থার্টি ফার্স্ট নাইট পর্ব-০২

0
893

@থার্টি ফার্স্ট নাইট
#পর্ব_০২
#লেখিকা_নুসরাত_জাহান_নিপু

অনাহিতা নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করলো,”আপনার ডিভোর্সের কারণ কী?”

হুট করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করায় অভিনব থমকে গেল।কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার অনাহিতার আছে।পুরোপুরি অধিকার পেয়েছে সে।তাই বাধ্য হয়ে বলল,”পারিবারিক ভাবেই আমার আর রেশমির বিয়েটা হয়েছিল।বিয়ের এক বছরের মাথায় প্রেমশার জন্ম হয়।কিন্তু আমাদের সংসার ভালো চলছিল না,আমার ব্যবসায়ও বার বার লস হচ্ছিলো,আমাদের মতের মিল হতো না।তারপর কথায় কথায় একদিন আমি ওর গায়ে হাত তুলি আর আস্তে আস্তে সংসার ভাঙতে শুরু করে।তাই দু’জনে মিলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেই।”

ডিভোর্সের কারণটা অনাহিতার কাছে খটকা লাগলো।অনাহিতা প্রশ্ন করতে চাইলো,”প্রেমশাকে ওর মা চায়নি?”কিন্তু প্রশ্নটা করতে হলো না।অভিনব দম নিয়ে বললো,”প্রেমশাকে প্রথম এক বছর ওর কাছেই রাখি,কারণ ও তখনো বাচ্চাই ছিল।তারপর ওর বিয়ে হয়ে গেলে আমি নিয়ে আসি।আর মাঝে মধ্যে প্রেমশাকে ও নিয়ে যায়।কালও রেশমি নিয়ে গিয়েছিল।আমি জানতাম না এটা পুরাটাই একটা পরিকল্পনা ছিল।”

ফিনফিনে নিরবতা চারিদিকে।অনাহিতা বুঝতে পারলো না তার কী বলা উচিত।প্রথম সম্পর্কের সাথে অভিনবের সবকিছু ক্লিয়ার।কিন্তু তারপরও কোন নারী কী চাইবে ডিভোর্সি লোকের সাথে সংসার করতে?

স্থির কণ্ঠে সে আবারো বললো,”আপনাকে এমন একটা সম্পর্কে আমি বেঁধে রাখবো না।আপনার সামনে এখনো গোটা জীবন পড়ে আছে।আপনি যেমনটা চাইবেন আমাদের সম্পর্কের পরিনতি তেমনটা হবে।”

অনাহিতা বুঝতে পারলো এই সম্পর্কে থাকলে সে উড়ন্ত পাখির ন্যায় থাকতে পারবে।তাকে কেউ জোর করবে না।অভিনব’কে ভালোবাসার জন্য মনের বিরুদ্ধে যেতে হবে না।একটু আগের প্রশ্নের উত্তর স্বরুপ সে বলল,”আমার সময় দরকার।ভেবে বলবো।”
-“ঠিক আছে।শুধু এটুকু বলবো যতদিন থাকবেন,প্রেমশার যেন কষ্ট না হয়।ও আমার প্রাণ ভ্রমরা।”

রুম ত্যাগ করলো অভিনব।অনাহিতা ঘুমন্ত প্রেমশার দিকে তাকিয়ে রইলো।এই মেয়েটার সঠিক বয়স ছয় বছর হয়েছে।এর মাঝে হয়তো সে জেনেও গেছে তার বাবা-মা আলাদা।সে যেকোনো একজনের সাথেই থাকতে পারবে।আচ্ছা,প্রেমশা কী তাকে মা ডাকবে কোনোদিন?
.

ইসমি আক্তার শাড়ির আঁচলে মুখ চেপে কাঁদতে লাগলেন।তার একমাত্র মেয়েটার জীবন এমন কেন হলো?প্রথমে ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আর এখন…এখন তো ডিভোর্সি পুরুষের সাথে বিয়ে হয়েছে।তিনি মনে মনে ঠিকই নিজের ছেলেকে সন্দেহ করছেন।আমিন সবই জানতো।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি স্বামীর উদ্দেশ্যে বললেন,”বিয়ের আগে একটুও খোঁজ নিলেন না আপনি?এখন মেয়েটার…”

শেহ আহমেদ বিরক্তিকর গলায় বললেন,”আহা,ইসমি;চুপ করবে?তোমার বেয়াদব মেয়ের যে বিয়ে হয়েছে সেটাই শুকরিয়া করো।”
-“কেন?আমার মেয়ে কী অপদার্থ নাকি?”
-“অপদার্থের চেয়েও অপদার্থ সে।তোমার মেয়ের কাজকর্ম যদি তার শ্বশুর বাড়ি জানতে পারে তাহলে তক্ষুনি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে।অতো ফুলের মতো মনে করো না নিজের মেয়েকে।”

ইসমি আক্তার বললেন,”তুমি বাবা হয়ে এমন বললে তো সমাজ ঠিকই গীত গাইবে।”
-“যে যেমন, আমি তাকে তেমনটাই বলছি।তর্ক করো না।”

শেখ আহমেদ স্ত্রীর সাথে আর তর্কে জড়াতে চাইলো না।তিনি মনে করেন মেয়ে মানুষ মানেই কথার জাল।ওরা কথায় কথায় কখন যে ফাঁসিয়ে দেয়,কেউ বুঝতে পারে না।

ছেলের উদ্দেশ্য তিনি বললেন,”আমিন,তোর শ্বশুর বাড়ির লোক কী বলল?”

আমিন হাতের পেন্সিল ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,”এখনো কিছু বলেনি।তবে মনে হয় না আর ঝামেলা হবে।”
-“খবরা-খবর রাখ।অনির বিয়ে হয়ে গেছে এটা জানে?”
-“জি বাবা,জানে।”
-“তাহলে সমস্যা হবে না আর?”
-“ইনশাআল্লাহ, হবে না বাবা।”

নাকে নেমে আসা চশমা চোখে তুলে দিলেন শেখ আহমেদ।এবার ছেলের বিয়েটা হয়ে গেলেই হয়।
.

কারো উঁচু কন্ঠস্বর কর্ণে প্রবেশ করতেই অনাহিতার ঘুম ভেঙ্গে গেল।আলতো করে চোখ খুলে দেখে হাতে মার্কার নিয়ে প্রেমশা হাসছে।দুই হাত দিয়ে সে চোখ কচলে নিলো।বেশ লম্বা একটা ঘুম হয়েছে।

প্রেমশা হাসতে হাসতে বলল,”সুপার গার্ল,কী কিউট তুমি!”

অনাহিতাও হেসে বলল,”তুমিও কিউট পিচ্চি মা!”

মার্কার দিয়ে হাতে আঁকিবুঁকি করতে করতে প্রেমশা বিছানায় বসে বলল,”তোমার নাম অনা…হিতা?”
-“হুম।”
-“ফোর লেটার?অ,ন,হ,ত?”
-“হা হা হা!হ্যাঁ,ফোর লেটার।”
-“এত বড় নেম!ফুফি বলে গার্লদের নাম টু লেটারের হতে হয়।”
-“তাই?তোমার ফুফি কোথায়?”
-“দাদুর সাথে লুডু খেলছে।হা হা হা!”

অনাহিতা বুঝলো উঁচু স্বরে তার শাশুড়ী মা আর ননদই কথা বলছে।নজর যখন প্রেমশাতে আবদ্ধ হলো তখন অনাহিতা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।হাসলে কী সুন্দর টোল পড়ে!হুট করে সে,প্রেমশার হাত থেকে মার্কার নিয়ে কপালের এক পাশে কালো তিল এঁকে দিলো।বিড়বিড় করে বলল,”কারো যেন নজর না লাগে।”
.
চিন্তিত স্বরে রোমিলা বেগম লুডু খেলার গুটি সরিয়ে বললেন,”অভি রেগেমেগে বের হয়ে গেল।অনাহিতা এখনো ঘর থেকে বের হয়নি।জানি না কী হবে!”

বিরক্তিকর দৃষ্টি নিয়ে নিশি বললো,”মা,অনাহিতা কী?এত বড় নাম?শর্ট করে ডাকো।”
-“শর্ট করবো কীভাবে আবার?”
-“অনাহিতা,অনা…হিতা।শর্ট ফর্ম হলে অনি বা অনু।”
-“তোর গবেষণা নাম নিয়ে?আমি ভয় পাচ্ছি,অনাহিতা এ বাড়ি থেকে চলে না যায়।”

নিশির ছকে ছক্কা উঠলো।গুটি দিয়ে চাল দিয়ে বলল,”যাবে না।”
-“কী যাবে না?”
-“অনাহিতা এ বাড়ি থেকে মরণের আগ অবধি তো যাচ্ছে না।”

নিশি তিন ঘর চাল দিয়ে তার মায়ের গুটি কেটে দিলো।রোমিলা বেগম বললেন,”তুই কী করে বুঝতে পারলি?”
-“একটা প্রশ্ন করবো।যদি সঠিক উত্তর দিতে পারো।সব বলবো।”
-“কী প্রশ্ন?”
-“লুডু খেলার উৎপত্তি কোন খেলা থেকে?”

বিরক্তিতে রোমিলা বেগম ভ্রু কুঁচকে ফেললেন।তার মেয়েটা বরাবরই হেয়ালি করে।এই প্রশ্নের উত্তর তিনি জানেন না দেখেই নিশি এমন প্রশ্ন করছে।কিঞ্চিত রেগে তিনি বললেন,”জানি না।”
-“তাহলে আমিও তোমাকে কিছু বলছি না।নাও তোমার দুইটা গুটি কেটে দিলাম।”

রোমিলা বেগম বিড়বিড় করে বললেন,”তোর সাথে আর কোনোদিন খেলায় বসবো না।ফাজিল মেয়ে!”

নিশি হাত কেলিয়ে হেঁসে উঠলো।গতদিন সে বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিল।অভিনবকে অজুহাত দেখিয়েছিল তার বান্ধবী অসুস্থ এবং তার বাসায় কেউ নেই।কিন্তু তার দূরে যাওয়ার আসল কারণ হলো বিয়ের আসরে অনাহিতা যেন তাকে না দেখে।
.

অনাহিতা আর প্রেমশা ড্রয়িং রুমে এসে দেখলো সেই মেয়েটা এবং তার শ্বাশুড়ি লুডু খেলছে।তাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটা উঠে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বললো,”ভাবি,তোমার মুখের এই অবস্থা কে করলো?”

অনাহিতার ভ্রু কুঁচকে গেল।এতক্ষণ ধরে তো প্রেমশার সাথে রুমে ছিল।এর মধ্যে মুখের কী হলো?

নিশি বললো,”এক মিনিট দাঁড়াও,দেখাচ্ছি…”।সে মেবাইলের ছবি তুলে অনাহিতার হাতে মোবাইল দিলো।অনাহিতা দেখলো তার চেহেরাকে বিড়ালের মতো করে মার্কার দিয়ে আর্ট করেছে।মুহুর্তে বুঝে গেল এটা প্রেমশার কাজ।

কোমরে হাত দিয়ে অনাহিতা প্রেমশার দিকে তাকালো।খিলখিল করে হেঁসে প্রেমশা দৌঁড় দিলো।তাকে ধরার উদ্দেশ্যে অনাহিতা পেছনে ছুটতে লাগলো।দু’জনে ড্রয়িংরুমে পুরো ঘুরছে,আর অনাহিতা ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বলছে,”তবে রে পিচ্চি,দাঁড়াও তুমি।প্রেমশা আস্তে,পড়ে যাবে।”

বলতে বলতে প্রেমশাকে সে ধরে ফেললো।প্রেমশা প্রাণপণে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়া চেষ্টা করছে।তার হাত থেকে অনাহিতা মার্কার নিয়ে বললো,”এই যে তোমাকে এখন বিল্লি বানিয়ে দিবো।”

কিন্তু প্রেমশার মুখে কোনো দাগই সে দিলো না।বরং মার্কারটা লুকিয়ে রাখলো।প্রেমশা তার গাল দুটো ধরে বলল,”বিল্লি গার্ল।হা হা হা!”

নিশি কাছে এসে প্রেমশার উদ্দেশ্যে বললো,”দুষ্টুমি শুরু করেছিস আবার?”
-“তোমাকেও বানিয়ে দেই?
-“নাহ,ম্যাডাম।”

নিশি অনাহিতাকে বললো,”মুখ ধুয়ে ফেলো।”

অনাহিতা রুমে চলে আসলে পেছন পেছন নিশিও আসে।ওয়াশরুম থেকে সে বেরিয়ে আসার পর নিশি প্রশ্ন করে,”ভাবি,আমাকে চিনতে পারছো তো?”

তোয়ালে দিয়ে মুখে লেগে থাকা জল মুছতে মুছতে অনাহিতা জবাব দিলো,”হ্যাঁ।”
-“কাল আমি একটু ব্যস্ত থাকায় বিয়েতে থাকা হয়নি।”
-“হুম।”
-“তুমি কী কোনো কারণে আমার উপর রেগে আছো ভাবি?”

মুখ থেকে তোয়ালে সরিয়ে নিলো অনাহিতা।এক পলক দৃষ্টি স্থির করে বললো,”রেগে থাকার কোনো কারণ নেই।”
-“যাক,তাহলে।ভাইয়া কোথায় গেল?”

এই প্রশ্নে কিছুটা চমকালো অনাহিতা।অভিনবের সাথে সকালে কথা হয়েছিল।তারপর সে প্রেমশা দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ে।এর মাঝে অভিনবের খোঁজ সে জানে না।

স্পষ্টভাবে সে উত্তর দিলো,”আমি তো জানি না।”
-“কিছু বলে যায়নি?”
-“আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।”

না চাইতেও অনাহিতার মনে অনু পরিমান ভয় ঢুকে গেল।সকালে কথা বলার সময় সে স্পষ্ট টের পেয়েছে অভিনব অপরাধী ভাবছে নিজেকে।মৃদুস্বরে অনাহিতা প্রশ্ন করলো,”কখন বের হয়েছিল?”
-“মা তো বলল সকালেই।”

অজান্তেই অনাহিতা দাঁত দিয়ে নখ কাটতে লাগলো।হোক না হোক মানুষটাকে যথেষ্ট সম্মান করে সে।কাল রাতে রুমে প্রবেশ করে বলেছিল,”আপনি ক্লান্ত মনে হয়।ঘুমিয়ে পড়ুন।”এটুকু বলেই মানুষটা কাঁথা, বালিশ সোফায় ঘুমিয়ে পড়ে।ভালো মানুষ বলেই তো এমনটা করেছে!

অনাহিতা নিশির উদ্দেশ্যে বললো,”কল করে দেখোনি?”
-“ফোন বন্ধ।”

অনাহিতার চিন্তা বেড়ে গেল।মনে একটাই প্রশ্ন, “মানুষটা ঠিক আছে তো?”

.
নিশি এক দৌঁড়ে তার মায়ের কাছে এলো।এসে দেখলো তার মা গুগলে সার্চ করছে,”লুডু খেলার উৎপত্তি কোন খেলা থেকে?”

এটা দেখে নিশি হেঁসে উঠলো।প্রেমশা তখন বড়দের মতো করে বললো,”ফুফি,হাসো কেন?”

নিশি ধমকের সাথে বললো,”এই ফুলকলি,তোর মায়ের কাছে যা।”

মুখ গোমড়া করে প্রেমশা বললো,”মাম্মা তো এখানে নেই।”

নিশি থমকে গেল।প্রেমশার একটুখানি মন খারাপ হলেও সেটা তার নিজস্ব হয়ে দাঁড়ায়।হাঁটু গেঁড়ে নিশি তার কাঁধে হাত রেখে বললো,”কে বলেছে নেই?সুপার গার্ল আছে না?সুপার গার্ল?”
-“হুম।”
-“তাকে ‘মা’ ডাকবে।বুঝেছিস?”
-“কিন্তু মাম্মা তো একটা হয়।আমার দুইটা কেন?”
-“এটা তোর সুপার গার্লকে জিজ্ঞেস করে আয়।জলদি যা…”

প্রেশমা দৌঁড় দিলো।রোমিলা বেগম বললেন,”কিছু একটা বুঝালে পারতি।অনাহিতার কাছে পাঠালি কেন?”
-“মা,তুমি অনাহিতা,অনাহিতা ডাকা বন্ধ করবে?অনি ডাকবে।ভাইয়া কল রিসিভ করেছে?”
-“নাহ।রমেশকে কল করে দেখ,আমি মালির কাছে গেলাম।”
-“বাগান থেকে একটা গোলাপ আর কিছু ভিন্ন ফুল আনিও তো মা।”
-“কেন?”
-“দরকার আছে।”

রোমিলা বেগম আর কথা বাড়ালো না।নিশি রমেশের নাম্বারে ডায়াল করলো।রমেশ হলো অভিনবের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট।
.

প্রেমশার প্রশ্নে অনাহিতা ভারি অবাক হয়ে গেল।উত্তর দেওয়ার জন্য সে কিছুটা সময় নিলো।তারপর প্রেমশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,”দেখো,বাবা-মা এক বাড়িতে থাকে না?”
-“হুম।কিন্তু মাম্মা আর বাব্বা দূরে দূরে থাকে।”
-“তো,এখন থেকে আমি আর তোমার বাবা একসাথে থাকবো।তাহলে আমিও তোমার মাম্মা হলাম তাই না?”
-“হুম।আর ঐ মাম্মা?”
-“উনিও তোমার মাম্মা,লাকি গার্লদের দুইটা মাম্মা থাকে।ইউ মিস ইউর মাম্মা?”
-“নো,আই মিস বাব্বা।আই লাভ বাব্বা, মাম্মা আমাকে আদর করে না।”

অনাহিতা হতবাক হয়ে গেল প্রেমশার কথা শুনে।এটুকু বাচ্চা বুঝে গেছে তার মা তাকে ভালোবাসে না।তাহলে প্রেমশাকে তার মা নিয়ে যায় কেন?

(চলবে)

[গল্পের সুবিধার্থে প্রেমশার বয়স ছয় বছর করা হলো।ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।বানান ভুলগুলি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।]