তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-০৪

0
239

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:৪

সকালে মির্জা বাড়িতে খাবার টেবিলে বসে রিশাদের জন্য অপেক্ষা করছে রফিক মির্জা পাশে রাফিয়া বসে আছে।

তোমার ছেলের জন্য কত সময় অপেক্ষা করতে হবে? আমার সময়ের মূল্য আছে সে কি রাজ কার্য করে সময় মতো খাবার খেতে আসতে পারে না? সারাদিন তো ঘুরে বেড়ায় আর মানুষের সেবা করে সাথে গন্ডগোল লেগে থাকে কত করে বলি ব্যবসায় বসতে কিন্তু না কথা শোনে না আজ এর একটা বিহিত করতে হবে।
রাশেদা মির্জা চুপ করে আছে উনি ছেলের পক্ষে হলেও স্বামীর উপরে কথা বলতে পারবে না তাই চুপ করে থাকা শ্রেয়। অপেক্ষা শেষ করে রিশাদ উপর থেকে নেমে এসে খাবার টেবিলে বসে।

আম্মু খেতে দেও?

রিশাদ তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।

হ্যাঁ আব্বু বলো শুনছি তবে মানুষের উপকার করি গন্ডগোলে জড়াই এসব করতে মানা করলে বলার দরকার নেই।

রফিক মির্জা রিশাদের কথায় রেগে যায় শক্ত কন্ঠে বলে,
তোমাকে পড়ালেখা শিখিয়েছি এসব করতে? তোমার বয়সের ছেলেরা পড়ালেখা শেষ করে কেউ জব করছে কেউ আবার ব্যবসা করছে আর তুমি কি করছো মানুষের সাথে মারামারি করে বেড়াও সব খবর আমার কানে আসে। তোমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলাম ব্যবসার হাল ধরবে আমায় একটু সস্তি দিবে কিন্তু না আমার আশা করা ভুল হয়েছে যা ইচ্ছে করো বলে রফিক মির্জা খাবার টেবিল থেকে ওঠে চলে যায়।

না খেয়ে ওঠে যাচ্ছেন কেন খেয়ে যান?

আমার খাওয়া লাগবে না তোমার ছেলে বেশি করে খাওয়াও যাতে ভালো করে মারামারি করতে পারে।

রিশাদ দেখ এতোদিন আমি কিছু বলিনি কিন্তু আজ বলছি তোকে মানুষের উপকার করতে মানা করিনি তুই ব্যবসার কাজে হাল ধর অফিসে যা সাথে যখন দরকার মানুষের পাশা দাড়াবি তাহলে তোর আব্বু খুশি তোর কাজ ও হবে।

রিশাদ ওঠে পড়ে নিজের আম্মুর কাছে গিয়ে বলে,
ঠিক আছে উনাকে বলে দিও কালকে থেকে অফিসে জয়েন করবো তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অফিসে থাকবো এটা বলে দিও।

রিশাদ রাজি হওয়ায় রাশেদা মির্জার মুখে হাঁসি এটা ভেবে বাবা ছেলের রেসারেসি বন্ধ হবে।

রফিক মির্জা অফিসে যাচ্ছেন সাথে রাফিয়া কে নিয়ে যাচ্ছেন কলেজে নামিয়ে দিয়ে তার পর অফিসে যাবেন। গাড়ি চলছে রাফিয়া বাবার সাথে গল্প করছে কিন্তু সামনে থেকে এরেকটা এসে ওদের গাড়ির সাথে লেগে দেয় গাড়ির কাচ ভেঙে ভিতরে রফিক মির্জার মাথায় আঘাত লাগে রাফিয়ার গেলেছে কিন্তু তেমন কিছু হয়নি রাফিয়া গাড়ি থেকে নেমে বাবাকে ডাকতে থাকে কিন্তু কোনো সারা দেয়না রাফিয়া কি করবে বুঝতে পারছে না রাস্তায় থাকা কিছু এগিয়ে আসে বলে হসপিটালে নিতে হবে গাড়ি ডাকো।

রাস্তার মধ্যে মানুষের ভীড় দেখে গাড়ি দাড় করায় রোহান ও হসপিটালে যাচ্ছিলো মানুষের ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখে রাফিয়া রফিক মির্জাকে কোলে মাথা নিয়ে কান্না করছে।

এক্সিডেন্ট করছে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিতে হবে বসে কান্না করলে হবে না।

কারো কন্ঠ শুনে রাফিয়া তাকায় রোহান কে দেখে আরো কান্না বেড়ে যায়।
দেখি সরো উনাকে হসপিটাকে নিয়ে যাই তুমি বসে কান্না করো বলে রোহান রফিক মির্জাকে কোলে করে নিজের গাড়িতে বসায় পাশে রাফিয়া এসে বসলো। রোহান তড়িঘড়ি করে গাড়ি স্টাস দেয় এবং নিজের হসপিটালে নিয়ে যায়। অন্যান্য ডক্টর আর নার্সকে বলে কেবিনে নিয়ে যেতে রফিক মির্জাকে নিয়ে যায় রাফিয়া দাড়িয়ে কান্না করছে রোহান দেখেও কিছু বললো না ও কেবিনের ভিতরে গেল।

রফিক মির্জার এক্সিডেন্ট হয়েছে খবর পেয়ে হসপিটালে চলে আসে রিশাদ ও তার মা এসে কান্না করতে শুরু করছে এতে ভীষন বিরক্ত রিশাদ আম্মু এখানে কান্না করা বারণ অন্যান্য রোগীরাও আছে।

কেবিন থেকে নার্স বেরিয়ে আসলে রিশাদ তাকে জিজ্ঞেস করে আব্বু ঠিক আছে তো আমি কি যেতে পারবো?

স্যার বেরিয়ে আসলে জিজ্ঞেস করিয়েন।
এই তো স্যার এসেছেন জিজ্ঞেস করুন।
নার্সের কথা অনুযায়ী ডক্টরের দিকে চোখ যেতেই দেখে রোহান দাঁড়িয়ে রিশাদ মুখে কিছু বলার আগে উওর দেয় উনি এখন ঠিক আছেন মিস্টার মির্জা চিন্তার কিছু নেই মাথায় একটু কেটে গেছে র*ক্ত বাহির হয়েছে এজন্য অজ্ঞান হয়ে গেছে কিছুক্ষনের মধ্যে জ্ঞান ফিরবে।

রিশাদ অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে কাছের মানুষ পর হয়ে যায় কত তাড়াতাড়ি যাকে কখনো নাম ধরে বলতো নিজের সবচেয়ে আপন ছিলো সে আজ মিস্টার মির্জা বলছে।

ধন্যবাদ ডাক্তার কি কি ঔষুধ লাগবে বলেন নিয়ে আসি।
রোহান ওষুধের ডেসক্রিপশনটা দেয় রিশাদ ঔষুধ নিতে বাহিয়ে যায় রোহানের অন্য কেবিনে যাওয়ার সময় হওয়াতে চলে যায় রাফিয়া সেদিক পানে চেয়ে রয়।

সকাল পেরিয়ে বিকেল হয়েছে রফিক মির্জার জ্ঞান ফিরেছে দুপুরের দিকে রিশাদ বাসায় গেছে একটু পর গাড়ি নিয়ে আসবে সন্ধ্যার দিকে রিলিস নিয়ে বাসায় যাবে।
রাফিয়া ওর বাবার পাশে বসে ছিলো সাথে ওর আম্মু ছিলো এক নার্স এসে বলে ম্যাম স্যার আপনাকে ডাকছে।
রাফিয়া নার্সকে জিজ্ঞেস করছে আমাকে বলছেন?

জ্বি ম্যাম আপনাকে বলছি স্যার ডাকছে তাড়াতাড়ি যান।

রাফিয়া শুধায় কোন স্যার ডাকছে?

ডাক্টার রোহান স্যার ডাকছে বলে নার্স চলে যায়।

আম্মু আমি আসছি বলে রাফিয়া রোহানের কাবিনের দিকে পা বাড়ায় মাথায় আসে কি বলবেন উনি হঠাৎ ডাকলো কখনো তো কথা বলে আজ একা ডাকছে কারণ কি?
তখনি মনে পড়লো কালকের কথা হতে পারে সেজন্য ডাকছে পা পা করে রোহানের কেবিনের সামনে আসে ভিতরে যাওয়া জন্য অনুমতি চাওয়ার আগে ভিতর থেকে উত্তর আসে কামইন।
রাফিয়া দরজা খুলে ভিতরে আসে রোহানের বসতে বলে তবুও দাঁড়িয়ে আছে দেখে রোহান রাফিয়ার পানে চায়
বসতে বললাম শুনতে পাওনি?

রোহানের এক ধমকে বসে পড়ে চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে এতোক্ষণ বাহিরে ভয় না লাগলেও এখন ধমক খেয়ে ভয় লাগছে কি বলবেন আল্লাহ জানে।
ভাবনার মাঝে রোহান প্রশ্ন করে কালকে শপিং মলে তোমার সাথে যে ছেলেটা ছিলো ওটা কে?

রাফিয়া বুঝতে পেরেছিলো এই প্রশ্ন করবে তাই প্রস্তুতকৃত
উওর দেয়,
নিশ্চয়ই স্পেশাল মানুষ হবে তাই না এজন্য তো শপিং মলে গেছিলাম সাথে লং ড্রাইভ আহ দিনটা বেশ কেটেছিলো রোহানকে রাগাতে আরো বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলে এতে রোহান রাগে হাসফাস করে হাতের কাছে থাকা পানির গ্লাসটা ছুঁড়ে মারে কাঁচের গ্লাসটা মেঝেতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। রাফিয়া চমকে ওঠে ভয় পান রোহান চেয়ার থেকে ওঠিয়ে রাফিয়ার কাছে গিয়ে ওর দিকে নিজেকে ঝুকে পড়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে স্পেশাল মানুষ হোক আর যেই মানুষ হোক তার সাথে যেন আর কখনো না দেখি নয়তো জানে মেরে ফেলবো।
রোহান রাফিয়ার দিকে ঝুকে পড়ার কারণে ওদের চোখাচোখি এবং খুব কাছাকাছি এতে রাফিয়ার শ্বাস প্রশ্বাস ঘনঘন পড়ে মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছেনা তবুও কম্পিত কন্ঠে বলে,
আমার স্পেশাল মানুষ থাকতে পারে আমি তার সাথে ঘুরতে পারি তাতে আপনার কি সমস্যা?

আমারি সব সমস্যা তোমাকে বলছি তোমাকে যেন কখনো অন্য কোনো ছেলের সাথে ঘুরতে না দেখি ব্যাস।

আমি আপনার কথা কেন শুনবো আপনি কোন অধিকারে এ কথা বলছেন?

অধিকার অধিকার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি নই যা বলছি তাই করবে বুঝলে।
রাফিয়াও ঘাড়ত্যাড়া ও বলে কারণ না বললে আমিও শুনবো না।

রোহান আরো রেগে যায় চেয়ারে লাথি মেরে কেবিন থেকে বেরিতে গেলে রাফিয়া সাহস করে হাত ধরে ফেলে বলে,
আপনি কি আমায় ভালোবাসেন?

রোহান ওর দিকে তাকায় কিছু বলে না।

চুপ করে আছেন কেন বলেন? অন্যের সাথে সহ্য করতে পারেন বা আবার নিজেও ভালোবাসেন সেটাও বলতে পারেন না?

আমি এমনি এমনি মুখে বলতে চাইনা যেদিন কাজে করতে পারবো সেদিন বলবো আর আমার কথা না শুনলে খুব খারাপ হবে।

মুখে না বলে আবার এমন না হয় যে অন্য কেউ নিয়ে যায় তখন আপনি চেয়ে চেয়ে দেখিয়েন।

রোহান শান্ত চোখে তাকালো বললো,
কালকে কলেজ শেষ দাঁড়িয়ে থাকবে এক জায়গায় যাবো তখন বুঝতে পারবে বলে ডিউটিতে গেল পিছনে তাকালে দেখতে পেত এক মেয়ের মিষ্টি হাঁসি। এ যে মনের উৎফুল্লতার হাঁসি প্রিয় মানুষকে পাওয়ার এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের হাঁসি।

চলবে…………..?