তুমি শুধু গল্প না আমার ভালোবাসা পর্ব-৫৮ এবং শেষ পর্ব

0
41

#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#শেষ_পর্ব_১ম_অংশ

আব্রাহামের মা আব্রাহামের উদ্দেশ্যে বলল।

কেনো এভাবে নিজেকে শাস্তি দিচ্ছিস বাবা। তুই যে ভুল করেছিলে তার কম শাস্তি কি তুই পেয়েছিস।আর কেউ না দেখুক আমি তোর মা আমি তো জানি তুই কতটা কষ্ট পেয়েছিস ও পাচ্ছিস।আমি তোকে কখনো বুঝতে দেয়নি কিন্তু আমি তো দেখেছি আয়নার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান পেয়ে তুই বারবার কিভাবে ভেঙে পরেছিস।আমি তো দেখেছি তুই কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছিস। তুই কতটা কষ্ট নিজের মনের ভিতর চেপে রেখেছিলি তা আমি তো দেখেছি।এই সকল কষ্ট কি যথেষ্ট নয়। কেনো তুই এখনো নিজেকে এতটা কষ্ট দিচ্ছিস। কেনো তুই তোর পায়ের চিকিৎসা করাচ্ছিস না।তোর বাবা ও আমি বারবার বলার পরেও তুই বিদেশ গিয়ে নিজের চিকিৎসা করাচ্ছিস না। কেনো তুই তোর পঙ্গুত্ব কে গ্রহণ করে নিচ্ছিস। আমাদের কথা তো একটিবার ভাব আমরা তোর এই অবস্থা দেখে কতটা কষ্ট পাচ্ছি।

মায়ের কথা শুনে আব্রাহাম বেদনাদায়ক একটি হাসি দিয়ে বলল।

আমার শাস্তি যে এখনো শেষ হয়নি মা।আমি কিভাবে নিজের চিকিৎসা করাবো বলো। যেখানে আমার ভালোবাসার করুন অবস্থা হয়ে আছে।আমি কিভাবে নিজেকে শাস্তি না দিবো বলো যেখানে আমি সামনে থাকা সত্ত্বেও আমার ভালোবাসার এই অবস্থা।আমি কিভাবে নিজেকে ক্ষমা করবো যেখানে আমার জন্য আমার ভালোবাসার এত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমার দেওয়া আঘাতের কারণে ওকে নিজেকে এত শক্ত বানাতে হয়েছে যে ও নিজের ভালোবাসাকেও ভুলতে বাধ্য হয়ে গিয়েছে। কেউ কি নিজের ভালোবাসা কে নিজের মন থেকে মুছে ফেলতে পারে। কিন্তু আয়না পেরেছে শুধু মাত্র আমার দেওয়া কষ্টগুলোর কারনে। তুমি আমার কষ্ট দেখছ আমার তো শুধু পায়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছে আর আয়না ওর কথা একবার ভেবে দেখো।আমি তোমাদের সাথে কথা বলতে পারছি। তোমাদের সাথে হাসতে পারছি। নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে পারছি কিন্তু আয়না ও তো কিছুই করতে পারছে না। নিজের আপন মানুষগুলোকে চোখের সামনে দেখার পরেও ওদের সাথে কথা বলতে পারছে না। নিজের কষ্ট ভাগ করে নিতে পারছে না। আয়নার বাবা মা নিজের চোখের সামনে মেয়ের এই অবস্থা দেখে ওনাদের যে অনেক কষ্ট হচ্ছে।আর তুমি বলছো আমি কষ্টে আছি।

কথাগুলো বলেই আব্রাহাম বের হয়ে যায় বাড়ি থেকে। আব্রাহাম আর কিছুক্ষণ ওর মায়ের সামনে থাকলে হয়তো নিজের অনুভূতিগুলো কে সামলানো বড়ো দায় হয়ে পরতো তাই আব্রাহাম বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।আর আব্রাহামের মা ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে অশ্রু সিক্ত চোখে।
___________________________________
আজ সাইরার বিচার বসেছে ওদের বাড়িতে।সাইরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সকলের সামনে।সিরাত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাইরার দিকে।সাইরা কাঁদছে সাইরা শুধু কি কাঁদছে কাঁদতে কাঁদতে সাইরার হেঁচকি ওঠে গেছে তবুও যেনো ওর কান্না থামছে না বা ওপরে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না।সিরাত ও সাইরার মা ও বড়ো বোন ওর ও রাজের মধ্যের সম্পর্ক জেনে গিয়েছে।এর মধ্যেই হঠাৎ সিরাত কঠিন কন্ঠে বলে উঠলো।

ছেলেটা কে?

সাইরা কিছু বলছে না চুপচাপ মাথা নিচু করে কেঁদেই চলেছে। রেহানা বেগম ও মহিমা সোফায় বসে শুধু পর্যবেক্ষণ করছে সাইরা কে। যেখানে সিরাত আছে সেখানে ওদের কিছু বলার প্রয়োজন নেই তাই ওরা চুপচাপ বসে শুধু সামনে কি হবে তা দেখার অপেক্ষা করছে।

সাইরা কে কিছু বলতে না দেখে সিরাত ধমকের স্বরে আবার বললো।

আমি জিজ্ঞেস করেছি ছেলেটা কে?

সাইরার কন্ঠ কাঁপছে, তবুও ও কাঁপা কাঁপা
কন্ঠে বলে উঠলো।

রা…রাজ

রাজের নাম শুনে মহিমা ও রেহানা বেগম অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সিরাতকে দেখে মনে হচ্ছে না ও সামান্য পরিমাণও অবাক হয়েছে।সিরাত সাইরা কে আর কিছু বলতে না দিয়ে সোজা রুমে চলে গেল এবং ফোন লাগালো রুদ্র কে।

রুদ্র ফোন বাজতেই রুদ্র ফোন হাতে তুলে নিয়ে সিরাতের নাম্বার দেখে সময় ব্যয় না করে ফোনটি রিসিভ করলো।

ফোন কানে ধরতেই সিরাত রুদ্রকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে উঠলো।

তোমার বন্ধু কে বলো ওর বাবা মাকে নিয়ে কিছুক্ষণের মাঝে আমার বাড়িতে আসতে।

কথাটি বলেই ফোনটি রেখে দিলো সিরাত। এদিকে রুদ্র হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে।সিরাত যা বলল তা যেনো ওর মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। কেননা সিরাত রুদ্রের বন্ধুর কথা বললেও কোন বন্ধুর বাবা মাকে নিয়ে সিরাতের বাড়িতে যেতে বলেছে তা কিছুই সিরাত বলেনি। রুদ্র এইসকল কথা ভেবে নিজের মাথায় একটু চাপ প্রয়োগ করতেই বুঝে গেল সিরাত যে রাজের কথা বলেছে।তাই রুদ্র সময় ব্যয় না করে রাজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
___________________________________
রাজ ওর বাবা মায়ের সাথে এখন বসে আছে সাইরার বাড়ির সোফায়। বাড়িতে আয়নার কাছে হৃদিতা ও নূরকে রেখে আসায় আয়নাকে নিয়ে এতটা চিন্তা হচ্ছে না। কিন্তু এখন চিন্তা হচ্ছে সাইরা কে নিয়ে রাজ সাইরাদের বাড়িতে প্রবেশ করার সময় সাইরার চোখ দুটো দেখে বুঝতে পেরেছে সাইরা যে প্রচুর পরিমাণ কান্না করেছে। রুদ্র রাজকে যখন হঠাৎ গিয়ে বলেছিল সিরাত ওকে ওর বাবা মায়ের সাথে নিজের বাড়িতে ডেকেছে তখনি রাজ বুঝতে পেরেছিল অবশ্যই কিছু ঘটেছে।

সিরাত রাজের সামনে এসে কিছুটা গম্ভীর গলায় বলল।

তুমি সত্যি আমার বোনকে ভালোবাসো নাকি শুধু টাইম পাস করছো।

সিরাতের কথার জবাবে রাজ বললো।

যদি টাইম পাস করতাম তাহলে তোমার বলার সাথে সাথেই আমার বাবা মাকে নিয়ে এখানে হাজির হতাম না।

রাজের কথায় সিরাতের মধ্যে কেনো প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।সিরাত আবার রাজের উদ্দেশ্যে বলল।

বিয়ে করবে আমার বোনকে,

হ্যা করব,

রাজের কথা শুনে সিরাত এখন ওর বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল।

আপনাদের কি কোনো সমস্যা আছে ওদের বিয়েতে।যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এখন এই মুহূর্তে ওদের মধ্যে থাকা সকল সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। না আমার বোন আপনার ছেলের সাথে কোনো যোগাযোগ করবে না রাজ আমার বোনের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারবে । আমার হারাম সম্পর্ক এমনিতেও পছন্দ না।আর যেখানে ওর এক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না সেখানে ওদের কোনো অনুভুতি রেখেও লাভ নেই।যেই বাড়িতে আমার বোনের কোনো সম্মান থাকবে না সেই বাড়িতে আমার বোনের বিয়ে দিবো না।তাই আপনারা যদি রাজি না হোন তাহলে এই বিয়ে হবেনা।

সিরাতের কথায় রাজের বাবা মা ওর দিকে তাকিয়ে আছে।সিরাত যে কত শক্তপোক্ত একটি মেয়ে তা ওর কথা শুনেই ওনারা বুঝতে পারছেন। রাজের বাবা চাই না রাজ নিজের ভালোবাসার বলিদান দেওক তাদের জন্য এমনিতেও ওনাদের এক সন্তানের আজ কি অবস্থা ওনারা চান না রাজের ও এমন কিছু হোক। তাই ওনারা ও সম্মতি জানালেন। তখনি রাজ সিরাতের উদ্দেশ্যে বলল।

আমি এখন সাইরা কে বিয়ে করতে রাজি আছি। কিন্তু আমি চাই এখন শুধু কাবিন করে রাখতে। বিয়ের অনুষ্ঠান তখনি হবে যখন আয়না সুস্থ হয়ে যাবে। এবং এখন কাবিন আমার বাড়িতে আমার বোনের সামনে হবে।

রাজের কথায় সিরাত সম্মতি প্রকাশ করে বলল।

আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তুমি বাড়িতে যেয়ে কাজী ডেকে আনো এবং যাদের জরুরি ডাকা প্রয়োজন তাদের ডেকে আনো। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে আসছি।

রাজ ও ওর বাবা বের হয়ে যায় নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

রাজ চলে গিয়েছে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।রুদ্র এখন সিরাতের সাথেই আছে।রাজ চলে যেতেই মহিমা সিরাতের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো।

তুই সাইরার বিয়ে এভাবে হঠাৎ ঠিক কোনো করলি।সাইরা একটি ভুল করেছে, আমাদের উচিত ওকে বুঝানো ওকে সঠিক রাস্তা দেখানো।ওকে কি এখন বিয়ে দেওয়া ঠিক হবে। তাছাড়া আমরা মাত্র কিছুদিন ধরে জানি ওই ছেলেকে। ভবিষ্যতে ওই ছেলে যদি সাইরা কে ধোকা দেয় তাহলে। আমার বোনের কি হবে।ও নিজেকে কিভাবে সামলাবে।

মহিমার কথা শুনে সিরাত ওর উদ্দেশ্যে বলল।

রাজ কেমন ছেলে তা আমি ভালোভাবে না জানলেও আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোভাবে জানি ও চিনি। রুদ্র কখনো এমন কারও সাথে আমার বোনের বিয়ে হতে দিবে না যে আমার বোনের জন্য সঠিক না। এবং আমি বা তুই কেউ আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবগত নই। শুধু আল্লাহ জানে আমাদের ভবিষ্যতে কি ঘটবে। ভবিষ্যতে যে শুধু রাজ বদলে যাবে এমন না হয়ে তো সাইরা ও বদলে যেতে পারে।তাই আমাদের উচিত না কখনো ভবিষ্যতের জন্য নিজের বর্তমান নষ্ট করা। ভবিষ্যতে কিছু হলে তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।

সিরাতের কথা শুনে রুদ্র তাকিয়ে থাকে সিরাতের দিকে।সিরাত যে ওকে এত বিশ্বাস করে তা ও কখনো ভাবেনি নি। রুদ্র মাথা নিচু করে মুচকি হাসে।
___________________________________
ঢাক ঢোল পিটিয়ে না, অনেক সাধারণ ভাবে সম্পূর্ণ হলো রাজ ও সাইরার বিয়ে। শুধু কিছু আত্নীয় নিয়ে। রাজের নিকট আত্মীয় ও ওর বন্ধুরা ছিল এই বিয়েতে।আর সাইরার পক্ষে থেকে শুধু ওর মা আর দু বোন।এ নিয়ে অবশ্য রাজের আত্নীয়রা কিছু বলতে চাইছিলেন কিন্তু রাজ ওদের কিছু বলার সুযোগ দেয়নি।যেনো এখন থেকেই নিজের স্ত্রীকে মানুষের কু নজর থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে।সাইরার মুখে এখন লজ্জা লজ্জা ভাব।সাইরা কখনো ভাবেনি সিরাত এত তাড়াতাড়ি ওর ও রাজের বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যাবে।ওর ভাবতেও অদ্ভুত লাগছে সাইরাও এখন বিবাহিত।আয়না ও নিজের ভাইয়ের বিয়ে দেখে খুবই খুশি হয়েছে।তা আয়নার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। আয়নার চোখে মুখে ফুটে উঠেছে খুশির রেশ।

#চলবে….

#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#শেষ_পর্ব_শেষ_অংশ

রুদ্রের যেনো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।ওর আর অপেক্ষা সইছে না। মনের ভিতরে কেমন যেনো অস্থিরতা অনুভব হচ্ছে। অনবরত রুদ্র নিজের পা দুটো দিয়ে মেঝেতে আঘাত করছে তা থেকেই রুদ্রের ব্যাকুলতা প্রকাশ পাচ্ছে। রুদ্রকে পাশে বসেই রুদ্রকে বারবার পর্যবেক্ষণ করে চলেছে সিরাত। রুদ্রের মনের ভিতর অস্থিরতা কাজ করলেও সিরাত খুব শান্ত ভাবে বসে আছে।সিরাত রুদ্রের এই অবস্থা দেখে রুদ্রের উদ্দেশ্যে বলল।

এমন বিহেভ করছ কেনো?

রুদ্র সিরাতের কথা শুনে বলল।

আমাকে তুমি বলছ এমন বিহেভ করছি কোনো।এটা জানা সত্ত্বেও আমরা এখন কি পরিস্থিতিতে আছি।এক তো তুমি আমাকে হঠাৎ করে অফিস থেকে হসপিটালে ডেকে এনেছ তার উপর আমাকে বলছো না কি হয়েছে। বারবার বলছো যে তোমার রিপোর্ট আসছে। কিসের রিপোর্ট এটাও বলোনি। আমার টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু তবুও তুমি আমাকে বলছো না হয়েছে কি।

এক দমে কথাগুলো বলে থামে রুদ্র।সিরাত খুব মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনছিলো।সিরাত রুদ্রের কথার প্রতি উত্তরে কিছু বলার আগেই কেবিনে প্রবেশ করলেন ডাক্তার। ডাক্তার রুমে আসায় ওরা দুজন চুপ হয়ে যায়। ডাক্তার নিজের বরাদ্দকৃত চেয়ারে বসে পরে এবং সিরাতের উদ্দেশ্যে বলল।

আপনার রিপোর্ট এসে পরেছে,আপনি যা সন্দেহ করেছিলেন তা ঠিক হয়েছে।

কথাগুলো বলেই ডাক্তার সিরাতের দিকে এগিয়ে দেয় ওর রিপোর্ট।সিরাত ডাক্তার কে বলল।

আমাকে না ওকে দিন না হলে কিছুক্ষণের মধ্যে ও হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাবে।

রুদ্র কাঁপা কাঁপা হাতে রিপোর্ট গুলো নিজের হাতে নেই।ওর বুকের ভিতর এখন ধুকধুক করছে খুব তীব্র ভাবে। আল্লাহ জানে রিপোর্টে কি আছে। রুদ্র বিসমিল্লাহ বলে রিপোর্ট টি খুলতেই কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল রুদ্র। রুদ্র এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ওর হাতে থাকা রিপোর্টির দিকে।ওর যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না সিরাত প্রেগনেন্ট।

রুদ্র সিরাতের দিকে তাকায়,সিরাতে মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রুদ্র এখন বুঝাতে পারবে না ওর অনুভূতি। রুদ্র সিরাতের হাত দুটো নিজের হাত দ্বারা আঁকড়ে ধরে বলল।

ধন্যবাদ, আমাকে এত বড়ো একটি উপহার দেওয়ার জন্য।
___________________________________
পুরো বাড়ি আলোতে জ্বলমল করছে। বাড়ির আনাচে কানাচে মানুষের আনাগোনা বেড়েই চলেছে।সকলে মেতে আছে হাসি ঠাট্টায়।আজ যে অনেকদিন পর এই খুশির মুহুর্তে এসেছে।পুরো দু বছর পর আজ সকলের মুখে এই বিস্তৃত হাঁসির রেখা দেখা যাচ্ছে।আজ বিয়ের উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো বাড়ি। তবুও যদি একটি বিয়ে হতো তাহলেও হতো।আজ যে একসাথে দুটি বিয়ে হচ্ছে।আজ একসাথে দুটো জুটির ভালোবাসা পূর্ণতা লাভ করছে।

রুদ্ররা হাসি ঠাট্টা করছে একজন আরেকজনের সাথে। রুদ্রের পাশে সিরাত বসে আছে ছ মাসের উঁচু পেট নিয়ে। রুদ্র নিজের বন্ধুদের সাথে গল্প করার সাথে সাথে সিরাতের সম্পূর্ণ খেয়াল রাখছে।সিরাতকে ঘিরে কোনো কিছু রুদ্র এখন না নিজে হেলাফেলা করে আর না কেউ সিরাতকে ঘিরে কোনো প্রকার হেলাফেলা করলে ও সহ্য করে।

হৃদিতা ফাজলামোর ছলে রুদ্র কে জিজ্ঞেস করলো।

মেয়ের বাবা হতে চাস নাকি ছেলের বাবা,

রুদ্র হৃদিতার কথার জবাবে বলল।

ছেলে কিংবা মেয়ে দুটোই দোয়া আল্লাহর হাতে।আমি কখনো বেজার হবো না আল্লাহ আমাকে ছেলে মেয়ে দুটোর থেকে একটি দিলেও। কিন্তু আমার ইচ্ছা সম্পর্কে যদি জিজ্ঞেস করিস। তাহলে আমি চাই একটি ছোট্ট পরি।যা সম্পূর্ণ আমার অর্ধাঙ্গিনীর মতো হবে।

রুদ্রের কথায় আরশাদ মুচকি হেসে ঠাট্টার স্বরে বলল।

বাহ্ বাহ্ বন্ধু,আগে যেই মেয়ের চেহারা পর্যন্ত দেখতে পারতিস না।আজ তার জন্যই তোর কত পাগলামী।দু মিনিট চোখের আড়াল ও করতে চাস না।এমকি সিরাত ওর মায়ের বাড়িতে গেলেও তোর জন্য শান্তি মিলে না। বারবার ফোন দিয়ে অস্থির হয়ে যাস।

ও অস্থির হবে না ,ওর তো এখন বউ ছাড়া এক মিনিট ও চলে না।

পিছন থেকে বলে উঠলো নূর। নূরের সাথে পকেটে হাত ঢুকিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্য।আরেক পাশে নিলয়। কিছুদিন আগে নিলয় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরেছে। নিজের আপন মানুষ নিজের বোনের কাছে।নিলয় সুস্থ হওয়ার পরেও তো নিজের কষ্ট ভুলতে পারছে না।ভুলবেই বা কি করে।ও তো কম ভালোবাসে নি নিজের স্ত্রী কে। নিজের সর্বত্র দিয়ে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখতে চেয়েছে। নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে। কিন্তু ভাগ্য ওর সাথে ছিল না তাইতো পেয়েও তাদের হারিয়ে ফেলেছে।

নূর আগে বেড়ে ওর বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল।

সবাই এখানে কিন্তু আমাদের জামাই রাজারা কোথায়।বউ রেখে আবার পালিয়ে গেল নাতো।

এত সাধনার পর বিয়ে করার সুযোগ হয়েছে।আর তুই বলছিস আমরা পালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের বউ রেখে পালানোর তো দূর আমরা পারলে আরো আমাদের বউদের কুলে চড়ে বসে থাকবো। কিন্তু আমাদের বউ অনেক নির্দয় ওদের দেখার জন্য আমাদের জান বের হয়ে যাচ্ছে তাই ওদের বললাম একটা ছবি অন্তত পাঠাতে কিন্তু না ওরা তাও করল না।

কথাগুলো বলে উঠলো আব্রাহাম ও রাজ।

রাজ ও আব্রাহামের কথা শুনে হৃদিতা বলল।

তোদের আর ওদের ছবি দেখে নিজের চোখের পিপাসা মিটাতে হবে না।ওই যে ওরা নামছে এখন সরাসরি ওদের কে দেখতে পারবি।

হৃদিতার কথা শুনে সকলে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখতে পায় আয়না ও সাইরা নেমে আসছে সিঁড়ি বেয়ে। দুজনে নববধূ রুপে সজ্জিত হয়েছে।দুজনের মুখে লেগে আছে লজ্জিত ভাব। আয়না ও সাইরার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আব্রাহাম ও রাজ। ওদের দৃষ্টি সরাতে দুজনে ব্যর্থ। ওদের অবস্থা দেখে রুদ্র মজা করে বলল।

মুখ বন্ধ কর কিছুক্ষণ পরেই ওরা তোদের স্ত্রী হয়ে যাবে তখন যত খুশি দেখে নিস।

চুপ কর তুই আমাদের মন ভরে দেখতে দে।

(আয়না সুস্থ হয়েছে দেড় মাস আগে। আয়না অসুস্থ থাকা অবস্থায় ওর প্রতি আব্রাহামের যত্ন, ভালোবাসা ওর জন্য কষ্ট পাওয়া এই সকল কিছু দেখে আয়নার জমে থাকা অভিমান চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আয়না খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে আব্রাহাম ওর করা ভুলের জন্য সত্যি অনুতপ্ত।তাই আয়না ওকে মাফ করে দিয়েছে)

মহিমা একটি কোণায় বসে ওর ছেলেকে খাবার খাওয়াচ্ছে। নিজের বোনের বিয়েতে মহিমা অনেক খুশি। মহিমা শুধু ওর বোনদের জন্য এই দোয়া করে যেনো ওদের কপালো মহিমার মতো না হয়। সবার নিজের জীবনে একটি সঙ্গি চায় নিজের সুখ দুঃখ তার সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু মহিমার জীবনে এখন এমন কোনো চাওয়া নেই ও শুধু নিজের সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চায়।ওর ভালোবাসার উপর বিশ্বাস উঠে গিয়েছে। তাই ও চায় নিজের বাকি জীবন নিজের মতো করে কাটিয়ে দিতে। সবার ভালোবাসা যে পূর্ণতা পাবে এমন তো কোনো কথা নেই।

বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। রুদ্র ও ওর বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। ওদের উদ্দেশ্যে হলো আজ কোনো মূল্যেই রাজ ও আব্রাহাম কে বাসর ঘরে ঢুকতে দিবে না। রাজ ও আব্রাহামের এক বাড়িতে বিয়ে হওয়ার সাথে বাসর ঘর ও পাশাপাশি সাজানো হয়েছে। আব্রাহাম ও রাজ বন্ধুদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল।

দরজার সামনে থেকে সর আমরা ভিতরে জাবো। আমাদের বউ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

রুদ্র ওদের কথা শুনে কিছুটা কঠিন কন্ঠে বলল।

আজ কালরারত্রি,আজ তোদের অন্য রুমে ঘুমাতে হবে। এখন এখান থেকে ফোট।

রুদ্রের কথা শুনে আব্রাহাম ও রাজ রাগ দেখিয়ে বলল।

নাটক বন্ধ করে সর সামনে থেকে, আমাদের ভিতরে যেতে দে।

ওদের কথা শুনে সকলে একসাথে বলে উঠল।

না যেতে দিবো না,

ওদের কথা শুনে রাজের মাথায় একটি বুদ্ধি উদয় হয়।রাজ রুদ্রের উদ্দেশ্যে বলল।

আমি তোকে বলতে ভুলে গেছি,সিরাত তোকে ডেকেছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য। তোকে তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে।

সিরাতের কথা শুনে রুদ্র আর থাকতে পারলো না।ও সকলকে ঠেলে এক দৌড় দিল সিরাতের কাছে যাওয়ার জন্য। রুদ্র সকলকে ঠেলে দৌড় দেওয়ার কারণে সকালে দরজা থেকে ছিটকে গেল।এই সুযোগে আব্রাহাম ও রাজ রুমের ভিতর ঢুকে দরজা আটকিয়ে দিলো।

আজ রাজ ও আব্রাহামের জীবনেও ঘটলো একটি নতুন সূচনা। সকলের পথ চলা এভাবেই হাসি ঠাট্টায় আগে বাড়তে লাগলো। জীবন শেষ হলেও কি বন্ধুত্ব শেষ হয় এটি কখনো শেষ হওয়ার নয়। সকলে জীবনে সুখ দুঃখ লেগেই থাকবে তবুও সকলে যেনো জীবনে একসাথে থেকে তাদের মোকাবেলা করতে পারে এই কামনা করে শেষ করছি।

#সমাপ্ত