তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-০১

0
661

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১

আমি আপনাকে ভালোবাসি।

হঠাৎ পিছন থেকে এই কথা শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে
পিছনের ব্যক্তিকে দেখে মাথায় রাগ ওঠে যায় রিশাদের।

রিশাদের মুখশ্রীতে রাগের আভাস কপাল রাগে জড়ে গেছে।

এই মেয়ে তোর বয়স কত? বিয়ের বয়স হয়েছে? প্রেম ভালোবাসার কি বুঝিস তুই? কলেজে এসব শিখতে যাস যে রাস্তায় কোনো ছেলে দেখলে তাকে ভালোবাসি বলে বেড়াবি।

রাস্তার পাশে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে রুহি । পরনে কলেজ ড্রেস সাথে দুইপাশে বিনুনি করে ছেড়ে দেওয়া কাঁধে স্কুল ব্যাগটা। রিশাদের বলা কথা গুলো শুনলো চোখে পানি টলমল করছে। রিশাদের বলা রাস্তার কোনো ছেলে দেখলেই ভালোবাসি বলে বেড়াবি এই কথাটা রুহির খুব খারাপ লাগলো তাই মাথা নিচু অবস্থায় জবাব দিলো,

‘রাস্তায় কোনো ছেলেকে ভালোবাসি বলে বেড়াই না। আপনাকে ভালোবাসি বলেই পিছনে ঘুরি ভালোবাসি বলে বেড়াই। আপনি হয়তো আমায় ভালোবাসেনা কিন্তু আমি তো বাসি। আপনি কি করে বলতে পারলেন আমি অন্য ছেলেকে ভালোবাসি বলে বেড়াবো?

তোর সাহস দেখছি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে মুখের উপর কথা বলিস। আজকে চাচিকে বলতে হবে তোমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে বিয়ে দিয়ে দেও।

রুহি চোখ তুলে তাকায় নিজের আম্মুকে বলে দিবে বলায় একটু ভয় পেলেও দমে যায় না রিশাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
আমার বিয়ে হলে আপনি খুশি হবেন? তবে শুনুন আমি আপনাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না।

আমাদের সম্পর্ক কখনো সম্ভব নয় তা তুই ভালো করে জানিস?

“রুহি একটু এগিয়ে আসে
কেন সম্ভব নয় বলুন?

” কেন সম্ভব নয় সেটা তুই ভালো করে জানিস?

“রুহি চিৎকার করে কান্না করতে করতে বলে আপনার আর আমার বাবার শত্রুতার জন্য কেন আপনি আমায় ভালোবাসবে না? আমি কি এতোই খারাপ যে আমায় ভালোবাসা যায় না?

” রিশাদ ও চিৎকার করে বলে এখনি এখান থেকে চলে যা নয়তো তোর বাপ দেখলে তোকে মেরে ফেলবে। তোর বাপের মতে তো আমি আবার বেয়াদব ছেলে উনার কাজে বেগড়া দেই।

“মেরে ফেললে ফেলুক তাতে আপনার কি? আমি মরলে তো আপনারি ভালো।

” রিশাদের পাশে দাড়িয়ে এতোক্ষন সব শুনছিলো আশিক ও হলো রিশাদের বেষ্টফ্রেন্ড সব সময় এক সাথে থাকে।

“আশিক ওকে এখান থেকে চলে যেতে বল ওর বাপের লোক দেখলে সমস্যা হবে।

” আশিক রুহিকে বুঝিয়ে বাড়ি যেতে বলে।
কান্না করতে করতে বাড়ি পথে রওনা দেয় রুহি একটু দূরে ওর সাথের আরো দুই বান্ধবী সুমি ও সানজিদা দাড়িয়ে ছিলো।

“রুহি যেতেই ওরা দুজন ওকে বলে কি দরকার ছিলো রিশাদ ভাইয়ার কাছে বার বার অপমান হতে যাওয়ার। তুই তো জানিস ওনি তোকে ভালোবাসেন না আবার তোর আর রিশাদ ভাইয়ার বাবার মধ্যে শত্রুতা আছে কেউ কাউকে দেখতে পারে না। তোর বাবা তো রিশাদ ভাইয়াকে আরো পছন্দ করে না মির্জা বাড়ি আর চৌধুরী বাড়ির শত্রুতার শেষ হবে না এর মধ্যে তোর বাবা এসব জানতে পারলে তোরে মেরে ফেলবে।

” রুহির কাট কাট জবাব ওনি ভালো না বাসলেও আমি বাসি। আর আমার আব্বু আর উনার আব্বুর মধ্যের শত্রুতা আমি আর ওনাকে নিয়ে শেষ করবো। জানিনা কি নিয়ে তাদের শত্রুতা তবে আমায় জানতে হবে খুঁজে বাহির করতে হবে শত্রুতার কারণ কি?তার পর দুজনে মিলে মির্জা বাড়ি আর চৌধুরী বাড়ির শত্রুতা একদিন শেষ করবো দেখে নিস।

রুহির পুরো নাম আহিয়া রুহি তবে সবাই রুহি বলে ডাকে।
মিজানুর চৌধুরী ও রুজিনা বেগমের ছোট মেয়ে রুহি ওর একটা বড় ভাই আছে যার নাম রোহান চৌধুরী তিনি একজন ডাক্তার বর্তমানে শহরের হসপিটালে কর্মরত আছেন।

মিজানুর চৌধুরী এ এলাকার চেয়ারম্যান হওয়ায় সবাই উনাকে সম্মান করেন। রুহি ও রোহান তার ছেলে মেয়ে হওয়াতে ওদের সবাই একটু বেশিই কদর দেখাতো।

অন্যদিকে রিশাদ যার পুরো নাম রিশাদ মির্জা
বাবা রফিক মির্জা ও মা রাশেদা মির্জার বড় ছেলে রিশাদ মির্জা ওর ছোট বোন রাফিয়া মির্জা।

রফিক মির্জা সনামধন্য ব্যবসায়ী যার নাম ডাক দেশে বিদেশে রয়েছে। রিশাদের পড়ালেখা প্রায় শেষ ওকে ব্যবসায় বসতে বললে ও কিছুতেই রাজি হয়না সারাদিন কে কোথায় বিপদে পড়ছে, কে কাকে মারছে, কাকে বাঁচাতে এসব নিয়ে পড়ে থাকে এজন্য রফিক মির্জা তার উপর ভীষণ রাগ এতো জনদরদী হয়ে ওর নিজের বিপদ ডেকে আনুক তিনি তা চান না।

রাফিয়া আর রুহি এক সাথে পড়ে ওদের বন্ধুত্ব আছে তা শুধু কলেজের মধ্যে বাহিরে আসলে কেউ কারো দিকে তাকায় না কারণ দুজনের বাসার কেউ দেখলে বকা দিবে।
রুহি চুপিচুপি রাফিয়াকে ফোন দেয়।
হ্যাঁ বল এখন ফোন দিলি যে?

তোর ভাইকে আজকে আবার ভালোবাসার কথা বলেছিলাম কিন্তু আবারও বকাবকি করেছে বলে আমি নাকি ছোট আছি আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে আম্মুকে বলে দিবে বিয়ে দিতে।

রাফিয়া হাসতে হাসতে বলে,
এই কথা বলার জন্য ফোন করেছিস?

হো এটা বলার জন্য করেছি আর শোন তোর ভাবি কিন্তু আমিই হবো বুঝলি তোর ভাই কোনো মেয়ের সাথে কথা বললে আমায় জানাবি।

ঠিক আছে জানাবো কিন্তু তুই আমার ভাবি হলে ভালো হবে আমিও চাই কিন্তু ভাইয়া আর তোর বাবার মধ্যে যে সাপে নেউলে সম্পর্ক আর আমার বাবা চাচার কথা তো বাদ দিলাম।

সেসব পরে ভাবা যাবে তোর ভাই রাজি থাকলেই হবে। তোর ভাই কই রে?
ভাইয়া তো…….

কি হয়েছে আমি এখানে?

রিশাদের গলা শুনে রুহি একটু ভয় পায় ফোন করেছি এজন্য যদি আম্মুকে বলে দেয়।
না না কিছু না আপনি কি করছেন সেটাই খোঁজ নিচ্ছি।

আমার খোঁজ নিতে হবে না আমার খোঁজ নেওয়ার জন্য মানুষ আছে বলে কল কেটে দেয়।

রুহির মুখে অন্ধকার নেমে আসে। উনার অন্য কেউ আছে ভাবতেও নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

তখনি রাফিয়া আবার ভিডিও কল দেয় এই রুহি?
রুহি রিসিভ করে বলে কি বল?

রুহির চোখ দেখে বুঝতে পারে রুহি কান্না করছে এই রুহি তুই কান্না করছিস কেন?ভাইয়ার কেউ নেই তোকে এমনি মিথ্যা বলেছে তুই যাতে ভাইয়ার পিছনে না ঘুরিস।

রুহি ভেবে দেখে হ্যাঁ তাই তো আমি যাতে উনার কাছ থেকে সরে যাই তাই এমন বলেছে ভেবে আবার হাসে।
থ্যাঙ্কিউ ননদিনী তুই আমার লক্ষী ননদিনী আমাদের বিয়ের পর তোকে সুন্দর একটা ছেলে দেখে বিয়ে দিবো।

রিশাদ এতোক্ষণ দরজার ফাঁক দিয়ে রুহির কান্ড দেখছিলো।
বাঁদর একটা এটাকে মানুষ করতে হবে বলে হেঁসে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়।

সুন্দর ছেলে লাগবে না রে তোর ভাইকে দিলে হবে (মনে মনে) যেটা রুহি শুনতে পেলনা রাফিয়া ভালোবাসে রুহির ভাই রোহান কে কিন্তু ও কখনো মুখে প্রকাশ করেনি পরিবারকে ভীষণ ভয় পায় আর সে ওই মানুষটাকে ভালোবাসে কিন্তু উনি তো বাসেন না এক পক্ষিক ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা ছাড়া কিছু দিবে না। রুহি ভাইয়াকে ভালোবাসে আর ভাইয়া ও বাসে যতই মুখে না বলুক কিন্তু আমি জানি ভালোবাসে।

এই রাফিয়া কই হারালি?
রাফিয়া তাকিয়ে বলে তোর ভাই কোথায় আছে রে রুহি?

ভাইয়া তো হসপিটালে আছে আসবে রাতে কিন্তু তুই ভাইয়ার খোঁজ নিচ্ছিস কেন?

না এমনি জিজ্ঞেস করছি আচ্ছা এখন রাখি আম্মু ডাকছে পরে কথা হবে বলে ফোন রাখে।

রাফিয়া ফোনের স্কিনে থাকা একজন সুদর্শন যুবকের ছবির দিকে তাকিয়ে আছে যে মানুষটাকে ও সংগোপনে ভালোবাসে।

সন্ধ্যার দিকে বাবার সাথে গাড়িতে করে বাহিরে যাচ্ছিলো রুহি ওর তার বাবা তখন দেখে,
রাস্তার পাশে একটা ছেলেকে বেধড়ম পেটাচ্ছে রিশাদ লাঠি দিয়ে মারছে যেন থামার নাম নেই।

মারামারি দেখে মিজানুর চৌধুরী নেমে পড়ে।
কি হচ্ছে এখানে?ছেলেটাকে মারছো কেন?

রিশাদ ফিরে দেখে রুহির বাবা।
ছেলেটাকে মারার কারণ ওই মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করেন বলে সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে ইঙ্গিত করে যে মাথা নিচু করে কান্না করছে।
পাশ থেকে এক মহিলা বলে এই মেয়েটা সন্ধ্যার সময় প্রাইভেট পড়িয়ে বাসায় ফিরছিলো তখন এই ছেলেটা ওর সাথে বাজে ব্যবহার করে এমনকি তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো রিশাদ বাবা এসে বাঁচায়।

শুনলেন তো চেয়ারম্যান সাহেব এই রিশাদ মির্জা এমনি এমনি কাউকে মারে না হয়তো আমি আপনার কাছে বেয়াদব ছেলে কিন্তু আপনার মতো দু নম্বরি কাজ করি না আর না কাজে সমর্থন করি বলে বিদ্রূপের হাসি দেয়।

রিশাদের হাসি দেখে চেয়ারম্যানের রাগ ওঠে যায় পাশে মেয়ে থাকার কারণে কিছু বলেনা শুধু একটুকু বলে
বাবা,চাচার মতো বেয়াবদ হয়েছে বলে রুহির হাত টেনে নিয়ে যায়। রুহি রিশাদের দিকে তাকিয়ে আছে চোখ যে অনেক কথা বলে।

বাবা বেয়াদব বলে আর মেয়ে ভালোবেসে পাগল বানাতে চায় কি নিষ্ঠুর পৃথিবী তাকে আমিও চাই সেও আমায় চায় কিন্তু পরিস্থিতি পরিবারের জন্য পিছিয়ে আছি তবে খুব শিগগিরই শত্রুতার রহস্য বাহির করবো আর তাকেও নিজের করে নিবো।

চলবে…………….?