#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:৭
রিশাদ আজকে ভোর বেলা ওঠে পড়েছে ঘুম আসছিলো না বিধায় বেলকনিতে থাকা মোড়ায় বসে দূর পান্তে তাকিয়ে দেখছে রাতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে পরিবেশটা অনেক স্নিগ্ধ লাগছে হালকা শীতল বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে। কিছু সময় পর নিজের চোখ বন্ধ করে নেয় সেখানে ভেসে ওঠে প্রিয়শীর মুখখানা।ভাবণা আরো গভীর হয়,
প্রিয় মানুষকে মনে মনে ভাবার অনুভূতি সুখকর। যখন তার কথা ভাবি, তখন আপনা আপনি তার হাসি, কথাবার্তা, পাগলামি মুহূর্তগুলোতে ডুবে যাই। এই চিন্তা মনের মধ্যে নতুন নতুন ছবি আঁকে—তার সঙ্গে কাটানো সুখের মুহূর্ত, বা একসঙ্গে চলার স্মৃতি।
যদিও তার সাথে পথ চলা শুরু হয়নি।
এতে যেমন আনন্দের অনুভূতি আসে, তেমনই মাঝে মাঝে একটি অস্থিরতা ও শূন্যতাও অনুভব হয়। তাকে কাছে থাকার ইচ্ছা, তার সঙ্গে সময় কাটাতে চাওয়া মুহূর্ত এইসব অনুভূতি মিশে যায়।
প্রিয়শী ভালোবাসার গভীরতা যদি মাপা যেত,
তাহলে সেখানে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার ওজন সবচেয়ে বেশি হতো।
“রিশাদ কখন ওঠেছিস?
মায়ের কথায় হুস ফিরে আসে। এদিক ওদিক তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করে সকাল হয়ে। তাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভোর পেরিয়ে সকাল হলো তবুও বুঝতে পারলাম না।
ভালোবাসার মানুষের কথা ভাবতে ভাবতে সকাল পেরিয়ে রাত হলেও প্রেমিকরা টের পায় না।
তার উদাহরণ আমাকেও দিতে পারে।
“কি রে আবার কই হারিয়ে গেলি?
-না আম্মু কোথাও হারাইনি আসলে অফিসের কাজের কথা ভাবছিলাম।
” অফিস নিয়ে সারাদিন টেনশন করতে হবে না তোর আব্বু সুস্থ হলে দুই বাবা ছেলে কাজ করলে প্রেসার কমে যাবে। তুই ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় আমি কফি বানাচ্ছি।
আম্মু চলে গেল। তাকে কি করে বোঝাই তার ছেলে অফিসের কাজে না তার প্রিয়শীর মায়ায়আটকে যাচ্ছে, তাকে পাওয়ার তৃষ্ণা জাগছে।
রুহি কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে ফুরফুরে মনে গান গাইতে গাইতে উপর থেকে নামে।
ডাইনিং টেবিলে মিজানুর চৌধুরীকে দেখে গান বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যায় ভেবেছিলো না খেয়ে বেরুবো কিন্তু তা আর হবে বলে মনে হয়।
পা টিপে টিপে আব্বুর পিছন দিয়ে দরজার কাছে যাওয়ার আগে দেখে ফেলে।
মিজানুর চৌধুরীআদেশ কন্ঠে বলে,
“না খেয়ে কোথায়ও যাবে না আগে খাবে তার পর কলেজে যাবে নয়তো যাওয়ার দরকার নেই।
‘আব্বু আমার ক্লাস শুরু ৯ টা ২০ মিনিটে ৯ টার আগে বেরোতে হবে সকাল সকাল আমার খেতে ইচ্ছে না।
” আমি যা বললাম তাই করো এখানে এসে বসো নাস্তা করে তার পর কলেজে যাও না আর তা না হলে নিজের রুমে যাও।
রুহি বাধ্য হয়ে ফিরে আসে টেবিল বসতেই বলে,
আম্মু খেতে দেও দেরি হবে।
“রুজিনা বেগম রাগ দেখিয়ে বলেন,
দেরি হচ্ছে বলে চিল্লাস কেন?এতোই যদি দেরি হয় আরো আগে আসতে পারিস না?
কালকে থেকে যেন তোকে সবার আগে টেবিলে দেখতে পাই।
‘না আর কাউকে কিছু বলা যাবে না বললেই হাজার কথা শুনতে হবে তার থেকে চুপ চাপ খেয়ে বাহির হই।
রুহি গাড়িতে করে কলেজে যাচ্ছে মাঝ রাস্তায় ড্রাইভার ব্রেক কষে।
রুহি বাহিরে দৃশ্য দেখতেছিলো ব্রেক করায় এদিকে তাকায়।
” কি হলো চাচা গাড়ি থামালেন কোন?
‘রাস্তার সামনে একটা গাড়ি আর একটা গাড়ির সাথে ধ্বাক্কা লেগেছে আম্মা তাই গাড়ি যাইবো না একটু অপেক্ষা করতে হবে।
রুহির চোখে মুখে বিরক্ততা ভর করে।
ধেত আজকে কলেজে যেতে লেট হবে ভালো লাগে না।
বিরক্তি মাখা চেহারা নিয়ে গাড়ির জানালা খুলে রাস্তার পাশে সবুজ প্রাকৃতিক পানে চায়। কি অপূর্ব দৃশ্য গাছ গুলো সতেজ মনে হচ্ছে আশে পাশে হাল্কা বৃষ্টি পানি জমে আছে বাতাসে স্নিগ্ধতা। বৃষ্টির পরের প্রাকৃতির সৌন্দর্য এমনি হয়।
রুহি আপন মনে ব্যস্ত আছে।
হঠাৎ পাশ থেকে কিছু ছেলে শিশ বাজিয়ে বলে,
ফুলটুসি দেখতে কিন্তু হেব্বি! দেখেই কেমন মাতাল লাগছে, ইচ্ছে করছে. …?
যদি পাইতাম একদিনের জন্য ও তবুও মজা নিতাম কি বলিস? বলে ৪ জন বন্ধু হাঁসাহাঁসি করতে লাগলো।
ছেলে গুলোর কথা শুনে রুহির রাগ ওঠে যায় সাথে ওদের বাজে কথায় খারাপ লাগে চোখের পানি টলমল করছে।
ছেলে গুলোকে দেখে আর ওদের কথা শুনে বিচ্ছরি মনে হচ্ছে সাথে কেউ নেই এজন্য কিছু বললো না ভাবলো বাসায় গিয়ে বাবাকে বলবে।
রাস্তা পরিষ্কার হলো গাড়ি ছাড়লো।
খানিকটা দূর যাওয়ার পর রুহি লক্ষ্য করলো ছেলে গুলো ওদের পিছু পিছু আসছে দেখে ড্রাইভারকে তাড়াতাড়ি গাড়ি চালাতে বলে কলেজের সামনে নামে এখানে কিছু বলতে পারবে না অনেক মানুষ আছে তাড়াহুড়ো করে কলেজে যেতে নেয় পিছন থেকে ছেলে গুলো কথা কানে আসে ওরাই বলাবলি করছে,
আজকে ফুলটুসিকে দেখে গেলাম অন্য একদিন নিয়ে মাস্তি করবো।
পিছন থেকে একজন ওদের সমস্ত কথা শুনে ফেলে।
“তোদের মাস্তি করা বাহির করবে একজন শুধু অপেক্ষা কর বলে,
একজনকে ফোন লাগায় সাথে সাথে ফোন রিসিভ হয় জিজ্ঞেস করে,
কি হয়েছে বল?
সমস্ত ঘটনা খুলে বলে অপরপাশের ব্যক্তির রাগ মাথায় ওঠে যায়। ওদের কাছে পেলে মনে হয় এখনি খু*ন করে ফেলবে।
‘অপরপাশ থেকে আবারো বলে,
ছেলে গুলোর উপর নজর রাখ আর রাতের মধ্যে আস্তানায় নিয়ে আসবি।
ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দেয়।
” ওয়েটিং ফর নাইট।
রাফিয়া কলেজে এসে দেখে রুহি কলোজের কাঠাল গাছের নিচে বসে আছে সাথে সাথিও রয়েছে। কাছে এসে রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে চোখে মুখে কেমন মন খারাপের চিহ্ন।
“কি রে কি হয়েছে এভাবে মন খারাপ করে বসে আছিস কেন? ক্লাসে যাবি না?
রুহির উত্তর দেয় না একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মাটির দিকে।
দ্বিতীয় বার আবার প্রশ্ন করায় উওর দেয় ভালো লাগছে তুই ক্লাসে যা আমি যাবো না।
” কি হয়েছে আমার দিকে তাকা তো বলে রুহির মুখ ওর দিকে ঘোরায় দেখে চোখে পানি টলমল করছে।
কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বল নয়তো খারাপ হবে।
রুহির রাফিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না সরে
সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
এই সামান্য বিষয় নিয়ে তুই কাঁদবি? তুই না স্ট্রং?
মানুষ বাজে কথা বলতেই পারে আর এমন বাজে কথা যেন বলতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। তোর ভাইয়াকে বলে দিবি উনি সায়েস্তা করবেন আর ছেলে গুলো মনে হয় যানে না তুই চেয়ারম্যানের মেয়ে।
ভাইয়া কালকে আসবে তার পর কলেজে আসবো ওকে সাথে নিয়ে।
আচ্ছা এবার কান্না থামা তুই এতো কাঁদুনি হলি কবে? বিয়ের সময় এইরকম কান্না করবি নাকি? আমার ভাই কিন্তু কাঁদুনি মেয়ে পছন্দ করে না তখন দিবে এক থাপ্পড়।
রাফিয়ার কথায় রুহি হেঁসে ওঠে।
রাফিয়া রুহিকে হাঁসানোর জন্য কথা গুলো বলছিলো যাতে মুখে হাঁসি ফোঁটে।
রুহি আবারো রাফিয়াকে জড়িয়ে ধরে।
আমি জানি তুই আমাকে হাঁসানোর জন্য এসব বললি।
তোর মতো ব্রেস্ট ফ্রেন্ড পেয়ে আমি সত্যি খুশি।
ব্রেস্ট ফ্রেন্ড আসলে এরকমি হয় হাজারো মন খারাপে সে হাঁসাতে পারে।
ব্রেস্ট ফ্রেন্ড সবচেয়ে ভালো বন্ধু, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরা আমাদের সুখ-দুঃখের সাথী, বিশ্বাসের ধারক। ব্রেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক খুব গভীর হয়, যেখানে অনুভূতি, চিন্তা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়।
একজন ভালো বন্ধু আপনাকে সমর্থন করে, কঠিন সময়ে পাশে থাকে এবং আনন্দের মুহূর্তগুলোকে আরও বিশেষ করে তোলে। বন্ধুত্বের এই বন্ধন আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এমন বন্ধুত্ব আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে। সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যত্ন নেওয়া সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
আমার জীবনে তোর ভূমিকা অনেক শেষ অবধি তোকে পাশে চাই।
রুহি রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে এসব ভাবছিলো।
“কি রে আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাবছিস?
তোর মন খারাপ তাই আজকে ক্লাস করবো না চল ভেলপুরি খেতে যাবো।
রুহি রাজি হয়ে যায় খুশিতে দুজন চলে কলেজের বাহিরে যায় রুহি ও ভুলে যায় সেসব কথা।
চলবে…………….?