#তুহে_তো_দিল_ধারাকতা_হ্যাঁয়
(শেষ পর্ব)
You’re the light,
you’re the night
You’re the colour of my blood
You’re the cure,
you’re the pain
You’re the only thing I wanna touch
Never knew that it could mean so much,
so much
অতসীর মনের মধ্যে ভালোবাসার রঙ লেগেছে। অত:পর এতো বছর পরে জীবনে প্রথমবার কারো হাত ধরে এতোটা স্বস্তিবোধ করছে, মনের মধ্যে আনন্দের প্রজাপতি ছুটছে একশ একটা!
বাসায় ফিরে ঝটপট দুইজন রান্না করে ফেলে। আজ অতসী বেশ ভালো কিছু খাওয়ার আবদার করে। ইউটিউব দেখে রান্না করে – পোলাও, মুরগীর রোস্ট আর খাসির রেজালা। যদিও পোলাও একটু নরম হয়েছে, রোস্টে লবণ কম আর খাসির মাংসে তেল মশলা বেশি। কিন্তু এটাই রান্না করতে যেয়ে দুইজন খিল খিল করে হেসেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো অতসী রোস্টের মুরগীতে লবণ হলুদ মাখাচ্ছিলো ভাজার জন্য। এমন সময় নাকের আগা চুলকানোতে সে নাকে মুখে হলুদ লাগিয়ে একাকার। অতসীর এই হলুদ লাগানো মুখ হাঁ করে দেখছিলো সৌমিক।
– কি দেখছেন এমন হাঁ করে?
– তোমাকে বলবো না। আমাকে আপনি করে বলো কেন?
– আপনার সেফটির জন্য!
– মানে?
– মানে জামাই বউ ঝগড়া শুরু করলে বউয়েরা তুমি থেকে তুই তে নেমে যায়। আমি তো আপনাকে আপনি করে বলি, তো বড়জোর তুমিতে নামবো। তুই শোনার রিস্ক নিতে চাইলে আমাকে তুমি বলার জন্য জোর করতে পারেন!
উফ এই মেয়ে তো খুব বিচ্ছু! মনে মনে ভাবে সৌমিক। এরপর চুপিচুপি হাসে৷
– কি ব্যাপার এভাবে হাসছেন কেন? নিশ্চয় আপনার মনে কিছু একটা চলছে!
সৌমিক কথা না বলে ওর মোবাইলে তোলা একটা ছবি দেখায়। অতসী রান্নাঘরে কাজ করছে আর ওর সারা মুখে নানান জায়গায় হলুদ মাখানো। অতসী ক্ষেপে যায়। এতে যেন অতসীর সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহু গুণ।
– আরে দাঁড়াও দাঁড়াও আগুন লেগে যাবে তো!
– কই আগুন? কোথায় আগুন?
আতংকিত গলায় অতসী বলে উঠে।
– তোমার রূপের আগুন! ক্ষেপে গেলে তো তোমার রূপ আরো বেড়ে যাচ্ছে, আমি তো পুড়ে যাবো!
অতসী লজ্জা পেয়ে যায়। রান্নাবান্না শেষ। অতসী ওর বেডরুমে যায়। এরপর বেশ লম্বা সময় নিয়ে গোসল করে। চোখে কাজল দেয়, কপালে ছোট্ট একটা টিপ। হাতে চুড়ি পরে, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক৷
সৌমিক এদিকে টেবিল সাজায়। ঘরে রাখা মোমবাতি দিয়ে সারা ডাইনিং সাজিয়ে ফেলে। বিকেলে কেনা গোলাপ একটা গ্লাসে পানি ঢেলে সাজিয়ে রাখে। মোবাইলে লো ভলিউমে গান ছেড়ে দেয় –
ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো-তোমার মনের মন্দিরে।।
আমার পরানে যে গান বাজিছে
তাহার তালটি শিখো-তোমার চরণমঞ্জীরে।।
সৌমিক অতসীকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য বসে থাকে। কিন্তু অতসী যখন ডাইনিং এ আসে, সৌমিক নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে যায় – অতসী ওর দেয়া সেই নীল শাড়িটা পরে হালকা সেজেছে, ওকে একদম অপ্সরীদের মতো লাগছে৷
– কই খাবার দেন, ক্ষুধা লাগছে। বাহ, ক্যান্ডেল নাইট ডিনার! আপনি নিশ্চিত আমার প্রেমে পড়েছেন!
– এর উত্তর তোমার জানা
সিরিয়াস মুড নিয়ে বলে সৌমিক। কিন্তু বাস্তবে ওর হার্ট মিস করছে৷
– হুম অবশ্যই জানা। আপনি তো নিজের বউ এর প্রেমে পড়েছেন, অন্যের বউ এর তো আর না, হি হি।
মেয়েটা হাসলে কী অদ্ভুত ভালোলাগায় ভরে যায়৷ অতসী
অল্প অল্প করে খাবার খায়, আর মাঝে মাঝে গানের সাথে গুনগুন করে। সৌমিক খাবে কি, ও শুধু তাকিয়ে অতসীকে দেখে।
খাওয়া শেষে সৌমিক অতসীকে ব্যালকনিতে ওদের সদ্য কেনা চেয়ারে বসতে বলে। এরপর কিছুক্ষণ পরে একটা হারমোনিয়াম বেশ কষ্টেসৃষ্টে সেখানে আনে।
– এটা তোমার জন্য উপহার। এখন থেকে তুমি ইচ্ছা মতো গান গাইবে। একটা ঘর তোমার রেওয়াজের জন্য থাকবে। আমি বহু খুঁজে এটা কিনেছি কারণ ভালো একটা বুঝি না। আর কিছু লাগলে নির্দ্বিধায় জানাবে। দেখো অতসী, আমার আপন বলে এই দুনিয়াতে কেউ ছিলো না। আমার কোন পরিবার ছিলো না, বন্ধন ছিলো না। এখন তুমিই আমার একমাত্র আত্মীয়, পরিবার আমার বন্ধন। তোমার শখ, ইচ্ছা, আহ্লাদ সব কিছুই আমার জন্য অত্যন্ত ভালো লাগা।
অতসীর চোখে পানি এসে যায়৷ ওর মনের সব দ্বিধা মুছে যায়। সৌমিক একদম অন্য রকম, ভীষণ ভালো। ভালোবাসা যায় এমন কেউ। অতসী নিজেই সৌমিকের হাত ধরে৷
– আপনিও আমার একান্ত আপন। আমার মনে যতোটুকু দ্বিধা ছিলো, আপনার সংস্পর্শে এসে সবটুকু কেটে গেছে। আপনাকে ভালো না বাসলে ভীষণ অন্যায় হবে। আজ থেকে আপনার ভালো লাগা মানেই আমার ভালোবাসা।
সৌমিক হাত ছাড়িয়ে আবার ঘরে যায়৷ আবারও হাতে কিছু একটা নিয়ে আসে। এক জোড়া সোনার নুপুর। টুপ করে বসে অতসীর পায়ে পরাতে থাকে।
– আমি জানতাম, একদিন তুমি আমাকে গ্রহণ করবেই। সেটা যে এতোটা দ্রুত হবে বুঝি নি। সবই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। আমি বিয়ের সময়ই এটা বানিয়েছিলাম। যেদিন তুমি আমাকে মেনে নিতে পারবে, সেদিন নিজ হাতে পরিয়ে দেবো সেই আশা নিয়ে। আজ আমার সেই আশা পূরণ হলো।
মুগ্ধ চোখে অতসী নুপুরের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতো সুন্দর মুহূর্ত যেন জীবনে বার বার আসে। সৌমিকের হাত ধরে দাঁড়িয়ে যায়।
– এতো কিছু দিচ্ছেন, কিন্তু আমাকে তো গ্রহণ করছেন না!
– কি বলো? তোমাকে গ্রহণ করছি না মানে? তুমি তো অবশ্যই জীবনে জড়িয়ে আছো।
– যে আপনার জীবন জড়িয়ে যে আছে, তাকে জড়িয়ে ধরতে দ্বিধা কিসের?
সৌমিক পরম আবেগে অতসীকে জড়িয়ে ধরে। মুখ তুলে কপালে আলতো করে ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দেয়।
বাইরে তৃতীয়া দ্বাদর্শীর চাঁদ তার আলো ছড়িয়ে আশীর্বাদ করে এই ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ যুগলের প্রতি। সৌমিকের হৃদ স্পন্দনে অতসীর নাম উচ্চারিত হতে থাকে!
(সমাপ্ত)
প্রিয় পাঠক ‘ঈদ মোবারক’। আপনাদের জন্য অপরিসীম ভালোবাসা, শুভকামনা। এই গল্পটা ইচ্ছে করেই কোন টুইস্ট ছাড়াই শেষ করে দিলাম। মিষ্টি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প হয়েই থাকুক, জটিলতা মুক্ত। সংসার জীবনের জটিলতা নিয়ে আরেকটা গল্প লিখবো না হয়!
এবং আবারও
ঈদ মোবারক।