তুহে_তো_দিল_ধারাকতা_হ্যাঁয় পর্ব-১০

0
10

#তুহে_তো_দিল_ধারাকতা_হ্যাঁয়

(দশম পর্ব)

সৌমিকের অফিসে যাওয়া লাগলো। আজ ছুটি হলেও করার কিছু নেই। প্রোজেক্টের লাস্ট ডেট একদম শেষের দিকে৷ কপাল খারাপ হলে যা হয়, ওর টিমে এবার জাহিদ ভাইও আছে। এই লোকের অখাদ্য ধরণের রসিকতা সৌমিকের একদম পছন্দ না। কিন্তু ঐ যে কথায় আছে – পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে একসাথে!

প্রজেক্টের কাজ করতে করতে দুপুর পার। এদিকে ওদের লাঞ্চ করা হয় নি। ওদের বসের নির্দেশে বেশ ভালো রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আসলো। সৌমিক ব্যস্ততায় মোবাইল চেক করতে পারে নি। খাওয়ার ফাঁকে ফোনে একটা ম্যাসেজ এসেছে দেখলো। অতসী ম্যাসেজ দিয়েছে – আমি আজই চলে আসতে চাই। তুমি কি নিতে আসবে?

সৌমিকের মন খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। মনে হলো এখুনি বের হয়ে যায়৷ খেতে খেতেই বসকে বলে, আর কিছুক্ষণ কাজ করেই ও বের হয়ে যেতে চায়। বাকিটা পরের ওয়ার্কিং ডে তে করে ফেলতে পারবে। জাহিদ যেন এই সুযোগই খুঁজছিলো। রসিয়ে রসিয়ে বলে ফেলে

– বুঝলেন না বস, বাসায় নতুন বিয়ে করা বউ। এখন কি আর কাজে কামে মন বসবে? আহা, এখন তো রঙিন দিন।

জাহিদ আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু সৌমিক একটা কথায় ঠান্ডা করে দিলো।

– নিজের বউ এর কাছেই তো যাই জাহিদ ভাই। অন্যের বউ এর কাছে তো আর যাচ্ছি না৷ তো সমস্যা কি?

জাহিদ মুখ চুপসে বসে থাকলো। অফিসে জাহিদের নামে নানান রঙিন কাহিনী আছে। তার নাকি কার সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে। সৌমিক কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু জাহিদ ভাই যখন প্রতি পদে পদে রঙ্গ রসিকতা করে চলেছে, ওর আর সহ্য হয় না। মুখ ফুটে বলে ফেলে৷

বিকালে সৌমিক এবং অতসী যখন একসাথে বাসায় ফিরছে, তখন দুইজনই বিরক্ত। বিরক্ত এই সমাজের প্রতি, সমাজের মানুষের প্রতি। সৌমিকই প্রথম খেয়াল করে অতসী বেশ মুখ ভার করে আছে৷

– অতসী, চলো আমরা কিছুক্ষণ রিকশা করে ঘুরি। এখন শেষ বিকেল। গরমটাও কম, হালকা বাতাস আছে। ভালো লাগবে৷

অতসী মাথা কাত করে সম্মতি দেয় কিন্তু মুখে কিছু বলে না।

– তোমার কি খুব মন খারাপ?

অতসী মাথা উপর নিচ করে বোঝায় মন খারাপ। কেন মন খারাপ সেটা সৌমিক জিজ্ঞাসা করে না। রিকশা জ্যামে পড়ে। একটা ছোট মেয়ে বকুল ফুলের মালা আর গোলাপ বিক্রি করছে। সৌমিক একটা মালা কেনে আর গোলাপ ফুল।

– অতসী, এই ফুলের ঘ্রাণ আমার বেশ ভালো লাগে। আর ফুলের ঘ্রাণে মন ভালো হয়। এটা নাও।

– আমার খোঁচা করা। সেখানে পরিয়ে দাও।

– ক কি বললে?

– কেন বাংলা কথা বোঝেন না? আমার খোঁপায় পরিয়ে দেন।

সৌমিক কাঁপা কাঁপা হাতে অতসীর খোপায় জড়িয়ে দেয়। যে আনাড়ি হাতে পরিয়ে দিলো, খুলে না গেলে হয়! মেয়েটার এমনিতেই মেজাজ খারাপ। এখন আরো রাগ না করলে হয়!

শেষ বিকেলের আলো অতসীর চোখে মুখে লেপ্টে ওকে স্বর্গীয় দেবী মনে হচ্ছে। সৌমিক চুপি চুপি আড় চোখে অতসীকে দেখতে থাকে।

অতসী হঠাৎ সৌমিকের দিকে ঘুরে বসে৷ কিছুটা চাপা স্বরে বলে উঠে

– আমি তো আপনার নিজের বউ। তা এমন লুকোচুরি করে দেখার কি দরকার!

– আমিও আজ সেটাই বলেছি! আমার নিজের বউ এর কাছে যেতে লজ্জা কিসের!

– মানে কি?

– মানে হলো আমার এক কলিগ খালি আমাকে খোঁচা দেয়। আমার বিয়ে নিয়ে, নতুন বউ নিয়ে। ব্যাটার চারিত্রিক বদনাম আছে। এজন্য আজ বলেছি নিজের বউ এর কাছে যাই, অন্যের বউ এর কাছে নয়!

অতসী ফিক করে হেসে ফেলে। মেয়েটার ডান পাশের একটা দাঁতের উপর আরেকটা দাঁত কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো এজন্য ও দাঁত বের করে হাসলে অদ্ভুত সুন্দর লাগে।

সৌমিক অবাক হয়ে অতসীর দিকে তাকিয়ে থাকে৷

– এর আগে কখনো কোন মেয়েকে হাসতে দেখেন নাই?

– দেখেছি কিন্তু তারা কেউ আমার বউ না!

অতসী আবারও গা দুলিয়ে হেসে ফেলে। হাসির তোড়ে নড়ে পড়ে যায় যায় হলে সাবধান বশত সৌমিক অকস্মাৎ অতসীকে এক হাত দিলে আলতো করে জড়িয়ে ধরে৷ অতসী ঠিক হয়ে বসে সৌমিকের দিকে তাকাতেই সৌমিক সরি বলে হাত সরিয়ে নেয়।

অতসী চোক পাকিয়ে বলে, সরি কিসের? আমি কি পরের বউ? আবারও ওর হাসি পায়। ইচ্ছা করেই একহাত দিয়ে সৌমিকের হাত জড়িয়ে ধরে হাসতে থাকে।

সৌমিকের কেমন স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে। মনে হয় এটা কি বাস্তব? বিকেলটা অদ্ভুত সুন্দর মনে হয়। জাহিদ ভায়ের কথায় অতসী এতো হাসলো। নাহ, ব্যাটাকে একদিন বিরিয়ানি খাইয়ে দিতে হবে! খাইতে পছন্দ করে। কিন্তু আপাততঃ সৌমিক সব ভুলে অতসীর ধরা হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। বুকের মধ্যে যেন দ্রিম দ্রিম করে শব্দ হচ্ছে!

(চলবে)