#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:শ্যামলী_রহমান
পর্ব:৫
আজকে রিশাদ প্রথম অফিসে যাবে সাথে রফিক মির্জার যাওয়ার কথা থাকলেও এক্সিডেন্টে মাথায় আঘাত লাগার কারণে রিশাদ যেতে মানা করছে।
রিশাদ তুই প্রথম একা গিয়ে সব বুঝতে পারবি? আমু গেলে ভালো হতো।
আমি সব বুঝতে পারবো তুমি শুধু ম্যানেজার আংকেল কে ফোন করে বলে দিও আমাকে যেন সব বুঝে দেয় তাহলে হবে।
ঠিক আছে আমি সানোয়ার কে বুঝিয়ে দিতে বলবো আর হ্যাঁ আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি আমাদের অফিসের নতুন পি এ কে জানিস?
কে?
তোমার সানোয়ার আংকেলের মেয়ে সুইটি।
আব্বু সুইটি কেন?অন্য কেউ ছিলো না?তুমি তো জানো সুইটি কেমন মেয়ে।
রাতে সানোয়ার কে ফোন করেছিলাম ওকে বলতেছিলাম তোর জন্য একটা পি এ নিয়োগ দিতে এ কথা শুনে সুইটি নিজে রাজি হলো আর ও হলে সমস্যা কি পড়ালেখার ভালো তোর কাজে হেল্প করতে পি এ তো লাগবে।
রিশাদ বাবার মুখের উপর আর কিছু বললো না কিন্তু মনে মনে বলতে ভুললো না ডিজগাস্টিং মেয়ে মানুষ।
রোহান পড়েছে মহা ঝামেলায় কালকে তো রাফিয়াকে বললো আজকে এক জায়গায় নিয়ে যাবে কিন্তু রুহি যদি কলেজে যায় তাহলে দুজন এক সাথে থাকবে নিয়ে যাবো কিভাবে?রোহানের মাথা কাজ করছে না কি করবে একবার ভাবছে রুহিকে বললো?
না থাক বলবো না ওকে বললে সেটা নিয়ে সারাদিন পেঁচাবে। তাহলে কিভাবে কি করা যায়?
হ্যাঁ আইডিয়া যে করে হোক রুহির কলেজে যাওয়া আটকাতে হবে।
রুহি সবে মাত্র কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমেছে।
আব্বু, আম্মু আমি গেলাম বলে দরজার দিকে পা বাড়ায় তখনি রোহান পিছু ডাকে,
এই রুহি শোন আজকে তোর কলেজে যাওয়া লাগবে না।
রুহি পিছনে ফিরে রোহানের দিকে তাকায় কারণ জানতে চায় কেন যাবো না?
আমি যখন বলেছি তো যাবি না ব্যাস।
আমি রেডি হয়েছি আর আমার যেতে হবে আজ একটা ইম্পরট্যান্ট ক্লাস ও আছে।
আব্বু, আম্মু তোমার মেয়েকে যেতে মানা করো আমি তো এমনি এমনি মানা করছি না নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে তাই না।
মিজানুর চৌধুরী জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে রোহান ওকে কলেজে যেতে মানা করছিস কেন?ও কি কিছু করেছে?
না আব্বু ও কিছু করেনি কিন্তু একটু আগে খবর পেলাম ওদের কলেজের মোটে মারামারি লেগেছে রাস্তা ব্লক এ অবস্থায় কলেজে যাওয়া রিক্স তাই যেতে মানা করছি বাকিটা তোমাদের ইচ্ছে।
রোহানের কথা শুনে মিজানুর চৌধুরী ভয়ে মেয়ে যেতে নিষেধ করে মামনি আজ যাওয়ার দরকার নেই কাল যেও কেমন।
রুহি রেগে রোহানের দিকে তাকায় রাস্তায় ব্লক হলে গলির রাস্তা দিয়েও যাওয়া যেত সে কথা কেউ শুনলো না। রুহি রাগে গিজগিজ করছে রোহানকে বকতে বকতে উপরে চলে গেল আজ রিশাদকে দেখতে পাবে না এজন্য আরো বেশি রাগ আর এদিকে রোহান হাফ ছেড়ে বাঁচে রুহিকে কলেজে যাওয়া থেকে আটকাতে পেরে একটু সস্থি পায়।
রোহান হসপিটালে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ে হসপিটালের কাজ শেষ করে ২ টার সময় আবার কলেজে আসতে হবে।
রিশাদ অফিসের সামনে এসে পড়েছে গাড়ি থেকে নেমে অফিসের ভিতরে আসতে সকল এমপ্লয়ি শুভেচ্ছা জানালো।
ওয়েলকাম টু ইউর অফিস রিশাদ বলে একজন ফুলের তোড়া সামনে ধরে মুখ দেখা যাচ্ছে না ফুলের তোড়া সরাতেই সুইটির মুখ দেখতে পায় এতে মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কিন্তু সবার সামনে কিছু বলেনা ফুলের তোড়া নিয়ে এক সাইডে রেখে দেয়।
রিশাদ চলো তোমায় অফিসের সব কিছু ঘুরিয়ে দেখাই বলে হাত টেনে নিয়ে যেতে লাগল পুরো অফিসের মানুষ তাকিয়ে ছিলো।
রিশাদ হাতটা ছাড়িয়ে নেয় রাগ হয়ে বলে,
এটা আমার বাবার অফিস আমি এখানে ঘুরতে আসিনি কাজ করতে এসেছি যাদের কাজ করার মনমানসিকতা নেই তারা চলে পারো দরজা খোলা আছে বুঝেছো সবাই।
সুইটি ভয় পেয়ে যায় আমতা আমতা করে বলে,
রিশাদ আমি সেভাবে বলতে চাইনি বলতে চেয়েছি কাজ গুলো বুঝিয়ে নেই দুজনে এই…
রিশাদ হাত ইশারা করে থামিয়ে দেয় পাশে থাকা একজনকে বলে সানোয়ার আংকেল কে ডাক দেন।
একটুর পর উনি উপস্থিত হন।
বাবা ডাকছিলে?
জ্বী আংকেল আব্বু তো আপনাকে সব বলে দিয়েছে আপনি সেইসব ফাইল গুলো আমার কেবিনে পাঠিয়ে দিন।
ঠিক আছে বাবা তুমি যাও আমি এখনি সুইটিকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
রিশাদ নিজের কেবিনে চলে যায়।যাওয়ার আগে সবাইকে ভালো করে কাজ করতে বলে।
প্রথম দিনে রিশাদের রাগ দেখে এমপ্লয়িরা ভয়ে কাজ করতে লেগে পড়ে কোনো ফাঁকি চলবে না।
রুহি রুমে এটা বসে বসে বোরিং লাগছে কলেজে যেতে পারলো না।
ইসস রাফিয়া মনে হয় আমার জন্য অপেক্ষা করে ছিলো কালকে গেলে নির্ঘাত বকা দিবে।
ওকে বরং একটা ফোন করে বলি কেন যেতে পারিনি।
রুহি রাফিয়ার ফোনে ডায়াল করে কল যায় কিন্তু রিসিভ হয় না।
ধুর কল ধরছে নিশ্চয়ই ক্লাসে আছে। আমার সময় কাটছে না কি করি,
রিশাদ মির্জা কে কল দিবো?
কিন্তু উনার নাম্বার তো নেই কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে উপায় পেয়ে যায়।
তাড়াতাড়ি ফোন লাগায় রাশেদা মির্জাকে একবার রিং হতেই কল ধরে।
হ্যাঁলো কে বলছো?
আন্টি আমি রুহি।
রুহির গলা শুনে ফোন কান ধরে নামিয়ে পাশে থাকা স্বামীর দিকে তাকায় তার পর একটি দূরে সরে যায়।
হ্যাঁ বলো ফোন করলে যে কোনো কিছু হয়েছে?
না আন্টি কিছু হয়নি তবে একটা দরকার আছে। রিশাদ ভাইয়ার নাম্বারটা একটু দেও।
রাশেদা প্রশ্ন করে তুমি রিশাদের নাম্বার নিয়ে কি করবে?
রুহি হকচকিয়ে যায় কি উত্তর দিবে তার পর ভেবে বলে,
আন্টি আমাদের কলেজে একটা ছেলে ডিসটার্ব করে তো এটাই বলতাম এজন্য নাম্বার চাইলাম।
ওহ আচ্ছা কিন্তু তোমার ভাই তো আছে ওকে না বলে রিশাদকে বলবে?
এই রে এখন কি বলবো?আন্টি তো দেখছি পুলিশের মতো জেরা কাটছে।
আসলে আন্টি ভাইয়াকে বললে একবারে মেরে শেষ করবে এজন্য বলছি না উনাকে বললে একটি সায়েস্তা করলে হবে।
নাম্বারটা কি দিবে?
আচ্ছা দাঁড়াও দিচ্ছি নোট করে নেও।
ধন্যবাদ আন্টি এখন রাখি তাহলে অন্য সময় কথা হবে।
ইফফ বাবাহ ফাইনালি নাম্বার পেলাম। আগেরবার রাফিয়ার থেকে নাম্বার নিয়েছিলাম কিন্তু বদমাইশ বেডা নাম্বার চেঞ্জ করছিলো তার পর মনে মনে ভেবেছিলাম আর নাম্বার নিবো না কিন্তু আজ আবার নিলাম আমি কতটা বেহায়া হয়ে গেছি। মানুষ ঠিকি বলে প্রেমে পড়লে বেহায়া, র্নিলজ্জ হতে হয় তার প্রমান আমি নিজেই। কিভাবে উনার প্রেমে পড়ে গেলাম বুঝতে পারিনা আগে স্কুল যাওয়ার সময় যখন মাঝে মধ্যে রাস্তার পাশে কিংবা অন্য কোথায় মানুষকে সাহায্য করতে দেখতাম প্রায় ভালো লাগতো এভাবে দেখতে দেখতে ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা তৈরি হলো ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে কত অপমানিত হলাম তবুও থামলাম না এজন্য কাল হয়তো উনার ভালোবাসার আভাস ও পেলাম মুখে ভালোবাসি না বলুক কাজে তো বুঝেছি একটু হলেও ভালোবাসে আমার এতেই শান্তি।
রিশাদ নিজের কেবিনে বসে আছে তখনি সুইটি কিছু ফাইল হাতে নিয়ে রিশাদের সামনে রাখে।
এই নেও তোমার সমস্ত ফাইলে আব্বু বুঝিয়ে দিলো।
রিশাদ সুইটিকে জিজ্ঞেস করে তুমি অফিসের কে?
কে আবার তোমার পি এ।
আমার পি এ হলে আমি তোমার কে হই?
অবশ্যই বস হও কেন?
আমি তোমার বস হলে নাম ধরে ডাকো কোন সাহসে? আমি কি তোমার ক্লাস ফ্রেন্ড যে নাম ধরে ডাকবে আর হলেও এটা অফিস স্যার বলে ডাকবে আর হ্যাঁ আমার কেবিনে আসার আগে নক কর আসবে। এটা অফিস অন্য কোনো সম্পর্ক এখানে নেই।
এসব নিয়ম মানতে না পারলে অফিসে আসার দরকার নেই।
সুইটি মনে মনে রাগে হলেও নিজেকে শান্ত করে রাগলে চলবে না যে করে হোক রিশাদ কে আমার করতে হবে।
সরি স্যার আর এমন ভুল হবে না।
সুইটি এক এক করে সব ফাইল রিশাদকে দেখাচ্ছে তখনি রিশাদের ফোনে কল আসে।
ফোনের স্কিনে ভেঁসে ওঠে মিষ্টি এক মেয়ের ছবি সাথে লেখা আছে প্রিয়শী।
সুইটির ভ্রু কুচকে আসে কে এই মেয়ে রিশাদ কে অন্য কাউকে ভালোবাসে? হয়তো বাসে তাই প্রিয়শী নামে নাম্বার সেভ করেছে। আমাকে বিষয়টা দেখতে হবে।
সুইটি তুমি একটু পর আসো আমার একটা জরুলি কল এসেছে।
সুইটিকে যেতে বলায় আরো রাগ ওঠে কে এই মেয়প জানতে ইচ্ছে করছে কে যে আমার জিনিসের উপর ভাগ বসিয়েছে। রাগে গিজগিজ করতে করতে বেরিয়ে গেল।
রিশাদ ফোন রিসিভ করলো।
হ্যাঁলো কে? জানে তবুও বুঝতে দিবে না এজন্য বলছে।
হ্যাঁলো আমি রুহি চিনতে পেরেছেন?
হুম বল ফোন দিয়েছিস কেম?
কেন আপনাকে ফোন দেওয়া যাবে না?
না সেটা বলিনি কাজ করছিলাম একটু আর তুই যে আমারে ফোন দিস এটা তোর বাপ জানলে কি হবে জানিস?
আপনি সব সময় তোর বাপ জানলে কি হবে, তোর বাপকে বলে দিবো এসব বলে মেজাজ গরম করান কেন?
আমার বাপ একদিন আপনার শশুড় হবে বুঝেছেন?
আমার কি কাজ নেই শত্রুর মেয়েকে বিয়ে করবো তোর বাপ যে কাজ করে আমার সাথে তার কোনো দিন মিলবে না।
রুহি এবার রেগে যায়।
আপনাকে ফোন দেওয়া আমার ভুল হয়েছে। আগের ূিন রাতের ঘটনায় ভেবেছিলাম একটু হলেও ভালোবাসেন কিন্তু না আপনি তো শুধু আমাকে খোঁটা দিতে প্রস্তুত থাকেন বলে রাগে ফোন কেটে দিলো।
রুহি ফোন কাটার পর রিশাদ হাঁসতে লাগলো। রেগে গেছে বাপরে নিয়ে বললে রাগতে সময় নেয় না কিন্তু আমার সাথে থাকতে হলে একদিন ও বাপের বিরুদ্ধে গিয়ে আসতে হবে সেটা বুঝতে পারে না।
চলবে…………………..?