@থার্টি ফার্স্ট নাইট
#পর্ব_১৩
#লেখিকা_নুসরাত_জাহান_নিপু
ঘড়ির কাটা বারোটা ছোঁয়ার পূর্ণ চেষ্টা করছে।গোল থালার রুপ ধারণ করেছে চাঁদটা।আকাশে কোনো তারা নেই।চারিদিকে ঘোর অন্ধকার।
আমাদের জীবনেও এমন কিছু মানুষ আসে।তাঁরা’র রুপ ধারণ করে তারা আমাদের জীবনকে আলোকিত করে।আমরাও তাদের ওপর দিনের পর দিন নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।কিন্তু সেই মানুষগুলো হুট করে চলে গেলে জীবনটা আঁধারে তলিয়ে যায়।
বেশ ক’টা দিন চলে গেছে।সময় যে কারো জন্য থেমে থাকে না!
রুপম রেশমিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে।গত তিন ঘণ্টা সে বিভিন্নভাবে রেশমিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে কেন সন্তান চায় না।রেশমি তার কতটুকু বুঝেছে সেটা বুঝা যাচ্ছে না।হঠাৎ শীতল কণ্ঠে রেশমি বলল,”আমি আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলবো না রুপম।”
রুপম বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়!এ কোন রেশমি?তার রেশমি তো ছিলো সুতোয় বাঁধা পুতুল।সে যেভাবে নাড়তো সেভাবে নড়তো।তাহলে এখন স্রোতের বিপরীতে কেন কথা বলছে?
রুপম রেশমিকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় বসলো।মৃদুস্বরে বলল,”এখানে বাচ্চা মরার কথা কেন আসছে?এখনো ভ্রুণ।”
রেশমি বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে বলল,”যেমনটাই হোক।”
রুপম রেশমির দিকে তাকালো।রেশমির দৃষ্টির জানালার দিকে স্থির।রুপম বলল,”ও বাবা যখন চাইছে না তখন তুমি কেন চাইছো?”
তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে উঠলো রেশমি।ওষ্ঠদ্বয়ে হাসির রেখা ঝুলিয়ে বলল,”তোমার সাথে আমার আর সম্পর্ক রইল না রুপম।আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো!”
শেষ চার শব্দের বাক্যটা বজ্রপাতের মতো রুপম কর্ণপাত করল।রেশমি যদি তাকে ডিভোর্স দেয় তাহলে সব পরিকল্পনা ডুবে যাবে।বিজনেস পার্টনার সবাই তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে।তার পরিকল্পনা ছিল রেশমির সাথে অন্য একজনের সম্পর্ক করবে।তারপর এবরশন করার কারণ দাঁড় করাবে রেশমির পরকীয়া।বাচ্চাটা অবৈধ বলে রেশমি এবরশন করিয়েছে এমনটাই প্রমাণ করবে।সেই পরিকল্পনার শুরুটা মাত্র আজকে শুরু হচ্ছিলো।এর মধ্যেই রেশমি বিগড়ে গেল?
রুপম কঠিন স্বরে বলল,”কী বলছো তুমি?”
একইভাবে রেশমি উত্তর দিলো,”আমি ডিভোর্স দিবো তোমাকে।”
রুপম তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,”সমাজ কী বলবে?ভালো চোখে দেখবে তোমাকে?”
রেশমি কিঞ্চিত বিস্মিত হয়ে বলল,”কেন?পাপ কী করেছি আমি?”
-“প্রথম একবার ডিভোর্স হলো।দ্বিতীয়বারও ডিভোর্স।তাও আবার প্রেগন্যান্ট অবস্থায়।লোকজন বাজে বলবে না?স্বামীকে কেন ছাড়লে,দুইটা পুরুষই খারাপ ছিল,ইত্যাদি ইত্যাদি।”
রেশমি শব্দ করে হেসে উঠলো।তার হাসিতে রুপম হতভম্ব হয়ে গেল।হাসি থামিয়ে রেশমি বলল,”আমি কখন থেকে সমাজের পরোয়া করছি?আমি যদি সমাজ মানতাম তাহলে এক বাচ্চা ফেলে প্রাক্তনকে বিয়ে করতাম না।আমার পুরো পরিবার ইন্ডিয়ায় আছে।তাদেরকে ছেড়ে তোমার সাথে সংসার করতাম না।”
রুপম ভাবনায় ডুব দিলো।রেশমির প্রতিটা কথায় সত্য।সে কোনোদিন সমাজের পরোয়া করেনি।রুপম মনে মনে অন্য পরিকল্পনা করে বলল,”ঠিক আছে।এবরশন করার দরকার নেই।”
রেশমি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।টেবিল থেকে ক্লিপ তুলে নিয়ে চুল বেঁধে নিলো।রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,”আমি উকিলের সাথে কথা বলবো।তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাই না আমি আর।”
.
প্রেমশা চেয়ারে বসে কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটছে।অনাহিতা বিছানার ছাদর ঠিক করতে করতে বলে,”পিচ্চি মা?খাতা রাখো এখন।”
প্রেমশা আনমনেই উত্তর দিলো,”হুহ্।”
নিজের কাজ শেষ করে অনাহিতা পেছন ফিরলো।ফিরে প্রেমশার কাজ দেখে বলল,”কী করছো এগুলো?”
প্রেমশা মুখ ভার করে উত্তর দিলো,”আমার ভালো লাগছে না।”
অনাহিতা হাঁটু গেড়ে তার সামনে বসলো।মেয়ের হাত ধরে বলল,”কী হয়েছে?মন খারাপ কেন?”
-“কিছু হয়নি।এমনি ভালো লাগছে না।”
অভিনব রুমে ঢুকতে ঢুকতে প্রেমশার শেষ কথাখানি শুনে ফেলল।তার উত্তরে সে বলল,”গেম হবে প্রেমশা?”
প্রেমশা নড়েচড়ে উত্তর দিলো,”কী গেম?মোবাইল গেম খেলতে ইচ্ছে করছে না।”
অনাহিতা বলল,”ট্রুথ অর ডেয়ার?”
অভিনব বিছানায় বসে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে মৃদুস্বরে বলল,”ওল্ড ভার্সন!”
অনাহিতার কর্ণ অবধি পৌঁছাতে সে কিঞ্চিত রেগে বলল,”কে ওল্ড ভার্সন?আজিব কথাবার্তা তো!”
অভিনব বলল,”গেম বলেছি আমি।ওসব গেম হবে না।প্রেমশা,আজকে আমরা নতুন গেম খেলবো।ওকে?”
প্রেমশা বিছানার মাঝখানে বসে বলল,”ওক্কে বাব্বা।সুপার মাম্মা,বসো এখানে।”
অনিচ্ছার সত্ত্বেও অনাহিতা বিছানায় বসলো।অভিনব ড্রয়ার থেকে একটি নোটখাতা বের করে সেও বসলো।
নিজের ফোন বের করে বলল,”এখানে আমার কিছু বন্ধু,কলিগের নাম্বার আছে।সো,আমরা এখন তাদের অচেনা ব্যক্তি হয়ে কল করবো।তাদেরকে ভুলভাল বলে তাদের রিয়্যাকশন দেখবো।ওকে?”
অনাহিতা বিড়বিড় করে বলল,”এটা কোনো গেম?বোরিং।”
প্রেমশা উপভোগ করলো সিদ্ধান্তটা।হাত তালি দিয়ে সে বলল,”এখানে কে জিতবে?”
অভিনব বলল,”তিন মিনিট আমরা কথা বলবো।একবার অনাহিতা করবে,আরেকবার আমি।যে যত ভালো করবে তুমি তাকে ১০ এর মধ্যে রেটিং করবে।ওকে?”
প্রেমশা মাথা নাড়িয়ে ‘হ্যাঁ’ বোধক উত্তর দিলো।অভিনব আবারো বলল,”প্রথম কল করবো আমার বন্ধু রহিতকে।ও আমার কণ্ঠস্বর চিনবে তাই অনাহিতা করবে।
বিস্ময় সুরে অনাহিতা বলল,”আমি?আমি কী বলবো?”
প্রেমশা সম্মতি জানিয়ে বলল,”পয়েন্ট।”
অভিনব বিরক্ত হয়ে বলল,”উফ,বলছি তো।ওর বউয়ের সাথে ওর প্রতি সেকেন্ডে ঝগড়া হয়।সেটা নিয়ে কথা বলবে।”
অনাহিতাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অভিনব কল দিলো।দু’তিন বার রিং হয়ে রিসিভ হলো।অনাহিতা গলা ঝেড়ে নিয়ে বলল,”হ্যালো,মি.রহিত বলছেন?”
ওপাশের ব্যক্তির ভয়ার্ত কণ্ঠস্বর নিয়ে বলল,”হ্যাঁ।আপনি কে আপু?আমার বউ দেখলে আপনার সাথে আমাকেও জেলে পাঠাবে।”
প্রেমশা,অভিনব মুখ টিপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করল।অনাহিতা আবারো বলল,”বউকে এত ভয় পান কেন?আপনার বউ আপনাকে অত্যাচার করলে সাহস করে পুলিশকে জানান।”
ওপাশের ব্যক্তি অসহায় কণ্ঠে বলল,”হায় আপু!বউয়েরা নারী নির্যাতনের কেস করতে পারে,পুরুষ নির্যাতনের কেস করার সুযোগ নেই।”
অনাহিতা বিস্ময় হওয়ার ভান করে বলল,”কী বলেন?আমাদের তো সংস্থা তো পুরুষ নির্যাতন নিয়ে।আপনাকে আমরা সর্বোচ্চ সহয়তা করতে পারি।”
বলেই সে প্রেমশার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো।অভিনব হেসে বিড়বিড় করে বলল,”পুরুষ নির্যাতন সংস্থা?হা হা হা।”
ওপাশের ব্যক্তি ফিসফিস করে বলল,”সত্যি বলছেন ম্যাডাম?আমার বউকে ধরে নিয়ে যাবেন?”
অনাহিতা গলা ঝেড়ে বলল,”উনার বিরুদ্ধে আমরা একশান নিবো।আপনাকে কীভাবে নির্যাতন করে বলুন।”
ঐ ব্যক্তি অস্পষ্ট সুরে কেঁদে উঠলো।নিচু স্বরে বলল,”ম্যাডাম,দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা…চব্বিশ ঘণ্টা সন্দেহ করে।বাথরুমে দুই মিনিট লেট করলে ধাক্কা-ধাক্কি করে।সেদিন তো বাচ্চাদের সামনে খুন্তি দিয়ে দৌড়ালো।শুধু তাই নয়,গরমকাল বলে আমাকে ফ্লোরে ঘুমাতে বলে।”
ফোনের স্পিকার চেপে ধরে তিনজন হো হো করে হেসে উঠলো।ক্ষণ পলক বাদে অনাহিতা উত্তর দিলো,”আপনার স্ত্রী এমন করার কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে?সত্যি সত্যি বলবেন।ভুল তথ্য দিলে আপনাকে এরেস্ট করা হবে।”
ওপাশে ব্যক্তি বলল,”যাহা বলিব সত্য বলিব,মিথ্যা বলা আমার চরিত্র নহে।আমার ছোট বেলার প্রেমিকা ক’দিন আগে মেসেজ করছিল।তখন থেকে অত্যাচার দ্বিগুন বেড়ে গিয়েছে।কিন্তু সত্যি বলছি ম্যাডাম,ঐ মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক নেই।”
-“হুম;হুম,বিশ্বাস করে নিলাম আমরা।আপনার বউকে কীভাবে শাস্তি দিবো?”
আত্মবিশ্বাস নিয়ে রহিত বলল,”ও কে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাবেন।তারপর স্বামী নির্যাতনের জন্য কয়েকটা মারবেন।আমি বলে দিবো কীভাবে ও কেও নির্যাতন করবেন।”
অনাহিতা কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক করে বলল,”ও আচ্ছা দুলাভাই।আমার বান্ধবীকে নিয়ে এইসব পরিকল্পনা করছেন?এক্ষুণি ও কে ফোন করে রেকর্ডিং শোনাচ্ছি।”
আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অনাহিতা কল কেটে দিলো।অভিনব হাসতে হাসতে বলল,”অনেক ভালো।হা হা হা।”
ফোন বেজে উঠলে প্রেমশা দেখলো একই নাম্বার থেকে কল আসছে।অনাহিতার উদ্দেশ্যে সে বলল,”সুপার মাম্মা,আবার বলো।”
অভিনব ফোন বন্ধ করে রাখলো।অনাহিতা উত্তর দিলো,”না না,এখন রিসিভ করলে রিস্ক।কিন্তু প্রেমশার বাবা,উনি আপনার নাম্বার চিনবেন না?”
অভিনব বলল,”নাহ,এই নাম্বার নেই।প্রেমশা রেটিং করো।”
অনাহিতা মুখটা বাচ্চাদের মতো করে ফেলল।প্রেমশা কিছুক্ষণ ভাবার ভান করে বলল,”১০/১০।”
‘ইয়েএএ’ বলে অনাহিতা লাফিয়ে উঠলো।অভিনব বলল,”এটা কীভাবে সম্ভব?প্রেমশা, দিস ইজ চিটিং।”
প্রেমশা মাথা নেড়ে বলল,”নো চিটিং বাব্বা।”
অনাহিতা বলল,”ঠিক আছে,ঠিক আছে।আপনি আমার ফোন থেকে কল করবেন।ওকে?”
অভিনব উত্তরে বলল,”ওকে।কার নাম্বার?”
অনাহিতা নাম্বার লিস্ট থেকে একটা নাম্বার দেখিয়ে বলল,”এটা টুম্পার নাম্বার,আমার কাজিন হয়।ওর ওজন ৪০।আমরা ও কে শুঁটকি বলি।নেন কল দিলাম…”
একবার রিং হতেই রিসিভ হলো।অনাহিতা ফোনটা তিনজনের মাঝখানে রাখলো।অভিনব গলা ঝেড়ে কিছু বলার আগে ওপাশ থেকে বলল,”কুকুরের মুণ্ডু।তুই অন্য নাম্বার থেকে কল দিস?ব্রেকাপ বলছি না?অমঙ্গলের হাড্ডি।”
এত উঁচু শব্দ শুনে অভিনব এক লাফে পেছনে চলে গেল।অনাহিতা যথা সম্ভব শব্দহীন হাসার চেষ্টা করছে।প্রেমশা নিচু স্বরে প্রশ্ন করলো,”সুপার মাম্মা,অমঙ্গলের হাড্ডি কী?কু…কুকুরের মুণ্ডু কী?”
অনাহিতা মেয়ের মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,”চুপ,চুপ!”পরক্ষণে ইশারায় অভিনবকে বলল কথা বলতে।অভিনব মুখটা ছোটো করে বলল,”হ্যালো?”
ওপাশ থেকে একইভাবে কর্কশ কণ্ঠে বলল,”আব্বে হ্যালো হ্যালো করিস ক্যান?আমারে কঙ্কাল বলছিস না?”
অভিনব কিছুটা সাহস নিয়ে কঠিন কণ্ঠে বলল,”তুই কঙ্কাল তাই কঙ্কাল বলি।তোকে দেখে তো শুঁটকিও দাঁত কেলিয়ে হাসে।”
ওপাশের ব্যক্তির তাপমাত্রা মনে হয় ১০০° হলো।রাগে সে কণ্ঠস্বরও খেয়াল করেনি।একইভাবে সে বলল,”হুয়াদ্দা ফালতু কথা।তুই যে হাতির তিন নাম্বার বাচ্চা সেটা কোনোদিন মুখ ফোটে বলছি?”
অভিনবও তাল মিলিয়ে বলল,”তোর মুখ থাকলে তো বলবি।তোকে দেখে তো বুঝায় যায় না তুই কথা বলতে পারিস।কথা বলার শক্তি আছে তোর?”
-“তোর এত্ত বড়ো সাহস?”
-“আমার প্রচুর সাহস।তোর মনে হয় না সাহস আছে।”
-“তোর মুখ আমি কাঁঠালের আঠা দিয়ে বন্ধ করে দিবো।”
-“থ্যাংক ইউ।সাথে কানটাও বন্ধ করিস।”
-“ক্যান?”
-“তোর বকবক শুনতে না-হয় মতো।”
-“তোর…”
-“এনার্জি কিছু বাঁচিয়ে রাখ।সব এখন খরচ করে ফেললে কেউ বিয়ে করবে না।”
-“গোল্লায় যাক তোর এনার্জি।”
-“প্রতিদিন সকালে একটা করে পঁচা ডিম খাস,শক্তি বাড়বে।”
এতক্ষণে মনে হয় মেয়েটির হুস আসলো।সে প্রশ্ন করলো,”এই,কে রে তুই?তুই তো আবির হতেই পারিস না।”
অভিনব কল কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দিলো।অনাহিতা-প্রেমশা হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে অভিনব বলল,”বাপরে,কী মেয়ে এটা?”
অনাহিতা হাসতে হাসতে বলল,”আপনিও কম কিসে?হা হা হা।টুম্পার ছোটো ভাই।হা হা হা।”
অভিনব কিঞ্চিত রেগে বলল,”টুম্পা তোমার কাজিন।হুবহু তোমার মতো।”
-“মোটেও আমার মতো না।আপনার ফটোকপি।হা হা হা,পঁচা ডিম?”
অভিনব আড়চোখে একবার তাকিয়ে প্রেমশা,অনাহিতা দু’জনকে কাতুকুতু দিতে লাগলো।প্রেমশা,অনাহিতার হাসির শব্দ আরো বেড়ে গেল।তারাও অভিনবকে কাতুকুতু দিতে শুরু করল।
(চলবে)