তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা পর্ব-০৬

0
31

#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#পর্ব_৬

সাইরা এতক্ষণে রুদ্র কে খেয়াল করেছে।সাইরার হাত পা কাঁপছে রুদ্র কে দেখা মাত্রই।সিরাম যে কান্ড ঘটিয়েছিল তার প্রতিশোধ এখন নিশ্চয়ই সাইরা থেকে নিবে। কথাটি ভাবতেই বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে সাইরার। সাইরা কে কিছু বলতে না দেখে রুদ্র ধমক দিয়ে বলল।

এই মেয়ে কিছু বলছো না কেনো।আমি নিশ্চিত তুমি ওই বেয়াদব মেয়ের সাথে ছিলে। তুমি হয়তো ওর বোন হবে।

সাইরা কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো।

হ্যা ও আমারি বোন।

সবাই সেই দিকে তাকাতেই দেখতে পায় সিরাত দাঁড়িয়ে আছে।সিরাত কে দেখে রুদ্রের নিভে যাওয়া রাগ আবার জ্বলে উঠল।

রুদ্র সিরাতের সামনে গিয়ে বলল।

তোমার সাহস আছে দেখছি তুমি আমার গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে। আবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে উঁচু গলায় কথা বলছো। তুমি যানো আমি কি।

না জানি না, কেননা আমার ফালতু মানুষের সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও সময় কোনটিই নেই। আমার বাড়িতে অনেক কাজ থাকে বুঝেছ।

কি আমি ফালতু তোমার সাহস কি করে হলো আমাকে ফালতু বলার তোমাকে দেখা যায় উচিত শিক্ষা দিতেই হবে।

এদিকে রুদ্র সিরাতের সাথে ঝগড়া করছে আর ওদিকে হৃদিতা, আরশাদ,রাজ, আব্রাহাম তাদের ঝগড়া দেখে মজা নিচ্ছে। হৃদিতা তার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল।

অনেক দিন পর আমার মনটা অনেক খুশি খুশি লাগছে রুদ্রের সাথে এভাবে কনফিডেন্স নিয়ে কাওকে ঝগড়া করতে দেখে। অন্য মেয়েরা তো রুদ্রের দিকে তাকাতেও ভয় পায়।

হৃদিতার সাথে আরশাদ,রাজ ও আব্রাহাম ও সম্মতি প্রধান করে আর তাদের ঝগড়া দেখায় মন দেয়।

আমাকে শিক্ষা দেওয়া তোমার যোগ্যতার বাইরে।তাই এই প্লান ক্যান্সেল করে দাও।হ্যা যদি তুমি চাও তাহলে আমি তোমাকে শিক্ষা দিতে পারি।

সিরাতের কথা শুনে রুদ্র মুচকি হেসে বলল।

আচ্ছা তাহলে এখনি দেখা যাক কে কাকে শিক্ষা দেয়।

রুদ্র এই কথা বলে আগে বাড়ার আগেই পিছন থেকে নূর বলে উঠলো।

কেউ কাওকে শিক্ষা দিবে না।

নূরকে দেখে রুদ্র নূরের উদ্দেশ্যে বলল।

তুই জানিস এই মেয়ে আমার সাথে কি করেছে।

ও যাই করুক না কেনো কিছু বিনা কারনে করেনি এইটা আমি ভালোভাবে জানি।

নূরের কথার প্রতি উত্তরে রাজ বলল।

তুই চিনিস এই মেয়েকে?

হ্যা কিছুদিন আগে তোদের নিয়ে যেই ফ্ল্যাট ক্রয় করেছিলাম সেটি সিরাতদেরই ফ্ল্যাট।

নূরের কথা শুনে রুদ্র বলল।

তার মানে আমারা সবাই মিলে এই মেয়ের বাড়ি এত সুন্দর করে গুছিয়ে ছিলাম।আমি ওই ফ্ল্যাটে এত কাজ এই মেয়ের জন্য করেছি।

নূর ভাব অলসহীন ভাবে উত্তর দিলো।

হ্যা ওটা ওদের ফ্ল্যাট।

তুই আমাকে আগে বলিস নি কেনো ওটা ওই মেয়ের ফ্ল্যাট তাহলে আমি কখনো এত কষ্ট করতাম না।

তোকে বললেও কি হতো তুই কি আগে থেকে সিরাত কে চিনিস। আমার জানা মতে কালই তোদের পরিচয় হয়েছে।ও সরি পরিচয় না ঝগড়া।

নূরের কথা শুনে রুদ্র থতমত খেয়ে গেল কারণ নূর তো ঠিকই বলেছে।ও তো আগের থেকে সিরাত কে চিনে না।

রুদ্রের ভাবনার মাঝে হৃদিতা বলে উঠলো।

তোরা এই সকল কথা বাদ দে।

কথাটি বলেই হৃদিতা সিরাতের দিকে এগিয়ে এসে।সিরাত কে বলল।

তুমিই তাহলে সেই মেয়ে যে আমাদের নূরি পাথর কে বাঁচিয়ে আমাদের ও জীবন বাচিয়েছ। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ নূরের জীবন বাঁচানোর জন্য।

হৃদিতার কথায় সিরাত হাসি মুখে বলল।

এমনিতে আমি তোমার ধন্যবাদের জন্য কিছু করিনি। কিন্তু তুমি যখন মন থেকে আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছ আমি নিয়ে নিচ্ছি।

সিরাতের কথায় হৃদিতা খুব খুশি হয়।সিরাত সাইরাকে নিয়ে বের হয়ে যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে। সাইরা যাওয়ার আগে আড়চোখে একবার রাজ কে পর্যবেক্ষণ করে নেই। রুদ্র রাগে ফুঁসছে কারণ সিরাত তাকে এত অপমান করার পরেও সে কিছু বলতে পারে নি। এবং মনে মনে পণ করে পরবর্তীতে এর প্রতিশোধ রুদ্র সিরাত থেকে অবশ্যই নিবে।

রুদ্র ও তার বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে নূরের বাসায় বসে। নূরের বাসায় কেউ নেই তার বড় ভাই ছাড়া।সেই ভাই ও মানসিক ভারসাম্যহীন। নূরের বাবা মা একটি কার এক্সিডেন্ট অনেক আগেই মারা গেছে। নূর কে তার বড় ভাই মানুষ করে বড় করেছে কিন্তু ভাগ্যের দোষে এখন সেই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। রুদ্র এখনো রাগে ফুঁসছে আব্রাহাম রুদ্রের উদ্দেশ্যে বলল।

এই একটি বিষয় নিয়ে আর কতক্ষন রাগ করে থাকবি বল।কখন থেকে দেখছি তোর মুড অফ এখন তো একটু চিল কর।

আব্রাহামের কথায় রুদ্র এমন ভাবে তার দিকে তাকায় যেনো এখনি আব্রাহাম কে গিলে ফেলবে।রুদ্রের চাওনি দেখে আব্রাহাম ভয় পাওয়ার বদলে সকলে উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো।

নূর হাসতে হাসতে বলল।

হারামি তুই কখনো ঠিক হবি না। এখন নিশ্চয়ই তোর মনে এটায় চলছে কিভাবে সিরাত থেকে তুই এর প্রতিশোধ নিবি।

এই বলে সকলে আবার হাসতে থাকে তখনি রুদ্রের ফোন বেজে উঠল। রুদ্র বিরক্ত নিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে হাসি ফুটে উঠে।

রুদ্র কে ফোন নিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ কথা বলার পর রুদ্র রুদ্র এসে ধপ করে বসে পরে তার বন্ধুদের সামনে।রুদ্র কিছু বলার আগেই রাজ রুদ্রের উদ্দেশ্যে বলে।

তুই কেনো এখনো ওই মেয়েকে এখনো চাস যে তোর ফিলিংসের কেনো পরোয়া করে না।

রুদ্র মাথা নিচু করে বলল।

আমি ওকে ভালোবাসি।

রুদ্রের কথা শুনে নূর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

ওই মেয়ে ভালোবাসার যোগ্য যে তোকে বারবার ফিরিয়ে দেয়। শুধু মাত্র এই কারনে কারণ তুই ওকে ওর ছেলে বন্ধুদের সাথে মিশতে না করিস।ও তোকে ছেড়ে দিয়েছে ওর ছেলে বন্ধুদের জন্য কিন্তু তুই ওকে ছাড়তে পারছিস না।

নূরের কথার সাথে তাল মিলিয়ে আরশাদ বলল।

নূর ঠিক বলছে দোস্ত তুই প্লিজ ওই মেয়ের জন্য অপেক্ষা না করে লাইফে মুভ অন কর।

আমার এই সকল কথা শুনতে ভালো লাগছে না প্লিজ অন্য টপিকে কথা বল।

রুদ্রের কথা অনুযায়ী সকলে আর এই বিষয়ে রুদ্রের সাথে কেউ আলোচনা না করে অন্য বিষয়ে কথা বলতে থাকে।
___________________________________
সিরাত বাড়িতে ফিরেছে অনেক সময় আগে। বাড়িতে ফিরেই তার মাকে আগে জাপটে ধরে তার চাকরি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে।চাকরি হওয়ার খুশিতে সিরাত সন্দেশ এনেছে।সিরাত সন্দেশ এতটা পছন্দ করে না কিন্তু সন্দেশ মহিমার অনেক পছন্দ। অন্য সময় হলে মহিমা সন্দেশ দেখে নাচতে শুরু করত। কিন্তু এখন মহিমার সব কিছুই বিষাদ লাগে কিছুই ভালোলাগে না। এখন মহিমার মাথায় শুধু একটি কথাই ঘুরপাক খায়।

হয়তো সে রাজিব কে ছেড়ে এসে ভুল করেছে।যদি মহিমা সেখানে থেকে যেতো তাহলে রাজিব হয়তো মহিমার ও তার সন্তানের কথা ভেবে হলেও ওই মেয়েকে ছেড়ে দিতো। কিন্তু মহিমা তো ছেড়ে এসেছে রাজিব কে এখন কি রাজিব তার কথা ভাবে।নাকি ওই মেয়েকে নিয়ে সুখে সংসার করছে। মহিমার একটি ভুলের জন্য কি তার সন্তান বাপ হারা হয়ে গেল।

মহিমা এই সকল কথা ভাবছে ও নিজের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে তখনি সিরাত মহিমার রুমে প্রবেশ করে সিরাতের সাথে রুমে প্রবেশ করে সাইরা।

সিরাত মহিমার অবস্থা দেখে মহিমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে এবং মহিমার উদ্দেশ্যে বলল।

তোর আফসোস হচ্ছে রাজিব কে ছেড়ে আসার জন্য।

সিরাতের কথা শুনে মহিমা শব্দ করে কান্না করে দেয়। এবং কান্না করতে করতে বলে।

আমার নিজের জন্য চিন্তা হচ্ছে না। আমার কষ্ট হচ্ছে আমার বাচ্চার জন্য আমার বাচ্চাটি কখনো বাবা বলে ডাকবে পারবে না। আমার বাচ্চাটি অনাথের মতো বড় হবে।

মহিমার কথা শুনে সিরাত তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলল।তোর ওই জানো*য়ারের জন্য আফসোস করা এখনি শেষ হয়ে যাবে যখন তুই এটি দেখবি। কথাটি বলেই সিরাত তার….

#চলবে…

রিচেক করা হয়নি তাই ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন