#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#ধামাকা_প্রথম_অংশ
সকাল নয়টা বাজে কিন্তু এখনো শামসুজ্জামান ঘুমিয়ে আছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী কে নিয়ে।শামসুজ্জামান আগে সকালে উঠলেও এক সপ্তাহ ধরে তার এই অভ্যাসটি ছুটে গিয়েছে।আগে রেহানা বেগম প্রতিদিন সকালে শামসুজ্জামান কে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এখন আর রেহানা বেগম নেই তাই সকালে উঠতে পারে না শামসুজ্জামান। রেহানা বেগম তার মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর।আর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন নি শামসুজ্জামান। কারন উনার দৃঢ় বিশ্বাস রেহানা বেগম তার বাবার বাড়ি গিয়েছেন।ও সেখানে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না। তাকে ফিরে শামসুজ্জামানের কাছেই আসতে হবে। শামসুজ্জামান এটি ভেবে রেখেছেন রেহানা বেগম কে তিনি এত সহজে ঘরে তুলবেন না।অবশ্য শামসুজ্জামানের কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল বটে। এতদিন অতিক্রম হওয়ার পরেও রেহানা বেগম বাড়ি ফিরছেন না। কিন্তু তিনি এই চিন্তা মাথায় আসতেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।
শামসুজ্জামান যখন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে আরামে ঘুমাচ্ছেন। তখনি তার দরজায় কেউ কড়া ঘাত করেন। একবার করাঘাত করে থামেনি ওই লোক বারবার করেই চলেছেন। যেনো পণ করেছে যেই পর্যন্ত দরজা না খুলবে সেই পর্যন্ত থামবে না। তখন শামসুজ্জামান বিরক্ত হয়ে তার স্ত্রী কে জাগানোর জন্য ডাক দিলেও তার কেনো হেলদোল না দেখে তিনি নিজেই উঠে চলে গেলেন। দরজা খুলতেই দেখতে পেলেন শামসুজ্জামানের জমিতে কাজ করা একটি সাধারণ কৃষক দাঁড়িয়ে আছে। শামসুজ্জামান লোকটিকে দেখে বিশ্রী ভাষায় গালি দিয়ে বলল।
এই তুই এত সকালে এখানে কি করছিস কাজে না গিয়ে। তোকে কি আমি এমনি এমনি টাকা দিবো।
কৃষকটি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
আপনের জমি কারা যেনো দখল কইরা নিতাছে। আমরা কিছু কইতে পারতাছি না কারণ ওদের লগে পুলিশ আছে।সব শেষ কয়রা লাগতাছে ওরা।
শামসুজ্জামানের কথাটি শুনে মাত্রই রওনা দেয় সেখানে।
শামসুজ্জামানের বিশাল বড় চাষ করার জমি। প্রায় দশ বিঘার মতোন এই জমিতেই শামসুজ্জামান কৃষকদের দিয়ে চাষ করিয়ে নিজের ঢাকায় চালের ব্যবসা করে।এই জমির কিছু হলে শামসুজ্জামান পুরো নিঃস্ব হয়ে যাবে।এই জমি শামসুজ্জামানের নিজের না।এটি শামসুজ্জামানের বাবার দেওয়া
এই জমিতে রেহানা বেগমের অবদান ও আছে অনেক। যখন শামসুজ্জামানের বাবা খুব অসুস্থ হয়ে যায় সেই সময় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখেন শামসুজ্জামানের বাবা।এই টাকা দিয়ে উনার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হাওয়ায় পরেও এই জমি তারা ছুটাতে পারেনি। এর ফলে সুদ ও আসল মিলে অনেক টাকা জমে যায়।যা তাদের জন্য দেওয়া অসম্ভব ছিল। তখন রেহানা বেগম তার বাবার বাড়ি থেকে আনা গহনা বিক্রি করে দেয়। তার বাবা ও ভাইয়ের থেকে টাকা নেয় যার বিনিময়ে রেহানা বেগমের বাবার বাড়ির জমির দাবি ছাড়তে হয়েছে।আর জমি বন্ধকের সব টাকা পরিশোধ করে দেয় রেহানা বেগম। তখন রেহানা বেগমের শশুর তার উপর খুশি হয়ে এই জমি তার নামে দলিল করে দেয়।কিন্তু জমি যে রেহানা বেগমের নামে করে দিয়েছে শামসুজ্জামানের বাবা। এই কথা কেউ জানতেন না। হয়তো জানানোর প্রয়োজন মনে করেন নি।
শামসুজ্জামানের জমির সকল ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে অন্য কেউ।এই দৃশ্য দেখে শামসুজ্জামান দৌড়ে সেখানে গিয়ে বলতে লাগলো।
আমার ধান তোরা কেটে নিচ্ছিস কেনো এটি আমার জমি। তোরা এখন না থামলে আমি পুলিশ কেস করব থাম বলছি।
শামসুজ্জামানের কথা শুনে তার দিকে এগিয়ে আসলো কিছু লোক।ও তাদের সাথে রয়েছে চারজন পুলিশ। শামসুজ্জামান পুলিশ কে দেখে তাদের কাছে এসে বলতে লাগলেন।
স্যার দেখেন ওরা আমার জমির সব ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে পুরো নিঃস্ব করে দিচ্ছে।এই ধান বিক্রি করে আমি কৃষকদের তাদের পারিশ্রমিক দিবো।দয়া করে কিছু করুন স্যার নাহলে আমার সাথে এই কৃষক গুলো না খেয়ে মরবে।
শামসুজ্জামানের কথা শুনে পুলিশ বললেন।
এই জমি আপনার না,এই জমি আমার সাথে যেই ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে তাদের। তারা এই জমি আরো ছয়মাস আগে কিনেছেন।তাই এই ধান ও তাদের।
ওরা মিথ্যা কথা বলছে স্যার এই সকল জমি ও ধান আমার।আমি কারও কাছে আমার জমি বিক্রি করি নি।ওরা একটা প্রতারক।
শামসুজ্জামানের কথা শুনে ওই লোকগুলোর মধ্যে একজন এগিয়ে এসে বলল।
আপনার প্রথম স্ত্রী ,আরো ছয় মাস আগে আমাদের কাছে এই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।আর এক বছরের জন্য ভারাও নিয়েছিলেন তাই আমরা এতদিন আসিনি। কিন্তু এখন উনি নিজে আমাদের সকল কিছু দখল করে নিতে।আর এই সকল ধান বিক্রি করে যা টাকা আসে তা কৃষকদের মাঝে ভাগ করে দিতে। কারন আপনি কৃষকদের তাদের সঠিক পাওনা দেন না। তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।আর যেই পর্যন্ত আমরা এই জমিতে চাষাবাদের কাজ করি।এই কৃষকদের কাজের থেকে না বের করি এই অনুরোধ ও জানিয়েছেন।
কৃষক গুলো লোকটির কথা শুনে তৃপ্তির হাসি হাসেন আর মনে মনে রেহানা বেগমের জন্য দোয়া করেন। তাদের অনেক টাকা পরে আছে শামসুজ্জামানের কাছে। কিন্তু শামসুজ্জামান তাদের টাকা সব সময় অর্ধেক নিজের কাছে রেখে দেন। কৃষকরা টাকা চাইতে আসলে। তাদের বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করেন। গ্রামে ভালো কর্মসংস্থান না থাকায় সকলের এক প্রকার বাধ্য হয়ে এখানে কাজ করতে হতো।
শামসুজ্জামান লোকটির কথা শুনে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।
কি? ও কে হয় এই জমি বিক্রি করার এটি আমার জমি।এটির মালিক আমি ওর সাহস হয় কি করে আমার জমি বিক্রি করার আর আপনারা ও জমির আসল মালিক কে এটা যাচাই না আপনারা কিভাবে জমি কিনেছেন।
শামসুজ্জামানের কথা শুনে লোকটি আগে বেড়ে শামসুজ্জামানের দিকে একটি দলিল এগিয়ে দিলো।যেই দলিলে
শামসুজ্জামানের বাবার সিগনেচার স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে। দলিল টি পরে যেনো শামসুজ্জামানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।সে দাঁড়ানো থেকে বসে পরেছে। তিনি এখন ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। উনার বাবা যে এই পুরো জমি রেহানা বেগমের নামে লিখে দিয়ে গেছেন।আর রেহানা বেগম এই জমি বিক্রি করে দিয়েছে।কিন্তু এই ব্যাপারে তো উনাকে কখনো জানাননি উনার বাবা। রেহানা বেগম ও এই বিষয়টি উনার কাছে লুকিয়ে গেছে। শামসুজ্জামান যদি আগে জানতেন তাহলে অনেক আগেই এই জমি নিজের নামে লিখে নিতেন রেহানা বেগম থেকে। উনার মাথায় কিছুই ঢুকছে না এই সব কিছু রেহানা বেগম কিভাবে করলেন।আর কেনই বা করেছেন রেহানা বেগম তো আগে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে জানতেন না। তাহলে কি তিনিই ভুল ভাবছিলেন রেহানা বেগম আগের থেকে সব জানতেন। কিন্তু শামসুজ্জামান কে কিছু বুঝতে দেন নি। আচ্ছা রেহানা বেগম তাহলে এখন কোথায় আছে।এত টাকা দিয়ে কি করেছে ও সত্যি কি রেহানা বেগম তার বাবার বাড়িতে গিয়েছেন। এমন অনেক কথায় এখন শামসুজ্জামানের মাথায় এসে হানা দিচ্ছে কিন্তু একটির ও উত্তর উনার কাছে নেই।
___________________________________
সিরাত ও রেহানা বেগম ঘরে বসে এই সকল কিছু দেখছে তাদের মোবাইলের মাধ্যমে।সিরাত আগের থেকেই মানুষ ঠিক করে রেখেছিল যাতে তাদের সকল কিছু দেখাতে পারে। শামসুজ্জামানের এমন করুন অবস্থা দেখে রেহানা বেগম ও সিরাতের কষ্ট পাওয়ার কথা থাকলেও তারা কষ্ট পাচ্ছে না। অনেক আগেই যে এই মানুষটির জন্য হৃদয় থেকে ভালোবাসা মুছে গেছে রেহানা বেগমের। অনেক সহ্য করেছে এই মানুষটির সংসারে। কিন্তু কখনো টু শব্দ ও করেনি নিজের মেয়েদের জন্য। কখনো মেয়েদের চোখে বাবাকে খারাপ হতে দেয় নি। কিন্তু এর প্রতিদান কি দিয়েছেন শামসুজ্জামান ধোঁকা।
আর সিরাত সে তো কখনো তার বাবার আদর পাইনি। তার গায়ের রংয়ের জন্য, একটি সময় সিরাত খুব করে চাইতো যেনো তার বাবা তাকে একটু হলেও আদর করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সিরাতের এই চাওয়াটা শেষ হয়ে যায়। যখন থেকে সিরাত আস্তে আস্তে বড়ো হতে থাকে তখন থেকেই তীব্র ঘৃণা জন্মাতে থাকে সিরাতের তার বাবার উপর।সিরাত তার গায়ের রংয়ের জন্য যতটা না বাইরের মানুষ থেকে শুনেছে। তার থেকে বেশি তার নিজের বাবার থেকে শুনেছে। শামসুজ্জামান সিরাতের গায়ের রং এর জন্য রেহানা বেগমের চরিত্রে দাগ আঙ্গুল তুলতেও দ্বিধা বোধ করে নি। কারন শামসুজ্জামানের পরিবারের সকলের গায়ের রং সুন্দর তাহলে সিরাতের গায়ের রং কালো কেনো হবে। কিন্তু উনি ভুলে গেছেন যে উনার মায়ের গায়ের রং ও কালো ছিল।সিরাত তার দাদির মতোই হয়েছিল। কিন্তু শামসুজ্জামান এই কথা কিছুতেই মানতে প্রস্তুত ছিলেন না।
রেহানা বেগম মোবাইলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল।
এখনো তো আসল মজা বাকি আছে।
আয়াত মায়ের কথার প্রতি উত্তরে বলল।
হ্যা মজা তো তখন আসবে যখন তোমার স্বামী তোমার রেখে আসা উপহার দেখবে….
#চলবে….
#তুমি_শুধু_গল্প_না_আমার_ভালোবাসা
#আমেনা_আক্তার
#ধামাকা_পর্ব_শেষ_অংশ
শামসুজ্জামান বাড়িতে এসে চিল্লাচিল্লি করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নিয়েছে। শামসুজ্জামানের চিল্লাচিল্লি শুনে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে। শামসুজ্জামানের অবস্থা দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন।
কি হয়েছে তোমার তুমি এমন করছো কেনো।
আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে যে আমার সব কিছু শেষ। এখন আর আমার কাছে কিছুই নেই।আমি পথে এসে গেছি।আমি পথের ভিখারি হয়ে গেছি।
কি বলছেন বলছো তুমি তোমার এত এত সম্পদ আর তুমি বলছো ভিখারি হয়ে গেছে।
শামসুজ্জামান আহাজারি করতে করতে বললেন।
ওইগুলো এখন কিছুই আমার নেই।সব সম্পত্তি রেহানা যাওয়ার আগে বিক্রি করে চলে গেছে। এখন শুধু আমার কাছে এই বাড়িটি রয়েছে।
শামসুজ্জামানের কথা শুনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মাথা ঘুরছে।সে কি শুনলো তার বিশ্বাস হচ্ছে না। যেই সম্পত্তির লালসা এতদিন নিজের মনে গেঁথে রেখেছে সেই সম্পত্তি এখন নেই।এই কথাটি কিছুতেই মানতে পারছেন না উনি।
উনি শামসুজ্জামানের কাছে এসে বলল।
কিন্তু সম্পত্তি তো তোমার নামে তাহলে তোমার প্রথম স্ত্রী সেইটা কিভাবে বিক্রি করলো।
না ওই সম্পত্তি আমার নামে ছিল না। বাবা রেহানার নামে ওই সম্পত্তি দিয়ে গেছে কিন্তু আমাকে জানাইনি। বাবা আমার সাথে বেইমানি করেছে।আর রেহানা…
কথাটি বলতেই শামসুজ্জামান থেকে গেলেন। তার মনে পরলো রেহানা বেগমের উপহারের কথা। এতদিন শামসুজ্জামান সেই উপহারের কথা মাথাও আনেনি তিনি মনে করেছেন। কেনো ফালতু জিনিসই হবে হয়তো তার ভিতর। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে সেই উপহার। তাই তিনি আর দেরি না করে। দৌড়ে চলে যায় রেহানা বেগমের ঘরে। আশেপাশে খুঁজার পর তিনি একটি খাম পেলেন ড্রয়ারের ভিতরে। শামসুজ্জামান খামের ভেতর একটি ডিভোর্স পেপার ও একটি চিঠি দেখতে পেলেন। ডিভোর্স পেপারটি দেখতেই শামসুজ্জামানের পুরো শরীর যেনো কাঁপতে লাগল। তিনি কখনো ভাবেননি রেহানা বেগম তাকে ডিভোর্স দিতে পারে। ডিভোর্স পেপারে স্পষ্ট ভাবে রেহানা বেগমের সাইন দেখা দেখা যাচ্ছে।
শামসুজ্জামান কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলেন।খুলেই তিনি পরতে শুরু করলেন রেহানা বেগমের লিখে যাওয়া কিছু কথা।
আমার চরিত্রহীন স্বামী আশা করি এখন আপনি খুব খারাপ আছেন। কারণ খারাপ থাকার কাজই তো আমি করে এসেছি। আপনি কি মনে করেছেন আপনি আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে উঠালে আমি আপনার পা ধরে কান্না করব। কারন আপনি আমাকে দূর্বল ভেবেছেন তাই তো।আমি সব সময় আপনার সকল অত্যাচার সহ্য করেছি তাই আপনার এত সাহস হয়েছে।তাই তো আপনি এত বড় অন্যায় করার আগে একবারও ভাবেননি। আচ্ছা আপনাকে একটি সত্য কথা বলব,আমি কিন্তু আপনার ছেলের সম্পর্কে সকল কিছু জানি।
এই পর্যন্ত পরতেই শামসুজ্জামানের হাত থেকে চিঠিটা পরে গেল।সে ঘামতে লাগলো। শামসুজ্জামানের মনে ভয় জাগছে উনি যেই সত্য কথাটি সবার থেকে লুকিয়েছে। সেই সত্যের কথা বলছে না তো রেহানা বেগম। শামসুজ্জামান আবার চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলেন।
হ্যা আপনি ঠিকই ভাবছেন,আমি জানি আপনার ও আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর অবৈধ সন্তান আপনাদের ছেলে।আমি এটাও জানি বিয়ের আগে আপনাদের মাঝে দুই বছর শারীরিক অবৈধ সম্পর্ক ছিল।সেই অবৈধ সম্পর্কের ফল আপনার সেই ছেলে।আর আপনি আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীকে এই জন্যই বিয়ে করেছেন। কারন আপনাদের অবৈধ সন্তান ছেলে হয়েছে। নাহলে কখনো আপনি ওই চরিত্রহীনাকে বিয়ে করতেন না।
আপনার এই কু কর্মের কথা আমি অনেক আগে থেকেই জানতাম। তখন থেকেই আমি আপনাকে প্রচুর পরিমান ঘৃণা করি।যা আপনার ধারনার বাইরে। আপনি হয়তো ভাবছেন,আমি সকল কিছু জানার পরেও আগে কেনো আপনাকে ছেড়ে যায়নি।আর এখনি বা কেনো আপনাকে ছেড়ে চলে গেলাম। তাহলে এই বিষয়ে আপনাকে আমি কিছুই জানাবো না। কারন এখন আর আমার সম্পর্কে জানার কেনো অধিকার আপনার নেই। কিন্তু হ্যা আমি আপনাকে এটা নিশ্চয়ই বলবো।
আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর উপর নজর রাখবেন। কেননা চরিত্রহীন মানুষ তো।যে আপনার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে তার অন্য পুরুষের কাছে যেতেও কেনো সমস্যা হবে না।তাই একটু নজরে নজরে রাখবেন।আর আপনি ডিভোর্স পেপার সাইন করেন আর না করেন হতে আমার কিছু আসে যায় না। কারন আমার মন থেকে অনেক আগেই আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছি। আপনাকে ভালো থাকতে না কারণ এখন থেকেই আপনার খারাপ থাকা শুরু।আপনি যেই মেয়েদের আমার দূর্বলতা ভেবেছেন সেই মেয়ে এখন আমার শক্তি। এবং আমি আপনাকে আপনার থেকে আমার মেয়েদের নিয়ে ভালো থেকে দেখিয়ে দিবো। ইনশাআল্লাহ।
শামসুজ্জামান চিঠিটা পরে বুঝতে পারছেন না তিনি কি করবেন। কিন্তু মনে মনে পণ অবশ্যই করেছে যেখান থেকে হোক রেহানা বেগম কে খুঁজে করবের। কিন্তু শামসুজ্জামান এখনো বিশ্বাস করছেন না রেহানা বেগম সত্যি তাকে ছেড়ে চলে গেছে।কেননা সে কখনো ভাবেনি রেহানা বেগম তাকে ছেড়ে চলে যাবেন বা রেহানা বেগম সকল সত্য কথা জানে। তার দুনিয়া এখন শূন্য শূন্য লাগছে। উনি কখনো রেহানা বেগম কে ছাড়তে চাননি।
__________________________________
আজ অনেক সুন্দর একটি সকাল রেহানা বেগম অনেক দিন পর অনেক শান্তিতে ঘুমিয়েছি। রেহানা বেগমের শান্তির একমাত্র কারণ শামসুজ্জামানের কে শিক্ষা দিতে পারা। এখন মনে হচ্ছে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। রেহানা বেগম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজ বাড়িতে ছোট খাটো একটি আয়োজন করবেন তিনি।
তাই তিনি সিরাত কে বলে দিয়েছেন নূর ও তার বন্ধুদের যেনো রাতে বাড়িতে দাওয়াত করে। রেহানা বেগম সাইরা থেকে শুনেছে তাদের এই বাড়ি নূরের সাথে তার বন্ধুরা ও গুছাতে সাহায্য করেছে।
সিরাতের অফিসের সময় হয়ে গেছে।তাই সিরাত সাইরা কে ভার্সিটিতে পৌঁছে দিবে ও নূর ও তাদের বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে অফিসে যাবে।
সাইরা কে নিয়ে বাস থেকে নামতেই সিরাতের নূরের সাথে দেখা হয়ে যায়। নূরের সাথে ছিল রাজ,হৃদিতা, আব্রাহাম, রুদ্র ও আরশাদ।সিরাত কে দেখে সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠলেও রুদ্রের চেহারায় ফুটে উঠেছে রাগ।সিরাত নূরকে দেখে তার দিকে হাসি মুখে এগিয়ে এসে বলল।
তোমাকে আমার আম্মু দাওয়াত দিতে বলেছে। সেই সাথে ওদের সকলকেও বলেছে তোমার যেতে। তোমাদের সকলের ও দাওয়াত আজ রাতে আমাদের বাড়িতে।
সিরাতের কথা শুনে হৃদিতা বলল।
আমরা অবশ্যই…
আর কিছু বলার আগেই নূর গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো।
আমি কোথাও যাবো না। ওদের মন চাইলে ওরা যেতে পারে কিন্তু আমি যাবো না।
নূরের এই কথা বলার কারণ সকলের জানা থাকলেও।সিরাতের জানা নেই এই ভেবে হৃদিতা মনে করলো হয়তো। সিরাত নূরের কথায় রাগ করবে। কিন্তু হৃদিতা কে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে।সিরাত আগে বেড়ে নূরের হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল।
আমি ভালোভাবে জানি তুমি তোমার ভাইয়াকে একা ছেড়ে আসবে না।আর আমি চাই ও না তুমি উনাকে একা ছেড়ে আসো।আমি তোমাকে ওয়াদা করছি। আমাদের বাড়ির প্রত্যেক মানুষ। আমাদের সাধ্য মতে চেষ্টা করব যাতে আমাদের জন্য তোমার ভাইয়ার কেনো কষ্ট না হয়।মা আমাকে ছাফ ছাফ বলে দিয়েছে। তুমি যদি তোমার বড়ো ভাইয়াকে রেখে আসো তাহলে তোমাকে যেনো বাড়িতে ঢুকতে না দেয়।
সিরাতের কথায় নূর কিছু না বললেও নূরের অনেক ভালো লাগছে। কেননা যখন থেকে নূরের ভাইয়ের মানসিক অবস্থা খারাপ হয়েছে তখন থেকে পারা প্রতিবেশীর সাথে সাথে তাদের সকল আত্মীয় স্বজন ও নূরদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
সিরাত চলে যায় নিজ গন্তব্যে , সাইরা চলে যায় তার ক্লাসে তখন রুদ্র সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল।
আমি যাবো না ওই মেয়েদের বাড়িতে।
সবাই খুব ভালো ভাবে জানতো রুদ্র এখন ঠিক এই কথাটি বলবে।রাজ রুদ্র কে বলে উঠলো।
তুই কি সিরাত কে কেনো ভাবে ভয় পাচ্ছিস।
আমি সিরাত কে ভয় পাবো কেনো,ও একটা বেয়াদব মেয়ে ওই মেয়ে আমাকে ভয় পায়।আমি ওকে না।
রুদ্রের কথার প্রতি উত্তরে হৃদিতা বলল।
তুই যেমন নাটক করিস ও সামনে আসলে।আর এখন ওর বাড়িতে যেতে চাইছিস না।এতে সাফ বুঝা যায় তুই ওকে ভয় পাচ্ছিস।
আচ্ছা তোদের মনে হয় আমি ওকে ভয় পাই। ওকে ফাইন আমি তোদের সাথে ওর বাসায় গিয়ে প্রমাণ করে দিবো কে কাকে ভয় পায়।
___________________________________
সাইরা বসে আছে ক্যান্টিনে,সাইরা একটি নতুন বান্ধবী জুটিয়েছে তার নাম নীলিমা।মেয়েটা খুবই ভালো খুব সহজে সাইরা সাথে মিশে গেছে। এমন ভাবে সাইরার সাথে কথা বলে যেনো তাকে যুগ যুগ ধরে চিনে।সাইরা ও নীলিমা বসে আছে আর হালকা পাতলা কিছু খাবার খাচ্ছে। তখনি হঠাৎ করে কোথা থেকে রাজ এসে বসে পড়লো সাইরার সাথের সিটে।রাজ হঠাৎ করে বসায় দুজনেই কিছুটা হচকচিয়ে যায়।তা দেখে রাজ সাইরার কানের সামনে আলতো করে বলল।
ভয় পেয়েছ,
সাইরার এত কাছে রাজ আসায় সাইরা কাঁপতে লাগলো। সাইরা নিজের মনের ভয় আড়াল করে বলল।
নাহ,ভয় কেনো পাবো।
ভয় না পেলে আমার থেকে এত পালাই পালাই কেনো করো।আর তোমার চেহারা তো অন্য কিছু বলছে। আচ্ছা আমাকে এত ভয় পাওয়ার কারণ অন্য কিছু নয়তো।
রাজের কথার প্রতি উত্তরে সাইরা কিছু বললো না। তখন রাজ বলল।
আচ্ছা বাদ দেও,আজ তো তোমাদের বাসায় আমার দাওয়াত তাই আমি তোমাদের সেখানে গেলে আমার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তোমার বুঝেছ।আমি আবার ভোজন প্রিয় মানুষ আমার জন্য বেশি বেশি করে রান্না করবে।
আমার মা খুব ভালো রান্না করে। আপনি অনেক মজা করে খেতে পারবেন সমস্যা নেই।
সাইরার কথা শুনে রাজ কিছু না বলে, মুচকি হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।রাজ যেতেই নীলিমা সাইরা কে বলল,
#চলবে….
ভুল হলে ক্ষমা করবেন আশা করি।