তোমাতেই রহিব বিলীন পর্ব-১৯

0
1231

#তোমাতেই_রহিব_বিলীন
#পর্ব_১৯
#নিশাত_জাহান_নিশি

পরের দিন, হৃদি আপুর বিয়েটা সুস্থভাবে হলে ও আমরা হৃদি আপুর বিয়েতে এটেন্ড করতে পারি নি। আপুর অবস্থা খুব সূচনীয় ছিলো। হুট করেই আপুর হার্টের প্রবলেম ধরা পড়ে। শ্বাস প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটে। শ্বাস ছেড়ে পুনরায় শ্বাস নিতে পারছিলেন না। আপুর খারাপ অবস্থার কথা জানতে পেরে হৃদি আপুর বিয়ে ছেড়ে ঐদিন আহনাফ, নেহাল ভাই এবং তনিমা আপু হসপিটালে ছুটে আসেন। প্রায় দুদিন আপুকে হসপিটালাইজড করে রাখা হয়।

হসপিটাল থেকে আপুকে নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রায় ২ দিন পর আহনাফ, নেহাল ভাই, তনিমা আপু এবং ইয়ানাত আঙ্কেল আমাদের বাড়িতে আসেন। লজ্জায় ইয়ানাত আঙ্কেল মাথা নুইয়ে রাখতে বাধ্য ছিলেন। নিজের বড় ছেলের কু-কর্মে উনি নিজেই লজ্জিত, অনুতপ্ত, অনুশোচিত। আংশিক অপরাধবোধ আঙ্কেলের মধ্যে ও কাজ করছে। হয়তো ভাবছেন, ছেলেকে সু-শিক্ষা দিতে পারেন নি। ভালো শিক্ষার অভাবেই ছেলে উনার সম্পূর্ণভাবে বিগড়ে গেছে। সন্তান হত্যার মতো জঘন্য পাপ কাজটা করতে ও উনার ছেলের বিবেকে বাঁধে নি! আব্বুর দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে কথা বলার সাহসটা ও জোগাতে পারেন নি আঙ্কেল। সারাটা সময় মাথা নিচু করে নিচ গলায় কথা বলেছেন। মূলত আপুকে এক নজর দেখার জন্যই আঙ্কেল আমাদের বাড়ি এসেছেন। সঙ্গী হিসেবে আহনাফ, নেহাল ভাই এবং তনিমা আপু ও এসেছেন। যদি ও আমি জানি আহনাফ শুধু আপুকে নয় আমার সাথে দেখা করতে, কথা বলতে ও এসেছেন! বাকিটা আহনাফ ভালো জানেন।

বিষন্ন মনে চা, নাশতা সবার সামনে পরিবেশন করে আমি উপস্থিত কারো সাথে কোনো রকম কথা না বলে বসার ঘর থেকে প্রস্থান নিয়ে সোজা আপুর রুমে চলে এলাম। যদি ও আহনাফ অনেক চেষ্টা করেছিলেন আকার ইঙ্গিতে আমার চোখে চোখ মেলাতে, তবে উনার সমস্ত চেষ্টাকে নিরাশ করে আমি একরাশ মন খারাপকে সঙ্গী করে আপুর রুমে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। আপু কাঁথা মুড়ি দিয়ে নির্বিকার নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উল্টো পাশ ফিরে শুয়ে আছেন। কেবল আঁখিপল্লব থেকে টুপটাপ ছন্দে বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় অবাধ্য জলেরা হুটোপুটি খেলছিলো। আপুর মুখোমুখি বসে আমি আপুর ক্রন্দনরত মুখটার দিকে কিছু সময় চেয়ে থেকে দুহাত দিয়ে আপুর চোখ থেকে গাল অব্দি গড়িয়ে পড়া প্রতিটা অশ্রুকনাকে আলতো হাতে মুছে দিলাম। ক্ষনিকের মধ্যেই আপু হু হু শব্দে কেঁদে আমাকে ঝাপটে ধরে বললেন,,

“আমি এখনো মানতে পারছি না নে প্রভা। আরিফ আমার সাথে এতো বড় প্রতারনা করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কি পাপ করেছিলাম আমি বল না? বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত যতোগুলো বছর আমি আরিফের সাথে সংসার করেছি ঠিক ততো গুলো বছরই আমি আরিফের প্রতি যথেষ্ট সৎ ছিলাম, লয়াল ছিলাম। আরিফের অগোচড়ে আমি কখনো চেষ্টা ও করি নি কলেজ ফ্রেন্ড, ভার্সিটি ফ্রেন্ডদের সাথে যোগাযোগ করার। এমনকি “শুভ” ভাইয়ার সাথে পর্যন্ত আমি সব প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলাম শুধুমাএ আরিফের জন্য। তুই তো জানতিস বল? শুভ ভাই আমার জন্য কতোটা পাগল ছিলেন? এখনো মনে পড়ে আমার, আরিফের সাথে আমার বিয়ের ঠিক দুদিন আগে শুভ ভাই আব্বুর দুহাত ধরে কতোটা কাতর ভঙ্গিতে ঢুকড়ে কেঁদেছিলেন। শুধু মাএ একটা বছর আব্বুর থেকে সময় চেয়েছিলেন। এক বছর পর ভাইয়া বিদেশ থেকে ফিরেই আমাকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে আত্নীয়-স্বজনদের মধ্যে আব্বু নতুন করে কোনো সম্পর্ক বাড়াতে চান নি বলে ঐদিন শুভ ভাইয়ার কথা রাখতে পারেন নি। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শুভ ভাইয়াকে। জানিস এখন আমার কি মনে হচ্ছে? আব্বু হাত ধরে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন! জেনে, শুনে আমাকে এই নরক যন্ত্রনায় নিক্ষেপ করেছেন। ঐদিন যদি আব্বু শুভ ভাইয়ার করুন আবদারটা রাখার আদৌ কোনো চেষ্টা করতেন তবে আজ আমাকে এই দিনটা দেখতে হতো না। মানুষরূপী একটা জালিম, জালিয়াতের সাথে আমার সংসার করতে হতো না। যে পুরুষ নিজের দু দুটো সন্তানকে ভুলভাল মেডিসিন খাইয়ে মেরে দিতে পারে সে আর যাই হোক, ভালো স্বামী, ভালো বাবা বা উৎকর্ষ কোনো মানুষের কাতারেই পড়ে না।”

আপুর মাথায় নিরলসভাবে হাত বুলিয়ে আমি মিহি কন্ঠে আপুর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বললাম,,

“শুভ ভাইয়াকে তুমি ভালোবাসতে?”

প্রতিত্তুরে আপু কিঞ্চিৎ সময় মৌন রইলেন। মিনিট কয়েক পর হেচকি তুলে আপু ক্রন্দনরত অবস্থায় বললেন,,

“হয়তো বাসতাম! তবে প্রশ্রয় দিতে চাই নি কখনো। আব্বুর কথার উপর কথা বলার সাহস ছিলো না আমার। তাই নিজেকে অনেকাংশে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। যার ফলস্বরূপ আমাকে আজ এই দিনটা দেখতে হলো।”

আপুকে ছেড়ে আমি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। ডেস্কের উপর থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে রুম থেকে প্রস্থান নিয়ে সোজা ছাঁদে চলে এলাম। কিছু একটা করতে চাইছি আমি। শুভ ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ করতে চাইছি। জানতে চাইছি, শুভ ভাইয়ার মনে আপুর জন্য আজ ও কোনো ফিলিংস বাকি আছে কিনা! শুভ ভাইয়া সম্পর্কে আমাদের দুঃসম্পর্কের খালাতো ভাই। আমার জানা মতে, ভাইয়া এখনো বিয়ে করেন নি। ইতালীতেই এখনো নিজের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত আছেন। অন্তত আপুর বর্তমান অবস্থার কথাটা আমি শুভ ভাইয়াকে অবগত করতে চাই। এরপর ভাইয়া যা সিদ্ধান্ত নিবেন তাই হবে। হতে পারে এতো গুলো বছরে ভাইয়া ও নতুন করে কারো প্রেমে পড়েছেন, কাউকে ভালোবেসেছেন, নতুন কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছে ও পোষন করছেন। বাকিটা ভাইয়ার সাথে কথা বলেই না হয় জানা যাবে!

ফোনের স্ক্রীনের দিকে তাকাতেই দেখলাম সন্ধ্যা ৭ টা ছুঁই ছুঁই করছে। এই ভর সন্ধ্যারাতে আমি একলা একাই বাড়ির নির্জন ছাঁদে অবস্থান করছি। ডর-ভয় কিছুই কাজ করছে না মনে। বিশেষ এক কাজে মনযোগ আমার। তাই আশপাশের ভালো-খারাপ পরিস্থিতি বুঝার কোনো হেল দুল নেই আপাতত। প্রকৃতি আজ থমকে আছে বোধ হয়৷ বাতাস চলাচলে প্রকৃতি আজ ভীষন বেগড়া দিচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের আবির্ভাব ঘটছে। কপালের ভাঁজে বিরক্তি ভর করতেই মনে হলো পেছন থেকে কেউ আমাকে ঝাপটে ধরেছেন। ভয়ে এবার সত্যিই জমে গেছি আমি। চোখ এবং মুখ দুটোই গোলাকৃতি ধারন করেছে। হাত ফসকে ফোনটা নিচে পড়তেই কেউ কেয়ারিং তার হাত দিয়ে ফোনটা ক্যাচ করে নিলো। আমি এবার বুঝতে পারছি লোকটা কে! চাশমিশ আহনাফটা ছাড়া এই লোকটা আর কেউ না। রাগটা যেনো আমার তড়তড় করে মাথা থেকে পায়ে নেমে এলো। লোকটাকে শুধু কয়েকটা কটু কথা শুনালেই হবে না। হাত-পা চালিয়ে মারধর ও করতে হবে। মুহূর্তের মধ্যেই উড়নচণ্ডী ভাব নিয়ে আমি বিরক্তিকর লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,

“ইউ চাশমিশ আহনাফ। আপনার সাহস হলো কি করে পেছন থেকে আমাকে এভাবে ঝাপটে ধরার? কোনো অধিকারে আপনি আমার গাঁয়ে টাচ করলেন?”

আমার তীক্ষ্ণ কথাবার্তায় কোনো রূপ ভ্রুপেক্ষ না করে আহনাফ আমার ঘাঁড়ে মুখ ডুবিয়ে স্লো ভয়েজে বললেন,,

“উডবি ওয়াইফকে টাচ করেছি আমি। অধিকার এবং সাহস দুটোই আছে আমার!”

হাতের কনুই দিয়ে আহনাফকে সজোরে এক ধাক্কা মেরে আমি আহনাফের সম্মুস্থ হয়ে ক্ষিপ্র কন্ঠে উনার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বললাম,,

“কে আপনার উডবি ওয়াইফ হুম? কে? কোন অধিকার, কোন সাহসের কথা বলছেন আপনি? এই যে, আপনার ভাই আমার আপুর সাথে অন্যায়টা করলেন, এরপরে ও আপনি আমার হাজবেন্ড হওয়ার সাহস রাখেন কিভাবে তাই তো বুঝতে পারছি না আমি!”

আহনাফ প্রচন্ড ক্ষেপে আমার থুতনী চেঁপে ধরে দাঁতে দাঁত চেঁপে আমার ছলছল চোখে কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন,,

“আর একবার তোর মুখ থেকে আমার সম্পর্কে আর কোনো বেড কমেন্টস শুনলেই তোকে তুলে নিয়ে বিয়ে করতে আমার দু সেকেন্ড সময় ও ব্যয় হবে না। আমার ভাইয়া অন্যায় করেছেন আমি মানছি। যেমন অন্যায় করেছেন তেমন তার সাজা ও ভাইয়া পাচ্ছেন। এর মাঝে তুই বার বার আমাকে গুলিয়ে ফেলিস কেনো? ভাইয়া খারাপ বলে কি আমি ও খারাপ? তোর প্রতিটা কথায় আমার সম্পর্কে খারাপ ইঙ্গিত, খারাপ মনোভাব দুটোই থাকে। কেনো বল তো? হাতের পাঁচটা আঙ্গুলই কি সমান হয়?”

থুতনী চেঁপে ধরার দরুন কথা বলতে যদি ও আমার কষ্ট হচ্ছে তবু ও আমি আধো কন্ঠে আহনাফকে বললাম,,

“ছাড়ুন বলছি। আপনার উটকো কথা শোনার সময় নেই আমার। বিশেষ কাজে আমি ছাঁদে এসেছি। কাইন্ডলি এই মুহূর্তে আমাকে একটু একা ছেড়ে দিলে খুশি হবো।”

আহনাফ উগ্র কন্ঠে বললেন,,

“আমার এখন সব কথাই তোর কাছে উটকো মনে হয় তাই না? যাবো না আমি ছাঁদ থেকে। আমি ও দেখব তুই কি করতে পারিস!”

“এই আপনি কাকে তুই তুকারি করছেন হুম? কাকে তুই তুকারি করছেন? কার সাথে আপনি চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলছেন হুম?”

“তুমিই বাধ্য করছ তোমার সাথে রুড বিহেভ করতে। তুমি না? এসবেরই যোগ্য!”

কঠোর দৃষ্টিতে আহনাফের দিকে তাকাতেই আহনাফ হঠাৎ ক্রুর হেসে মুহূর্তের মধ্যে আমার ঠোঁট জোড়া দখল করে নিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি প্রকান্ড আশ্চর্যিত চোখে আহনাফের দিকে তাকাতেই আহনাফ হঠাৎ বাঁ চোখটা টিপে দিলেন। বেকুব হয়ে আমি চোখ জোড়া বুজে নিতেই আহনাফ ছোট ছোট বাইটে আমার ঠোঁটের উপর অত্যাচার চালাতে আরম্ভ করলেন। দুহাত দিয়ে আমি জোরালোভাবে আহনাফকে ধাক্কানোর চেষ্টা করলে ও লোকটার শক্তির সাথে ঠিক পেরে উঠছিলাম না। এক পর্যায়ে আমি ক্লান্ত হয়ে আহনাফের শরীরে সমস্ত শক্তি ছেড়ে দিতেই আহনাফ আমার ঠোঁট জোড়া ছেড়ে আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে হাঁফিয়ে উঠা কন্ঠে বললেন,,

“স্যরি।”

আমি রাগমিশ্রিত কন্ঠে বললাম,,

“কোনো ক্ষমা নেই আপনার। আপনি চূড়ান্ত লেবেলের খারাপ একটা লোক।”

“খারাপ বলো আর যাই বলো। আমাকে ছাড়ার কথা ভুলে ও মাথায় আনবে না।”

“খারাপ লোকের সাথে আমি সংসার করতে পারব না।”

“খারাপ লোকটার সাথেই তোমার সংসার করতে হবে। তুমি বাধ্য। ওকে?”

“বললেই হলো? না?”

“হুম হলো। বললেই হলো!”

“কাইন্ডলি এখন একটু ছাঁদ থেকে যান। আমার একটা জরুরী কাজ আছে!”

“কি কাজ আগে বলো?”

“কাজটা তো আগে হয়ে নিক। এরপর না হয় আপনাকে বলব!”

“কাজ হওয়ার আগে বলা যাবে না?”

“না। ইট’স টপ সিক্রেট!”

“ভাবীকে দেখেই একটু পর বাড়ি ফিরব। কাজটা সেরে তাড়াতাড়ি নিচে চলে এসো। তোমাকে দেখেই কিন্তু আমি বাড়ি ফিরব।’

“ঠিক আছে। আপনি যান।”

শেষ বারের মতো আমার কপালে দীর্ঘ একটা চুমো একেঁ আহনাফ ছাঁদ থেকে প্রস্থান নিলেন। ছাঁদ থেকে উনি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতেই আমি তাড়াহুড়ো করে শুভ ভাইয়ার নাম্বারটা কন্ট্রাক্ট লিস্ট থেকে ফাইন্ড আউট করে ঐ নাম্বাটায় ডায়াল করলাম। প্রথম রিং বেজে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রিংটা শুভ ভাই রিসিভ করলেন। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে আমি হ্যালো বলার পূর্বেই শুভ ভাইয়া জিগ্যাসু কন্ঠে বললেন,

“ইয়েস। কে বলছেন?”

হতাশ কন্ঠে আমি বললাম,,

“নাম্বারটা ও সেইভ নেই তোমার কাছে?”

পরক্ষনে আমি তব্ধ শ্বাস ছেড়ে বললাম,,

“আমি প্রভা,শুভ ভাই।”

অকস্মাৎ শুভ ভাই খুশিতে উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলেন,

“প্রভা তুই? তুই কল করেছিস আমাকে?”

“কেনো ভাইয়া? বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার? আমি তোমাকে কল করতে পারি না?”

“পারিস। অবশ্যই পারিস। তবে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তোদের কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নেই তো তাই একটু অবাক হলাম!”

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শুভ ভাই কেমন যেনো আহত কন্ঠে আমায় প্রশ্ন ছুড়ে বললেন,,

“হ্যাঁ রে প্রভা? পল্লবী কেমন আছে? ভালো আছে তো?”

#চলবে…?