তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-২৪+২৫

0
267

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২৪

রোহান রুমে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত রাফিয়ার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর মনে হলো, রাফিয়ার চোখের সেই অভিমান আর কষ্ট ওর হৃদয়কে টুকরো করে দিচ্ছে। কিন্তু এই কষ্টগুলো মিটিয়ে তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাফিয়া নিচে এসে রুহির রান্না শেষ হয়নি দেখে তাগদা দিয়ে বললো তাড়াতাড়ি করো সময় কম।

“তুই গিয়ে কাজ শুরু কর আমি আসছি।

রাফিয়া একা ছাঁদে চলে যায় মনের মধ্যে তার অস্থিরতা এক বাড়িতে ভালোবাসার মানুষটা সে ভুল বুঝতে পেরেছে কি করবো?
না উনি আমায় কষ্ট দিয়েছেন।
কিন্তু যতই রাগ অভিমান করে থাকি উনাকে ছাড়া থাকাটাও অসম্ভব।
এমন শতশত প্রশ্ন তার মনে কিন্তু এসব বাদ দিয়ে নিজের কাজে চলে যায়।

রোহান নিচে নেমে এলো, রুহি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে তাকে দেখতে পেয়ে বলল,
“ভাইয়া, কী হলো? এত গম্ভীর মুখ কেন?”

রোহান নিজের ভাবনায় আটকে থাকা গলা সরিয়ে বলল,
“কিছু না, একটু মাথা ধরেছে। তোর কাছে পেইন কিলার আছে?”

রুহি চিন্তিতভাবে বলল,
“নাহ, আছে মনে হয় না। কিন্তু মাথা ধরে কেন? ঠিক আছো তো?”

রোহান হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“আমি ঠিক আছি আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করতে হবে না আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী সব করতে হবে সময় নেই রান্না হয়েছে তো?ছাঁদে যেতে হবে কিন্তু।

রুহি বুঝতে পারছে রোহানের কোনো একটা টেনশন আছে, কিন্তু সে কিছু বলল না। তাড়াহুড়ো রান্না ঘরে যেতে যেতে বললো,

-হয়ে আসছে আর দু মিনিট রাফিয়া গেছে তুমি যাও আমিও আসছি।

রোহান ছাঁদে গিয়ে চুপচাপ বসে রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। রাফিয়া ছাঁদের উপরে ছোট ঘরটা সাজানোর জন্য বেলুন ফলাচ্ছে মৃদু বাতাসে চারপাশের নিস্তব্ধতাকে অনুভব করতে করতে ওর মনে হলো,
“জীবনে আমি রাফিয়ার মতো মেয়েকে পেয়েছিলাম কিন্তু নিজের ভুলের কারণে আজ ও এত দূরে চলে যাচ্ছে। রুহি যদি রিশাদের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে দিতে পারে, তাহলে কেন আমি পারব না?এসব ভেবে রোহান ওঠে রাফিয়ার পাশে বসে ওর মন গলাতে ওর সাথে বেলুন ফোলাচ্ছে ফুল দিয়ে সাজাতে সাহায্য করেছে রাফিয়া সব কিছু দেখে যাচ্ছে কিছু বলছে না।
ফুল দিয়ে সাজানোর সময় ফুল টেপ দিয়ে আটকে দিয়ে সেটা কাটার জন্য ছুরি হাতে অন্যমনষ্ক হয়ে কাটতে গিয়ে হাতে লেগে হাত কেটে যায় রাফিয়া চিল্লায়ে ওঠে রোহান তখনি দেখে রাফিয়ার হাত কেটে গেছে তাড়াহুড়ো করে হাতটা মুখে পুরে নেয় চোখে মুখে আহাজারি মনে হচ্ছে ব্যথা ওর নিজের লেগেছে আর কত কি হয়েছে তখন ও রাফিয়া নিশ্চুপ হয়ে দেখে আছে রোহান উপরে তাকাতে দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায় রুহি ছাঁদে আসতে আসতে বলে হয়েছে তোদের?

রুহির কন্ঠ শুনে দুজন সরে যায় রাফিয়া বলে,

“হ্যাঁ কাজ কম্পিট শুধু তোর কাজ বাকি চল এবার।
রাফিয়া রুহিকে নিয়ে রুমে যায় সুন্দর একটা কালো রঙের জামদানী শাড়ি পরিয়ে হাল্কা সাজিয়ে দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে,

” ইসস!তোকে পরী লাগছে রে আমার ভাই দেখলে নির্ঘাত ফিদা হয়ে যাবে।

রুহি লাজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিঃশব্দে হাঁসে দেখে রাফিয়া একটু ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,

“এতো লজ্জা পেতে হবে না ভাইয়া হয়তো এসে পড়বে তুই ছাঁদের রুমে গিয়ে বসে থাক ভাইয়া আসলে পাঠিয়ে দিবো।
রাফিয়ার কথা মতো সব হচ্ছে রুহি চলে যায় ছাঁদে রোহান আছে কারণ রুহি একা ভয় পায় তাই প্রাণের ভাই সাথে আছে রিশাদ গেলে চলে আসবে।

রাফিয়া নিচে অপেক্ষা করছে রিশাদের জন্য বসে থাকতে থাকতে কলিং বেল বাজে রাফিয়া তড়িৎ গতিতে ওঠে দরজা খুলে দেয়। রিশাদ রাফিয়াকে দরজা খুলতে দেখে আবাক হয় ও ভেবেছিলো অভিমান ভাঙানোর চেষ্টায় নিজে দরজা খুলে দিবে কান্ততার জন্য ঠান্ডা পানি এনে সামনে ধরবে।

রিশাদ ভিতরে আসে আশে পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রুহিকে দেখতে পায় না রাফিয়া জিজ্ঞেস করে,

” কি খুঁজছো ভাইয়া?রুহিকে?

রিশাদ গুমোট মুখ করে বলে,

“না এমনি দেখতে পাচ্ছি না তাই।

‘ওহ আচ্ছা কিন্তু রুহি তো ছাঁদে মন খারাপ করে বসে আছে।

” কেন?

‘তোমার জন্য নাকি মন খারাপ ওতো কিছু বলছে না তুমি গিয়ে শুনো।

রিশাদ উপরে ওঠে নিজের রুমে যায় অফিসের ব্যাগটা রেখে ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাহির হয় রুমে রুহি আসেনি দেখে ছাঁদে পা বাড়ায় সেখানে গিয়ে রোহানকে দেখতে পায় কিন্তু পুরো ছাঁদে কোথাও রুহি নেই তাই রোহানকে জিজ্ঞেস করে,

“তোর বোন কই?

রোহান একটু মজা করে বলে,

-আশে পাশে খুঁজিয়া দেখো আপনার বেগমকে অন্ধকার হতে ফিরিয়ে আনো।

রোহানের মাশকারা কথা শুনে ভ্রু কুচকে তাকায় ওর কাঁধে একটা ঘুসি দিয়ে বলে,

” তোর হেয়ালি বন্ধ করে বল কোথায়?

-আচ্ছা বলছি তার আগে চোখ বন্ধ করতে হবে।

“আবার?

রোহান এক হাত দিয়ে রিশাদের চোখ ধরে ছাঁদে রুমের দরজা খুলে রিশাদকে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে আসে।

রিশাদ চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার রুমে মিটিমিটি মোমবাতি জ্বলছে ঘরের ছোট্ট বেডটা ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজানো সব মিলিয়ে রুমটা অনেক সুন্দর লাগছে। রিশাদ পুরো রুম দেখতে দেখতে শেষে চোখ পড়ে রুমের কোনার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা শাড়ি পরিহিত এক অপূর্ব সুন্দরী রমনি হ্যাঁ এটা আর কেউ নয় তারই প্রিয়শী যার দিক থেকে চোখ সরানো যাচ্ছে না অসম্ভব সুন্দর লাগছে কালো শাড়ি পরিহিত নিজের স্ত্রী কে যে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে হাতে তার রঙিন মোমবাতি জ্বলছে এতে আরো সুন্দর লাগছে।

রঙিন মোমবাতির অগ্নিশিখা, সৌন্দর্য বাড়িয়ে করছে অতুলনীয়,
যে সৌন্দর্য করছে প্রিয় পুরুষের মন উতালপাতালনীয়।

রুহি রিশাদের সামনে এসে দাঁড়ায় রিশাদ এখনো মুগ্ধ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
রুহি হাতে থাকা মোমবাতিটা পাশে রেখে রিশাদের চোখে চোখ রেখে বলে,

“এই দেখতে পাচ্ছেন জ্বলন্ত মোমবাতি এটার মতো আমাদের ভালোবাসা সব সময় উজ্জল হয়ে আলো দিবে আমাদের পথ ভুল হলে পথ দেখাবে যতক্ষণ পর্যন্ত মোমবাতির মোম গলে না ফুরিয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত আলো দিতে থাকবে তেমনি আমি শেষ হওয়া না পর্যন্ত আমাদের ভালোবাসা শেষ হতে দিবো না। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আমি আপনার কাছে ফিরতে চাই।আপনার সানিধ্যে থাকতে চাই আজীবন। আপনি কি আমায় ভুল ক্ষমা করে নিজের কাছে আগলে নিবেন?

রিশাদ চুপ করে আছে আর রুহি চাতক পাখির মতো উত্তরের অপেক্ষা করছে।
অবশেষে রিশাদ নিরবতা ভেঙে হুট করে রুহি জড়িয়ে ধরে বলে,

” তুই আমার জীবন তুই আমার মরণ। এই মোমবাতির মতো আমার ভালোবাসা সেদিন শেষ হবে যেদিন আমি শেষ হয়ে যাবো।
আমি তোকে তোর চেয়ে বেশি ভালোবাসি তুই আমায় ছাড়তে চাইলেও ছাড়তে দিবো না সে যতই ভুল বোঝাবুঝি হোক তবে তোর সেদিনের কথায় একটু কষ্ট পেয়েছিলাম তার পর ভাবলাম অবুঝ ভুল বুঝে এসব বলেছে এসব বলে নিজেকে শান্তনা দিয়েছিলাম।
এর আজকে সকালে একটু হার্ট করে কথা বলার জন্য সরি আসলে আমি তোকে এটা বুঝাতে ওইরকম বলেছিলাম যে ভালোবাসার মানুষের অবহেলিত কথ্য কেমন কষ্টদায়ক।

-আপনি আমায় মাফ করে দিয়েছেন সত্যি?

রিশাদ রুহিকে ছেড়ে দেয় তার পর রুহির গালে হাত দিয়ে হাঁসি মুখে হ্যা বলে রুহি খুঁশিতে হাঁসে সাথে কান্না করে দেয়।
রিশাদ মাথা নাড়িয়ে কাঁদতে না করে চোখের পানি মুছে দেয় নিজের সুক্ষ ঠোঁট ছোয়ায় রুহির কপালে রিশাদের ছোয়ায় রুহি আবারে জড়িয়ে ধরে সামনে থাকা ব্যাক্তিকে রিশাদ ওর মাথা উঁচু করে বলে,

“চেয়েছিলি আমার সান্নিধ্য তা কি গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে তোমার অনুমতি আছে?

-রুহি লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয় রিশাদ নিঃশব্দে হাঁসে
অতঃপর রুহি আগলে নেয় নিজের সানিধ্যে যার অর্থ দুজন একে অপরের ভালোবাসার সাগরে ভেসে যায়।

ওই সময় ছাঁদ থেকে নেমে রোহান নিচে এসে একা বসে আছে রাফিয়া নিজের রুমে আছে । রোহানের চোখে একটা দৃঢ় সংকল্প। সে অনেক ভেবে রাফিয়ার রুমের সামনে এসে দরজায় টোকা দিল।

রাফিয়া দরজা খুলে বলল,
“এখন আবার কী চাই?”

রোহান কোনো কথা না বলে একটা ছোট্ট বক্স তার সামনে ধরে বলল,
“এটা তোমার জন্য।”

রাফিয়া বক্সটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিতে রাজি হয় না বন্ধ করে দিতে চাইলো দরজা কিন্তু রোহান তার আগে ওর রুমে ঢুকে পড়লো।

‘আপনি আমার রুমে ঢুকলেন কেন?আপনাক যা বলার বলে দিয়েছি তার পর ও বেহায়ার মতো আসছেন?

রোহান মুচকি হেসে বলে,

-ভালোবাসায় একটু আধটু বেহায়া হতে হয়, র্নিলজ্জ হতে হয় নিজের ভালোবাসাকে নিজের করার জন্য লড়াই করতে হয়।

‘ফিল্মি ডাইলোগ বাদ দিয়ে চলে যান রাত হয়েছে বাড়ি যাবেন না?

-থাকতে আসিনি যাবো তো বটেই তবে এর পর যেদিন আসবো জামাই হয়ে আসবো আর থাকবো।
এবার বক্সটা নেও তার পর আমাকে ক্ষমা করে ভালোবাসি বলো তার পর যাবো।
তোমায় ছাড়া আমার সবকিছু আউল বাউল লাগে কোনো কাজে মন বসেনা ভয় লাগে তুমি যদি হারিয়ে যাও ফিরে না আসো তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো।

রোহানের কথায় রাফিয়া তাড়াতাড়ি বক্সটা হাতে নেয় তার পর বক্সটা খুলে অবাক হয় । তার মধ্যে ছিল একটা সুন্দর ব্রেসলেট। ব্রেসলেটের সঙ্গে একটা ছোট্ট কার্ডে লেখা ছিল,
“তুমি না থাকলে আমি অসম্পূর্ণ। মায়াবিনী, আমাকে আর দূরে রেখো না।”

রাফিয়া কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু রোহান তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আর একটাও সুযোগ দাও, আর কখনো তোমায় কষ্ট দেব না। এই ভুল বোঝাবুঝির গল্প এখানেই শেষ হোক। কী বলো?”

রাফিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হালকা হাঁসি দিয়ে বলল,
“আপনার আমার ভুল বুঝাবুঝির এই গল্পটা শেষ করে আমাদের ভালোবাসার গল্প আবার শুরু হবে নতুন করে আপনি কি রাজি?

রোহান হাঁসি মুখে কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে মাথা ঝাকায় নিজের আলিঙ্গনে নেয় মায়াবিনীকে চোখে মুখে অফুরন্ত উৎস ভালোবাসাকে মানিয়ে নিতে পারার আনন্দ।

রোহানের মন থেকে তখন একটা কথা প্রকাশ পাচ্ছিলো,

-মায়াবিনীর আলিঙ্গন মুছে দিতে পারে সব যন্ত্রণা।

ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেলে, যখন দুইজন একে অপরকে কাছে পায়, তখন অনুভূতি যেন এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি হয়। আলিঙ্গনের মাঝে সমস্ত ক্ষোভ, দুঃখ আর দূরত্ব মিলিয়ে যায়, এবং একে অপরের মধ্যে শুধুমাত্র ভালোবাসা আর সহানুভূতির অনুরণন শোনা যায়। সেই মুহূর্তে, পৃথিবীটা যেন থেমে যায়, এবং শুধুমাত্র দুজনের অস্তিত্বে পৃথিবী পূর্ণ হয়।

চলবে…………?

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২৫

ভোরের আলো আকাশে ছড়িয়ে পড়লে নতুন দিনের সূচনা যেন একটি নতুন আশা নিয়ে আসে। সূর্য যখন ধীরে ধীরে আকাশে ওঠে, তার সোনালী রশ্মি পৃথিবীকে আলোকিত করে। সকাল বেলার স্নিগ্ধতা এক অদ্ভুত শান্তি অনুভূতি সৃষ্টি করে, যেমন সকালের ঠাণ্ডা হাওয়া মৃদু স্পর্শে গাছের পাতাগুলিকে নাচায়, আর পাখিরা আনন্দিত গানে দিনটির আগমনী বার্তা দেয়। চারপাশে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা থাকে, যেন প্রকৃতি নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত। সকালের তাজা পরিবেশ এক শান্তি ও সতেজতার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা মানুষের মনকে আনন্দিত করে।

সকাল ছয়টার দিকে রুহির ঘুম ভাঙে বুঝতে পারে ওকে কেউ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে চোখ খুলে মাথা ঘুরাতেই স্বামী নামক প্রিয় মানুষটার স্নিগ্ধ মুখ খানা দেখতে পায় মনে মনে আওড়ায় কি সুন্দর! আপনি এতো সুন্দর কেন হয়েছেন বলেন তো?

রিশাদ হুট করে চোখ খুলে রুহির প্রশ্নের উত্তর দেয়,

“কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই তোমার আমাকে বেশি সুন্দর লাগে। ভালোবাসার মানুষ কালো হোক না সুন্দর হোক তা শুধু চামড়ার সৌন্দর্য দিয়ে হয় না মনের চোখ দিয়ে দেখলে সবার তার প্রিয় মানুষ সুন্দর লাগে যেমন তোমাকে আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মনে হয়।

রুহি মুগ্ধ হয়ে রিশাদের কথা শুনছিলো সাথে লজ্জা পেল হয়তো ঠিকই বলেছেন ভালোবাসার মানুষের কাছে সুন্দরের ডেফিনিশন এইরকম।

রোহান রাতে বাসায় চলে গেছে রাফিয়া কালকের কথা ভেবে মনে মনে হাঁসছে তখনি রুহি ওর রুমে এসে জিজ্ঞেস করে,

” কি রে একা একা হাঁসছিস কেন?

রাফিয়া তাড়াতাড়ি হাঁসি বন্ধ করে বলে,

-ক কই হাঁসছিনা তো এমনি আর কি।

রাফিয়ার তোতলানো কথা শুনে রুহি ভ্রু কুচকে তাকায় ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রাফিয়া বলে,

-তোর আর ভাইয়ার মান অভিমান শেষ তো?
এবার আমাকে ফুফি হওয়ার ব্যবস্থা করে দে।

রাফিয়ার কথায় রুহি লজ্জায় পড়ে যায় কয়েকটা কিল মেরে বলে,

“তোর ফাজমালো বাহির করতো দাঁড়া তোকে বিয়ে দিয়ে বিদায় করবো।

-বিদায় আর কোথাই করবে সেই তোমার বাপেট বাড়ি গিয়ে পড়….. পুরোটা বলতে থেমে যায় বুঝতে পারে ভুল করে বলে ফেলেছে রুহিও শুনতো পেয়েছে।

” কি বললি রে?

-কই কিছু না তো।

“আমি স্পষ্ট শুনলাম কিছু বললি।

-ভাইয়া তোকে ডাকছে তাড়াতাড়ি যা বলে রুহিকে ঠেলে বাহির করে দেয় আসলে ডাকেনি কথাটা এড়ানোর জন্য বলেছে।

আজকে শুক্রবার হওয়ায় রিশাদের অফিস নেই সে রুমে ফোনে কথা বলছে রুহি পিছন থেকে গিয়ে শুনতে পায়।

“” সুইটির খবর নিন ওকে কালকে অফিসে আসতে বলবেন।
অপরপাশের লোক কি বললো তা শোনা গেল না।
রিশাদ কথা শেষ করে পিছনে ফিরে রুহিকে দেখে মুচকি হেঁসে বলে,

“কালকে শাড়িতে তোমাকে অপরুপা লাগছিলো প্রতিদিন শাড়ি পরলে মন্দ হবে না।

– একদিন শাড়ি সামলাতে আমি হিমসিম খাই আর মহারাজা বলেন প্রতিদিন পরবো আমার কি মরার সখ জাগছে?

রিশাদ একটু ভাব নিয়ে বলে,

” হে প্রিয়শী তুমি কেন মরিবে? মরণ আসিলে আসুক আমার তবুও তুমি থাকো বাঁচিয়া তোমায় হারানোর অনল যন্ত্রণা পারবো না আমি সাহিতে।

-ফিল্মি ডাইলোগ শেষ হলে নিচে আসেন আর বাবা মা ‘র তো সকালে আসার কথা ফোন দিয়ে শোনেন কখন আসবেন।

রিশাদ রুহিকে কাছে টেনে নেয় অনেকটা নিকটে গিয়ে নাক বরাবর নাক এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,

“রিশাদ মির্জা ফিল্মি ডাইলোগ দেয় না সে নিজে ভালোবাসে আর সেটাই বলে ফিল্মে তো মানুষ অভিনয় করে আর আমি তোমায় ভালোবাসি যার সীমা পৃথিবীর আকারের চেয়ে বেশি।

রুহির শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা দেখে রিশাদ সরে এসে বলে,

” কালকে এতো কাছ থেকে তার ভালোবাসা অনুভব করার পরেও এই অবস্থা কেমনে মেনে যায় বলোতো একটু সহজ হও।

কালকের কথা বলতে রুহি চোখ বন্ধ করে মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে তা দেখে রিশাদ জোরে হেঁসে ওঠে। তখনি ফোন বাজে রিশাদ ফোনের স্কিনে অপরিচিত নাম্বার দেখতে পায় পরিচিত কেউ হতে পারে বা দরকারি কেউ এই ভেবে ফোন ধরে কিন্তু ফোন কলে এমন খারাপ খবর শুনতে পাবে রিশাদ কল্পনাতেও ভাবেনি রিশাদের হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায় সে নিজের অবস্থান থেকে একটু সরে যায় রুহি রিশাদের এমন অবস্থা দেখে চমকে যায় জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে?

রিশাদ কোনো জবাব দিতে পারছে না ঠোঁট কাঁপছে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অতঃপর ওঠে দাঁড়ায় কান্নারত হয়ে রুহিকে বলে,

“আব্বু আম্মু আসার পথে এক্সিডেন্ট হয় আর আব্বু সেখানে মারা যায় বলে আবার কান্না করে।

রুহি শুনে বিশ্বাস করতে পারছে সে নিজেও কাঁদতে থাকে রিশাদ বলে চলো হসপিটালে যেতে হবে আম্মু গুরুতর আঘাত পেয়েছে তাকে হসপিটালে ভর্তি করা আছে।

রাফিয়াকে না বলে হসপিটালে ছোঁটে রুহি রিশাদ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় বাবার লাশ সাদা কাপড়ে ঢাকা আর একরুমে আইসিইউতে চিকিৎসায় তাঁর মা নিয়তি এতো নিষ্ঠুর যা রিশাদ এখন বুঝছে।

রশিদ মির্জার মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেছে সব জায়গায় মিজানুর চৌধুরী শুনতে পায় মনে মনে তার ও আফসোস যতই শত্রু হোক এমন মৃত্যু আশা করেনি।

অপরদিকে সাদিব ও তার বাবা রশিদ মির্জার মৃত্যুর খবর শুনে হেঁসে ওঠে বাবা ছেলে হাতে ড্রিংকস নিয়ে মাস্তি করছে আর বলছে,

:আব্বু শেষ পর্যন্ত আমাদের অর্ধেক প্ল্যান সাকসেসফুল হয়েছে এখন শুধু ওই রিশাদ মির্জাকে শেষ করার পালা। আমাকে টেক্কা দিয়ে রুহিকে নিয়ে গেলি কিছু করতে পারিনি বেচারা রশিদ মির্জা ছেলের জন্য প্রাণ হারালো।

রাশেদা মির্জা হসপিটালে ভর্তি আছে সেখানে চিকিৎসা চলছে। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়েছে রশিদ মির্জাকে বাসায় এনেছে দুপুরে মানুষে ভর্তি হয়েছে মির্জা বাড়ি। বাড়ির সামনে কবর দেওয়া হলো রশিদ মির্জাকে।
বাবাকে হারিয়ে রাফিয়া পাগল প্রায় কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গেছে রুহি কান্না করছে রিশাদ পাথরের মতো বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে না
রোহান আর আকাশ ওর কাছে আসে কাঁধে হাত দিয়ে রোহান বলে,

-তোকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই এর শান্তনা হয় না । বাবা কি জিনিস সেটা না থাকলে বুঝা যায় বাবা ছাড়া জীবন কেমন তারাই বুঝতে পারে যাদের বাবা নেই।

আকাশ রিশাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

:আংকেলের এক্সিডেন্ট কিভাবে হয়েছে জানতে পেয়েছিস? আর কার গাড়ি ছিলো পুলিশ জানিয়েছে?

“এক্সিডেন্ট নয় পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। কারো নির্দেশে ট্রাগ চাপা দিয়েছে।

রিশাদের কথায় রোহান ও আকাশ দুজনে ওর দিকে তাকায় রিশাদের দৃষ্টি সামনে থাকা কবরে আকাশ বলে,

-তুই কিভাবে বলছিস এটা পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে আর করলেও কে বা এমন করবে।

” যে আমার শত্রু যে আমার পরিবারের শত্রু সে এসব করেছে তাকে ছাড়বোনা তাদের র্নিশেষ করে আমি শান্ত হবো।

-কে সে তাকে তুই চিনিস?

“কে সেটা কালকে জানতে পারবি শুধু সকালের অপেক্ষা একটা মানুষ কে আসতে দে প্রমান আমার হাতে পুরোটা আসুক আর অতীতের সব সত্যিটা জানি।

রোহান জিজ্ঞেস করে,

:অতীতের সাথে এ ঘটনার কি সম্পর্ক?

” সম্পর্ক আছে অতীতের সাথে বর্তমানের সম্পর্ক আছে অতীতের শত্রু বর্তমানে আছে তাকে এবার সামনে আসতে হবে সমস্ত কিছুর হিসাব দিতে হবে আমার কলিজা ছিনিয়ে নিয়েছে ওদের শেষ করবো।

চলবে………..?