তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-০৮

0
218

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:৮

হাত পা বাঁধা অবস্থায় অন্ধকার রুমে আটকে রাখা হয়েছে কয়েকটা ছেলেকে তারা চিৎকার করে বলছে,
আমাদের এখানে আটকে রেখেছেন কোন? ছেড়ে দিন নয়তো ভালো হবে বলে দিলাম আমরা কে আপনারা চিনেন না।

“আমি কে সেটা তোরা জানিস? আমি তোদের বাপ রে ভয় আমারে দেখাস না। ভয় এবার তোরা পাবি,

কারো কথা শুনো ছেলে গুলো সামনে তাকায় দেখতে পায় হুডি পরা এক ব্যক্তি।
ধীরে ধীরে ছেলে গুলোর কাছে আসে হাতের কাছে থাকা একটা রট হাতে তুলে নেয় সেটা দিয়ে সব কয়টা ছেলেকে বেধরম পেটাতে থাকে,

ছেলে গুলো মারের চোটে কাতরাতে থাকে।
‘আমরা কি আপনার ক্ষতি করেছি আমাদের মারছেন? আপনাকে তো আমরা চিনিও না।

” ক্ষতি তো করেছিস অনেক বড় ক্ষতি করেছিস। আমার কলিজার চোখে জল এনেছিস। ভাইয়ের আদরের বোন কে বাজে কথা বলেছিস এটাই তোদের অপরাধ।
সকালে কলেজের সামনে একটা মেয়েকে কি বলছিলি মনে আছে?

ছেলে গুলো ভয় পেয়ে যায় এবং অনুনয়ের সাথে বলে আমরা না জেনে ভুল করেছি বস আর এরকম হবে না এবারের মতো মাফ করে দিন বলে সামনে থাকা ব্যক্তির পা ধরতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
পা ঝাড়া দিয়ে সব গুলোকে ফেলে দেয় কয়েকজন গার্ডকে বলে এদের আর একটু সায়েস্তা কর আধমরা হলে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে আসবি।

গোডাউন থেকে বেরিয়ে হুডিটা খুলে ফেলে।

” ইফফ এই গরমে হুডি পরে থাকা সম্ভব নয়।

‘তোর মতো শান্ত ছেলের মধ্যে এতো তেজ আছে আগে জানতাম না তো। আমি শুধু ভাবতাম তুই মানুষের সেবা করতে পারিস।

পিছনের ব্যক্তির কথায় হেঁসে উত্তর দেয়।

“ডাক্তাররা যেমন মানুষের সেবা করতে পারে তেমন আঘাত করতে পারে।
সে বোন হয় আমার তার দিকে কেউ বাজে নজরে তাকালেও শেষ করে দিলো।

‘বাহ রোহান চৌধুরী ডাক্তারির সাথে ভিলেনগিরি করলেও পারিস বেশ ভালো পারবি।
বলে হাঁসতে থাকে আকাশ।

” তোর হাঁসি বন্ধ কর নয়তো তোরেও পিটাবো তখন মজা বুঝবি।
তবে ভুল বলিসনি ডাক্তারির সাথে ভিলেনগিরি করবো যখন কেউ আমার বোন আর মায়াবিনীর দিকে বাজে নজরে তাকাবে।

সোহান ভ্রু কুচকে তাকায়, জিজ্ঞেস করে,
এই মায়াবীনিটা আবার কে?মামা প্রেমে পড়লি নাকি?
কই আমাকে তো বলিসনি? আমি না তোর স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড সব তো এটা তো বলিসনি?

“আছে কেউ একজন যারে না চাইতেও ভালোবেসে ফেললাম। তার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেললাম, তার চাহনিতে নিজের জন্য ভালোবাসা দেখতে পাই। তার নামটা অপ্রকাশিত থাক যদি কখনো পাওয়ার সুযোগ হয় তবে বলবো।

‘ভালোবাসলে পাবি না কেন?

” ভালোবাসার পথে শত বাঁধা থাকে আর আমাদের সম্পর্কের মাঝে হাজারো বাঁধা।
সেগুলো পেরোতে পারলে তাকে পাবো।
ভালোবাসা সত্যি হলে হাজার বাঁধা পেরিয়ে তাকে কাছে আনবো যদি সে আসতে চায়।

তাকে যদি না পাই তাহলে দুঃখের অনলে পুড়বো,
আর পেলে তাকে নিয়ে সুখের সংসার গড়বো।

বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে তবে ভালো যখন বেসেছি ছাড়বো না নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে পাওয়ার চেষ্টা করবো।

‘দোস্ত তাহলে তাকে পেতে হলে তোকে বিদ্রোহী প্রেমিক হতে?

“তাকে পেলে যদি বিদ্রোহী প্রেমিক ও হতে হয় তাতে ক্ষতি কি?
তার জন্য শুধু বিদ্রোহী প্রেমিক নয়,
প্রেমের যুদ্ধের মাঠে জীবন কুরবান করে শহীদ হতেও রাজি।

‘আচ্ছা বাবা প্রেমিক পুরুষ এবার বাসায় যান মিটিং শেষ করে সোজা এখনে এসেছিস এখন বাসায় গিয়ে রেস্ট নে আমিও যাই আজকে যদি পলির সাথে দেখা করতে কলেজে না যেতাম তবে ছেলে গুলোর কথা শুনতে পেতাম না।

“রোহান পাশে থাকা সোহানকে বলে,
পলির সাথে সম্পর্ক কত দূর?

‘সম্পর্ক অনেকটা এগিয়ে গেছে সে আমায় ভালোবাসে আর আমি তাকে।

” ভালোবাসলে বিয়ে করে নে তোদের পথে তো কোনো বাঁধা নেই আর মেয়েটাও ভালো একদিন ওর মাকে নিয়ে চেম্বারে এসেছিলো আর একদিন রাস্তায় দেখা হয়েছিলো বড় ভাই হবে হিসাবে সম্মান করে।

‘করবো খুন শিগগিরই এখন চল বাসায় যাই।

দুজনে গাড়িতে ওঠে পড়ে। সোহানকে ওর বাসায় নামিয়ে দিয়ে নিজের বাসার আসার সময় মির্জা বাড়ির সামনে দিয়ে আসতে হয়। বাসার একটু দূরে গাড়ি দাঁড় করার মনে অদম্য ইচ্ছে জাগে মায়াবিনীকে এক নজর দেখার গত দুইদিন হলো দেখিনি।
ফোন লাগায় রাফিয়ার নাম্বারে প্রথম বার দেওয়াতেই ধরে ফেলে।

“ফোনের জন্য অপেক্ষা করে থাকো নাকি?একবার দিতেই ধরে ফেলো।

‘যদি অপেক্ষা করাতাম তাহলে কি ভালো হতো?

” স্পেশাল মানুষের জন্য অপেক্ষা করা মন্দ নয়।

‘অপেক্ষায় প্রহর বড্ড যন্ত্রণা দায়ক এটা সামন্য অপেক্ষা,
তবে যেদিন কাউকে খুব করে চেয়ে পাবেন না সেই সেই যন্ত্রণা টা হবে পাহাড় সমান।

“বাহ সুন্দর ডেফিনেশন।
এখন এসব কথা রাখো একটু বেলকনিতে আসো।

‘কেন?

” কেনর উওর নেই তাড়াতাড়ি আসো।

রাফিয়া এক পা দু পা করে বেলকনিতে যাচ্ছে বুঝতে পারছে না কেন যেতে বলছে।
বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াতেই সুদূরে থাকা প্রেমিক পুরুষকে দেখতে পায় মুখে ফুঁটে ওঠে চাঁদের হাঁসি।

‘আপনি কখন আসলেন?

“এসেছি একটু আগেই এখনো বাসায় যাইনি। কাউকে কথা দিয়েছিলাম দেখা করবো আগেরবারের মতো সে কথা খেলাপ করতে পারিনা।

‘আপনি বাসায় যান বাসার কেউ দেখতে পেলে সমস্যা হবে।

” ঠিক আছে যাচ্ছি যে কাজে এসেছিলাম সেটা তো হয়েছে।

‘রাফিয়া চট করে প্রশ্ন করে কি কাজে?

“এক মায়াবিনীকে দেখার তৃষ্ণা জেগেছিলো এ হৃদয়ে,
মায়াবিনীর চোখের দিকে তাকিয়ে সে তৃষা সময় সাপেক্ষে চলে গেল কিন্তু কখন জানি আবার তৃষ্ণা এসে ভর করে।

রোহান কথাটুকু বলে কল কাটলো গাড়ি নিয়ে চলে গেল বাসার পথে। এদিকে রাফিয়া ফোনটা বুকের মাঝে নিয়ে চোখ বন্ধ করে কিছু অনুভব করছে মনে তার খুশির ঝলক। বুক থেকে ফোন সামনে এনে অন করতেই প্রেমিক পুরুষের মুখটা ভেসে ওঠে লক স্কিনে তাহার ছবি থাকে।

রাতের আধাঁর ফুরিয়ে সূর্যদয় হলো সূচনা হলো আবারো এক নতুন দিনের।
কেউ ব্যস্ত পায়ে ছুটছে অফিসের কাজে কেউবা ছুটছে স্কুল কলেজে আবার কারো জীবন চলছে বেকারত্বের হতাশায় গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে।
জীবন বড়ই কঠিন তার থেকেও বেশি কঠিন বেকারত্ব ভোগা ব্যক্তি যার নিজেকে কথা শুনতে হয় দৈনন্দিন। একদিন সে ছেলটার ও বেকারত্ব ঘুচিয়ে যাবে,
নিজেকে গড়ে তুলতে কর্মঠ্য।

রিশাদ বাইক নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্য বেরিয়েছে।
রফিক মির্জা এখন সুস্থ হওয়ায় তিনি নিজেও অফিসে যাচ্ছেন নিজের গাড়িতে করে যেতে বললেন শোনোনা সে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী বাইকে করে গেল।

রফিক মির্জা মনে মনে ভাবে রিশাদকে এবার ঠিক করতে এমন একজনকে আনতে হবে যে ওকে বেপরোয়া চলাফেরা আর মানুষের উপকারের ঝামেলা থেকে দূরে রাখবে।

রুহি রিকশা করে কলেজে যাচ্ছেলো হঠাৎ রিকশার সামনে বাইক দাঁড়ানোর কারনে রিকশা থেমে যায় ঝুকে পড়তে নিলে নিজেকে সামনে নেয়। রাগে গিজগিজ করতে সামনের ব্যক্তিকে না দেখে কিছু বলতে নিলে সামনে তাকিয়ে রিশাদকে দেখে চুপ হয়ে যায়।

“রুহি রিকশা থেকে নামে ভাড়া দিয়ে রিকশা ওয়ালাকে যেতে বলে।রিশাদের পানে রাগি চোখে তাকায়,

“ এভাবে আচমকা সামনে দাঁড়ালেন কেন?আর একটু হলে আমি পড়ে যেতাম। এমন ভাবে দাঁড়ালেন মনে হলো কোনো গুন্ডা এসলো।

‘পড়ে গেলে আমি ধরতাম আর গুন্ডা মাস্তান সেসব তো তোর বাপ বলতো এখন দেখি তুই ও বলিস বাহ্!

“তাছাড়া কি বলবো আর আপনি এসেছেন কেন?

‘কাউকে দেখতে এসেছি অভিমান ভাঙ্গাতে এসেছি।

“ শত্রুর মেয়ের অভিমানে আপনার কি আসে যায় মিস্টার রিশাদ মির্জা?

‘রিশাদের মুখ হা হয়ে গেছে এই মেয়ে বলে কি?
আমি তোর বড় নাম ধরে বলছিস?

‘সরি বাট আপনার সাথে একরকম সম্পর্ক তো হওয়া উচিত তাই না কারন আমি আপনার শত্রু।
আমার কলেজে দেরি হচ্ছে গেলাম।

‘রাগের পাওয়ার বেড়ে গেছে এদিকে আমার হার্ডবিট ও বেড়ে গেছে কি করি এরে নিয়ে কিছু একটা করতে হবে যাতে তার রাগ অভিমান ভাঙ্গে।

রিশাদ অফিসে যাওয়ার জন্য বাইটি ওঠে স্টাট দেয় তখনি পিছন থেকে কেউ ডাক দেয়।
ডাক শুনে বাইক থামায়। একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক মেয়ে আগে কখনো দেখেছে বলে মনে পড়ছে না তাহলে ডাক দেওয়ার কারণ কি?হয়তো কোনো বিপদে পড়তে পারে ভেবে এগিয়ে যায় সেদিকে।
মেয়েটার কাছে যায়।
“ কিছু হয়েছে?বা কোনো দরকার ডাকলে যে?

‘মেয়েটা আমতা আমতা করতে থাকে দেখে রিশাদ আশ্বাস দেয়।র্নিভয়ে বলো তুমি আমার ছোট বোনের মতো।

একথা শুনে মেয়েটার মুখে হাঁসির ঝলক দেখা গেল। হাতে ওড়না পেঁচিয়ে রাখা কোনটা ছেড়ে দেয়।

‘ভাইয়া আমি আকাশের খালাতো বোন হই। আপনি আমাকে না চিনলেও আমি আপনাকে চিনি আকাশ ভাইয়ার ফোনে আপনার ছবি দেখেছি।

“তুমি আকাশের বোন সেটা আগে বলবে তো তা এদিকে কোনো দরকার?

‘জ্বী! দরকারটা আপনার সাথে।
আমি আসলে আকাশ ভাইয়াকে ভালোবাসি কিন্তু উনি আমায় ভালোবাসতে চান না।আমার জন্য উনার মনে বিন্দু পরিমান হলেও অনুভূতি আছে কিন্তু উনি শিকার করতে রাজি নন।উনি দ্বিতীয় বার ভালোবাসতে ভয় পান তার মনে হয় সে যাকে ভালোবেসে ধরে রাখতে পারেনি জীবনে নাকি আর কাউকেই পারবে না। তার লাইফ থেকে একজন চলে গেছে বলে সবাই চলে যাবে ভাবে কিন্তু এ ভাবনা তো ভুল।
আপনি তো তার বেস্ট ফ্রেন্ড আপনি একটু বুঝাবেন তাকে সে যেন আমায় একটু ভালোবাসে আগলে রাখার দ্বায়িত্ব আমার বেশি ভালোবাসা লাগবে না আলপো হলেও চলবে।

রিশাদ আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে সামনে থাকা মেয়েটার দিকে বয়স কত হবে?এই হয়তো রাফিয়ার বয়সে বা তার থেকে একটু ছোট হলেও হতে পারে কিন্তু কথা?
ভালোবাসার কাঙ্গাল সবাই কারো মানুষের ভালোবাসা আবার কারোর টাকার তবে এটুকু মেয়ের মধ্যে ভালোবাসার মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার তীব্র আখাংকা।

“ঠিক আছে আমি আকাশকে বুঝিয়ে বলবো। এক বোন তার ভাইয়ের কাছে কিছু চেয়েছে না দিয়ে পারে।

‘সামনের মেয়েটি হেঁসে কৃতজ্ঞতা জানায়।
আমি এবার আসি ভাইয়া ভালো থাকবেন।

“তোমার নামটা কি?

‘আমার নাম মৌরি।

মৌরি ফুলের সুবাস যেমন,দেখতে তেমন স্নিগ্ধ,
আকাশের বুকেও একদিন সৌন্দর্য বাড়াবে ছড়িয়ে দিয়ে সুগন্ধ

চলবে……?