#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:৩
কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন সব কিছু আগের মতো চলছে কিন্তু রুহি সেদিনের পর আর রিশাদের সাথে কথা বলে না এমনকি ও যে রাস্তায় থাকে সেদিক দিয়ে যায় না তাকায় না। এ নিয়ে রিশাদের মনে তোলপাড় যে মেয়েটা প্রায় সময় জ্বালাতো ভালোবাসি বলতো পাগলামি সে মেয়ে এখন আমার সামনে আসে না এখন ওর পাগলামি গুলো মিস করছি। সেদিন ওভাবে না বললে আবার আসতো আর আমি নিজেকে তার সানিধ্যে পেয়ে নিজেকে সামলানো বড় দায় হয় তার পর ওর বাবার কানে খরবটা গেলেও সমস্যা হতো।
রিশাদ রুহি কে দেখতে পায়নি দুদিন ধরে এতোদিন কথা না বললেও দেখতে পেত। রাফিয়ার থেকে খবর পেয়েছে রুহির জ্বর এইজন্য দুদিন থেকে কলেজে আসেনি আজ আসবে বলেছে এজন্য রাফিয়াকে নিজে কলেজে দিতে এসেছে সাথে রুহির সাথে কথা বলে সরি বলা হবে মেয়েরা নিশ্চয়ই অভিমান করে আছে মনকে যতই বলি ভালোবাসবো না কিন্তু মন সে কথা শোনেনা বার বার তার সানিধ্যে যেতে যায় তার নজরে পড়তে যায়।
রিশাদ রাফিয়া কে কলেজে সামনে নামিয়ে দেয় দুই ভাই বোনে অপেক্ষা করে রুহির জন্য। কিছু সময়ের মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে রুহি সাথে ছিলো রোহান ও।
রুমি সামনে তাকিয়ে রিশাদকে দেখে এজটু ভড়কায় তার পর মনকে কঠিন করে সেদিন কথা ভেবে মাথা নিচু করে কলেজের ভিতরে চলে যায় পিছু ডাকতে ডাকতে রাফিয়া যায়। রিশাদের মন খারাপ হয়ে যায় মেয়েটার চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেছে হয়তো জ্বরের কারণে। একটু কথা বলতে পারলে ভালো লাগতো কিন্তু রোহান থাকায় কিছু বলতে পারলো না।
রোহান রিশাদের দিকে তাকিয়ে চলে যায়। অনেক কথা বলার থাকলেও বলা হয়ে ওঠেনা।
কোনো একদিন রিশাদ আর রোহান ও ভালো বন্ধু ছিলো প্রাইমেরি জীবন ওয়ান থেকে ফাইভ শেষ করেছিলো এক সাথে স্কুলে থাকতে ওরা তিন বন্ধু ছিলো রিশাদ,রোহান আর আশিক ওরা সব সময় এক সাথে থাকতো ঘুরতো ফিতরো কিন্তু প্রাইমেরি শেষ হওয়ার আগে দুজনের পরিবারের অজানা কিছু কারণে ওদের বন্ধুত্ব শেষ হয়ে গেছিলো হয়তো এখন কারনটা জানে দুজনে আবার নাও জানতে পারে।পরিবারের নির্দেশ ছিলো কোনো সম্পর্ক থাকবে না সে থেকে কাছের হয়েও দূরের হয়ে গেছে বন্ধুত্ব হারিয়ে গেছে শত্রুতার বেড়াজালে।
রিশাদ রুহির কলেজ ছুটি পযর্ন্ত অপেক্ষা করে। ঘড়ির কাটায় যখন দুইটা বাজে কলেজ ছুটি হয় বেরিয়ে আসে রুহি আর রাফিয়া। রিশাদকে এখনো কলেজের সামনে দেখে অবাক দুজনে রিশাদ এগিয়ে আসে রাফিয়া কে সাইডে যেতে বলে রাফিয়া ভাইয়ের কথা মতো চলে যায়।
এখন শরীর কেমন?জ্বর কমেছে?সুস্থ হেয়েছো?
এক সাথে এতো প্রশ্ন শুনে অবাক হয় রুহি যে মানুষটার সাথে কথা বলতে গেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয় বেহায়া, নিলজ্জ বলে সেই মানুষ আজ নিজে থেকে কথা বলছে আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু আমি তো সেদিনের কথা ভুলে যাইনি।
রুহি জবাব দেয় আমি ঠিক আছি, ভালো আছি, সুস্থ আছি বেহায়া নিলজ্জ মেয়েরা ভালো থাকে আপনি জানেন না?
রুহি কথাটা রিশাদকে খোটা মেরে বলেছে বুঝতে পেরে নিঃশব্দে হাঁসে।
আমি তো তোমার ভালো জন্য৷ বলি এই যে রাস্তা ঘাটে দেখা হলে ভালোবাসি বলতে চেয়ে থাকলে মুখপানে তোমার বাবার মানুষ দেখলে কি হবে ভাবো কি?আর সেদিন বাসার যাওয়ার জন্য বকেছি তার ও কারণ আছে তার জন্য সরি।
রুহি শুনেও না শোনার ভান করে এতোদিন বেহায়ার মতো পিছু ঘুরেছি এবার তাকে ঘোরাবো।
ভাইয়া নিতে আসবে এখনি আমি গেলাম আপনার সাথে দেখলে সমস্যা হবে।
রোহানকে আমি ভয় পাই নাকি সে তো আমার বেষ্ট ফে…….. বলতে গিয়েও থেমে যায় পিছনে তাকিয়ে দেখে রোহান আসছে তাই রিশাদ চলে যায় রাফিয়ার কাছে চারজন মানুষ গন্তব্য এক পথে আগুপিছু করে চলেছে তারা রিশাদের বাইকের পিছনে বসে আছে রাফিয়া ওর দৃষ্টি একটু দূরে চলতে থাকা রোহানের উপর পথের মোড়ে এসে দুজনের বাসার রাস্তা আলাদা দুজন দুদিকে যায়।
বিকেলে রোহান রুহিকে নিয়ে শপিং মলে যায় রোহান যেতে চায়নি কিন্তু রুহির আবদারের জন্য আসতে হলো কিছু করার নেই। রুহি শপিং করছে রোহানের জুরুলি একটা ফোন আসায় একটু সাইডে গিয়ে কথা বলছে কথা বলার মাঝে কারো হাসি শুনে পাশ ফিরে চায় দেখে ওপাশে রাফিয়া দাঁড়িয়ে হাসছে সাথে একটা ছেলে আছে হাঁসাহাঁসির পর ছেলেটা রাফিয়ার হাত ধরে শপিং মলের ভিতরে নিয়ে যায় এটুকু দেখে রোহানের সহ্য হয়না রাগ ওঠে যায় চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসে। রোহানের ইচ্ছে করছে রাফিয়ার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দুইটা থাপ্পড় মারতে সাথে হাত ধরার শখ মেটাতে কিন্তু ইচ্ছেটা দমিয়ে রাখে ভাবে কোন অধিকার নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে হাত ধরতে বাঁধা দিবো?
আমি কি ভালোবাসি তাকে?
নিজের মনে প্রশ্ন করে উওর হ্যাঁ আসে কিন্তু সে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনি যেদিন প্রকাশ করবে সেদিন এটার জবাব নেবো আর সেটা খুব শিগগিরই বলে রুহির কাছে চলে যায়।
রাফিয়া আর সাদিক আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে দুজনে আবারো হাঁসতে লাগলো সাদিক হলো রাফিয়ার ফুফুতো বোন সুরভির হাসবেন্ড ওরা মূলত প্ল্যান করে এসেছিলো আর ইচ্ছে করে রোহানের সামনে এমন করছিলো রোহানের অভিব্যক্তি দেখার জন্য আর ওরা সফল হয়েছে ভেবে মুখে ফুটে ওঠেছে চমৎকার হাঁসি।
সাদিক বলে সালিকা এ সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে তুমি পারবে তো?
তুমি যে মামাকে ভয় পাও তবে রিশাদকে বলতে পারো যতই হোক কোন একসময় রোহান ওর বেষ্টফ্রেন্ড ছিলো কথা না হোক আমি জানি ওরা দুজন দুজনকে এখনো সেই আগের মতো ভালোবাসে শুধু চাপা পড়ে আছে।
ধরনীতে আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে সেই কবে এখন বাজে রাত এগারোটা রিশাদ চৌধুরী বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দেখছে কোন দিক দিয়ে বাড়ির ভেতরে যাওয়া যায় বাড়ি তো নয় ওর উদ্দেশ্য রুহির রুমে যাওয়া রিশাদ চৌধুরী বাড়ির আশে পাশে কম আসলেও খোঁজ নিয়ে জেনেছে রুহির রুম কোনটা এখন এক মাত্র উপায় পাইপ বেয়ে ওঠা যেই ভাবা সেই কাজ অনেক কষ্টে পাইপ বেয়ে বেলকনিতে ওঠতে আসতে গিয়ে বেলকনিতে থাকা একটা ফুলের টব পড়ে যেয়ে শব্দ হয়।
রুহি রুমে ছিলো বেলকুনি থেকে শব্দ পেয়ে দেখতে আসে কিসের শব্দ। এসেই অন্ধকারে রিশাদকে দেখে চোর মনে করে চিৎকার দেয় রিশাদ তাড়াতাড়ি রুহির মুখ চেপে ধরে বলে,
এই চুপ আমি রিশাদ চিৎকার করে তোর বাপকে ডেকে মার খায়াতে চাস নাকি।
রিশাদের কন্ঠ শুনে রুহি চুপ হয়ে যায় তখন ওর মুখ ছেড়ে দেয় রুহি হাফাতে থাকে। আপনি কি আমায় দম বন্ধ করে মেরে ফেলবেন নাকি?
বাই দা ওয়ে আপনি এখানে কেন?
আপনার বাসায় গিয়েছিলাম বলে শত কথা শুনিয়েছিলেন আবার আমার বাসায় এসেছেন কেন?
রিশাদ গাঁ ছাড়া ভাব দেখিয়ে বলে,
মিজানুর চৌধুরীর মেয়েকে দেখতে এসেছি সো সুস্থ হলো কিনা?
আমি সুস্থ হই বা না হই তাতে আপনার কি?
আমার অনেক কিছু বলে এগিয়ে এসে রুহির কপালে হাত দেয়,
না জ্বর তেমন নেই হাল্কা আছে ঔষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে। রাতে ঔষুধ খেয়েছিস?
হ্যাঁ খেয়েছি আপনার এতো শোনার দরকার নেই আপনি এখন যান বলে ঠেলে যেতে বলে,
রিশাদ ঘুরে রুহির হাত ধরে নিজের খুব নিকটে আনে রুহি চমকে যায় শরীরে শিহরন জেগে ওঠে। দুজনের মুখ সামনাসামনি চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে দুজন দুজনের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সাথে রুহির বুকের মাঝে ধুকধুক করছে কারো মুখে কথা নেই শুধু চোখে চোখে কথা হচ্ছে।
রিশাদ রুহির মুখের সামনে পড়ে থাকা চুল গুলো সুন্দর করে গুছিয়ে কানের পাশে গুজে দেয় আর বলে,
একদিন সবার সামনে তোর হাত ধরবো সেদিন গায়ে থাকবে নব বধুর সাজ, হাতে আর পায়ে থাকবে লাল রঙ্গা আলতা আর মনের গভীনে থাকবে আমার জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা যেটা প্রকাশির করবো বিয়ের দিন।
কথা গুলো বলা শেষে রিশাদ রুহির কপালে চুমো একে দেয়। এ চুমো জানান দেয় ভালোবাসার প্রথম পরশ।
রুহি অবাক চোখে চেয়ে দেখলো আর শুনলো কিন্তু কিছু প্রশ্ন করতে নিলে রিশাদ বলে আজ কোনো প্রশ্ন করবি না আমার আরো কিছুর উওর খুঁজে বের করতে হবে তার পর না হয় তোর উওর ও দিবো বলে বেলকুনি থেকে পাইপ বেয়ে নেমে যায় রুহি সেদিক পানে চেয়ে থাকে আর মুখে আচমকা হাসি ফুটে ওঠে। ভালোবাসার মানুষের সাড়া পেয়েছে আজ এ তো বহু দিনের প্রতিক্ষা আজ ভালোবাসা জানান দিয়েছে কাল ভালোবাসি বলবে পরশু নিজের সানিধ্যে পেয়ে যাবো তাহলে জীবনে আর কিছু লাগবে না।
চলবে…………?