ রাখবেন। ফ্রেন্ডদের সাথে হুট করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।”
“আপনি ও তো হিমুর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন রূপা! হিমু ও তো আপনার ফ্রেন্ড ছিলো। হয়তো বেস্ট ফ্রেন্ড ও ছিলো।”
আইসক্রীমে বাইট দিতে গিয়ে ও আমি থেমে গেলাম। উনার দিকে তাকাতেই উনি মলিন হেসে বললেন,,,
“পার্কের সামনের গ্যারেজটাকে আমার গাড়িটা পার্ক করা আছে। তাড়াতাড়ি চলুন। বাড়ি পৌঁছে আপনাকে রেস্ট নিতে হবে!”
মিঃ মেহুল দ্রুত পায়ে হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলেন। আইসক্রীম গুলো হাত থেকে ফেলে দিয়ে আমি নির্বিকার হয়ে উনার পিছু পিছু হাঁটছি। উনি অবশ্য ভুল কিছু বলেন নি। হিমু সত্যিই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলেন। আমি চাই নি ইচ্ছে করে উনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করতে। উনিই যোগাযোগ করার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যা আমি আপনাকে মুখ ফুটে বলতে পারব না মিঃ মেহুল।
গাড়িতে বসে আছি সবাই। আমি, লামিয়া এবং নীলা ব্যাক সিটে বসেছি। ড্রাইভিং সিটে বসে মিঃ মেহুল ড্রাইভিং করছেন। মিঃ হৃদয় এবং মিঃ লাবিব আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে উনাদের গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেছেন। সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে আছি আমি। বাড়িতে পৌঁছেই খুব লম্বা একটা ঘুম দিতে হবে। তাহলে হয়তো হিমুকে মাথা থেকে একটু হলে ও দৌঁড়াতে পারব। মিঃ মেহুল আসার পর থেকে হিমুকে প্রতিটা ক্ষনে ক্ষনে মিস করছি। মিঃ মেহুল সকাল থেকে এমন সব কথা বলছেন, যার প্রত্যেকটি কথা কোথাও না কোথাও হিমুর সাথে মিলে যাচ্ছে!
কিছুক্ষনের মধ্যে গাড়ি এসে আমাদের বাড়ির ভেতর ঢুকে গেলো। গাড়িটা পার্কিং এরিয়ায় পার্ক করে দিলেন মিঃ মেহুল৷ এক এক করে সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। মিঃ মেহুল ও আমাদের পিছু পিছু নেমে পড়লেন। ফ্ল্যাটের দিকে অগ্রসর হতেই মিঃ মেহুল আমাকে পেছন থেকে ডেকে বললেন,,,
“রূপা শুনুন?”
আমি পিছু ঘুড়ে তাকাতেই উনি হালকা হেসে বললেন,,,
“আজকের দিনটা আসলেই খুব সুন্দর ছিলো রূপা। মন থেকে প্রতিটা মুহূর্তকে খুব এন্জ্ঞয় করেছি। সব কিছুর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ রূপা।”
“ধন্যবাদ তো আপনাকে দেওয়া উচিত মিঃ মেহুল৷ আপনার জন্যই আজ লামিয়ার জন্মদিনটা এত্তো ভালোভাবে সেলিব্রেট করা হলো! আপনার মতো আমরা ও খুব এন্জ্ঞয় করেছি।”
উনি আমার দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
“আপনি সত্যিই আমাকে মন থেকে ফ্রেন্ড হিসেবে মানেন তো রূপা?”
“এতগুলো সময়ে ও বুঝতে পারেন নি?”
“যদি আমাকে সত্যিই ফ্রেন্ড হিসেবে মেনে থাকেন, তাহলে একটা রিকুয়েস্ট করলে রাখবেন?”
“রাখার মতো হলে অবশ্যই রাখব!”
“আমি আপনার মুখ থেকে শুধু মেহুল নামটা শুনতে চাই। অনলি মেহুল। মিঃ বাদ দিয়ে।”
“কেনো বলুন তো? মিঃ এ কি প্রবলেম?”
“মিঃ বললে খুব দূরের লাগে৷ কাছের মনে হয় না! মনে হয় আপনি ও আমাকে হিমুর মতো দূরে ঠেলে দিবেন!”
আমি মাথাটা নিচু করে বললাম,,,
“আমি চেষ্টা করব।”
“আর একটা কথা!”
“কি?”
“মাথা তুলুন। এরপর বলছি।”
আমি মাথা তুলে উনার দিকে তাকালাম। উনি মলিন হেসে বললেন,,,
“আমি আপনাকে তুমি করে বলতে পারি?”
“আপনি ডাক টা ও কি দূরের মনে হয়?”
“শুধু দূরের না অতি দূরের মনে হয়!”
“তবে একটাই রিকুয়েস্ট আমি আপনাকে তুমি বলতে পারব না!”
“চলবে! যখন আমরা ফ্রেন্ড থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড হবো তখন না হয় অধিকার খাটিয়ে “তোমার” মুখ থেকে “তুমি” শব্দটা বের করব।”
“সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। হয়তো এক যুগ কেটে যেতে পারে।”
“দরকার হলে তিন যুগ অপেক্ষা করব। আমার অপেক্ষা শক্তি খুব প্রখর!”
আমি মলিন হেসে পিছু ঘুড়ে ফ্ল্যাটের দিকে রওনা হলাম। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাই নি। মিঃ মেহুল স্যরি মেহুল ও হয়তো এতক্ষনে উনার ফ্ল্যাটে চলে গেছেন। ছেলেটা আসলেই মিশুক। খুব সহজে যেমন সবার সাথে মিশতে পারেন তেমনি খুব সহজে সবাইকে আপন করে নিতে পারেন।
,
,
ঘড়িতে বিকেল চারটার কাছাকাছি। আমি, লামিয়া আর নীলা রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছি৷ তিনজনই বেশ ক্লান্ত। লামিয়া এক প্রকার আপসোস করতে করতে ঘুমিয়েছে। মেহুলকে থ্যাংকস না বলেই ফ্ল্যাটে চলে এসেছে। তাই এক প্রকার আক্ষেপ কাজ করছে ওর মধ্যে। যদি ও আমি বলেছি আমার তরফ থেকে আমি মেহুলকে থ্যাংকস বলেছি এরপরে লামিয়া নিজের মনকে বুঝাতে পারছেনা। এক প্রকার খচখচ কাজ করছে।
সন্ধ্যা সাতটায় ঘুম ভাঙ্গল আমাদের। ফ্রেশ হয়ে আমি কিচেনে চলে এলাম চা বানাতে। ঘুম থেকে উঠে ধোঁয়া উঠা চা না খেলে আমার চোখ থেকে ঘুমের রেশ কাটতে চায় না। মাঝে মাঝে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা ও হয়।
#চলবে…..💗
#তুমি_আমারই_রবে
#বোনাস_পর্ব
#Nishat_Jahan_Raat (ছদ্মনাম)
সন্ধ্যা সাতটায় ঘুম ভাঙ্গল আমাদের। ফ্রেশ হয়ে আমি কিচেনে চলে এলাম চা বানাতে। ঘুম থেকে উঠে ধোঁয়া উঠা চা না খেলে আমার চোখ থেকে ঘুমের রেশ কাটতে চায় না। মাঝে মাঝে এক প্রকার মাথা ব্যাথা ও হয়।
চুলায় চা বসিয়ে আমি বেড রুমটা গুছাতে গেলাম। লামিয়া ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে ফ্রেশ হচ্ছে। নীলা ব্যালকনীতে দাঁড়িয়ে ফোন ঘাটাঘাটি করছে আর ঐখান থেকে আমাকে ডেকে বলছে,,,
“রূপা। তোর ফোনটা একটু দিবি? বাড়িতে ফোন করব। আমার ফোনের ব্যালেন্স শেষ।”
“পার্মিশান নেওয়ার কি আছে? তুই আবার কবে থেকে ফরমালিটি মেন্টেইন করছিস?”
“তোর ফোনে তো সবসময় ব্যালেন্স না ও থাকতে পারে তাই জিগ্যেস করলাম।”
“ভাবিস না আমার পরিবার নেই বলে ফোনে সবসময় রিচার্জ করব না। নিজের দরকারে ও রিচার্জ করতে হয়।”
কথাগুলো বলার সময় গলাটা ধরে আসছিলো আমার। নীলা আর নাবিলা যখন ওর পরিবারকে নিয়ে কোনো কথা বলে তখন আমার নিজে থেকেই গলাটা ধরে আসে৷ চোখে পানি টলমল করে। নিজেকে সামলে রাখতে পারি না তখন। নীলা ব্যালকনী থেকে এসে আমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মলিন হেসে আমার কাঁধে হাত রেখে বলল,,,
“তোর ও পরিবার আছে রূপা। ইচ্ছে শক্তির অভাবে হয়তো তোর পরিবারের সাথে কথা হয় না, যোগাযোগ করা হয় না। শুধু পরিবার কেনো বলছি তোর তো আস্ত একটা সংসার ও আছে। দেখবি, হিমু জিজু একিদন এসে ঠিক তোকে নিয়ে যাবে। পুরো স্বপ্নের রাজকুমারদের মতো।”
“হিমু কখনো আসবে না নীলা। আসার হলে তো এই দুই বছরে চলেই আসতেন। এতগুলো বছরে কোনো না কোনোভাবে ঠিক উনি আমাকে খুঁজে নিতেন। আমার মনে জমে থাকা অভিমানের পাহাড়টা দুহাত দিয়ে ভেঙ্গে দিতেন। কিন্তু উনি তো আসেন নি নীলা। না কখনো আসবে! এসব অবান্তর কথা বলে আমাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখাস না প্লিজ। স্বপ্নটা হুট করে ভেঙ্গে গেলে আমি নিতে পারি না।”
চোখে জল নিয়ে আমি পিছু ঘুড়ে কিচেন রুমে চলে এলাম। নীলা আমাকে ডাকতে ডাকতে আমার পিছু পিছু কিচেন রুমে চলে এলো। আর আমাকে শান্তনা দিয়ে বলল,,,
“প্লিজ রূপা, কাঁদিস না। আমি তোকে আঘাত করতে চাই নি বা পুরনো কথা মনে করাতে চাই নি। জানি না আজ কেনো হঠাৎ মুখ দিয়ে ঐ কথাটা বের হয়ে গেলো। সামান্য ঐ কথাটার জন্যই তোকে কাঁদতে হলো।”
চোখের জল মুছে আমি মলিন হেসে নীলাকে কিছু বলার আগেই দরজায় খটখট আওয়াজ হলো। নীলা দৌঁড়ে দরজার কাছে চলে গেলো। দরজা খুলতেই মেহুল হুড়মুড়িয়ে বসার ঘরে ঢুকে পড়লেন। আর এক গাল হেসে নীলাকে বললেন,,
“হেই নীলা। কেমন আছেন?”
নীলা আমতা আমতা করে বলল,,
“ভালো আছি মিঃ মেহুল। আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো আছি। রূপা কোথায়?”
“রূপা তো কিচেনে।”
আমি কিচেন রুম থেকে সব দেখছি। উনার এমন হুটহাট চলে আসাটা এই মুহূর্তে আমার ভালো লাগছে না। তাই ইচ্ছে করে উনার কাছে যাচ্ছি না। ধোঁয়া প্লেইট গুলো ও বেসিনে ইচ্ছে করে ধুচ্ছি। এর মাঝেই ভূমিকম্পটা দৌঁড়ে আমার কাছে চলে এলো। নিজেকে এতোটা ব্যস্ত রেখে ও শেষ রক্ষেটা হলো না। এরপরে ও আমি উনাকে দেখে ও না দেখার ভান ধরে প্লেইট গুলো নাড়ছি৷ মেহুল আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে হালকা কেশে বললেন,,,
“রূপা।”
আমি চোখে, মুখে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে উনার দিকে তাকালাম। উনি হালকা হেসে বললেন,,,
“আম্মু, আব্বু কুমিল্লা থেকে ফিরেছেন। তাই আম্মু তোমাদের সবাইকে আমাদের ফ্ল্যাটে ডাকছেন।”
“আন্টি, আঙ্কেল কখন ফিরেছেন?”
“এই তো একটু আগে।”
“আমাদের কেনো ডেকেছেন?”
“এই ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। জানতে হলে অবশ্যই আমাদের ফ্ল্যাটে যেতে হবে।”
“আপনি বসুন। চা খেয়ে যান। আমরা ও চা খেয়ে যাচ্ছি।”
“স্যরি রূপা। আমি এখন চা খাবো না। একটা কাজে আমাকে বের হতে হবে। আম্মু কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে আসছিলো, তাই আম্মুকে কষ্ট না দিয়ে আমি নিজেই চলে এলাম তোমাদের খবরটা দিতে। স্যরি, আমার কারণে যদি তুমি বিরক্ত হয়ে থাকো।”
উনি পিছু ঘুড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। আমি প্লেইট গুলো আগের জায়গায় সাজিয়ে কাপে চা ঢেলে নীলার হাতে এক কাপ চা ধরিয়ে দু কাপ চা নিয়ে বেড রুমে চলে এলাম। লামিয়া এখনো ওয়াশরুমে। হয়তো শাওয়ার নিচ্ছে। গরমে সবার জাজাবর অবস্থা। নীলা বেডের উপর বসে চা এ চুমুক দিচ্ছে আর আমাকে বলছে,,,
“তুমি কি সত্যিই বিরক্ত হস মিঃ মেহুলের এমন হুটহাট আসা যাওয়াতে?”
আমি ও চা এ চুমুক দিয়ে বললাম,,,
“অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না নীলা। আমার মনে হচ্ছে উনি অতিরিক্ত করছে।”
“হতে পারে। তবে উনি যা করছে সব মন থেকে করছে। হয়তো ভালো ফ্রেন্ড হিসেবে।”
“কেউ কখনো আমার জন্য মন থেকে কিছু করে নি নীলা। যা করেছে উপর থেকে করেছে। মেহুল ও তাই করছে। না হয় একদিনের পরিচয়ে কেউ কারো জন্য এতোটা করে না। যে সম্পর্কগুলো খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয় সেই সম্পর্কগুলো খুব তাড়াতাড়ি শেষ ও হয়ে যায়।”
এর মাঝেই লামিয়া ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো। তিনজনই চা খেয়ে মেহুলদের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ফ্ল্যাটের কলিং বেল চাঁপতেই আন্টি ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দিলেন। আমাদের দেখে উনি এক গাল হেসে বললেন,,,
“কতোদিন পর তোমাদের দেখলাম। আমেরিকাতে ও তোমাদের খুব মিস করেছি।”
আমরা তিনজন খুব হেসে আন্টিকে বললাম,,
“আমরা ও আপনাকে খুব মিস করেছি আন্টি।”
আন্টি খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললেন,,
“এসো এসো রুমে এসো৷ বসে আমরা কিছুক্ষণ আড্ডা দেই।”
আন্টির সাথে আমরা ড্রইং রুমের সোফায় বসে পড়লাম। আন্টি আমার পাশে বসে আমার হাতটা ধরে বললেন,,
“কেমন আছো রূপা?”
“ভালো আছি আন্টি৷ আপনি কেমন আছেন?”
“এইতো ভালোই আছি। আসার পর থেকে আমার ছেলেটা হয়তো তোমাদের খুব জ্বালাচ্ছে তাই না?”
আমি আমতা আমতা করে বললাম,,,
“না আন্টি। জ্বালাবে কেনো? ঠিক আছে।”
“আসলে আমার ছেলেটা ইদানিং খুব চঞ্চল স্বভাবের হয়ে উঠছে। তাই জিগ্যেস করলাম। যদি তোমাদের কোনো ভাবে বিরক্ত করে থাকে।”
“কেনো আন্টি? উনি কি আগে থেকে এতো চঞ্চল ছিলেন না?”
“না। আমার ছেলে আগে খুব জেদি আর বদরাগী ছিলো। নতুন করে তার এই চঞ্চলতার স্বভাবটা উদয় হয়েছে। নতুন ভাবে ছেলেকে চিনছি। তা ও ভালো। ছেলে বেঁচে আছে! এটা বলে তো মনকে শান্তনা দিতে পারছি!”
আমি বেশ অবাক হয়ে আন্টিকে বললাম,,
“ছেলে বেঁচে আছে মানে? বুঝলাম না আন্টি।”
আন্টি চোখে জল নিয়ে কিছুটা থতমত খেয়ে বললেন,,,
“বাদ দাও এসব রূপা। মেহুল বলছিলো তোমাদের ঐ ফ্ল্যাটে থাকতে নাকি খুব অসুবিধা হচ্ছে?”
“না আন্টি। ঠিক আছে। তবে ঘর গুলো রিপেয়ার করে দিলে ভালো হয়। এই ধরুন প্রতিটা রুমের দরজা জানালা গুলো একটু শক্ত, পোক্ত করে লাগিয়ে দিলে।”
“অসব করতে হবে না রূপা। আমাদের ফ্ল্যাটে তো দুই ইউনিট৷ তাই মেহুল বলছিলো পাশের ইউনিটটাতে তোমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে।”
আন্টির কথা শুনে আমি লামিয়া আর নীলা তিনজন তিনজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি। এতগুলো টাকা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমি কাতর কন্ঠে আন্টির হাত ধরে বললাম,,
“আমরা যে ফ্ল্যাটটাতে আছি, ভালোই আছি আন্টি৷ কোনো রকমে দিন কেটে যাচ্ছে আমাদের। তবে, আপনাদের পাশের ফ্ল্যাটে উঠলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে আন্টি।”
“বোকা মেয়ে। আমি কি তোমাদের থেকে ফ্ল্যাট ভাড়া চেয়েছি? তোমরা তো আমার মেয়ের মতো। আমার মেয়ে থাকলে নিশ্চয়ই ওদের থেকে আমি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতাম না।”
“না আন্টি। এটা হয় না। আমাদের জন্য আপনাদের লস হয়ে যাবে। আমাদের জায়গায় অন্য ভাড়াটিয়া এলে অন্তত মাস শেষে ১৫ হাজার টাকা তো পাবেনই।”
“সব সম্পর্ককে টাকা দিয়ে পরিমাপ করলে হয় না রূপা। যা বলছি তা শুনো। সামনের অফ ডে তে তোমরা আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে উঠে যাবে। এই নিয়ে আর কোনো কথা শুনতে চাইছি না আমি।”
আন্টিকে কিছুতেই মানাতে পারলাম না আমরা। আন্টি ঠিক আমাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করিয়ে নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়ে রাজি হলাম। এই রাতে আন্টির ফ্ল্যাটে রাতের ডিনার করে আমরা নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরে এলাম। রাত এগারোটা বাজার পরে ও মেহুল বাড়িতে ফিরেন নি। তাই উনার সাথে কোনো রকম দেখা সাক্ষাৎ ও হয় নি।
ফ্ল্যাটে পৌঁছেই আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে অফিসে যেতে হবে তাই। মেহুলের উস্কানিতেই আন্টি আমাদের উনাদের পাশের ফ্ল্যাটে উঠতে বলেছেন, তা আমি বেশ বুঝতে পেরেছি। আমি এটা ও বুঝতে পারছি মেহুলের চোখে আমি শুধু একজন ফ্রেন্ড নই হয়তো অন্য কিছু ও। যা আমি উনার চোখ দেখে বেশ বুঝতে পারি। তাই যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব উনাকে হিমুর ব্যাপারে সব বলতে হবে। উনাকে বলতে হবে “আমি বিবাহিত।”
,
,
সকাল ছয়টা। ঘুম থেকে উঠে আমি ফ্রেশ হয়ে বাড়ির বাগানে হাঁটতে বের হলাম। প্রতিদিন সকালে উঠে আমার একটু হাঁটা লাগে। না হয় সারা দিন চেয়ারে বসে থাকাটা আমার কোঁমড়ে খুব এফেক্ট করে। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারি না আমি। কোঁমড়ের রোগটা দিন দিন বেড়েই চলছে। হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির মেইন গেইটটার দিকে চলে এলাম। গেইটটা খুলতে নিলেই হঠাৎ কারো সাথে আমার মাথায় বেশ জোরে একটা ধাক্কা লাগল। মনে হলো একটা মজবুত বিল্ডিংয়ের সাথে আমি ধাক্কা খেয়েছি। এবার বুঝুন ঐ মানুষটার কপাল কতোটা শক্ত হবে। কপালে হাত দিয়ে আমি চোখ, মুখ কুচকে ব্যাথায় আর্তনাদ করে বললাম,,,
“উফফফ গেলো তো আমার মাথাটা ফেঁটে।”
অমনি মেহুলের গলার স্বর আমার কানে এলো। উনি বেশ পেরেশান হয়ে আমার দিকে ঝুঁকে বললেন,,,
“স্যরি রূপা। আমি একদম বুঝতে পারি নি, তুমি গেইট খুলে বের হচ্ছিলে। হঠাৎয়ের মধ্যে এই অঘটনটা ঘটে গেলো।”
আমি কপালে হাত রেখেই পিটপিট চোখে উনার দিকে তাকালাম। কাল সন্ধ্যায় উনি যে কালার শার্টটা পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সেই শার্টটাই এখনো উনার গাঁয়ে আছে। কপালে ব্যাথা নিয়ে ও আমি কিছুটা কৌতুহলী হয়ে উনাকে বললাম,,,
“আপনি কি সারা রাত বাড়ি ফিরেন নি?”
উনি পেছনের চুল গুলো টেনে বললেন,,,
“না। আসলে একজন রিলেটিভসের বাড়িতে গিয়েছিলাম। উনারা আমাকে আসতে দেননি।”
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে কপাল ঘঁষে বললাম,,,
“ওহ্।”
উনি হঠাৎ কপাল থেকে আমার হাতটা সরিয়ে আমার কপালের দিকে তাকিয়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে বললেন,,,
“ইসসস কপালটা তো অনেকটাই ফুলে গেছে। এক্ষনি বরফ লাগাতে হবে। প্লিজ তুমি আমার সাথে চলো।”
“কিচ্ছু হবে না মেহুল। আপনি ফ্ল্যাটে যান। আন্টি হয়তো সারা রাত আপনার জন্য জেগে আছেন।”
উনি হঠাৎ আমার ডান হাতটা চেঁপে ধরে বললেন,,,
“ফ্ল্যাটেই যাচ্ছি আমি। আমার সাথে তুমি ও যাবে। কপালে বরফ ঘঁষতে হবে।”
আমি উনার হাত থেকে আমার হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছি আর বলছি,,,
“হাতটা ছাড়ুন মেহুল। আমি নিজেই বরফ লাগাতে পারব। আমাদের ফ্রিজে অনেক বরফ আছে।”
উনি আমার হাতটা আরো শক্ত করে ধরে চোখ রাঙ্গিয়ে বললেন,,,
“আমার রাগান্বিত ফেইসট টা তুমি এখনো দেখো নি রূপা। তখন কিন্তু খুব ভয়ঙ্কর লাগে আমাকে দেখতে। এই হাসিখুশি মেহুলের সাথে তখন তুমি এই রাগান্বিত মেহুলকে এক করতে পারবে না।”
আসলেই রাগলে উনাকে খুব ভয়ঙ্কর লাগে। চোখ, মুখ লাল হয়ে লাভার রূপ ধারণ করে। এই মুহূর্তে উনার রাগান্বিত চেহারাটাই আমি দেখছি। শুকনো ঢোক গিলে আমি উনার দিকে তাকালাম। উনি আমাকে টানতে টানতে উনাদের ফ্ল্যাটে উঠিয়ে নিলেন। সোজা তিন তলায়। উনার আলিশান রুমের সফট ফোমের বেডে উনি আমাকে বসিয়ে দিলেন। ব্যতিব্যস্ত হয়ে উনি ফ্রিজ থেকে কয়েক টুকরো বরফ বের করে হাঁটু গুজে আমার মুখোমুখি ফ্লোরে বসে পড়লেন। খুব মনযোগ দিয়ে উনি আমার কপালে বরফ ঘঁষছেন। উনার ফেসিয়াল রিয়েকশান দেখে মনে হচ্ছে আমার সাংঘাতিক কিছু হয়েছে। যা উনি আমার খুব আপনজন হয়ে সহ্য করতে পারছেন না। যেকোনো মূল্যেই হোক আমাকে উনার এই মুহূর্তেই সুস্থ করতে হবে!
আমি কিছুটা হেয়ালী হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে বললাম,,,
“সত্যি করে বলুন তো আমি আপনার কতো দিনের চেনা?”
“কেনো? গতকালই তো তোমার সাথে আমার নতুন করে পরিচয় হলো!”
“নতুন করে পরিচয় হলো মানে?”
উনি হঠাৎ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
“কিছু না রূপা। বাড়ি যাও। বরফ লাগানো হয়ে গেছে।”
উনি আমার সামনে থেকে উঠে দাঁড়ালেন। জানালার থাই গ্লাস। ধরে উনি নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি এক পা দু পা করে রুম থেকে বের হতে নিলেই মেহুল পেছন থেকে আমাকে ডেকে বললেন,,,
“পারলে আজই ফ্ল্যাটে উঠে যেও রূপা। আমি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে চাই!”
#চলবে,,,,😑