#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২
রুহি কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়েছে ড্রয়িং রুম পেরিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ানোর আগেই মিজানুর চৌধুরী ডাক ছাড়ে না খেয়ে কলেজে যাচ্ছো কেন আম্মা?
খেয়ে তার পর যাও।
না আব্বু আমার আজকে একটা জরুরি ক্লাস আছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে ক্যান্টিনে খেয়ে নিবো তুমি চিন্তা করো না।
না খেয়ে যাবি তাহলে আমার এতো কষ্ট করে রান্না করার মানে হয়না দুই ভাই বোন এক হয়েছে বড়জন না খেয়ে হসপিটালে চলে গেলেন তার নাকি ইমারজেন্সি পেসেন্ট আছে আর একজনের জরুরি ক্লাস আছে বলে সেও যাচ্ছে।
রুহি ওর আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলে,
আম্মু রাগ করো কেন?কালকে থেকে খেয়ে যাবো পাক্কা প্রমিজ আজ আসি হ্যাঁ বাই বাই।
রুহি দাঁড়াও আমি তোমায় নামিয়ে দিয়ে আসি আজ তো রোহান আগে চলে গেল।
লাগবে না আব্বু আজ আমি আর আমার এক বান্ধবী এক সাথে রিকশায় যাবো বলে দৌড়ে বেরিয়ে গেল মিজানুর চৌধুরীর পুরো কথা শুনলো না।
এই মেয়েটাকে নিয়ে পারিনা এতো দূরন্তপনা কি বলি।
চারদিকে আমার এতো শত্রু একটু সতর্কতা সহিত রাখা উচিত।
মেয়েকে বিয়ে দিলেও পারেন কলেজে ওঠেছে কখন কে ক্ষতি করে ঠিক নেই।
ঠিক বলেছো আমি আমার আম্মার জন্য সঠিক পাত্র খুঁজবো বলে মিজানুর চৌধুরী খেতে বসলেন।
রুহি মির্জা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ওর আর রাফিয়ার রাতে প্ল্যান করা ছিলো আজ এক সাথে যাবে সে কথা অনুযায়ী রুহি এসে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু রাফিয়ার কোনো খরব নেই। বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর রুহি ধৈয্য হারিয়ে যায় রুহি ও সিদ্ধান্ত নেয় মির্জা বাড়ির ভিতরে যাবে।
রুহি চুপিচুপি মির্জা বাড়ি ঢুকছে সামনের গেটে দারোয়ান আছে বলে পিছনের গেট দিয়ে দেওয়াল টপকে যেতে হবে
রহির ভাগ্য ভালো পিছনের গেইটে গাছের সাথে একটা মই লাগানো ছিলো ও সেটা দেয়ালে লাগিয়ে ওঠে পড়ে।
দেয়াল তো টপকালাম এখন বাসার ভিতরে যাবো কিভাবে?গেলে তো সবাই দেখতে পাবে রিশাদ মির্জা দেখতে পেলে খবর খারাপ তবে গিয়েই দেখি যদি আন্টি থাকেন তাহলে কিছু বলবে না যদিও আংকেল গম্ভীর মুখো দেখলে ভয় লাগে ওনি থাকলে যাবো তারা বাবা ছেলে এক আল্লাহ দুজনের মধ্যে যেন কেউ না থাকে। রুহি মনে মনে এসব চাইলেও কেউ একজন ছাঁদ থেকে সব দেখছে।
রুহি চুপি চুপি বাসার দরজার কাছে যায় গিয়ে দেখে দরজা খোলা এটা তো রুহির কাছে মেঘ না চাইলেও জল ও খুশি হয়ে বাসার ভিতরে যায় আশে পাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পাইনা। রান্না ঘরে কিছুর শব্দ শোনা যায় গিয়ে দেখে রাফিয়ার মা রাশেদা।
আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
হঠাৎ অন্য কোনো মেয়ের কন্ঠ শুনে ঘুরে তাকায় রাশেদা।
রুহিকে এ বাড়িতে দেখে অবাক হয় জিজ্ঞেস করে,
তুমি এ বাড়িতে এসেছো কেন?তোমার বাবা কিংবা তোমার আংকেল জানলে বকবে মেয়ে।
আন্টি আস্তে আমি রাফিয়া কে ডাকতে আসছি আজকে আমাদের প্ল্যান ছিলো এক সাথে যাবো আমি বিশ মিনিট ধরে দাড়িয়ে ছিলাম আসছে তাই বাধ্য হয়ে আসলাম তুমি কিন্তু আংকেল কে বলো না আর হ্যাঁ তোমার ওই গুন্ডি ছেলেকেও বলো না নয়তো আব্বুকে বলে দিবো।
রাশেদা মির্জা হেঁসে ওঠে।
আমার ছেলে গুন্ডি কে বললো শুনি?
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মারামারি করে।
সে তো ওই মানুষকে সাহায্য করে ওই ছেলে নিশ্চয়ই খারাপ কিছু করেছে তাই মেরেছে।
ওমা তুমি দেখি ছেলের পক্ষে।
তা ছেলে আমার ওর পক্ষে হবো না। তুমি তো দেখছি ওর বাবার মতো বলছো উনিও এসব পছন্দ করেন না ওর বাবা ওকে ব্যবসায় বসতে বলে ও শোনেনা।
আচ্ছা আন্টি রাফিয়া কোন রুমে আছে বলেন আমি ওরে নিয়ে পালাই তাড়াতাড়ি নয়তো কেউ দেখলে সমস্যা আছে।
বাসায় তোমার আংকেল নেই তবে রিশাদ আছে ও এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি মনে হয়। উপরে গিয়ে বা দিকের দ্বিতীয় রুমটা রাফিয়ার যাও।
রুহি রাশেদা মির্জার কথা অনুযায়ী বা দিকের রুমে যায় কিন্তু রুমে গিয়ে দেখে কেউ নেই। এই রাফিয়া কই তুই মরলিস নাকি এতো সময় ধরে দাড় করিয়ে রাখছিলি এখন আবার রুমে নাই কই গেছিস?
রাফিয়া এ রুমে নেই ও আমার রুমে।
পুরুষ মানুষের কন্ঠ শুনে রুহি চমকে ওঠে তাকিয়ে দেখে রিশাদ বেলকুনি থেকে বেরিয়ে বসছে। রিশাদকে দেখে রুহির অবস্থা ভয়ে শেষ।
তুমি এ বাড়িতে এসছো কেন?জানোনা তোমার এ বাড়ি আসা বারণ তোমার বাবা কিংবা আমার বাবা জানতে পারলে কি হবে বুঝতে পারছো আর তোমায় নিষেদ করেছিলাম রাফিয়ার সাথে বাড়ি থেকে কলেজে না যেতে আব্বু দেখলে ওকো বকা দিবে কলেজে গিয়ে এক সাথে থাকবে থাকো বাসায় আসছো কেন? নেক্সট টাইম আর বাসায় আসবে না আমি রাফিয়া কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
রুহির চোখ পানি চিকচিক করছে মনে হচ্ছে এখনি চোখের কার্নিশ বয়ে পড়বে। কেন এ বাড়ি আসতে গেল আর জীবনেও আসবো না বলে চলে যেতে নিলে রাফিয়ার দেখা পায়।
এই কই যাচ্ছিস দাঁড়া আমিও যাবো আর তোর চোখে পানি কেন?
তোর আাসার হলে আয় আমি বাহিরে গিয়ে দাড়াচ্ছি বলে বেরিয়ে গেল রাফিয়াও রুহির পিছু পিছু গেল।
রুহি পিছনের দরজা দিয়ে মই বেয়ে নামে রাফিয়া গেট দিয়ে এসে রিকশা ডেকে দুজনে ওঠে পড়ে। রিকশা ছাড়ার আগে রুহি মির্জা বাড়ির দিকে তাকায় এবং দেখতে পায় রিশাদ বেলকুনি থেকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে রুহি চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেন রিকশাওয়ালাকে যেতে বলে।
রুহি কি হয়েছে বললি না তো তখন চোখে পানি কেন ছিলো?
রুহি চুপ করে আছে কিছু বলছে না।
বুঝতে পেয়েছি ভাইয়া কিছু বলেছে তাই না?
তোদের বাসায় আর কখনো যাবো না। তোর ভাই যেতে মানা করেছে আর গিয়েছি বলে শখানেক কথা শুনিয়েছে।
আরে ভাইয়ার কথায় কিছু মনে করিস না ভাইয়া তোর ভালোর জন্য বলেছে যদি কেউ দেখতে পেয়ে তোর আব্বুকে বলে দেয় তখন তোরি ক্ষতি আর তুই না আমার ভাবি হবি আমাদের বাসায় যেতে তো হবেই।
তোর জল্লাদ, গুন্ডা ভাইকে বিয়ের পর সায়েস্তা করবো সব কিছুর সোধ তুলবো দেখিস।
আচ্ছা বাবা যা ইচ্ছে করিস এখন চল। রিকাশা থেকে নেমে দুজনে কলেজের ভিতরে যায়।
সকাল থেকে একটানা ক্লাস করার পর দুইটার সময় ক্লাস শেষ হয়। ক্লাস রুম থেকে বাহির হয়ে রুহি বলে ইফফ বাবা একটানা ক্লাস করতে করতে হাঁপাই গেছি চল গিয়ে আইসক্রিম খেয়ে তার পর বাসায় যাবো।
রুহি আর রাফিয়া কলেজের গেট দিয়ে বাহির হতে গেলে রাফিয়ার নজর পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মনের সং গোপনে বসত করা ভালোবাসার মানুষটা যাকে দেখে মনের কোনে উৎফুল্লতা জেগে ওঠে অনুভুতিরা হৃদয়ে নাড়া দিচ্ছে।
আরে ভাইয়া তুমি এখন এখানে?
রোহান এগিয়ে আসে বলে,
আব্বু বললো তুই খেয়ে আসিসনি আমিও খেয়ে আসিনি আম্মু রাগ করেছে তাই ভাবলাম আজ তাড়াতাড়ি যাই আর তোর ও ক্লাস শেষ হবে নিয়ে যেতে আসলাম।
কিন্তুু ভাইয়া আমার তো রাফিয়ার সাথে যাওয়ার কথা ছিলো।
রুহির কথায় ওর পাশে থাকা রমনির পানে চায় যার দৃষ্টি তার চোখ সীমাবদ্ধ। দুজনের চোখাচোখি হতেই রাফিয়া চোখ নামিয়ে নিলো।
তুমি আমাদের সাথে গেলে তোমার বাবা কিংবা ভাই দেখলে সমস্যা হতে পারে আমি চাইনা তুমি সমস্যায় পড়ো তাই তোমায় রিকশা ডেকে দেই তুমি বাসায় যাও।
না তার দরকার নেই আমি রিকশা নিতে পারবে।
রুহি তুই গিয়ে গাড়িতে বস আমি ওকে রিকশায় ওঠিয়ে দিয়ে আসছি।
রুহি ভাইয়ের কথা মতো গাড়িতে গিয়ে বসলো।
রোহান রাফিয়ার দিকে তাকালো।
ওদিকে চলো রিকশা ডেকে দেই বলে সামনের দিকে পা বাড়ালো রোহান ওর পিছু পিছু হাটছে রাফিয়া।
সামনে যেতেই একটা রিকশা দেখতে পেল।
ওই মামা এদিকে আসেন।
রিকশা আসলো রাফিয়া কে ওঠলো বললো।
রাফিয়া লক্ষি মেয়ের মতো ওঠে পড়লো।
রোহান রিকশা ভাড়া দিয়ে দিলো বললো সানধানে নিয়ে যাবেন মামা।
আচ্ছা বাজান সাবধানে নিয়া যামু এটা বুঝি বাজানের কাছের কেউ?
রিকশাওয়ালা মামার কথার উওর কি দেয় সেটা শোনার জন্য রাফিয়া মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
রোহান উওর দেয় এমন কিছু না মামা ও আমার ছোট বোনের বান্ধবী সে হিসাবে একটা দায়িত্ব তো আছে।
রোহানের উওরে রাফিয়ার মন খারাপ হয়ে যায়। তার অনুভূতি গুলো তাহলে সারাজীবন এক পক্ষিক হয়ে থেকে যাবে কখনো হয়তো বলতেও পারবো না নিজের করেও পাবো না। যদি উনি আমার ভালোবাসা বুঝতো তাহলে কতই না ভালো হতো।
সোজা বাসায় যাবে আর সাবধানে যাবে।
রিকশা ছেড়ে দেয় তখন রাফিয়া বলে ওঠে বোনের বান্ধবীর জন্য এতো দায়িত্ব পালন না করলেও চলবে।
রিকশা অনেকটা দূরে চলে গেছে রোহান সেদিকে তাকিয়ে হেঁসে ফের গাড়ির কাছে ফিরে আসে।
চলবে……………….?