#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১২
মির্জা বাড়িতে খাবার টেবিলে বসে রশিদ মির্জা খেতে ব্যস্ত এক পাশে রিশাদ আরেক পাশে রাফিয়া খাচ্ছে। খাওয়া শেষে রশিদ মির্জা ওঠে যেতে নিলে রিশাদ পিছু ডাকে।
“আব্বু তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।
রশিদ মির্জা দাঁড়ায়।
‘কি কথা বলো?
” আমি কয়েকদিন চাচ্চুর সাথে কথা বলেছি উনাকে দেশে আসতে বলেছি এতে নিশ্চয়ই তোমার কোনো আপত্তি নেই।
রশিদ মির্জা গম্ভীর মুখে জবাব দেয়।
‘সে কি আসতে রাজি হয়েছে।
“রাজি না কিন্তু আমি জোর করে রাজি করিয়েছি এই মাসের মধ্যে নিয়ে আসবো। বারো বছর হতে চললো চাচ্চু দেশে নেই এবার তো আসা উচিত তুমি ও কখনো তাকে আসতে বলোনি তাই আমি উনাকে যে করে হোক নিয়ে আসবো।
‘আমি কাউকে যেতে বলেছিলাম না তাই আসতেও বলবো না সে মির্জা বাড়ির ছেলে এ বাড়িতে তার অধিকার আছে চাইলে আসতে পারে।
কথা গুলো বলে রশিদ মির্জা ওঠে চলে যায়।
রাশেদা মির্জা হাঁসি মুখে এগিয়ে আসেন রিশাদ কে জিজ্ঞেস করে
‘সত্যি কি রাইসুল দেশে আসবে?
“আসবে আম্মু চাচ্চু আসবে তাকে আসতে হবে।
কারণ অনেক কিছু জানার বাকি তোমরা তো বলবে না। শেষের কথা গুলো মনে মনে বললো যা রাশেদা মির্জা শুনতে পেল না।
রিশাদ একটা দামি রেস্টুরেন্টে বসে আছে এখন বাজে দুপুর দুটো রিশাদের আজকে বিদেশি ক্লাইন্টের সাথে মিটিং ছিলো সেটা মাত্র শেষ হলো উনারা মিটিং সেরে খাওয়া দাওয়া করে চলে গেলেন আর রিশাদ বসে আছে সাথে আছে সুইটি অপলক তাকিয়ে আছে রিশাদের দিকে কিন্তু ওর সেদিকে খেয়াল নেই।
” সুইটি আমার ফোনটা কোথাই?
‘এইতো স্যার আমার কাছে।
রিশাদ ফোনটা হাতে নিতেই দেখে আকাশের মিস কল ওঠে আছে এগারো বার। রিশাদ মনে মনে ভাবে কোনো দরকার ছাড়া আকাশ তো এতোবার কল দিবে না কারো কিছু হয়নি তো আবার?
এই ভেবে মনে ভয় শঙ্কা নিয়ে আকাশকে কল করে।প্রথম বার দিলেও ধরে পর পর তিন বার দিয়ে ধরে।
‘হ্যাঁ বল?এতোক্ষণে ধরলি তাহলে।
“জানিস তো চজকে মিটিং ছিলো কিন্তু এতোবার কল দিয়েছিস কারো কিছু হয়েছে?
‘মহা ঝামেলা হয়েছে আমি এখন সিটি হসপিটালে আছি তুই তাড়াতাড়ি আয় এখন এতো কিছু বলার সময় নেই।
” বাসার কারো কিছু হয়েছে বা তোর কিছু হয়েছে?
‘আমার কিছু হয়নি তোর বাসায় কিছু হয়নু তুই আয়। ( পাশে কান্নাকাটির জন্য কথাটুকু শুনতে পায় না।
“রিশাদের মনে শঙ্কা বাড়তে থাকে অস্থির হয়ে পড়ে এই ভেবে বাসায় কারো কিছু হয়েছে হয়তো।
রিশাদ তাড়াতাড়ি করে রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে আসে গাড়ি বসে। পিছনে সুইটি দৌড়ে আসে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে এতো তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন আমাকে রেখে আমি কিন্তু একা যেতে পারবো না এই রোদে এসি ছাড়া গাড়িতে যাওয়া সম্ভব নয়।
এই মূহুর্তে সুইটির নেকামো কথায় রাগ ওঠলেও কিছু বলতে পারছে না কারণ ওর কাছে সময় নেই। সুইটির হাতে পাঁচশত টাকা দিয়ে বললো এটা দিয়ে বাসায় যাও আমার কাজ আছে নয়তো নেকামোর জবাব দিবাত বলে গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
সুইটি ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতলটাকে লাথি মারে কিন্তু বোতলে না লেগে তার ওায়ে আঘাত পায়।
‘এই ব্যথার হিসেব ও খুব শিগগিরই নিবো রিশাদ মির্জা নয়তো এই সুইটি তোমার পিছনে পড়ে থাকার মেয়ে না বলে মুখে শয়তানি হাঁসি দেয়।
রিশাদ সুটি হসপিটালে এসে পৌছাতে তাড়াতাড়ি করে নেমে ভিতরে যায় সেখানে গিয়ে আকাশকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করে কার কি হয়েছে বাসার সবাই ঠিক আছে তো?
‘এতো অস্থির হয়ে আছিস কেন? ফোনে তো বললাম বাসার কারো কিছু হয়নি।
” এ কথা শুনে রিশাদ একটু সস্থির নিশ্বাস নেয়।
তাহলে কার কি হয়েছে?
‘আমাদের পশ্চিম পাড়ার বেল্লাল চাচা আছে না?উনার ছেলে বাবলু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ডাক্টরের কাছে আনলে জানতে পারি ওর শরীরে ড্রাগসের প্রভাব ফেলছে।
” বাবলু এখন ঠিক আছে? এতো ছোট আয়সে ড্রাগসের নেশায় পড়লো কিভাবে? যে সবে মাত্র ক্লাস টেনে পড়ে সে এই ড্রাগস পেল কোথাই?
‘অবস্থা তেমন ভালো না। বাবলুর এক সহপাঠির থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে নাকি প্রায় চেয়ারম্যানের লোক খোরশেদের সাথে চৌধুরী গোডাউনের দিকে যেতে দেখেছে।
” গোডাউনে তো বন্ধ থাকে তাহলে ওদিকে যায় কেন?
কিছু ভাবতেই রিশাদের অঙ্ক মিলে যায় আকাশকে বলে তুই কিছু বুঝতে পারছিস?
‘বুঝতে পেরেছি কিন্তু মিজানুর চৌধুরী মনে হয় এসবের কিছু জানেন না সব কিছু দেখা শুনা তো খোরশেদ করে।
“উনি নিজেও বুঝতে পারেন না কাছের মানুষ সেজে কত ক্ষতি করছেন তবে আমার একটু চৌধুরী বাড়িতে যাওয়া দরকার তার আগে ওই গোডাউনে যেতে হবে সাথে পুলিশ কে নিতে হবে। তুই যাবি নাকি এখানে থাকবি?
তুই বরং থাক আমি একাই যাই বলে রিশাদ বাহির হয়ে গেল।
রিশাদের এক পরিচিত বন্ধু ছিলো সুহেল যে পুলিশে চাকরি করে তাকে ফোন দেয়। আসতে বলে মিজানুর চৌধুরীর বন্ধ গোডাউনে। দশমিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছায় কিন্তু গেটে তালা লাগানো আমরা ভিতরে যাবো কিভাবে?
রিশাদ আশে পাশে তাকিয়ে একটা ইট পায় সেটা দিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে যায় দুজনে গিয়ে দেখে পুরো অন্ধকার ফোনের লাইট অন করে চারদিক খুঁজে ড্রামের ভিতরে ছোট এক বাক্সে পায় অনেক গুলো ড্রাগস।
সুহেল সেগুলো হাতে নেয়।
‘মিজানুর চৌধুরীকে তো ভালো মনে করতাম তিনি চেয়ারম্যান হলেও সমাজ নষ্ট করতে ড্রাগসের ব্যবসা করনে এটা কল্পনাতীত ছিলো।
” মিজানুর চৌধুরী এসব হয়তো জানেন না সব কিছু উনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে করছে খোরশেদ সাথে আরো কেউ আছে।
‘এখন কি করবো?
“এসব নিয়ে মিজানুর চৌধুরীর বাড়ি যাবো উনার সাথে কথা বলি আগে।
মিজানুর চৌধুরী বিকেলে ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন পাশে বসে আছে রুহি তখন কলিং বেল বাজে রুজিনা বেগম রান্না ঘর থেকে রুহিকে চিল্লিয়ে বলে দরজা খুলে দিতে। রুহি সবে কার্টুন দেখতে বসেছিলো এখন দরজা খুলতে বলায় বিরক্ত হয়।
মিজানুর চৌধুরী বলেন একটু তো কে আসলো দেখে আবার দেখিস।
রুহি বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলে দেয় সামনে রিশাদ কে দেখে চমকে ওঠে সাথে অবাক হয়। মনে মনে ভাবে উনি তো আমাদের বাড়িতে আসার নয় তাহলো আসলো কেন?আর পাশে উনি বা কে?
সুহেল রুহিকে বলে,
‘ম্যাম আপনার বাবা আছে? থাকলে একটু কথা ছিলো আমরা কি ভিতরে যেতে পারি?
মিজানুর চৌধুরী রুহিকে বলেন,
কে এসেছে?
রুহি ভয়ে রিশাদের নাম নিতে পারছে না উনি এসেছেন মানে কোনো ঝামেলা আছে আব্বুর সাথে।
” আব্বু তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে কি জানো কথা আছে।
ভিতরে আসতে বল।
রুহি দরজা ছেড়ে দাঁড়ায় রিশাদ এক পলক তাকিয়েছিলো তার পর বাসার ভিতরে যায়।
মিজানুর চৌধুরী সুহেল কে চিনেন এখানকার পুলিশ অফিসার কিন্তু তার পাশে রিশাদকে দেখে চোখ মুখের পরিবর্তন দেখা দেয়।
‘তুমি এখানে আমার বাড়িতে কেন?আবার কি গন্ডগোল করতে এসেছো?
“আরে চেয়ারম্যান সাহেব আগে বসতে বলুন শত্রুর ছেলে বলে কি বসতে বলবেন না?মানুষ তো তার শত্রুকে ও আপ্যায়ন করায় আর তাছাড়া আমি গন্ডগোল করতে আসিনি।এসেছি একটা কথা বলতে।
সুহেলের দিকে তাকিয়ে বলে বলো সব।
সুহেল সব খুলে বলে গোডাউনে পাওয়া সব ড্রগস গুলো দেখায়।
মিজানুর চৌধুরীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
‘বিশ্বাস করেন আমি এসবের কিছু জানিনা। কে করছে এসব তাও জানিনা।
‘আপনার গেডাউন আপনি বা আপনার লোকরা ছাড়া কে করবে?তাছাড়া ছেলেটার অবস্থা ভালো না কিছু হলে আপনাকে থানায় নিয়ে যেতে পারি।
‘পুলিশ অফিসার আমি কিছু জানিনা নিশ্চয়ই আমাকে কেউ ফাঁসাতে চায়। আমার শত্রুর তো অভাব নেই কথাটা বলার সময় রিশাদের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন।
” চেয়ারম্যান সাহেব আপনি কি আমাকে বুঝাতে চাচ্ছেন তাহলে বলবো ভুল ভাবছেন আমি আর যাই করি মানুষের ক্ষতি করবো এমন শিক্ষা আমার বাবা মা দেয়নি।
আপনার শত্রু আশে পাশে থাকে কিন্তু আপনি চিনতে পারেন না।
মিজানুর চৌধুরী বলে,
আমার পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় শত্রু তুমি আর তোমার বাবা আর কেউ না।
“আপনার বিশ্বস্ত লোক খোরশেদ কে একটু নজরে রাখিয়েন কে কখন পিছন থেকে ছুরি মারে কে বলতে পারে।
রুহি পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছে কিন্তু কিছু বুঝতে পারছে না।
মিজানুর চৌধুরী বলে,
সবাই তোমাদের মতো হয়না।
“সবচেয়ে বড় শত্রু কে সেটা পরে জানা যাবে তার আগে একটা কথা বলে নেই। ছেলেটার কিছু হলে আপনার গোডাউনে আগুন জ্বলবে। একথা বলে রিশাদ বেরিয়ে যায় সাথে সুহেল ও যায়।
এ কথা শুনে মিজানুর চৌধুরী ক্ষিপ্ত হয়ে যায় আবারো বেয়াদব ছেলে বলে আক্ষায়িত করে।
রুহি তখন থেকে সব কিছু শুনলো যা বুঝতে পারলো বড় কোনো ঝামেলা হতে চলছে রিশাদ আর যাই করুক কারো ক্ষতি করবে না আর আব্বুও ড্রাগসের বিষয়ে জড়িত নেই একটুকু বিশ্বাস আছে তাহলে এসব করছে কে?
আব্বুকে এই মিথ্যে দায় থেকে বাঁচাতে হবে।ভাইয়ার সাথে কথা বলে উনার সাথে কথা বলতে হবে আর বাহির করতে হবে কে সে?
চলবে………………?
#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৩
রাত প্রায় একটা বাজে মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছে চারদিক নিস্তব্ধতা ভর করে আছে। রাতের অন্ধকারে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে চেয়ারম্যানের গোডাউনে আগুন জ্বলার কারণে আশপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে পোড়া গন্ধে আশে পাশের মানুষ জেগে যায়।আগুন লাগানোর খবর পৌঁছে যায় মিজানুর চৌধুরীর কাছে তক্ষনাৎ রোহানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রুহি আসতে চাইলেও রাতের জন্য নিয়ে আসেনি কিছু সময়ের মধ্যে এসে উপস্থিত হয় গোডাউনের কাছে এসে দেখে আগুন জ্বলছে।পানি দিয়ে এতো আগুন নেভানো সম্ভব নয়। রোহান ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে আসতে বলে ২০ মিনিটের মধ্যে তারা এসে আগুন নেভায়। চেয়ারম্যান ক্ষান্ত হয় আর ভাবে ভাগ্যিস গোডাউনটার আশে পাশে কোনো বাড়ি নেই নয়তো পুড়ে যেত শত ঘরবাড়ি।
খোরশেদ মিজানুর চৌধুরীর পাশে এসে দাঁড়ায়, মিজানুর চৌধুরী কে বলে,
‘-গোডাউনে আগুন লাগলো কিভাবো বুঝতে পারছি না কে করতে পারে এই কাজ?
রোহান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে,
‘ আপনাকে আব্বু সন্ধ্যায় বাসায় আসতে বলেছিলো আসেননি কেন? আপনার উপর সব দায়িত্ব ছিলো এখনের চাবি আপনার কাছে ছিলো তাহলে……..
রোহান ও খোরশেদ কে,
মিজানুর চৌধুরী হাত নাড়িয়ে থামতে বলে চোখের ইশারায় বোঝায় আশেপাশে অনেক মানুষ আছে।
“আমি যা ভাবার এবং যা বোঝার বুঝেছি। আজকে অনেক রাত হয়েছে এসব নিয়ে কালকে সকালে কথা হবে। আর শোন খোরশেদ তুমি কালকে সকালে আমার সাথে দেখা করবে বাসায় আসবে কিছু বোঝাপড়া আছে।
মিজানুর চৌধুরী আর রোহান ওখান থেকে চলে আসে তখনি খোরশেদ কাউকে কল দেয়।
” হ্যাঁ বলো ওদিকের কি খবর?
‘খবর ভালো সব কিছু তোমার প্ল্যান মাফিক চলছে শুধু একটু টেনশন হচ্ছে কালকে চেয়ারম্যান যেতে বলেছে গোডাউনে ড্রাগস কোথা থেকে এলো জিজ্ঞেস করলে কি বলবো?
“আমি যে-রকম বলবো ঠিক সেরকম করবে আজকে আগুন লাগার দোষ গিয়ে পড়বে রিশাদ মির্জার উপর তুমি শুধু আমার কথা গুলো ভালো ভাবে চেয়ারম্যানের মাথায় ঢুকিয়ে দিবে।
‘ওকে যে না হয় করবো কিন্তু রোহান কে নিয়ে একটু চিন্তা বেটার রক্ত গরম একটু আগে তেজ দেখাচ্ছিলো।
” চিন্তা করো না আমার কথা মতো কাজ করো চেয়ারম্যানের মাথায় বুদ্ধি কম যা বলবে তাই বুঝবে রোহানকে কথায় মাঝে রেখো না বলে কল কেটে দেয় আগন্তকের মুখে হাঁসি রেখা বলে ওঠে,
“চৌধুরী আর মির্জা পরিবারের শত্রুতা আরো বাড়বে
এতে লাভ হবে আমার রাজকন্যা পাবো সাথে পাবো রাজত্ব রিশাদ মির্জার চেপ্টার ক্লোজ করে দিবো খুব শিগগিরই আসছি আমি।
রাতের আঁধার কাটিয়ে দিনের আলো ফোঁটে সকাল হয়।
রিশাদ ঘুম থেকে ওঠতে আকদশের ফোন আসে খবর পায় চেয়ারম্যানের গোডাউনে কেউ আগুন লাগিয়েছিলো পুরো গোডাউন পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। সাথে লোক মুখে শোনা যাচ্ছে চেয়ারম্যান নাকি তোদের সন্দেহ করছে।
রিশাদের কপালে চিন্তার ছাপ সে আকাশকে জিজ্ঞেস করে,
” সারেজুল চাচার ছেলে এখন কেমন আছে?
‘এখন কিছুটা সুস্থ আছে।
“আচ্ছা ঠিক আছে আমি একটু পর বেরোচ্ছি তুই স্কুল মাঠে আয়।
সকাল সকাল মিজানুর চৌধুরী বাড়ি এসে উপস্থিত হয় খোরশেদ।
মিজানুর চৌধুরী বসতে বলেন তার পর জিজ্ঞেস করেন,
” গোডাউনে ড্রাগস এলো কিভাবে?
মোরশেদ উওর দেয়,
“আমি এসব ব্যাপারে কিছু জানিনা আমি তো গোডাউনে যাইনা।
রোহান আজকে আবারো ক্ষিপ্ত সরে বলে,
” আপনি না জানলে কে জানবে?গোডাউনের চাবি শুধু মাত্র বাসায় আর আপনার কাছে আছে। আমরা গোডাউনে ড্রাগস রেখে আসিনি নিশ্চয়ই।
খোরশেদ ভয় পেলেও সাহস আনে রাতের প্ল্যান অনুযায়ী কথা গুলো বলতে থাকে,
“চেয়ারম্যান সাহেব আপনি তো আমায় বিশ্বাস করেন আর সেদিন বলললাম না যে গোডাউনে চাবিটা হারিয়ে গেছে আর একটা চাবি নিয়ে গেলাম।
মিজানুর চৌধুরী মাথা নাড়ায় রোহান জিজ্ঞেস করে তাহলে এসব করলো কে?আমাদের ক্ষতি করে কার লাভ?
মিজানুর চৌধুরী ওঠে দাঁড়ায় রোহানের দিকে তাকিয়ে বলে আমি জানি কে করেছে এসব।
রোহান জিগাসু দৃষ্টিতে বাবার দিকে চায়। জিজ্ঞেস করে কে সে?
” আমাদের ক্ষতি একমাত্র মির্জা পরিবার চায় রশিদ মির্জা ও তার বেয়াদব ছেলে রিশাদ। সে আমাকে কালকে রাতে হুমকি দিয়ে গেছিলো ছেলেটার কিছু হলে গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দিবে। তাহলে বুঝতে পারছো ওই করেছে এসব।
রোহান থমকায় সাথে রুহি অবাক চোখে চায় অতপর রাতে রিশাদের বলা কথা গুলো মনে পড়ে সত্যি তো এমন বলেছিলো।
রোহান রুহির কাছে আসে জিজ্ঞেস করে,
“কালকে তো বললি ষড়যন্ত্র চলছে কিন্তু রিশাদ গোডাউনে আগুন দিতে চেয়েছে এটা কি সত্যি?
রুহি মাথা নাড়ায় যার অর্থ সত্যি রোহান বিশ্বাস করতে না চাইলে বিশ্বাস করতে হয় মুখে বলে রিশাদ এমনটা করতে পারলো?
রুহি বলে,
‘ভাইয়া হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে অন্য কেউ এসব করতে পারে।
” আব্বুর সাথে রিশাদের শত্রুতা ওর সাথে মিলে না ও ছাড়া আর কাউকে দেখছিনা তবুও বিশ্বাস করতাম না কিন্তু রিশাদ কালকে নিজে বলেছে আগুন জ্বালিয়ে দিবে তাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি।
রিশাদ আকাশ ও আরো কয়েকজন ছেলে স্কুল মাঠে উপস্থিত হয় তখনি ফোন আসে সুহেলের ফোন ধরতে বলে,
“রিশাদ কোথাও আছো চৌধুরী বাড়িতে আসো তো একটু দরকার আছে গোডাউনে আগুন লাগার বিষয়ে উনার বক্তব্য শুনতে চাই তবে উনি ফোনে তোমাকে সন্দেহ করে বলেছেন এজন্য একটু ঝামেলা হতে পারে।
‘ঠিক আছে আমি দশ মিনিটে আসছি আপনি অপেক্ষা করুন।
চৌধুরী বাড়ির বাগানে দাঁড়িয়ে আছে মিজানুর চৌধুরী
সাথে আছে উনার লোকজন ও কয়েকজন পুলিশ ।
দশমিনিটের মধ্যে রিশাদ ও আকাশ উপস্থিত হয়।
পুলিশ রিশাদ কে বলে,
” চেয়ারম্যান সাহেবের বক্তব্য তুমি উনার গোডাউনে আগুন লাগিয়েছো এটা কি সত্যি?
রিশাদের শক্ত জবাব আমি আগুন লাগাইনি ইনফ্যান্ট আমি আগুন লাগার বিষয়ে জানতাম না সকালে আকাশ ফোন করে বললো তার পর জানলাম।
মিজানুর চৌধুরী রেগে যান রিশাদের শার্টের কলার ধরে বলে,
শত্রুর ছেলে তুই ছাড়া কে করবে?তুই তো কালকে বলছিলি আগুন লাগিয়ে দিবি এখন মিথ্যা বলছিস।
রিশাদের কলার ছাড়াতে পুলিশরা ওদের কাছে যায়।
রুহি এতক্ষন বেলকুনি থেকে দেখলেও অবস্থা খারাপ দেখে দৌড় নিচে নামতে আসে। রোহান এগিয়ে যায় কলার ছাড়াতে মিজানুর চৌধুরী শক্ত হাতে কলার ধরে আছে রিশাদ হাত লাগায়নি কিন্তু যখনি হাত দিয়ে কলার ছাড়াতে যাবে তার আগে কেউ পিছন থেকে ধ্বাক্কা মারে মাটিতে পড়ে যায় মিজানুর চৌধুরী সেই সময় আসে রুহি দেখতে পায় বাবা পড়ে আছে দৌড়ে এসে বাবাকে তোলে
সবাই মনে করে রিশাদের ধ্বাক্কাতে পড়ে গেছে। রোহান রেগে গিয়ে রিশাদের কলার ধরে বলে,
“তুই এতোটা খারাপ জানতাম না আব্বু সাথে তোর শত্রুতা থাকতে পারে তাই বলে বাবার বয়সি মানুষ কে ধ্বকা দিয়ে ফেলে দিবি?
আকাশ এসে রোহানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
মিজানুর চৌধুরী কে বাসার ভিতরে নিয়ে যায়। রুহির চোখে ছিলো পানি সাথে ছিলো ঘৃণা যাওয়ার আগে একটা কথা বলে গেছে,
” আপনি এতোটা খারাপ জানতাম না কত বিশ্বাস করতাম আপনাকে ভাবতাম আর যাই করেন মানুষ কে সম্মান করতে জানেন মানুষের ক্ষতি করতে জানেন না কিন্তু আজকে সব ভুল প্রমানিত হলো।
আপনি আমার বাবাকে ধ্বাকা দিয়েছেন তার শাস্তি পাবেন। এতোদিন ভালোবাসতাম আজকে থেকে আপনার জন্য থাকবে শুধু ঘৃণা।
কথা গুলো বলে কান্না করতে করতে দৌঁড়ে চলে গেল বাসায়।
রিশাদ এখনো নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আকাশ এসে কাঁধে হাত রাখে।
“তুই উনাকে ধ্বাকা দেসনি এটা বললি না কেন?
‘বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না কারণ সবাই দেখেছে ধ্বাক্কা দিয়েছি কিন্তু আমি না আমার পিছন থেকে কেউ দিয়েছে সেটা কেউ দেখেনি তাই চুপ ছিলাম।
” রুহি যে ভুল বুঝলো দূরে সরে যাবে ভালোবাসার বদলে ঘৃণা করবে।
‘ঘৃণা করতে দে সময় আসুক সব ঘৃণা মুছে যাবে।
বড় খেলা চলছে আর পিছন থেকে চাল চালছে অন্য কেউ সেটা খুঁজে বাহির করতে হবে।
চলবে…………..?