#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#পর্ব_৫
সাইরা ক্লাস রুমে প্রবেশ করতেই দেখতে পায়। সেখানে একটি মেয়ে দেওয়ালের সাথে চিপকে রয়েছে।এক পা নিচে ও দুই হাত ও এক পা উপরে দেওয়ালের সাথে চিপকিয়ে। ঠিক যেমন টিকটিকি দেওয়ালের সাথে চিপকে থাকে। আরও দুটি মেয়ে আছে তার সাথে যারা মেয়েটির মতো টিকটিকি না সাজলেও কানে হাত দিয়ে উঠবস করছে তিনটি মেয়ের চোখে পানি চিকচিক করছে। কিন্তু সাইরা এটি বুঝতে পারছে না মেয়েগুলো এমন করছে কেনো ক্লাসের কেউ কিছু তাদের বলছে না। সবাই মজা নিচ্ছে সাইরার ওই মেয়েদের প্রতি খুব মায়া লাগলো তাই সে সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
আপু আপনাদের কি হয়েছে আপনারা এমন করে আছেন কেনো।
সাইরার কথায় মেয়েগুলো প্রতি উত্তর না করে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়েগুলো কেনো প্রতি উত্তর না করলেও পিছন থেকে একটি ভারি কন্ঠে কেউ বলে উঠলো।
তোমারও কি ইচ্ছে করছে ওদের সাথে জয়েন্ট করতে।
সাইরা কথাটি শুনে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় সেখানে তিনটি ছেলে বেঞ্চের উপর পা দিয়ে বসে আছে। তাদের মধ্যে মাঝের ছেলেটিকে দেখে সাইরা যেনো থমকে যায়।সাইরার দৃষ্টি সরছে না ছেলেটির থেকে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেখানে।সাইরা কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তার পাশে থাকা আরেকটি ছেলে বলে উঠলো।
রাজ এই মেয়ে মনে হয় প্রথম দেখাতেই তোর উপর ফিদা হয়ে গেছে।তাই এভাবে চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে আছে তোর দিকে। আরশাদের কথা শুনে রাজ পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় সাইরার দিকে।সাইরা ও অন্য জগৎ থেকে বের হয়ে লজ্জায় নিজের মাথা নিচু করে ফেলে।রাজ সাইরার দিকে এগিয়ে এসে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল।
প্রথম দেখায় প্রেমে পরে গেছো নাকি আমার। এখানে যেই মেয়েদের কে দেখছো না।তারা এই ভুলের শাস্তিই পাচ্ছে তুমি যদি চাও আমি তোমার জন্য নতুন শাস্তি খুঁজে বের করবো।
রাজের কথা শুনে সাইরা কাঁপতে শুরু করে। সাইরা আগে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পরে নি।তাই সাইরা এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে সে। সাইরা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
আ..আ.আমি শু.. শুধু মাত্র।
সাইরার এভাবে তোতলানো দেখে পিছনে থাকা আব্রাহাম বলল।
বেচারিকে আর জ্বালাস না চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে ফেলবে। কথাটি বলেই তিন জনে একসাথে হেসে উঠলো। সাইরার চোখের কোণে অশ্রু এসে জমাট বেঁধেছে কিন্তু সে কাঁদতে চাই না।সিরাতের মতো শক্ত মনের মানুষ হতে চাই।সিরাত তাকে ভার্সিটিতে ছাড়ার আগে বলেছিল কাওকে ভয় পেতে না। সাহসিকতার সাথে সকল পরিস্থিতির সামনা করতে পরে সমস্যা হলে সিরাত সামলে নিবে।সিরাতের বলা কথা মনে পড়তেই সাইরা নিজের চোখ তুলে রাজের চোখে চোখ রাখে।
আমাকে একদম দূর্বল ভাববেন না। হ্যা আমি তাকিয়ে ছিলাম আপনার দিকে তাতে কি ?একজন মানুষ আরেকজন মানুষের দিকে তাকাতেই পারে এটি এমন কি বড় বিষয়।আর আপনি এত গুড লুকিং না যে আপনার দিকে তাকাতেই প্রেমে পরে যাবো। কিন্তু আমি অনেক সুন্দর কিউট একটি মেয়ে তাই চেষ্টা করবেন আমার থেকে দূরে থাকার নাহলে দেখা যাবে আমি আমার জায়গায় ঠিক আছি। কিন্তু আপনি আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন।
কথাটি বলেই ফুল এটিটিউডে সেখান থেকে চলে আসে সাইরা। সাইরার চলে যেতেই আরশাদ রাজের কাঁধে হাত রেখে বলল।
এটা কি বলে গেল এই মেয়ে।
রাজ আরশাদের কথায় বাঁকা হাসি দিয়ে বলল।
সময়ই বলে দিবে কে কার প্রেমে হাবুডুবু খায়।
কথাটি বলেই তিনজন উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।তারপর তিনজন ক্লাস রুম থেকে প্রস্থান করে। এদিকে সাইরা ক্লাস রুম থেকে কিছুটা দূরে এসে বুকে হাত দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এবং নিজেকে বাহ্ বাহ্ দিয়ে বলল।
বাহ্ সাইরা বাহ্ তুই আজকে প্রমাণ করে দিলি তুই সিরাত আপুর বোন।
___________________________________
রাজ, আরশাদ, আব্রাহাম এক সাথে বাইকে বসে অপেক্ষা করছে তাদের ফ্রেন্ডজন্য। কিন্তু অপেক্ষা যেনো শেষ হতেই চাইছে না। আরশাদ বিরক্ত হয়ে বলল।
কিরে ভাই আমরা কখন থেকে বসে আছি কিন্তু ওদের আসার কোনো…
নিজের কথা শেষ করতে পারেনা তাজ তার আগেই তার চোখ আটকে যায় সামনে দিয়ে আসা রমনীর দিকে। আরশাদের কেনো সারা শব্দ না পেয়ে দুজনে তাকায় তার দিকে। আরশাদ কে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রুদ্র ও আব্রাহাম ও তাকে অনুসরণ করে তাকাতেই দুজনের মুখে দুষ্টুমির হাসি ফুটে উঠে। রাজ আরশাদের কানের কাছে এসে বলল।
আজ হৃদিতা কে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে তাই না।
আরশাদ ও মুগ্ধ হয়ে হৃদিতার দিক মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল।
হ্যা আজ হৃদয় কে অনেক সুন্দর লাগছে।
কথাটি বলেই আরশাদ বুঝতে পারে সে ভুল কথা বলে ফেলেছে তাও ভুল মানুষের সামনে।তাই সে রুদ্র ও আব্রাহাম কে উদ্দেশ্য করে বলল।
আরশাদ কিছু বলবে তার আগেই হৃদিতা সেখানে উপস্থিত হয়।
আব্রাহাম হৃদিতা কে উদ্দেশ্য করে বলল।
কিরে হৃদয় এত সময় লাগলো কেনো তোর আসতে আরো এক ঘন্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েছিস। এদিকে পাথর ও রুদ্র আসছে না।
আব্রাহামের কথার প্রতি উত্তরে হৃদিতা বলল।
কারন আমার বাবা আমাকে একা বের হতে দেয়নি ওই শিহাব শয়তান কে ও সাথে পাঠিয়েছিল। অনেক কষ্টে ওর থেকে পিছা ছাড়িয়েছি।আর পাথর কিছু কাজে আটকা পরে গেছে ও তোরা তো জানিস রুদ্রের মেজাজ কাল থেকে কেনো এক কারনে খারাপ হয়ে আছে।
শিহাবের কথা শুনতেই আরশাদ রাগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। হৃদিতা কে রাগি গলায় জিজ্ঞেস করলো।
তুই ও রাস্কে** এর সাথে আসতে রাজি হয়েছিস কেনো তুই জানিস না ওর স্বভাব চরিত্র কেমন।
হৃদিতা আরশাদের কোথার উত্তর না দিয়ে তাকে পাল্টা প্রশ্ন করে।
তোর কি সমস্যা ওর সাথে আমি আসলে?
আরশাদ হৃদিতার কথায় প্রতি উত্তর না করে আমার কিছু না কথাটি বলেই চলে যায়।
রুদ্র কিছুক্ষণ আগে এসেছে ভার্সিটিতে তার মাথা থেকে এখনো কালকে সিরাত ও তার মধ্যকার ঘটনা ভুলেনি। কারন আজ পর্যন্ত রুদ্রের অপমান কেউ করে নি। রুদ্রের মাথা কাল থেকেই গরম তাই রাজ এর কারণ জিজ্ঞেস করতেই রুদ্র কালকের ঘটনা খুলে বলে।
হৃদিতা ,রাজ, আব্রাহাম ও আরশাদ চারজন একজোট হয়ে হেসে চলেছে।আর তাদের হাসি দেখে রাগে কটমট করছে রুদ্র। হৃদিতা হাসতে হাসতে রুদ্র কে উদ্দেশ্য করে বলল।
আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে একটি মেয়ে রুদ্র কে রাস্তার মাঝে এভাবে শিক্ষা দিয়েছে।
রুদ্র হৃদিতার কথা শুনে রাগ যেনো আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেল।সে হৃদিতা কে উদ্দেশ্য করে বলল।
কি বলছিস তুই ওই রাস্তার মেয়ে আমাকে শিক্ষা দিবে। তুই জানিস ওই মেয়েটি কতটা লো ক্লাস।
আরশাদ রুদ্রের কথা শুনে হাসতে হাসতে বলল।
তুই যাই বলিস না কেনো আমি একবার হলেও ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে চাই।
আরশাদের কথা শুনে সবাই আরেক দফা হাসলেও হাসি থেমে যায় হৃদিতার। হৃদিতা আরশাদের সামনে এসে রাগে কটমট করতে করতে বলল।
কেনো তুই কি করবি ওই মেয়েকে দিয়ে?
হৃদিতার কথায় আরশাদ বলল।
আমি যাই করি তাতে তোর কি সমস্যা।
কেনো সমস্যা নেই এমনি আমি ভাবছিলাম শিহাব কে নিয়ে লং ড্রাইভে যেতে পারবো।
হৃদিতার কোথায় আরশাদ বাঁকা হেসে বলল।
তুই শিহাব কে নিয়ে লং ড্রাইভে তখন যাবি যখন ও সুস্থ স্বাভাবিক থাকবে।
আরশাদের কথায় হৃদিতা বলল।
মানে?
আমি তোকে বলতে বাধ্য নয়।
আরশাদের কথার প্রতি উত্তরে হৃদিতা আর কিছু বলে না।
___________________________________
সাইরার একটি ক্লাস শেষ হয়েছে এর মধ্যেই সাইরার ভালো লাগছে না। কারন এই ভার্সিটিতে তার একটিও বন্ধু নেই।আর থাকবেই বা কি করে আজ তো সাইরার প্রথম দিন।তাই সাইরা ভার্সিটি ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।সাইরা কলেজের মাঠে আসতেই পিছন থেকে রাজ সাইরা কে ডাক দেয়।
সাইরা কিছুটা অবাক হয়ে যায় ভার্সিটিতে নিজের নাম ধরে কাওকে ডাকতে দেখে কারন এখানে তো তার নাম কারও জানার কথা নই।
সাইরা তার নাম ধরে ডাকা ব্যক্তি টিকে দেখতে পিছনে ফিরতেই দেখতে পায়। রাজ তার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাকে রাজই ডেকেছে। সাইরা রাজ কে দেখলেও তার পাশে থাকা রুদ্র কে খেয়াল করলো না।
সাইরা একটি শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে গেল রুদ্রের দিকে। তখন ঠিকই রাজ কে সাহস করে কথাগুলো বলেছিল। কিন্তু রাজ এখন তাকে কেনো ডাক দিয়েছে সেই কথা ভেবেই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে সাইরার।
সাইরা ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে আসে রাজের কাছে। রুদ্র ফোনে ব্যস্ত আর হৃদিতা ব্লু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সাইরার দিকে। সাইরা রাজের কাছে এসে বলল।
জ্বী বলেন।
রাজ বাঁকা হেসে বলল।
তখন তো গলায় অনেক জোড় দিয়ে কথা বলছিলে। এখন গলার জোড় কমে গেল কেনো।
রাজের কথায় সাইরা কিছু বলার আগেই রুদ্র চোখ তুলে তাকায় সাইরার দিকে।সাইরার দিকে তাকাতেই রুদ্র চিনে ফেলে ওকে রুদ্র নিজের আঙ্গুল সাইরার দিকে তাক করে বলে।
তুমি ওই মেয়ে না যে ওই বেয়াদব মেয়ের সাথে ছিলে।
#চলবে…