দীর্ঘ রজনী পর্ব-৪২+৪৩

0
558

নাম:#দীর্ঘ_রজনী।
লেখনীতে:#সাদিয়া_আফরোজ।
পর্ব:৪২

সাদ দৌড়ে গিয়ে সাজির রুমের দরজা ধা*ক্কা দিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে লক করা।সাদ আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়। এক মূহুর্ত অপেক্ষা না করে সাজির রুমের সাথে লাগোয়া রুমের বারান্দায় চলে যায়। সেই রুমের বারান্দা দিয়ে টপকে সাজির রুমের বারান্দায় গিয়ে পড়ে। সাদ সাজির রুমের মধ্যে গিয়ে থমকে গেছে। দেয়ালের সাথে সাজির হাত মুখ চেপে ধরে রেখেছে নিশান।সাজির চোখ বেয়ে অনবরত নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। নিশান সাজির দিকে মুখ নিতে সাজি ধা*ক্কা দিতে শুরু করলো।নিশান এতোটাই সাজিতে বিভোর যে সাদের উপস্থিতি ওবদি টের পেলো না। সাদ দাঁতে দাঁত চেপে হাত মুঠ করে নিশানের নাক বরাবর ঘু*সি মা*র*লো। ব্যাথ্যায় আর্তনাদ করে ছিটকে প*ড়*ল নিশান। সাজি অশ্রুসিক্ত চোখে সাদের দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়। সাদ সাজিকে টেনে জড়িয়ে নিলো বাহুডোরে। সাজির পিঠ উন্মুক্ত বুঝতে পেরে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে ধাতস্থ করলো সাদ।সাদের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হতে সাজি চিৎকার করে কেঁদে উঠে। সাজির প্রতিটা অশ্রুবিন্দু সাদের বুকে কাঁ*টা*র মতো বিঁধ*ছে। সাদ চেয়েও শান্ত করতে পারলো না সাজিকে। সাদ কোট খুলে সাজির গায়ে জড়িয়ে দিয়ে নিশানের কলার ধরে দাঁড় করালো। এই দিকে সবাই দরজা ধাক্কানো শুধু করেছে। সেঁজুতি আর অনিলা কেঁদেই চলেছে। জুবায়ের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে অনবরত। রায়হান বারান্দা টপকে সাজির রুমে গিয়ে দরজা খুলে দিল। সেঁজুতি আর অনিলা দৌড়ে সাজিকে জড়িয়ে ধরে। সাদ পর পর ঘু*সি মে*রে নিশানের নাক মুখ দিয়ে র*ক্ত বের করে ফেলেছে। নিশান সাদকে মা*রতে এলে রায়হান লা*থি মে*রে ফেলে দেয়। নিশান আবারো ছিটকে গিয়ে ফ্লোরে প*ড়ে, সাদ লা*থি দেয়া শুরু করে। সাদ মা*রতে মা*রতে চিল্লিয়ে বলে উঠল ,, তোর কতো বড় কলিজা তুই এই বাড়ি এসে আমার কলিজায় হাত দিস? আজ তোকে আমি মে*রেই ফেলবো। তোর সাহস কি করে হয় সাজঁবাতির গায়ে হাত দেওয়ার? তুই ওর গাল ছুয়েছিস!তোর ওই হা*ত আমি ভে*ঙে দিবো। সাদকে আজ অন্য রকম লাগছে। একদম অন্যরকম, ভয়ংকর এক সাদকে আবিষ্কার করেছে সবাই।চোখ মুখ লাল হয়ে ক্রমশো হিং*স্র হয়ে উঠছে। সাদের এই হিং*স্রতায় নিশানের অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে। নিশান ব্যাথ্যায় চিৎকার করে থামতে বলছে। তবে সাদের কোনোরূপ মায়া হলো না সাদ মে*রে চলেছে। না তাকে কেউ থামাচ্ছে ,আর না থামানো যাবে বলে মনে হচ্ছে।

ছেলের এমন করুন অবস্থা দেখে আমজাদের বুক কেঁপে উঠল।আমজাদ ছেলেকে বাঁ*চা*তে এগিয়ে যেতে নিলে লুনা হাত ধরে আটকে দেয়। লুনার কাজে অবাক হয় আমজাদ। যেখানে নিশানের গায়ে কেউ হালকা আঁচড় কা*টলে লুনা কেঁদে কে*টে একাকার করে ফেলে, সেখানে লুনা তার আদরের ছেলেকে বাঁ*চা*তে মানা করছে? লুনা অশ্রুসিক্ত চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল,, আজ যদি তুমি ওকে বাঁ*চা*তে যাও! তবে তোমার সাথে আমার সম্পর্কের ইতি এখানে টানতে হবে আমজাদ। স্ত্রীর এমন কথায় থেমে গেলেন আমজাদ। দুহাত মুঠ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
জুবায়ের একপাশে দাড়িয়ে চুপ করে আছে। না তিনি আটকানোর চেষ্টা করছে না মা*র*তে গেছে। শুধু দাঁতে দাঁত চেপে নিশানের র*ক্তা*ক্ত শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে।
রেনু আর লতা ভয়ে জড়সড় হয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে রইল।
রিমি সাজির পিঠে হাত বুলিয়ে থামানোর চেষ্টা করছে। সাজিঁ সাদের এহেন ভ’য়ং’ক’র রূপ দেখে ভয়ে জড়সড় হয়ে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।সাদকে রাগতে দেখেছে ঠিকই কিন্তু এতোটা হিং*স্র আর ভ*য়*ঙ্ক*র ভাবে রেগে মা*রতে দেখেনি।সাজি কেঁপে উঠছে বারবার। সেঁজুতি চোখ মুছে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আছে।সাজি পারলে মায়ের বুকের ভেতরে লুকিয়ে পড়তো। অনিলা রহমান পুলিশকে কল দিতে মোবাইল হাতে নেয়। জুবায়ের বোনের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নিরেট স্বরে বলল,, আধ ঘন্টা পরে আমি নিজে কল দিবো। এই আধ ঘন্টা সাদকে দেওয়া হলো। রায়হান ঘড়ি চেক করে মোবাইল হাতে নিয়ে কাউকে কল দিয়ে আবার মোবাইল রেখে দিলো।
বাড়ির ভেতরের চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো রশনিরা। বাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি দেখে থমকে গেছে সবাই।অল্প সময়ে এতো কিছু হয়ে গেলো!

সাজি ভয়ে ভয়ে মায়ের বুক থেকে মাথা তুলে নিশানের দিকে তাকালো। নিশানের কোনো নড়াচড়া নেই,তাও সাদ মা*র*ছে তাকে। সাজি এই সব কিছু দেখে হাত কাঁপতে শুরু করলো। দাঁত মুখ খিচে আসছে তার। সেঁজুতি মেয়ের এমন অবস্থা দেখে চিৎকার করে কেঁদে উঠে জুবায়েরকে ডাকে। অনিলা রহমান সাজির মুখে আলতো চা*পড় মে*রে সাজিকে ডেকে ওঠে কিন্তু সাজি দাঁত মুখ শক্ত হয়ে কেঁপে চলছে। রিমি সাজির মাথায় হাত বুলিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। রায়হান সাদের হাত টেনে ধরে সাজির দিকে ইশারা করে বললো, এই কীটকে মেরে হাত ময়লা না করে ম্যামের কাছে যান। ম্যামের অবস্থা ভালো না। সাদ যতক্ষনে নিশানকে ফেলে সাজির কাছে যাবে ততক্ষণে সাজি সেন্সলেস হয়ে যায়। সাদ তার মাকে সরিয়ে সাজির হাতটেনে ডেকে ওঠে। কিন্তু সাজির কোনো সাড়াশব্দ নেই। রায়হান হড়বড়িয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। রেনু আর লতা পানি আনতে ছুটে বেরিয়ে পড়ে। সাদ সাজিকে ডেকে চলেছে অনবরত। সেঁজুতি মেয়ের এমন অবস্থা দেখে বুক থা*ব*ড়ে কাঁদছে। রিমি সেঁজুতিকে শান্তনা দিয়ে চলছে। জুবায়ের ডাক্তারকে কল দিতে চেয়েও পারছে না। হাত কাপার কারনে বারবার মোবাইল হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। অনিলা ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে মোবাইল নিয়ে নিজে কল করলো।
লুনা দু’চোখ তখনো সিক্ত। লুনা এক দৃষ্টিতে সাজির দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটাকে কিছু সময় আগেও কতটা হাঁসি খুশি দেখেছিলো। সাজির হাসি মুখে চুমু এঁকে লুনা বলেছিলো ,কারো নজর না লাগে। এখন দেখো!সেই তো তার ছেলের নজর লাগলো।এমন নজর যা ধ্বং*স ডেকে আনে।
সাজির হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সাদ সাজিকে বিছানায় সুইয়ে হাত-পায়ের পাতা মালিশ করতে লাগলো। রেনু আর লতা পানি নিয়ে এলো। তার পেছনে রায়হান ডাক্তার নিয়ে হাজির হয়েছে। যদিও রায়হান নিশানের অবস্থা দেখে আগে ডাক্তারকে কল করে ছিলো। কিন্তু এখন দেখছে সাজির অবস্থা ভালো না।
ডাক্তার রুমে ডুকে নিচে পড়ে থাকা র*ক্তা*ক্ত দে*হ দেখে ঘাবড়ে যায়। রায়হান সেই দিক থেকে চোখ সরিয়ে বললো,, এইটা পেশেন্ট না। পেসেন্ট এই দিকে।
রায়হানের কথা শুনে ডাক্তার আকাশ থেকে পড়লো। এক মূহুর্তের জন্য ডাক্তারের মনে হলো রায়হান মশকরী করছে।
ডাক্তার সাজিকে চেকাপ করা অবস্থায় পুলিশের গাড়ি এসে থামে বাড়ির দরজায়। পুলিশের এসআই এসেছে সাথে দুজন কনস্টেবল। এসআই হামিদ ঘটনাস্থলে এসে নিশানকে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো। এই দিকে কনস্টেবল দুজন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কে অপরাধী আর কে তার শিকার তা বুঝা মুশকিল। রায়হান এসআই-কে পুরো ঘটনা খুলে বললো। হামিদ কনস্টেবল-কে ইশারা করে। কনস্টেবল দুজন ইশারা পেয়ে একজন নিশানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। অন্য জন তৎক্ষণাৎ এম্বুলেন্স কল করে আসতে বলে। পুলিশ একে একে সবার কাছ থেকে ঘটনা জেনে নিচ্ছে। সেঁজুতি কান্নার জন্য কিছুই বলতে পারেনি। এসআই হামিদ লুনা আর আমজাদকে দেখিয়ে রায়হান কে জিজ্ঞেস করে, এরা কারা?
রায়হান নিশানকে দেখিয়ে বলল,, ওর পেরেন্টস।
এসআই হামিদ লুনার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,, ওনারা যা বলছে তা কি সত্যি? নাকি আপনার ছেলেকে ফাঁসানোর,,,
লুনা চোখ মুছে এসআই হামিদকে থামিয়ে দিয়ে বললো,,সরি অফিসার এই মূহুর্ত থেকে আমার কোনো ছেলে নেই। যদি আমি এক মিনিটের জন্য ভেবে বসি এইটা আমার ছেলে। তাহলে আমি একে নিজের হাতে খু*ন করে ফেলবো। পেটে ধরার ক্ষমতা থাকলে মে*রে ফেলার-ও থাকবে নিশ্চই!
এসআই হামিদ আচম্বিত হয়ে তাকিয়ে রইল। বলার জন্য কিছু পেলো না। তাই তিনি নিরবে সরে আসলো। লুনার কথায় সবটা পরিস্কার হয়ে গেছে।তবে এই ভেবে অবাক হলেন মা তার ছেলের অন্যায়কে এক বিন্দু প্রশ্রয় দেয় নি। তার চাকরি জীবনে এই প্রথম এমন কিছু দেখছেন তিনি।
এইদিকে সবাই অবাক চোখে লুনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমজাদ নিজেও চমকে উঠেছে। এই প্রথম লুনাকে এতোটা কঠোর হতে দেখছে তিনি।

এম্বুলেন্স আসার সাথে সাথে নিশানকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে গেছে। এসআই হামিদ জুবায়েরকে তার সাথে পুলিশ স্টেশনে যেতে বলায় জুবায়ের তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে পড়লো।

ডাক্তার সাজিকে চেকাপ করে ইনজেকশন দিয়ে গেছে। আপাতত সাজি ঘুমাবে। ভয় আর সকের কারনে সেন্সলেস হয়ে গেছে। ঘুম থেকে ওঠার পর বুঝা যাবে এই ঘটনা তাকে ঠিক কতটা এফেক্ট করেছে। রিমি এবং রেনু মিলে সাজির ড্রেস চেঞ্জ করে বেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। সাদ তখন থেকে সাজির হাত ধরে বসে আছে। যতবার চোখের পলক ফেলছে ততবার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। সাদ বারবার নিজেকে দোষারোপ করে চলেছে। কেন আরো আগে এলো না!কেন সাজঁবাতির খোঁজ নিলো না! কেন মেহমানদের নিয়ে এতো ব্যাস্ত হয়ে পড়লো! সাদ নিজেকে কষছে শুধু।মনে হচ্ছে সব দোষ তার। এইদিকে সেঁজুতির প্রেশার হাই হয়ে গেছে। মেয়ের এই অবস্থা দেখলে কোনো মা ঠিক থাকতে পারে না। ডাক্তার সেঁজুতিকে ঔষধ দিয়ে রেষ্ট নিতে বলেছে। অনিলা সেঁজুতির শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে যাতে সেঁজুতি একটু ঘুমোয়।
লুনা স্বামীর বুকে মাথা ঠেকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে। মা তো মা-ই হয়, সন্তান শত অপরাধ করলেও সে মায়ের সন্তান। যাকে সমস্ত আদর, স্নেহ, ভালোবাসা উজাড় করে লালন পালন করেছে লুনা।লুনা চায় যারা একটা মেয়ের শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে তাদের কঠিন শাস্তি হোক। কিন্তু একটা জায়গায় গিয়ে সব কিছু গুলিতে যাচ্ছে তার।নারী হিসেবে শাস্তি চাইলেও মায়ের মন যে সন্তানের জন্য কাঁদছে। আমজাদ স্থীর হয়ে বসে আছে। মাঝে মাঝে স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে আজ বাবা হিসেবে ভীষণ ব্যার্থ মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে সন্তান লালন পালনে কোথাও একটা খুত রয়ে গেছে। তা না হলে নিশান তার মেয়ের মত আদরের ভাগ্নীর সাথে এমন নোংরা, জঘন্য অপরাধ করার সাহস পেতো না।

ড্রয়িং রুমে রশনিরা সবাই বসে আছে।বিয়ের আমেজে উৎফুল্ল, উৎসব মুখর বাড়িটায় কেমন বিষাদের ছায়া নেমেছে। রেনুর বুকে মাথা ঠেকিয়ে হেঁচকি তুলে কাঁদছে লতা। বাচ্চা মেয়েটা সব কিছু দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে। রিমি দুহাতে মুখ ঢেকে বসে আছে। তার মাথায় কিছুই ধরছে না।
রশনি চিন্তিত হয়ে টেনে নিঃশ্বাস নিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,, সবাই ভালো করে শুনে রাখো! যা হয়েছে, যা দেখেছো, সামনে যা হবে তা যেন আমাদের মধ্যে থাকে। এইটা মাথায় রাখবে বাইরের কেউ যেন দুই কথা বলার সুযোগ না পায়। বিষয়টা শুধু বিয়ের আগ ওবদি না! বরং আজকের ঘটনা আজীবনের জন্য ভুলে যাও। সাজির মানসিক অবস্থা অতোটা ভালো না। সো প্লিজ তোমরা সবাই সাজি ওঠার পর নরমাল বিহেভ করবে।
রশনির কথায় সবাই একমত হলো। সবাই চাইছে বাইরে যেন এইসব কথা না যায়। এতে করে মানুষ তিলকে তাল বানাতে ছাড়বে না। সাথে সাজিকেও কথা শোনাবে। তাই মৌনতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।

রাত যত গভীর হচ্ছে কষ্ট গুলো বুকে পাথরের মতো ভারী হচ্ছে। সাদ নিঃপলক দৃষ্টিতে সাজির মুখের আদলে চেয়ে আছে। চোখের নিচে কেমন কালসিটে দাগ পড়ে গেছে। বার বার চোখের সামনে সাজির অসহায় চাহনিটা ভেসে উঠছে। ভয়ে সিটিয়ে যাচ্ছে সাদ। না জানি জেগে উঠলে কি করবে সাজি।সাদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কখনো আদুরে হাতে সাজির চুলে বিলি কাটছে,তো কখনো হাত আঁকড়ে ধরে আলতো চুমু আঁকছে। এতোটা সময় পেরুলো তবুও এই রজনী যেন শেষ হওয়ার নাম নিচ্ছে না। যাকে নিয়ে ভালোবাসা পূর্ণ হাজার দীর্ঘ রজনী পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা। তার সাথে কাটানো রজনী গুলো কেন এতো শূন্য আর তিক্তায় পূর্ণ হচ্ছে।সাদ বুঝতে পারেনা কেন তার প্রিয়তমাকে ঘিরে সব বিষাক্ত, তিক্ততম রজনী গুলো দীর্ঘ হয়। এই বিনিদ্র, বিষাদে ভরা দীর্ঘ রজনীতে সাদের বুকে প্রিয়তমার জন্য হাহাকার ব-ই কিছুই নেই। পারলে নিংড়ে নিতো সকল দুঃখ,কষ্ট। দিয়ে দিতো নিজের ভাগের সব সুখ।যদিও তা হওয়ার নয়। শুধু অপেক্ষা নতুন ভোরের। স্নিগ্ধ,শিতল, ঝলমলে, সুখানুভূতি পূর্ণ ভোর।

ইনশাআল্লাহ চলবে,,

নাম:#দীর্ঘ_রজনী।
লেখনীতে:#সাদিয়া_আফরোজ।
পর্ব:৪৩ (অন্তিম পর্বের প্রথম খন্ড)

যেখানে এংগেইজমেন্টের দুই দিন পর বিয়ে হওয়ার কথা সেখানে সাদ বিয়ের জন্য মানা করছে।করবেইবানা কেন! সাজি জেগে ওঠার পর সাদকে দেখে আড়াল হচ্ছে। এক কথায় সাজি সাদকে ভয় পাচ্ছে।

সকালের সূর্যদয়ের সাথে সাজি জেগে ওঠে। তখনই সাদকে দেখে প্যানিক করতে শুরু করে। বিছানার কোনে গুটিয়ে মুখ ঢেকে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। সাজির এমন ব্যবহারে চমকায় সাদ। নিজেকে নিজের কাছে জঘন্য অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। ক্ষানিকের জন্য হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে বসে ছিল। অনিলা আর সেঁজুতি এসে সাজির এমন ব্যবহার দেখে নিজেরাই অবাক। অনিলা সাদকে শান্তনা দিতে নিলে সাদ অশ্রুসিক্ত চোখে বলে উঠলো,, আমায় নিয়ে ভেবো না। সাজির দিকটা একবার ভেবে দেখো। ও এখনো পুরো স’ক কে’টে উঠতে পারেনি।
সাদ সেখানে আর এক মুহূর্তও বসলো না। সোজা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।খানিকটা পথ পাড়ি দিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামায়। ভেজা চোখ দুটো মুছে ড্রাইভিং সিটে মাথা এলিয়ে দেয়। সাজির তাকে দেখে ভয় পাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না সে। সাজি আগেও ভয় পেতো , কিন্তু তখন সাজির চোখে ইনসিকিউর ভাবটা ছিলো না,যা এখন দেখতে পাচ্ছে। সাজির এই ভীতু দৃষ্টি সাদের হৃৎপিণ্ডে কাঁ*টা*র মতো বিঁ*ধ*ছে। সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। অশ্রুসিক্ত চোখ জোড়া বন্ধ করে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললো সাদ।কালকের প্রতিটা মুহূর্ত একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। সাদ বুঝতে পারছে না ভুলটা ঠিক কোথায় হলো। সাজিতো তাকে ভয় পাওয়ার কথা না! তাহলে? সাদ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রেখে রায়হানকে কল দিয়ে ডাক্তার সহ সাজিদের বাড়ি যেতে বলেছে। সাদ গেলো না, বরং সেই একই জায়গায় বসে রইল।

রায়হান ডাক্তারকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর ডাক্তার সাজিকে চেকআপ করে বেরিয়ে আসে। ডাক্তারের মতে এতো কিছু একসাথে হওয়াতে সাজির মস্তিষ্ক মেনে নিতে পারেনি। তাই তখন সেন্সলেস হয়ে গেছিলো। তবে সাদকে দেখে সাজির অস্বাভাবিক আচরণ করার মূল কারণ সাদের কালকের ব্যবহার। সাদের ওই হিং*স্র রূপটা সাজি আগে কখনো দেখেনি যার ফলে ভয়ে এমন ব্যবহার করেছে। খুব প্রিয় মানুষের বদলানো আচরন অনেকেই মানতে পারে না।সাজির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কোথাও না কোথাও মনে করছে হয়তো তার সাথেও সাদ এমন কিছু করবে।

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর সাদ পুরনরায় সাজিদের বাড়িতে আসে। জুবায়েরের সাথে নিশান আর সাজির ব্যাপারে কথা বলে বেরিয়ে যায়।

সাজি বিছানার কোন চেপে বসে আছে। কিছুক্ষণ পর পর হাতে পরা আংটির দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। সাদকে যতবার দেখছে ততবার কালকের ওই রক্তাক্ত পরিস্থিতির কথা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। না চাইতেও সাজির সাদকে দেখে ভয় হচ্ছে প্রচুর। ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে।
রেনু ,লতা আর রিমি সাজির পাশে বসে আছে। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর নিরবতা ভেঙ্গে রেনু বলে উঠলো,, সাজিঁ আপা! কাল পুরো রাত সাদ ভাই দুচোখের পাতা এক করেনি। তোমার হাত ধরে পুরো রাত জেগে বসে ছিল।
রিমি সাজির হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো,, দেখ সাজিঁ। আমি জানি তোর জন্য এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু তুই জানিস না সাদ ভাইয়ের জন্যেও সহজ ছিল না। পা*গ*লের মতো ছুটে এসেছিল তোকে বাঁ*চা*তে। শুধু তোকে ছুঁয়েছে বলে নিশানকে এতোটা মে*রে*ছে। আর তুই কিনা তা দেখে ভয় পাচ্ছিস?
লতা মিনমিনে গলায় বলল,, জানো আপু তুমি সাদ ভাইকে দেখে দূরে সরে গেছো দেখে সাদ ভাই খুব কেঁদেছে। আমি বাগানে ছিলাম তখন দেখি এক কোনে দাঁড়িয়ে মুখে হাত চেপে কাঁদছে। প্লিজ আপু তুমি এমন করো না।সাদ ভাই কষ্ট পাচ্ছে।

সবার কথা শুনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো সাজিঁ। সব কিছু যেন সাজির কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেন এমন করলো সে?কেন ওই মানুষটাকে কষ্ট দিলো? একটা বছর সাদকে কষ্ট দেওয়া কি কম হয়েছে !এখন আবার তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে।সাজি দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলো। কেন সব সময় তার সাথে এমন হয় সেটাই বুঝতে পারছে না। কাকে দোষারোপ করবে সাজি। নিজেকে নাকি নিজের ভাগ্যকে?

সন্ধ্যায় গড়িয়ে রাত। আজ রাত পোহালে কাল হলুদের অনুষ্ঠান। তার আগে সাদ জুবায়েরের কাছে আবদার জুড়ে দিলো, জুবায়ের যেন বিয়ে ভেঙে দেয়। সাদের কথা শুনে জুবায়ের আচম্বিত হয়ে বললো,, পা*গ*ল হয়েছিস?কি বলছিস মাথা ঠিক আছে?

সাদ নিরেট স্বরে বলল,, হ্যা ঠিক আছে। যা বলছি জেনে বুঝে বলছি। তুমি বিয়ের ক্যানসেল করে দাও। দেখো মামু ছেলে পক্ষেরা বিয়ে ভাংতে গেলে মেয়ের বদনাম হয়। আমি তা মোটেও চাই না। তাই বলছি তুমি বিয়ে ভেঙে দাও।

জুবায়ের দাঁতে দাঁত চেপে বললো,, তো তোর বদনাম হবে না? নাকি তুই প্রধান মন্ত্রী তোর বদনাম কেউ করতে পারবে না?

~ আমার কথা চিন্তা করতে হবে না আমি সব সামলে নিবো। তুমি একবার সাজির কথা ভেবে দেখো। ওর মানসিক অবস্থা ভালো নেই। এই সময় বিয়ের জন্য প্রেশার দেওয়া নিশ্চই ঠিক হবে না?

জুবায়ের চশমা খুলে রেখে চোখ কচলাতে কচলাতে বললো,, সাজি আমার মেয়ে হলে তুইও আমার ছেলে থেকে কম না। মনে রাখবি , সাজি জন্মানোর আগ থেকে তোকে আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। সাজির কথা একবার ভাবলে তোর কথা আমি দশবার ভাবতে বাধ্য।

জুবায়েরের এই কথার পর সাদ আর কিছু বলতে পারলো না। তাই চুপচাপ বসে রইলো। এই দিকে সেঁজুতি মুখে ওড়না চেপে কাঁদছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারছে না। লতা আর রেনু তাকে সামলাতে ব্যাস্ত।

জুবায়ের চশমা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। সাদ কিছু বলবে তার আগে সাদকে থামিয়ে বললো,, আমাকে বিয়ে ভাঙ্গার কথা না বলে যার সাথে তোর বিয়ে হওয়ার কথা তাকে গিয়ে বল ভাংতে। আমি কিছুই করতে পারবো না।

জুবায়ের সেঁজুতিকে ইশারায় উঠতে বলে,রেনু আর লতাকে উদ্দেশ্য করে বলল,, রাত কতো হয়েছে খেয়াল আছে? রিমিকে ডেকে নিয়ে আয়। সেঁজুতি টেবিলে খাবার সাজাও ক্ষীদে পেয়েছে।

রেনু খালুর ইশারা ঠিকই ধরে ফেলেছে। তাই হড়বড়িয়ে উঠে গিয়ে সাজির রুম থেকে রিমিকে টেনে হিচড়ে নিয়ে এলো। সাদ কিছুক্ষণ থম ধরে বসে থেকে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। সাদের পা যেন চলছে না। সাদ জানে সাজি তাকে দেখে ঠিক কেমন রিয়েক্ট করবে। এটাও জানে সাজির করা অস্বাভাবিক আচরণ তাকে ঠিক কতটা আ*ঘাত করবে। সাদ নিজেকে প্রস্তুত করে নিচ্ছে এককথায়। হাজারটা ইচ্ছে পা দিয়ে মাড়িয়ে সাজির রুমের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

পুরো রুমের বাতি বন্ধ করে রেখেছে সাজি। ঈষৎ আলোয় জানালার গ্ৰিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে । রুমে যেটুকু আলোর দেখা মিলছে তা বারান্দা থেকে আগত। চোখ জোড়ায় বিগত রাতের প্রেত্যেকটা মূহুর্ত এক এক করে কল্পনা করছে সাজি। নিশানের নোং*রা আচরণ,হুট করে সাদ এসে নিশান থেকে ছাড়িয়ে আগলে নেওয়া, তাকে ছোঁয়ার দুঃসাহস করায় নিশানকে করা সাদের আ*ঘাত সবটা একে একে কল্পনা করছে সাজি। তার সাথে গড়িয়ে পড়ছে চোখের কোন বেয়ে নোনা জল।যার জন্য এতো কিছু করলো সে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যাপারটা যতবার মনে উঠছে ততবার সাজিঁ ডুকরে কেঁদে উঠছে।

সাদ সাজির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষণ হলো। ভিড়ানো দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করার সাহস কুলোচ্ছে না।মনে হচ্ছে একটা দরজা নয়, বরং হাজার মাইলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তাদের মাঝে। দ্বিধা দ্বন্দ্বে লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে ধাতস্থ করলো। অতঃপর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো সাদ। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে সাজি চোখ মুছে কম্পিত গলায় সুধালো,, সাদ ভাই এসেছে রিমি? কি বলেছে উনি? রেগে আছে তাই না?

সাজির করা প্রশ্নে থমকালো সাদ। বাড়িয়ে নেওয়া পা পুনরায় পিছিয়ে নিলো। কথা গুলো কি শোনা উচিৎ নাকি ,না শুনে চলে যাওয়া উচিৎ। দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছে সাদ। তাও গেলো না। দাঁড়িয়ে রইলো ঠায়।সাজি ঘুরে দেখলো না কে দাঁড়িয়ে আছে। ভেবেছে হয়তো রিমি এসেছে সাদের খবর নিয়ে।

সাজি শব্দ করে কেঁদে উঠে বলল,, আমিকি খুব বেশি অন্যায় করে ফেলেছি রিমি? আমি খুব খারাপ তাই না? শুধু শুধু একটা মানুষকে কষ্ট দিচ্ছি? আ’ম সরি ইয়ার আমি না বুঝে মানুষটাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।আ’ম স্যরি!

সাজি জানালার গ্ৰিলে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদছে। সাদ ভেজা চোখ মুছে দু’পা এগিয়ে কোমলমতি গলায় বলল,, আমি একটুও রেগে নেই সাজঁবাতি।

সাদের গলার আওয়াজ পেয়ে চমকায় সাজি। চমকে উঠে ফিরে তাকায়। ঈষৎ আলোয় সাদের অশ্রু জলে শিক্ত চোখ জোড়া জল জল করছে। সাজির কল্পনাও করেনি ,সাদ তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকবে। মুখে না বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই সাদকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিল সে। তবে সেই ব্যাকুলতা এই ভাবে শেষ হবে স্বপ্নের ভাবেনি । সাদকে দেখে ঠোঁট চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা চালাতে লাগলো। তবে তা হওয়ার নয়, চোখের জল যেন বাঁধ ভাঙার মতো করে বইছে। সাজিঁ দ্রুত পা ফেলে সাদকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আচমকা এমন হওয়ায় টাল সামলাতে না পেরে দু’পা পিছিয়ে গেলো সাদ। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দুহাতে আগলে নিলো প্রিয়তমাকে।

দরজার বাইরে থেকে রেনু,লতা,আর রিমি তিনজন মাথা বের করে এতক্ষণ সাদ আর সাজিকে দেখছিলো। সাজি সাদকে জড়িয়ে ধরতেই দুইজন উল্টো দৌড় দিয়ে পালালো। রয়ে গেল বেচারি রেনু। রেনু বেচারি এদিক ওদিক তাকিয়ে ছুটে পালালো। জুবায়ের আর সেঁজুতি বসে ডিনার করছে। তিনজন দৌড়ে আসতে দেখে জুবায়ের ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে সেঁজুতিকে উদ্দেশ্য করে বলল,, রেনুটা নিজে তো মানুষ হয়নি,তার সাথে মিশে বাকি মানুষ দুটোও ক্যাঙ্গারু হয়ে যাচ্ছে। তুমি রেনুকে কিছু বলছো না কেন সেঁজুতি?
রেনু সেজুতিকে ইশারায় খবর জানায় । সেঁজুতি তা দেখে খুশি হলেও, জুবায়েরের কথায় বেজায় বিরক্ত হয়ে বলল,, সবাই মানুষ হলে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। দু একটা ক্যাঙ্গারু থাকলে ভারসাম্য রক্ষা পাবে। তুমি এসব চিন্তা না করে হলুদের অনুষ্ঠানের আয়োজনে লেগে পড়ো। বর বউ তৈরি কাল হলুদ কনর্ফম।
জুবায়ের চশমা খুলে বললো,, মানে! তুমি কি করে জানলে? সেঁজুতি চোখ ছোট ছোট করে বললো,, ক্যাঙ্গারু খবর দিয়েছে।
জুবায়ের হা-হুতাশ করে টেবিল ছেড়ে উঠে যেতে যেতে বললো,, এই ঘরে বোধ হয় আমিই একমাত্র মানুষ। বাকি সব চিড়িয়াখানা থেকে এসেছে।

অনেকক্ষণ হলো সাদ ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। সাজি ইচ্ছে মতো কেঁদে সাদের শার্ট ভিজিয়ে জবজবে করে ফেলেছে। সাদের অনেক কথা বলার ছিল, অনেক প্রশ্ন করার ছিল, অনেক উত্তরের খোঁজ ছিল। কিন্তু সব যেন মূহুর্তে ভুলতে চলেছে। যাকে এতো কথা, এতো প্রশ্ন করবে সে নিজে কেঁদে কেটে বুক ভাসাচ্ছে। সাদ জানে তার আর প্রশ্ন করা হয়ে উঠবে না। শুধু আজ নয় অনন্ত কালের জন্য ওসব প্রশ্ন করা হয়ে উঠবে না। তাকে জিজ্ঞেস করতে পারবে না, কেন সে দূরে ঠেলে দিয়েছিল! দূরে ঠেলে দিয়ে যে নিজে ক্ষতবিক্ষত তাকে আবার কিসের প্রশ্ন? বিয়ে ভাঙ্গার কথা বলতে এসেছিলো সাদ আর এখন প্রিয়তমা বক্ষ পিঞ্জীরা দখল করে বসে আছে। কার থেকে দূরে যাবে? কাকে দূরে সরাবে? যাকে দুরে সরানোর জন্য এসেছে সে আগ থেকেই জেঁকে বসে আছে। সাদ ভেজা চোখ মুছে নিলো। অতঃপর মুচকি হেসে সাজির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,,সাজি!! চোখ মুখ ফুলে গেছে তো!আর কত কাদবি? এইবার তো চুপ কর?

সাজিঁ সাদের বুকে মুখ গুঁজে ভাঙ্গা গলায় বলল,, আ’ম স্যরি! আমি খুব খারাপ সাদ ভাই। আমি খুব খারাপ। শুধু কষ্ট দেই তাই না!
সাদ ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে বললো,, খারাপ হলেও কিছু করার নেই। সেই খারাপটাই আমার।

সাজি মাথা তুলে সাদের মুখের দিকে তাকায়। সাদ আলতো হাতে সাজির চোখ মুছে দিয়ে দুগালে হাত রেখে বলল,, আর কাঁদতে হবে না। দেখ আমি একটুও রেগে নেই। কেঁদে কেঁদে চোখ- মুখের কি অবস্থা করেছিস! এইভাবে মিসেস সাদ হওয়া যাবে না। আমার শুধু সাজঁবাতিকে চাই, ছিঁচকাদুনে সাজির দরকার নেই।

সাদের কথা শুনে মুখ ফুলায় সাজিঁ। ঈষৎ আলোতেও তা সাদের নজর এড়ায়নি। সাদ ফিক করে হেসে উঠে,সাজিঁ কপালে অধর ছুঁইয়ে আদুরে গলায় বলল,,Get ready for be my wife সাজঁবাতি।

ইনশাআল্লাহ চলবে,,।