তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা পর্ব-০৪

0
27

#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#পর্ব_৪

সাইরা আধশোয়া হয়ে বসে আছে বিছানায়।আর মনে করছে গ্রামে কাটানো দিন গুলোর কথা। গ্রাম থেকে আসার সাথে সাথে গ্রামের মানুষদের সাথে সম্পর্ক ও যেনো ছেড়ে এসেছে সে। কিন্তু সম্পর্কের টান তো আর এত সহজে এড়ানো সম্ভব না।না চাইতেও মনে পরে যায় তাদের কথা যাদের কে নিয়ে ভাবতেও চাই না।

সাইরার ভাবনার মাঝে তার রুমে প্রবেশ করল সিরাত।সিরাত কে দেখে সাইরা ঠিক ভাবে উঠে বসে।সিরাত সাইরার বোন হলেও সাইরা সিরাত কে ভয় পায়। তার একটি কারণ হলো সিরাতের সাথে মহিমা বা সাইরার বিশেষ কেনো সখ্যতা গড়ে উঠে নি।এর একটি বড়ো কারন হলো তাদের বাবা।যখন সাইরা ছোট ছিল তখন থেকেই সিরাতের কাছে যেতে দিতো না শামসুজ্জামান। তখন সাইরা মনে করত হয়তো সিরাতের সবার সাথে শক্ত আচারণের জন্য হয়তো তার বাবার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু যখন থেকে বুজতে শিখেছে এর আসল কারণ সিরাতের গায়ের রং। সেই সময় থেকেই বাবার অগোচরে সিরাতের সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করত সাইরা।কিন্তু সাইরা মন মতো আচরণ করতো না সিরাত এবং তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতো।সিরাত সাইরার সাথে দূরত্ব বজায় রাখলেও সাইরার সাহায্য করত সব সময় সিরাত।সাইরার স্কুলে বা কলেজে যেই কেনো সমস্যা হলে তা সিরাত সামলাতো। সব সময় সাইরার মুখ দেখেই ও বুঝে যেতো সাইরার সাথে কিছু ঘটেছে আর যদি কেনো ছেলে ওকে ডিস্টার্ব করতো তাহলে তো তার বারোটা বাজিয়ে ছাড়তো সিরাত।সব সময় সিরাত সাইরাকে দূর থেকেই আগলে রেখেছে কিন্তু কার ও সামনে কখনো প্রকাশ করেনি সাইরার জন্য যে সে কতকিছু করে।

সাইরার ভাবনার মাঝে সিরাত বলল।

তোর কি রেস্ট নেওয়া হয়েছে?

সাইরার ছোট করে উত্তর।

হ্যা,

তাহলে দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে আস তোর বই কিনতে যাবো।কাল থেকে তুই কলেজে যাবি।

আপু আজই তো এখানে এসেছি কিছু দিন পর থেকে…

সাইরার কথা পূর্ণ না করতে দিয়ে সিরাত বলল।

পড়াশোনা করতে না মন চাইলে পরিস্কার করে বল।মাকে বলব তোর বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে তাই পড়াশোনা করার থেকে মন উঠে গেছে।

সিরাতের কথায় সাইরা মাসুম হাসি দিয়ে বলল।

আমি দশ মিনিট না দুই মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আসছি।

সিরাত ও সাইরা বের হয়েছে বই কিনার উদ্দেশ্যে। আসার সময় বাজার করে নিয়ে আসবে ও বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসবে বলে গেছে। মহিমা সিরাতের বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় করছিলো। কখন সিরাত যাবে আর কখন তার মনে চলা ঘূর্ণায়মান প্রশ্নের উত্তর পাবে।সিরাতের সামনে কিছু জিজ্ঞেস করা মানে তার ত্যারা কথা হজম করা।

সিরাত যেতেই মহিমা নক করে রেহানা বেগমের রুমে। এবং রেহানা বেগমের অনুমতি পেয়ে ভিতরে ঠুকতেই রেহানা বেগম হাসি মুখে বলল।

সিরাতের যাওয়ার অপেক্ষায় করছিলি না?

রেহানা বেগমের কথা শুনে মহিমা অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো।

মা আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।তোমরা কিভাবে এত কিছু এত তাড়াতাড়ি কিভাবে ব্যবস্থা করলে।এত টাকা কোথা থেকে পেলে।এই গুলো দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি ও সিরাত আগের থেকেই সব জানতে।আর এত দামি ফ্ল্যাট এত দামি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছো এটির ভাড়া আমরা কিভাবে…

মহিমার কথা শেষ করার আগেই রেহানা বেগম বলে উঠলেন।

এটি ভাড়া না আমরা এই ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছি এটি এখন আমাদের।

রেহানা বেগমের কথা শুনে যেনো মহিমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।সে কিছুই বুঝতে পারছে না কিভাবে কি হয়েছে এখন তার মনে হচ্ছে সে অনেক কিছুই যানে না।যা সিরাত ও মা যানে।
___________________________________
সিরাত প্রথমে সাইরার প্রয়োজনীয় বইগুলো কিনে নিয়েছে ও কলেজে যাওয়ার জন্য কিছু জামা ও কিনেছে সাইরার জন্য।তার পর একটি মোবাইলের দোকানের সামনে এসে দোকানটিতে ঢুকে পরে।সিরাত মোবাইলের দোকানে ঢোকার কারনে সাইরা বেশ অবাক হয়। তার জানা মতে সিরাতের মোবাইল তো আছে তাহলে আবার মোবাইলের দোকানে ঢুকেছে কেনো।

সিরাত দোকানদারকে কিছু মোবাইল বের করতে বলে নিজের পছন্দ মতে তিনটি মোবাইল ক্রয় করে যা দেখে সাইরা আরো অবাক হয়।আর ভাবে এতগুলো মোবাইল কেনো কিনছে আপু।সিরাত দোকান থেকে বের হয়ে একটি মোবাইল সাইরার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল।

এইনে এই মোবাইল তোর জন্য।সিম কাল কিনে দিবো।

সিরাতের কথা শুনে সাইরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়।তার বহু পুরোনো স্বপ্ন সত্যি হয়েছে আজ। শামসুজ্জামান কে সাইরা অনেক বার মোবাইলের কথা বললেও কখনো কিনে দেয় নি। উনার এক কথা ছিলো মেয়েদের হাতে মোবাইল দিলে তারা নষ্ট হয়ে যাবে।তাই মহিমার ও কপালে কখনো মোবাইল জুটে নি না বাবার বাড়িতে আর না শ্বশুর বাড়ি। অপ্রত্যাশিত কিছু পাওয়ায় সাইরার চোখ চকচক করে উঠলো সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

আমার জন্য।

হ্যা তোর জন্য এখন থেকে ভার্সিটিতে যাবি তোর মোবাইলের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এর মানে এই না যে তুই মোবাইল পেয়ে বেশি আশকারা পেয়ে যাবি।বা কেনো বয়ফ্রেন্ড জুটিয়ে নিবি। ছেলেদের সাথে যদি কথাও বলিস তা প্রয়োজন মাফিক ও ফ্রেন্ড হিসেবে তার বেশি কিছু না।

সাইরা সিরাতের কথা শুনে মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করে। এখন সাইরার মনে চাইছে সিরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে কিন্তু সিরাত কে জড়িয়ে ধরলে সিরাতের বকা শুনতে হবে তাই ইচ্ছে টাকে মনের ভিতরেই রেখে দিলো সাইরা।

সাইরা ও সিরাত বাজার করে বাড়ি ফিরছে
রাস্তার কিনার দিয়ে হাঁটছে তারা তখনি খুব স্পিডে একটি গাড়ি এসে রাস্তায় থাকা কাঁদা ছিটিয়ে দেয় সিরাতের শরীরে। সিরাত নিজের নাক মুখ কুঁচকে ফেলে কাঁদা তার শরীরে পড়ায়।সাইরার শরীরেও কাঁদা পরেছে কিন্তু অল্প।সিরাতের শরীরে কাঁদা ছিটিয়ে গাড়িটি কিছু দূর গিয়ে থেমেছে।তা থেকেই বুঝা যাচ্ছে গাড়িটির মালিক ইচ্ছাকৃত কাজটি করেছে।সিরাতের অবস্থা দেখে মজা নেওয়ার জন্য গাড়ি থামিয়েছে।গাড়িটির মালিক গাড়িটি ইস্টার্ড দিয়ে সেখান থেকে চলে যাবে তার আগেই সিরাত তার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো।

ওই শয়তা*** বাচ্চা থাম।

কথাটি কানে যাওয়ার সাথে সাথে গাড়ি থেকে একটি যুবক নেমে আসে সিরাতের দিকে তেড়ে আসে এবং বলল।

কি বললে তুমি?

শয়তা** বাচ্চা বলেছি এখন শুনেছ।

তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে বকা দেওয়ার?

শয়তা** বাচ্চা এই ভাবে, তুমি যদি আমাকে ইচ্ছাকৃত শরীরে কাঁদা ছিটিয়ে দিতে পারো।তাহলে এই বকা দেওয়া আমার অধিকার বুঝেছ।

হাউ ডেয়ার ইউ তুমি জানো আমি কে আমার বাবা মা কে। তুমি জানো তারা কতটা ভদ্র তুমি তাদের কে বকা দিচ্ছো শুধু মাত্র তোমার ড্রেস নোংরা করেছি বলে।কি চাও টাকায় তো তার জন্যই তো এই সকল কিছু করেছ। তাহলে দাঁড়াও।

কথাটি বলেই ছেলেটি গাড়ির ভিতর থেকে কিছু টাকা নিয়ে আসে।আর ছুড়ে মারে সিরাতের উপর এবং বলল।

এই নাও টাকা এই টাকা নিয়ে আমার পা ধরে মাফ চাইবে তোমার করা ভুলের জন্য।

সিরাত হাসি মুখে টাকাগুলো উঠিয়ে নেয় রাস্তা থেকে। টাকা গুলো উঠাতে দেখে ছেলেটির মুখে ফুটে উঠে তাচ্ছিল্য হাসি।সিরাত টাকার সাথে সাথে উঠায় একটি বড় ইটের টুকরো।সিরাত ইটের টুকরো ও টাকা নিয়ে দাঁড়াতেই ইটের টুকরো ছুড়ে মারে যেখানে ছেলেটি দাঁড়িয়ে ছিল।সিরাতের এরুপ কান্ড দেখে ছেলেটি দ্রুত সরে দাঁড়ায় সেখান থেকে।আর একটুর জন্য নাহলে ছেলেটির কপাল ফাটতো নিশ্চিত ছেলেটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিন্তু পরের মুহূর্তে কাঁচ ভাঙ্গার আওয়াজ শুনে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো।তার নতুন ব্র্যান্ডেট গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ছেলেটি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে নিজের গাড়ির দিকে।সিরাত ছেলেটির কাছে এসে সিরাতের হাতে থাকা টাকা থেকে অর্ধেক টাকা তার হাতে দিয়ে বলল।

তোমার টাকা অনেক বেশি হয়ে গেছে তাই কম করার উপায় দিয়ে দিলাম।এই টাকা দিয়ে গাড়ির নতুন কাঁচ কিনে নিও।আর বাকি টাকা দিয়ে আমি আমার জন্য নতুন পোশাক কিনে নিবো।

কথাটি বলেই সাইরা কে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় সিরাত। এদিকে ছেলেটি এখনো বুঝতে পারছে না তার সাথে কি ঘটেছে যখন বুঝতে পারলো সেই পর্যন্ত সিরাত চলে গেছে। ছেলেটি গাড়ির সামনে এসে এক ঘুসিতে গাড়ির আরেকটি কাঁচ ও ভেঙে ফেললো। গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

একবার এই মেয়ে আমার সামনে আবার আসুন তারপর এই মেয়েকে বুঝাবো রুদ্র সাফওয়ান মির্জা কে।
___________________________________
রাত এখন প্রায় গভীর।পুরো শহর এখন নিস্তব্ধ।পুরো শহরের মানুষ সারাদিনের ব্যস্ততার পর ঢলে পড়েছে নিদ্রায়।রাত যত গভীর হয় মানুষের ঘুম ততই গভীর হয়। কিন্তু ঘুম নেই মহিমার চোখে এই গভীর রাতে সে আকাশ দেখতে ব্যস্ত। নিজের জীবনের সমীকরণ সে মিলাতে পারছে না।এক দিনের মাঝে তার জীবনটি কি থেকে কি হয়ে গেছে। দুদিন আগেও সে কত সুন্দর ভাবে স্বামীর সংসার করছিলো।আর এখন নিজেকে নিঃস্ব মনে হচ্ছে। মহিমা যখন রাতের আকাশ দেখতে ব্যস্ত তখনি তার রুমে প্রবেশ করে রেহানা বেগম।

রেহানা বেগম মেয়েকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার কাঁধে হাত রাখতেই মহিমা তার মাকে জাপটে ধরে কান্না করে দেয়। হয়তো সে জানতো এত রাতে মা এসেছে তার কাছে। রেহানা বেগম মেয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে হয়তো মে মায়ের মন হালকা করতে চাইছে।এত কিছুর মাঝে মেয়েটি কান্না ও করতে পারে নি। রেহানা বেগমের কুলে মাথা রেখে কান্না করছে মহিমা কিছুক্ষণ কান্না করার পর একটু শান্ত হয় মহিমা। মহিমা শান্ত হওয়ার পর রেহানা বেগম মহিমার উদ্দেশ্যে বলল।

কান্না শেষ হয়েছে আমার আম্মুর?

মহিমা হিচকি তুলতে তুলতে মাথা নেড়ে হ্যা সম্মতি দেয়।

আমার আম্মু কি আমার উপর রাগ করে আছে।আমি তখন তার প্রশ্নের উত্তর দেয়নি তাই।

রেহানা বেগমের কথার উত্তরে মহিমা অভিমানী কন্ঠে বলল।

তুমি আমাকে ও সাইরা কে একটুও ভালোবাসো না।তাই তো আমি ও সাইরা এখনো পুরোপুরি সত্য কথা জানি না। কিন্তু সিরাত সবই জানে। তুমি আমাদের থেকে ওকে গুরুত্ব দেও বেশি।

মহিমার কথার প্রতি উত্তরে রেহানা বেগম মুচকি হেসে বলল।

আমি তোমাদের ও অনেক ভালোবাসি সিরাত কে আমি গুরুত্ব কেনো বেশিদেই এটি তুমি ভালোভাবে জানো।আর তোদের দুজনকে এখনো আমি পুরো কথা বলি নি কারণ। তুই ও সাইরা নরম মনের আর সত্য এত ভয়ঙ্কর যা শুনে তোরা পুরোপুরি ভেঙ্গে পরবি। সাইরা ও নিজের রুমে কান্না করছিল তাকে আমি ঘুম পারিয়ে তোর কাছে এসেছি। তোদের এতটুকু তেই এই অবস্থা হয়েছে এখন পুরো সত্য জানলে সহ্য করতে পারবি না।এমন কিছু সত্য আছে যা জানলে তোরা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়বি তাই আমি চাই তোরা আগে নিজেকে শক্ত করে গড়ে তোল তারপর তোদের সব বলব।

মহিমা রেহানা বেগমের কথায় সম্মতি প্রকাশ করে।এ ছাড়া তো কেনো উপায় ও নেই তার কাছে।

সকাল হতেই সিরাত নিজেও তৈরি হচ্ছে ও সাইরা কেও তৈরি করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে।সিরাত চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে।সিরাত যেখানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে সেটি নূরের বন্ধুর বাবার কোম্পানি সেখানে সিরাত ডিজাইনারের পোস্টে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিবে।সিরাত অনেক ভালো ডিজাইন আট করতে পারে ও সিরাত এটির কোর্স ও করেছে।আর সাইরা রেডি হচ্ছে ভার্সিটির জন্য আজ প্রথম দিন সাইরার প্রচুর ভয় লাগছে। কিন্তু সিরাত তাকে ভার্সিটিতে দিয়ে এসে তারপর চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাবে সিরাত। কিছুক্ষণের মাঝে রেডি হয়ে দু বোন বেড়িয়ে পরে তাদের গন্তব্যে।সিরাত সাইরাকে কলেজে নামিয়ে দেয় ও বুঝিয়ে দিয়ে যায় কিভাবে সাইরা বাড়ি ফিরবে এবং এই আশ্বাস দিয়ে যায় যদি সিরাত সময় পায় তাকে নিয়ে যাবে।

সাইরা একটি মেয়ের কাছে জিজ্ঞেস করে নিজের ক্লাসের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হয়ে এগিয়ে যায় সেই দিকে গুটিসুটি পায়ে সাইরা ক্লাসের ভিতর প্রবেশ করতেই তার হাত পা কাঁপতে শুরু করে কারন……

#চলবে…